Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৭৩


দিশেহারা (৭৩)

সানা_শেখ

শ্রবণ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তাকে আবার পাগল বানিয়ে দিচ্ছে! শামীম রেজা চৌধুরী নিজেও তাকালেন ছেলের মুখের দিকে। ছেলে কপাল-ভ্রু কুঁচকে অদ্ভুতভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অফিসার বললেন,

“বুঝতে পারছি আপনার কথা, কিন্তু আইনের কাছে আমাদেরও হাত বাঁধা। উনাকে আমাদের সঙ্গে যেতেই হবে। আপনারা আইনজীবী ঠিক করুন, উনাকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য সকল প্রমাণ জোগাড় করুন। উনি যে মানসিকভাবে অসুস্থ, আর নিজের ভারসাম্য হারিয়ে কিডন্যাপারদের মে’রেছে এটা প্রমাণ করতে হবে, মুখের কথায় কাজ হবে না। মিস্টার শ্রবণ চৌধুরী, চলুন আমাদের সঙ্গে।”

সোহা আতঙ্কিত হয়ে শ্রবণের এক-হাত আঁকড়ে ধরল শক্ত করে। দ্রুত দুদিকে মাথা নেড়ে ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,

“তুমি কোথাও যাবে না, আমি তোমাকে কোথাও যেতে দিবো না। দোষ তো ওই লোকগুলোরই, তোমাকে কেন ধরে নিয়ে যাবে?”

শ্রবণ সোহার হাতটা মুঠো করে ধরে বলল,

“তুই উত্তেজিত হচ্ছিস কেন? শান্ত হ।”

“আমি তোমাকে যেতে দিবো না। পুলিশ তোমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিবে, তোমার গায়ে আঘাত করবে। না না, আমি কোথাও যেতে দিবো না তোমাকে। তুমি যাবে না উনাদের সঙ্গে।”

অফিসার সোহাকে শান্ত রাখার জন্য বললেন,

“আপনার হাজব্যান্ডের গায়ে কোনো প্রকার আঘাত করা হবে না, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।”

শামীম রেজা চৌধুরী বললেন,

“শ্রবণের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে?”

“হ্যাঁ। সেজন্যই তো উনাকে নিয়ে যেতে হবে, মামলা না হলে এত ঝামেলা করতে হতো না।”

“কে করেছে?”

“কোমায় চলে যাওয়া রুবেলের বউ আর মা।”

শ্রবণ বলল,

“আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দিন, আমি আসছি।”

“দ্রুত আসবেন।”

শ্রবণ মাথা নাড়ল। অফিসার দুজন আর শামীম রেজা চৌধুরী কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন। শ্রবণ সোহার চুলে হাত বুলিয়ে বলল,

“একদম টেনশন করবি না, আমি বিকেলের মধ্যেই চলে আসব, কিছু হবে না আমার।”

সোহা হাত তুলে শ্রবণের গালে হাত রেখে ধরা গলায় বলল,

“পুলিশ যদি তোমাকে মা’রে?”

শ্রবণ সোহার হাতটা নিজের গালে চেপে ধরে রেখে বলল,

“মা’রবে না, তুই ভয় পাস না।”

“আমার কাছ থেকে দূরে যেও না তুমি।”

“বিকেলের মধ্যেই চলে আসব, জান।”

“আমার ভীষণ ভয় লাগছে। পুলিশ যদি তোমাকে না ছাড়ে? যদি জেল হয়ে যায়?”

“এমন কিছুই হবে না, তুই শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস।”

“বাবুকে কখন কাছে পাব? বাবুও আমার কাছে নেই, আবার তোমাকেও নিয়ে যাবে!”

“সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাবুকে আগামীকাল আইসিইউ থেকে কেবিনে শিফট করা হবে। বাড়ির সবাই তো আছেই এখানে, তুই টেনশন করিস না, আমি দ্রুতই ফিরে আসব।”

সোহা শ্রবণের হাত ছাড়তে চাইল না তবুও শ্রবণ হাত ছাড়িয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো সোহাকে আদর করে। কারো সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলল না শুধু দাদা ভাই, স্পর্শ আর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল,

“বাবু আর সোহার দিকে খেয়াল রেখো আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত।”

তিনজন একসঙ্গে মাথা নাড়ল। শ্রবণ অফিসারদের সঙ্গে এগোল লিফটের দিকে। শামীম রেজা চৌধুরী ছেলের পাশে হাঁটতে হাঁটতে বললেন,

“তুমি কোনো টেনসন কোরো না, আমি খুব শীগ্রই এসব ঝামেলা থেকে তোমাকে বের করে নিয়ে আসব।”

