Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৫


#তোমাতেই_আসক্ত

#পর্ব:৫৫

#তানিশা সুলতানা 

মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আদ্রিতা। মনটা বড্ড খারাপ। বাবা আর মামা ইতিমধ্যেই আসিফের সঙ্গে বিয়ের ডেট ফিক্সড করে ফেলেছে। তাদের এক কথা বিয়ে করতেই হবে।

সরল আদ্রিতাও পারছে না বাবা এবং মামার মুখের ওপর কথা বলতে। তবে মনের কথা মায়ের সঙ্গে শেয়ার করতেই পারে। 

সেই জন্যই পড়ন্ত বিকেলে মায়ের থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন। 

বর্ষা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে

“৫ দিন পরে আবরার থাইল্যান্ড যাবে। তুইও ওর সাথে চলে যা। 

” আব্বু আর মামাকে কি বলবো? 

“আমি অলরেডি বলেছি তুই তিথির সঙ্গে মালদ্বীপ ঘুরতে যাচ্ছিস। আবরারের ভুত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার জন্য একটুখানি ঘোরাঘুরির দরকার।

তোর বাবা মেনে নিয়েছে। 

আদ্রিতা খুশি হয়ে গেলো। তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। এবং তখুনি টেক্সট পাঠালো আবরারের হোয়াটসঅ্যাপ এ

” এবার থেকে আমি আপনার সাথে থাকবো। আজকে রাতেই চলে আসছি। 

সাথে সাথেই মেসেজ সীন হলো কিন্তু রিপ্লাই আসলো না। 

আদ্রিতা আবারও লিখলো

“কি মন খারাপ হয়ে গেলো আমি যাচ্ছি বলে?

এবার রিপ্লাই আসলো

“উমমম ইন্টিমেন্ট হওয়ার প্রিপারেশন নিয়ে আইসো।

আদ্রিতা মুখ বাঁকালো। 

মায়ের কোল থেকে মাথা তুললো। এবং বললো

” আম্মু ঘুম পাচ্ছে 

রুমে গেলাম।

বলেই দৌড়ে নিজ কক্ষে চলে যায়। নিজের বিছানায় শুয়ে রিপ্লাই দেয়

“আমার পিরিয়ড হয়েছে।

ওইসব আবোলতাবোল কথা ভুলে যান। 

” আমার সাথে যাওয়ার চিন্তাও ভুলে যাও।

ব্যাসস তারপরেই অফলাইনে চলে গেলো। আদ্রিতা ৫-৬ টার মতো টেক্সট পাঠালো একটাও ডেলিভারি হলো না।

হতাশ হলো মেয়েটা। রাতে দাঁত কটমট করতে করতে ফোনটা ছুঁড়ে ফেললো। 

জল্লাদ হাতি একটা।

ভীষণ খারাপ মানুষ। 

 ___

এ্যানিকে কোলে নিয়ে বসে আছে আবরার। কপালে তিনটে ভাজ। এই প্রথমবার তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠেছে। শব্দ করে হাসার স্বভাব তার নেই। তবুও ফোনের স্কিনে চলতে থাকে ভিডিও খানা তাকে হাসতে বাধ্য করেছে।

দুই ঠোঁট মেলে দিয়ে হালকা শব্দ করে হেসে উঠে সে।

সিয়াম ঘুমুচ্ছিলো। কিন্তু আবরারের হাসির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। কপাল কুঁচকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো। নাহহ হাসলে তার বন্ধুকে ঠিক রাজপুত্রের মতো দেখায়। এতো সুন্দর মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ। 

সিয়াম ছেলে হয়েই ক্রাশ খেয়ে যাচ্ছে। 

মেয়ে হলে নির্ঘাত বিয়ের প্রপোজাল দিয়ে বসতো।

প্রপোজাল রিফিউজ করলে এক রাতের জন্য হলেও তাকে চাইতো।

ভাগ্য ভালো সে ছেলে।

দুঃখের নিঃশ্বাস ফেলে সিয়াম কবিতার সুরে বলে

“ওহে বালক তোমার হয়েছে কি?

ভর দুপুরে হাসছো কেনো? 

ভালোবাসার অতলে হারিয়েছো কি? 

জানি রাতের ভালোবাসায় ম/রে/ছো? 

সিয়ামের উল্টাপাল্টা কবিতা শুনে আবরারের হাসি গায়েব হয়ে গেলো। চোখে মুখে ভর করলো গাম্ভীর্য। এবং বললো

” এসব কি? 

সিয়ামের দিকে ফোন খানা এগিয়ে গেলো। সেখানে দেখা যায় টনির লিংক ভাইরাল। দুই ঘন্টায় এতো পরিমাণ ভাইরাল হয়ে ভাবতে পারে নি সিয়াম। সব চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজ। 

তার মধ্যে বাংলাদেশী একটা ছেলে নিউজ বানিয়েছে। সেখানে লিখেছে

“সুইজারল্যান্ড এর সনামধন্য বিজনেস ম্যান টনির কালা পাখি দেখে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছে হাজারো তরুণী। 

হালারে এতোদিন সুন্দর দেখেছিলাম। আজকে দেখলাম সে কালা”

এটা দেখেই আবরার হেসেছে। সিয়ামও এবার হাসতে শুরু করলো। বোকা এ্যানি ওদের হাসি দেখে মিউ মিউ আওয়াজ তুললো কয়েকবার। মানে হচ্ছে “তোমাদের খুশির কারণ কি? আমাকেও বলো। আমিও হাসবো”

তবে ওরা বোবা প্রাণীর মুখের ভাষা বুঝতে পারলো না৷ তাই জবাব দিলো না। 

তারই মধ্যে আমান এবং ইভান চলে আসলো।

আজকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবে। ডাক্তারের থেকে সব রিপোর্ট কালেক্ট করে নিয়ে এসেছে।

কিন্তু এসে সিয়ামকে এমন হাসতে দেখে এগিয়ে গেলো তার ফোনের ভিডিও দেখে ওরাও হাসতে থাকে।

____

আদ্রিতার কয়েক খানা লাগেজ রয়েছে। তার মধ্যে পিংক কালারের লাগেজটা ওর সব থেকে বেশি পছন্দ। সেই লাগেজে কিছু জামাকাপড় ভরে নেয়। 

রাত ৮ টা বাজে। আবরার কল রিসিভ করছে না। আদ্রিতাকে কি নিতে আসবে না? 

না আসলে ও একা যাবে কি করে? 

না কি সত্যি সত্যিই থাইল্যান্ড নিয়ে যাবে না ওকে? 

না না এমনটা হতে পারে না। 

নিতেই হবে ওকে।

এসব ভাবতে ভাবতে কল করে আমানের নাম্বারে।

রিং হওয়ার সাথে সাথেই কল রিসিভ হয়। 

আমান হ্যালো বলার আগেই আদ্রিতা বলে ওঠে

“আপনারা কোথায় ভাইয়া?

” হাসপাতালে। 

এখন বের হবো।

কেনো? 

“১০ মিনিট থাকুন আমি আসছি।

বলেই কল কাটে। এবং লাগেজ খানা হাতে নিয়ে দৌড় দেয়। দরজা ওবদি যেতেই ধপ করে পড়ে যায়। আব্দুল রহমান তখন আদ্রিতার রুমের দিকেই আসছিলো। 

ওকে পড়ে যেতে দ্রুত এগিয়ে আসে আর বলে

“আম্মু পড়ে গেলে কিভাবে? 

আদ্রিতা দ্রুত উঠে পড়লো। এবং তাড়াহুড়ো করে বলে

” ত….তিথি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত যেতে গিয়ে পড়ে গেছি। ব্যাথা পাই নি।

“ঠিক আছে

চলো এগিয়ে দিয়ে আসি তোমার। 

” না না

আমি একাই যেতে পারবো। 

বাইরেই আছে তিথি।

যাচ্ছি হ্যাঁ

পৌঁছে কল করবো। সাবধানে যাবো।

বলেই দৌড়ে চলে যায়। আব্দুল রহমান ভ্রু কুচকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তার মনে সন্দেহ হলো লি না কে জানে?

তবে সেসব দেখার সময় নেই আদ্রিতার। তার দ্রুত পৌঁছাতে হবে।

বাড়ির সামনে থেকে একটা রিকশা নিয়ে চলে যায় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। 

____

আবরার এ্যানিকে কোলে নিয়ে কেবিন থেকে বের হওয়ার জন্য বেড থেকে নামে। তখুনি সেখানে চলে আসে আদ্রিতা। হাতে তার লাগেজ। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা এবং রীতিমতো হাঁপাচ্ছে। 

আবরার ভ্রু কুচকে বলে

“তুমি এখানে?

আদ্রিতা একটু খানি শ্বাস টেনে বলে

” পালিয়ে চলে এসেছি। আপনার সাথে যাবো থাইল্যান্ড। 

“তারপর?

” থাকবো আপনার সাথে। 

“তোমার না শরীর খারাপ। 

” তো কি? 

তাও থাকবো। সমস্যা হবে না।

“আসলেই?

” হ্যাঁ

সিয়াম ভাইয়ারা কোথায়? 

ওনারা যাবে না? 

এবার আর জবাব দিলো না আবরার। আদ্রিতাকে পাশ কাটিয়ে বেড়িয়ে গেলো কেবিন থেকে। 

দেখা হলো ইশারার সাথে। সে সাবধানে থাকতে বললো এবং বাই জানালো।

এতো জেলাস হলো আদ্রিতা। এই নার্স কেনো বাই বলবে?

রেগে গাল ফুলিয়ে আবরারের পেছন পেছন হাঁটতে থাকে। 

এ্যানি আবরারের কাঁধে ভর দিয়ে তাকিয়ে আছে আদ্রিতার মুখ পানে। কয়েকবার মিউ মিউ আওয়াজ তুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টাও চালিয়েছে। তবে তার মা এখন রেগে আছে তাই কথা বলছে না।।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply