Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ১৫


নতুনপ্রেমেরগান (১৫)

“সুপ্রভা একটা চোর।শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার একটা চোরকে বিয়ে করবে বলে তোমার মনে হয় মম? সিয়াদাত শাহারিয়ার জন্য দেশে মেয়ের অভাব পড়েনি। শুধু মেয়েরা না, মেয়ের মায়েরাও সিয়াদাতের পিছনে ঘুরঘুর করে। শুধু তার মেয়েটাকে একটা ভালো ছেলের হাতে তুলে দিবে তাই। মানুষ দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষে।আর তুমি দুধ কলা দিয়ে একটা চোর পুষেছো।তোমার আদরের সুভা একটা চোর।টাকা পয়সা সোনাদানা গয়নাগাটি যা ছিল সব কিছু নিয়ে সুপ্রভা পালিয়েছে। সুপ্রভা………..” বাকিটা বলার আগেই ঈশিতা চৌধুরী কানে হাত চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠেন –

“ প্লিজ চুপ করো নোরা।আমি আর নিতে পারছি না।সুপ্রভা একটা চোর কথাটা আমার কানে বজ্রের ন্যায় বাজছে।তুমি প্লিজ চুপ করো।”

নোরা কটাক্ষ করে বলে — “ তুমি মানো বা না মানো সুপ্রভা একটা চোর। এটাই নিরেট সত্য। সুপ্রভা গরীব ঘরের মেয়ে।এতো বড় বাড়ি, টাকা পয়সা সোনাদানা কখনোই নিজ চোখে দেখেনি।এ বাড়িতে ব‌উ হয়ে আসার পর এতো এতো টাকা, সোনাদানা, দেখে লোভে দুচোখ চকচকে হয়ে যায় সুপ্রভার। ও শুধু একটা সুযোগ খুঁজছিল। সুযোগ পাওয়া মাত্রই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে।লোভী মেয়ে একটা।”

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সবটাই শুনছিলো সৌরভ।
আদরের বোনের নামে মিথ্যাচার সে আর সহ্য করতে পারে না।সে অনুমতি না নিয়েই নোরার রুমে প্রবেশ করে। রাশভারী গলায় বলে— “ মুখ সামলে কথা বলুন মিস নোরা।আমরা গরীব হতে পারি। কিন্তু লোভী ন‌ই।”

নোরা তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে — “ চোরের ভাইয়ের বড় গলা।আমার তো মনে হয় এই চুরির পেছনে‌ তোমর‌ও হাত আছে।তোমরা ভাই বোন দুইটাই চোর। তোমাদের পুলিশের দেওয়া উচিত।”

ঈশিতা চৌধুরী তেড়ে আসেন নোরার দিকে। ক্রুদ্ধ স্বরে বলেন — “ সুভা, সৌরভ সম্পর্কে আমি আর একটাও বাজে কথা শুনতে চাই না।তুমি যতোই বলো, যতোই প্রমাণ দেখাও না কেন! আমি জানি সুভা চুরি করতে পারে না। সুভা চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার মেয়ে নয়।আমার এখন তোমাকে নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।তুমি সুভাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করো নি তো?”

নোরার মুখ র’ক্তশূন্য হয়ে যায়।সে শুধু সুপ্রভাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য‌ই করেনি।সুপ্রভাকে চোর প্রমান করতে সব টাকা , পয়সা সোনাদানা লুকিয়ে রেখেছে।এমনকি সুপ্রভা যে চিরকুট লিখে রেখেছিল , সেটাও এক্সচেঞ্জ করে দিয়েছে।নিজে সুপ্রভার লেখা নকল করে এমনভাবে চিরকুট লিখে রেখেছে যেখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সুপ্রভা লোভে পড়ে টাকা , পয়সা সব নিয়ে স্বেচ্ছায় পালিয়েছে।নোরার থেকে রেসপন্স না পেয়ে ঈশিতা চৌধুরী তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলেন— “ কী হলো? কথা বলছো না যে?”

নোরা কী বলবে বুঝতে পারে না।সে আমতা আমতা করে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ঈশিতা চৌধুরী সৌরভের দিকে এগিয়ে আসেন। নরম গলায় বলেন— “ নোরার কথায় কিছু মনে করো না বাবা।আমি জানি আমার সুভা নিষ্পাপ, নির্দোষ।”

সৌরভ চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে নেয়।
জোরালো গলায় বলে– “ আমার বোনকে আমি ঠিক খুঁজে বের করবো।সকলের সামনে প্রমাণ করে দিব আমরা চোর, লোভী ন‌ই।


সুপ্রভা কিচেন থেকে ফিরে এসে দেখে চেয়ার ফাঁকা।সিয়াদাত কোথাও নেই।সিয়াদাত চলে গিয়েছে ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সুপ্রভা। মানুষটার সামনে গেলেই তার বুকের ভেতর ঝড় ওঠে সবটা ওলোটপালোট করে দেয়। কেমন যেন অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়।সুপ্রভা সেই অনুভূতিকে প্রশ্রয় দিতে চায় না। কিন্তু অবাধ্য মন মানে না । ঘুরে ফিরে সেই অনুভূতি আবারও এসে তার দরজায় কড়া নাড়ে।

সুপ্রভা ধীরে ধীরে চেয়ারে গিয়ে বসে। নিজের বুকের ওপর হাত রাখে ।ধুকপুকানি এখনো থামেনি।সুপ্রভার মনে হয় সিয়াদাতের উপস্থিতির উষ্ণতা এখনো বাতাসে ভাসছে।সুপ্রভা ত্বরিত চোখ বন্ধ করে নেয়।নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে–

“কেন এমন হয়?মানুষটা সামনে থাকলে মনে হয় বুকের ভেতর আগুন জ্বলছে । আবার দূরে গেলেই কেন তার অনুপস্থিতি বরফের মতো ঠান্ডা শূন্যতা হয়ে বুক চেপে ধরে?সুপ্রভা নিজেকে বোঝাতে চায় , এটা শুধু ভুল‌ নয়, এটা অপরাধ। এটা হওয়া উচিত নয়।কিন্তু মন বড় অবাধ্য। সুপ্রভা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।

হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ে টেবিলের ওপর রাখা একটা কাগজে। কাগজে ছোট্ট করে লেখা—

“বিরিয়ানি টা সত্যিই খুব মজার ছিল।”

সুপ্রভার ঠোঁটের কোণে অনিচ্ছাকৃত হাসি ফুটে ওঠে।অথচ তার রাগ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু
হয় না।বরং বুকের ভেতরটা পুনরায় কেঁপে ওঠে।
তার মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে –
“আপনার থেকে পালাতে চেয়েছি বলে, আপনি আমার এতো বড় সর্বনাশ করে দিলেন মিস্টার ভন্ড প্রফেসর।”

খেতে বসেও সুপ্রভা খেতে পারে না। অজানা কারণে তার গলা দিয়ে খাবার নামতে চায় না।সে খাবারের প্লেটে পানি ঢেলে দেয়। এঁটো বাসনগুলো পরিস্কার করে রুমের দিকে পা বাড়ায় সুপ্রভা, ঠিক তখনই পাওয়ার কাট হয়ে যায়। অমানিশা অন্ধকারে ছেয়ে যায় গোটা বাড়ি।সুপ্রভা পা টিপে টিপে রুমে প্রবেশ করে। জানালার ফাঁক দিয়ে কিঞ্চিৎ আলো ঢুকে পড়েছে
তার রুমে।হালকা আলোয় বিছানায় উপর একটা অবয়ব দেখা যাচ্ছে।সুপ্রভা জানে এটা সিমি।সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় অবয়বের দিকে।তার গোলাপি ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় অবয়বের কপালে। হঠাৎ’ই তার স্মরণে আসে সে বেচে যাওয়া খাবার ফ্রিজে রাখে নি। সে তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক তখনই কারেন্ট আসে।ঝকঝকে আলোয় সিমিকে দাঁড়িয়ে পানি খেতে দেখে সুপ্রভার বুক ধড়াস করে ওঠে। সুপ্রভা সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে— “ তোকে না আমার রুমে দেখে এলাম?”

সিমি অবাক গলায় বলে — “ আমি তোর রুমে কখন গেলাম? আমি তো মায়ের রুমে ছিলাম।”

সুপ্রভার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠে। সে মনে মনে বলে – “
সিমি যদি আন্টির রুমে থাকে, তাহলে আমার রুমে কে ছিলো? আমি কাকে চুমু খেলাম?”

চলবে??

[ সুপ্রভা কাকে চুমু খেলো? মোতালেব নাকি অন্যকেউ? আপনাদের কি হয় ?]

® Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply