Golpo ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ ডিফেন্স রিলেটেড

ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৭


ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ

লেখনীতে_সাদিয়া

পর্ব_১৭

এই পর্বে যত তাড়াতাড়ি ১.৬ রিয়েক্ট হবে পরবর্তী স্পেশাল পর্ব তত তাড়াতাড়ি আসবে।
ভিহান চোয়াল শক্ত করে তীক্ষ্ণ ধারালো চোখ দুটি নিক্ষেপ করে রাখলো দুইতলায় দাঁড়িয়ে পান হাতে নিয়ে রংঢং করা রাহার পানে। বজ্জাৎ পাজিটা আড়চোখে তার দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। শরীর টা ফিনফিন করছে। রাগে দাঁত কিড়মিড় করছে তার। ইচ্ছা হচ্ছে এখুনি এটাকে চড়িয়ে দাঁত ফেলে দিতে।

শারহান স্তব্ধ হয়ে গেলো। সে কিছুই মেলাতে পারছে না। কোথায় গম্ভীর রাগী ডিসিপ্লিন মেন্টেন করা ভিহান আর কোথায় এই পাজি দুষ্টু বাচ্চা মেয়ে রাহা। কিভাবে কি? এই মেয়ের প্রতি ভিহান এতটা টক্সিক কেমনে কি? শারহান কে বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে রাগে ভিহান বারুদ মুখে ওকে ল্যাং মারলো। পরক্ষণে ক্ষিপ্র ভঙ্গিমায় আশেপাশে কিছু একটা খুঁজল। এতেই দুষ্টু চতুর রাহা সজাগ হয়ে পড়ল। বুঝল এবার ভয়ংকর কিছু একটা ঘটাবে রাক্ষস টা নিশ্চিত।

বাগানের পাশে এক জোড়া জুতা পড়ে আছে। এই জুতা জোড়া এখানেই থাকে সবসময়। হঠাৎ মেজাজ চড়া ভিহানের সেটা নজরে এলো। দাঁত কটমট করে সেদিকে এগিয়ে যেতেই রাহা আতঙ্কে চোখ বড়বড় করে নেয়। ভিহানও রেগেমেগে এক জুতা তুলে ঢিল মারে দুতলার দিকে। সঙ্গেসঙ্গে তড়িৎ গতিতে রাহা নিচে বসে পড়ে বারান্দার রেলিং এর আড়ালে। জুতাটা তার দিকে অনেক দূরে গিয়ে পড়ল। যেন ভিহান ইচ্ছা করেই এমন ভাবে ঢিল মেরেছে যেন মেয়েটার শরীরে না লাগে।

ভয়ে এভাবে গুটিশুটি ভাবে বসে থেকে রাহা ঘনঘন শ্বাস টানে বুকে হাত দিয়ে। ধড়ফড় করে লাফাচ্ছে হৃদপিন্ডটা। কত বড় খবিশ জাঁদরেল লোক সামান্য গানের অপরাধে তার দিকে জুতা ফিক্কা মারে। আস্তো খাডাস, রাক্ষস, একটা গন্ডার কোথাকার। রাহা আর সাহস করে না মাথা তুলে উঁকি দিতে। শঙ্কিত ভীতু বদনে নিচে গুটিশুটি মেরে বসে অনবরত শ্বাস টানতে থাকে।

নিচ থেকে ভিহান ভাই এর রাগান্বিত ক্ষিপ্ত কন্ঠে শুনা যায়, “ফিরে এসে দেখছি স্টুপিড। চিবিয়ে খাবো তোকে আমি ইডিয়েট।”

রাহা একটুও নড়ে না। কোনো ত্যাড়ামিও করে না। শুকনো ঢোক গিলে নিজের অস্বাভাবিক শ্বাস ঠিক করতে চায়। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মাথাটা একটু উঁকি দিয়ে দেখতে পায় ভিহান ভাই চলে যাচ্ছে। বেসমেন্ট থেকে আগেই বের করে রাখা বাইকে উঠতে উঠতে দূর থেকে শাণিত নজর দেয় ওর উপর। মেয়েটা ভীতু হয়ে আবারও টুক করে বসে পড়ে নিচে। নিজেকে আড়াল করে ওভাবে বসে থেকেই শুনতে পায় বাইকের তীব্র গর্জন। যেন এই বুঝি তাকে সর্তক দিয়ে গেলো আজ যে তার রক্ষে নেই সেটা সে খুব ভালো করেই বুঝল।

পাশে তাকিয়ে দেখল মুখে পান গুঁজে দিতে দিতে লতিফা বেগম মিটিমিটি হাসছে। তা দেখে মেজাজ গরম হলো রাহার। কুঁচকানো মুখে বলল,

“বুড়ি হেসো না। যে দুই একটা দাঁত আছে না ওগুলিও পড়ে যাবে।”

“তাতে কিছু হইবো না রে আহ্লাদী। আমার সময় শেষ। দেখার মানুষও নাই। কিন্তু তোর তো আছে। এখন নিজেই বুইঝা দেখ হের সামনে কেমনে চলবি।”

“তোমার পিরিতের নাতি যে আমারে জুতা ফিক্কা মারলো কিছু তো বললা না তুমি।”

পানের বাটা থেকে একটু মিষ্টি জর্দা নিয়ে মুখে দিতে দিতে বললেন লতিফা বেগম, “আমি কি কমু। যা কওয়ার তো তুই কইলি। জান ডাকবি, মনের কথা কইবি, দূরে গেলে আবার মইরা যাবি বলি শরীরে কি যৌবনে লাড়া দিছে?”

দাদীর রসিকতা কথা আর টিপ্পনী মার্কা হাসি দেখে শরীর জ্বলে রাহার। কটমট করে বলে, “বুড়ি তোমার শরীরে রং লাগছে। মনে বহুত ফুর্তিও দেখি নাতি বাড়ি আসছে বলে। আর আমার যৌবনে লাড়া দিলে তা সামলানোর জন্যে তোমারে সাথে নিয়ে ঘুরবো।”

রাহা হন্তদন্ত হয়ে চলে যাচ্ছিল। লতিফা বেগম পিছন থেকে বললেন আবারও, “আমারে নিয়া কি করবি? আমি তো কাজে লাগমু না রে পাগলি। জ্বালা মিটানোর মানুষ তো আছেই তোর।”

রাহা পিছু ঘুরে লাল চোখ মুখ নিয়ে বলল, “বুড়ি কবে যে তুমি আমার হাতে টপকে যাও বলা যায় না।”

রাহা মিলিয়ে যেতেই পান চিবাতে চিবাতে বিরবির করলেন লতিফা বেগম, “তোকে তোর নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিতে পারলে আমি শান্তি পাবো। উপরে গেলেও বোধহয় তৃপ্তি পাবো নিজের দায়িত্ব পালন করে। সময় মতো তোর মানুষটার হাতে তোকে তুলে দিতে পারলেই আমার শান্তি। আমি যে অঙ্গীকার বদ্ধ রে দাদুমনি।”

নিজের ঘরে রাহা বিচলিত হয়ে পায়চারি করছে। ছটফট করছে এক প্রকার। কোনো ভাবে শান্ত হতে পারছে না। পাগলের মতো রুমের এক মাথা থেকে অন্যমাথায় ছুটোছুটি করছে। কি করবে নিজেকে কিভাবে রক্ষা করবে কি করে লুকাবে কোথায় যাবে এসব চিন্তা তাকে আরো অস্থির আর ব্যগ্র করে তুলল। ভয়ে আর চিন্তার থেমে থেমে আর নিশ্বাস আটকে এলো।

জাঁদরেল টা আজ বাড়ি ফিরে তাকে আস্তো রাখবে না। আজ যে তার রক্ষে নেই সেটা চঞ্চল রাহা বুঝে গিয়েছে। তাই তো পাগলের মতো নানান চিন্তা করতে করতে এলোমেলো পায়ে ঘুরঘুর করছে। নিজেকে রক্ষা করার পথ খুঁজে চলছে। অস্থির রাহা ঝড়ের বেগে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে কি করবে, কিভাবে আজ বাঁচাবে নিজেকে।

“রাহা রে, আজ তোর খবর আছে। ওই খাডাস জল্লাদ টা বাড়ি ফিরলে আর তোকে আস্তো রাখবে না। রাক্ষস টা সত্যি তোকে চিবিয়ে খাবে। কি করবি এবার তুই? পালা রাহা বাঁচতে চাইলে আজ পালা। এই বাড়ি থেকে দ্রুত পালা। তোকে রাক্ষস ভিহান ভাই আজ লবন মরিচ ছাড়া চিবিয়ে খাবে।”

বোকা রাহা সত্যিসত্যি কল্পনা করে নিলো ভিহান ভাই প্রচন্ড ক্ষিপ্ত মুখাবয়ব নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসছে। রাক্ষসের মতো ঠোঁটের দুই পাশে দিয়ে ধারালো দুইটা দাঁত বেড়িয়ে আছে। চোখ দুটি জ্বলন্ত আগুনের মতো। ক্ষিপ্রে এগিয়ে আসছে তার দিকে। এখুনি কামড়ে খাবে।

দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে দ্রুত নিজের আজেবাজে চিন্তা বাদ দিলো। কি করবে তা নিয়ে আবারও ভাবতে লাগে মেয়েটা।

“কোথায় যাবো? কি হবে আমার আজ? বাড়িতে থাকলে নির্ঘাত ওই গন্ডারটা আমাকে মেরেই ফেলবে। আমায় পালাতে হবে। বাঁচতে হলে এই বাড়ি থেকে আমাকে পালাতে হবে। কিন্তু যাবো কোথায়?”

চিন্তায় মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা রাহার। তখুনি হঠাৎ কিরণ দেওয়া রোদের মতো মাথায় সুন্দর একটা বুদ্ধি হলো। মুহূর্তে ঠোঁটে হাসি ফুটলো তার। উদগ্রীব আতঙ্কিত রাহা আর সময় নষ্ট না করে ছুটে মায়ের কাছে।

জাহানারা বেগম আর নীলা বেগম তরকারি কাটাকাটি করছেন। আফসানা বেগম তেলে পেঁয়াজ কুঁচি ছেড়েছেন সবিজ রান্না করবেন। খান বাড়ির সবাই উনার রান্নার প্রশংসা করেন খুব। তাই প্রতিদিন তিনিই রান্না করেন। অসুস্থ হলেও নিজ হাতে কিছু একটা করেন তিনি। এই বিষয় নিয়ে সচেতন আফসানা বেগম জা দের সাথেও কথা বলে নিয়েছেন। দুই জা যেন উনার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ না হয় এবং এটা যেন ভাবতে না পারে সে সংসার শুধু উনারই তাই দুই জা কে প্রতিদিন বলেন কোনো একটা পদ রান্না করার জন্যে। জাহানারা বেগম আর নীলা বেগম বুঝেন বোন রূপে জা এর মনোভাব। তাই উনারাও নির্বিঘ্নে বলেন বড় জায়ের রান্না ছাড়া উনাদের পেট ভরে না। এই নিয়ম আবার সময় সাপেক্ষে ভিন্নও হয়। যেমন মেহমান এলে, কিংবা নীলা বেগম বা জাহানারা বেগমের বিশেষ কোনো রান্না বাড়ির কারো পছন্দমত হলে।

আফসানা বেগম বললেন, “নীলা তোর ভাইজান বলছিলো অনেক দিন ধরে চেপা শুকটির ভর্তা খায় না। লাউ পাতা দিয়ে আজ একটু ভর্তা করিস?”

“হাতের কাজটা শেষ করেই করছি ভাবি।”

কড়াইতে সবজি নাড়তে নাড়তে বললেন আফসানা বেগম, “মেজো রাহাটা বাড়িতেই আছে। কিছু খাবে কিনা দেখ গিয়ে একটু।”

“ওর খাওয়ার খবর নিতে হবে না ভাবি। ছোঁচাটার খিদে পেলে কি ওকে বেঁধেও কেউ ঘরে রাখতে পারবে? হাতের কাজ শেষ করতে দাও ভাবি।”

তাদের কথার মাঝেই ছুটে এলো রাহা। হাপাতে হাপাতে ডাকলো মাকে। তার আগেই আফসানা বেগম জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছেরে মা? খিদে পেয়েছে খাবি কিছু?”

রাহা মুখে জবাব দেয় না। একটু শ্বাস টেনে নিয়ে দ্রুত বেগে বলে, “আম্মু মামা কে ফোন দাও।”
হাতের কাজ ফেলে তাকালেন জাহানারা বেগম। কপাল চিন্তায় সরু হয়ে এলো উনার। কি হয়েছে? খারাপ কোনো খবর আছে নাকি? উনার অসুস্থ মাটা ভাই এর কাছে। তিনি শঙ্কিত উদ্বিগ্ন কন্ঠে জানতে চাইলেন,

“কেন কি হয়েছে? তোর নানুভাই ঠিক আছে?”

ঢোক গিলে উত্তর করল রাহা, “সব ঠিক আছে শুধু আমার ছাড়া।”

“মানে?”

“মানে মামা কে আসতে বলো। আমি আজ মামার বাড়ি যাবো। তাড়াতাড়ি বলো মামাকে।”

অবাক হলেন জাহানারা বেগম। যে মেয়ে মামার বাড়ি যেতে চায় না। টেনেও যাকে নেওয়া যায় না সেখানে সেই মেয়ে কিনা আজ ইচ্ছাকৃত ওখানে যেতে চাইছে? ঘটনা কি? তিনি আরো ভাবুক হলেন।

“ও আম্মু। বলো না মামা কে। কল দাও তাড়াতাড়ি সময় নেই।”

“কেন? সময় নেই কেন? আর তুই হঠাৎ তোর মামার বাড়ি কেন যেতে চাইছিস?”

রাহা কিছু জবাব দিবে তার আগে প্রশ্ন করেন আফসানা বেগম, “কিরে মা? তুই তো ওবাড়ি যেতে চাস না। তাহলে কি হলো আজ?”

রাহা করুণ চোখ মুখ করে বলল, “ও বড়মা বলো না আম্মুকে। আমি মামা বাড়ি যাবো এখুনি যাবো। বলো না।”

হাতে থাকা টমেটো ফেলে তিনি ওঠে এলেন। কুঁচকানো বদনে প্রশ্ন করলেন মেয়েকে,

“সত্যি করে বল তো কি হয়েছে? ওবাড়ি কেন যেতে চাইছিস হঠাৎ? কি করেছিস তুই? তাকা আমার দিকে। কিরে তাকা।”

এবার আরো কিছুটা ভীতু হলো রাহা। ঢোক গিলে গলা ভেজানোর চেষ্টা করলো। এলোমেলো দৃষ্টি ফেলতে ফেলতে বলল, “মামা না সেদিন খুব করে বলল আমায় যেতে? কত আদর করে বলল সাথে যেতে সেদিন তো যাইনি মামার সাথে। আজ অনেক মনে পড়ছে মামা কে। নানুভাই কেও মিস করছি অনেক। তাই যেতে চাইছি।”

রাহা জানে ভাই আর মায়ের কথা বললে উনি না করতে পারবে না। তাই সেটাই কাজে লাগালো।

জাহানারা বেগম বললেন, “আবার কি মতলব করেছিস তুই? মাথায় কোন দুষ্টুমি ঘুরছে বল তো? তুই তো মামার বাড়ি যেতেই চাস না। আমি গেলেও তুই বাড়িতে থাকিস। আজ কি হলো হঠাৎ? কেন যেতে চাইছিস ওখানে? বল?”

আফসানা বেগম বলে ওঠেন, “আহহ মেজো ধমকাচ্ছিস কেন? মেয়েটার হয়তো মনে পড়ছে খালাম্মার কথা। শতহোক নানি তো। তুই না হয় আমিন ভাই কে কল দিয়ে বল এসে নিয়ে যেতে।”

“তুমি আর উস্কানি দিও না ভাবি। কয়দিন স্কুলে যায়নি ও? এখন আবার নতুন সুর তুলেছে।তারউপর ওর বাবা কে না বলে ওকে পাঠানোর সাহস আছে আমার? তুমি ওর কথা ছাড়ো। ওকে আর লাই দিয়ে মাথা তুলো না তো ভাবি।”

নীলা বেগম বললেন, “কেন এমন করছো মেজো ভাবি? যাক নয়। দুইদিন পর চলেই আসবে।”

“তুই কথা বলিস না ছোটো। ওকে আমি হাড়েহাড়ে চিনি। নিশ্চিয় কোনো মতলব এঁটেছে।”

মায়ের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে খুব করে চেষ্টা করলো মানানোর। কিন্তু উনাকে অনড় দেখে ভোতা মুখ নিয়ে ফোঁসফোঁস করতে করতে রাহা চলে গেলো উপরে।

নিজের রুমে কিছুক্ষণ পায়চারি করতে করতে বাপের আহ্লাদী রাহা কল দিল আরমান খান কে। উনাকেও ন্যাকা স্বরে কাঁদোকাঁদো ভঙ্গিমায় আবদার জানালো।

“ঠিক আছে আম্মাজান তুমি শান্ত হয়ে থাকো। আমি এসে দেখছি কি করা যায়।”

“না না আব্বু এসে নয়। এখুনি তুমি বলো আম্মু কে। আমি আজকেই যাবো মামার ওখানে।”

“সোনা মা আমার একটু বুঝো। আগে আমি এসে নেই বাসায়। এখন তুমি তোমার আম্মুর কাছে গিয়ে বারবার বললে তোমায় বকা দিবে। আমি এসে দেখছি বিষয়টা।”

“তুমি বুঝতে পারছো না আব্বু আমি এখুনি বের হতে না পারলে ওই রাক্ষস টা এসে আমায় খেয়ে ফেলবে।”

“কি বলছো মা? শুনতে পাচ্ছি না আমি।”

“কিছু না আব্বু। আমি জানি তুমি বিকেলের আগে আসবে না। প্লিজ আব্বু একটু বলো না আম্মু কে।”

“মা আমার তুমি তো আমার লক্ষ্মী মা। তুমি তো আব্বুর সব কথা শুনো তাই না? তুমি তে সব বুঝো। দেখো ভিহান সবসময় আমাদের পরিবার থেকে দূরে থাকে। এতদিন পর এলো ছেলেটা। এখন তুমি যদি চলে যাও তাহলে তো আমাদের পরিবারের আরেকজন সদস্য কম হয়ে যাবে তাই না? তখন কি আমাদের পুরো আনন্দ টা সম্পূর্ণ হবে বলো?”

রাহা আর উত্তর দিলো না। সব খানে ওই খাডাস লোকটা। রাগে রাহা সর্পের মতো ফুলতে ফুলতে ফোনটা কেটে দিলো। রাগে দুঃখে হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে মন চাইল ওর।

কিছুক্ষণ বিছানায় বসে নাক টানতে টানতে মনঃস্থির করলো যাই হয়ে যাক ওই গন্ডারটার সামনে আজ ও যাবে না। কিছুতেই ঘর থেকে বের হবে না।

সারাদিন সত্যিসত্যি রাহা ঘর থেকে বের হলো না। সবাই ভাবলো মামার বাড়ি যেতে পারেনি বলে রাগ করেছে। অথচ তাদের পাজি মেয়ে ভয়াবহ কান্ড ঘটিয়ে লুকিয়ে আছে।

চঞ্চল রাহার সারাদিন একা ঘরে বসে থেকে দম বন্ধ হয়ে এলো। বারবার ইচ্ছা হলো একটু বাহিরে গিয়ে হাওয়া খেয়ে আসতে। এভাবে ঘর বন্দি হয়ে থাকা যায় নাকি? একটু আগে রুশমি আপু ডেকে গিয়েছে। কিন্তু রাহা মিছে রাগের অভিনয় করে সাফসাফ কন্ঠে বলেছে সে বের হবে না।

বিকেল বেলায় পেটুক রাহার কিছুমিছু খেতে হবেই। আজও মুখটা চুলকাচ্ছে কিছু খাওয়ার লোভে। এভাবে ঘরে বসে থাকতে আর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা করছে না তার। তখনি সুবর্ণসুযোগ হিসেবে দরজায় টোকা পড়ল। রাহা মনে মনে খুশি হয়। নিশ্চয়ই বাহিরে যাওয়ার জন্যে তাকে কেউ নিতে এসেছে। রাগ করার পর নিজে নিজে না গিয়ে কারো কথায় গেলে অন্তত নিজের রাগের দামটা তো থাকবে। হাসি চেঁপে ধীরে বলল,

“কে?”

আরেকটা টোকা পড়ল দরজায়। একটা মিষ্টি চিকণ স্বর শুনা গেলো।

“আপু দরজা খোলো। তোমায় নিচে ডাকে।”

রাহা বুঝতে পারে এটা তাদের বাড়ির সবথেকে ছোট সদস্য রাফির গলা। গলা উঁচু করে বলে রাহা,
“কে ডেকেছে?”

“বড়বাবা। তুমি দরজা খোলো তাড়াতাড়ি।”

চাঁপা উল্লাসের সাথে রাহা দরজা খুলতে গেলো। দরজা খুলতেই সামনে পাহাড়ের মতো দানবীয় ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা গম্ভীর ভিহান ভাই কে দেখে থ হয়ে গেলো রাহা। একেবারে ফিউজড হয়ে গিয়েছে সে। নড়ার শক্তিটুকুও নেই। চোখের পাতাও ফেলতেও ভুলে গেলো যেন।

ওদিকে ছোট্টছোট্ট রাফি হাতে ইয়া বড় একটা চকলেট নিয়ে দৌড়ে নিচের দিকে যেতে দেখা গেলো। তারমানে ওই বিচ্ছুটা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে? এই লোকটা ইচ্ছা করে তার সাথে এমন ধোঁকামি করলো নাকি?

রসকষহীন জাঁদরেল ভিহান ভাই কে তীক্ষ্ণ চোখমুখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে ও। শুকনো চৌচির গলাটা ভিজানোর প্রয়াসে ঢোক গিলল পরপর। ভিহান ভাই তীক্ষ্ণ স্থির নজরে অদ্ভুত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে ভীতু রাহা অস্থির ভাবে তৎক্ষণাৎ দরজা আবারও বন্ধ করতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই ভিহান এক হাত দিয়ে শক্ত ভঙ্গিতে দরজাটা পিছনের দিকে ঠেলে ধরল। রাহা সর্ব শক্তি দিয়ে চাইলো দরজা বন্ধ করতে কিন্তু ওই গন্ডারটার দানব শক্তির সাথে পেরে ওঠল না কিছুতেই।

এরমাঝে তাকে সরিয়ে ভিহান ভাই হঠাৎ রুমের ভেতরে ঢুকে পরল। তা দেখে আতঙ্কিত রাহা ভয়ভয় চোখ মুখে তাকিয়ে রইল ভিহান ভাই এর দিকে। ভিহান একবার শুধু তাকে ধারালো নয়নে আগাগোড়া পরোখ করল। তড়িতে পিছন ফিরে বেশ শব্দ তুলে দরজাটা বন্ধ করে আবারও ঘাড় ফিরেয়ে দেখল দম আটকে রাখা রাহা কে।

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply