Golpo romantic golpo অবাধ্য হৃৎস্পন্দন

অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৮


অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৮)

সোফিয়া_সাফা

বাসর স্পেশাল

উদ্যানের যখন ঘুম ভাঙল, ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে বারোটা ছুঁইছুঁই। ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চের টেবিলে এসে সে প্রথম যে ব্যাপারটা খেয়াল করল, তা হলো ফুলের অনুপস্থিতি। সে শান্ত চোখে তাকাল আশেপাশে। সে নিজেই দরজার লক বদলে দিয়েছে, গেটে কড়া নজরদারির জন্য একজন গার্ডও নিযুক্ত করে রেখেছে। তবুও সে জিজ্ঞেস করেই ফেলল, “পেটাল কোথায়?”

লুহান বলল, “আমি জানি কোথায় আছে, অস্থির হয়ে পড়িস না। খেয়ে নেই তারপর আরাম করে বলবো।”

উদ্যান একটু থামল, আসলেই কী সে অস্থির হয়ে পড়েছিল? নাহ! উদ্যান এসব ভাবছেই বা কেন? খাওয়াদাওয়া শেষে উদ্যান হনহনিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। আর জানতে চাইল না ফুলের কথা। লুহান অবাক চোখে তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার পানে।

কিছুক্ষণ পর লুহান এসে উদ্যানের দরজার সামনে দাঁড়াল। অনেকক্ষণ ডোরবেল বাজিয়েও ভেতর থেকে কোনোরূপ সাড়া মিলল না। সে কলও লাগিয়েছিল তার ফোনে কিন্তু লাভ হয়নি। উদ্যান নাতো রিসিভ করেছে আর নাতো দরজা খুলেছে।

লুহান বিরক্ত হয়ে ফিরে গেল নিজের কাজে।
সারাটাদিন কেটে গেল একভাবে। উদ্যান নিজের রুম থেকে বেরই হয়নি।

অবশেষে দিনের আলো ফুরিয়ে পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা নেমেছে। উদ্যান বের হলো নিজের রুম থেকে। আনমনেই ফুলের রুমের দিকে চোখ যেতেই দেখল দরজাটা বাইরে থেকে লক করা। সে চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিল। ক্রুজিং এ যাওয়ার নিয়তে বের হলেও তার পা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে গেল লুহানের রুমের দিকে। হাতের গ্লাভস ঠিক করতে করতে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখল সোহম আর লুহান কোনো একটা বিষয়ে আলোচনা করছে। উদ্যানের আকস্মিক উপস্থিতিতে তাদের কথোপকথন থেমে গেল।

“তেহ তুই? কিছু বলবি?” সোহমের প্রশ্নে উদ্যান অস্বস্তি চেপে দু আঙুলে কপাল চুলকাতে লাগল। মৃদু গলায় বলল, “লুহান কী যেন বলবে বলেছিল।”

লুহান দায়সারা ভাব নিয়ে বলল, “আমি কী বলতে চেয়েছিলাম ভুলে গেছি। তুই একটু মনে করিয়ে দিবি?”

উদ্যান মুখ বাঁকাল। বুঝতে পারল লুহান তার ওপরে ক্ষেপে আছে। সে দুপা এগিয়ে গিয়ে বলল, “আসলে আমি ফোনটা সাইলেন্ট মুডে রেখে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেই জন্যই রিসিভ করতে পারিনি।”

লুহান অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, “ঠিক আছে সমস্যা নেই। বুঝতে পেরেছি আমি।”

সোহম লুহানের কানে কানে বলল, “আরে বলে দে না ওকে। কেন বিরক্ত করছিস?”

লুহান তাকে সরিয়ে দিল, “কোন টপিকে তোকে বলতে চেয়েছিলাম, একটু মনে করিয়ে দে।”

উদ্যানের মনে হলো সে ফুলের কথা সরাসরি জানতে চাইলে তার দম্ভ ভেঙে যাবে। তাই সে হালকা চালে বলল, “টপিক টা আমারও খেয়াল নেই। তোর মনে করার চেষ্টা করা উচিত।”

লুহান জোরপূর্বক হেসে বলল, “তুই যা এখন, আমার মনে পড়লে তোকে বলে দেবো। এমনিতেও দেরি হয়ে গেছে। আরও দেরি হোক আমার কোনো সমস্যা নেই।”

উদ্যান রাগী চোখে তার দিকে একবার তাকিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলো। তখনই সোহম না পেরে বলে ফেলল, “আরে আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি, লাঞ্চের সময় তেহ জিজ্ঞেস করেছিল ফরগেটফুল খাবার টেবিলে নেই কেন। তখন তুই বলেছিলি খাওয়া দাওয়া শেষে আরাম করে বলবি। সেটাই আর বলা হয়ে ওঠেনি।”

লুহান চোখ রাঙিয়ে তাকাল সোহমের দিকে। কে বলেছে তাকে মাতব্বরি করতে? লুহান তো জাস্ট উদ্যানের মুখ থেকে এই কথাটা শুনতে চেয়েছিল।

উদ্যান ফিরে তাকাল লুহানের দিকে, “হ্যাঁ, তো বাকিটাও বলে দে এবার।”

লুহান আর এড়িয়ে যেতে পারল না। বলে দিল সবটা।
,
,
,
রাতের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের উৎকণ্ঠা পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে।
পেটাল এস্টেটের বিস্তৃত লিভিং রুমে বসে গালে হাত ঠেকিয়ে দরজার দিকে চেয়ে আছে সে। হাই তুলে একবার ঘড়ির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখল এখন রাত সাড়ে দশটা।

“লোকটা কী আসবে না?” মনে মনে আওড়াতেই একজন মেইড তাকে খেতে ডাকল, “মিস্ট্রেসা, খাবার বেড়ে দেবো আপনার জন্য?”

ফুল আলতো পায়ে উঠে দাঁড়াল। সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বলল, “প্রয়োজন নেই, খাবো না আমি। তোমরা খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।”

“আমি খাবো, ক্ষিদে পেয়েছে আমার।” হঠাৎ উদ্যানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসতেই ফুল চমকে তাকায়।

উদ্যান দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আদেশ করল, “ব্রিং মি আ কোল্ড ড্রিংক।”

মেইড কিচেনের দিকে যেতে নিলে ফুল তাকে চোখের ইশারায় কিছু বলে দিয়ে নিজেও চলে যায় কিচেনে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে কোল্ড ড্রিংক নিয়ে নিজেই হাজির হয় উদ্যানের সামনে।

উদ্যান ফুলের দিকে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হয়ে গেল। ফুলের গায়ে অফহোয়াইট রঙের ফার্সি সালোয়ার স্যুট। বেণি করা চুলগুলো মাথায় টানা ওড়নার নিচ দিয়েও দেখা যাচ্ছে। হাতে বরাবরের মতোই চমকালো রঙের চুড়ি। যা সামান্য নড়াচড়াতেও টুংটাং শব্দ তুলছে। উদ্যান হলফ করে বলতে পারে, ডায়েরিতে লেখা না থাকলেও মেয়েটা চুড়ি পরতে পছন্দ করে।

ফুল চোখ নামিয়ে হালকা গলায় বলল, “নিন।”

উদ্যান তার দিকে তাকিয়েই গ্লাসটা হাতে নিল।

পরপরই ফুল ধপ করে বসে পড়ল উদ্যানের গা ঘেঁষে। উদ্যান আঁড়চোখে একবার তার দিকে তাকিয়ে গ্লাস খালি করে টেবিলের ওপর রাখতেই ফুল ওড়না দিয়ে তার মুখ মুছে দেয়। উদ্যান ফ্যালফ্যাল চোখে তাকায় তার দিকে। ফুল ঠোঁট প্রসারিত করে বলে, “ট্রি হাউসে চলুন, ওখানে গিয়ে ডিনার করবো। যাবেন?”

উদ্যান উঠে দাঁড়িয়ে সায় জানায়, “হুম, চলো।”
,
,
,
ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছে ফুল আর উদ্যান। ফুলের মাথাটা উদ্যানের বাহুতে ঠেকিয়ে রাখা। মেয়েটা দুহাতে উদ্যানের বাহু আঁকড়ে ধরে রেখেছে। উদ্যানের এক হাতে ফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন্ধকারের বুক চিরে পথ দেখাচ্ছে, অন্য হাতটা পকেটে গোঁজা।

পুরোটা পথ নিরবতায় ভর করেই কাটলো। ট্রি হাউসের সামনে আসতেই উদ্যান কিছু একটা অনুমান করতে পারল। তবুও বেশি কিছু আশা করল না।

উদ্যানকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে ফুল নিজেই বিস্মিত হলো। এতো সুন্দর করে ভেতরটা সাজানো থাকবে সে কল্পনাও করেনি। উদ্যান অবাক হলো কিনা বোঝা গেল না। সে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানায় বসল। চাপা গলায় বলল, “ক্ষিদে পেয়েছে।”

ফুল নিজের ওড়না ঠিক করতে করতে টেবিলের ওপর ঢেকে রাখা খাবারগুলো একটা প্লেটে ঢেলে সেটা নিয়ে উদ্যানের সামনে বসল। বিরিয়ানির তীব্র গন্ধ নাকে যেতেই উদ্যান ভ্রু তুলে তাকাল, “বিরিয়ানি?”

ফুল ঠোঁট চেপে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ চিকেন বিরিয়ানি, আমি রান্না করেছি। খেয়ে দেখুন।”

উদ্যান শুকনো ঢোক গিলল। মেয়েটা জানলো কীভাবে সে বিরিয়ানি লাইক করে। ওহ হ্যাঁ, পার্সোনাল মেইড ছিল তার। কিন্তু সে তো কোনো মেইডকেও বলেনি কখনো।

“কী ভাবছেন অতো?”

“তুমি জানলে কীভাবে, বিরিয়ানি আমার পছন্দ?”

ফুল বড় বড় চোখে তাকাল, “আপনার পছন্দ?”

উদ্যান ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল, “তুমি জানতে না?”

ফুল নাবোধক মাথা নাড়ল, “জানতাম না, শুধু একবার খেয়াল করেছিলাম আপনি একদিন অনেকটা বেশি বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। সাধারণত অতোটা খান না।”

উদ্যান কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাবনায় পড়ে গেল। মেয়েটা তার সুক্ষ্ম আচরণ গুলোও খেয়াল করে। ভাবতেই কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে।

“খাইয়ে দেবো আমি?” ফুলের এহেন প্রস্তাবে উদ্যান শান্ত চোখে তাকাল।
লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিলো ফুল, “না মানে খেয়ে নিন।”

উদ্যান পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে মেসেজ করতে করতে বলল, “খাইয়ে দাও।”

ফুল হাত ধুয়ে এসে উদ্যানকে খাইয়ে দিতে লাগল। কয়েক লোকমা খাওয়ানোর পর জিজ্ঞেস করল, “কেমন হয়েছে?”

উদ্যান ফোনটা সুইচ অফ করে টেবিলের ওপর ছুড়ে মেরে ফুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল, “নিজে খেয়ে দেখো।”

ফুল সরল মনে এক লোকমা বিরিয়ানি মুখে নিতেই চোখেরই পলকে তার ঠোঁটজোড়া উদ্যানের তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের দখলে চলে গেল। বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গেল ফুল। উদ্যান এলোপাথাড়ি তার ঠোঁটে কর্তৃত্ব ফলিয়ে চলেছে। তীব্র আবেগের ঝাপটায় ফুল বিছানায় নুইয়ে পড়তেই উদ্যান নিজেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছেড়ে দেয় ফুলকে।

কিয়ৎক্ষণ একভাবে শুয়ে থাকার পর উঠে বসল ফুল। তাকিয়ে দেখল উদ্যান নেই কোথাও। সে আতঙ্কিত হয়ে বাইরে এসে দেখল উদ্যান সিঁড়ির ওপর বসে আছে। পা টিপে টিপে ফুল এগোলো তার দিকে, “এখানে এলেন কেন?”

উদ্যান উদ্দেশ্যহীন চোখে সামনে তাকিয়ে বলল, “চলে না এলে তোমার সাথে খারাপ কিছু হয়ে যেতো, যা হয়তো তুমি চাও না।”

ফুল হাত কচলাতে লাগল। উদ্যান ফের বলল, “এখানে থাকাটা ঠিক হবে না, এস্টেটে ফিরে চলো।”

ফুল প্রত্যুত্তরে প্রায় ফিসফিসিয়ে বলল, “আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি তৈরি হয়ে আসছি।”

উদ্যান মাথা নেড়ে যেতে বলল। মিনিট খানেক বসে থাকার পর সে অধৈর্য হয়ে পড়ল। পকেট হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট বের করতেই ফুল একহাতে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। উদ্যান তবুও ফিরল না তার দিকে।

ফুল তার পাশাপাশি এসে বসল। সিগারেটের প্যাকেট টা হাত থেকে কেড়ে নিতেই উদ্যান আনমনেই তাকাল ফুলের দিকে। ফুলের মুখাবয়ব নজরে আসতেই যেন উদ্যানের চাউনি গাঢ় হয়ে উঠল। তার দেওয়া সেই লাল রঙের শাড়িটা পরেছে ফুল। চোখে কালো কাজল, ঠোঁটে দেয়নি কিছুই তবুও খোলা চুলে আকর্ষণীয় লাগছে তাকে। তার একহাতে মোমবাতি ছিল। সে সেটা তার আর উদ্যানের মাঝখানে এনে রাখল। দুটো হাতই বাড়িয়ে দিল উদ্যানের দিকে। একহাতে সিগারেটের প্যাকেট, আরেক হাত ফাঁকা ছিল।

সে উদ্যানের চোখে চোখ রেখে নরম কণ্ঠে বলল, “আপনার কাছে দুটো অপশন আছে, কোনটা চাই? সিগারেট, নাকি ফুল?”

উদ্যান চোখ সরিয়ে মোমবাতির দিকে তাকিয়ে সিগারেট টা হাতে তুলে নিতেই ফুলের মুখটা চুপসে গেল। উদ্যান বসা থেকে দাঁড়িয়ে গিয়ে বলল, “যাওয়া যাক?”

ফুল তড়িৎ বেগে উদ্যানের হাত চেপে ধরল। ভেজা গলায় বলল, “আপনি সত্যিই ফিরে যেতে চাইছেন?”

উদ্যান ঝাড়া মেরে তার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল, “হুম, আজ ক্লাবে যাওয়ার সিডিউল ছিল। এখানে এসে লস হয়ে গেল।”

​ফুলের চোখ টলমল করে উঠল। সে বিমূঢ় হয়ে শুধাল, “আপনি বুঝতে পারছেন না, আমি কেন এখানে এনেছি আপনাকে?”

উদ্যান বিড়বিড়িয়ে বলল, “আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত।”

ফুল বোকা চোখে তাকিয়ে দেখল উদ্যান তাকাচ্ছে না তার দিকে।
“ভালো দেখাচ্ছে না আমাকে? খুব বিশ্রী দেখাচ্ছে কি?”

উদ্যান উত্তর না দিয়ে হাঁটা ধরল। ফুল ভাবল উদ্যান হয়তো রেগে আছে তার ওপর। এখন বেশি কথা বলতে গেলে দাবানলের মতো সেই রাগ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে।
ফুলকে পিছু পিছু আসতে দেখে উদ্যান দাঁতে দাঁত চেপে শাসিয়ে বলল, “আসবে না আমার পিছু পিছু। আর কান খুলে শুনে রাখো, আমি যদি আজ রেগেমেগে এস্টেটে ফিরি কাল দিনের মধ্যে অন্য মেয়ে নিয়ে আসবো।”

ফুলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে দৌড়ে গিয়ে উদ্যানের পথ আগলে দাঁড়াল। রুদ্ধশ্বাসে বলল, “কেন রেগে আছেন?”

“তুমি বুঝতে পারছো না?”

ফুল অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল। উদ্যান অহমিকার বশে তাকে সরিয়ে দিয়ে হাঁটা ধরতেই সে পেছন থেকে তাকে জাপ্টে ধরল। সমস্ত লজ্জা, জড়তা আর উৎকণ্ঠা দমিয়ে রেখে উদ্যানের শক্ত পিঠে মুখ গুজে দিয়ে কম্পিত স্বরে বলল, “শুনুন না… আমি নিজেকে আপনার হাতে তুলে দিতে চাই। নিজের সবটুকু অধিকার বুঝে নিয়ে আমাকে ভারমুক্ত করুন।”

উদ্যান এক ঝটকায় ফুলকে সামনে ঘুরিয়ে এনে তার মুখটা হাতের আঁজলায় নিয়ে নিল। হিসহিসিয়ে শুধাল, “আমাকে এতোদিন অপেক্ষা করানোর জন্য তোমার কি ক্ষমা চাওয়া উচিত নয়?”

ফুলের ঠোঁট কাঁপছিল। তবুও উদ্যানের হাতের ওপর হাত রেখে বলল, “সরি, ভুল হয়ে গেছে আমার। আপনি প্লিজ অন্য কারো কাছে যাবেন না। এই যে দেখুন আমি খুশি খুশি আপনার কাছে এসেছি।”

উদ্যান বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তার গালে স্লাইড করতে লাগল, “তোমাকে কি আমি বাধ্য করেছি?”

ফুল ডানে বায়ে মাথা নাড়ল, “আমি যা করছি সব নিজের ইচ্ছায় করছি। আপনি আমাকে বাধ্য করেন নি।”

উদ্যান ফুলের গাল ছেড়ে দিয়ে পরক্ষণেই শাড়ির ফাঁক গলে আঁকড়ে ধরল তার উন্মুক্ত কোমর। কুটিল হেসে বলল, “বাহ! খুবই ডেসপারেট দেখছি। দেখা যাক তুমি কেমন পারফর্ম করো।”

ফুলের শরীরটা থরথর করে কাঁপছিল। তবুও মুখে হাসি বজায় রেখে সে উদ্যানকে জড়িয়ে ধরল। উদ্যানও সময় নষ্ট না করে তাকে পাজকোলা করে ট্রি হাউসে ফিরে এল। লাথি মেরে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে ফুলকে বসিয়ে দিল খাটে।
মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলোয় ফুল দেখল উদ্যান মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে একটানে নিজের শার্টের বোতামগুলো অবমুক্ত করল। তারপর কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়েই তাকে এক নিবিড় বাহুবন্ধনে পিষে ফেলল দানবটা।

উদ্যানের উদোম বুকটা ফুলের নরম ঠোঁটের সংস্পর্শে আসতেই উদ্যান আবারও তাকে আগের মতো বসিয়ে দিয়ে শার্টটা খুলে ফেলে দিল। আসন করে বসল ফুলের সামনে। ফুল নিলাজ চোখে উদ্যানের বলিষ্ঠ শরীরের দিকে চেয়ে ছিল। তখনই তার নজরে এল উদ্যানের বুকের বাম পাশে একটা পুরোনো কাটা দাগ আছে।
ঠিক তার পাশেই সবুজ কালিতে খোদাই করে কিছু একটা লেখা, যা আবছা অন্ধকারে পাঠোদ্ধার করা অসম্ভব। তার চাউনির গভীরতা মেপে নিয়ে উদ্যান এক হাতে তার চিবুক ধরে মুখটা ওপরে তুলল।

“আমার চোখের দিকে তাকাও, পার্ল।”

ফুল চোখ তুলতেই দেখল উদ্যানের চোখে এক আদিম তৃষ্ণা, যা তাকে গ্রাস করতে চাইছে। পরক্ষণেই উদ্যান সজোরে তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। লাল শাড়ির পাতলা আবরণ সমেত ফুলের বুকটা আছড়ে পড়ল উদ্যানের তপ্ত, শক্ত বুকের ওপর। সেই ঘর্ষণে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল দুজনেরই সর্বাঙ্গে।
উদ্যান নিজের মুখটা নামিয়ে আনল ফুলের গ্রীবায়। তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস আর অধরের ছোঁয়া ফুলের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিল। এক চরম ঘোরের বশে সে উচ্চারণ করে বসল, “উ…দ্যান।”

শব্দটা উদ্যানের কর্ণগোচর হতেই সে বজ্রমুষ্ঠিতে পিষে ধরল ফুলের মসৃণ কোমর। যন্ত্রণার তীব্রতায় ফুল কুঁকড়ে গিয়ে ভাঙা গলায় বলল, “সরি… মুখ ফসকে বলে ফেলেছি।”

ফুলের এই আর্তনাদ উদ্যানের পৌরুষে যেন আরও জ্বালানি জোগাল। সে এক হ্যাঁচকায় তার শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে নামিয়ে দিল। উদ্যানের ক্ষুধার্ত দৃষ্টি এবার ফুলের বক্ষভাঁজে নিবদ্ধ হলো। সে ধীরে ধীরে নিজের মুখটা ফুলের কানের কাছে নিয়ে তপ্ত স্বরে ফিসফিসিয়ে বলল, “তোমার মুখ আজ রাতে আরও অসংখ্য বার ফসকে যাবে পেটাল। আর সেই ফসকে যাওয়ার জন্য শাস্তিও পেতে হবে।”

ফুল ঠোঁট চেপে নিজেকে সংযত করার বৃথা চেষ্টা করতে লাগল। উদ্যান তাকে শুইয়ে দিয়ে তার ওপর নিজের শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দিল। তার রুক্ষ আঙুলগুলো ফুলের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে, কোমরের বাঁক থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত এক উন্মত্ত রাজত্ব কায়েম করতে শুরু করল।
তীব্র উত্তেজনায় ফুল দুহাতে উদ্যানের পিঠের পেশিগুলো খামচে ধরল; তার ধারালো নখ উদ্যানের চামড়ায় দাগ বসিয়ে দিল।

নিবিড় সেই আলিঙ্গনের মাঝে উদ্যান ফুলের ঠোঁটজোড়া নিজের মরণপণ দখলে নিল। ফুলের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো, কিন্তু সে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইল না। বরং আরও গভীরভাবে উদ্যানের সেই আদিম ক্ষুধার মাঝে নিজেকে তিলে তিলে বিলীন করে দিল। উদ্যানের সতর্কবাণী সত্যি করে দিয়ে ফুলের মুখ বারংবার ফসকে গেল আজ রাতে, আর উদ্যানও প্রতিটি বার সেই রেশ ধরে তার ওপর চড়াও হলো এক অদ্ভুত মাদকতায়।
,
,
,
ফুলের মাঝে যখন চেতনা ফিরল তখন ঘড়ির কাটায় বিকেল তিনটা। সামান্য নড়াচড়া করতে গিয়েও যেন বিস্ফোরিত হলো তার স্নায়ুকোষ। মনে পড়ে গেল উদ্যান কীভাবে নিজের অধিকার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিয়েছে তার থেকে। একটুও করুণা দেখায় নি; উপরন্তু শাস্তির ছুতোয় তাকে একাধিক বার ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে; যেন এক মদমত্ত দানব তার সমস্ত অস্তিত্বকে পিষে নীল করে দিতে চেয়েছিল।

“মিস্ট্রেসা, এখন কেমন ফিল করছেন?” হঠাৎ মেয়েলি কণ্ঠ শুনে বহু কষ্টে চোখ মেলে তাকাল ফুল। দেখল, তার একপাশে ডাক্তার আর আরেকপাশে একজন মেইড দাঁড়িয়ে আছে। সে কমফোর্টার টা আরও একটু জড়িয়ে নিতে গিয়েও ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠল।

“মিস্ট্রেসা, খাবার খেয়ে তারপর মেডিসিন খেয়ে নিন ব্যাথা কমে যাবে।” ডাক্তারের কথায় ফুলের দুচোখ ফেটে কান্না এল।

এই ডাক্তার আর মেইডটা নিশ্চয়ই সবটা বুঝতে পারছে? ভাবনাটা ফুলকে যারপরনাই লজ্জায় ফেলে দিল। আচ্ছা, উদ্যান কেন ডেকেছে তাদের? কী প্রয়োজন ছিল?

ফুলের অস্বস্তি টের পেয়ে ডাক্তার ইশারা করলেন মেইডকে চলে যেতে। মেইড চলে যাওয়ার পর ডাক্তার নরম গলায় বললেন, “মিস্ট্রেসা, আমি একজন ডাক্তার, আমাকে চেনেনও আপনি। তাই আমার সামনে আনকম্ফোর্টেবল ফিল করবেন না। আপনার কী কী সমস্যা হচ্ছে নির্দ্বিধায় বলুন আমাকে।”

ফুল কোনো কথা বলতে পারল না। সে কমফোর্টার টা সামান্য উঁচিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে একটু স্বস্তি বোধ করল। তার গায়ে জামাকাপড় আছে। অবশ্য তার মনে আছে উদ্যান তাকে শাওয়ার নিতে হেল্প করেছিল। যদিও ওয়াশরুমে গিয়ে আরেকদফা কন্ট্রোললেস হয়ে গিয়েছিল দানবটা। আর সেও সেই উগ্রতা সইতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।

ডাক্তারের সহায়তায় ফুল উঠে বসে খাবার খেয়ে নিল। তারপর ডাক্তার কিছু ঔষধ ধরিয়ে দিলেন ওর হাতে। চার চারটা ঔষধ দেখে ফুল ভ্রুকুটি করলো, “শুধু ব্যাথার জন্য এতোগুলো?”

ডাক্তার সাবলীল কণ্ঠে বললেন, “না, শুধু ব্যথার জন্য না। একটা পেইনকিলার, ব্যথা কমাবে। আরেকটা অ্যান্টিবায়োটিক, ইনফেকশন যেন না হয় তার জন্য। আর একটা আছে শরীর একটু রিল্যাক্স করার জন্য। অন্যটা ইমার্জেন্সি পিল… আনওয়ান্টেড প্রেগন্যান্সি প্রিভেন্ট করার জন্য।”

ফুল থমকে গেল। অবাক চোখে তাকিয়ে বলল, “আমি তো আপনাকে এমন কোনো মেডিসিন দিতে বলিনি।”

ডাক্তার পেশাদার কণ্ঠে বললেন, “মাস্টার বলে গেছেন।”

ফুল অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। “কোথায় গেছেন উনি?”

“ঘন্টা খানিক আগে সোলার এস্টেটে ফিরে গেছেন।”

ফুলের চোখজোড়া ভিজে উঠতে চাইল। লোকটা তাকে এই ভাঙাচোরা অবস্থাতেই ফেলে রেখে সোলার এস্টেটে ফিরে গেছে; এটা ঠিক মেনে নিতে পারল না।

“মেডিসিন খেয়ে নিন মিস্ট্রেসা, মাস্টার বিশেষ ভাবে বলে গেছেন যেন আমি আপনার মেডিসিন খাওয়ার বিষয়টা কনফার্ম করি।”

ফুল আর কোনো তর্কে গেল না। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে উল্টো হাতে চোখের জল মুছে নিল। তারপর বুকে পাথর চেপে ওষুধগুলো গিলে নিল।

চলবে,,,

শব্দসংখ্যা: ২৪০০+

(আজকের পর্ব পড়ে কার কী মতামত কমেন্টে জানান।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply