দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ৩৮
jahirul_islam_mahir
🌿
“রাত দশটা। জ্ঞান ফিরতেই বাবা বলে চিৎকার দিয়ে হসপিটালের বেড থেকে উঠে বসে আদ্রিজা। আদ্রিজার চিৎকার শুনে বিদ্যুৎতের গতি তে আদ্রিজার কাছে ছুটে আসে জাবির।”
“রিলেক্স আদ্রিয়ানা রিলেক্স, এখন আর ভয়ের কিছু নেই।”
“আদ্রিজা জাবিরের দিকে তাকিয়ে বলে”..
–“ওই গুন্ডা গুলোর হাত থেকে আমার বাবা কে বাঁচান প্লীজ। ওই গুন্ডা গুলো আমাকে ধরতে না পেরে আমার বাবা কে আটকে রেখেছে।”
“আদ্রিজার এমন কথায় বেশ অবাক হয় জাবির।”
–“বাবা মানে? কার বাবা ? তোমার বাবা তো অনেক আগেই মা”…
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জাবির তাঁর আগেই আদ্রিজা বলে উঠে”..
–“আমার বাবা। প্লীজ আমার বাবা কে বাঁচান।”
–“তোমার বাবা কে গুন্ডা গুলো কোথায় নিয়ে যেতে পারে তাঁর কোন ক্লো দিতে পারো?”
–“ক্লো কিভাবে দিবো আমি তো চট্টগ্রামের কিছুই চিনি না। আজকে প্রথম চট্টগ্রাম শহরে এসেছি।”
“আজ প্রথম চট্টগ্রাম শহরে এসেছো মানে? মাথা কি গেছে না আছে ? তখন থেকে দেখছি কি সব বলছো ?”
“আমি আর আমার বাবা আজকেই চট্টগ্রাম শহরে এসেছি। বাস থেকে নেমে সিএনজি ধরে ডাক্তার সামির চৌধুরীর বাসায় যাওয়ার সময় ওই গুন্ডা গুলোর কবলে পড়ি। আমি গুন্ডা গুলোর কাছ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আমার বাবা আসতে পারে নিই। ওরা আমাকে না পেয়ে আমার বাবা কে আটকে রেখেছে।”
–“ওয়েট ওয়েট, তুমি বলছো যে তুমি আর তোমার বাবা আজকে প্রথম চট্টগ্রামে শহরে এসেছো তাই তো?”
–“জ্বী।”
–“বুঝলাম, গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে তোমার স্মৃতি শক্তি হারিয়ে গেছে।”
–“আমার স্মৃতি শক্তি হারাতে যাবে কেনো? আমার স্মৃতি শক্তি হারায় নিই।”
“ওও আচ্ছা আচ্ছা। তাহলে বলো তো দেখি তোমার নাম কি? পরিচয় কি ?”
“আমার নাম আদ্রিজা। পরিচয় কি জানি না। নিজের পরিচয় খুঁজতে চট্টগ্রামে এসেছি।”
–“মানে বুঝলাম না?”
“আদ্রিজা এক এক করে সব জাবির কে বলতে শুরু করে। আদনান কে রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ের খাদে পাওয়া। তাঁর বুকের বাঁ পাশে আদ্রিয়ানার ছবি আর্ট করা থেকে শুরু করে সব। সব কিছু শুনে বেশ অবাক হয় জাবির। তবে ভাই বেঁচে আছে শুনে খুশি ও হয়।”
–“তাঁর মানে তুমি আদ্রিয়ানা নও? তুমি আদ্রিজা।”
“হুম, আমি আদ্রিজা।”
“আচ্ছা এই নিয়ে পরে সব কথা হবে আগে বলো বাস থেকে নেমে সিএনজি তে উঠে আনুমানিক কতটুকু পথ এগিয়ে গিয়েছিলে?”
“আদ্রিজা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে”..
“এই ধরেন এক কিলোমিটারের মতো, তবে সিউর না। এর থেকে কম ও হতে পারে আবার বেশি ও হতে পারে।”
“ঠিক আছে তুমি রেস্ট করো। আমি দেখছি তোমার বাবা কোথায় আছে।”
–“আমিও যাবো আপনার সাথে। না করবেন না প্লীজ।”
“জাবির মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে বলে”..
–“ঠিক আছে চলো।”
🌿
“রাত এগারোটা। আদনান রুম ডেকোরেশন করছে। রুমে থাকা দক্ষিণ পাশের দেওয়ালে দুই টা কিউট বাচ্চার পিকচার লাগিয়েছে। নিচে ছোট একটা বেবি দুলনা। বিভিন্ন খেলনা দিয়ে দুলনা টাও সুন্দর করে সাজিয়েছে আদনান। ডেকোরেশন করা কমপ্লিট হলে বেডের দিকে এগিয়ে যায় আদনান।”
–“রাত বাজে এগারোটা এই সময়ে এইসব কি খাচ্ছো সানফ্লাওয়ার?”..
–“কানা না কি? দেখতে পারছেন না আচার খাচ্ছি।”
–“কথা টা তো সুন্দর করেও বলা যেতো তাই না?”
–“মাননীয় মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি কি কানা, চোখে দেখেন না, দেখতে পারছেন না আচার খাচ্ছি।”
“আদনান হেসে ফেলে”
“ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুমি যে আচার খাচ্ছো তা আমি দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তুমি এত রাতে আচার কেন খাচ্ছ?”
“আদ্রিয়ানা মুখ ভেঙিয়ে বলে”..
— “আমার প্রিন্স খেতে বলেছে!”
“ওয়েট সানফ্লাওয়ার ওয়েট, তোমার প্রিন্স মানে ? এটা প্রিন্স হবে না প্রিন্সেস হবে।”
–“আমার প্রিন্স চাই প্রিন্সেস না।
–“আর আমার প্রিন্সেস চাই। আমার তো মনে হচ্ছে আমাদের প্রিন্সেস হবে।”
–“আমার মনে হচ্ছে আমাদের প্রিন্স হবে।”
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার, আমাদের প্রিন্স হবে না কি প্রিন্সেস হবে তা সময়ই বলে দিবে।”
“আদনান আদ্রিয়ানার পেটে হাত দিয়ে বলে”..
“তুমি শুধু আমার জন্য আর আমাদের ছোট্ট অতিথির জন্য সাবধানে চলাফেরা করো। বাকিটা আমি দেখে নিবো।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমি আপনার জন্য আর আমাদের ছোট অতিথির জন্য সবসময় সাবধানে চলাফেরা করবো।”
আদনান আদ্রিয়ানার গালে হাত রেখে আদ্রিয়ানার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে”..
— “মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার, আমরা একসাথে আমাদের ছোট্ট পরিবারটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলবো।”
–“হুম মিস্টার পান্ডা।”
–“অনেক রাত হয়েছে এইবার ঘুমিয়ে পড়ো।”
–“আর একটু আচার খাই তাঁর পর ঘুমিয়ে পড়বো।”
–“আজকে অনেক আচার খাওয়া হয়েছে আর খেতে হবে না। এইবার ঘুমিয়ে পড়ো, কাল সকালে আব্বু আম্মুর বাসায় যাবো।”
–“আব্বু আম্মুর বাসায় কেনো?”.
–“উনারা যে দাদা দাদি হতে চলেছে সেই খবর টা দেওয়ার জন্য।”
–“ওও আচ্ছা আচ্ছা! তা এই খবর টা দিতে লজ্জা করবে না আপনার?”.
–“দূর পাগলি কি বলো, এই খবর টা দিতে লজ্জা করবে কেন?”.
–“আমার তো খুব লজ্জা করবে।”
–“কেনো?”
–“আপনি যখন এই খবর টা তাদের কে দিবেন তখন তো তাঁরা বুঝে যাবে আপনি আর আমি যে ওইসব করছি।”
“আদনান আদ্রিয়ানার একদমই কাছে এসে নেশালো কন্ঠে বলে”..
–“ওইসব কি করছি সানফ্লাওয়ার?”
“দুষ্টু পান্ডা আপনি জানেন না আপনি কি করছেন? জানা সত্ত্বেও আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন কেনো? আমি লজ্জা পাচ্ছি তো।”
“আদনান আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নেয়। আগলে নেয় নিজের বাহু ডুরে। আদ্রিয়ানা লজ্জায় আদনানের বুকে মুখ গুঁজে ফেলে।
🌿
“দুই ঘণ্টা খুঁজাখুজি করার পর থামতুয়া কে খুঁজে পাওয়া যায়। মাথা নিচু করে রাস্তার পাশে বসে আছে থামতুয়া। পুরো মুখ রক্তে লাল হয়ে আছে। কপাল থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। আদ্রিজা গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে যায় থামতুয়ার কাছে। আদ্রিজা কে দেখে থামতুয়া কান্না করে দেয়।”
–“আদ্রিজা মা আমার তুই ঠিক আছিস তো ? ওই গুন্ডা গুলো তোর কোন ক্ষতি করে নিই তো?”..
–“বাবা আমি একদমই ঠিক আছি। কিন্তু আপনার এই অবস্থা কি করে হলো?”
“ওই গুন্ডা গুলো তোকে ধরতে না পেরে আমাকে মেরেছে। আমার কথা বাদ দে তোর মাথায় ব্যান্ডেজ কেনো? কি হয়েছে তোর?”
“বাবা, আমি ঠিক আছি। চলো, আগে তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
“থামতুয়া আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে”..
“মা, আমি ঠিক আছি, তুই আগে নিজের খেয়াল রাখ।”
“আদ্রিজা থামতুয়ার হাত ধরে বলে “কেমন ঠিক আছেন তা তো দেখছি পারছি। বেশি কথা না বলে চলেন এখন।”
“আদ্রিজার কথা শেষ হতেই জাবির বলে”..
–“আংকেল আপনি অনেক কথাই বলেছেন আর কোন কথা নয়। আগে ডাক্তারের কাছে যাবেন, ডাক্তার দেখাবেন তাঁর পর সব কথা বলবেন।”
“থামতুয়া জাবিরের দিকে তাকায়। জাবির থামতুয়ার হাত ধরে থামতুয়া কে গাড়ির দিকে নিয়ে যায়। গাড়ির দরজা খুলে থামতুয়াকে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। আদ্রিজা গাড়িতে উঠে থামতুয়ার পাশে বসে। জাবির গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে বসে। সিট বেল্ট টা পড়ে নিয়ে গাড়ি স্টাস্ট দেয়।”
🌿
“সকাল আটটা। সকালে মিষ্টি রোদ জানলার পর্দা ভেদ করে আদ্রিয়ানার মুখের উপরে পড়ছে। সূর্যের আলো মুখে পড়তেই আদ্রিয়ানা ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাশ ফিরে দেখে আদনান পাশে নেয়। আদ্রিয়ানা উঠে বসে। বেড থেকে নেমে বারান্দায় চলে যায়। আদনান বারান্দায় ও নেই দেখে রুম থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের দিকে উঁকি মারে আদ্রিয়ানা। আদনান রান্না করছে দেখে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মিনিট পাঁচেক পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আসে। টাওয়েল দিয়ে মুখ মুছে টাওয়েল টা বারান্দায় মিলে দিয়ে নিচে চলে যায়। রান্না ঘরে গিয়ে আদনান কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা।”
–“জামাই জান কি নাস্তা তৈরি করেছেন?”
“আপনার পছন্দের চা আর পরতা তৈরি করেছি বৌ জান।”
–“আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে তাড়াতাড়ি করে খাইয়ে দেন।”
–“বৌ জান আপনি টেবিলে গিয়ে বসুন আমি নিয়ে আসছি।”
“আদ্রিয়ানা টেবিলে গিয়ে বসে। আদনান পরতা আর চা নিয়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। নাস্তা টা টেবিলের উপরে রেখে আদ্রিয়ানার পাশে বসে।”
–“বৌ জান খাইতে দিতে হবে না কি?”
–“হবে না কি মানে কি হা? খাইয়ে দেন।”
–“ওকেই মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার।”
“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানা কে খাইয়ে দিতে থাকে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আদ্রিয়ানার খাওয়া হয়ে যায়। আদ্রিয়ানার পরে আদনান নিজেও খেয়ে নেয়। খাওয়া শেষে রান্না ঘরে গিয়ে কাপ আর প্লেট গুলো ধুয়ে জায়গা মতো রেখে দেয়।”
চলবে…
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৩৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৫
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