শ্রবণ বাবার মুখের দিকে তাকাল শান্ত চোখে।

                       **********

আজ সোহাকে রিলিজ দিয়ে দিয়েছে হসপিটাল থেকে। শ্রবণকে সেদিনই নির্দোষ প্রমাণিত করে ছাড়িয়ে এনেছিলেন শামীম রেজা চৌধুরী। ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য যত যা করতে হয়েছে—বলতে হয়েছে সব করেছেন শামীম রেজা চৌধুরী।

শামীম রেজা চৌধুরী নাতিকে কোলে নিয়ে কেবিন থেকে বের হলেন। সিয়াম আর স্পর্শ ব্যাগপত্র নিয়ে বের হলো। শ্রবণ সোহাকে ধরে বের হলো আস্তে আস্তে। ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে সোহা। হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল বাড়ির সবাইকে।
নিচে নেমে আসতেই সোহাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল শ্রবণ। সোহার অপর পাশে বসল সিয়াম। বাবুকে কোলে নিয়ে ফ্রন্ট সিটে বসলেন শামীম রেজা চৌধুরী। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ছুটল গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সোহা শ্রবণের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বসে রইল। কি যে ভয় পেয়েছিলে সেই দুইটা দিনে! ভাবলে এখনো অন্তর কেঁপে ওঠে। শক্ত করে ধরল শ্রবণের হাতটা। শ্রবণ সোহার মুখের দিকে দেখার চেষ্টা করে মৃদু স্বরে বলল,

“কী হয়েছে?”

সোহা চোখ মেলে শ্রবণের চোখের দিকে তাকাল। মৃদু স্বরে বলল,

“কিছু না। আমি আর কোনোদিন তোমার কথার অবাধ্য হবো না।”

শ্রবণ সোহার গালে হাত বুলিয়ে আদর করে বলল,

“ভুলটা আমারই ছিল। আমার ভুলের কারণেই তুই আর বাবু এত কষ্ট পেয়েছিস।”

সোহা কথা না বলে চোখ বন্ধ করে নিল আবার।
শামীম রেজা চৌধুরী ঘাড় ঘুরিয়ে নাতির মুখের দিকে তাকালেন। ছেলের কথা শুনে পেছনে তাকিয়েছিলেন। দাদা হওয়ার অনুভূতি দারুণ!

বিশাল এক বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামাল। শ্রবণ গাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে সোহাকে ধরে বের করল। গাড়ি থেকে নেমে আশপাশে নজর বুলিয়ে অবাক হলো সোহা। বিস্মিত হয়ে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এটা কার বাড়ি? কোথায় নিয়ে এলে আমাদের?”

“এটা আমাদের বাড়ি।”

“আমাদের বাড়ি? এটা আমাদের বাড়ি কীভাবে?”

“বাড়িটা আমি নিজের জন্যই বানাচ্ছিলাম, কিন্তু হুট করে তুই এলি আমার জীবনে, তারপর এলো আমাদের দুজনের সন্তান। তাই বাড়িটা আমার থেকে আমাদের হয়ে গেছে।”

“এত বড়ো বাড়ি!”

“হুম। ভেতরে চল।”

সোহা বাড়ির ভেতর প্রবেশের রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখল পুরো রাস্তা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে, কয়েকজন অপরিচিত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে পাশেই। বাকি তিন গাড়ি থেকে গার্ডস্ আর বাড়ির বাকি সদস্যরা নেমে এলো। অনিমা চৌধুরী শ্রবণের বাড়িতে আসতে চাইলেও তনিমা চৌধুরী কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। অনিমা চৌধুরী জোর করেই নিয়ে এসেছেন বড়ো বোনকে।
সবাই অবাক হয়ে দেখছে শ্রবণের বাড়ি। একা থাকার জন্য এত বড়ো বাড়ি বানাচ্ছিল! চৌধুরী বাড়ির চেয়েও অনেক বড়ো এই বাড়িটা, আর দেখতেও অনেক সুন্দর।

শ্রবণ সোহাকে ধরে নিয়ে এগোল সামনের দিকে। পেছন পেছন এগোল বাকি সবাই। সোহা কচ্ছপের গতিতে হাঁটতে হাঁটতে শ্রবণের মুখের দিকে তাকাল। শ্রবণ কপাল-ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“কী হয়েছে?”

“এত বড়ো বাড়ি কেন? একা থাকার জন্য এত বড়ো বাড়ি কে বানায়?”

“একা কোথায়? তুই আছিস, বাবু আছে, আরো বাবু হবে। তারপর বাবুরা বড়ো হয়ে বিয়ে করবে, তাদের ছেলেমেয়ে হবে, আস্তে আস্তে বাড়ি ভরে যাবে। এক সময় দেখা যাবে বাড়িতে জায়গা হচ্ছে না সকলের।”

সোহা বিস্মিত হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল শ্রবণের মুখের দিকে। মাত্র চারদিন আগে ছেলে হয়েছে, আর সে এখনই কত দূর পর্যন্ত চিন্তা ভাবনা করে ফেলেছে! তাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শ্রবণ আবার বলল,

“এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?”

“তুমি যখন বাড়ির কাজ শুরু করেছিলে তখন বিয়ে করেছিলে? বা বিয়ে করবে এমনটা ভেবেছিলে? তখন তো একা থাকার জন্যই বাড়িটা বানাচ্ছিলে।”

শ্রবণ বলল না কিছু। এটা সত্যিই যে সে একা থাকার জন্যই এই এত বড়ো বাড়ি বানাচ্ছিল। তখন মনের মধ্যে জেদ চেপেছিল। নিজেদের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে থাকার সৌভাগ্য হয়নি। স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত বোর্ডিং আর হোস্টেল থাকতে হয়েছে। তারপর হোস্টেল ছেড়ে থেকেছে ফ্ল্যাটে।

বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সোহা চারদিকে নজর বুলাল। শ্রবণ তাকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে বলল,

“বাড়ি পছন্দ হয়েছে?”

“হুম।”

“তোকে আর বাবুকে আমি আরো স্পেশালভাবে এই বাড়িতে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু একটা দুর্ঘটনা সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। আল্লাহর কাছে অজস্র শুকরিয়া তুই আর বাবু ঠিক আছিস।”

সোহা কথা বলল না। পড়ে যাওয়ার ঘটনাটুকু স্মরণ হতেই বুক কেঁপে উঠল আবার।

                       **********

পেরিয়ে গেছে আরো দুদিন। আকিকা করে সোহা আর শ্রবণের ছেলের নাম রাখা হয়েছে শায়ান চৌধুরী শান। শ্রবণ আদর করে ছেলেকে ডাকে ‘শান’।
শ্রবণের বাড়িতেই থেকে গিয়েছেন চৌধুরী বাড়ির সবাই। শামীম রেজা চৌধুরী সহ বাড়ির বাকি সবাই চাইছিল হসপিটাল থেকেই সোহা আর বাবুকে চৌধুরী বাড়িতে নিয়ে যেতে, কিন্তু শ্রবণ রাজি হয়নি কোনোভাবেই। সে কিছুতেই ওই ডাইনিদের মাঝখানে নিয়ে যাবে না তার স্ত্রী-সন্তানকে। কিন্তু সে তার স্ত্রী-সন্তানকে ডাইনিদের মাঝখানে নিয়ে না গেলেও ডাইনিরাই চলে এসেছে তার স্ত্রী-সন্তানের কাছে। শ্রবণ ওয়াশরুমে যাওয়া ছাড়া অন্য কোথাও যাচ্ছে না তার স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে।

অনিমা চৌধুরী শ্রবণের কাছে মাফ চেয়েছেন অনেকবার, তবে শ্রবণ মুখ ফুটে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি।

ছেলেকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসে আছে শ্রবণ। বাচ্চাটা গলা ছেড়ে কেঁদে চলেছে ঘুম থেকে উঠেই। শ্রবণ ছেলের কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করতে করতে সোহাকে ডেকে বলে,

“এই জান, দ্রুত আয়, আমার আব্বুর খিদে পেয়েছে তো।”

সোহা ওয়াশরুমের ভেতরে রয়েছে। চাইলেও দ্রুত আসতে পারছে না। ছেলের কান্না বেড়েই চলেছে, শ্রবণের ডাকও বেড়ে চলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো সোহা। শ্রবণ তার দিকে তাকিয়ে বলল,

“এত সময় লাগে? দেখ, কাঁদতে কাঁদতে গলা শুকিয়ে ফেলেছে আমার আব্বুটা।”

সোহা বিছানার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,

“আমি আগের মতো নড়াচড়া করতে পারি?”

“এখন আয় দ্রুত।”

সোহা বিছানায় উঠে বসে ছেলেকে কোলে নিয়ে খেতে দিলো। খেতে দিতেই কান্না বন্ধ হয়ে গেল বাচ্চাটার। মায়ের বুকের সঙ্গে লেপ্টে চোখ বন্ধ করে চুক চুক শব্দ করে খেতে শুরু করেছে। ঘুম থেকে উঠেই পি করে দিয়েছিল, শ্রবণ পরিষ্কার করেছে সব।

শ্রবণ কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সোহার মুখের দিকে। সোহা কপাল-ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“কী হয়েছে?”

শ্রবণ দু’দিকে মাথা নাড়ল, কিছু হয়নি। দৃষ্টি সরিয়ে ছেলের দিকে তাকাল। ছেলের এক হাত ধরে মৃদু স্বরে বলল,

“সে কি কান্না, রাগও প্রচুর হবে বোধহয়। চিৎকার দিয়েই লম্বা হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে কান্না শুরু যে করে আর থামার নাম নেই।”

শান খাওয়া থামিয়ে দিলো। কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত হতেই আবার খেতে শুরু করল চুক চুক করে।
শ্রবণ অবাক হয়ে বলল,

“খাওয়া থামিয়ে কথা শুনল নাকি কথা শুনে খাওয়া থামিয়েছিল?”

“কথা শুনেই খাওয়া থামিয়েছিল। ওর নামে কি বলছো সেটাই শুনছিল বোধহয়।”

শ্রবণ ঝুঁকে ছেলের মাথায় চুমু খেয়ে বলল,

“আব্বু, তোমাকে বকা দেইনি তো, শুধু বললাম তোমার অনেক রাগ।”

“একদম বাবার মতো।”

শ্রবণ মুখ তুলে সোহার মুখের দিকে তাকাল। সোহা মুখ কাচুমাচু করে বলল,

“বলেছি ওর রাগ জেদ তোমার মতো হবে। দেখো দেখতেও তোমার মতন হয়েছে।”

“ছেলে যখন আমার তখন দেখতে শুনতে অবশ্যই আমার মতোই হবে।”

“তোমার মতো কেন হবে? ওকে তো জন্ম দিয়েছি আমি, তাহলে আমার মতো হওয়া উচিত ছিল না?”

“ছেলে আমার মতো হয়েছে, মেয়ে হলে তোর মতো হবে আর যদি মেয়ে না হয়ে আবারও ছেলে হয় তাহলে আমার মতোই হবে।”

“আরো?”

“কেন? আর না? মাত্র তো একজন হলো, ওর ভাই-বোন লাগবে না? অন্তত একটা ভাই আর একটা বোন তো লাগবেই না-হলে ও খেলবে কার সঙ্গে?”

“এত দূর চিন্তা ভাবনা করে ফেলেছো? ওর এখনো নাড় পড়েনি আর তুমি ওর ভাই-বোন খেলা পর্যন্ত চলে গেছো?”

শ্রবণ কিছু না বলে হাঁটুতে ভর করে সোহার মুখ দুই হাতে আগলে ধরে সারা মুখে চুমু খেলো। বিছানা ছেড়ে নেমে বলল,

“শানকে ঘুম পাড়িয়ে তুইও শুয়ে পড়, আমি ছোটো ডাইনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।”

“তুমি কোথায় যাবে?”

“দাদা ভাইয়ের কাছ থেকে আসছি একটু পরেই।”

“আচ্ছা।”

শ্রবণ বেরিয়ে গেল রুম থেকে। সোহা তাকিয়ে রইল দরজার দিকে। শ্রবণের মুখ থেকে এমন মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনতে ভীষণ ভালো লাগে সোহার। শ্রবণের কথা বলার ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। এই শ্রবণকেই তো সোহা চেয়েছে বরাবর। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।
ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখে খেতে খেতে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে, ঘুমিয়েও গেছে প্রায়। পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়তেই ছেলেকে আলগোছে শুইয়ে দিয়ে নিজেও শুয়ে পড়ল গায়ের উপর ব্ল্যাঙ্কেট টেনে।

অনিমা চৌধুরী রুমে এসে দেখলেন সোহা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। বিছানায় উঠে বসে বললেন,

“সোহা, ঘুমিয়েছিস?”

সোহা চোখ মেলে তাকাল। বলল,

“না। কিছু বলবে?”

“শান ওঠেনি আর?”

“উঠেছিল, ঘুমিয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। ঘুমাও তুমি।”

“মাফ করবি না আমাকে?”

“ঘুম পাচ্ছে আমার, তুমিও ঘুমাও।”

“আমি জানি আমি অনেক বড়ো বড়ো ভুল করেছি, দোষ করেছি, পাপ করেছি। সেসবের জন্য আমি অনুতপ্ত, ভীষণ অনুতপ্ত। ভুল তো মানুষই করে, আমিও করে ফেলেছি।”

“তুমি মানুষ?”

“কেন? তোর মনে হয় না আমি মানুষ? নাকি শ্রবণের মতো তোর কাছেও আমাকে ডাইনি মনে হয়?”

চলবে…………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply