Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩১


কিসঅফবিট্রেয়াল

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
নূরবানু সিকদার, মাথায় কাপড় টেনে উঠে দাঁড়ালেন।
সামনের লোক গুলো খানিকটা এগিয়ে এলে ওদের মাঝে শাহারিয়ারকে দেখতে পেলেন তিনি৷
কয়েক কদম এগিয়ে শাহারিয়ার নূরবানু সিকদারকে সালাম দেয়,
“আসসালামু আলাইকুম আন্টি।”

“ওয়ালাইকুম সালাম৷”

“আন্টি কেমন আছেন?”

নূরবানু সিকদার জবাবা দিতে পারলো না। কেমন আছেন তিনি একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলো,
“এখানে কেন বাবা? এনারা কারা?”

“সিকদার কায়ান মাহাবুবের স্ত্রী মেহেরীণের বাবা আফজাল খান এবং ভাই আলতাফ মাহমুদ খান।”

নূরবানু সিকদার ভ্রু কুঁচকে নিলেন।
সম্পর্কে তারা আত্মীয় হলেও দেখা হয়নি কখনো।
শিমুলের বিয়েতেও তারা এসেছিলো না।
মেহেরীণ বলেছিলো তার বাবা ভাই গ্রামে আসতে পছন্দ করে না।
নূরবানু সিকদার জিজ্ঞেস করলো,
“তাদের সাথে তোমার কি কাজ বাবা?”

নূরবানু সিকদারের গম্ভীর কন্ঠ শুনে আফজাল খান এগিয়ে এলো।
“বটে আপনাদের তেজ দেখি এখনো কমেনি। লজ্জা শরমত কিছুই নেই। আপনার মেয়েকে আমার জামাইয়ের পেছনে এলিয়ে দিয়েছেন বড়লোক দেখে। এখন যখন সবার সামনে সব এসে গেছে তখন খুব সম্মানের ভয় করছেন।
আপনার কথা বার্তা শুনো মনে হচ্ছে আপনিই মেয়েকে শিখিয়েছেন একজন বিবাহিত টাকা ওয়ালা পুরুষের বিছনায় যেতে রাত বিরাতে৷”

নূরবানু সিকদার বজ্রকন্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে উঠলেন,
“আমার মেয়ে সম্পর্কে আর একটা বাজে কথা বললে এই খানেই আপনার জিহ্বা কেটে রেখে দেব। ভুলে যাবেন না এটা আমার বাড়ি। আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে আপনাকে এত বড় সাহস কে দিয়েছে আমার মেয়ে সম্পর্কে এসব বলার?”

আফজাল খান কিছুটা দমে গেলেন। নূরবানু সিকদারের হুঙ্কার তাকে কিছুটা ভয় পাইয়ে দিয়েছে।
তবে পেছন থেকে মাহমুদ দমলো না।
সে এগিয়ে এসে বললো,
“আরে আন্টি দেখি ভীষণ চালু।
আপনার মেয়ে আমার আপার বরের সাথে এসব করে বেড়াতে গিয়ে ধরা খেয়েছে এখন সত্যিটা বললেও দোষ।
আপনাদের দেখছি খুব বেশি তেজ।”

মাহমুদকে থামিয়ে দিলো শাহারিয়ার।
“থামুন এক হাতে তালি বাজে না কায়ান যদি না এগাতো তবে অবশ্যই সেরিন এমন কিছু করত না। আমি জানতাম আপনারা এমন করবেন তাইত আমি আপনাদের সাথে এসেছি।”

শাহারিয়ার কথা শুনে ওরা দু বাপ ছেলে ভড়খে গেলো।
“এত দরদ কিসের তোমার? তুমিও কি ওই মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছো নাকি? জানতাম বে** মেয়েগো বেশ জাদু করা সভাব আজ পরিষ্কার হলো কথাটা৷”

“খবরদার আমার সেরিনকে এসব নামে ডাকবেন না। ভুলে যাবেন না আপবারা সেরিনদের গ্রামেই দাঁড়িয়ে।”

“ওহ তাই নাকি? তা সেরিনদের গ্রামের সবাইকে ডাকোত দেখোত ক জন সেরিনের পক্ষে।”

কথা গুলো নূরবানু সিকদারের ভেতরে ছুরির মত আঘাত করছে।
তিনি কিছু ভাবতে পারছেন না। না কিছু সামলাতে পারছেন।
বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার।
বাহিরে এত শোরগোল শুনে ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন আবু সুফিয়ান।
বাহিরে এত গুলো পুরুষ মানুষ দেখে তিনি এগিয়ে যায়।
“কি হয়েছে?”

আফজাল খান কথা বাল থামিয়ে আবু সুফিয়ানের দিকে চায়,
“এই যে মেয়ের বাবা। বলি কি লজ্জা করুন। এমন মেয়ে জন্ম দিয়েছেন যার থেকে মরণ ভালো।”

শাহারিয়ার ওদের মাঝে এসে দাঁড়ায়,
“অনেক বলেছেন আপনারা এবার আসুন। নাহলে আমি ব্যবস্থা নিব।”

“মরণ দশা। যেমন মেয়ে তাকে তেমন বলব না।
যাই হোক কোন ইচ্ছে নাই এখানে থাকার।
আমার মেয়ে জামাই থেকে ওই মেয়ে যেন দুরে থাকে। তাহলেই হবে।
এত কিছু নিয়ে ভাবছি না আমরা।”

কথা গুলো শেষ করে আফজাল খান ছেলেকে সাথে করে নিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।
নূরবানু সিকদার বুকে হাত দিয়ে বসে পড়লেন।
আবু সুফিয়ান দ্রুত স্ত্রীকে ধরে বসলেন,
“নূরবানু কি হয়েছে?”

“শিমুলের আব্বা কি পাপ করেছিলাম যে আজ এই দিন দেখা লাগতেছে? কি পাপ?”

নূরবানু সিকদার ফের কান্নায় ভেঙে পড়লো।
শাহারিয়ার এবং আবু সুফিয়ান মিলে নূরবানু সিকদারকে ঘরে নিয়ে গেলেন।
ওরা বসার রুমে বসলো। কিছুক্ষণ ওদের ভেতর চলল নিরাবতার। কিছুক্ষণ পর, শাহারিয়ার নিরবাতা ভেঙে বললো,
“আমি সেরিনকে বিয়ে করতে চাই আন্টি৷’

কথাটা শুনে সেরিনের মা বাবা অবাক হলো। শাহারিয়ার ফের বলা শুরু করলো,
“আমি জানি আপনারা ভাবছেন এসব জেনেও কিভাবে। আসলে আন্টি আমার বিশ্বাস সেরিনকে কায়ান নামক ছেলেটাই কোন ভাবে ব্রেণ ওয়াস করেছে। আমি সেরিনকে যতটা বুঝেছি ও এমন মেয়ে নয়৷
আমি তাকে ভালোবাসি। আমার বাবারও এতে কোন সমস্যা নেই। আমি চাই ওকে দ্রুত বিয়ে করে এই দুশ্চরিত্রা খেতাব থেকে মুক্তি দিতে।”

আবু সুফিয়ানের চোখের কোণায় পানি চিকচিক করে উঠলো।
আর নূরবানু সিকদার সেত কখন থেকেই কাদছেন।
মেয়েটার একটা গতি হবে ভেবে দু’জনই খুশি।

ওদিকে,
দরজার পাশে বসে আছে সেরিন। সবটা শুনেছে সে। শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
১০৪° হবেই।
হাঁটতে বল পাচ্ছে না সে। তবুও খুব কষ্টে একটু বাথরুমে গেছিলো। ফেরার পথেই এসব কানে এলো তার।
মুখে হাত চেপে কান্না করছে সে। সম্পূর্ণ শরীর বিষের মত ব্যথা৷ আর সইতে পারছে না এ কষ্ট সে।

শাহারিয়ার সব কথা শেষ করে বলে,
“আমি সেরিনের সাথে একটু দেখা করতে চাই আন্টি।”

নূরবানু সিকদার চোখের পানি মুছে বলে,
“সেরিন ওর রুমে আছে৷”

“আন্টি আপনি প্লিজ টেনশন করিয়েন না। গিয়ে রান্না বসান। আপনার এই অবস্থা একটুও দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার। আমার কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। খেতে দিন সবাইকে৷”

নূরবানু সিকদার মাথা নাড়িয়ে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো। আবু সুফিয়ান উঠে শাহারিয়ারকে জড়িয়ে ধরলো।
“তুমি সত্যি একজন সঠিক পুরুষ বাবা আমার সেরিনের জন্য। আমি বিশ্বাস করি তোমাকে।”

শাহারিয়ার ঠোঁটের কোণায় তখন বাঁকা হাসি। আবু সুফিয়ানের পিঠে হাত রেখে সে বলে,
“আমি আছিত। সব ঠিক করে দেব৷”

সেই কথার মাঝে যে ভার ছিলো তা আবু সুফিয়ান বুঝতে পারলেন না।


সেরিনের রুমের দরজা খোলাই ছিলো। শাহারিয়ার যখন দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে তখন দেখতে পায় সেরিন দাঁড়িয়ে আছে বিছনার পাশেই।
তার চোখ মুখ পুড়ছে জ্বরে। চোখ দু’টো রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। যেন তাকিয়ে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে তার৷ ঠোঁটের কোণায় কটা দাগ স্পর্শ। তাজা র*ক্ত দৃশ্যমান ক্ষত গুলোতে।
শাহারিয়ার এগিয়ে গেলো সেরিনের দিকে,
“সেরিন অসুস্থ লাগছে তোমাকে।”

সেরিন পিছিয়ে যায় শাহারিয়ারকে এগিয়ে আসতে দেখে। শাহারিয়ার থেমে যায়।
সেরিন কাপা কন্ঠে বলে,
“আমায় কায়ান কিছু বলেনি। বিশ্বাস করুন আমি ওনাকে ভালোবাসি মন থেকে। আমাকে সে জোর করেনি। আপনি এমনটা করবেন না। আমাকে আপনার ফোনটা দিন। আমি একটু ওনাকে ফোন করে বললেই হয়ত উনি সব ঠিক করে দেবে।
দয়া করুন আমি ওনাকে ভালোবাসি।”

কথা গুলো শুনে শাহারিয়ার চেহারায় থাকা নমনীয়তা উবে গেলো। সে চোয়াল শক্ত করে বললো,
“ফোন চাই তোমার? “

সরল সেরিন, সরল উত্তর দিলো,
“জি, আমি ওনাকে একটু খবর দিলেই উনি সব ঠিক করে দিবে।”

শাহারিয়ার এগিয়ে গিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করলো। সেরিনের চোখ জোড়া উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
কিন্তু সেরিনকে অবাক করে দিয়ে শাহারিয়ার ফোনের বদলে সেরিনের গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
চড়টা খেয়ে সেরিন উল্টো দিকে মেঝেতে মুখ বরাবর পড়লো।
সেরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই শাহারিয়ার শক্ত হাতে সেরিনের লম্বা চুল গুলো টেনে ধরে অন্য হাতে সেরিনের মুখ চেপে ধরে যাতে সেরিন শব্দ না করতে পারে। সেরিনের ক্লান্ত শরীর, তার উপর অসহ্য ব্যথা সে এসব নিয়েও চেষ্টা করলো নিজেকে বাঁচাতে কিন্তু পারলো না। শাহারিয়ার চাপা কন্ঠে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
“বে** মা** তোরে ওই পোলার সাথে দেখেও বিয়ে করতে চাইছি তোর কি ভালো লাগছে না? তোর ওই মাঙ্গের নাতীরেই লাগবে মা** মেয়ে মানুষ।
এই মা** এই আমি যে তোর জন্য এত করতাছি চোখে পড়েনা তোর নাকি?
শোন আমি শাহারিয়ার বড্ড খারাপ রে। তোর মা বাপের জীবন যদি সুস্থ চাস তবে আমারে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যা। কোন রকম কিছু করবি ত তোর মা বাপরে মাইরে তোরে রেপ করে যামু।
আমার ছেলেরা ২৪ ঘন্টা তোগো বাড়ির আশেপাশে থাকে। তোর মা বাপরে মাইরা কমু ওরা আত্মহত্যা করেছে। তোর জন্য, তোর এসব কাহিনি ওরা সহ্য পায়নি।
মা বাপের সুস্থা চাইলে আমারে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যা৷”

কথদ গুলো বলে শাহারিয়ার সেরিনের চুল ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়,
“আর শোন বেশি হশিয়ারি করিস না সেরিন। ওই দেখ তোর জনালা দিয়ে আমার ছেলেরা ২৪ ঘন্টা আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। বেশি কিছু করতে গেলে তোকে ওদের দিয়েও রেপ করাব। কত গ্যাং রেপ হবি। সম্মান বাঁচাতে চাইলে বিয়েতে কোন না করবি না৷”

সেরিন সোজা তাকায়, সত্যি জানালার বাহিরে পুকুর পাড়ে বেশ কিছু ছেলেরা দাঁড়িয়ে।
সেরিন ভয়ে চুপসে যায়।
শাহারিয়ার, সেরিনের চোখে নিজের জন্য ভয় দেখে পৈশাচিক আনন্দ পায়।
“যা বললাম মনে থাকে যেন। আর খেয়ে নিস এরপর ঔষধ খাবি। তোর বাপের কাছে ঔষধ দিয়ে যাব আমি। বিয়ের পর তোর শরীর ব্যথা দেখব নানে আমি। আমারে নিজের শরীর সপে দিবি ব্যাস৷”

কথা গুলো শেষ করে শাহারিয়ার হনহনিয়ে বেরিয়ে যায়৷
যাবার সময় আবু সুফিয়ানের হাতে সেরিনের জন্য ঔষধ দিয়ে যায়। তারা ভাবে ছেলেটা কত ভালো।

ওদিকে সেরিনের মাথা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে।
এত কিছু এক সাথে না ওর মন মানতে পারছে না ওর শরীর সায় দিচ্ছে।
শাহারিয়ার চড়ের ফলে ঠোঁট কেটে অনবরত রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
চোখের সামনে কালো ডট দেখতে পাচ্ছে সেরিন।
বির বির করে শুধু কায়ানকে ডেকে চলেছে সে।

“আপনি কোথায় কায়ান, আমি আর পারছি না৷ আমি বোধ-হয় হেরে যাব কায়ান। আব্বা আমার বিয়েটা দিয়েই দিবে। আমি এ যন্ত্রণা সইতে পারছি না। আত্মহত্যা পাপ না হলে আমি সত্যি নিজের হাত কেটে ফেলতাম। ফিরে আসুন কায়ান, ফিরে আসুন”

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply