কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৮
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
সেরিন পাশ ফিরতে হটাৎ কিছু পড়ার শব্দ শুনে একটু নড়েচড়ে উঠলো।
এতটুকুতেই আরেক দফা শব্দ শোনা গেলো। সেরিন এবার চোখ খুলে তাকায়।
সে হন্তদন্ত হয়ে বিছনায় উঠে বসে।
পাশের টেবিল লাইট জ্বালে দ্রুত।
ঘরেত কেউ নেই। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে সেরিন কাউকে দেখতে পায়না।
সেরিন বিছনা ছেড়ে নেমে নিজের রুমের লাইট জ্বালে। কায়ান যে জানালা দিয়ে তার ঘরে আসে সেই জালানাটা নড়ছে৷
আজকাল ভীষণ গরম পড়েছে, বৈশাখ মাসের টানটান দিন চলছে। গ্রামের বাড়ির সব জানালা গুলোই প্রায় খোলা থাকে৷
সেরিনেরও ঘরের জানালাও খোলা তাই।
সেরিন জানালার দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় তাদের গরুরু গোয়ালের কাছে কারোর ছায়া৷ গোয়ালের বাম দিকে একটা লাইট জ্বলে সব সময়। পাশেই মুরগীর ঘর।
সেরিন সেই আলোর নিচে একটা ছায়া দেখে কিন্তু কার ছায়া এটা দেখতে পায়না৷
সেরিন খানিকটা ভয় পায়। কিন্তু পরমুহূর্তেই কিছু একটা ভেবে সে ধিরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
হাতে একটা লাঠি।
যেদিকেই কাউকে দেখবে চোখ বন্ধ করে মাইর শুরু করবে আর আব্বাকে ডাকবে।
সেরিন বেরিয়ে গিয়ে গোয়ালের পাশে দাঁড়ায়। নাহ সেখানে কেউই নেই। কিন্তু একটু আগে যে ছায়ামূর্তি দেখেছে সে স্পষ্ট।
সেরিন খেয়াল করে চারিদিকে একেবারে নিস্তব্ধ।
সেরিন এবার ভয় পেয়ে যায়, এই মাঝ রাতে বের হতে হয়না। ছোট খালা বলেছিলো রাতে এভাবে মানুষকে ডাকে, মানুষের মনে কৌতুহল জাগিয়ে এরপর মেরে দেয়৷
সেরিন চারিদিকে ঘুরে দেখে। নাহ কোথাও কিছু নেই। সেরিন যখন দ্রুত ঘরের দিকে পা বাড়াবে ঠিক তখনি বাম হাতের কনুইকে কারোর টান পড়ে।
সেরিন চিৎকার করার আগেই কারোর বলিষ্ঠ হাত তার মুখ চেপে ধরে।
চিৎকার করার সুযোগ পায়না সেরিন।
ভয়ে বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়েছে।
“রিলাক্স এত ভয় পাচ্ছো কেন?”
চেনাপরিচয় কন্ঠ শুনে সেরিন শান্ত হয়ে যায়। সেরিনকে শান্ত হতে দেখে কায়ান, সেরিনের মুখ থেকে হাত সরায়৷ সেরিন ফিরে তাকায়।
পরনে কালো সার্ট, কোঁকড়া চুল গুলো এলোমেলো। ডিলা প্যান্টটা বেশ লম্বা। বাম হাতের ঘড়িটা অন্ধকারে হালকা নীলচে আলো দিচ্ছে।
দু হাতে কালো গ্লাবস পরা। হয়ত বাইক চালিয়ে এসেছে।
“আপনি এখানে ছিলেন?”
কায়ান, মৃদু হাসে। সে সেরিনকে জড়িয়ে ধরে। খানিক্ষণের জন্য সব কিছু পুনরায় নীরবতা পালন করলো। কায়ানের শক্ত মুঠো, যেন সেরিনকে পারলে নিজের বুকের ভেতর ঢুকিয়ে নেয়।
সেরিন চুপচাপ থাকে ওভাবেই।
কিছুক্ষন পর কায়ান মাথা তুলে সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিনের গালে হাত রাখে,
“এত রাতে বাহিরে কেন এসেছো? ভয় পাও না কিছুর?”
“হ্যাঁ পাইত। কিন্তু আমি ভেবেছি চোর। আপনিত ঘরে আসেন, আজ কেন আসেন নি?”
কায়ান মৃদু হাসে,
“যেতে সময় দাওনি তার আগেই তুমি চলে এসেছো৷”
“গোয়ালের পাশে ছায়ামূর্তি দেখেছি। ভাবলান চোর হয়ত৷”
“তাহলে তোমার মা বাবাকে ডাকা উচিত ছিলো। একা কেন বের হলে?”
“কিন্তু মা বাবকে ডাকলে আপনি ধরা পড়ে যেতেন তখন?’
” আমি নাও হতে পারতাম সেরিন। এমনটা আর কখনো করবে না।”
কায়ানকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে। সেরিন আর কিছু বললো না।
“আপনি বাইকে এসেছেন?”
“হ্যাঁ।”
“কেন?”
“এমনি ইচ্ছে হলো তাই।”
“তাই বলে এত রাস্তা বাইকে করে আসবেন?”
“যাবে ঘুরতে আমার সাথে?”
প্রস্তাব খানা ভীষণ পছন্দ হয় সেরিনের।
তবে পেছন ফিরে বাড়ির দরজা খোলা দেখে বলে,
“একটু দাঁড়ান দরজা দিয়ে আসি৷”
“যাও৷”
সেরিন আস্তে পা ফেলে নিজের রুমের দরজা খুলে বের হলো, তারপর নিঃশব্দে সদর দরজাটাও টেনে দিল। চারপাশ তখন নিস্তব্ধ,গ্রামের রাত, হালকা ঠান্ডা হাওয়া আর দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
কায়ানের বাইকটা আগের মতোই বাড়ি থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। সেরিন এগিয়ে যেতেই কায়ান একটা হেলমেট বাড়িয়ে দিল। সেরিন চুপচাপ সেটা পরে নিল। কায়ান বাইকে উঠে বসলো, আর পেছনে এসে বসল সেরিন।
কিছুক্ষণ পরই বাইক স্টার্ট হলো। রাতের ফাঁকা রাস্তা, দু’পাশে সবুজে ঘেরা গাছপালা,সেই পথ ধরে দ্রুত ছুটে চলল তারা। হাওয়ার স্পর্শে সেরিনের মনটা হালকা হয়ে গেল। সে দু’হাত ছড়িয়ে দিল, যেন এই মুহূর্তটাকে পুরোটা নিজের করে নিতে চায়।
কায়ান এক ঝলক পেছনে তাকিয়ে হালকা গলায় বলল,
“আমাকে ধরে বসো সেরিন, না হলে পড়ে যাবে।”
সেরিন দুষ্টু হেসে সামনে ঝুঁকে পড়ল। দু’হাত দিয়ে কায়ানের কোমর জড়িয়ে ধরল। হঠাৎ করেই কায়ান বাইক থামিয়ে দিল। সেরিন একটু অবাক হয়ে গেল।
কায়ান ঘাড় ঘুরিয়ে মুচকি হেসে বলল,
সেরিন বাঁকা হেসে উত্তর দেয়,
“আম নট টিজিং ইউ।
আপনিইত বললেন ধরে বসো।”
কায়ান হাসে,
“দিন দিন খুব পেকে যাচ্ছো তুমি৷”
“বা রে আপনি যখন তখন চেপে ধরে চুমু খেতে পারেন আর সামান্য আপনার কোমড় জড়িয়ে ধরলে দোষ?”
কায়ান চুপচাপ শুনে সেরিনের বলা কথা। এরপর খানিকটা হেসে বলে,
“না দোষ না। বদলে তুমিও যখন তখন চেপে ধরে চুমু খেতে পারো বাঁধা দেব না।”
কথাগুলো শুনে সেরিন একটু লজ্জা পেল। কিন্তু তার চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত খুশি। কায়ান এবার নিজেই সেরিনের হাত দু’টো নিজের কোমরের চারপাশে ঠিক করে দিল।
তারপর আবার বাইক স্টার্ট হলো। রাতের সেই নির্জন পথে তারা আবার ছুটতে লাগল।
সেরিনের মনে হচ্ছিল,ই মুহূর্তটা খুব সাধারণ হলেও, তার কাছে ভীষণ বিশেষ। এমন কিছু সময় থাকে, যেগুলো চিরদিন মনে থেকে যায়। এই রাতটাও ঠিক তেমনই।
অনেকটা পথ লং ড্রাইভের পর কায়ান সেরিনকে বাড়িতে দিয়ে আসে।
সেরিন বাইক থেকে নেমে হেলমেটে খানা খুলে কায়ানকে দেয়।
কায়ান, সেরিনের বাতাসে এলোমেলো হওয়া চুল গুলো ঠিক করে দেয়।
“ডিড ইউ এনজয় দিস রাইড সেরিন?”
সেরিন গাল ভরা হাসি টেনে বলে,
“হ্যা।”
কায়ান প্রতিত্তোরে হেসে সেরিনের গাল টেনে দেয়।
“লুকিং সো প্রিটি মাই ডিয়ার ডল।”
কায়ানের চোখে তখন সেরিনের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা ছিলো। সেখানে কোন লালসা নেই না আছে শারীরিক আকাঙ্খা। যা ছিলো তা হলো ত্রুটিহীন ভালোবাসা।
সেরিন, লোকটার চোখে নিজের জন্য এই অফুরান্ত ভালোবাসা দেখতে দেখতে বরাবরই অভ্যস্ত।
কিন্তু আজ যেন সেই ভালোবাসার পরিমাণটা একটু বেশিই।
সেরিন এগিয়ে গিয়ে কায়ানের বাম গালে একটা চুমু খায়।
কায়ান হটাৎ করা সেরিনের কাজে অবাক হয়।
তবে সেরিন, কায়ানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করে।
কায়ান হেঁসে ফেলে বাইকে বসেই।
সেরিন সদর দরজা লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই কায়ান নিজের হাত থেকে গ্লাবস দু’টো খুলে। ফর্সা হাতের পিঠে ক্ষত দু’টো।
দেখে বোঝা যাচ্ছে তাজা ক্ষত মাত্র লেগেছে।
পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে কল করে। দু রিং হতে ওপাশ থেকে ফোন তুলে নেয় হিমেল। ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,
“ভাই তুইকি পন করেছিস আমারে রাতে ঘুমাতে দিবি না? “
“এই বেটা ওঠ এদিকে আমার ফেটে পড়ে আছে আর উনি শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।”
হিমেল উঠে বসে বিছনায়,
“ডিভোর্সত হয়ে গেছে এখন আবার কি?”
“শাহারিয়ার আজ সেরিনের রুমে প্রবেশ করেছিলো।”
কথাটা শোনা মাত্র হিমেলের ঘুম যেন উড়ে গেলো। হিমেল ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। ওপাশ থেকে কায়ান ফের বলে,
“আমি না আসলে ও আজকে ভয়ঙ্কর কিছু করত।”
“আবে ও সেরিনের রুম পর্যন্ত চলে গেলো, হাউ?”
“জানিনা হয়ত আমাকে দেখেছে। সেই রাস্তা দিয়েই গিয়েছে। আমি যখন সেখানে যাই তখন শাহারিয়ার হাতে ক্লোরোফিল মাখা রোমাল নিয়ে সেরিনের সামনে দাঁড়ানো।”
“মাদা**** কিছু বলিস নি ওকে?”
“বলেছি বলতে গিয়ে সেরিন উঠে গেলো ঘুম থেকে। সালাকে আরও দু চার ঘুষি মারতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু তার আগে সেরিন উঠে যায় আর পালিয়ে যায় ও৷”
“ভয়ঙ্কর ব্যাপার সেপার। নাহ এই শাহারিয়ার শান্তি দিলোনা। এত দিন মেহেরীণ এখন শাহারিয়ার। আমিত পাগল হয়ে যাব ভাই তোর আর সেরিনের বিয়ে দিতে গিয়ে।”
“আমি জানতে চাই শাহারিয়ার সম্পর্কে। ওর পরিচয়, ওর বাবা, ওর গুষ্টি সব, আমার মনে হচ৬ও কোন সাধারণ ক্যাপ্টেন নয়। একজন সাধারণ আর্মি ক্যাপ্টেনের এত দুর সাহস হবেনা কখনোই।”
“হ্যাঁ আমিও তাই ভাবছি। তুই চিন্তা করিস না আমি দেখছি।”
কায়ান কল কেটে দেয়।
ওদিকে অন্ধকারে লুকিয়ে সেরিন এবং কায়ানের মুহুর্তটা কেউ ক্যামেরা বন্দি করে নিলো।
তবে কে সে এটা দেখা গেলো না।
চলবে?
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৮
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০