অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ২২
🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫
শুভ্র খুব ধীরে ধীরে নিস্তেজ মাথাটা তুলে রিদির দিকে তাকাল। রিদিকে দেখামাত্রই তার চোখের চাউনি শক্ত হয়ে এল। যন্ত্রণায় নীল হয়ে থাকা ঠোঁট দুটো কচলিয়ে সে খুব রুক্ষ গলায় বলল।
“চলে যা এখান থেকে! আমার এখন কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।”
রিদি কোনো পাল্টা জবাব দিল না। সে ভালো করেই জানে, এই লোকটা আসলেই অনেক ঘাড়ত্যাড়া, তাই এখন তর্ক করে লাভ নেই। সে নিঃশব্দে শুভ্রর সামনে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসল। প্লেট থেকে ভাত মাখিয়ে পরম মমতায় এক গ্রাস শুভ্রর মুখের সামনে ধরল। শুভ্র পাথরের মতো কয়েক সেকেন্ড রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। রিদি শান্ত স্বরে বলল।
“নিন, হা করুন।”
শুভ্রর ভেতরের রাগটা যেন রিদির ওই শান্ত চোখের সামনে মুহূর্তেই জল হয়ে গেল। সে আর দ্বিমত করল না, বাধ্য ছেলের মতো হা করল। রিদি খুব যত্ন করে শুভ্রকে খাইয়ে দিতে লাগল। শুভ্র চুপচাপ খাচ্ছে, আর প্রতিটা গ্রাস মুখে নেওয়ার সময় রিদি বুঝতে পারল মানুষটা কতটা ক্ষুধার্ত ছিল। পেটে যে প্রচণ্ড খিদে ছিল, সেটা তার খাওয়ার ধরন দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। রিদির বুক ফেটে কান্না এল, চোখের জল গড়িয়ে ভাতের প্লেটে পড়ার আগেই সে সামলে নিল।
কয়েক লোকমা দেওয়ার পর শুভ্র হঠাৎ চিবানো থামিয়ে জিজ্ঞেস করল।
“তুই খেয়েছিস?”
রিদি নিজেকে সামলে নিয়ে চটজলদি বলল।
“হুম, আমি খেয়েছি। আপনি খান তো এখন!”
শুভ্র এক মুহূর্ত রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলল।
“একটা থাপ্পড় দেবো! আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলিস? এখন আমি আর এক লোকমাও খাবো না, যতক্ষণ তুই আমার সামনে খাবি।”
রিদি কিছু একটা সাফাই দিতে চাইল, কিন্তু শুভ্র তাকে থামিয়ে দিয়ে কঠিন স্বরে বলল।
“আমি কোনো বাহানা শুনতে চাই না। চুপচাপ খা!”
রিদি বুঝতে পারল শুভ্রর জেদের কাছে সে নস্যি। সে ধরা গলায় বলল।
“ওকে, আমিও খাচ্ছি, কিন্তু আপনাকেও খেতে হবে।”
এই বলে রিদি একই প্লেট থেকে নিজেও খেতে থাকল আর শুভ্রকেও খাইয়ে দিতে থাকল। রিদি মনে মনে অবাক হলো সে যে খায়নি, শুভ্র সেটা বুঝল কী করে? মানুষটা কি তবে তার মনের ভাষা, চোখের ভাষা সব পড়তে পারে? এক প্লেটে দুজনের এই নিভৃত আহার যেন চারপাশের নৃশংসতাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য আড়াল করে দিল।
খাওয়া শেষ করে রিদি খুব যত্ন করে নিজের ওড়নার আঁচল দিয়ে শুভ্রর ঠোঁটে লেগে থাকা উচ্ছিষ্ট মুছে দিল। তারপর সেই গার্ডের দেওয়া ব্যথানাশক আর জ্বরের ওষুধগুলো খাইয়ে দিল। সব শেষে রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল।
“আচ্ছা শুভ্র ভাই, আপনি কেন নেহাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না? নেহা আপু দেখতে তো অনেক সুন্দর, আর স্মার্টও তো অনেক!”
শুভ্রর গলার স্বরে এক অদ্ভুত শীতলতা ভর করল। সে শুকনো গলায় কাঠখোট্টাভাবে বলল।
“সেই কৈফিয়ত তোকে কেন দিবো? অনেক হয়েছে, এখন যা এখান থেকে।”
রিদি আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারল না। তার বুক ফেটে কান্না এল, ধরা গলায় ডুকরে উঠে সে বলল।
“আমি কোনো কৈফিয়ত শুনতে আসিনি শুভ্র ভাই। কিন্তু আপনার এই কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না! আপনাকে এভাবে মার খেতে দেখে আমি ভিতর থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছি। বিশ্বাস করুন, আমি আর পারছি না..।”
শুভ্র কোনো উত্তর দিল না। সে পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে রইল, যেন রিদির কান্নার শব্দ তার কানে পৌঁছাচ্ছে না। রিদি মরিয়া হয়ে আবার বলল।
“বিয়ে করে নিন না নেহা আপুকে?।”
শুভ্র তবুও নির্বাক। তার এই নিথর নীরবতা রিদিকে আরও বেশি অস্থির করে তুলল। রিদি আবারও শুভ্রর কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বলল।
“কথা বলছেন না কেন? একবার তো বলুন! বলেন যে নেহাকে আপনি বিয়ে করবেন?।”
রিদির এই বারবার জোরাজুরিতে শুভ্র এবার তার দিকে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টিতে তখন গভীর এক হাহাকার আর অব্যক্ত অভিমান। সে সরাসরি রিদির চোখে চোখ রেখে খুব ধীর অথচ গম্ভীর স্বরে বলল।
“আমি যদি নেহাকে বিয়ে করি, তবে তুই কি খুশি?সহ্য করতে পারবি?।”
শুভ্রর এই প্রশ্নে রিদি যেন পাথরের মতো জমে গেল। তার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল। বুকের ভেতরটা যেন বিষাক্ত কোনো ক্ষততে ভরে গেল। শুভ্রকে অন্য কোনো নারীর পাশে দেখার কল্পনা করাও তার কাছে দম আটকে মরার মতো যন্ত্রণাদায়ক। প্রতিটা নিশ্বাস নিতে তার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে শুভ্রর এই রক্তাক্ত চেহারা, ওই ফোলা কালশিটে দাগগুলো সে আর নিতে পারছে না। তাকে পারতে হবে, শুধু শুভ্রর জীবনের জন্য হলেও তাকে এই মিথ্যেটা বলতে হবে।
রিদি নিজের নখ দিয়ে হাতের তালু কামড়ে ধরল। তারপর মহা যুদ্ধ করে কাঁপা কাঁপা গলায় কোনোমতে বলল।
“হ্যাঁ… সহ্য করতে পারবো।”
এই একটা শব্দ বলতে গিয়ে রিদির মনে হলো তার আত্মাটা শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। শুভ্র এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রিদির চোখের ভেতরে পড়ার চেষ্টা করে আবার প্রশ্ন করল।
“সত্যিই সহ্য করতে পারবি? আমাকে অন্য কারও পাশে দেখতে তোর কষ্ট হবে না তো?”
রিদির কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল। শুভ্র কেন তাকে বারবার এই মরণ প্রশ্নে বিদ্ধ করছে? সে দাঁতে দাঁত চেপে কান্না আটকে কোনোমতে গলার স্বর স্বাভাবিক করে বলল।
“পা… পারবো, ক-কষ্ট হবে না।”
শুভ্রর চোখে মুখে এক অদ্ভুত কাঠিন্য ফুটে উঠল। সে আবার জিজ্ঞেস করল।
“কাঁদবি না তো? যখন দেখবি আমি অন্য কাউকে বউ করার জন্য কবুল বলছি বা অন্য কারোর হাত ধরছি, তখন কাঁদবি না তো?”
রিদি এবার চোখের জল আর আটকে রাখতে পারল না, কিন্তু মুখে অস্ফুট স্বরে বলল
“না।”
রিদির এই ‘না’ বলা শেষ হতে না হতেই শুভ্র একদম একগুঁয়ের মতো জেদ ধরে বলে উঠল
“তাহলে তো আমি আরও বিয়ে করবো না!”
রিদি অবাক হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে শুভ্রর দিকে তাকাল। তার সারা শরীর কাঁপছে। সে অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল।
“কেন? বিয়ে করবেন না কেন?”
শুভ্রর মুখটা অভিমানে আর যন্ত্রণায় কালো হয়ে গেল। সে অবজ্ঞাভরে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। তারপর খুব ক্লান্ত আর নিস্পৃহ গলায় বলল।
“রিদি, আমার এখন একদম কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। তুই এখন যা এখান থেকে।”
রিদির বুক ফেটে কান্না এল। শুভ্রর এই নির্লিপ্ততা আর নিজের অসহায়ত্ব মিলিয়ে সে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। ডুকরে কেঁদে উঠে সে বলল।
“আপনার কষ্ট আমার একদম সহ্য হচ্ছে না শুভ্র ভাই! আমি আর পারছি না… আপনাকে এইভাবে শেষ হতে দেখার চেয়ে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে, সত্যিই মরে যেতে ইচ্ছে করছে!”
‘মরে যেতে ইচ্ছে করছে’ এই কথাটা শোনার সাথে সাথে শুভ্রর ভেতরে যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে এক ঝটকায় মাথা তুলে গর্জে উঠল।
“হাত দুটো খোলা থাকলে গুনে গুনে ১০টা থাপ্পড় পড়ত তোর গালে! সাহস কী করে হয় তোর এমন অলক্ষুণে কথা বলার? নেক্সট টাইম যদি আর একবার এই মরার কথা মুখে আনিস, তবে তোর জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলব আমি!”
শুভ্রর এই শাসানি রিদির মনে এক অদ্ভুত আশার আলো জ্বালিয়ে দিল। সে চোখের পানি মুছতে মুছতে ভেজা গলায় জিজ্ঞেস করল।
“আমি মরলে আপনার কী? আপনার তাতে কী আসে যায়?”
শুভ্র সাথে সাথে কোনো উত্তর দিল না। সে আবার মাথা নিচু করে ফেলল, যেন নিজের ভেতরের আগ্নেয়গিরিটাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। রিদি এবার সরাসরি হানা দিল শুভ্রর মনের গহীনে। সে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“ভালোবাসেন আমাকে?”
শুভ্র এক মুহূর্তও দেরি করল না। পাথরের মতো শক্ত গলায় জবাব দিল।
“না।”
রিদি যেন তৈরিই ছিল এই উত্তরের জন্য। সে আবার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল।
“তাহলে আমি মরলে আপনার কী যায় আসে? কেন এত রাগ দেখাচ্ছেন?”
শুভ্রর কাছে এই প্রশ্নের যেন কোনো যুক্তি নেই। সে অবশ গলায় শুধু বলল।
“জানি না।”
রিদি নিজের চোখের পানি মুছে নিয়ে খুব শান্ত কিন্তু যন্ত্রণাসিক্ত গলায় বলল।
“কাল আমার বিয়ে, শুভ্র ভাই। কাল আমি অন্য কারো হয়ে যাব।”
শুভ্রর চেহারায় কোনো পরিবর্তন হলো না। সে নিস্পৃহভাবে বলল।
“তো?”
রিদি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। মানুষটা কি আসলেই এত পাষাণ? সে ভাঙা গলায় আবার জিজ্ঞেস করল।
“আপনি কি খুশি? আমি অন্য কারো বউ হয়ে যাচ্ছি, তাতে আপনি খুশি তো?”
শুভ্র এবারও সেই একই উত্তর দিল।
“তাও জানি না।”
রিদি এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে খুব কাছে গিয়ে শুভ্রর রক্তাক্ত হাতের ওপর নিজের হাতটা রাখল। এক বুক হাহাকার আর ব্যাকুলতা নিয়ে খুব করুণ সুরে বলল।
“আমার একটা কথা রাখবেন?”
শুভ্র রিদির ওই স্পর্শে ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠলেও বাইরে স্থির রইল। সে খুব নিচু স্বরে জানতে চাইল।
“কী?”
রিদি এবার এক বুক আশা আর আকুতি নিয়ে শুভ্রর খুব কাছে এল। তার চোখ ফেটে জল আসছে, কিন্তু কন্ঠে শেষবারের মতো নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার জেদ। সে একদম শুভ্রর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“শুরু থেকে না আপনার মুখে ওই ‘ভালোবাসি’ শব্দটা শোনার খুব ইচ্ছে ছিল আমার। অনেক সপ্ন বুনেছিলাম ওই একটা কথা শোনার জন্য। আজ… আজ কি শেষবারের মতো একটু বলবেন ভালোবাসি?”
রিদির একের পর এক এমন কলিজা কাঁপানো কথায় শুভ্রর ভেতরের শক্ত বাঁধটা যেন ধসে পড়তে চাইছে। তার পাথর শরীরটার ভেতরে তখন হাহাকার চলছে। সে বুঝতে পারছে, রিদি যদি আর কিছুক্ষণ এখানে এভাবে থাকে, তবে সে আর নিজেকে সামলাতে পারবে না সবটুকু আগলে রাখা কঠোরতা এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে যাবে। শুভ্র অনেক কষ্টে চোয়াল শক্ত করে দাতে দাঁত চেপে রইল। একটা শব্দও তার মুখ দিয়ে বের হলো না।
শুভ্রর এই নিথর নীরবতা দেখে রিদির বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুনরায় বলল।
“চুপ করে আছেন কেন? একটা মানুষের জীবনের শেষ ইচ্ছেটা কি পূরণ করে দেবেন না? প্রমিস করছি শুভ্র ভাই, আর কখনো আপনার সামনে এসে এই আবদার করবো না। শুধু একবার বলুন… একবার!”
শুভ্র তবুও নির্বাক। সে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে, যেন রিদির ওই করুণ মুখটা তাকে দেখতে না হয়। শুভ্রর এই পাথরের মতো নীরবতা রিদিকে ভেতর থেকে একদম পিষে ফেলল। লোকটার মনে কি একবিন্দু মায়া নেই? এত আকুতির পরেও কি একটা বার ‘ভালোবাসি’ বললে আকাশ ভেঙে পড়ত?
রিদি আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে পারল না। তার দম আটকে আসছে, এখানে থাকলে সে এখনই চিৎকার করে কেঁদে ফেলবে। সে অনেক কষ্টে নিজের কান্না চেপে ঝট করে উঠে দাঁড়াল। শুভ্রর দিকে শেষবারের মতো অভিমান নিয়ে তাকিয়ে বলল।
“ঠিক আছে… আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো আসবো না এই বেহায়া মুখ নিয়ে আপনার সামনে। ভালো থাকবেন আপনি আপনার এই পাথর মন নিয়ে!”
বলেই রিদি আর পেছন ফিরে তাকাল না। সে পাগলের মতো দৌড়ে দরজার কাছে আসতেই আচমকা এক পুরুষালি, মায়াবী কণ্ঠের সুর তার কানে আছড়ে পড়ল।
“~বোঝাবো কি করে তোকে কত আমি চাই~
~তোর কথা মনে এলে নিজেকে হারাই~”
রিদি যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থমকে দাঁড়াল। পুরো শরীর তার কেঁপে উঠল। সে অবিশ্বাস্য চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। দেখল শুভ্র ঠিক আগের মতোই মাথায় চেয়ারটা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে গান গাইছে। কাল তার বিয়ে, কাল সে চিরতরে অন্য কারো হয়ে যাবে আর এই লোকটা তাকে বিদায় দেওয়ার মুহূর্তে গান গাইছে?রিদির বুকটা মুহূর্তেই হাজারো অভিমানে আর যন্ত্রণায় বিষিয়ে উঠল। এই গান যেন তার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে লবণের ছিটে হয়ে লাগল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে দরজা দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
সকাল ৯টা। শুভ্রা আনমনে কলেজের পথে হাঁটছে, কিন্তু তার শরীরটা কেবল রাস্তায়, মন পড়ে আছে অন্য কোথাও। চারপাশের ব্যস্ততা, গাড়ির হর্ন কিছুই যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছে না। এমন সময় একটা কালো রঙের প্রাইভেট কার তীব্র গতিতে শুভ্রার একদম গা ঘেঁষে চলে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কারোর একটা শক্ত হাতের টানে সে ছিটকে রাস্তার পাশে এসে পড়ল। অল্পের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল শুভ্রা।বুকটা ধক করে উঠল তার। চমকে তাকিয়ে দেখল সামনে ঈশান দাঁড়িয়ে আছে। ঈশানের চোখেমুখে তখন আগ্নেয়গিরির মতো রাগ। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল।
“কানা নাকি তুমি? চোখে দেখতে পাও না? আর এক সেকেন্ড দেরি হলে কী হতো সেটা একবারও ভেবে দেখেছো?”
শুভ্রা কোনো পাল্টা জবাব দিল না, শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তার ভেতরটা এতটাই বিষিয়ে আছে যে ঝগড়া করার মতো শক্তিটুকুও নেই। শুভ্রার এমন বিমর্ষ চেহারা দেখে ঈশানের রাগী মুখটা মুহূর্তেই নরম হয়ে এল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে নরম গলায় জিজ্ঞেস করল।
“কী হয়েছে শুভ্রা? তোমার কি খুব মন খারাপ?”
শুভ্রা মাথা না তুলেই খুব ধরা গলায় বলল।
“ভাইয়া আগে যখনই কোনো ডিলে যেত, দিনে অন্তত একবার হলেও আমাকে ফোন দিত। কিন্তু এইবার… এইবার একবারও ফোন দিল না। আমি বারবার চেষ্টা করছি, কিন্তু ফোনটা বন্ধ বলছে। দুদিন ধরে ভাইয়ার সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।”
ঈশান বুঝতে পারল শুভ্রার বুকের ভেতর কেমন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শান্ত স্বরে বলল।
“আরে, এটা নিয়ে এত চিন্তা করো না। বস ডিলটা শেষ করেই চলে আসবে। আসলে বস এবার চাইছে কিছুটা সময় একা থাকতে, তাই কারো সাথেই যোগাযোগ করছে না। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
শুভ্রা এবার ঈশানের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল।
“চিন্তা না করে থাকি কীভাবে ? একদিকে ভাইয়ার কোনো খবর নেই, অন্যদিকে রিদিরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে কেউ জানে না। যে যেখানেই রাখুক না কেন, আল্লাহ যেন ওকে অন্তত সহি-সালামতে ভালো রাখে।”
ঈশান আর কথা বাড়াল না। শুভ্রার দুশ্চিন্তা মাখা মুখটা দেখে তার নিজেরও খারাপ লাগছে, কিন্তু সত্যিটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সে নিজের বাইকটা এগিয়ে এনে আলতো স্বরে বলল।
“ওঠো, তোমাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে আসি।”
শুভ্রাও আর দ্বিমত করল না। যান্ত্রিকভাবে বাইকের পেছনে গিয়ে বসল সে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঈশান শুভ্রার কলেজের গেটের সামনে বাইক থামাল। বাইক থেকে নামার পর শুভ্রার দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে ঈশান বলল।
“শুনো, একদম চিন্তা করো না। বস ঠিক আছে, আমি ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলে কনফার্ম হয়েছি। তাই প্লিজ, রাস্তায় এভাবে আনমনে হাঁটো না যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে। আর সময় হলে রিদিও ঠিক ফিরে আসবে। এখন যাও, মন দিয়ে ক্লাস করো।”
বলেই ঈশান বাইক স্টার্ট দিয়ে হুশ করে রাস্তা দিয়ে চলে গেল। কিন্তু কিছুটা পথ যেতেই ঈশানের পকেটে থাকা ফোনটা সজোরে বেজে উঠল। ঈশান বাইক থামিয়ে তড়িঘড়ি করে ফোনটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে কিছু একটা শোনার সাথে সাথেই ঈশানের চোখেমুখে এক পৈশাচিক আনন্দ আর বিজয়ী হাসি ফুটে উঠল। ফোনটা পকেটে রেখে সে বিড়বিড় করে নিজের মনেই বলল।
“বস! আপনি সত্যিই অসাধারণ! মানতেই হবে, আপনার মাথায় বুদ্ধি আছে অনেক।”
বলেই সে পূর্ণ গতিতে বাইক চালিয়ে নিজের গন্তব্যের দিকে রওনা দিল। আসলে পর্দার আড়ালের কাহিনীটা হলো শুভ্র যে এখন নির্ভানের ডেরায় বন্দি হয়ে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে, সেটা ঈশান শুরু থেকেই জানে। কিন্তু বাড়ির লোক জানলে হুলস্থূল পড়ে যাবে বলে ঈশান কৌশলে শুভ্রর বাবা সোহান চৌধুরী আর সাহেরা চৌধুরীকে বুঝিয়ে রেখেছে যে, শুভ্র একটা অত্যন্ত জরুরি ডিলে দেশের বাইরে গেছে। হাতে একদম সময় ছিল না বলে কাউকে জানিয়ে যেতে পারেনি। আর ডিল শেষে সে কিছুটা সময় একা থাকতে চায়, তাই যেন কেউ তাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত না করে।
লাল টকটকে বেনারসি শাড়ি, গায়ে ভারী গয়না, আর চুলে তাজা গোলাপের সুগন্ধ সব মিলিয়ে অপূর্ব এক রাজকন্যের মতো বউ সেজে বসে আছে রিদি। কিন্তু রিদির কাছে আজ এই দামি বেনারসিটাকে বিয়ের শাড়ি মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে এক টুকরো সাদা কাফনের কাপড়, যা দিয়ে কিছুক্ষণ পরই তাকে জ্যান্ত কবর দেওয়া হবে। রিদির চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরছে, চোখের লোনা জলে কাজল লেপ্টে একাকার হয়ে গেছে, কিন্তু সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সে শুধু পাথরের মতো মাথা নিচু করে নিজের নিঃশব্দ হাহাকারগুলো ঝরিয়ে দিচ্ছে।
কতটা যে ভালোবাসে সে শুভ্রকে! যাকে নিয়ে হাজারো সপ্ন বুনেছে, যার জন্য বউ সাজবে বলে কত দিন-রাত সপ্ন দেখেছে আজ সেই শুভ্র নামক মানুষটাকেই সে চিরতরে হারিয়ে ফেলছে। আজ তার এই সাজ, এই রূপ সবই অন্য কারো জন্য। রিদির ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে, প্রতিটা নিশ্বাসে মনে হচ্ছে কেউ যেন বিষ ঢেলে দিচ্ছে। ইচ্ছে করছে এখনই সব শেষ করে দিয়ে মরে যেতে।
রিদি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। হাতের মুঠোয় বেনারসির ঘোমটার কোণাটা খামচে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল সে। তার অস্ফুট আর্তনাদ যেন দেয়ালগুলোতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে।
“শুভ্র ভাই, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! আমি আপনাকে যে কত ভালোবাসি তা যদি আপনি আজ একবার বুঝতেন! এই বিয়েটা হয়ে গেলে আমি হয়তো আর বাঁচতে পারবো না… আমি শেষ হয়ে যাবো শুভ্র ভাই, মরে যাবো আমি!”
বাইরে ড্রয়িং রুমে শেরওয়ানি পরে একদম বর বেশে বসে আছে নির্ভান। তার ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক বিজয়ী হাসি। আজ তার দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে, আজ সে তার প্রিয় ‘মায়াবী’কে চিরতরে নিজের করে নিতে যাচ্ছে। বিয়েটা যাতে সকাল সকাল মিটে যায়, সেজন্য নির্ভান আগেভাগেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছে।
কাজী সাহেব, দুজন গার্ড আর নির্ভানের বোন নেহা রিদির রুমে ঢুকল। রিদি তখনো মূর্তির মতো চুপচাপ বসে আছে। তাদের ভেতরে ঢোকার শব্দ শুনেও রিদি কোনো রিয়্যাকশন দেখালো না, যেন তার ভেতরে প্রাণ নেই, সে স্রেফ একটা সাজানো পুতুল। কাজী সাহেব রিদির সামনে বসে রেজিস্টার খাতাটা এগিয়ে দিলেন, তারপর একটা কলম তার চোখের সামনে ধরে খুব নিচু স্বরে বললেন।
“মা, এখানে একটা সই করো।”
কিন্তু রিদি এক চুলও নড়ল না। তার সারা শরীর যেন পাথরে পরিণত হয়েছে। রিদির এই নীরবতা দেখে নেহা বিরক্ত হয়ে বলে উঠল।
“দেখো রিদি, এখন আর ঢং করো না তো! চুপচাপ সাইন করো। তোমার কপাল ভালো যে আমার ভাইয়ের মতো একজনের বউ হতে যাচ্ছো, নাহলে তোমার মতো আনকালচারড একটা মেয়ে আমার ভাবি হবে এটা তো ইম্পসিবল ছিল!”
রিদি তবুও নির্বাক। নেহার বিষাক্ত কথাগুলো যেন তার কান পর্যন্ত পৌঁছালই না। সে কেবল এক দৃষ্টিতে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।নেহা এবার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রিদির হাতের কবজিটা সজোরে চেপে ধরল। জোর করে আঙুলের ফাঁকে কলমটা গুঁজে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“সই কর রিদি! বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু ফল খুব খারাপ হবে। আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না!”
রিদি আর পারল না। তার ভেতরের জমে থাকা সবটুকু কান্না আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বের হলো। সে ঝাপসা চোখে নেহার দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে উঠল।
“নেহা আপু, তুমি তো ভালোবাসার মর্ম বোঝো! তুমি তো জানো কাউকে মনে ঠাঁই দিলে আর কাউকে সেখানে বসানো যায় না! তাহলে যাকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসি, তাকে ছাড়া অন্য কারো নামের পাশে আমি সই করি কী করে? নেহা আপু, আমি শুভ্র ভাইকে অনেক ভালোবাসি… বিশ্বাস করো, আমি এই কাগজে সই করতে পারবো না, আমার হাত সরছে না!”
‘শুভ্রকে ভালোবাসি’ রিদির মুখ থেকে এই স্বীকারোক্তি শোনা মাত্রই নেহার মনে হলো কেউ তার কানে ফুটন্ত সিসা ঢেলে দিল। ঈর্ষায় তার মুখটা বিকৃত হয়ে উঠল। সে কোনো কথা না শুনে পৈশাচিক শক্তিতে রিদির হাতটা চেপে ধরল। রিদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, হাত সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু নেহার উন্মত্ত শক্তির কাছে সে পেরে উঠল না। এক প্রকার দস্তাদস্তি করেই নেহা রিদির কাঁপাকাঁপা হাত দিয়ে রেজিস্টার খাতার পাতায় সই করিয়ে নিল।
সইটা শেষ হতেই রিদি দুই হাতে মুখ ঢেকে ভেঙে পড়ল। তার মনে হলো, এই কলমের আঁচড় তার জীবনের শেষ আশাটুকুও কেড়ে নিল। নেহা তখন রিদির দিকে ঝুঁকে এসে হিমশীতল গলায় বলল।
“বাস! এখন থেকে তুই আইনত আমার ভাইয়ের সম্পত্তি। তাই এখন থেকে তোর মুখে শুধু আমার ভাইয়ের নাম থাকবে। খবরদার রিদি! শুভ্র শুধু আমার। নেক্সট টাইম যদি ওর নাম তোর মুখে শুনি, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ!”
বলেই নেহা কাজী সাহেবের দিকে ফিরে তর্জনী উঁচিয়ে আদেশ দিল।
“বাকি কাজটুকু তাড়াতাড়ি শেষ করুন। বিয়ে পড়ানো শুরু করুন এখনই!”
কাজী সাহেব চশমাটা ঠিক করে নিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন।
“দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লক্ষ ১ টাকা। এর মধ্যে নগদ আদায়…”
ঠিক সেই মুহূর্তে নেহার ফোনে একটা কল আসল। নেহা বিরক্তিভরে তাকিয়ে বারান্দার দিকে চলে গেল। রিদি তখন পাথরের মতো বসে আছে, তার কানে কোনো কথা ঢুকছে না। সে শুধু ভাবছে আজ থেকে সে অন্য কারো হয়ে যাচ্ছে। তার সমস্ত অনুভূতি যেন ভোঁতা হয়ে গেছে।
কাজী সাহেব রেজিস্টার খাতাটা সামনে টেনে নিয়ে প্রাই ফিসফিস করে নিচু স্বরে বললেন।
“৫ কোটি ২৫ লক্ষ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া, জনাব সোহান চৌধুরী সাহেবের সুপুত্র সাইফান শুভ্র চৌধুরীর সহিত আপনার বিবাহ সুসম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখিতেছি। আপনি কি এই বিবাহে রাজি আছেন? মা, বলুন কবুল।”
রিদি তখন এক ঘোরের মধ্যে। তার কানে বাজছে শুধু শুভ্রর সেই গান আর শেষবার বলা কঠোর কথাগুলো। আশেপাশে কে কী বলছে, বরের নাম কী বলছে কিচ্ছু তার মাথায় ঢুকছে না। সে শুধু জানে তাকে এই কাজটা করতে হবে শুভ্রকে বাঁচানোর জন্য। চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়ছে, দৃষ্টি ঝাপসা। সে বরের নামটা শোনার বা বোঝার বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করেই বিড়বিড় করে বলে উঠল।
“ক… কবুল।”
পর পর তিনবার জ্যান্ত লাশের মতো শব্দটা উচ্চারণ করল রিদি। সে জানলোই না, এই একটা শব্দে সে কার সাথে নিজের জীবনটা বেঁধে ফেলল।কাজী সাহেব রিদির রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে এসে বসলেন। চারপাশে একটা থমথমে নীরবতা, কিন্তু নির্ভানের চোখেমুখে তখন রাজত্ব পাওয়ার নেশা। কাজী সাহেব নিয়ম অনুযায়ী নির্ভানের সই নেওয়ার আগেই তাড়াহুড়ো করে বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। সম্ভবত নির্ভানের দাপট আর উত্তেজনার কাছে কাজী সাহেবও কিছুটা তটস্থ হয়ে পড়েছিলেন।কাজী সাহেব রেজিস্টার খাতাটা নির্ভানের সামনে মেলে ধরে গম্ভীর গলায় বললেন।
“৫ কোটি ২৫ লক্ষ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া,তাসনিন রিদিকার সহিত আপনার বিবাহ সুসম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখিতেছি। আপনি কি রাজি আছেন? বলুন কবুল।”
নির্ভান তখন খুশিতে আত্মহারা। তার কয়েক বছরের প্রতীক্ষা আজ শেষ হতে চলেছে। ‘মায়াবী’ আজ থেকে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হবে। নির্ভান অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে, বিজয়ী হাসি ঠোঁটে নিয়ে কবুল শব্দটা বলার জন্য যেই না মুখটা ফাঁক করল, ঠিক তখনই অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা একদম বজ্রকণ্ঠে চারপাশ কাঁপিয়ে কেউ একজন বলে উঠল।
“কবুল! কবুল! কবুল!”
রানিং….!
অনেক বড় পর্ব দিছি আশা করি বড় বড় কমেন্ট পাবো আর 4k রিয়েক্ট উঠবে..🙂
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ১