#Love_or_Hate
|#পর্ব_৪৪|
#ইভেলিনা তূর্জ
কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
এক সপ্তাহ পর।রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ঘন অরণ্যের বুক দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল রাজপ্রাসাদ ক্ল্যান প্যালেস।এই সেই প্যালেস যার অধিপতি রুশ নারী মাফিয়া ক্যাটরিনা ক্ল্যান। চারপাশের গহীন ফরেস্ট পরিবেশে আভিজ্যতে মোড়ানো প্রাসাদটা দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো ভ্যাম্পায়ার উপন্যাসের টাইমলাইনে তৈরি করা।
আঠারো দশকে তৈরিকৃত প্যালেসের ভেতরের বিশাল হলরুমে একটা উঁচু সিংহাসনের মতো চেয়ারে অত্যন্ত আয়েশ করে বসে আছে আদ্রিয়ান শাহ।এক পায়ের ওপর অন্য পা তোলা।ভায়োলিনের সুরেলা কন্ঠ ভেসে আসছে পুরুষটার কর্ণকুহরে।বড় বড় চোখের পাপড়িগুলো পলকে পলকে গিয়ে স্পর্শ হচ্ছে জোড়া ভ্রুদ্বয়ে।
আদ্রিয়ানের বাম হাতে একটা রুবিস কিউব। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কিউবটি ঘুরিয়ে চলেছে।সরিষার দানা রঙা অক্ষীদ্বয় এক দৃষ্টিতে সামনের দেওয়ালে প্রজেক্ট করা বিশাল স্ক্রিনের উপর। আন্তর্জাতিক সংবাদ চলছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক তথ্যনুসারে-
আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের সম্রাজ্ঞী ক্যাটরিনা ক্ল্যানের। আটলান্টিকের গোপন আস্তানায় নিজের তৈরি বোমার বি*স্ফো*রণে আত্মঘাতী মৃ*ত্যু হয়েছে তার। ক্যাটরিনার এই মৃ*ত্যুতে তার দীর্ঘ অপরাধ সিন্ডিকেটের অবসান ঘটলো।নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর, গ্রেফতার এড়াতে ক্যাটরিনা ক্ল্যান নিজেই লাইটহাউসের কন্ট্রোল প্যানেলে আত্মঘাতী বি*স্ফো*রণ ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিলো যে, প্রাচীন লাইটহাউসটির বিশাল অংশ ধ্বসে পড়ে সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়।”
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক নিউজটা দেখা শেষে বিশাল হলরুমের কারুকার্যময় সিংহাসনে মাথা হেলিয়ে দিলো আদ্রিয়ান।পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইউসুফ। প্রজেক্টর অফ করে বাঁকা হেসে উদ্বিগ্ন হয়ে তাকালো আদ্রিয়ানের পানে।যার চক্ষুদ্বয় লালচে হলেও ওষ্ঠাধরে পৈশাচিক তৃপ্তি।
—রিপোর্টার সব আমাদের হাতের মুঠোয়।ঠিক যেভাবে নিউজ করার কথা বলেছিলেন সেভাবেই করা হয়েছে।পুরো ঘটনাটা আত্ম*ঘাতী হামলায় টার্ণ করা হয়ে গিয়েছে বস।নিউজ টা আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে পাওয়া।
—গুড জব ইউসুফ। এ মাসের সেলারি টা তিনগুণ করে দিবো তোমার।তোমার বস হ্যাপি তুমিও হ্যাপি ওখেই?অনেক পরিশ্রম করেছো।চাইলে কিছুদিনের জন্যে থাইল্যান্ড ভেকেশনে যেতে পারো।
অবাক হলো ইউসুফ। সাথে উৎফুল্লতা মিশ্রিত মৃদু হেসে বললো।
—না না বস।ভেকেশনে যাবো না।গেলে একেবারে হানিমুনে যাবো।
—বিয়ে সাদির চিন্তা বাদ দাও।তোমাদের বস এখনো অবিবাহিত আর তুমি বিয়ের চিন্তা করছো।ইট’স নট ফেয়ার।
হঠাৎ কোনোকিছু না ভেবে চমৎকার হেসে ইউসুফ বলে উঠলো।
—বসের বিয়েই খেতেই তো বেঁচে আছি।করে নিন।
পরক্ষণেই মুখাবয়বে পরিবর্তন এনে ওষ্ঠাধরে লাগাম টানলো ইউসুফ।ভাবলো আদ্রিয়ান ক্ষিপ্ত হবে।তবে না আদ্রিয়ান হাসলো।নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ইউসুফকে জিজ্ঞেস করলো।
—পুনর্জন্মে বিশ্বাস করো??
বিস্মিত হলো ইউসুফ।হঠাৎ এমন প্রশ্ন করার কারণ??অতঃপর ইউসুফের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
—আমাদের ধর্মে পুনর্জন্ম বলে কিছু হয় না বস।একটাই জীবন আমাদের। একটাই ভাগ্য।
আচানক আদ্রিয়ান এমন কিছু বলে বসলো।আঁতকে উঠলো ইউসুফ।এমন বিষ্ময়কর বাক্যে নিজের বস থেকে আসা করেনি হয়তো-বা ইউসুফ। কেননা আদ্রিয়ান মূহুর্তেই বলে উঠে।
—আফসোস হয় বুঝলে।যদি আরেকটা জীবন পেতাম।পরজনমে আমি ইউভানের ভাগ্যেটাই খোদার দরবারে চাইতাম।ইয়া আই ওয়ান্ট হিজ ডেস্টিনি।তারপর পরজনমে রেড রোজের জীবনে প্রথম পুরুষ হয়ে তার জীবনটা শুরু থেকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতাম।হরিণীর মতো সজ্জল চোখে এক ফোঁটা অশ্রু গড়াতে দিতাম না।মেয়েটার কষ্ট পেলে আমারও ভীষণ কষ্ট হয়। কেন হয় জানি না।প্রথমে বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছি আমি মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছি।একটা বিবাহিত নারীর প্রতি অনুভূতি সৃষ্টি কেন করলো খোদা??
ওষ্ঠাধর তিড়তিড় করে কাঁপতে লাগলো ইউসুফের।কি বলবে সে??
—আপনি তো জানতেন না বস যে ম্যাম বিবাহিত ছিলেন।
—আমি তার সুখ দেখতে চেয়েছিলাম।অথচ সে তার স্বামীর মৃ*ত্যু মানতেও নারাজ।আমার কেন মনে হচ্ছে যে ঐ নারী সুখের চেয়ে নিজের স্বামীর তটে দুঃখ মেনে নিতেও রাজি!এমনটা যেনো না হয় ইউসুফ।
ইউসুফ নির্বাক হয়ে পড়লো।আদ্রিয়ান অপর হাতে দামী ওয়াইনের গ্লাসে ছোট একটা চুমুক দিয়ে সে মাথাটা পেছনে হেলিয়ে রাখলো।তীক্ষ্ম দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে বাম হাতে থাকা রুবিস কিউবটির ওপর। অত্যন্ত ধীরলয়ে কিউবটি মেলাতে মেলাতে নিচু স্বরে একপ্রকার বিরহের স্বরে মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠলো গ্যাংস্টার বস।
ঝড় হয়ে দিলে সব ধ্বংস করে ক্ষত দেখাবো কাকে?
পারবে না থামাতে কেউ আমাকে,
সব শেষ করবো নিজের হাতে!
এদিকে সময় ঘনিয়ে এসেছে।পরক্ষণেই এক পৈ*শাচিক তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো পুরুষটার ওষ্ঠাধরে। রুবিস কিউবের শেষ রঙ মিলিয়ে নিলো।ঠিক সেই মুহূর্তে সিরিয়াস ভঙ্গিতে ইউসুফ টাইমার দেখলো।আদ্রিয়ানের একবারে সামনে এসে মাথা নত করে দাঁড়ালো।প্যালেসের ভেতরে ক্যাটরিনার যত সৈন্য মানবদের উপস্থিত ছিলো সবাইকে আটক করে হলরুমে আঁটকিয়ে রাখা হয়েছে।ইউসুফ বলল।
—সবকিছু রেডি আছে বস। আমাদের এখনই ক্ল্যান প্যালেস থেকে বের হতে হবে।
ইউসুফ নিজের কব্জির ঘড়ির দিকে একবার তাকালো। ঠিক তখনই প্যালেসের ওপরের আকাশে কয়েকটি হেলিকপ্টারের বিকট শব্দ শোনা গেলো। অদ্ভুত এক দৃশ্য! হেলিকপ্টারগুলো থেকে বৃষ্টির মতো কোনো তরল পদার্থ পুরো প্যালেসের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাতাসের গন্ধে বোঝা যাচ্ছে ওগুলো সাধারণ পানি নয় উচ্চ দাহ্য কোনো রাসায়নিক তরল।
আদ্রিয়ান ধীরস্থিরভাবে উঠে দাঁড়ালো।পড়নে থাকা ফরমাল স্যুটটির কোটের বোতামগুলো একটা একটা করে লাগাতে লাগাতে বিশাল দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।পুরুষটার শান্ত কিন্তু বি*ধ্বংসী চালচলন বলে দিচ্ছে, ক্যাটরিনার পাপের সাম্রাজ্যকে চিরতরে ছাই করে দেওয়ার সব আয়োজন সে নিখুঁতভাবে শেষ করে ছাঁড়বে।
প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় আদ্রিয়ান একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না। বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের এই অরণ্যে এখন কেবল একজনই রাজা।
গহীন অরণ্যের বুকে আদ্রিয়ান হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে গেলো প্যালেস থেকে।এতো স্বাভাবিক তার দৃষ্টিভঙ্গি যেনো এই মূহূর্তে এখানে কিছু ঘটবেই না।হি ইজ অ্যা সাইলেন্ট কিলার!ইয়েস হি ইজ।আদ্রিয়ান হেঁটে চললো প্যালেস পিছনে রেখে। অতঃপর অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে নিজের ফরমাল স্যুটের বুক পকেট থেকে একটা দামী গোল্ডেন লাইটার বের করলো।
এক মুহূর্তের জন্য আদ্রিয়ান স্থির হয়ে দাঁড়ালো। বৃদ্ধাঙ্গুলির এক টানে লাইটারের শিখা জ্বালিয়ে দিলো।অতঃপর এক ঝটকায় জ্বলন্ত লাইটারটা ছুঁড়ে মারলো পেছনের দিকে।
লাইটারটি বাতাসে কয়েকবার পাক খেয়ে সোজা গিয়ে পড়লো রাসায়নিক তরলে ভেজা ক্ল্যান প্যালেসের ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই এক বিকট শব্দে আগুনের গোলক তৈরি হলো। ‘দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো ক্যাটরিনা ক্ল্যানের সেই পাপের সাম্রাজ্য। আগুনের লেলিহান শিখা বিশালাকার ধারণ করে নিশীথে ঢাকা রাতের আকাশকে লালচে করে দিলো। সেই আগুনের উত্তাপ আদ্রিয়ানের পিঠে এসে লাগলেও পুরুষটা ধীরস্থিরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।
.
.
.
.
.
.
ক্ষনে ক্ষনে সেলাইনের তরল পানি প্রবেশ করছে রোজের ক্যানলা দিয়ে।নার্স এমিলিও বিগত সাতদিন যাবৎ রোজের দেখভাল করে চলেছেন।গত সাতদিনেও সেন্স ফিরে আসে নি রমণীর।শরীরের জ্বরের তিব্রতা এতো বেশি ছিলো যে তাকে সেই মুহূর্তেই পিটার্সবার্গের সুরক্ষিত হসপিটালে ভিআইপি কেবিনে রাখা হয়।এদিকে পুরো আন্তর্জাতিক নিউজগুলোতে শুধু নারী মাফিয়া ক্যাটরিণার আত্মঘাতী বিস্ফোরণের নিউজ।পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক!কেবিনের জানালার কার্ণিশে দাঁড়িয়ে রোজের জন্যে ইনজেকশনে মেডিসিন পুষ করছে।সময়ব্যাবধানে টানা সাতদিন পর আজ রোজের চৈতন্যে ফিরলো।
আঁখিপল্লব পিটপিট করে মেলতেই রোজ দেখলো হাতে ক্যানুলা ফিট করা। মূহূর্তেই মস্তিষ্কে যেনো সহস্র কামানের গোলায় ফেটে যাওয়ার উপক্রমবোধ করলো অষ্টাদশী। এমিলিও দ্রুত ডক্টরকে সংবাদ দিতে বেরিয়ে যেতেই রোজ বেড থেকে ওঠার প্রয়াস ঘটালো। ঠিক তখনই ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখলো কেবিনে যমদূতের মতো দুজন দীর্ঘদেহী লোক প্রবেশ করছে।কারা এরা কে জানে! রোজ তাদের অবয়ব স্পষ্ট করার প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও পারলো না।ঘাড়ের পাশে সূক্ষ্ম এক ইনজেকশনের খোঁচা অনুভব করতেই রোজের নবজাগ্রত জগৎ আবারও গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো!কেউ কি তাকে অপহরণ করলো??
*
*
পিটার্সবার্গের সুরক্ষিত হসপিটাল থেকে রোজকে অপহরণ করে তুলে আনা হলো একটা অত্যাধুনিক প্রাইভেট জেটে নাম— ‘দ্য ভেনম স্কাই – ভিএস০৯’।
মাফিয়া মহলে এই জেটটি তার গতির জন্য বেশ কু*খ্যাতই বটে। জেটের ভেতরে কালো সানগ্লাস পরিহিতো ফরমাল পোশাকের বেশ কিছু সশস্ত্র গার্ড পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে।যেনো এরা কোনো মানুষের কাতারে পড়েই না।সবকটা কেমন রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
রাশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে জেটটি তখন বাল্টিক সাগরের নীল জলরাশি আর তুষারশুভ্র মেঘের ওপর দিয়ে ধাবমান।গন্তব্যস্থল অজানা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রোজের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কাটলো।মেয়েটা এখনো জানে না গত এক সপ্তাহ যাবৎ সে হসপিটালাইজ’ড ছিলো।এখনই বা কে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তাও অজানা!এ কেমন দূর্বিষহ জীবন তার??যখনি একটু শান্তি কাম্য করে তখনি অশান্তি এসে হানা দেয় দৌড়গড়ায়। জেটের বিলাসবহুল কেবিনে রোজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন সুন্দরী রুশ বিমানবালা!রমণীর পরনে নেভি ব্লু স্কার্ট আর সাদা শার্টের ওপর সিল্কের স্কার্ফ।মেয়েটার নাম সামান্তা।
সামান্তা মৃদু হেসে খাবারের একটা ট্রে রোজের সামনে এগিয়ে দিলো।
—ইটস আ স্পেশাল মেনু কিউরেটেড জাস্ট ফর ইয়্যু, ম্যাম! প্লিজ হ্যাভ ইট। উই হ্যাভ গ্রিলড স্যালমন উইথ অ্যাসপারাগাস অ্যান্ড ট্রাফল মাশরুম রিসোটো।আপনি চাইলে আদার ম্যানুও প্রোভাইড করতে পারি ম্যাম।
রোজ হুট করেই পাশ ফিরতেই দেখলো সে আকাশে ভাসছে! তীব্র রাগে আর আতঙ্কে খাবারের ট্রেটা সজোরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে ফুঁপিয়ে উঠলো। অক্ষীকোটর লালচে হয়ে উঠেছে।
—হু আর ইয়্যু? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়?”
রোজ টলমল পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে জেটের ভেতরটা খুঁটিয়ে দেখল।এই আভিজাত্য তার বড্ড চেনা চেনা লাগছে। বড় বড় চোখে সামান্তার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো রোজ।
—আপনারা! আপনি কি… এটা কি মিস্টার মাফিয়া মনস্টারের প্রাইভেট জেট? ওনি কোথায়? আমি… আমি তো লাইটহাউসে ছিলাম! ওনাকে ডাকুন!
রোজ অস্থির হয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম করতেই সামান্তা তার সামনে এসে দাঁড়ালো অত্যন্ত বিনম্র ভঙ্গিতে কুর্নিশ করলো রোজকে।
—ম্যাম! প্লিজ কাম ডাউন। আপাতত আপনাকে কিছু বলা আমাদের স্পর্ধার বাইরে।
—মিস্টার আলবার্ট কোথায়? এখন এইটা বলবেন না যে হি ইজ ডাইং! রাইট? এমন কিছু শোনার জন্য আমি প্রস্তুত নই!
সামান্তা রোজের কোনো কথার সঠিক উত্তর প্রদান করলো না।
—ঠিক আছে!বলবেন না তো ওকে ফাইন।আমি তো সেদিন এ্যাডশ এর সাথে ছিলাম।ওনার থেকে জবাব নিয়ে নিবো।জেট ল্যান্ড করুন। আই সে’ইড স্টপ দ্যা জেট।
—ম্যাম আমরা বাল্টিক সাগরের উপরের আছে।ল্যান্ড করা পসিবল না।
এমন সাগরের নাম রোজ ইহজন্মেও তো শুনে নি।ক্ষিপ্রতা ভয় সব মিলিয়ে রোজ চাপা নোনাধরা ত্যাগ করে বসলো।ভিজে উঠলো রমণীর গাল।ইউভান কোথায়??বক্ষঃস্থল যেনো মোমের মতো ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হয়ে উঠলো।রোজকে এরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এর হদিশও জানা নেই মেয়েটার।কি করবে??যদি এদের কোনো নোং*রা উদ্দেশ্য থাকে তখন কি করবে সে??ভীষণ ক্লান্ত সে আর পারবে না।পরক্ষণেই জেট এর মধ্যে ট্যাব স্ক্রিন চালু হয়ে আন্তর্জাতিক নিউজের হেডলাইন দেখানো হলো।রোজ আঁতকে উঠে সেদিকেই তাকাতেই রোজ জানতে পারলো সেদিনের পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে।আর সে এতোদিন যাবৎ অচৈতন্য অবস্থায় ছিলো।সর্বাঙ্গ যেনো রাতারাতি হিড়হিড় করে কম্পিত হতে লাগলো।সত্যিই পাগল হয়ে যাবে সে।হঠাৎ সামান্তার কন্ঠে ঘোর কাটলো রোজের।
—ম্যাম, ইয়্যু নিড টু রেস্ট। প্লিজ টেক ইয়্যুর মেডিসিন’স অ্যান্ড চেঞ্জ ইন’টু দিস।
সামান্তা রোজের সামনে একটা কুচকুচে কালো পোশাক বাড়িয়ে দিল চিরাচরিত ‘ফিউনারেল গাউন’। যা মূলত শোকসভায় পরিধান করা হয়। হসপিটালের ড্রেস পরা রোজ কালো পোশাকটি হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো কেন তাকে এই পোশাক পরতে বলা হচ্ছে? তবে কি…?হৃদপিণ্ডের কম্পন যেনো গলার কাছে এসে আটকে গেলো অষ্টাদশীর। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না মেয়েটা।অসাড় হয়ে জেটের একটা আলিশান সিটে ধপ করে বসে পড়লো।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~°→★————–
বিষণ্ণতায় মোড়ানো এক অদ্ভুত মায়াবী ক্যানভাস যেনো ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের গোধূলিলগ্ন।শেষ বেলাটার হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতির ধূসর রূপ ধারণ করে আছে। দিগন্তের কোণে সূর্যটা রক্তিম আভা ছড়িয়ে বিদায় নিচ্ছে, আর সেই ম্লান আলোয় ডেনমার্কের প্রাচীন গির্জার চূড়াগুলোতে চুইয়ে পড়ে আছে। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি লার্চ,পাইন গাছ। অরণ্যের এক প্রান্তে এসে নিঃশব্দে থামলো প্রাইভেট জেট— ‘দ্য ভেনম স্কাই – ভিএস০৯’।
জেটের সিঁড়ি বেয়েরোজ আলতো পায়ে নামলো। কুচকুচে কালো ‘ফিউনারেল গাউন’ টা পড়েছে।সামান্তা যত্ন করে রমণীর অবিন্যস্ত চুলগুলো খোঁপা করে দিয়ে কানের কাছে একটা ছোট্ট এভোকাডো পিন গুঁজে দিয়েছে।জেট থেকে নামতেই সামান্তা রোজের পাশে এসে দাঁড়ালো অত্যন্ত নিচু স্বরে বললো।
—ম্যাম, ওয়েলকাম টু দ্য ডেনমার্ক! উই হ্যাভ রিচ’ড কোপেনহেগেন।”
জীবনের দ্বিতীয়বারের মতো এই দেশে পা রাখলো রোজ। পালিয়ে তো গিয়েছিলো, কিন্তু ভাগ্য যেনো অমোঘ এক আকর্ষণে তাকে আবার সেই একই বৃত্তে টেনে আনলো।বক্ষঃস্থল টা কেনো জানি তীব্র ব্যথায় জ্বলে উঠছে রোজের। এই দহনের কারণ তার জানা নেই। কেন সে এখানে?বাকিরাও কি তবে এখানে???
রোজের পাঁ যেনো আর চলতে চাইছে না। শরীরের প্রতিটি অণু-পরমাণু যেনো অসাড় হয়ে আসছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োগ করা কড়া মেডিসিনের প্রভাবে অক্ষীদ্বয়ে ভীষণ ঘুম আর ঘোর নেমে আসছে। তবুও মেয়েটা টলমল পায়ে সামনে থাকা দু’জন কৃষ্ণকায় সশস্ত্র গার্ডকে অনুসরণ করে হাঁটতে শুরু করলো।পিচঢালা জনমানবহীন নিস্তব্ধ রাস্তার দু’পাশে সারি সারি ঝাউগাছগুলো প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই সেখানে। রোজের ঝাপসা হয়ে আসা নেত্রপল্লবের সামনের পথটা ক্রমেই ধূসর হয়ে উঠছে।
সামনেই একটা গোরস্থান। সারি সারি ক্রুশ আর পাথরের এপিটাফের চারপাশে লার্চগাছ। না গোরস্থান জনশূন্য নয়।আরও কিছু নর নারীদের পিছন দিক দেখা যাচ্ছে কালো পোশাকে।রোজ গোরস্থানের ভিতরে প্রবেশ করার আগে পাঁ থামিয়ে দিলো।
—কি এখানে??আমি কেনো গোরস্থানের ভিতরে যাবো??কেউ কি মরে গিয়েছে নাকি??হে হে কে মরেছে??
রোজের চিৎকারে রাহা ব্যতিত উপস্থিত সকলে ঘুরে তাকালো রোজের দিকে।রাহাকে ব্যতিত বাকি সকলকে সাথে তুষারকে দেখে গন্ডঃস্থলে শুষ্ক ঢুক গিলে নিলো রোজ।গোরস্থানে শুধু রাহা নেই।পরিচিত মুখগুলো দেখে রোজ গেইট পেরিয়ে গোধূলীলগ্নে প্রবেশ করলো বিশাল আকৃতির কোপেনহেগেনের গোরস্থানে।সকলের দৃষ্টি রোজের দিকে নিবন্ধিত, যেনো সবাই রোজের আসার অপেক্ষাতেই ছিলো।হাত ঘেমে গিয়েছে মেয়েটার তাই সামনে এগুতে এগুতে নেট এর গ্লোভস গুলো খোলে ছুঁড়ে ফেললো ভেজা মাটিতে।রোজ টলটলয়মান পায়ে এসে হায়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “এখানে কি হচ্ছে হায়া আপি?আমাকে বলবে প্লিজইই??। হায়া কোনো প্রতিউত্তর করলো না। রোজ দামিয়ানের দিকে তাকাতেই , দামিয়ান তৎক্ষণাৎ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।হঠাৎ কোনো এক পুরুষের বজ্রকঠিন কন্ঠস্বরে ব্যথিত হলো রোজ।তুষার একটা লার্চগাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
—ইয়্যুর উইশ কেম ট্রু রোজ! তোমার তো মুক্তি দরকার ছিলো, সো তুমি মুক্তি পেয়ে গিয়েছো ফর লাইফ টাইম। চোখের সামনেই তো আছে দেখে নাও! হ্যায়ার ইজ দ্য মনস্টার!
তুষারের ইঙ্গিত অনুসরণ করে রোজ যখন সামনে তাকালো।সঙ্গে সঙ্গে দুকদম ছিটকে উঠলো রমণী।জ্বল জ্বল করা উজ্বল বাদামী নয়নে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ধূসর রঙের একটা মার্বেল পাথরের এপিটাফ পাথরে খোদাই করে লেখা।
~Yuvan Rick Albert~
| 1995-2025|
রোজ অক্ষরগুলো পড়তে পারলো না।সবগুলো অক্ষর ত্রিমাত্রিক দেখাচ্ছে তার নেত্রপল্লবে।রোজ পরপর সব্বার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো।তিড়তিড় করা কাঁপন ধরা তর্জুনি দিয়ে ইশারা করলো ইউভানের এফিটাফের দিকে।—কি এসব??এসব কেমন তামাশা??
তুষার বলল—আমি বাঁচাতে পারি নি রিক কে।তবে নিজেকে ব্যর্থ মনে হচ্ছে না।বিক’উজ ইট’স টোটালি ইউর ফল্ট।তোমার মনে হয় না তোমার জন্যেই আমরা আমাদের রিক কে হারিয়ে ফেলেছি???
তুষারের দ্বিধাহীন প্রতিউত্ত্যুরে প্রস্ফুটিত হলো রমণীর আবেগের জোয়ার।কিসের জন্যে ব্যথিত হবে রোজ আজ??দোষারোপে ভারে নাকি স্বামীনামক এক পাষন্ড পুরুষের শোকে??নিমিষেই ব্যকুলতায় আড়ষ্ট হলো রমণী।শীৎকারের জোড়ে মৃদু গোঙাতেই সমুদ্রধারা বাঁধ মানলো না।টলটল হয়ে পড়তে লাগলো ভেজা মাটিতে।
—মি..মিথ্যা কথা!আমি কি করেছি??এই লোকটা দিনের পর দিন আমার সাথে অন্যায় করে গিয়েছে।সব মেনে নিয়েছিলাম আমি।কি..কিন্তু এতো বড় অন্যায় মানতে পারবো না,নেভার!
রোজ মাথা নাড়িয়ে এবার সত্যিই ইউভানের এপিটাকের কাছে হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়লো। উপস্থিত প্রত্যেককে উদ্দেশ্য করে বললো।শয্যাশায়ী ইউভানের উপর চেঁচালো আসাড় হওয়া কন্ঠে।
—এতো কষ্ট দেয়ার পর শান্তি হলো না আপনার??আমি তো এমনটা চাই নি!আমি চেয়েছিলাম আপনার পাথুরে পাষাণ হৃদয়টাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে।আমাকে ভালো না বেসে আপনি চ…চলে যেতে পারে না! আমি আপনার মুখে শুনতে চাই আপনি ভালোবাসেন আমাকে!বলুন।এখন বলুন!আপনার সব পাপ মেনে আমি থাকতে চেয়েছিলাম।আমি কি চেয়েছিলাম??একটা সংসার!আমাকে শুধু কষ্ট দিয়ে ভালো না বেসে আপনি মুখ লোকাতে পারে না।
রোজ হায়ার দিকে ক্রন্দনরত অবস্থায় হাসলো।
—আমার অভিশাপ কি আমার উপর এসে পড়লো আপি??বলো??আমি কি সত্যিই বিধবা হয়ে গেলাম??
এতোক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলেও হায়া কেন যে এই মেয়েটার বাক্যউক্তিগুলো শুনে অশ্রু আটকিয়ে রাখতে পারলো।অঁধর উল্টিয়ে স্থান ত্যাগ করলো।এসব সহ্য করার মতো পাষাণ সে নয়।
—যাস্ট স্টপ ই্যট!
পরপর পুরো গোরস্থান খালি হতে লাগলো।তুষার, হায়া, দামিয়ানও চলে গেলো।রমণী খেয়ালি করলো না গোরস্থান জনশূন্য হয়ে গিয়েছে।এদিকে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।রোজ যদি একটিবার আশপাশে তাকালো তাহলে ভয় পেয়ে যেতো।শুন শান পরিবেশ। চারপাশে বাদুড় উড়ে চলেছে।কিন্তু রোজ মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে চুপ করে রইলো খানিক।গন্ডঃস্থল শুঁকিয়ে সেই কখন কাঠ হয়ে গিয়েছে।পানি খাওয়া প্রয়োজন সেই খেয়ালও নেই মেয়েটার।হাঁটু অব্দি বাদামী কেশরাশি খোলে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। ধড়ফড়িয়ে উঠলো রমণীর আত্মা! কালো পোশাক পড়েছে কেনো সে??এখন কি তাকে সাদা শাড়ি পড়তে হবে??পাষন্ড লোকটা কি চিরতরে বিদায় নিয়েছে??না!না!কাঁপা কাঁপা হাতে হাতের তালু ছোঁয়ালো নামফলকে।মরিয়া হয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলো রোজ।শ্বাসনালী ভারী হয়ে এসেছে।
—জোর করে কবুল বলিয়েছেন!জোর করে বিয়ে করেছেন।মিথ্যার উপরে মিথ্যা! আপনার সকল মিথ্যাচার মেনে নিলাম!কবুল করে নিলাম।
শরীরের ভারসাম্য আর ধরে রাখতে পারলো না রোজ।
—এতো সহজে আপনি মরতে পারে না!আপনার মৃত্যু আপনার শাস্তি হতে পারেনা!এমন মুক্তি আমি চাই না!আপনার অহংকার গাম্ভীর্যতা আমি মাটিতে মিশাতে পারি নি!ভালোবাসি কথাটা শুনতে পারি নি।তাহলে??আপনার মুখে ভালোবাসি কথাটা শোনার তিব্র তৃষ্ণা আমার!বুঝতে পেরেছেন।কবুল করে নিয়েছি তো আপনাকে।আমি সংসার করতে চাই আপনার সাথে প্লিইজজজ!
আঁধারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে চারপাশ। ঠিক তখনই কোপেনহেগেনের গোরস্থানে আবহাওয়ায় পাইন আর লার্চ গাছগুলোর আড়াল থেকে ঘন কুয়াশা “Foggy Weather” পাকিয়ে নেমে আসতে লাগলো চারধারে।ঝাউগাছের ডালপালাগুলো বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে কোনো পৈশাচিক সুর তুলছে।নিস্তব্ধতা মাঝে রোজের কর্ণকুহরে ভেসে এলো এক অতি পরিচিত, গম্ভীর অথচ হাস্কি এক পুরুষালী কণ্ঠস্বর। সেই কন্ঠে থাকা পৈশাচিক তৃপ্তি আর শীতলতা রোজের হৃৎপিণ্ডকে মুহূর্তে খনন করে দিলো ।শূন্য অভিব্যক্তিগুলো হানা দিলো অন্তরজুড়ে। কুয়াশার আড়াল থেকে কেউ একজন উঁকি দিলো।
—উউ হু! হোয়ার ইজ মাই ওয়াইফ? হার বিগ ব্যাড মনস্টার ইজ হেয়ার!
বক্ষঃস্থল কম্পিত হলো রমণীর।খাঁ খাঁ করে উঠলো হৃদযন্ত্র। লালচে হওয়া নেত্রপল্লব মেলে তাকালো।ঝাপসা চোখে তাকাতেই গোরস্থানের ফগি ওয়েদার দেখে ভয়ে কুঁকড়ে উঠলো রোজ।সে এই মাত্র কিছু একটা শুনেছে।অন্ধকারের কুয়াশার মধ্যেস্থলে কারোর ছায়া দেখতে পেলো রোজ।একটা পুরুষালী অবয়ব ক্রমশ ভারী পদাঘাতে তার দিকেই এগিয়ে আসছে।হুড ক্যাপ পড়া।শুষ্ক কেঁশে উঠলো রোজ।শুঁকনো ঢুক গিলে নেত্রপল্লব সরিয়ে নিলো।ইউভানের নামফলকে তাকিয়ে অশ্রুসিক্ত হলো রোজ।মনে হচ্ছে কেউ একজন মাথার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।কে??রোজ তাকানোর সাহস করলো না।জমিনে দৃষ্টি রাখতেই দেখলো ছায়াটা তার দিকে ঝুঁকে আসছে।স্পর্শ অনুভব করার আগে রোজ আত্মশীৎকার দিয়ে উঠলো।
—ই…ইউভান!
পুরুষালী হাতটা প্রমত্ত হয়ে আঁকড়ে ধরলো রমণীর চোয়াল।চিবুক উঁচিয়ে ধরলো।হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে অশ্রুধারা মুছে কর্ণধারে মুখ নিয়ে উষ্ণতা মিশিয়ে ওষ্ঠাধর ছোঁয়ালো।
—অ্যাই’ম ইউ্যর ইউভান সি’মি সুইটহার্ট!
পুরুষালী অবয়বটা হুড ক্যাপ সরাতেই রোজ ছিটকে জমিনে বসেই পিছাতে লাগলো।রোজ যত পিছালো ছায়ামানব ততোএগুতে লাগলো।রোজ কি মরে গিয়েছে??নাকি ভ্রুমে সে ইউভানকে দেখছে।এবার সত্যিই ভীষণ ভয় হানা দিলো অষ্টাদশীর কলিজায়।ধূসর মণিজোড়া তার দিকে নেশাতুর দৃষ্টি নিবন্ধিত করেই রেখেছে।এগিয়ে এসেই খপ করে ধরে ফেললো রমণীর হাত।বুঝতে পেরে রোজ ব্যকুলতায় ডুবে গিয়ে গলা আঁকড়ে ধরলো ইউভানের।এদিকে রমণীর আদুরে ছোঁয়ায় দিশেহারা হয়ে পরলো ইউভান।মাত্রাতিক্ত উন্মাদ*নার জোয়ারে ডোবে গেলো রমণীর ঘাড়ে ভাঁজে। মৃদু গোঙিয়ে উঠলো রমণী।কানে এসে হানা দিলো মাফিয়া মন্সটারের হাস্কি কন্ঠস্বর!
—এতো কাছে এসো না রোজমেরি!পাগল হওয়ার লাস্ট স্টেজে আছি।আমার ছোঁয়া কিন্তু ভীষণ ধারালো!
রমণীর আদুরে চেহারাখানা নীলচে হয়ে উঠেছে।অথচ সেসবে কোনো খেয়াল নেই পুরুষটার।উল্টো ওষ্ঠাধর গভীরে নিয়ে উদ্বিগ্নতায় ভেসে বললো।
—কি কবুল করেছো সুইটহার্ট?? আরেকবার বলো??আমার ডার্ক আমায় কবুল করেছে?ইউ্য নো আ’ম ফা*কিং ড্যাম হ্যাপি!আরেকবার বলবে রোজ??
বক্ষঃস্থল তিব্র ব্যথিতে উঠানামা করতেই আচানক বাস্তবতায় ফিরে এলো রোজ।সত্যিই অনুভব করতে পারছে সে ইউভানকে।বুঝতে পেরে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো মাফিয়া মনস্টারকে।উতলা মন্সটার রোজের স্পর্ধায় ক্ষিপ্ত হলো।শক্ত হয়ে এলো চোয়াল।টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো রমণীর চোখ বেয়ে।সবটা বুঝতে পেরে ক্রন্দনরত অবস্থায় ফুঁসতে লাগলো।
—ছিহ্ঃ!কি মজা পান আমাকে কষ্ট দিয়ে বলুন??কাছে আসার চেষ্টাও করবেন না।এতো জঘন্য আপনি।
রোজ পিছিয়ে গেলো।পাগলের মতো ফুঁপিয়ে বক্ষঃস্থল চেপে ধরে কেঁদে উঠলো।ইউভান ধরে সন্নিকটে টেনে আনলো রমণীকে।রমণীর অশ্রু ভীষণ পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছে মানবের কাছে আজকাল।সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
—লিস্টেন্ট রোজ!আমি সত্যিই মরে যেতাম!আই টেল ইউ্য এভরিথিং সুইটহার্ট! রাগ করো না!রিলেক্স!
মাফিয়া বস্ তর্জুনি ছোঁয়ালো রমণীর কাঁপতে থাকা গোলাপের ন্যায় তুলতুলে অঁধরে।
—আমার মৃত্যু কামণা করা নারীর যে স্বয়ং আমার মৃত্যু সহ্য করতে পারবে না তা জানা ছিলো না ড্যাম গড!তাই একটু…
রোজ আর এক মূহুর্তও থাকতে চাইলো না এখানে।ইউভানকে ফেলে হনহনিয়ে ছুঁটে চলে যেতে লাগলো।হিতে বিপরীত অবস্থা দেখে ইউভান অক্ষীদ্বয় বন্ধ করে কপাল স্লাইড করলো।পরক্ষণেই বাঁকা হেঁসে রোজকে পিছন ডেকে বলতে লাগলো–তুমি কি চাও আমি এবার সত্যিই মরে যাই??
রোজ পাঁ থামিয়ে পিছনে তাকাতেই চমৎকার হেসে চোখ টিপলো ইউভান।রোজ নাক ছিটকাতেই ইউভান পকেটে হাত রেখে হেঁটে আসতে লাগলো।অধর কোণে বাঁকা হাসি টেনে বললো।
—-you are my Rainbow without rain understand??
রোজ দাঁত কিড়মিড় করে চিল্লিয়ে উঠলো।নির্বিকারে জবাব দিলো।
—-আর আপনি একটা “January “without Y !
তিক্ততার চরমসীমায় পৌঁছিয়েছে রমণী।আশপাশ না তাকিয়ে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে লাগলো।তিব্র ক্ষোভ আর যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে হাঁটতে লাগলো।ইউভান হাঁটছে পিছু পিছু।দু’মিনিট রাস্তা হাঁটার পর উদোয় হলো।সতেরো’শ শতকে নির্মিত আলবার্ট ম্যানশন।রাস্তা না চিনেও সোজা পথ ধরে এগিয়ে আসায় অরন্যের শেষে থাকা ম্যানশনে এসে পৌঁছালো রোজ।অনুভব করতে পারছে।ইউভান তার পিছু পিছু এসেছে।রোজ বিশাল গেটের সামনে পাঁ রাখতেই ইউভানের ইশারায় দু’জন প্রহরী কুর্নিশ করলো রোজকে।তবে রমণীর সেদিকে কোনো ধ্যানজ্ঞান পড়লো না।চুলগুলো খোঁপা করে নিলো। হনহনিয়ে ভিতরে স’দর দরজায় পাঁ রাখতেই পিছন ফিরে তাকালো ইউভানের দিকে।ইউভানের পথ আটকিয়ে দাঁড়ালো।কড়া গলায় চিৎকার দিলো।
—-ভেতরে প্রবেশ করবেন না।চলে যান।এটা আপনার বাড়ি না!এটা আমার দাদাশশুরের পূর্বপুরুষদের বানানো ভিটে।আপনি যান আপনার বাড়িতে।
সদর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন গার্ডদের উদ্দেশ্য রোজ সাফ সাফ জানিয়ে দিলো তার অনুমতি ব্যতিতো জেনো মাফিয়া মনস্টারকে ভিতরে প্রবেশ করতে না দেয়া হয় বলেই রোজ পুরো বিশালাকৃতির দরজা ইউভানের মুখের সামনেই ঠাস্ করে লাগিয়ে দিলো।ইউভান পিয়ার্সিং করা ভ্রু উঁচিয়ে মুখ গোল করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।তার দাদা রোজের দাদাশ্বশুর হয়ে গেলো??দাদা শশুরের দাপট দেখালো নাকি মাফিয়া বসের সাথে??,সিরিয়াসলি??
—বেত্তমিস ওয়াইফ!উইল ইউ্য মেরি মি বলার আগেই গেট লস্ট করে দিলো??ফা*কিং ডার্ক রোজ! তোকে তো আমিইইই…..
just wait & watch sweetheart!
#চলবে??
ছোট হয়েছে জানি! কাল বা পরশু আরেকটা পার্ট আসবে ছোট্ট করে কেমন??রেসপন্স করিও।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ১৯
-
Love or Hate পর্ব ৩৯
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or Hate পর্ব ৪২
-
Love or hate পর্ব ১৭
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or Hate পর্ব ৩৬