ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ
লেখনীতে_সাদিয়া
পর্ব_৫
পা টিপেটিপে রাহা এগিয়ে গেলো। ভিহান ভাই এর দরজা খোলা। যেন সে আশংকাই করে রেখেছিল কেউ তার রুমে আসবে। দরজা খোলা পেয়ে রাহা কে খুশি হতে দেখা গেলো। দুই পর্দার ফাঁকে আচমকা নিজের মুখটা ঢুকিয়ে দিলো। পর্দার ফাঁক দিয়ে গলা বাড়িয়ে দিয়ে চোরের মতো সূক্ষ্ম ভাবে নজর দিলো কোথায় কি আছে। কিন্তু পুরো রুমে কোথাও ভিহান ভাই কে দেখা গেলো না। রাহা ঠোঁট টিপে হাসল। লুচ্চা লুচ্চা শয়তানি নজর দিলো ভিহান ভাই এর ভ্যানিটির দিকে। যেন এই রুমের তার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিস এখানে লুকিয়ে রেখেছে বজ্জাৎ ভিহান ভাই টা। রাহা এরপর খুব সাবধানে এগিয়ে গেলো সেদিকে। খালি রুমের সুযোগ পেয়ে সন্তপর্ণে গিয়ে দাঁড়ালো আয়নার সামনে। মেয়েদের ভ্যানিটি তে যেমন নানান রকম স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট থাকে ভিহান ভাই এর তেমন বিভিন্ন রকম পারফিউমের কালেকশন থাকে। অনেক গুলি পারফিউমের বোতল দেখে রাহার মুখে দুষ্টু দুষ্টু হাসি ফুটে। পুরনো কিছুর সাথে নতুন কিছু কালেকশন যোগ হয়েছে। ভিহান ভাই নিশ্চয়ই এগুলি ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছে। রাহার মুখে হাসি ফুটে আরো।
কিছুক্ষণ কপাল কুঁচকে ভাবুক হয়ে তাকিয়ে থাকে পারফিউমের কালেকশন গুলির দিকে। ভিহান ভাই সবসময় কোন পারফিউম টা বেশি ইউস করে? ওই যে ভিহান ভাই এর গা থেকে কেমন মিষ্টি মিষ্টি সাফরন আর জেসমিনের একটা ঘ্রাণ পাওয়া যায়। ওটা কোন পারফিউম টা? যেটা শুকলে তার সকল ইন্দ্রিয় কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যেই সুভাসটা তার নাকে আসতেই একেবারে খেয়ে ফেলতে মন চায়। ওই ঘ্রাণ টা তাকে কেমন পাগল পাগল করে। অবচেতন মন চায় ভিহান ভাই কে একেবারে ঝাপটে ধরে সারাদিন ওই ঘ্রাণ শুকতে।
রাহা যেন নিজের ভাবনায় কল্পনায় বিভোর হয়ে গেলো। তার ঠোঁট টিপা হাসি আর ভাবুক মুখ দেখে বুঝায় যায় সে নিহাত সামান্য কোনো কল্পনায় মেতে নেই। তার চিন্তায় কল্পনায় এমন বিশেষ কিছু দৃশ্য বানাতে ব্যস্ত যা তার মস্তিষ্ক কিছুক্ষণের জন্যে সুখাকর অনুভূতি দিলেও সমুচিত নয় তা ইঙ্গিত করে। তাই দ্রুত নিজের কল্পনা জগত থেকে বের হয়ে দুই পাশে মাথা নাড়ে। ঘনঘন চোখ ঝাপটিয়ে নিজে নিজে বলতে থাকে,
“ছিঃ ছিঃ এসব কি ভাবছি আমি? ভিহান ভাই আমার ভা ভাই হয়। ছিঃ রাহা তুই লুচু হলি কবে?”
ঢোক গিলে নিজের অস্থিরতা কমাতে চাইল সে। ভ্যানিটি থেকে একটা সাদা স্বচ্ছ কাঁচের বোতল তুলে নিলো। বোতলটা দেখতে তার বড্ড কিউট লাগলো। অবুঝ রাহা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল বোতলটা। পারফিউম লোভী রাহা নাকের কাঁচে এনেই একটু শুকলো। অদ্ভুত মিষ্টি এক অনুভূতি হতেই ভেতরের কৌতূহল তাকে ছটফট করে দিলো ঘ্রাণটা শুকার জন্যে।
ঘরে ভিহান ভাই নেই বিধায় রাহা সুযোগটা বেশ পেলো। চোখ বুলিয়ে নিয়ে দেখলো “Angels’ Share, by Kilian” লেখাটায়। পারফিউমের মুখটা খুলে নিজের গলার দিকে একটু স্প্রে করে দিলো। সঙ্গেসঙ্গে তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। শরীরটা শিরশির করল ঘ্রাণটায়। সকল ইন্দ্রিয় যেন তার থেমে গেলো। ঘ্রাণটা শুকতেই প্রথমে নাকে এসে লাগল একধরনের উষ্ণ মিষ্টতা। ঠিক চকলেট না, আবার মধুও না। ওডের মিষ্টি স্পাইসি ভাবটায় তার শরীর দুলে উঠল। চন্দনের নরম আলতো একটা সুভাস তার ভেতরকে যেন স্থির করে তুলল। ঘ্রাণটা খুব বেশি ভারী না। মিষ্টি উষ্ণ একটু নরম একটা অনুভূতি হলো রাহার মাঝে। ঘ্রাণটার সাথে তার মিশে যেতে মন চাইল। অনুভূতিরা পাজি প্রজাপতির মতো উড়তে লাগল।
রাহা বিভোর হয়ে কিছুক্ষণ এভাবেই ঘ্রাণটা শুকে নিলো। একটুপর চোখ খুলে বোতলটা ভালো করে ঘুরিয়েফিরিয়ে দেখল। দেখতে যেমন কিউট ঘ্রাণটা আরো বেশি খেয়ে ফেলার মতো। রাহা নিজের শরীরে গলায় হাতে ইচ্ছামতো স্রে করলো। চোখ বন্ধ করে আবারও টানলো নিজের মাঝে ঘ্রানটা।
ওয়াশরুম থেকে ভিহান বের হতেই ঘরময় ককটেলের মতো গাঢ় উষ্ণ ঘ্রাণ এসে ঠেকলো নাকে। এরপর মিষ্টি মিষ্টি চকলেট আর চন্দনের সুভাসে ঘরটা মম করতে লাগলো। মুহূর্তে কপাল কুঁচকে এলো তার। এই মাথা নষ্ট করা পারফিউম কে স্প্রে করলো?
“এখানে কি করিস তুই?”
হঠাৎ ভিহান ভাই এর রাশভারী ধমক সুরে বলা কথায় রাহা চমকে উঠল। সামান্য কেঁপেও উঠল ভয়ে। দ্রুত করে পারফিউম টা রেখে ঠিক হয়ে দাঁড়ালো। একে তো পারফিউমের ঘ্রাণটায় কেমন কেমন লাগছে রাহার। তারউপর এই ভিহান ভাই। লোকটা এই ভর সন্ধ্যা বেলায় শাওয়ার নিয়ে এসেছে। কোমরে একটা সাদা টাওয়াল ঝুলছে। কাঁধে আরেকটা টাওয়াল ঝুলিয়ে রেখে তা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে আসছে। চুলে শিশির কণার মতো পানি জমে আছে। কপালে আসা চুল দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। আর ওই ফুলো খাঁজকাটা বডি? বিন্দুবিন্দু পানি জমা লোমহীন বুকটা বড্ড আকর্ষণীয়। ওই উদোম খাঁজকাটা বুক দেখেই তো রাহার মাথা ঘুরছে। আরো বেশি কেমন কেমন লাগছে তার। গলাটা শুকিয়ে আসছে। যেই উদাম শরীর দেখে তার অস্বস্তি হচ্ছে বেহায়া রাহা সেই শরীরের দিকেই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টি যেন ওখানেই অনড় রেখে ঢোক গিলছে বারবার।
রাহা অনুভব করলো উদোম বুকটা একেবারে তার ধারেকাছে চলে এসেছে। সেই সাথে অনুভব করলো নিজের অসাড় শরীরটাও। যার প্রভাবে সে না পারলো সরে দাঁড়াতে আর না পারলো মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ বের করতে।
শক্ত ধাঁচের ভিহানও যেন নিজেকে নিজে সামলে উঠতে পারছে না। রাহার পুরো গা থেকে ওই মিষ্টি উষ্ণ সুভাস বের হচ্ছে। চন্দনের ঘ্রাণটা বড্ড আকর্ষণীয় লাগছে। ভিহান কেমন ঘোরাচ্ছন্নের মতো একদম এগিয়ে যায় রাহার কাছে। মানুষটাকে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে রাহা আরো গুটিয়ে যায়। জড়সড় হয়ে একেবারে ভ্যানিটির সাথে মিশে দাঁড়ায়। ভিহান বিভোর মুখে একেবারে গিয়ে দাঁড়ায় রাহার সম্মুখে। রাহার ছোট্ট দেহটা ভিহানের বিশাল দেহের আড়ালে লুকিয়ে গিয়েছে যেন। ভিহান আবিষ্ট নয়নে রাহার দিকে তাকিয়ে নিজের এক হাতটা শব্দ করে রাখল ভ্যানিটির উপর। চোখ নুয়িয়ে রাহার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে প্রশ্ন করল,
“আমার রুমে কি চাই তোর?”
ভিহান ভাই এর উদোম বুক আর এত কাছে এসে ফিসফিস করে বলা কথায় রাহার হাত পা পুরো জমে যেতে লাগলো। হৃদ স্পন্দন যেন হঠাৎ করেই থেমে গেলো। কিন্তু অনুভব করল ভেতরের অস্থিরতা আর তীব্র তোলপাড়ের খুঁজ। আশ্চর্য এমন লাগছে কেন রাহার?
ভিহান ঘাড় নুয়িয়ে তাকিয়ে আছে তার বুকের একটু নিচে পড়া রাহার দিকে। মেয়েটা যেন ভয়ে অস্বস্তিতে বরফ হয়ে গিয়েছে তা তার জানা। কিন্তু গাধা মেয়েটা এই পারফিউম ব্যবহার করতে গেলো কেন? নিজেকে সংযত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শক্তপোক্ত ভিহানও কেমন ঘোরে চলে যাচ্ছে। যেন নিজেই নিজের লাগাম টানতে ব্যর্থ হচ্ছে সে।
রাহা তখনো এভাবে থম মেরে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোখ দুটো বড়বড় করে। যেন সে পাথরের মূর্তি হওয়ার পণ ধরেছে। ভিহান গভীর নয়নে কাছ থেকে দেখলো রাহা কে। আবারও নাক টেনে শুঁকে নিলো রাহার শরীর থেকে বের হওয়ার পারফিউমের ঘ্রানটাকে। এরপর শক্ত গলায় বলল,
“কেন এসেছিস আমার এখানে? আমার পারফিউম কেন ছুঁয়েছিস?”
রাহা জবাব দিতে পারলো না। শক্ত কাঠের মতো নির্জীব ভাবে তাকিয়ে রইল ভিহানের বুকের দিকে। এই উদোম বুক দেখলেই কি তার অস্বস্তি হয়? বুকের ভেতর কেমন কেমন করে? রাহা বুঝে পায় না। শুধু ধ্যান ধরে তাকিয়ে থাকে।
রাহার চাউনি দেখে ভিহানের চোখ সরু হয়ে আসে। চিবানো সুরে বলে,
“এত কি দেখছিস এখানে? আমার ভবিষ্যৎ বউ এর জিনিসে নজর দিচ্ছিস নাকি তুই?”
সংবিৎ ফিরে পেলো যেন রাহা। মুহূর্তে হুড়মুড় করে পাশে লাফ দিয়ে সরে দাঁড়াল। লজ্জায় অস্বস্তিতে মাথা নুয়ে আমতাআমতা করল,
“কক কি বলছেন?”
ভিহান সোজা হয়ে দাঁড়ালো। ভ্যানিটিতে হেলান দিয়ে তাকালো রাহার দিকে।
“আমার রুমে এসেছিস কেন তার জবাব দে আগে।”
রাহা ঢোক গিলে। আড়চোখে তাকায় ভিহান ভাই এর দিকে।
“বলেছি না আমার পারমিশন ছাড়া আমার রুমে ঢুকা নিষেধ তোর জন্যে? তবুও কেন?”
“আ আমি দরকারে এ এসেছিলাম।”
“তো আমার জিনিস কেন ছুঁয়েছিস?”
“একটু দে দেখছিলাম।”
“শুধু দেখছিলি? তাহলে তোর গা থেকে কিসের ঘ্রাণ বের হচ্ছে?”
ভয়ে এবার আরো গুটিয়ে যায় রাহা। মাথা নিচু করে হাত কঁচলায়। ভিহান সূক্ষ্ম নজরে সেদিকটা দেখে আবারও নজর দেয় রাহার মুখের উপর।
“তোকে বারণ করেছিলাম তো আমার পারফিউমে হাত লাগাতে?”
রাহা মুখটা ভোতা করে করুণ চোখে তাকায় ভিহান ভাই এর দিকে।
“একটু দিয়েছি শুধু। সত্যি বলছি ভিহান ভাই জাস্ট একটা স্প্রে।”
রাহার গাল দুটো ফুলে গিয়েছে। মুখটা আরো বেশি আহ্লাদী হয়ে উঠেছে। তা দেখে ভিহান ঘাড় বাঁকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে নিশ্বাস ফেলে। বুঝতে পারে তার বিরক্তের মাত্রা বাড়ছে।
ভিহান খেয়াল করছে রাহা বারবার আড়চোখে তার খালি বুকের দিকে তাকাচ্ছে। ওর এমন নজর দেখে দাঁত কাটে ভিহান। গাধা টা সব কিছুতে বাড়াবাড়ি করে তার বিরক্ত আকাশচুম্বী করে। শক্ত মুখে সে নিজের কার্বাডে এগিয়ে যায়। কালো একটা টিশার্ট জড়িয়ে নেয় গায়ে। রাহা আড়চোখে সেটা দেখে। সাদা টাওয়ালের সাথে কালো টিশার্ট বাহ!
“ফারদার আর এমন করবি না। ভুলেও ছুঁবিনা আমার কোনো জিনিসে।”
“আচ্ছা ছুঁবো না।”
“…
“ভিহান ভাই?”
“যা বলতে এসেছিস তা বলে আউট হো।”
“বলছি ভিহান ভাই এবার আপনি আমাদের জন্যে গিফট আনেননি?”
“গিফট? আবার সেটা চাইতেও এসেছিস?”
অপমান বোধ করলো রাহা। এভাবে মুখের উপর কেউ কথা বলে? মনে মনে মুখ ভেংচালো ভিহান ভাই কে। আস্তো খাডাস রসকষহীন মানব একটা। সেসব কিছু তোয়াক্কা না করে লোভী রাহা বলল,
“না আপনি যদি ভুলে যান তাই মনে করিয়ে দিতে এলাম। সবসময় তো বাড়ি ফিরলে আপনি আমাদের জন্যে অনেক গিফট আনেন। তাই আরকি।”
ভিহান কিছুটা দূরে গিয়ে সংক্ষেপে জবাব দিলো, “এবার আনিনি।”
মুহূর্তে চুপষে গেলো রাহা। পরক্ষণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাসি ঝুলিয়ে বলতে লাগল, “ঠিক আছে সমস্যা নেই। আপনি আমাকে এই পারফিউম টা দিয়ে দিন প্লিজ। তাহলেই হবে আমার। প্লিজ ভিহান ভাই দিয়ে দিন না। প্লিজ।”
মাথামোটা টা কি বলছে? এই পারফিউম ওকে দিয়ে দিতে? সারাক্ষণ সেটা লাগিয়ে তার সামনে ঘুরঘুর করার জন্যে? এরপর কি হবে? মাথামোটা গাঁধা টা কি বলছে নিজে জানে? ভিহান অনুভব করে রাহা আর একটু থাকলে তার রাগ বাড়বে ওর উপর। হিতে বিপরীত হবে।।
ভিহান নিজের কাঁধের টাওয়ালটা ক্রোধের সাথে ঢিল মারল রাহার মুখের দিকে। সেটা গিয়ে পড়লও রাহার মুখের উপর। চিবিয়ে রাগান্বিত সুরে বলল ভিহান,
“বের হয়ে যা আমার রুম থেকে। আউট।”
নাক আর গাল ফুলিয়ে দিয়ে রাহা টাওয়াল হাতে তাকিয়ে থাকে ভিহান ভাই এর দিকে।
“এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন ইডিয়েট? খেয়ে ফেলবি আমাকে?”
“….
“কি বলেছি কথা কানে যায় নি? চোখের সামনে থেকে যা।”
রাগে দুঃখে অপমানে রাহা ফোঁসফোঁস করতে থাকে।
“নিজে যাবি নাকি তোকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে আমার হেল্প করতে হবে?”
রাহা এবার আর নিজেকে আটকাতে পারলো না। রাগে দুঃখে চোখ উপছে তার পানি বের হয়ে হলো। হাতের টাওয়ালটা ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বলে উঠল,
“আপনি খুব পঁচা ভিহান ভাই, খুব পঁচা।”
এরপর আর বাঘের গুহায় থাকার দুঃসাহস করেনি রাহা। এক ছুটে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
এতক্ষণ রুশমির ঘরে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি নাকের পানি একে করে ভিহান ভাই কে যাচ্ছেতাই বলে এবার রাহা ছুটেছে দাদীর রুমে। কারণ বাড়িতে বাপ চাচা কেউ নেই। আর আহ্লাদের ইন্দোন যুগানোর মানুষই তো বাপ চাচা আর এই দাদী।
“তুমি জানো দাদী ওই ভিহান ভাই কত খাডাস? একটা পাষাণ বিবেকহীন মানুষ? সামান্য একটা পারফিউম চাইলাম দিলো তো নাই’ই উল্টো যা মন চায় বলেছে। আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে তাও বলেছে। তোমার আদরের নাতিকে কিছু বলবে না? ওই খবিশ লোকটা এমন করলো কেন আমার সাথে? তুই দিবি না ভালো কথা, তুই ছেচ্চোর কেন খবিশগিরি করবি আমার মতো বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে?”
লতিফা বেগম সেই কখন থেকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু এই আহ্লাদী কে কিছু বলেও কাজ হচ্ছে না।
“না তুমি বুড়ি তো তোমার নাতির জন্যে জান। আমি জানি তুমি কিছু বলবে না ওই জাঁদরেল টাকে। বড়বাবা আসুক আমি ঠিক বলবো। উনি আমায় কত অপমান করেছে সব বলবো।”
“আমার দাদুমনি তুমি একটু শান্ত হোও।”
“কি শান্ত হবো? আমায় কেমন করে অপমান করেছে তুমি বুড়ি দেখোনি? বুড়ো বয়সে নাতির জন্যে পিরিত উথলে উঠছে না? বিয়ে বসবে? করিয়ে দিবো বিয়ে? নাকি দাদা কে কবর থেকে তুলে এনে দেখাবো তুমি কচি ছেলে দেখে গলে গিয়েছো।”
“হায় আল্লাহ এই পাগল মাইয়া নিয়া কই যাই। বলি ওই ন*ডি বিগার উঠছে?”
“বুড়ি মুখ সামলে কথা বলো। একদম আজেবাজে কথা বললে টেপকস লাগিয়ে দিবো।”
“তো আর কি বলবো তোকে? শরীরে কুড়কুড়ানি বাড়ছে মনে হইতাছে। নাতনীরে আমার বিয়া দিতে হইবো লাগে।”
“চুপ বুড়ি। বিয়া তোমারে দিবো। তাও ওই খাডাস খবিশ ভিহান্নার সাথে।”
“দূর নডি। অন্যের জামাইরে আমি নিমু ক্যা? পরে দেখবি তোর ভাগেই কম পরবো। শরীরে আরো জ্বলন ধরবো।”
“বুড়ি তোমার মাথাটা কি গেছে ওই ভিহান ভাই এর শরীর দেখে? কচি সুন্দর ছেলে দেখে দাদাকে ভুলে দেওয়ানা হয়েছো না?”
“দেওয়ানা মনে হইতাছে আমি না তোর হওয়া লাগবো।”
লতিফা বেগম মুখ টিপে হাসেন।
“বুড়ি সত্যি বলছি কিন্তু আমার রাগ হচ্ছে খুব। যা খুশি বলে মজা নিও না। পরে বাজার থেকে তোমার পান আনা বন্ধ করে দিবো।”
“তাতে কি হইবো? আমার ভিহান দাদুভাই আছে না? সে আইনা দিবো।”
“লুচ্চা বুড়ি। এক পা কবরে আরেক পা দুনিয়াতে রাইখা কচি পোলার স্বপ্ন দেখে।”
“দেখলে ক্ষতি কি লো? নাকি তোর ভাগে কম পরবো?”
রাহার মাথা খারাপ হয়ে গেলো। সে আবার চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। লতিফা বেগম হেসে কাছে ডাকেন।
“না। তুমি বুড়ি খুব লুচ্চা। যাও সরো।”
“আয় বইন তোরে দুইডা কথা কই। আয় সোনা মানিক আমার। আয় কাছে।”
দাদীর আহ্লাদে গলে গেলো আহ্লাদী রাহা। মুখটা গুমড়া করে এগিয়ে গেলো দাদীর বাহুডোরে। তিনি রাহার চোখ মুছে দিয়ে চুমু খেলেন।
“আমার একটা প্রশ্নের জবাব দাও তো দাদুমনি?”
“কি?”
“সত্যি করে বলো তো, আমার ভিহান দাদুভাই কে তোমার কেমন লাগে?”
রাহা যেন ভাবনায় জমে গেলো। হৃদপিন্ডটা ধুকধুক করতে লাগলো দাদীর কথায়। এ কেমন প্রশ্ন দাদীর?
“কি হলো দাদুমনি?”
“তু তুমি কি বলছো এসব দাদী?”
“আচ্ছা শুনো, ধরো ভিহান তোমার কিছু হয় না। চাচাতো ভাইও না। তখন তাকে কেমন লাগবে তোমার কেমন চোখে দেখবে তুমি?”
রাহার নিশ্বাস যেন আচমকা ভারী হয়ে গেলো। যেন নিজ ভাবনা কল্পনায় ডুবে গিয়ে মেয়েটা ঘনঘন নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে।
লতিফা বেগম রাহার হাবভাব দেখে ঠোঁট টিপে হাসে। বিষয়টা বেশি না ঘেটে বলেন,
“আমার ভিহান কিন্তু ছোট বেলা থেকেই একটু কথা কম বলা রাগী মানুষ। সবার সাথে সবসময় খোলামেলা কথা সে বলে না কিন্তু সবার সব দিক নজর রাখে। ও ছোটবেলা থেকেই বড়দের মতো আচরণ করা শুরু করে দিয়েছিল। ১৫ বছর বয়স থেকেই তার মাঝে আচমকা গাম্ভীর্য ভাব এলো। ও এতো ছেলেমানুষি করা পাগলামো করা পছন্দ করে না দাদুমনি। ও ভার স্থির শান্ত দায়িত্ববান আর বুঝদার মানুষ পছন্দ করে। ভিহান তো বাড়িতে বেশি থাকে না। ও যখন বা যতদিন এ বাড়িতে থাকে ততদিন তুমি নিজের দুষ্টুমি একটু কম করবে। ওর সামনে শান্ত বুঝদারের মতো আচরণ করবে। শুনেছো কি বললাম?”
রাহা গভীর মনোযোগ দিয়ে সব কথা শুনছে। যেন গণিত ক্লাসও ও এতো মনোযোগ দিয়ে শুনে না। লতিফা বেগম শান্ত রাহার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন।
“আমার ভিহান খাটিসোনা। ওর বউ যে হবে তার ভাগ্য সোনা দিয়ে মুড়ানো। গম্ভীর হলেও বউকে আদরে সোহাগে সোনাইসোহাগা করে রাখবে। গম্ভীর রাগী লোকেরা বউকে খুব আদর করে ভালোবাসে। তুমি..”
“দাদী মুখে ফলস্টপ লাগাও।”
আকস্মিক মোটা আওয়াজে লতিফা বেগম আর রাহা দুজনেই তাকায় দরজার দিকে। কালো আটশাট টিশার্ট আর কালো টাউজার জড়িয়ে ভিহান ভাই এগিয়ে এলো। পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে শক্ত গলায় বলল রাহা কে,
“তুই এখানে কি করছিস?”
রাহার মুখটা আবার ভারী হয়ে গেলো। মনে পড়ল একটু আগে ভিহান ভাইএর করা ব্যবহারের কথা। সে দাদীর সাথে আরো মিশে বলল,
“এটা আমার দাদীর ঘর।”
“দাদী টা কে কি একা নিজে দলীল করে নিয়েছিস?”
“তাতে আপনার কি?”
“কানের নিচে দুইটা পড়লেই বুঝে যাবি।”
রাহা এবার আর জবাব দেয় না। আড়ালে মুখ মুচড়ায়। কপালের ভাঁজ রেখে ভিহান সূক্ষ্ম গলায় বলে,
“যা এখান থেকে।”
রাহা দাঁত কটমট করল। কি ভেবেছে কি জাঁদরেল টা সবসময় সব জায়গায় মাস্তানি করবে? রাহা দাদীকে দুই হাতে, জড়িয়ে ধরে বলে,
“কেন? আমি আমার দাদীর ঘরে আছি। আপনি আমাকে এখান থেকে বের করে দিতে পারেন না।”
“আমি কি পারি আর না পারি সেটা তোকে দেখানোর প্রয়োজন বোধ করছি না। গেট আউট।”
“এটা তো আপনার ঘর না দাদীর ঘর। এখান থেকে আপনি আমায় বের কেন করবেন? আমি যাবো না। আজ আমি দাদীর সাথে থাকবো।”
“থাকতে হবে না। বের হো।”
“যাবো না। কি করবেন আপনি?”
“আহা দাদুভাই থামো তোমরা।”
নরম সুরে বলেন লতিফা বেগম।
ভিহান এবার অনেকটা দৃঢ় কন্ঠে ক্ষোভের সাথে বলে
“তুই যাবি নাকি বিড়ালের বাচ্চার মতো তোর ঘাড় ধরে বের করে দিয়ে আসতে হবে আমার?”
রাহার মুখটা কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলো। সবসময় ভিহান ভাই তার সাথে এমন করে। তার উপর নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে চাঁপিয়ে দিতে চায়।
“আপনি আবার আমায় ঘাড়ধাক্কার কথা বলছেন ভিহান ভাই? ছোট বলে যা খুশি বলবেন? আপনি সবসময় আমাকে এভাবে অপমান করতে পারেন না। দাদী তুমি কিছু বলবে না?”
“তুমি শান্ত হোও দাদুমনি। সামান্য কথায় তোমার কাঁদতে হবে কেন? আর দাদুভাই এভাবে কেন বলছো? ও থাকতে চাচ্ছে থাকুক না।”
ভিহান ভাই কে দুটো কড়া কথা শুনানোর বদলে এত নরম সুরে বলা কথা শুনে রাহার শরীর রাগে জ্বলে উঠল। রাগে গজগজ করে বিছানা থেকে উঠতে উঠতে বলতে লাগল,
“দূর থাকবো না আমি এখানে। দূরে কোথাও চলে যাবো। এই বাড়ির কেউ আমায় ভালোবাসে না।”
নিচকাদুনে রাহা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে লতিফা বেগমের রুম থেকে চলে গেলো। ভিহান শক্ত দেহে বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে রাহার গমন পথ দেখলো। সে পথে দৃষ্টি স্থির করে মনে মনে বলতে লাগল,
“ভালোবাসার বিশাল সমুদ্র তোর অপেক্ষায় মুখিয়ে আছে মিস তুনরা খান রাহা।”
“দাদুভাই তুমি কেন মেয়েটার সাথে শুধুশুধু এমন করো?”
“আগে বলো ওর সাথে তুমি কিসের কথা বলছিলে?”
“তুমি কি আমাদের কথা শুনছিলে?”
“আমার প্রশ্নের জবাব এটা না দাদী। একে কি বলছিলে তুমি?”
“কেন? ভুল কি বললাম?”
“দাদী কতবার তোমাকে বলতে হবে এসব ভাবনা বন্ধ করো? ওর মাথায় তুমি আজেবাজে কথা কেন ঢুকাচ্ছো?”
“আজেবাজে কথা না। যা সত্যি তাই বলছি। ওর ভালোর জন্যেই বলছি তুমি জানো দাদুভাই।”
“তুমি কি বুঝতে পারছো ওর ভালো চাইতে গিয়ে ওর ক্ষতি করছো?”
“কিসের ক্ষতি? যেটা বাস্তব সেটা ওকে বলতে সমস্যা কি?”
ভিহান দাঁতে দাঁত চেঁপে ঘুরে দাঁড়ায়। রাগ নিয়ে বলে,
“দাদী ওর মাথায় উল্টোপাল্টা কিছু ঢুকাবে না তুমি। আমি বারণ করছি।”
“তুমি বারণ করলেই আমার কেন শুনতে হবে দাদুভাই?”
“তুমি কি বুঝতে পারছো আগুন কে উস্কে দিচ্ছো। নিজেও আগুন নিয়ে খেলা করছো।”
লতিফা বেগম হাসেন।
“আগুন নিজেই যদি নিজের তাপ সহ্য করতে না পারে তবে কি করে হবে দাদুভাই?”
ভিহান কে অস্থির দেখায়। রাগে যেন সে বিচলিত। তা দেখে লতিফা বেগম বলেন,
“তুমি কেন আমার কথা মানতে চাও না দাদুভাই? কেন এমন কঠিন হয়ে থাকো? আমি তো অসম্ভবের কিছু বলছি না। ওর ভালোর জন্যেই বলছি। তুমি বিশ্বাস করো ও তোমার সান্নিধ্য পেলো শান্ত হয়ে যাবে। একদম বুঝদার, স্থির হয়ে গিয়ে তোমার কথা মেনে চলবে। তুমি দেখে নিও। ও তোমার খুব বাধ্য হবে।”
ভিহান সেই কথার জবাব দেয় না। শুধু নিজ মনে আওড়ায়, “ও আমার সান্নিধ্য পেলে শান্ত নয় বরং নিজের সকল বাঁধা শৃঙ্খল ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে আমি নিজেই নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ সেখানে ওকে কি করে আটকাবো?”
রাত ৮ টার দিকে ভিহানের ছোটবেলার এক বন্ধু এসেছে বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই ভিহান সবার সাথে মিশতো না। তাই ওর বন্ধুবান্ধবের সংখ্যাও কম।
ভিহানের বন্ধু শারহান বসে আছে ড্রয়িংরুমে। আফসানা বেগম নানান খাবার নিয়ে বসেছে ওদের সামনে। শারহান অনেক বছর পর এই বাড়িতে এসেছে। আফসানা বেগম কারণ জানতে চাইলে জবাবে বলে সে, “এত দিন সে বিদেশ ছিল কাজের সূত্রে। ৮ কি ৯ মাস হচ্ছে দেশে ফিরেছে। ভিহান বাড়ি এসেছে শুনে তাই দেখা করতে এসেছে। আফসানা বেগম জানিয়ে দিলেন, আজ রাতে সে বাড়ি ফিরতে পারবে না। এত বছর পর এসেছে আজ তাকে এ বাড়ি থাকতে হবে।
উত্তরে শারহান বলে, “আন্টি এখান থেকে দশ মিনিট দূরেই উঠেছি আমি। গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে আমার। আমি কাল আবারও আসবো। কিন্তু রাতে ফিরতেই হবে।”
আফসানা বেগম জোরাজুরি করলেও কাজ হলো না। ভিহান গম্ভীর কন্ঠে মাকে না জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তিনি জেদি গলায় বলেছেন রাতের খাবার না খেয়ে শারহান বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। এতে অবশ্য আপত্তি করেনি শারহান।
প্রায় ঘন্টা সময় লাগিয়ে কান্না করে রাহা শান্ত হয়েছে। পাগলিটা মন মতো কাঁদতে না পারলেও শান্তি পায় না। রাহার স্বভাব গুলির মাঝে একটা হলো সে কারো উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না। বোকা মেয়েটা রাগে কান্না করে। মন হাল্কা করে কাঁদতে পারলে তার আর রাগও থাকে না। এই যে এই মুহূর্তে ভিহান ভাই এর প্রতিও তার আর কোনো রাগ নেই।
নিচে নেমে অপরিচিতি লোক কে দেখে স্থির হয়ে দাঁড়ায় রাহা। মুচকি হেসে তাকায় ভিহান ভাই এর দিকে। মনে পড়ে দাদীর কথাটা। ভিহান ভাই এর সামনে ছেলেমানুষি না করে তিনি শান্ত হয়ে থাকতে বলেছেন। কিন্তু কেন? তা রাহা জানে না। তবুও সে নিজের চঞ্চলতা দমন করার চেষ্টা করলো।
ভিহান ভাই এর পাশে বসে থাকা শারহানের উদ্দেশ্যে সালাম দিলো সে। এদিকে শারহান রাহা কে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। ফ্যালফ্যাল করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তা পাশে বসা ভিহান খুব করে টের পেলো। রাহার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বিস্তর রেগে সে সামনে থাকা ফলের ছুড়িটা হাতে তুলে নিলো। সেটা ঘুরিয়েফিরিয়ে চিবানো ক্ষীণ সুরে বলল,
“চোখ তুলে ফেলবো বাস্টার্ড। নজর সামলা।”
রাহা মুচকি হেসে আফসানা বেগমের কাছে গিয়ে জানতে চাইল, “এটা কে বড়মা?”
“আরে আমাদের ভিহানের ছোটবেলার বন্ধু। অনেক বছর পর আবার এসেছে আমাদের বাড়ি।”
রাহা সৌজন্যতা রক্ষার্থে ভদ্রতাসুলভ হেসে জানতে চাইলো, “কেমন আছেন ভাইয়া?”
শারহান বিভোর গলায় জবাব দিলো, “খুব ভালো আছি।”
ভিহানের শরীরে যেন কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাগে কটমট করতে করতে সে ধমকে বলে উঠল, “এখানে কি তোর? যা নিজের রুমে গিয়ে পড়তে বোস।”
ভিহান ভাই এর রুক্ষতায় রাহার মন খারাপ হলেও সে চুপচাপ চলে যায়। এই ভিহান ভাইটা আস্তো বজ্জাৎ কিছুতেই তার মুডটা ঠিক হতে দিচ্ছে না কিছু না কিছু করেই তার মন খারাপ করে দিচ্ছে।
শারহান প্রশ্ন করলো, “এটা কে রে?”
ভিহান ক্রোধান্বিত দর্পে হুট করে উঠে দাঁড়ালো। তেজ মিশ্রিত কাঠ কাঠ গলায় জবাব দিলো,
“এত কিছু তোর জানতে হবে না। আমার রুমে আয়।”
এরপর ভিহান হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলো। শারহান কিছুক্ষণ পর এসে বলল,
“ওই মেয়েটা সেই ছোট্ট রাহা? আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না ইয়ার। এত বড় হয়ে গিয়েছে।”
ভিহান জবাব দিলো না। কিন্তু মুখ দেখে মনে হলো অগ্নিগহ্বর নিজের মাঝে নিয়ে ঘুরছে।
“ভাই তোকে একটা কথা বলতে চাইছিলাম।”
“…
“না মানে আমার বন্ধু তুই। তাই মনে হচ্ছে তোকে আগে জানিয়ে পরে বিষয়টা নিয়ে আগানো ভালো।”
ক্রমে ভিহানের মুখ লাল থেকে লাল হতে লাগল। যেন এখুনি অগ্নি গোলা টা ফেটে যাবে। দাঁত কটমট করছে তার, শরীর জ্বলছে।
“বলছি রাহা দেখতে বেশ সুন্দর। ওকে আমার পছন্দ হয়েছে। তুই চাইলে ওকে..”
কথাটা শেষ হতে দিলো না তার আগেই ভিহান বন্ধুর দোহাই তোয়াক্কা না করে বজ্র তেজে ক্ষিপ্রে গিয়ে চেঁপে ধরল শারহানের গলা। মুখ ভয়ংকর হিংস্র দেখাচ্ছে। চোখ দুটি আগুনের গোলা হয়ে গিয়েছে। নিশ্বাসের সাথেও যেন উত্তপ্ত তেজ নির্গত হচ্ছে ফুলকির মতো। হিংস্র নেকড়ের মতো শারহানের গলা চেঁপে ধরে পিষে বলতে লাগল,
“শী ইজ মাইন। অনলি মাইন। যেই কথাটা এই কন্ঠস্বর দিয়ে বের করেছিস দ্বিতীয় বার সেই ভুল করার সাহস করিস না। নয়তো আমি ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ খান তোর জান খেয়ে ফেলবো।”
চলমান…
দ্রুত রেসপন্স করুন তাহলে পরের পর্বও দ্রুত আসবে ইনশাল্লাহ…
Share On:
TAGS: ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ, সাদিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৬
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৪
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ গল্পের লিংক
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ১৬
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩০
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১২
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৫
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২৩
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৪