#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৫২(প্রথম_অংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“আমার রক্ত দিয়ে তোমাকে আলতা লাগিয়ে দিই? নুপুরের সাথে খুব ভালো মানাবে কিন্তু।”
ফারাজের অপ্রত্যাশিত কোমলতা ভরা কন্ঠসুর।
যা মুহূর্তেই সম্পূর্ণ কক্ষজুড়ে প্রশান্তির বাতাস বইয়ে দিল। কিন্তু সে কথাগুলো আদৌ তিতলির কান পর্যন্ত পৌঁছালো কিনা কে-জানে। এ কথাটা যদি তিতলি শুনতে পেতো এতক্ষণে ফারাজের বুকে কিল,ঘুষি দিয়ে বলত, “আপনি কি পাগল হয়েছেন? কোনো মানুষ মানুষের রক্ত দিয়ে আলতা পরে কখনো শুনছেন?” তখন ফারাজ নিশ্চিতে বলে দিতো,
“কেউ না পরুক তুমি পরবে।” আশ্চর্য! মেয়েটা জ্ঞান হারিয়েছে তাও চোখের পানি থামার কোনো নাম নেই। কান্নার তোড়ে তুলতুলে শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। হয়তো ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছে। ফারাজ তিতলিকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে রাখল খানিকক্ষণ। প্রথমবারের মতো সে উপলদ্ধি করল তার বক্ষভাগে চিনচিন ব্যথা। কেন? মেয়েটা কাঁদছে তাই বলে কী?
ফারাজ তিতলিকে কোলে করে বিছানার নিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু তিতলিকে কোনোভাবেই নিজের থেকে ছাড়ানো যাচ্ছেনা। চিকন চিকন দুহাতে পুরুষালী বলিষ্ঠ শরীরটা এতটাই শক্ত করে নিজের সাথে পেঁচিয়ে রেখেছে যেন ছাড়লেই হারিয়ে যাবে। এজন্য কোলেও নেওয়া যাচ্ছেনা। উপায়ন্তর না পেয়ে ফারাজ তিতলির পাজোড়া মেঝে থেকে একটু উঁচু করে ওভাবেই একপা দুপা করে বিছানায় নিয়ে এসে তিতলিকে আলগোছে নরম বালিশে শুইয়ে দিলো। দেখতে থাকল তার পিচ্চি বউকে। শীতল চোখে তিতলির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কোথায় ভাবলাম তুমি আমার সেবা করবে এখন দেখছি আমি তোমার সেবা করতে হবে। বলো কি তুমি? একটু আদরে মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারিয়ে বসো রক্ত দেখেও জ্ঞান হারাও,ফারাজ পরপরই বিড়বিড়লো,
পিচ্চি মেয়েদের বিয়ে করলেই এক জ্বালা।”
ফারাজ জানে তিতলি নিজের ইচ্ছেতেই সজ্ঞানে ফিরে আসবে। তাই আর জ্ঞান ফিরানোর চেষ্টা করল না। আর যদি এখন জ্ঞান ফিরেও আসে নিশ্চিত মরা কান্না শুরু করে বাড়ির সবাইকে জাগিয়ে তুলবে। যেটা সে এইমুহূর্তে চাই না। একদমই না। কিছু একটা মনে করে তিতলির পায়ের কাছে নিশব্দে বসে আঙুলের আগায় বুকের ক্ষত স্থান থেকে রক্ত নিয়ে তাচ্ছিল্যর হাসি হাসল ফারাজ। শুধু শুধু ঝড়ে যাওয়ার কি প্রয়োজন? তারচেয়ে বরং তার নারীর পায়ে আলতা হিসেবে সোভা পাক। ফর্সা পায়ে স্বর্ণের নুপুরগুলো চকচক করছে। ফারাজ পাদুটো নিজের কোলের উপর রেখে পাতার উপর মনেযোগ সহকারে আলতা লাগিয়ে দিতে শুরু করল। ফারাজ সবেমাত্র একপায়ে আলতা লাগিয়ে দিয়েছে শুধু তক্ষুনি তিতলি পা নড়চড়া করতে শুরু করল।
ফারাজ খেয়াল করলো,তিতলি ঠোঁট নেড়েচেড়ে কি যেন বলছে। ফারাজ কৌতূহল বসত শোনার জন্য তিতলির মুখের কাছে ঝুঁকে আসল।
“র..রক্ত…রক্ত..”
“আপনার খুব ক–কষ্ট হচ্ছে কষ্টে হচ্ছে আপনার।”
তিতলির চোখের পাতা পিটপিট করছে। তুলতুলে নরম অধরজোড়া তিরতিরিয়ে কাঁপছে। কান্না ভিজা চোখের পাপড়ীগুলো খুলার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে মেয়েটা। ফারাজ মুখ এগিয়ে নিয়ে তিতলির চোখের পাতায় নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো। ফারাজের স্পর্শ পেয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠল তিতলি। ফারাজ হচকচিত হয়ে নিজের ঠোঁট সরিয়ে আনল। তিতলির দুহাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করল। তিতলির কান্না থামাতো দূরের বিষয় উল্টো আরও বেড়ে গেল এবার।ফারাজ তিতলির চোখের পানি মুছে দিতে দিতে ধমক দিয়ে বলল,
“এই মেয়ে চুপ! চুপ! চুপ! মরার কান্না করছো কেন? চোখ খুলে দেখো মরে যাইনি আমি বেঁচে আছি কিছু হয়নি আমার দেখো।”
ফারাজ ধমকের সুরে বললেও কথার টোন কোমল।
তিতলি কোনোভাবেই কান্না থামাতে পারছেনা। নিজের বুকের ভেতরে যেন কেউ ছুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে তেমন কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার। চোখ দুটো টকটকে লালবর্ণ ধারণ করেছে যার জন্য চোখ ভেতর থেকে টানছে। চেষ্টা করেও স্পষ্টভাবে দুচোখ মেলতে পারছে না তিতলি। মিনিটখানেক পর পুুরোপুরি সজ্ঞানে এসে ধরফরিয়ে উঠে পাগলের মতো ফারাজের বুক দেখতে থাকল। তার শান্তির জায়গা এটা। তার সুখের স্থান। তার সবকিছু। হাত দিয়ে দেখতে দেখতে কান্নামিশ্রিত অস্পষ্ট গলায় বলল,
“এ..এসব এসব কী করে হলো? আপনার…আপনার আঘাত লেগেছে ব্যথা করছে খুব? আপনাকে..আমাকে হাসপাতালে আপনাকে নিয়ে যেতে হবে।”
বাক্য এলোমেলো সপ্তদশীর। কি বলছে সেদিকে নিজের কোনো হুশ নেই। তার মুখে একটাই কথা ফারাজকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ফারাজ তিতলির কান্না থামানোর চেষ্টা করেও পারছেনা। আশ্চর্য এভাবে কাঁদার কি আছে? বছর তিনেক আগে বাইক এক্সিডেন্টে হাত পা সহ মাথা পর্যন্ত আঘাত পেয়েছিল সে হিসেবে এই আঘাত তার কাছে তেমন কিছুই না। ভাবছে তখন তিতলি যদি তার লাইফে থাকতো কি করতো? ফারাজের ভাবনার মাঝেই তিতলি ফের একই কথা বলল,
“আপনার ব্যথা করছে আম্মু আব্বুকে ডেকে আনতে হবে ।” ফারাজ বাঁধা দিলো তাতে। তিতলিকে শক্ত গলায় বলল,
” কাউকে ডাকার প্রয়োজন নেই। এসব দেখে আম্মুও তোমার মতো জ্ঞান হারাবে। আমার ব্যথা করছে না।”
“আপনার ব্যথা করছে আমি…আমি জানি ব্যথা না পাওয়ার ভান করছেন আমার কাছে।”
“তোমাকে কে বলল আমি ব্যথা না পাওয়ার ভান করছি? তুমি একটু বেশি ভাবছো।”
তিতলি ফারাজের হাতটা টেনে এনে নিজের বুকের কাছে রাখল। ঠিক সেখানে যেখানে ফারাজের আঘাত লেগেছে। কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে তার। কথা বলতে গিয়েও গলা দিয়ে আটকে যাচ্ছে। ছোট থেকেই কাটা ক্ষত রক্ত এসব ভয় পায় তিতলি। নিজের কান্না থামিয়ে নিয়ে বলল,
“মনে হচ্ছে আমিও এখানে আপনার ব্যথা অনুভব করতে পারছি।”
ফারাজের কণ্ঠ আশ্চর্যভাবে খুবই নরম হল যেন বিক্ষুদ্ধ সমুদ্রের ওপর এক পশলা মায়ার বৃষ্টি,
“সামান্য আঘাতে আমার কিছুই হবেনা। কান্না বন্ধ করো জান।”
ফারাজের মুখে প্রথমবার জান শব্দটা শুনেও তিতলির মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। অন্যসময় হলে নিশ্চিত খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেত। এখন উল্টো ফারাজকে শাসিয়ে বলল,
“এটা আপনার কাছে সামান্য মনে হয়? অনেক বেশি ক্ষত হয়েছে। কেন শুনছেন না আমার কথা?”
“শুনবো কেন? ডাক্তারনী তো ঘরেই আছে।”
“কই.. কই ডাক্তার? নিচে এসেছে আপনি কল দিয়ে আসতে বলছেন?
ফারাজ তিতলির কথা শুনে অধর কোণ কামড়ে ধরে রাখল খানিকক্ষণ। পরপরই হুকুম ছেড়ে বলল,
” তুমি ব্যান্ডেজ করে দাও। “
“আমি ব্যান্ডেজ করলে হবেনা সেলাই করতে হবে।”
তিতলি একনাগাড়ে কথাগুলো বলল। কেন ফারাজ হাসপাতালে যাচ্ছেনা। এতটুকু কেটে গেছে তাও বলছে ক্ষতবেশি হয়নি। ফারাজ উঠে গিয়ে ফাস্টএইড বক্স নিয়ে,তিতলির হাতে ধরিয়ে দিলো। তিতলি কখনো কারো ব্যান্ডেজ করেনি এমনকি এসব ক্ষত এতকাছ থেকে দেখেনিও। তাই ভয় লাগছে। তিতলি চোখ বন্ধ করে নিজের ভয়ডর সব দূরে ঠেলে দিলো। ফারাজ সোজা হয়ে শুয়ে কপালে একহাত চেপে রেখে দুচোখ বুঁজে রেখেছে। তিতলিকে যেভাবে বুঝিয়ে বলল তিতলি সেভাবে রুই দিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া জায়গাগুলো পরিষ্কার করে ভায়োডিন মলম লাগিয়ে দিলো ক্ষত স্থানে। কিন্তু খুব ধীরে যাতে ফারাজ একটু ব্যথাও না পায়। ফারাজ তিতলির দিকে ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকানো। তিতলি ফারাজের সে দৃষ্টি দেখে বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠল। বলল,
“আমাকে বলুন কে আপনাকে এভাবে আঘাত করেছে? শুধু একবার নাম বলুন।”
তিতলি যেন যে আঘাত করেছে তার নাম শুনলে তাকে কেটেকুটে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। ফারাজ তিতলিকে ওমন কিছুই বলল না।
শুধু শান্তভাবে বলল,
“কেউ আঘাত করেনি।”
“মিথ্যা কথা সব। আপনি আমার থেকে কিছু লুকাতে পারেন না। এটা ছুড়ি দিয়ে কেউ আঘাত করেছে তেমন মনে হচ্ছে।”
“তারপর?”
আমার সাথে সাথে বলুন,
“যাহা বলিব সত্য বলিব মিথ্যা কথা বলিব না। কীভাবে কি হয়েছে সব সত্যি বলুন।”
“তুমি নিজেকে কি ভাবো?”
তিতলির সোজাসাপটা উত্তর,
“আপনার বউ ভাবি।”
ফারাজ কিছু বলছেনা দেখে তিতলি নাক টানতে টানতে জিজ্ঞেস করে,
“আপনার ব্যথা করছে কিন্তু আমাকে একবারও মুখ ফুঁটে বলছেন না কিছু।”
ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে তাকাল। তিতলির কান্নারত মুখখানা দেখে তার মায়া হলো। যদিও তার তেমন একটা ব্যথা করছেনা। কিন্তু তিতলিকে ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাল তার ব্যথা করছে।
তিতলি বিচলিত হয়ে পড়ল। ফারাজের বুকে ব্যান্ডেজ লাগাতে চাচ্ছে সেটা ঠিকমতো পারছেও না। ফারাজ চুপচাপ সব দেখে যাচ্ছে তখন থেকে। তিতলি বলল,
“কি করলে আপনার ব্যথা কমে যাবে আমাকে বলুন।”
“ব্যথা কমার ঔষুধ আছে? তুমি ঔষুধ দাও। তাহলেই তো হয়।”
তিতলি ঔষুধ বের করে দেখল অনেক ঔষুধ কিন্তু কোনটা সেটা জানার জন্য ফারাজকে বলল,
“কোন ঔষুধ?”
ফারাজের জবাব দিলো,
“তোমার ঠোঁট।”
“মানে?”
“মানে তুমি চুমু দাও তাহলে সব ব্যথা চলে যাবে।”
তিতলি লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে বাধ্য মেয়ের মতো তাই করল। ফারাজের বুকে একের পর এক চুমু খেতে শুরু করল। ফারাজ বালিশ থেকে মাথা তুলে তিতলির একের পর এক চুুমু দেওয়া দেখছে। সহসায় তার ঠোঁটের কোণ প্রসারিত হয়ে গেলো। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তিতলি দেখার আগেই হাসি মিলিয়ে গেল। ফারাজ তিতলির মুখের দিকে তাকিয়ে কন্ঠে গম্ভীর্যতা এনে বলল,
“মানুষ স্বামী মারা গেলেও এভাবে কাঁদে না আর তুমি দেখছি বেঁচে থাকতেও মরা কান্না করছো যেন আমি মরে গেছি।”
তিতলি মৃদুই মিশিয়ে গেল। তারপর ফারাজের বুকে আরেকবার চুমু খেয়ে শেষপর্যন্ত নাকের সর্দি ফারাজের বুকে ঘষে, মেঘে ঠোঁট উল্টে ফিসফিস করল,
–“আপনার আগে আমার মরণ হোক!”
গা ঝিনঝিনিয়ে উঠলেও রিয়েক্ট করল না ফারাজ। এক পলক তিতলির ফোলা মুখের দিকে তাকিয়ে নিল। তিতলিকে একটু জ্বালানোর জন্য তৎক্ষণাৎ ভ্রু কুঁচকে মৃদুসুরে বলল,
“আমিও তো তাই চাই।”
তিতলি হঠাৎ কি মনে করল কে-জানে। মুহূর্তেই নাকের পাটা ফুলে উঠে তার। হিংস্র বাঘিনীয় ন্যায় তাকায় ফারাজের দিকে। কন্ঠসুর রাগরাগ তার,
“আমি মরে গেলে আপনি অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন তাই একথা বলছেন? আমি যাতে মরে যাই সেই দোয়া এখন থেকেই শুরু করছেন তাইনা?”
ফারাজ তিতলিকে আরও জ্বালিয়ে মারার জন্য এবার
“হুমম।”
ফারাজের কথায় তিতলি ঠাস করে রেগে যায়। আঙুল তুলে ফারাজকে শাসিয়ে বলল,
“কিন্তু আমি মরবো না। মরলেও কবর থেকে আপনার পা ধরে টান দিবো।”
ফারাজের শান্তসুর,
“ওকে!”
ফারাজের সম্মতিতে তিতলির রাগে যেন ঘি পড়ল। তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলল…
“সত্যি করে বলুন আমি মরে যাওয়ার জন্য দোয়া করেন আপনি?”
“হুমম।”
তিতলি হিসহিসিয়ে উঠে ফারাজকে কিছু একটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বলল,
“একটা প্রবাদ বাক্য আছে ওইটা নিশ্চয়ই জানেন আপনি?”
“কোন প্রবাদ বাক্য?”
“শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। ওই প্রবাদ বাক্যটা?”
ফারাজ তিতলির দিকে তাকিয়ে আছে। তার বউ সত্য মিথ্যার পার্থক্য বুঝেনা। যেটা বুঝিয়ে দেয় সেটাই বুঝে নেয়। এই কী কখনো বড় হবে না? বুদ্ধি সুদ্ধি হবে না? জবাবের অপেক্ষা করছে দেখে ফারাজ হঠাৎ হেসে উঠল তিতলির মুখের আকৃতি দেখে। ফারাজকে হাসতে দেখে এবার তিতলি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিলো। তিতলি ফারাজের ঠোঁটে হাসি দেখে বলল,
“আমি কাঁদছি আর আপনার হেসে মজা নিচ্ছেন?”
“তোমাকে দেখলে এখন যে কেউ হাসবে শুধু আমি না।”
তিতলি ফারাজের কথা কানে নিচ্ছেনা। ফারাজ তার মরার দোয়া করে। এবারও একই ভাবে বলল,
“আমার মরার দোয়া করলে আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন কেন তাহলে?”
ফারাজ শান্ত এবং শীতল দৃষ্টি তিতলির উপর রেখে বলল,
“বিয়ে করার দরকার ছিল তাই করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিয়ে না করে একটা কান্নার মিউজিক কানের কাছে লাগিয়ে রাখা উচিত ছিল।”
“আমি কি নিজের ইচ্ছেতে কাঁদছি? আপনি আমাকে কাঁদিয়েছেন। তিতলি একটু থেমে গাল ফুলিয়ে বলল, “আমি কাঁদলে আপনি বিরক্ত হন ওটা বুঝে গেছি আমি। আমি আর কখনো কাঁদবো না আপনার জন্য।”
“তোমার কান্না যন্ত্রনাদায়ক।”
“কি বললেন?”
ফারাজ প্রথমে অস্পষ্ট গলায় বললেও এবার স্পষ্ট গলায় বলল,
“তোমার কান্না বিরক্তিকর বলছি, এবার হয়ছে?”
তিতলি অল্প স্বল্প অপমানিত বোধ করল। পরমুহুর্তেই চেতে গিয়ে ফারাজের নাক টেনে ধরল হঠাৎ করেই নাকে দিব্যি রেখে বলল,
“আমি আপনার নাক ছুয়ে বলছি আমি আর কোনোদিনও আপনার জন্য কাঁদবো না।”
“নাক ছুঁয়ে বললে তো আমার বিশ্বাস হবেনা। অন্যকিছু ছুঁয়ে বললে তবেই বিশ্বাস করা যায় যে তুমি সত্যি তোমার কথা রাখবে।”
তিতলি একটু দূরে গিয়ে হিসহিস করে উঠে বলল,
“আমি মোটেও বেহায়া না যে বারবার আপনার জন্য কাঁদবো হুহ!”
তিতলি ভেবেই নিয়েছে সে আর কখনো ফারাজের জন্য কাঁদবেনা। একদম কাঁদবে না। যার জন্য কাঁদে সেই বলে তোমার কান্না বিরক্তিকর। মেয়েটা অভিমানে বুক ফুলিয়ে রেখেছে। কিন্তু মেয়েটার মন কি আর মানে? কিছুক্ষণ অভিমানে পেছন ফিরে অনেকক্ষণ ধরে নিজের সাথে যুদ্ধ করছে। হঠাৎ কোমরে টান অনুভব করল। অর্থাৎ ফারাজ তার কোমর টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
“আমাকে কেন টেনে আনলেন? ছাড়ুন বলছি! আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই।
ফারাজ তিতলির কথার উত্তর দেবার প্রয়োজনীতা না দেখিয়ে আচমকা তিতলির পৃষ্টদেশের তুলতুলে নরম অঙ্গদুটো শক্ত করে চেপে ধরে। তিতলি ব্যথা পেয়ে কুঁকড়ে গেলেও ছাড়ল না। তিতলি হতভম্ব হয়ে যায় এমন কাজে। হঠাৎ এমন করছে কেন
“আরেহ কি করছেন ছাড়ুন ব্যথা লাগছে তো।”
ফারাজের তিতলির কথা শুনে এবার ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল এবার। পৃষ্টদেশের অঙ্গ থেকে থেকে হাত সরিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তিতলির জামার ভেতরে হাত গলিয়ে দিলো। নাভির কাছে খসখসে আঙলের সুড়সুড়ি লাগতেই কেঁপে উঠল তিতলি। ফারাজ যখনি হাতটা ধীরধীরে একটু উপরের দিকে নিয়ে এসে অস্তবার্সের উপর দিয়ে বক্ষভাঁজের রাখল ওমনি শরীরের প্রত্যেকটা লোমকূপ কাঁটা দিয়ে উঠল তিতলির। থরথর করে কেঁপে উঠল কায়া। কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। আচমকাই তিতলি জামার উপর দিকে ফারাজের হাত খামছে ধরে। ফারাজের হাত ভেতরে। তিতলি চোখ বন্ধ করে রেখে ফারাজের হাত সরিয়ে দিতে চাইল।
কাঁপা গলায় আওড়ালো–,
“কি…কি করছেন এটা হাত সরান।”
“আদর করছি!”
“অসুস্থ আপনি তাও এসব অসভ্যতামি যায়নি তাইনা?”
তোমাকে কে বলল আমি অসুস্থ?।
ফারাজ নিজের হাতের চাপ বাড়াল। তিতলি শেষপর্যন্ত নিজেকে নিজেই ফারাজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ল। এবার আর তার জামার ভেতরে হাত দেওয়ার কোনো উপায় রাখল না। ফারাজ কিছুক্ষণ পর তিতলিকে টেনে এনে নিজের বুকের উপর রাখল।
★
সকাল ১১ টা বাজে।
সকালেই ফারিন বেগম সহ সবার কানে পৌঁছে গেছে ফারাজের বুকে আঘাত লাগার বিষয়টা। অবশ্যই ফারাজ তিতলিকে বারবারই বারণ করেছিল যাতে কাউকে না বলে। কিন্তু কীভাবে যেন আফজাল খানের কানে চলে এসেছে কথাটা। কিন্তু কে আঘাত করেছে সেটা এখনো জানতে পারেন নি। কিছুক্ষণ আগে ফারিন বেগম ছেলের বুকে ব্যান্ডেজ করা দেখে কেঁদে দিয়েছেন মেয়ে নেই ছেলেদুইটাই ওনার জীবন।
আফজাল খান ডাক্তারকে কল করে বলছেন বাড়িতে আসতে। ফারাজ বাবাকে বলেছে সে নিজেই হাসপাতলে গিয়ে দেখিয়ে আসব। আফজাল খান মানতে নারাজ। তিনি কাঁটাছিড়া ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ঢাকার বড় ডাক্তার কে আসতে বলছেন। কল কেটে দিয়ে স্ত্রীকে বললেন,
“তোমার ছেলেকে আমি আগেই বলেছি বেশি রাতে বাইরে না থাকতে কে জানে কার সাথে মারামারি করে এসেছে হাজার বললেও নাম বলবে…”
আফজাল খান ডাক্তারকে কল করে মোবাইলটা হাতে রেখেছিলেন। তার মাঝেই মোবাইল বেজে উঠেছে আবার। তিনি স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলেন
হুশিয়ার সাহেবের কল এসেছে। আফজাল খান চিন্তিত চেহারায় কল রিসিভ করেছেন। এবং অপর পাশ থেকে যা শুনলেন, হাতটা সামান্য কেঁপে উঠলো। আফজাল খান তখনো একইভাবে দাঁড়িয়ে। ফারিন বেগম ছেলের চিন্তায় শেষ এখন আবার স্বামীকে এমন করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চিন্তিত সুরে বললেন,
‘কি হলো কে ফোন করেছে?’
আফজাল খান জবাব দিতে পারছেন না। তিনি ঠিক কিভাবে বলবেন বুঝতে পারছেন না। তবে বলতে তো হবে৷ এভাবে চুপ করে থাকলে তো চলবে না৷ স্ত্রীর দিক চাহনি নিবদ্ধ করে বললেন,
“তোমার বোনের ছেলে রোহান নাকি সকালে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে ট্রাকের নিচে পড়ে গুরুতর ভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে। বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাও বলা যাচ্ছে না।
[রোহান কি মারা গেলো? আমি জানি আজকের পর্বটা একদম ভালো হয়নি আমি কি লিখেছি নিজেও জানিনা শুধু আবোলতাবোল লিখছি কারণ পরিক্ষা দিয়ে এসে লিখছি সব পরিক্ষার চিন্তা ছিলো লিখায় মন দিতে পারিনি কিন্তু শিঘ্রই বাসর পর্ব আসবে। ]
#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৫২_শেষাংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“তোমার বোনের ছেলে রোহান নাকি সকালে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে ট্রাকের নিচে পড়ে গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সেটাও বলা যাচ্ছেনা।”
ফারিন বেগমের হাতে কাঁচের গ্লাস ছিল। সেটা শব্দ করে মেঝেতে পড়ে গেল। ভেঙেচুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছে। সেই শব্দে ড্রয়িংরুমে অনেকে ছুটে এসেছে। এমনকি তিতলিও। সে এখন নেমে আসছিলো সিঁড়ি দিয়ে। হঠাৎ কাঁচের গ্লাস ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দে খানিকটা ভয় পেয়ে গেছে। দেখল শাশুড়ি আম্মু ড্রয়িংরুমের মাঝখানে কেমন পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিতলি দৌড়ে সেখানে গিয়ে ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কি হয়েছে আম্মু?”
ফারিন বেগম কথা বলতে ভুলে গেলেন নিজের বোনের ছেলের এক্সিডেন্টের কথা শুনে। যত যাই হোক বোনের ছেলে-মেয়েদের প্রতি প্রত্যেকটা খালাদের আলাদা একটা টান থাকে। ফারাজ, রোহান প্রায় মাস খানেকের ব্যাবধানের বড়-ছোট।ছোটবেলায় নাছিমা বেগমের বুকের দুধ চলে যাওয়ায় রোহানকে তিনি বুকের দুধ পর্যন্ত খাইয়েছেন। তাই হঠাৎ এমন খবর শুনে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন। তাছাড়া ওনিতো আর জানেন না রোহানের কুকর্মের কথা। জানেন না ফারাজের বুকে আঘাত করা ছেলেটাই রোহান। জানেন না আরও কত গোপন সত্য। তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,
“রোহান এক্সিডেন্ট হয়েছে।”
তিতলি কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলো না। রোহানকে দুচোখে সহ্য করতে পারেনা সে। কেমন যেন বাজে ছেলে মনে হয়। কেমন লোলুপ দৃষ্টিতে তার শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকতো যেটা তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলতো। কিন্তু এখন তারই বা কি বলা উচিত বড়দের মাঝে তাই সে চুপ থাকল।
“আমাদের তো দেখতে যাওয়া উচিত ফারাজের বাবা।”
ফারিন বেগম বললেন কথাটা। আফজাল খান চুপ থাকলেন। রোহানকে তিনিও তেমন একটা পছন্দ করেন না। কোন ছেলেটা খারাপ কোন ছেলেটা ভালো এটা তিনি চোখের দেখাতেই বলে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি হচ্ছেন সহানুভূতিশীল মনের মানুষ। মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান। দেখতে পারেন না বলে এই না যে তিনি এক্সিডেন্টের কথা শুনে খুশি হয়ে গিয়েছেন। মোটেও তেমন কিছু নয়। আফজাল খান স্ত্রীকে ভালোবাসেন। স্ত্রীর কথাকেই প্রধান্য দেন সবসময়। এখন রোহানকে দেখতে যেতে হলে আবার টাঙ্গাইলে যেতে হবে।
তাই তিনি বললেন,
“তোমার যদি মনে হয় দেখতে যাওয়া উচিত তাহলে যাবে। আমি আছি সাথে।”
“কোথায় যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে?”
সহসা সিঁড়ি দিক থেকে গমগমে গলার আওয়াজের কথাটা ভেসে এলো। ফারাজ নেমে আসছে হাতে ঘড়ি লাগাতে লাগাতে। পরনে ব্লু-হোয়াইট শার্ট সাথে জিন্স প্যান্ট। চুলগুলো হালকা ভেজা। সদ্য গোসল সেড়ে এসেছে বুঝাই যাচ্ছে। বুকের ব্যান্ডেজ করা স্থানটা ঠিক বুঝা যাচ্ছেনা শার্টের উপর। তিতলির ফিল্মের হিরো নেমে আসছে সিঁড়ি দিয়ে তাই সে হা করে তাকিয়ে আছে। ফারাজ তিতলির দিকে তাকাতেই তিতলি চোখ নামিয়ে নিলো। গাল দুটে ফুলে আছে তার। ফারাজ সেটা লক্ষ্য করে সোজা বাবার পাশে এসে দাঁড়াল।
আফজাল খান ছেলেকে এভাবে রেডি হয়ে নিচে নামতে দেখে অসন্তুষ্ট হলেন। তাও বললেন,
“রোহান নাকি ট্রাকের নিচে পড়ে এক্সিডেন্ট হয়েছে।”
ফারাজ যেন রোহানের এক্সিডেন্টের কথা শুনেও শুনেনি কিংবা গায়েও মাখেনি মুখের ভাব-ভঙ্গিমা ঠিক তেমন। এমনকি রোহানের এক্সিডেন্টের কথাটা সম্পূর্ণ ইগনোর করল সে। এরই মাঝে আফজাল খান অসন্তুষ্ট গলায় বললেন,
“তুই অসুস্থ শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?”
ফারাজ নিজের সে-ই চেরচেনা গম্ভীর ভাব বজায় রেখে বলল,
“কলেজে।”
আফজাল খান নিজের ছেলেদের মতিগতি বুঝেন না। দুইটা ছেলে একটাও তার মতো হয়নি। তিনি চাইতেন ফারাজ তাদের নিজস্ব অফিসে জয়েন করুক। ফারাজ সেটা করল না কলেজে প্রফেসর হিসেবে জয়েন করল। অবশ্যই ছেলের যখন কলেজে জয়েন করার ইচ্ছে তিনি ছেলেকে বাঁধাও দেননি। বরং সে মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে ফরহাদকেও বলেছেন অফিসে জয়েন করতে সেও একই ঘাটের মাঝি। ডাক্তার হওয়ায় আশায় বছরে ছয়মাস সিলেটে কাটিয়ে দেয়। ওনারও বয়স হয়েছে আজকাল তিনি অফিস সামলাতে হিমশিম খান। ওনার ধারনা, এক সময় না একসময় ছেলেদেরই তো এসব দেখতে হবে। নিজের ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে বললেন,
“আমি ডাক্তারের কাছে ফোন দিয়েছি বাড়িতে আসার জন্য। আর তুই কলেজে যাচ্ছিস?”
“জরুরী কিছু কাজ আছে। যেতে হবে।”
“কয়দিনের জন্য ছুটি নিলেই তো হয়।”
ফারাজ ইতিমধ্যেই ঠিক করে নিয়েছে দু-একদিনের মধ্যেই হানিমুনে যাবে। বেচারা তিতলি হানিমুন যাওয়ার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে মিনিমাম দু থেকে তিনদিন থাকবে বলে ঠিক করে নিয়েছে ফারাজ। তখন কলেজ মিস যাবে তাই এখন বাড়িতে থেকেও কলেজে না গেলেই যেন নয়। সে তেমন একটা অসুস্থ ফিল করছেনা। শুধু তার বাবা মা আর বউ তাকে অসুস্থ বলে বলে সম্পূর্ণ অসুস্থ রোগী বানিয়ে দিচ্ছে একপ্রকার। আশ্চর্য! আফজাল খান ছেলের এমন গা ছাড়া ভাব-ভঙ্গিমা দেখে আবার বললেন,
“তুই শুনিস নি রোহান এক্সিডেন্ট হয়েছে?”
“তোমাদের থেকে শুনলাম ।”
“তোর মা চাই দেখতে যেতে।”
ফারাজ অসন্তুষ্ট হলো। তাও মাকে বলল,
“তোমাদের যেতে ইচ্ছে করলে যাও আম্মু।”
ফারিন বেগম হতভম্ব গলায় বললেন,
“তোর খালাতো ভাই হয়। ছেলেটার মরা-বাঁচার ব্যাপার আছে। দেখে তো আসতে পারিস।”
“ওই বাস্টার্ড সহজে মরবে না বেঁচে থেকে প্রতিটা মুহূর্তে মৃত্যুর যন্ত্রনা উপলদ্ধি করবে।”
“কিছু বললি?”
“না।”
ফারাজ অস্পষ্ট গলায় বলছিল আফজাল খান ঠিক শুনতে পাননি।
ফারাজ ঘড়ির টাইম দেখে নিলো।
তিতলির দিকে তাকিয়ে দেখল অন্যদিকে তাকানো। তার দিকে তাকাচ্ছেনা। অবশ্যই এর কারণও আছে। মহারানী রাগ করেছে আপাতত রাগ করেই থাকুক। বাবা মাকে বলে বের হয়ে যেতে যেতে আবার ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে গেল সদর দরজায়।
তিতলি মুখ বাঁকায়। রুম থেকে ঝগড়া করে বের হয়েছে। কিছুক্ষণ আগের কথা। তিতলি ফারাজের বুকে মলম লাগিয়ে দিচ্ছিল। তখন কিছু একটা মনে হতেই ফারাজকে বলল,
“আপনিতো আমাকে একটুও ভালোবাসেন না তাইনা? সেটা জেনেও আমি আপনার সেবা করছি। কেন জানেন?”
“হুম কেন?”
কিছুদিন ধরে তিতলির হাত খালি। যদিও ফারাজ নিজের ওয়ালেট তার কাছেই রাখতে দেয়। সে ভুলেও এসব খুলে দেখেনা। ফারাজ নিজ থেকেই তাকে টাকা দেয়। তখন সে টাকা পুনরায় ফারাজকে ফিরিয়ে দিয়ে বলতো,
“আমার লাগবেনা।”
কিন্তু এখন তার টাকা লাগবে। অবশ্যই টাকা লাগারও একটা ব্যাপারস্যাপার আছে। সে মোটেও সেবা করার বিনিময়ে টাকা চাচ্ছেনা। বরং এই সুযোগ ব্যবহার করে ভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চিন্তাও করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। মলম লাগিয়ে দিতে দিতে ক্ষতে ফু দিচ্ছে যাতে না জ্বলে। একটা ইসলামিক হাদিস সম্পর্কে তার জানা আছে। ফারাজের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল,
“আপনি কি জানেন?”
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে বলছিল,
“কি জানি আমি?”
“ওইযে,মহানবি (সঃ) বলেছেন, শ্রমিকের ঘ্রাম শুকানোর আগেই তোমরা তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দাও। কথাটা?”
“হু তারপর?”
“আমি কাল রাত থেকে আপনার সেবা করছি। আমার ঘাম তো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে কই আপনি আমার পারিশ্রমিক দিলেন না তো।”
তখন হঠাৎ করেই ফারাজ একটা কান্ড করে বসল। তিতলির ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে ঠোঁটের গভীরে গিয়ে চুষে নিলো। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে বলল,
“এটাই তোমার পারিশ্রমিক।”
তিতলি স্তব্ধ হয়ে গেল। ফারাজ বাঁকা চাহনি নিয়ে তার দিকে তাকানো। তিতলি নিজের ভিজা ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল,
“এটা কি করলেন আপনি?”
ফারাজ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলছিল,
“মহানবি (সঃ) শুধু এটা বলেননি সাথে আরও বলেছে কোনো বউ যদি স্বামীর সেবা করে তাহলে স্বামীর উচিত খুশি হয়ে বউকে চুমু খাওয়া। এখন আমি সেটাই করেছি।”
তখন তিতলিকে নিশ্চুপ দেখা গেল। ফারাজ পরপর আবার বলল,
“ইসলামে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু ইসলামে স্বামীর সেবা করা সুন্নত এটা কী বলা হয়নি?”
ফারাজ রেগে বলল। তিতলি আমতা আমতা করল।
“ইয়ে মা..নে আসলে আমার….”
একটা বড়সড় ধমক খেয়ে তিতলি চুপসে গেল। ফারাজকে সে ভয় পায় না? ভয় পায়। ফারাজের রাগকে ভয় পায়। এখন ফারাজ রেগে। এতে রেগে যাওয়ার কি আছে? বুকে ব্যান্ডেজ করা শেষ। ধমক খেয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে চলে এসেছে। ফারাজ তিতলির যাওয়া দেখল। একটু রাগের চিহ্নও নেই মুখে। শুধু একটু ভান করেছে রাগের। সে তিতলির মুখ থেকে সত্য বের করার জন্যই ধমক দিয়েছে কিন্তু তিতলি সত্যি ভয়ে চুপসে গিয়েছে। ফারাজ আনমনেই শব্দ করে হেসে ফেলল। সে প্রথমেই বুঝে গিয়েছে তিতলি কি চাই শুধু সম্পূর্ণ কথাবার্তা শেষ হবার আগেই তিতলি ফুরৎ। তিতলি রুম থেকে বের হলেও একেবারে নিচে নামেনি। করিডোর জুড়ে পায়চারি করছিল অনেকক্ষণ। যখন বুঝল ফারাজ নিচে নামবে ঠিক তার কিছুক্ষণ আগে নিচে নামার প্রস্তুতি নিলো। তারপর সিঁড়ি দিয়ে নামতেই শুনল গ্লাস ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ।
“তিতলি এদিকে আসো।”
তিতলি ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। কানে কি সে ঠিক শুনলো? নাকি স্বপ? নিজের হাতে নিজেই চিমটি কাটল। না স্বপ ট্বপ্ন না তো? উল্টো হাতে ব্যথা পেলো। ফারাজ তাকে তিতলি বলে নাম ধরে ডেকেছে। প্রথম? যদিও মিসেস তিতলি বলে এখন শুধু তিতলি। অদ্ভুত অনুভতি লাগল ওর। সদর দরজার কাছে ফারাজ দাঁড়িয়ে। ফারাজ এখনো যায়নি। তাকে ডাকছে। হঠাৎ শ্বশুর শাশুড়ির সামনে ফারাজ তাকে ডাক দেওয়ায় লজ্জায় পড়ে গেল। এমনিতে রুম থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ করে এসেছে।
“ফারাজ কেন ডাকছে দেখো তিতলি।”
ফারিন বেগম বললেন। তিতলি শাশুড়ির কথার জবাবে বলল,
“জ্বি আম্মু।”
তিতলি ত্রস্ত পায়ে সামনে এগালো। ফারাজ সদর দরজা থেকে বেরিয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। তিতলিও সদর দরজা পেরোলো। ফারাজ বাইকের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। তিতলিও সেখানে এসে দাঁড়ালো নত মস্তিষ্কে। কেন তাকাবে? একদম তাকাবেনা। তাকে ধমক দিয়েছে সেটা তো সে ভুলে যায়নি। ফারাজ তিতলির মুখের পানে পূর্ণ দৃষ্টিপাত নিক্ষিপ্ত করল। বাইকের চাবি আঙুলের সাহায্য ঘুরাতে ঘুরাতে গভীর গলায় শুধায়,
“মাথা নিচে কেন? তাকাও আমার দিকে।”
তিতলি তাকালো না। ফারাজের একটু নরম কথায় যেমন তার অভিমান গলে পানি হয়ে যায় ঠিক তেমনি একটা শক্ত কথায় অভিমান বরফে পরিনিত হয়। যতক্ষণ না অভিমান ভাঙবে ততক্ষণ বরফ গলবেনা। তিতলি গাঢ় অভিমানে বলল,
“তাকাবো না। আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই সত্যি বলছি।”
“এ সত্যি এ অবধি কতবার বলেছো?”
“বিয়ের আগে থেকেই বলে আসছি তাও এই ধরেন একশ-দুশত হবে বলা।”
“কয়বার কথা রেখেছো?”
“একবারও রাখিনি। কেন ডেকেছেন? সেটা বলুন নয়তো চলে যাবো আমি।”
“পুরুষ মানুষ বউকে কেন ডাকে ?”
তিতলি ঘাবড়ে বলল,
“ধমক দিতে। “
“আর কিছু করতে ডাকেনা?”
“না।”
“আমি কি শুধু ধমকই দিই আদর করি না তোমায়?”
ফারাজের কথার জবাব খুঁজে পেয়েছে তিতলি।
তবে মুখ ফুটে না বললেও সে মনে মনে জবাব ঠিকই দিলো,
“কই আদর করেন? উপন্যাসে নায়কেরা নায়িকাদের কত ভালোবাসে কত আদর করে নরম গলায় কথা বলে, বেইবি, সোনা,হার্টবিট,সুইটহার্ট, কই আপনাকে কিছু বলতে শুনলাম না তো। শুধু পারেন ধমক দিতে। সাথে পারেন ডিআইপি অর্জন করা জ্ঞান দিতে, তুমি এটা করবে না, ওখানে যাওয়া নিষেধ, ওটা করলে থাপ্পড় খাবে, সেটা করলে নখ কেটে দিবো, আরও কত কি।”
মনে মনে চিৎকার করে বললেও মুখে বলার সাহস পেলোনা। আজকে এমন ধমক খেয়েছে সব সাহস নিভে গেছে। এখন এটা বললে আরেকটা ধমক খেতো নিশ্চিত। তিতলি মনেমনে কথা বলার পরপরই ফারাজ বললো,
“বলো? আমি আদর করিনা তোমায়?”
তিতলির সোজাসাপটা উত্তর,
“না করেন না।”
জিভ ঠেলে অধর ভিজালো ফারাজ। চোখ ছোট ছোট করে তাকায় তিতলির মুখের দিকে। ফারাজ এখন কিছুতেই মেয়েটার সামনে নিজের গম্ভীর ভাব ধরে রাখতে পারেনা। নরম নরম গলায় কথা বলতে ইচ্ছে করে সর্বক্ষণ। আসলেই মেযেটার মধ্যে কিছু একটা আছে। নয়তো কেন সে বারবার দুর্বল হয়ে পড়ে। মনে মনে ভাবছে,
“যে মেয়েটা আদর করতে গেলে পালাই পালাই করে সে মেয়েটা নিজ থেকে বলছে আদর করিনা। এটার মানে কি বুঝায়?”
তিতলি ফারাজকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য বকবক করে যাচ্ছে,
“আপনি কি জানেন আপনাকে বিয়ে করার অনেক অনেক আগে যখন আমি আপনাকে চিনতামও না তখন আমার একটা স্বপ্ন ছিলো? শুনবেন?”
তিতলি ফারাজের উত্তরের অপেক্ষা করল না।আবেগের বয়সে কাজিন রিলেটিভ উপন্যাস পড়তে পড়তে তার মনে একটা স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল তখন। সে উত্তর দিতে শুরু করল,
“আমার স্বপ্ন ছিলো কাজিনকে বিয়ে করব কিন্তু সত্যি বলতে পোড়া কপালে একটা কাজিনও জুটেনি। সব মেয়ে কাজিনের বস্তা। কি কপাল আমার। কাজিন থাকলে হয়তো অনেক আগে বিয়ে করে বাচ্চা-কাচ্চার মা হয়ে যেতাম। তারপর…”
ফারাজ কটমট চোখে তাকিয়ে তিতলিকে ধমক দিয়ে উঠল,
শাটআপ!’
“এখনো শেষ হয়নি কথা…তারপর আমার কাজিন আমাকে কথায় কথায় আই লাভ ইউ বলতো আমিও তাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম আই লাভ ইউ টু….”
“চুপ, একদম চুপ।”
“চুপ থাকব না।”
ফারাজ বিগড়ে যাওয়া মেজাজে তিতলির লম্বা চুলের বেনুণি হাতে পেঁচিয়ে নিয়ে টান দিতেই তিতলি ব্যথাতুর শব্দ করে উঠল। কিন্তু দমে গেল না। ফারাজকে আরও রাগিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য এবার বলল,
“আরেহ ঠিকই তো বললাম। তা আমার স্বপ্নটা কেমন ছিলো বললেন না তো?”
ফারাজ উত্তর দিলো না ঠিকই কিন্তু তিতলির হাতের তুলতুলে নরম কব্জি সবেগে চেপে ধরল নিজ শক্তপোক্ত হাতের মুঠোয়। ক্রমশ শক্ত হয়ে ওঠে তার চোয়াল। নিজেকে সামলে তীব্র অধিকার মিশ্রিত গলায় বলল,
“ভেবে নাও আমি তোমার কাজিন, স্রেফ আমিই তোমার হাসবেন্ড সব,সব আমি। তোমার প্রতিটা শখ, আহ্লাদ, স্বপ সব আমাকে দিয়ে পূরণ করবে। বুঝতে পেরেছো আমি কি বলেছি? এটা আজকের পর থেকে মাথায় রিপিট করে রাখো।”
তিতলি হাতে ব্যথা পেলেও ঠোঁট কামড়ে সহ্য করে নিলো। ফারাজকে রাগিয়ে দিতে পেরে বিজয়ী হাসল। এটাই তো চেয়েছে সে। সে লোকটাকে মাঝেমাঝে বুঝতে পারেনা ঠিক। মনে মনে বলল, “নিজে জেলাস ফিল করবে কিন্তু কখনো মুখ ফুটে ভালোবাসি বলবে না আজব লোক।”
কিন্তু মুখে বলল,
“আপনি আমার কাজিন? কীভাবে? আমার চাচ্চু কোনটার ছেলে শুনি?”
ফারাজ চোখ রাঙিয়ে তাকাল। এতটাই রেগে গিয়েছিল যে তিতলির মুখে কাজিনকে বিয়ে করার স্বপ্ন শুনে নিজেকে কাজিন বলল। ফারাজের চোখ রাঙানো দেখেও তিতলির মুখে ভয়ের রেশ নেই। একটু নরম গলায় কথা বলেছে বলে সাহস বেড়ে গিয়েছে। ফারাজ পাশের বড়সড় তেতুল গাছটা দেখিয়ে বলল,
“বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু তোমাকে এই গাছের সাথে বেঁধে রেখে চলে যাবো আমি। তখন কেঁদেও কুল পাবেনা।”
তিতলি ভয়ে শেষ। সত্যি যদি তাকে তেতুল গাছের সাথে বেধে রেখে চলে যায়। আল্লাহ না করুক। লোকমুখে শুনেছে তেতুল গাছে পেত্নী থাকে। তেতুল গাছের পেত্নী নামে একটা ভূতের গল্পও পড়েছে সে। ভয়ে গা শিউরে উঠল। চুপসে যাওয়া মুখে কাচুমাচু করে বলল,
“না মানে আপনি না কলেজে যাবেন এখনো যাচ্ছেন না কেন তাহলে আমি যায় হ্যাঁ?”
ফারাজ ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। বারোটা। এখনই বের হতে হবে তাকে। কিছু জরুরী কাগজ পত্র ঠিক করতে হবে সময় লাগবে। তার ইচ্ছে করছে তিতলিকে সাথে নিয়ে যেতে কিন্তু এখন অর্নাস,মাস্টার্সদের ফাইনাল পরিক্ষা চলায় অন্য ইয়ারদের কিছুদিন যাবত বন্ধ। নয়তো তিতলিকে সাথেই নিয়ে যেতো। কিন্তু পাখিকে এত সহজে ছেড়ে দিবে সে? হঠাৎ ঠোঁটের কোণে চিলতে বাঁকা হাসির রেখা টেনে ফারাজ ফিসফিস করল,
“কি যেন বলছিলে আমি তোমাকে আদর করিনা? তাইতো? তা এখন আদর করে দেখাবো?”
“হ্যাঁ।”
ফারাজ কপাল কুঁচকালো। তিতলি নিজে থেকেই নিজের কথার ভুল বুঝতে পেরে জিভ কাটল। কি বলতে কি বলে ফেলেছে ইশশ, এখন তো আর ফারাজ তাকে ছাড়বেনা মনে হয়। চোরা চোখে ফারাজের দিকে তাকাতে গেল। ফারাজ ঠোঁট কামড়ে পাতলা অধর নেড়েচেড়ে বলল,
“আপনার আদর লাগবে সেটা প্রথমেই বলে দিলেই পারতেন ম্যাডাম। আমার আর কষ্ট করে এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো না। আমিও তো চাই বউকে আদর করতে। কাছে আসেন।”
ফারাজ দুহাত প্রসার করে তিতলিকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে তিতলি পিছিয়ে গেল। তিতলি জানে ফারাজ এখন আদর করার কথা বলেছে মানে সেটা করেই ছাড়বে। সেটা রুম হোক কিংবা বাইর। গলায় তেজ আনল।অন্যদিকে ফিরে গাল ফুলিয়ে বলল,
“আপনি আমাকে ওই সময় ধমক দিয়েছেন সেটা ভুলে যায়নি আমি। এখন আদরের কথা বলে আমাকে ছুঁয়ার বাহানা করছেন আমি বুঝি সব।”
“আপনি কিন্তু কথা ভঙ্গ করছেন ম্যাডাম। আপনি বলছেন আপনার আদর চাই।”
কথাটুকু বলে ফারাজ বাইকের সাথে ঘেষে দাঁড়িয়ে তিতলির কোমর টেনে এনে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল এবার।
ফারাজের নিশ্বাস তিতলির মুখে পড়ছে। ফারাজ তিতলির থুতনি ধরে মুখ উপরে তুলল। আসলেই মেয়েটা তার ধমকে খুব ভয় পেয়েছিল। ফারাজ ধমকটা একটু জোড়েই দিয়েছে। শক্ত গলায়। আজকাল খেয়াল করেছে তিতলি তাকে ভয় পায়না। মাথার উপর চলতে চেষ্টা করে তাই একটা ধমক দিয়ে সব সাহস এক নিমিষেই নিভিয়ে দিয়েছে। এবার ফারাজকে নরম দেখাল। তিতলির ছোটছোট বেবি হেয়ারগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিতে দিতে চোখে চোখ রেখে নরম গলায় বললো,
“টাকা লাগবে এটা মুখে বললে কি আমি দিতাম না? হুমম তাছাড়া আমার ওয়ালেট তো তোমার কাছেই থাকে সেখান থেকে যত লাগে নিয়ে নিতে।”
ফারাজের কথায় তিতলির অভিমানে ভাটি পরলো, মনের মাঝে জমাট বাঁধা কালো মেঘের কোলে উঁকি দিলো সূর্য কীরন। তাও বললো,
“আপনার জিনিস আমি না বলে নিবো কেন?”
ফারাজ তিতলির কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখে চোখ রেখে হিসহিসিয়ে আওড়ালো,
“আমার সবকিছুই তো তোমার জন্য। নেক্সট টাইম থেকে আপনার জিনিস কথাটা মুখে যেন না শুনি ওকে?”
তিতলি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে জবাব দিলো,
“তাহলে কি সবার জিনিস বলবো?”
“আমাদের বলবে ওকে।”
তিতলি বাধ্য মেয়ের মতো হ্যাঁ সুচক মাথা দুলিয়ে বলল,
“আচ্ছা।”
“এবার আমাকে ঝটফট একটা চুমু দাও দেখি।”
তিতলি হতবাক। এখানে চুমু দেওয়ার কথা আসলো কোথা থেকে? চুমু খাওয়ার নাম করে তাকে খেতে চাচ্ছে। সব বুঝে সে। ও বললো,
“আমি আপনাকে….”
“তুমি আমাকে চুমু খেতে চাও? রাইট?”
“আমি সেটা বলিনি আমি তো বলতে চাইছি…”
“হুমম জানি তো তুমি বলতে চাইছো তুমি আমাকে চুমু খেতে চাও এটা আবার বলা লাগে নাকি?”
তিতলি যেটা বলতে চাই ফারাজ তাকে সেটা বলতে দিচ্ছে না। কি বজ্জাত লোক। যেহেতু চুমু খাওয়ার শখ তাই হঠাৎ পা উঁচু করে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে তিতলি। ফারাজ বুঝতে পারল না ঠিক। এত সহজে বউ তাকে চুমু খেতে চাইবে?
ডান ভ্রু সামান্য তুলে তাকাতেই তিতলি বলল,
“ঝুঁকুন না একটু।”
ফারাজ বাধ্য। মাথা নুইয়ে তিতলির সমান হতেই মুহূর্তের মধ্যে তার শক্ত গালে কামড় বসিয়ে দিলো তিতলি। কিছুক্ষণ গালে কামড় দিয়ে ধরে রাখল। নিশ্চয়ই চুমু খাওয়ার শখ মিটে গেছে। অন্যগালেও কামড় বসাতে গেল। কিন্তু আচমকা কামড় দেওয়ার বিপরীতে গালে আলতো করে চুমু খেল। ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।
হতবিহ্বল ফারাজ! পাখি নিজ থেকে ধরা দিয়েছে দেখে হাতেনাতে তাকে ধরবে তার আগেই তিতলি দ্রুত সরে আসে হাঁফাতে লাগল। দুজনার চোখে চোখ পড়তেই, তিতলি লজ্জা পাওয়ার ভান ধরে চড়ুইয়ের মতো চঞ্চল পদচারণায় বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। ফারাজ নিজের ঠোঁটে আর গালে হাত দিয়ে দেখল এখনো ভিজা ভিজা হয়ে আছে। আশ্চর্য! মেয়েটা তাকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে রীতিমত।
“আমাকে জ্বালাতে খুব ভালোলাগে না? সুখ পাও? ব্যাপার না আমারও খুব ভালো করে জানা আপনার সর্বাঙ্গ জ্বালানোর টেকনিক।”
★
ডাক্তার এসেছে। বড় নামকরা ডাক্তার। ছেলে চলে গেছে আফজাল খান ডাক্তারকে ফোন দিয়েছিলেন কথাটা জানাতে। কিন্তু ডাক্তারের নাম্বারে সংযোগ দেয়নি। পরে তিনি নিজেই বের হয়েছেন। একটু খারাপ দেখা যায় না? ডাক্তার আসবে অথচ ছেলে বাড়িতে নেই। তাই কল না ধরায় ওনি নিজেই ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে কথাটা জানাতে বের হয়েছেন। নিজস্ব গাড়ি আছে একটানে বলে আসবেন গিয়ে। কিন্তু আফজাল খান বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন ডাক্তার এসেছে। ডাক্তার করীম। তিতলি ড্রয়িংরুমে ছিলো। ফারিন বেগম গোসল করছেন। তিতলির শাশুড়ি শিখিয়ে দিয়েছে বাড়িতে কেউ আসলে সালাম দিতে। তাই সালাম দিলো,
“আসসালামুআলাইকুম।”
ডাক্তার করীম মেয়েটাকে দেখে ঠিক চিনতে পারেন নি। সালামের উত্তর নিলেন,
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি কে?”
তিতলি লোকটার দিকে তাকাল। মাথায় চুল নেই। সে জানে অনেক ডাক্তারদের মাথায় চুল থাকেনা। তাদের প্রাইমারি স্কুলে এটা স্যার ছিলো। মাথায় চুল ছিলোনা। রোদে দাঁড়ালে খালি মাথা চকচক করতো।
সবাই মজা করে ডাকতো চান্দি সোলার। কিন্তু আড়ালে ডাকতো কারণ স্যারটা ছিল ভীষণ রাগী। তিতলির সে স্যারটার কথা মনে পড়ল এই লোককে দেখে। ভাবনা একপাশে রেখে বলল,
“আমি তিতলি।”
“তুমি যেমন সুন্দর নামও তেমন মিষ্টি। তা কিসে পড়ছো মা?”
“ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে।”
“ভাই বোন কয়জন?”
“দুজন।”
“তা বাবা কি করে তোমার?”
তিতলি বিরক্ত হয়ে যায় এত প্রশ্ন করায়। তার ব্যপারে এতকিছু জানতে চাচ্ছেও বা কেন? আজব?
“এতকিছু জেনে আপনার কী কাজ?”
“আচ্ছা বলা লাগবে না। তুমি আফজাল খানের কি হও সেটা বলো? নিশ্চয়ই বোনের মেয়ে।”
“আমি কোনো বোনের মেয়ে না। আমি আমার শ্বশুরের ছেলের বউ।”
“মানে বুঝালাম না?”
ডাক্তার ভাবলেন হয়তো মজা করছে। এত অল্প বয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে? দেখতে মনে হচ্ছে বয়স এখনো আঠারোও হয়নি। ওনি নিজের ছেলের জন্য একটা মেয়ে খুঁজছেন এমন শান্তসৃষ্ট। আশার আলো জাগতেই নিভে গেল কী?
“ছেলে কোনটার বউ?”
আমার শ্বশুরের ছেলে একটারই বিয়ে হয়েছে।”
“ও তুমি তাহলে ফারাজের বউ।”
“জ্বি।”
“বাড়িতে কি কেউ নেই? আফজাল খান কোথায়?”
“আসলে আব্বু কিছুক্ষণ আগে বের হয়েছে।”
“ফারাজ কোথায়?”
তিতলি ভাবছে ফারাজ তো কলেজে গেছে। এখন যদি বলে কলেজে গেছে তাহলে তার শ্বশুর, স্বামী দুজনেকেই কি ভাববে ডাক্তার। আমাকে আসতে বলে ওনারা কেউ নেই। যদিও ফারাজ এতে কিছুই আসবে যাবেনা কিন্তু তার শ্বশুরের চেনাজানা কোনো ডাক্তার হবেন নয়তো এতকিছু জানেন কীভাবে। কিছুক্ষণ ভাবার পর বলল,
“আসলে ওনিতো রুমে।”
“আমাকে নিয়ে চলো। ওর নাকি বুকে আঘাত লেগেছে সেটা দেখতে হবে। তোমার শ্বশুর এত করে বলল না এসে পারলাম না। “
“আসলে ওনিতো রুমে নেই।”
“তাহলে কোথায়? ডেকে আনো।”
তিতলি অনেক ভাবনাচিন্তা করল। ডাক্তার যেহেতু বাড়িতেই এসেছে তাহলে ধরে রাখতে হবে। যেভাবেই হোক। আর ঘন্টাখানেক বসলে ততক্ষণে ফারাজ চলে আসবে। তাই বললো,
“আসলে ওনি তো ওয়াশরুমে গেছেন। আমাকে বলেছেন এক’ঘন্টা সময় লাগবে ফ্রেশ হতে। তার আগে যেন ওনাকে না ডাকি। তাছাড়া আমার স্বামী খুব রাগী এখন ডাকতে গেলে রেগে আমাকেও ওয়াশরুমে বন্দি করে রাখবে। তারচেয়ে বরং আপনি একঘন্টা বসুন। আমি আমার শাশুড়ি আম্মুকে ডেকে দিচ্ছি।”
3.6 k রিয়েক্ট হলে নেক্সট পর্ব আসবে
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৪
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৬(প্রথম_অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২০
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৬১
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৬
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১১