Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫৯


#অসম্ভব_রকম_ভালোবাসি_তোমায়

#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী

#পর্ব ৫৯

“উহহ ছাড়ুন অসভ্য।”

শুভ্র এক ঝটকায় রিদিকে নিজের বুকের উপর থেকে নামিয়ে নিজে রিদির উপর উঠে পড়ল। দুই হাত বিছানার সাথে লক করে দিয়ে রিদির পালানোর সব পথ বন্ধ করে দিল।

শুভ্রর ভেজা চুল থেকে এক ফোঁটা পানি টুপ করে এসে পড়ল রিদির গাল বেয়ে। শুভ্র বাঁকা হেসে একদম ফিসফিস করে বলল।

“কেন? এখন বাবুটা এমন কই মাছের মতো ছটফট করছে কেন? একটু আগে তো খুব ভালোই আমার ঘুমের সুযোগ নিচ্ছিলি।”

রিদির দম আটকে যাওয়ার উপক্রম। শুভ্রের চওড়া সুঠাম শরীরের নিচে তার এই রোগা পাতলা শরীরটা যেন একদম চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছে। শুভ্রর উদাম বুকের তপ্ত ওম আর ভেজা শরীরের সুবাস তাকে পুরো অবশ করে দিচ্ছে। সে শুভ্রের তীব্র চাহনি সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে বলল।

“দে-দেখুন আমি… আমি শুধু একটু দুষ্টুমি করেছি। প্লিজ ছেড়ে দিন আর করব না।”

শুভ্র রিদির মুখের একদম কাছে নেমে এল। তাদের নাকের ডগা প্রায় ছুঁই ছুঁই। সে রিদির ওষ্ঠাধরের দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে খুব নিচু আর ভারী স্বরে বলল।

“তাহলে আমিও একটু দুষ্টুমি করি। লেটস হ্যাভ সাম ফান।”

বলেই শুভ্র নিজের শক্ত দাড়িভরা গালটা রিদির নরম তুলতুলে গালে আলতো করে ঘষতে লাগল। শুভ্রের গালের স্পর্শ আর ভেজা ত্বকের হিল্লোলে রিদি একদম শিউরে উঠে কই মাছের মতো ছটফট করতে লাগল। শুভ্র ওর কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়াতেই রিদির পুরো শরীর অবশ হয়ে এল। শুভ্র ওর চুলে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল।

“উমমম। তুই এত সুন্দর কেন রিদি? দেখলেই ইচ্ছে করে নিজের সাথে মিশিয়ে নেই। আই জাস্ট কান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ।”

শুভ্রের এই হঠাৎ বেপরোয়া আর তীব্র স্পর্শ সামলাতে রিদি রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। তার বুকটা ড্রামের মতো ধড়ফড় করছে। সে আকুতি ভরা কণ্ঠে কোনোমতে বলল।

“ছাড়ুন প্লিজ। কেমন জানি লাগছে।”

শুভ্র একটু হেসে ওর বন্ধ চোখের পাতায় গভীর একটা চুমু এঁকে দিয়ে বলল।

“কেমন লাগছে জান?”

“জানি না ছাড়ুন।”

শুভ্র এবার আর কোনো কথা না বলে সরাসরি রিদির ঘাড়ের ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে দিল। সেই মুহূর্তে রিদি নিজের ভেতরের সব শক্তি হারিয়ে ফেলল। তার ছটফটানি একদম এক নিমিষেই থেমে গেল।

শুভ্র রিদির নরম ঘাড়ে ছোট ছোট তৃষ্ণার্ত চুমু খেতে লাগল। প্রতিটি চুম্বনে যেন এক জনমের হাহাকার আর গভীর ভালোবাসা মিশে ছিল। শুভ্রের এই মাতাল করা স্পর্শে রিদি যেন কোনো এক অজানা ঘোরের রাজ্যে তলিয়ে যেতে লাগল। শুভ্র চুমু খেতে খেতে রিদির ঘাড়ে নাক ঘষে আলতো হেসে পরম আবেশে নেশালো কণ্ঠে বলল।

“এরকম দুষ্টুমি আমার সাথে করিস না পাগলি। বুকে আগুন ধরে যায়। তখন সেই আগুন নেভাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই আগুন নেভাতে গেলে তোর কষ্ট হবে। বাট আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হার্ট ইউ। আমি চাই না আমার এই পিচ্চি বউটাকে কষ্ট দিতে।”

বলেই শুভ্র এক ঝটকায় রিদির উপর থেকে উঠে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। এক বুক লম্বা নিশ্বাস নিয়ে নিজের ভেতরের উত্তাল উন্মাদনাকে শান্ত করার চেষ্টা করল সে। তারপর বাঁ হাত দিয়ে ভেজা চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনে বলল।

“নিচে আয়।”

______________

রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে সোহান চৌধুরী, সাহেরা চৌধুরী, শুভ্র, ঈশান আর শুভ্রা সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেল। ওরা চলে যেতেই রিদির মনটা মুহূর্তে কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল। পুরো বাড়িটা হঠাৎ একদম শান্ত, নিঝুম।

সে ধীর পায়ে রুমে এসে বিছানার এক কোনায় চুপচাপ বসল। শরীরে এখনও শুভ্রের সেই উত্তপ্ত, বেপরোয়া ছোঁয়ার রেশ রয়ে গেছে। সে আড়চোখে চারপাশটায় তাকাল। কেমন যেন নিজেকে খুব একা একা লাগছে, একটা অদ্ভুত হাহাকার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠছে।

সে আর বিছানায় বসে থাকতে না পেরে হাঁটতে হাঁটতে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। রাতের ঠান্ডা বাতাস ওর চুলগুলো ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মনের ভেতরের ছটফটানিটা যেন কিছুতেই কমছে না। কিছুক্ষণ ওখানে শূন্য দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে সে আবার রুমে এসে শুয়ে পড়ল।

কিন্তু ঘুম সে তো আজ রিদির চোখে ধরা দেবে না বলে কসম খেয়েছে। বিছানায় শুয়ে সে অনবরত ছটফট করতে লাগল। একবার এপাশ ওপাশ করছে, তো পরক্ষণেই বালিশটা বুকে জড়িয়ে ধরছে। এভাবে ছটফট করতে করতে ঘড়ির কাঁটায় একটা পুরো ঘণ্টা কেটে গেল, তাও চোখে ঘুমের বিন্দুমাত্র আভাস নেই।

মনের গভীরের অবুঝ ইচ্ছেটা বারবার চিৎকার করে বলছে। আবারও শুভ্রের কাছে যেতে, তার ওই শক্ত বুকের মাঝে মুখ লুকাতে।

হঠাৎ করেই নিস্তব্ধ ঘরটাকে কাঁপিয়ে রিদির বালিশের পাশে রাখা ফোনটা ভাইব্রেট করে বেজে উঠল। এই মাঝরাতে আকস্মিক শব্দে রিদি চমকে উঠল। সে ধড়ফড় করে উঠে বসে ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।

শুভ্র কল দিয়েছে। রিদি ফোনের সময়টার দিকে তাকিয়ে যারপরনাই অবাক হলো। রাত তখন পৌনে তিনটা, ঘড়িতে ২:৪৪ বাজে। আর এই এত রাতে শুভ্র তাকে কল দিচ্ছে!

রিদি আর এক সেকেন্ডও কিছু না ভেবে কাঁপা কাঁপা আঙুলে ফোনটা রিসিভ করে কানের কাছে নিল। ওপাশ থেকে কোনো কথা ভেসে এলো না। কেবল শুভ্রের ভারী আর ঘন নিশ্বাসের শব্দ আসতে লাগল। রিদিও মুখে কোনো শব্দ করল না। দুজনেই একদম চুপ। ফোনের এপার-ওপার শুধু দুজনের তপ্ত আর অস্থির নিশ্বাসের শব্দ আছড়ে পড়ছে, যা নীরবেই এক অপরিসীম আকুলতার কথা জানান দিচ্ছে।

বেশ কিছুক্ষণ এই গভীর নীরবতায় কাটার পর শুভ্র ওপাশ থেকে একটা লম্বা শ্বাস টেনে, ঘুম ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল।

“বেয়াদব মেয়ে। আমার ঘুম একদম হারাম করে দিছিস তুই। সামনে পাইলে কানের নিচে কয়টা দিবো তোরে।”

রিদি একদম আকাশ থেকে পড়ল। সে অবাক হয়ে চোখ গোল গোল করে বলল।

“আজব লোক। আমি আবার কী করলাম?”

শুভ্র ওপাশ থেকে একটা নেশাতুর, ভাঙা গলায় ফিসফিস করে বলল।

“আমার ২৮ বছরের জমানো সব কন্ট্রোলের তালা তুই খুলে দিছিস । আই জাস্ট লস্ট মাই সেলফ কন্ট্রোল।আমি তোর নেশায় এমনভাবে মাতাল হয়ে গেছি যে চাবিটা কোথায় হারিয়ে ফেলেছি নিজেও জানি না। যার জন্য আর কোনোভাবেই মনের ভেতর তালা মারতে পারছি না।”

শুভ্রের মুখের এই কথাগুলো তীরের মতো এসে রিদির বুকে বিঁধল। তার পুরো শরীর এক অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল। সে যেন এক সম্পূর্ণ নতুন শুভ্রকে আবিষ্কার করছে। যে লোকটা সবসময় পাথরের মতো গম্ভীর, অতিরিক্ত সিরিয়াস আর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, সেই লোকটার মুখে এমন বেসামাল, ভালোবাসায় আচ্ছন্ন কথা রিদির জন্য সত্যিই অবিশ্বাস্য।

রিদি যখন এই ভাবনার জালে ডুবে আছে, ঠিক তখনই ওপাশ থেকে শুভ্র আরও গভীর এক আবেশের ঘোরে ডেকে উঠল।

“ওই রিদি।”

রিদি নিজের কাঁপন সামলে নিয়ে খুব মৃদু স্বরে বলল।

“হুম।”

“চলে আয় না আমার কাছে। আই কান্ট টেক ইট অ্যানিমোর। নিজেকে আর কোনোভাবেই সামলাতে পারছি না ।”

শুভ্রের এই আকুলতায় রিদি স্তব্ধ হয়ে গেল। তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না, সে চুপ করে রইল। শুভ্র ওপাশ থেকে তার নীরবতা টের পেয়ে আবার একটু আদুরে গলায় বলল।

“এই পাগলি। কথা বলিস না কেন?”

রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে বলল।

“কী বলবো। অনেক রাত হয়েছে, এবার ঘুমান।”

শুভ্র ওপাশ থেকে আবার একটা লম্বা গরম শ্বাস টানল। তারপর নিজের সব গাম্ভীর্য বিসর্জন দিয়ে, ঘুম জড়ানো বুঁদ হওয়া কণ্ঠে গুনগুন করে উঠল।

“কী এক নেশা ধরালি রে পাগলি, একটু ঘুমোতেও পারছি না। শুধু তোর কথাই মনে পড়ছে… মিস করছি তোকে ভীষণ!”

এরপর হঠাৎ একদম সোজাসুজি আর বেপরোয়া গলায় বলল।

“আমার ঘুম হারাম করেছিস না? একবার শুধু বিয়েটা হতে দে, তোকে নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকে একটানা তিন দিন দরজাই খুলবো না।”

শুভ্রের এমন অকপটে বলা খোলামেলা কথা শুনে রিদির ফর্সা গাল দুটো মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে ফোনটা শক্ত করে ধরে আমতা আমতা করে বলল।

“কেমন অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন আপনি?”

শুভ্র ওপাশ থেকে একটু হাসল। সেই হাসিতে এক অদ্ভুত মাদকতা। সে অবাধ্য গলায় বলল।

“হয়ে যাচ্ছি না, অলরেডি হয়ে গেছি। আর এটা তুই বানিয়েছিস। এমন এক নেশা ধরিয়েছিস তুই আমার বুকে, তোকে ছাড়া এখন আর কিচ্ছু ভালো লাগে না।”

রিদি আবারও চুপ করে রইল। তার বুকের ভেতর তখন যেন একটা পুরো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। হৃদস্পন্দনের আওয়াজটা সে নিজেই শুনতে পাচ্ছি। শুভ্র ওপাশ থেকে একদম ফিসফিস করে, যেন রিদির খুব কাছে এসে ডাকল।

“রিদি।”

“হুম।”

শুভ্র গভীর এক আকুলতা নিয়ে বলল।

“তোকে ভীষণভাবে আদর করতে ইচ্ছে করছে।”

রিদি নিজের ওপর জোর করে নিয়ন্ত্রণ এনে কাঁপা গলায় বলল।

“অনেক রাত হয়েছে, এবার প্লিজ ঘুমান।”

শুভ্র বাচ্চাদের মতো আবদারের সুরে বলল।

“চুমু দে তাহলে, ঘুমিয়ে যাবো।”

রিদি চরম বিস্ময়ে চোখ গোল গোল করে বলল।

“চুমু? চুমু কীভাবে দেবো?”

“ফোনে দিবি, লম্বা করে।”

রিদি লজ্জায় বালিশে মুখ গুঁজে বলল।

“পারবো না।”

শুভ্রের কণ্ঠস্বর এবার আচমকা একটু গম্ভীর আর চড়া শোনাল।

“আসবো।”

রিদি ঘাবড়ে গিয়ে বলল।

“কোথায়?”

“তোর কাছে।”

রিদি বিছানায় উঠে বসে বলল।

“পাগল আপনি!”

“হুম, শুধু তোর জন্য। এখন জলদি চুমু দে, নাহলে সত্যি সত্যি আমি এখনই গাড়ি নিয়ে চলে আসবো। তখন শুধু চুমু না, সবকিছুই করে ফেলবো।”

রিদি কয়েক মুহূর্ত একদম নিশ্চুপ হয়ে রইল। সে খুব ভালো করেই জানে এই লোকটা কতটা জেদি আর একরোখা। মুখে যখন বলেছে, তখন সত্যি সত্যি এই মাঝরাস্তায় গাড়ি ছুটিয়ে চলে আসা শুভ্রের পক্ষে কোনো ব্যাপারই না। সে আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তড়িঘড়ি করে বলল।

“শুনুন।”

ওপাশ থেকে শুভ্র একদম চড়া আর দাবিদার গলায় বলল।

“কী, চুমু দিবি? কিন্তু তুই লেট করেছিস। এখন একটা না, দুটো চুমু দিতে হবে।”

রিদি চোখ কপালে তুলে বলল।

“কীহহহ?”

“হ্যাঁ, যতো সেকেন্ড দেরি হবে ততো করে চুমুর সংখ্যা বাড়বে। জাস্ট কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। এখন আর দেরি না করে চুমু দে, ফাস্ট ফাস্ট!”

শুভ্রের এমন ছেলেমানুষি অথচ তীব্র হুমকিতে রিদি আর এক সেকেন্ডও ভাবার সময় পেল না। সে লজ্জায় চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে, ফোনটা একদম ঠোঁটের কাছে চেপে ধরল। তারপর নিজের সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে মিষ্টি করে শব্দ করে চুমু দিল।

“উমমমম্মাহ্… উমমমম্মাহহ্।”

ফোনে রিদির সেই কাঁপাকাঁপা ঠোঁটের গভীর ছোঁয়া পেতেই ওপাশে শুভ্রের হৃদপিণ্ডটাও যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে একটা তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর নিজের সবটুকু আকুলতা উজাড় করে ওপাশ থেকে সেও ফোনটাতে গভীর করে চুমু দিয়ে অবশ গলায় বলল।

“উমমমমম্মাহ… আমার নেশালো বউ। এবার শান্তিতে ঘুমা, গুড নাইট। কাল দেখা হচ্ছে।”

ফোনটা কেটে যেতেই রিদি ফোনটা বুকের কাছে শক্ত করে চেপে ধরে খিলখিল করে হেসে উঠল। সত্যি, লোকটা দিন দিন কেমন যেন মাত্রাতিরিক্ত অসভ্য হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু এই অসভ্য পুরুষটা যে তার নিজের ঘুম হারাম করার পাশাপাশি রিদির চোখের ঘুমটাও কেড়ে নিয়ে গেল, সে খেয়াল কি তার আছে? এখন তো এই জন্মেও আর চোখে ঘুম আসবে না।

সে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে আর মনে মনে শুভ্রের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে কখন যে ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগ মুহূর্তে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল, সে নিজেও টের পেল না।

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply