Golpo romantic golpo রাগে অনুরাগে

রাগে অনুরাগে পর্ব ৬১


#রাগে_অসুরাগে

#পর্ব_৬১

#সুহাসিনি_ফাতেহা

ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে তিতলি কম্বল টেনে শুয়ে পড়ল। ঘুমানোর ভাব দেখাচ্ছে এখন। ফারাজকে কিছুতেই বুঝতে দিবেনা সে একটা ওষুধ না খেয়ে ফেলে দিয়েছে। তিতলি খুব করে জানে, এই লোক যা বুদ্ধিমান একবার সন্দেহ করলে তার পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে হলেও দেখতে চাইবে সে ওষুধ খেয়েছে কিনা।

ফারাজ রুমে এসেছে। তোয়ালে দিয়ে হাত’মুখ মুছতে মুছতে বিছানায় নজর দিলো। তিতলি শুয়ে আছে। দু’চোখ বন্ধ করে। বুক পর্যন্ত পাতলা কম্বল টানা। ফারাজ সময় নিয়ে তিতলির ঘুমন্ত মুখ দেখে নিচ্ছে। দশ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার মতো মেয়ে তার বউ নয়। এই মেয়েটাকে সে রন্ধ্রে রন্ধ্রে চিনে।  মুখমন্ডল, আচার-আচরণ, হাবভাব দেখেই বুঝতে পারে কিছু একটা তো চলছে। এখনও বুঝতে অসুবিধা হয়নি। সে খুব ভালো করেই জানে তিতলি ঘুমায়নি। আর কতক্ষণ এভাবে দুচোখ বন্ধ করে শান্তসৃষ্ট ভাবে শুয়ে থাকতে পারে তা তো দেখতেই হয়।

তিতলি ভাবছে ফারাজ রুমে কি করছে সেটা দেখবে। এক চোখের পাতা হালকা খুলে ফারাজকে দেখার চেষ্টা করছে। দেখতে সফল হয়েছে।  ফারাজ অন্যদিকে দিকে তাকিয়ে আছে। তার এক চোখ খুলে দেখা খেয়াল করেনি। যাক ভালোই হয়েছে। সে আবার চোখ বন্ধ করে নিলো। তার পরপরই হঠাৎ ফারাজের হাসির আওয়াজ ভেসে বেড়াল দেয়ালের কোণায় কোণায়। যা বিঁধল তিতলির কানে। তাকে আরো অবাক করে দিতে ফারাজ বললো,

“একচোখে দেখা শেষ হলে এবার দুচোখ খোলা হোক।”

তিতলি চমকে উঠল। সে একচোখ দিয়ে দেখছিল সেটা ফারাজ দেখে নিয়েছে? আশ্চর্য! অন্যদিকে তাকিয়ে থেকে কীভাবে দেখল? তিতলি 

দুচোখ খুলেছে। সঙ্গেসঙ্গে ফারাজের গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো,

“ওষুধ সবগুলো খেয়েছো?”

ফারাজের কথা শুনে তিতলি তড়িগড়ি করে বুক থেকে মাথা অবধি কম্বল টেনে নিলো। মুখের উপর মিথ্যা কথা বলবে কিনা। ছোট্ট আওয়াজে বললো,

“আপনার সামনেই তো খেলাম।’

ফারাজের ভ্রু’দ্বয়ের মাঝখানে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে।  প্রথমে তিতলির ঘুমানোর ভান করা। তারপর একচোখ খুলে তাকে দেখতে চাওয়া। কম্বল দিয়ে মুখ গুঁজে নেওয়া। তারপর তার কথার উত্তর দেওয়া। সবকিছু মিলিয়ে তার সুদর্শন মুখখানায় সন্দিহান ভাব ফুটে উঠল। বড়বড় পায়ের ধাপে এগিয়ে এসে তিতলির মাথার পাশে বসল। এক টান দিয়ে মুখ থেকে সরিয়ে দিলো কম্বল।

তিতলি যেন কিছুই জানেনা তেমন ভাব নিয়ে পিটপিট চোখে ফারাজের দিকে তাকাল,

“কি হয়েছে?”

“মুখ খুলো।”

তিতলি বুঝতে পারল না বিষয়টা। মুখ খুলবে কেন! ফারাজ দু আঙুল দিয়ে তিতলির ঠোঁটের দু’পাশ চেপে ধরল। চোখ রাঙিয়ে আবার ইশারায় বোঝালো,মুখ খুলতে। তিতলি তবুও খুলছে না।  নাছোড়বান্দা! তিতলি পরপর ভাবলো ফারাজ তো জানে সে সবগুলো ওষুধ খেয়েছে। তাহলে আর চিন্তা কিসের? মুখ না খুললে পরে দেখা যাবে ফারাজ তাকে সন্দেহ করছে।  তাই ছোট্ট করে হা করে বললো,

“এইযে দেখুন…দেখুন হা করেছি আমি।”

ফারাজ তিতলির সেই ছোট্ট হা করা মুখের দিকে  স্থির দৃষ্টে তাকিয়ে রইলো খানিকক্ষণ। গোলাপি  ঠোঁটজোড়া দুপাশে ছড়িয়ে। তার কামড়ের ক্ষতে  ঠোঁটজোড়ার সৌন্দর্য যেন আরও বেশি ফুটে উঠেছে। ফুলোফুলো গাল’দুটো খুব আকর্ষণীয় লাগছে। ফারাজ একটু ঝুঁকে এলো। তিতলির হা করে রাখা গালের ভেতরে নিজের সুচালো নাক এনে লম্বা করে একটা নিশ্বাস টানল। যেন নিশ্বাসের মাধ্যেমে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছে। সে মুহূর্তে বেয়াদব তিতলি নিজের ছোটছোট ইঁদুরের দাঁত দ্বারা ফারাজের নাক কামড়ে ধরল। শক্ত করে। পরপর আবার ছেড়ে দিলো। ফারাজও ভেতর থেকে নাক বের করে নিয়েছে। লাল হয়ে গেছে নাকের ডগা। নাক বের করে আনলেও মুখ সরায়নি ফারাজ। কামড় খেয়েও তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

 আশ্চর্য! কী আশ্চর্য! ফারাজ কি কোনোভাবে বুঝে গেল নাকি সে ওষুধ একটা খায়নি। কিন্তু কীভাবে বুঝলো সেটা ভেবেই কোল পাচ্ছেনা তিতলি। 

 ফারাজ হঠাৎ তিতলিকে আশ্চর্যের চরম সীমানায় পৌঁছে দিতে তিতলির ঠোঁঠে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। আদুরেভাবে চুষে নিতে লাগলো তুলতুলে নরম ঠোঁটজোড়া। হঠাৎ আক্রমনে তিতলি পুরো তাজ্জব ভনে গেল। স্তব্ধ হয়ে গেল। চোখদুচো রসোগোল্লার ন্যায় বড়বড়। ফারাজ এমনকিছু করে বসবে কল্পনাও করেনি। তিতলি অজান্তেই  ফারাজের খোঁচা খোঁচা দাড়িযুক্ত দু’গালে নিজের তুলতুলে নরম হাতদুটো রাখল। ফারাজের চুমুতে অন্যরকম স্বাদ ঢুকছে তার মুখের ভেতরে।  ফারাজ নিজের জিভের স্পর্শ সরাসরি তিতলির মুখের ভেতরের গভীরতা অবধি নিয়ে গেল। ফারাজের জিভের নড়াচড়ায় মুখের ভেতরে প্রচন্ড সুড়সুড়ি লাগছে তিতলির। দ্বিতীয়বার কিছু বুঝে উঠার আগেই ফারাজ ঠোঁট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। ভেজা ঠোঁট মুছতে মুছতে ফারাজ তিতলির পানে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করল। তারপর কোনো কথা না। সোজা টেবিলের দিকে এগোল। আরেকটি ঔষধ নিবে এমন হাবভাব! সেটা দেখে তিতলি ঘাবড়ে গেল। ঔষুধ যেটা সে ফেলে দিয়েছে ঠিক তেমন ওষুধের পাতা ফারাজের হাতে।  আল্লাহ! তাহলে কী সত্যি সত্যি সব  বুঝে গেল নাকি? বুঝে যাক। তিতলি এই ওষুধ খেতে পারবেনা একদম। কি বাজে গন্ধ। তাকে কে’টেকুটে নদীতে ভাসিয়ে দিলেও খাবেনা। ফেলে দিয়েছে সেটাও স্বিকার করবেনা। তিতলি হঠাৎ গা থেকে আলগোছে কম্বল সরিয়ে কান্নামিশ্রিত দুর্বল গলায় বলতে লাগলো,

“আপনি…আপনি আমাকে এক ঔষুধ দুবার খাইয়ে মেরে ফেলতে চাইছেন নাকি। বললাম তো আমি খেয়েছি।”

ফারাজ ঘুরে তাকাল। তিতলির কান্নামিশ্রিত মুখশ্রী। অসহায় চাহনি। এমন চাহনিতে রাজ্যের মায়াবতী লাগছে। আদুরে লাগছে। দেখে বিন্দু পরিমান বোঝার উপায় নেই সে মিথ্যা বলছে। ফারাজের ছোট্ট সন্দেহ বহু দূরে পালালো। মস্তিষ্ক শীতল হয়ে গেল। থেকে গেল বুকের বা’পাশের চিনচিন ব্যথা। ওষুধটা তিতলি সত্যি খেলে থাকলেই সে একটু নিশ্চিত। দু’পা এগোল। নরম গলায় বললো,

“সত্যি খেয়েছো?”

“হু! একদম সত্যি খেয়েছি তো। কিন্তু এটা কিসের ওষুধ সেটা বললেন না তো?”

ফারাজ তিতলিকে একটা ধমক দিয়েছে,

“এতকিছু তোমার জানতে হবেনা।”

“হু! এখন আমার কিছু জানতে হবেনা।”

তিতলি মুখ ভেংচিয়ে কথাটা বলল। সে জানতে চাইও না। কারণ ঔষুধ তো সে খায়নি। যাক তাকে আর এই ঔষুধ খেতে হবেনা। তাও ধমক দেওয়া মানতে পারছেনা। কিসের ঔষুধ তাকে বললে কি মহাপাপ হতো? ধমক দেওয়া শুরু হয়ে গেছে।” 

______

নিধি কলেজে এসেছে। ক্যান্টিনে বসে আছে মনমরা হয়ে। এখন আর কলেজে আগের মতো ভালো লাগেনা। ধীরেধীরে সবচেয়ে কাছের বান্ধুবি গুলোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তিতলির পর স্মৃতিরও বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ের পর কলেজে আসলেও আগের মতো আর আমতলায় বসে আড্ডা দেওয়া হয়না। তিতলির বিয়ের পর থেকেই ওরা তেমন একটা আমতলায় আড্ডা দিতে যায় না। কারণ তিতলিই সবাইকে আমতলায় আড্ডা দিতে নিয়ে যেত। তখনকার দিনগুলো কত সুন্দর ছিলো। এখন কলেজে ফারাজ স্যার আসলে তিতলি আসে। আবার কখনও কখনও ফারাজ স্যার আসলেও তিতলি আসেনা। তিতলি কলেজে আসলেও ফারাজ স্যার তিতলিকে আমতলায় আড্ডা দিতে দেয়না। মনমরা হয়ে কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কারো গলার আওয়াজে ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো নিধি।

“আরে তুমি নিধি না?”

নিধি পেছন ফিরে তাকাল। নিধির প্রথমে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। চেনাচেনা লাগছে কিন্তু চিনতে পারছো। হ্যাঁ তুষার ভাইয়ের বন্ধুটা? অয়ন ভাইয়া।  তিতলির হলুদের দিন তার সাথে ধাক্কা লেগে হাত থেকে মোবাইল পড়ে গিয়েছিল লোকটার । নিধি তাকাল। চিকন গরনের ছেলেটাককে এখন দেখতে সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক লাগছে। আগের থেকে বদলে গেছে তাই নিধির চিনতে অসুবিধা। খেয়াল করে দেখল অয়নের পাশে আরেকটা মেয়ে। নিধি বললো,

“জ্বি! আমি নিধি।”

অয়ন হালকা হেসে বললো,

“আমার বোনকে কলেজে ভর্তি করিয়েছি।  তোমাদের সাথে, একই ইয়ারেই পড়ে।”

নিধি মেয়েটার দিকে তাকাল। শ্যামলা গায়ের রঙ। মোটামোটি দেখতে ভালোই। কিন্তু নিধির জানামতে অয়নের বোন তো একটা সেটা আয়েশা। তাও বিবাহিত। এটা  হয়তো মামাতো, খালাতো হবে। নিধি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

” হাই আমি নিধি তোমার নাম কি?”

“আমার নাম মুনা।”

“খুব সুন্দর নাম।”

অয়ন নিধির দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা তিতলির মতোই চঞ্চল অনেকটা। তার প্রথম ভালো লাগা ছিল তিতলি। এখন তেমন কিছু মাথায় আনতেও ভীষণ লজ্জাবোধ করে। অনেক আগেই তিতলির প্রতি তার ভালো লাগা কোরবানি দিয়েছে। আর কখনো কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকাবে না শপথ করা অয়ন  আজ না চাইতেও নিধিকে খেয়াল করলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ঠোঁটের উপর একটা কুুচকুচে কালো তিল আছে। ফর্সা মুখে তিলটাই যেন সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয়। অয়ন পরক্ষণেই নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো। গম্ভীর গলায় বললো,

“তুমি মুনাকে একটু তোমাদের ক্লাসে নিয়ে যেতে পারবে?  ও নতুন তাই তেমন একটা চিনবে না।”

নিধি মুচকি হাসল,

“কেন নয় অবশ্যই নিয়ে যাবো।”

নিধি আর মুনা অয়নের থেকে বিদায় নিয়ে তাদের ক্লাসের দিকে এগালো। এতক্ষণ মন মরা হয়ে থাকা ভাবটা এখন একটু হলেও কমেছে নিধির। অয়ন পেছন থেকে নিধিকে পর্যবেক্ষণ করল কিছুক্ষণ। মেয়েটা ভালোই। কথাবার্তাও সুন্দর।

_________

বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছে চঞ্চলা রমণী। আজকে দুদিন হলো সে ভালো করে হাঁটতে পারেনা। এখানে ওখানে ঘুরঘুর করা তিতলি কি সারাদিন শুয়ে থাকার মতো মেয়ে? যদিও আগের থেকে শরীর অনেকটা সুস্থ হয়েছে। কিন্তু হাঁটতে গিয়ে সমস্যা। হাঁটার চেষ্টা করে কিন্তু ছয়-সাত কদম হাঁটার পর টকাস করে পড়ে যেতে নেয়। তার দু’উরুর কি যেন হয়ছে খুব ব্যথা করে। ফারাজ বলে ওষুধ খেলে নাকি ঠিক হয়ে যাবে। হ্যাঁ প্রথম দিনও থেকেও একটু কমেছে। কিন্তু পুরোপুরি নয়। সব ফারাজের জন্য। সেদিন রাতে যদি ফারাজ তার দু’উরু শক্ত করে দুপাশে ছড়িয়ে না রাখত তাহলে  এমন কিছু হতোনা। সে যেন হাঁটতে না পারে তাই ফারাজ এমন করছে। তিতলি সব জানে। এইতো তিতলি এখন ওয়াশরুমে যাবে কিন্তু যেতে পারছেনা। ফারাজের কোলে করেই যেতে হবে।  অসহায় কন্ঠে ফারাজকে বললো,

“আমি কবে থেকে আবার আগের মতো হাঁটতে পারবো? আমি তো হেঁটে ওয়াশরুমেও যেতে পারিনা। আমার ভালো লাগেনা কিছু।”

দুর্বল রমণীর অসহায় কন্ঠে বলা কথাটার বিপরীতে  এবার বোধহয় বড্ড বিচলিত হলো ফারাজ। তক্ষুনি বিছানার কাছ ঘেষে দাঁড়িয়ে নিজের বলিষ্ঠ শক্তপোক্ত পিঠ ঘুরিয়ে দিলো তার চঞ্চলা প্রজাপতির দিকে। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে শুধালো,

” আমার কাঁধে উঠো। ওয়াশরুমে নিয়ে যাচ্ছি।”

তিতলি ঘুরে ফারাজের পিঠের দিকে তাকাল। উদোম পিঠ। সম্পূর্ণ পিঠ এখনো লালবর্ণ হয়ে আছে। আঁচরের দাগ। তার ফারাজ গোসল করলে এগুলো খুব জ্বলে নিশ্চয়ই! তিতলি ভীষণ কষ্ট পেল। সে ফারাজকে এভাবে আঁচর দিয়েছিল? পরক্ষণেই ভাবলো না থাক আঁচর দিয়ে ভালোই করেছে তাকে যা অবস্থা করেছে সেখানে আঁচর দেওয়া অনেক কম হয়ে গেছে। 

ভাবনা চিন্তা বাদ! তিতলি শুয়া থেকে হাটু ভেঙে বসে ফারাজের পিঠে উঠল। দু’হাতের সাহায্য জড়িয়ে ধরল পুরুষালী গলা। ফারাজ তিতলির পাদুটো দুপাশ থেকে রেখেছে। ফারাজের কাঁধে জড়সড় হয়ে লেপ্টে থাকা তিতলিকে দেখতে মনে হচ্ছে একটা  বাচ্চা মেয়ে কাঁধে উঠেছে। তিতলি কিছু একটা ভেবে মিনমিনিয়ে জানতে চাইল,

“আপনি ভেতরে ঢুকবেন? নাকি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন?”

ভ্রুক্ষেপহীন ফারাজ! উল্টো ভনিতাহীন কণ্ঠে সঙ্গেসঙ্গে শুধায়,

“আমি ভেতরে ঢুকলেও কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছেনা।”

“আমি কিন্তু পার্সোনাল কাজে যাবো।”

এক পা দুপা করে তিতলি সমেত ওয়াশরুমের দিকে এগোচ্ছে ফারাজ। তিতলির বলা কথাটা শুনে ঠোঁট কামড়ে হাসল বোধহয়। অনেকদিন হলো বউকে জ্বালানো হয়না। আজ জ্বালিয়ে লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে মারার জন্য ফারাজ কোনোরকম ভনিতা ছাড়াই আওড়ালো,

“তোমার সর্বাঙ্গে এমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যেটা আমার অদেখা। এমন কোনো জায়গা বাদ রাখিনি যেখানে আমার হাতের ছোঁয়া, আমার ঠোঁটের স্পর্শ লাগেনি। তাহলে আমার সামনে পার্সোনাল কাজ শেষ করতে কিসের এত অস্বস্তি?”

লজ্জায় হতভম্ব তিতলি এবার ফারাজের গলা থেকে হাত সরিয়ে ফারাজের ঠোঁটের উপর হাত চেপে ধরল।  তারপর লাজুক রমণী লাজে লাল,নীল হয়ে বললো,

“আমার লজ্জা লাগবে না বুঝি? আপনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি কিছুই করতে পারবো না। আপনি…আপনি আমার কিছুই দেখেন নি।

 আমি…. আমি বিশ্বাস করিনা। বিশ্বাস করিনা।”

“আমি যদি তোমার কিছু না দেখেই থাকি তাহলে আমি কীভাবে জানি যে তোমার ওই জায়গায় একটা তিল আছে।”

লজ্জার লালিমায় গাল জ্বলছে তিতলির! কানদুটো থেকে যেন ধোঁয়া ছড়াচ্ছে রীতিমত। এসব কথা আবার কিভাবে মুখে বলে এই লোক। ওনার লজ্জা সরম না-ই থাকতে পারে কিন্তু তিতলি অনেকবেশি লাজুক। এই লোকটা সবসময় তাকে আরও বেশি লজ্জায় পেলে। তিতলি ফোঁসফোঁস করে বললো,

“অসভ্য,নির্লজ্জ, বেহায়া লোক! আজকে থেকে আপনার জায়গা সোজা খাটের নিচে।”

ফারাজ ও তিতলির সাথেসাথে তাল মিলিয়ে জবাব দিলো,

“নো প্রবলেম! খাটের নিচে থাকতেও রাজী আমি যদি আমার পাশে আপনি থাকেন মিসেস তিতলি।”

তিতলি আর কিছু বলতে পারেনি লজ্জায়। ফারাজ ওয়াশরুমের ভেতরে গিয়ে তিতলিকে কাঁধ থেকে নামালো। ফারাজ যেতে চাচ্ছিল না। তিতলি জোর করে এটা সেটা বলে বাইরে দাঁড়াতে বলছে। তার হয়ে গেলে তখন ডাকবে। 

_______

আজকে তিতলিদের কক্সবাজার আসার চারদিন। আজকে চলে যাওয়া কথা। কিন্তু  সকল থেকেই দানবীয় ঝড় বৃষ্টি পড়ছে কক্সবাজারে। প্রচুর বাতাস। এ বৃষ্টি বাতাসের মধ্যে বাইরে বেরোনোই  দুষ্কর। গাছপালা ভেঙে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে কোনো বিপদ।

ফারাজ মোবাইল হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়েছে। তিতলির সাথে শিফা আছে রুমে। ফারাজ আপাতত আলভী আর শাওনের সাথে  থমথমে গম্ভীর চেহারা নিয়ে বসে আছে। এর মাঝেই তার ফোন এসেছে। শাওন বললো,

“কীরে কে ফোন দিছে?”

“আব্বু!”

ফারাজ ফোন হাতে নিয়ে একটু সাইডে গিয়েছে। আফজাল খান ফোন দিয়েছে। সকালেও কথা হয়েছে বাড়িতে। এখন আবার। ফারাজ রিসিভ করলো। সঙ্গেসঙ্গে ওপাশ থেকে আফজাল খান বললেন,

“বৌমা নাকি আজকে দুদিন ধরে হাঁটতে পারেনা? কথাটা কি সত্যি?”

ফারাজ ভ্রু কুঁটকাল। এই খবর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে? ফারাজ বললো,

“তোমাকে কে বললো এসব?”

“যেই বলে থাকুক! তুই বল কোথায় পড়ে পা ভেঙ্গে গেছে আগে আমাদের জানাস নি কেন? এতক্ষনে নিশ্চয়ই তৌসিফ শেখের কানে চলে গিয়েছে। কি জবাব দিবো আমি ওনাদের।”

ফারাজ গম্ভীর। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ। মা-বাবাকে সর্বদাই সম্মান দিয়ে কথা বলে। নিজের ব্যক্তিগত ব্যপার নিয়ে কারো সাথে শেয়ার করা অথবা সে যে তিতলির সাথে এটা করেছে সেটা করেছে নির্লজ্জের মতো এসব বলার মতো পুরুষ সে মোটেও নয়। হ্যাঁ সে নির্লজ্জ সেটা শুধু বউয়ের কাছে। ফারাজ গম্ভীর গলায় বললো,

“পা ভেঙে যায়নি। এসব আজগুবি কথা কে তোমার কানে দিয়েছে?”

“তুই আমার মেয়েকে দেখে রাখিস নি? আগে বল তুই কি করেছিস তিতলির সাথে?”

ফারাজ ফোন কেটে দিয়েছে। মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে আবার আগের জায়গায় আসলো। 

 আলভী ফারাজকে দেখে শয়তানি হাসি দিলো। তাকে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে ডক্টর আনতে পাঠিয়েছে আবার ডাক্তার আনা শেষ তাকে ভাগ, ভাগ বলে চলে যেতে বলেছে তাই সে শোধ তুলতে একটু হালকার উপর ঝাপসা ভাবে চাচার কানে  পাঠিয়েছে খবরটা। একটু আগে। 

ফারাজকে দেখে আলভী নিজেকে স্বাভাবিক করে শাওনকে বলছে,

“ঘূর্ণিঝড় উঠেছে শুনলাম। তিন নাম্বার বিপদ সংকেত কক্সবাজার।”

“ঘূর্ণিঝড় উঠলে সবার আগো কক্সবাজার  তলিয়ে যাবে।”

আলভী ভদ্র। সামনের ফারাজের দিকে তাকাচ্ছেওনা। সে শাওনকে বললো,

“আমি তাই বলছি ঝড় বৃষ্টি হলেও আজকে ঢাকায় ব্যাক কর।”

আলভীর দিকে কিছুক্ষণ পরপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে ফারাজ। আলভী একদম স্বাভাবিক। সে শাওনের সাথে কথা বলেই যাচ্ছে।  ফারাজ কিছুক্ষণ পর সন্দেহের গলায় আলভীকে বললো,

“তুই আব্বুকে ফোন করেছিস?”

আলভী কোনো,কিছু জানেনা বোঝেনা,

“আজব আমি চাচ্চুকে ফোন করলাম কখন?”

“মিথ্যা বলছিস কেন?’

” বিশ্বাস না হলে শাওনকে জিজ্ঞেস কর।”

“হ্যাঁ দোস্ত ও তো ফোনই সাথে আনেনি রুমে রেখে এসেছে।”

ফারাজ কিছুক্ষণ  ভ্রু কুঁচকে রাখল। আলভীকে সন্দেহ হচ্ছে তার। তিতলি কখনোই একথা শ্বশুরের কাছে বলবেনা। এমনকি অন্য কারো কাছেও নয়। সে হাড়েহাড়ে চেনে তিতলিকে। তার লাজুক বউ।  অন্য কথা সবাইকে একশবার বলবে তবে এ বিষয় নিয়ে সে কারোর সামনে মুখও খুলবেনা। 

#চলবে।

যদি রাত নয়পার ভেতরে ২.৮ কে হয় তাহলে আরেকটা পর্ব দিবো। অর্ধেক লেখা আছে। আমি এখানে পুরোটা দি নাই।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply