#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪৪(প্রথম_অংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“আপনি তোয়ালেটা নিয়ে এবার আমাকে মুক্ত করুন তো।”
যুবক বাঁকা হাসলো। কপালে লেপ্টে যাওয়া ভেজা চুলগুলো দুহাতে পেছনে ঠেলে দিতে দিতে দরজার ফাঁক গলিয়ে বাড়িয়ে রাখা রমণীর হাতের পানে তাকালো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ ছোট ছোট হলো তার। খোঁচাখোঁচা দাড়িযুক্ত দৃঢ় চোয়ালটা সামান্য বাঁকা করে ফের ঝর্ণার পানির নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে ভিজিয়ে নিলো ফারাজ। ওইদিকে অধৈর্যবান তিতলি একটুখানি ধৈর্য্য ধরে এখনো তোয়ালেটা বাড়িয়ে রেখেছে ওয়াশরুমের ভেতরে। সে তো এতক্ষণে চলে যেত। শুধু এটা তার তোয়ালে বলে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ফারাজ তার তোয়ালে দিয়ে গা মুছবে আর সে অনেকদিন ধুবে না এই তোয়ালে। কিন্তু তোয়ালে নিচ্ছে না কেন এখনো। ফারাজের তোয়ালে হলে এতক্ষণে ভেতরে ছুড়ে মেরে চলে যেত। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে নিজে একশকটা গালি দিচ্ছে। এবার না পেরে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে তিতলি বলল,
“এই নিন না।”
না! কোনো উত্তর আসলো না ভেতরের মানুষটার কাছ থেকে। তিতলি এবার বড্ড অতিষ্ট, অধৈর্য হলো। তোয়ালে আনতে বলে এখনও তাকে দাঁড় করিয়ে রাখার মানে কি? নিচ্ছে না কিছু বলছেও না। মনে হয় ভাল্লুক ভুলে গেছে সে যে এখানো দাঁড়িয়ে। তিতলি মনেমনে বলল,
“এবার লাস্ট বার বলবো যদি তোয়ালে না নেয় আমি চলে যাবো বলে দিলাম।”
মনেমনে কথাটা বলে তিতলি তোয়ালে সমেত নিজের হাতটা ভেতরে পুরোপুরি বাড়িয়ে দিয়ে দরজাটাও একটু ফাঁক করল এবার। চোরাপথে ভেতরে উঁকি দিতে গিয়ে দু’চোখ বুঁজে নিয়েছে ফারাজকে দেখার আগেই। কি একটা পরে আছে তার বুঝি লজ্জা লাগে না? হাতটা একটু নড়চড়া করে তিতলি নিজের উপস্থিতি জানান দিতে বলল,
“কি করছেন আপনি? তোয়ালে নিবেন নাকি আমি চলে যাবো।”
ফারাজ এতক্ষণ ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে চুপচাপ তিতলির কথা শুনে গিয়েছে। সে দেখতে চেয়েছিলো তার বউ তার জন্য ঠিক কতসময় অপেক্ষা করতে পারে। চুপ থাকলেও তার দৃষ্টি ঘুরেফিরে শুধু তিতলির হাতের দিকেই ছিলো। মনে মনে ফারাজ বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“তোয়ালের সাথে সাথে তার মালিককেও চাই।”
সহসা অন্য ইচ্ছে জেগে উঠলো ফারাজের মনে। সুযোগের সঠিক সময় ব্যবহার করা বলতে একটা কথা আছে তো? ফারাজ হচ্ছে বড্ড সুযোগ সন্ধানী মানব। ঘাড় ডলতে ডলতে তৎক্ষণাৎ কদম বাড়ালো দরজার পানে। দরজার সম্মুখে এসে কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়া-য় আচমকা নিজ পেশিবহুল হাতের সাহায্য তিতলির বাড়িয়ে রাখা তুলতুলে নরম হাতের কব্জিসন্ধি ধরে এক হেঁচকা টান দিলো ফারাজ।
তিতলি ভয়ে চোখমুখ খিঁচে নিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াচ্ছে,
“আল্লাহ! এই ভাল্লুক আমাকে ভেতরে টান দিলো কেন?”
ঘটনাপ্রবাহে তক্ষুনি সম্পূর্ণ দরজা খুলে গিয়ে অপ্রস্তুত তিতলি হুড়মুড়িয়ে থুবড়ে পড়েছে ফারাজের উদোম বুকে। ফারাজের হাতের টান এতটাই জোর ছিলো যে তিতলি পুরোপুরি মিশে গিয়েছে ফারাজের পুুরুষালী বলিষ্ঠ দেহের সাথে। নিজেও একটু ভিজে গিয়েছে ফারাজের শরীরের সাথে মিশে। চিরচেনা পুরুষালী দেহের ভেজা সুবাস ভেসে এসেছে নাকে। ঘনিষ্ঠ হয়ে নিজেই দুরু কেঁপে উঠলো বোকা মানবী। একটু ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল। ফারাজ চোখদুটো বন্ধ করে রেখে ফেলে রাখা হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়েছে। কি-জানি কি ভাবছে সে।
তিতলি সুযোগ বুঝে ফারাজের বুক থেকে সরে এসে হাঁসফাঁস করল কিছুক্ষণ। চোখ পিটপিট করে চোরাচোখে ফারাজের দিকে তাকাল। ফারাজের পরনে ছুপছুপে ভেজা আন্ডারওয়্যার ছাড়া আর কিছু নেই। সেটায়ও লেপ্টে আছে পুরুষালী অগ্রভাগ। তিতলির আজ লজ্জায় মরে যাওয়ার দিন। লজ্জায় যত্রতত্র নুইয়ো গেলো। এসব কেন তার চোখে পড়তে গেল আসতাগফিরুল্লাহ। মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যেতে চাইলে ফারাজ তিতলির হাত আবারও টেনে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনলো। ভেজা চুলে কঠিন ঝাঁকুনি দিয়ে তিতলির গায়ে ফেলল ফোঁটা ফোঁটা পানি। তিতলির বিস্ফোরিত চোখদুটো একমুহূর্তের জন্য বুঁজে গেলো অভিঘাতে, আতঙ্কে। কোনোরকমে রয়েসয়ে কাঁপা গলায় বলল,
“ছা-ছাড়ুন আমি ভিজে যাবো তো।”
ফারাজের ঘোর লাগা দুটো চোখ। ক্ষণে ক্ষণে তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় জিভ ঠেলে ভেজাচ্ছে অধর। গভীর দৃষ্টে একমনে পরোখ করে যাচ্ছে পিচ্চি বউকে। ধীরলয়ে ঝুঁকাচ্ছে পাহাড়সম দেহটা।
তার কন্ঠসুর টাও কেমন অন্যরকম শুনালো,
“তো? ভিজে গেলে কি হবে?”
সহসা লজ্জায় উত্তাপে গালদুটো রক্তিম ধারণ করেছে সপ্তদশীর। বুকের খাঁচায় লুকায়িত হৃদস্পন্দন আকাশ ছুঁয়েছে অনেক আগেই।
দ্রুত গতিতে চলমান দ্রিমদ্রিম শব্দের আওয়াজ যেন এক্ষুনি বুক ছিড়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে। আমতা আমতা করে অসহায় কন্ঠে শুধালো,
“আমি গোসল করে ফেলেছি আমার নতুন জামা নষ্ট হয়ে যাবে প্লিজ।”
“জামা নষ্ট হয়ে গেলে কিনে দেওয়ার দায়িত্ব আমার। সো..ঐসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা না করে জাস্ট ফেকাস অন মি।”
ফারাজের হাতদুটো তিতলির কোমরে চলে এসেছে এবার। ধীরেধীরে তার আঁকিবুকি চলছে কোমরের আশেপাশে। তিতলি জড়সড় হয়ে গিয়েছে। একবারের জন্যও চোখ খুলছেনা। গলায় বুঝি সব শব্দরা আটকে গেল। কন্ঠনালী ভেদ করে যেন কোনো কথাও বের হতে চাচ্ছে না তেমন করে বলল,
“আ…আমি আপনার দি–কে আমি তাকা..বো কি করে? আপনি…”
“চোখ খুলে আমার চোখের দিকে তাকাও। তাতেই হবে।”
ফারাজের হাত দুটো থেমে নেয়। অন্যদিকে চলাচল করতে যাচ্ছে বুঝতেই তিতলি ফারাজের হাতদুটো খামছে ধরে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো,
“আমার কে-কেমন জানি লাগছে সব।”
ফারাজের চলন্ত হাত থেমে গেলো। তিতলির পুরো মুখে নজর বুলিয়ে আলগোছে একহাত রাখল তিতলির নরম গালে। গভীর গলায় শুধালো,
“আমার টাচ খারাপ লাগছে?”
তিতলি এই কথার উত্তরে কি বলবে যেন সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মাথা নত করে নিলো। চিবুক এসে ঠেকেছে গলায়। ফারাজ তখনও উত্তরের আশায় চেয়ে। তিতলি হ্যাঁ বা না কিছুই বলছেনা।
ফারাজ পরক্ষণেই চোয়াল শক্ত করে গ্রীবাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে এনে তিতলির কানের বড্ড কাছে মুখ নামিয়ে অনেকসময় নিয়ে কিছু অপরিচিত,অদ্ভুত কথা বলতে শুরু করলো। এমন ছিলো যে একথা গুলো তিতলির কাছে আজ নতুন। বুঝতে সময় লেগে গেলো মিনিটের বেশি সময়। যখন বুঝলো তখন তিতলির কানের লতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ফারাজের কথাগুলো। গালদুটোতে তার সে-কি লালিমা ভাব।
ফারাজ এবার তিতলির লাজুকময় মুখপানে দৃষ্টি রেখে মৃদুস্বরে বলল,
“তখন…তখন কি করবে হুমম?”
“ছিঃ, আপনার মুখে কোনো কথা আটকায় না।”
ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে হাসল। কন্ঠে দুষ্টুমির প্রলেপ লেপে আওড়ালো,
“মুখ হচ্ছে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম। তবে তুমি যদি চাও মুখ সাময়িক সময়ের জন্য তোমার ঠোঁট দ্বারা আটকে রাখতে পারি, কিন্তু কিছু একটা আটকাতে পুরোপুরি তোমাকে প্রয়োজন।”
তিতলি ফারাজের কথার মানে বুঝতে পেরে কথা ঘুরানোর জন্য কাচুমাচু করে বলল,
“আপনি আমাকে বলছেন তোয়ালে দিয়ে যেতে…”
তিতলি এদিকওদিক তোয়ালে খুঁজতে গিয়ে দেখে তার হাতের তোয়ালে ঝর্ণার নিচে ভিজে গিয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওই সময় টান দেওয়ার ফলস্বরপ হাত থেকে ছিটকে ওখানে গিয়ে পড়েছে। তিতলি ভাবুক হয়ে বলল,
“এখন কি করে গা মুছবেন?”
ফারাজ তিতলির গায়ের থেকে ওড়নাটা খুলে নিজের হাতে পেঁচিয়ে নিলো কিছু সময়ের জন্য। তিতলির তুলতুলে নরম হাতদুটোকে পেছনে নিজের বলিষ্ঠ হাতে মুঠোবন্দি করে অসামান্য পায়ে এক পা দুপা করে দেওয়ালের সঙ্গে লেপ্টে গেল তারা। মাথাটা ঝুঁকিয়ে এনে আচমকা তিতলির গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে নাক ঘষল ফারাজ। ধীরলয়ে বুকের নরম উদরের কাছাকাছি নেমে আসতেই বরফের ন্যায় জমে গেলো তিতলি। ধড়াস ধড়াস শব্দ হলো বুক পিঞ্জরে। সর্বাঙ্গে ঝংকার বইতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো ফারাজের ঘোরলাগা কন্ঠ,
“ড্যাম! ইউ স্মেল আই লাইক ইট!”
তিতলি গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে ফারাজের মাথা সরাতে চাইলো। ফারাজ তার হাতদুটো আঁটকে রেখেছে তাই সরাতে চাইলেও ফারাজ হাতের জোর বাড়িয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। নিজের বলিষ্ঠ দেহের সাথে পিষে ফেলবে তিতলিকে যেমন। তিতলি দুহাতে ফারাজের বুক ঠেলে সরাতে চেয়ে বলল,
“আপনি প্যান্ট পরুন রুমে গিয়ে প্লিজ। আমি..আমি…”
ফারাজ তিতলির কথা শুনে একটু মুখ তুলে সোজা হলো এবার। নিজের দিকে একবার তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে নিলো। হাতে পেঁচিয়ে রাখা তিতলির ওড়নাটা খুলে নিজের কোমরে পেঁচাতে পেঁচাতে সন্দিহান গলায় বলল,
“এবার কোনো অসুবিধা নেই তো।”
ফারাজের কান্ড দেখে তিতলির মুখ ফুরিয়ে হাসি আসতে চাইছে। কি আশ্চর্য! তার ওড়না কোমরে পেঁচিয়েছে। তাতে কি? তিতলি হঠাৎ শফারাজকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“অনেক অসুবিধা। কানখাড়া করে শুনুন আম্মু ডাকছে রুমের বাইরে।”
কথাটা খুব করে শুনলো ফারাজ। শুনলোও কেউ ডাকছে। অথচ গা ছাড়া ভাবটা যা ধরছে না। তিতলির কথাটা তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে বলল,
কই আমি শুনছি না তো? তুমি কানে বেশি শুনো?
কথাটা বলে ফারাজ আবার একই কাজ করতে গেলো। তিতলি না পেরে ফারাজের বুকে চিমটি কেটে কোনোরকমে দৌড় বেরিয়ে গেলো। নয়তো থোরাই বলে দিতে পারবে, দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে গেলেও এই লোকের থেকে ছাড়া পাবেনা সে। তাই নখ দিয়ে খামচি দিয়ে পালিয়ে এসেছে।
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে তিতলির চঞ্চল পায়ে ছুঁটে যাওয়া দেখল। কতবড় সাহস তাকে চিমটি কাটে। বিড়বিড় করে যুবক আওড়ালো,
অনেক দিন হয়ে গেছে তো হাতের নখ কেটে দিই নি। তোমার নখের জোর বেড়ে গেছে ইউ্য নো না, আমারও বেড়েছে…”
বাকি কথাগুলো শেষ না করে ফারাজ নিজের বুকে খামচি দেওয়ি দাগটার দিকে তাকিয়ে আবারও ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে গোসল শেষ করলো। গোসলে দেরি করা তার মোটেই পছন্দ নয়। কিন্তু আজ কি হলো কে জানে।
ফারাজ আসবে না বললেও তিতলি নিজের ট্রলি করে ফারাজের কিছু শার্ট প্যান্ট নিয়ে এসেছিলো। মনে করে সেখান থেকে শার্ট প্যান্ট বের করে বিছানায় রেখে গেছে তিতলি।
ফারাজ বের হওয়ার আগে আগে রুম থেকে বেরিয়ে অন্য একটা ওড়না গায়ে দিয়ে চলে এসেছে।
★
ড্রয়িংরুমে মানুষজনে ভরপুর। দুপুরের খাওয়াদাওয়া কেউ এখনো খাচ্ছে কেউ বা খেয়েও নিয়েছে। তিতলি ঝিলিকদের সাথে খেয়ে নিয়েছে।
হুশিয়ার সাহেবের বড়ছেলে হাশেম সাহেবের স্ত্রীর বোন জাহানারা বেগম তিতলিকে পছন্দ করেছেন নিজের ছেলের জন্য। ছেলেও নাকি তিতলিকে প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলেছে। তিতলিকে তো দেখতে মনেই হয়না যে বিবাহিত। হবেও বা কি করে? গায়ে গোল ফ্রক ওড়না পরে সবার মাঝে যেভাবে হাটাহাটি করছে কোনোভাবেই বুঝার উপায় নেই। একথা এখন বলার জন্য ফারিন বেগম সহ আরও কয়েকজন মহিলা নিয়ে গোল করে সোফায় বসেছেন জাহানারা বেগম। অনেক ভেবেচিন্তে ফারিন বেগমকে বললেন,
“বলতে চাইছিলাম যে আপা এখন যে একটা মেয়েকে দেখলাম ওটা কার মেয়ে? আপনার জা কোনটার মেয়ে যদি একটু বলতেন?”
ফারিন বেগম হতভম্ব হয়ে গেলেন জাহানারা বেগমের কথা শুনে। তিতলির কথাটায় মনে পড়ল কারণ এখন তিতলিই এখান দিয়ে গেলো।
ভাবুক হয়ে বললেন,
“কোনটার কথা বলছেন? হালকা গোল জামা…”
“হে হে ওই মেয়েটার কথায় বলছিলাম। মেয়েটাকে খুব পছন্দ হয়ছে আমার। আমার ছেলে জনির জন্য মেয়েটাকে পছন্দ করছি।”
ফারিন বেগমের মুখে হাত চলে গেলো। তিনি আশেপাশে তাকিয়ে দেখলেন ফারাজ কোথায়ও আছে কিনা। কত কষ্ট করে ফারাজকে বিয়ে
করিয়েছেন। আশ্চর্য ভাবে এত মেয়ে দেখানোর পরও তার ছেলে শুধু তিতলিকে বিয়ে করতে রাজী হয়েছে। তিনি আয়েশার বিয়েতে তিতলিকে ফারাজের সাথে কথা বলতে দেখেছেন তিনি তখনই ভাবছিলেন এই মেয়েকে যদি ফারাজের বউ করতে পারতাম। ভাবনাটাও পূরণ হলো। আশেপাশে তিতলিকেও দেখলেন না। স্বঃস্থির নিশ্বাস ফেলে বললেন,
“ওটা ফারাজের বউ। আপনি হয়তো চিনেন নাই তাই বলছেন…”
জাহানারা বেগম কপাল কুঁচকে ব্যঙ্গ করে বললেন,
“কিহহ! ফারাজের বউ? ফারাজের বউ হলে শাড়ি না পরে এভাবে বাড়ির মেয়েদের মতো ঘুরছে কেন? “
নাছিমা বেগম পাশ থেকে মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
“ঘুরবেই তো পারিবারিক কোনো শিক্ষা নেই। কোথায় কীভাবে চলতে হয় সেসব জ্ঞান নেই তো।”
“চুপ কর নাছিমা। বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে কোনো ঝামেলা হোক আমি চাইনা।”
কথাটা বলে ফারিন বেগম আরো ভদ্রভাবে আডরও কয়েকটা কথা শুনিয়ে উঠে চলে এলেন। আসলে তিনি ভুল করেছেন তিতলিকে শাড়ি পরিয়ে রাখায় উচিত ছিলো। নতুন বউ শাড়ি পরে থাকলে কিন্তু আসার সময়ই তো ফারাজ বললো শাড়ি পরার দরকার নেই। জামাই পরে যাবে। তাই তিনিও আর জোর করেন নি।
★
রোহান গ্লাসে ভর্তি কমলার জুস এনে তিতলির সামনে এসে দাঁড়াল। পাশে রোহানের বোন নীলাও আছে সাথে ঝিলিক ও ময়না। রোহান গ্লাসটা তিতলির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে রহস্যময় চোখে তাকিয়ে বলল,
“নেন ভাবি স্পেশাল জুস ফারাজ ভাই পাঠিয়েছে আপনার জন্য।”
তিতলি ফারাজ পাঠিয়েছে শুনে সন্দেহের চোখে জুসের গ্লাসের দিকে তাকালো। ঝিলিক পাশ থেকে তিতলিকে চিমটি কাটছে। তিতলি ফারাজের দিয়েছে শুনেই রোহানের কথা বিশ্বাস করে নিলো যেন। ওদিকে রোহান তিতলিকে বলল,
“ওইদিকে ফারাজ ভাই আছে আপনাকে ডাকতে বললো। যাবেন?”
“আপনি যান আমি জুস খেয়ে আসছি।”
রোহান চলে গেলো। তিতলি মুহূর্তেই জুস একটু খাওয়ার ভান করে নিজের ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিয়ে নীলার দিকে বাড়িয়ে বলল,
“তুমি খাবে নীলা আপু?”
নীলা হাত কচলাতে কচলাতে বলল,
“ফারাজ ভাইয়া তো তোমার জন্য পাঠিয়েছে।”
তিতলি জুসের গ্লাসটা নীলার হাতে ধরিয়ে দিয়ে প্রায় ঠোঁটের কাছে নিয়ে খাইয়ে দিবে তেমন ভাব নিয়ে বলল,
“তো কি হয়ছে একটু খেয়েই দেখো। খুব মজা আমিও তো খেয়েছি। তুমিও একটু খাও। আমি এখন আসছি তোমাদের ফারাজ ভাইয়া ডাকছে।”
নীলা সত্যি জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে খেতে শুরু করল। এমনিতেই অনেক তৃষ্ণা পেয়েছিল।
[পাখিরা তিতলি কি এখন ফারাজ ডাকছে শুনে যাবে? আর যদি ৫ হাজার রিয়েক্ট হয় কালকের মধ্যে তাহলে প্রমিস করছি কালকেও দ্বিতীয় অংশ আসবে।
#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪৪(শেষাংশ)jealous 
#সুহাসিনি_ফাতেহা
তিতলি ফারাজের খুঁজে রোহানের দেখিয়ে দেওয়া পথে পা বাড়াতে গেলে ঝিলিক পেছন থেকে তিতলির হাত টেনে ধরে চিন্তিত কন্ঠে বলল,
—“কথাটা কতটুকু সত্যি তা সঠিক ভাবে যাচাই না করে তোমার কি ওইদিকে যাওয়া ঠিক হবে তিতলি?”
তিতলি পেছন ফিরে আড়চোখে নীলার দিকে তাকিয়ে দেখল নীলা এখনো জুস খাচ্ছে দিব্যি। তিতলি ঝিলিককে ব্যাগ্র কন্ঠে বলল,
“একবার দেখে আসি ঝিলিক আপু সত্যি হয়তো ডাকছেন।”
তিতলির কথা শেষ হতে না হতেই নীলা গ্লাসের সবটুকু জুস খেয়ে মুখ থেকে ধীরলয়ে নামিয়ে তৃপ্তি সমেত বলে উঠলো,
“সত্যি জুসটা দারুন ছিলো ভাবি। না খেলে তো বুঝতেই পারতাম না। এবার ফারাজ ভাইয়া কেন ডাকছে দেখে আসো গিয়ে।”
“যাচ্ছি!”
ঝিলিক পাশ থেকে তিতলির কথা শুনে তিতলিকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টার উর্ধ্বে গিয়ে বলল,
“ফারাজ ভাইয়া তো তোমায় রুমে ছাড়া বাড়ির বাইরে ডাকবে না। তুমি আগে কল দাও।”
“আমার মোবাইল নেই!”
“দাঁড়াও আমি দিচ্ছি।”
ঝিলিক মোবাইলের লক খুলে ফারাজের নাম্বারে কল দিলো। রিং হয়েই কেটে গেল। তিতলি প্রশ্নসূচক চাহনি নিয়ে তাকাতেই ঝিলিক ধৈর্য ধরে বলল,
“ধরছে না। দাড়াও আবার দিয়ে দেখি।”
তিতলি পুনরায় কল দেওয়ার অপেক্ষা করল না আর। হাঁটা ধরল সামনে। এমনিতে ফারাজকে দেখছে না যদি ওদিকে গিয়ে একটু দেখে। ফারাজ ডাকছে শুনে কেন যেন বিশ্বাস না করতেও করে নিচ্ছে সপ্তদশীর অবুঝ মন। তার চোখদুটো ফারাজকেই খুঁজছিল এখন তাকে ডাকছে শুনে সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
★
তিতলি বাড়ির সদর দরজার পেরিয়ে গিয়ে রোহানের দেখিয়ে দেওয়া বাড়ির পেছনের
বাগানে এসে দাঁড়িয়েছে। এদিক ওদিক তাকায় কিন্তু কোথায়ও ফারাজের চিহ্ন-ই দেখল না। এদিকে মানুষজন একটু কমই বলা যায়। কর্ণারের একপাশে রোহানও সাথে কিছু ছেলেদের দেখতে পেলো। কারো চোখের দৃষ্টি স্বাভাবিক না। যেমন তিতলিকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। শুধু
তা-ই নয় ওদের এগিয়ে আসতে দেখা গেল তিতলির দিকে। তিতলি দেখল আরেকটা ছেলেও এখানে হাটাহাটি করছে। ভালোর ভালোই বাড়ির ভেতরে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই হঠাৎ হাতের তুলতুলে কব্জিতে টান পড়ল।
তিতলি ভয় পেয়ে গেলো যেমন। ত্রস্ত পাজোড়া থামিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই জনি একহাতে মাথা চুলকে বলে উঠলো,
“আরে তুমি? আমি তোমাকেই খুঁজছিলাম একটু কথা বলা যাবে?”
তিতলি নিজের হাত ছাড়াতে চেয়ে ছেলেটার দিকে তাকালো। মনে পড়লো ওইসময় ড্রয়িংরুমে দেখেছে। কিন্তু হঠাৎ তার হাত ধরায় তিতলি ভয় পেয়ে গেলো। ভয়ার্ত চোখে চারদিকে একবার নজর বুলিয়ে দেখল। রোহানের ছেলেপেলেরা ছাড়া এদিকে চেনাজানা কেউ নেই। ভয় পাওয়ার-ই কথা।
হাতে ঝাড়ি দিয়ে বলল,
“কে আপনি? আমার হাত ধরেছেন কেন?”
জনি বাঁকা হেসে তিতলির হাত আরো কাছে টেনে নিতে চেয়ে মনেমনে বলে,
“ওয়াও কি নরম হাত। বাকিসব কিছু তো মনে হয় ইসস্… “
জনি আর ভাবতে পারছে না। তিতলিকে মুচকি হেসে বলল,
“আগে পরিচিত হয়ে নিই। তারপর আমি কে জানতে পারবে। আগে বলো তোমার নাম কি?”
“আমার নাম জেনে আপনার কাজ কি?”
“অনেক কাজ। কাজ না থাকলে কি আর জিজ্ঞেস করি?”
“মানে?”
“তুমি অনেক সুন্দর নামটাও মনে হয় তোমার মতোই মিষ্টি হবে।”
“হাত ছাড়ুন! মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না আপনাদের?”
“আগে আমার কথাটা তো শুনে যাও। আমি তেমন কোনো মতলব নিয়ে আসিনি। শুধু আমার মনের কথাগুলো শুনো।”
“ভালো হবে না বলে দিলাম। আমাকে যেতে দিন!”
জনি তিতলির কথা পাত্তা না দিয়ে সুযোগ বুঝে তিতলির হাত নিজের দিকে টানতে টানতে নিজের মনের সাজানো গুছানো কথা বলতে শুরু করল,
“তোমাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। প্রথম দেখাতেই অনেক ভালোবেসে পেলেছি। তোমার মতো একজন মিষ্টি মেয়েকেই খুঁজছিলাম এতদিন। ভাবিনি এখানে আসলেই তোমার মতো সুন্দরীর দেখা পাবো। আম্মুকে বিয়ের প্রস্তাব …”
রোহান সহ রোহানের ছেলাপেলারা সবাই পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তাদের কাজে বাধা দিয়ে আবার এই জনি কোথায় থেকে টপকে আসলো। কত সুন্দর করে ভালোবাসা প্রকাশ করছে।
রোহানের পাশ থেকে একজন বলে উঠলো,
“পাগল মনে হয় জানেনা এই মেয়েটা যে বিবাহিত। জানলে জেনেবুঝে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে আসতো না। এখনই মেয়েটাকে ভুলিয়ে বালিয়ে ওদিকে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞান করার কথা দূর।”
রোহান বলল,
“দাঁড়া গিয়ে দেখছি…”
রোহানের কথা পথিমধ্যে থেমে গেলো। হঠাৎ কিছু একটা দেখে ওদের সবকয়টার মুখ ভয়ার্ত হয়ে গেল যেমন। যেন কিছুই জানেনা এমন ভঙ্গিতে ধীরলয়ে দূরে সরে গেলো ওরা।
জনি কিছু বুঝে উঠার আগেই সহসা নিজের চিমচাম গরনের হাতে বলিষ্ঠ হাতের শক্তপোক্ত একটা থাবা খেয়ে বসল। এতটাই জোরে ছিলো যে জনি কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েছে। হাত যেন ভেঙে গিয়েছে বেচারা জনির। তাও রাগ দেখিয়ে সামনের আগন্তুককে বলল,
“তুই আমাদের মাঝে ঢুকলি কেন ফারাজ? একটু ঠিকমতো প্রেম করতে…”
জনির কথা শেষ হতে দিলো না তার আগেই বুকে আরেকটা ধাক্কা বসাল ফারাজ। দূরে যাওয়ার আগে একহাতে জনির শার্টের কলার টেনে ধরে অন্যহাতে তিতলিকে বগলদাবা করে নিলো ফারাজ। ভয়ে তটস্থ মানবীর তখন জান যায় যায় অবস্থা। কোনোভাবে ফারাজের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। রাগের জেরে সুদর্শন মুখখানা কেমন অচেনা লাগছে। অগ্নিদৃষ্টি যুগল একযোগে নিক্ষিপ্ত করল ভয়ার্ত মানবীর পানে। ক্রোধে ফুঁসছে চোখা নাক। তিতলি তাকাতে পারলো না সে আগুনমাখা দৃষ্টিতে। সপ্তদশী স্পষ্ট টের পেলো তার বুক কাঁপছে। এক অজানা, শঙ্কায় আঁতঙ্কে হুট করেই তার অস্থিরতা বাড়ছে। সুকোমল রাজহংসীয় ন্যায় সুদীর্ঘ কন্ঠায় খরা নেমেছে তার। বারেবারে গিলছে শুকনো ঢোক। মনেমনে আওড়াচ্ছে,
“আল্লাহ আজকে তো মনে হয় আমাকে মেরে ফেলবে। নিজের মৃত্যু নিজে ডেকে এনেছি! শেষ আজ আমি শেষ! আল্লাহ একটু রক্ষা করুন!”
দৃষ্টিযুগলে একপ্রকার অদৃশ্য আগুন লেপ্টে ফারাজ তক্ষুনি নিজ বলিষ্ঠ হাতের আক্রমন বসালো রমণীর কোমল চোয়ালখানায়। ঘটনাপ্রবাহে তিতলি ভড়কে গেলো। চোখের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। ফারাজের চোখের অগ্নিদৃষ্টি যেন বলে দিলো,
“তোমাকে পরে রুমে গিয়ে দেখছি। খুব শখ না বাড়ির বাইরে আসার। আজকে শখ মেটাবো না? আগে তোকে ভালোবাসি বলা দুঃসাহসী জনিকে খতম করি তারপর তোকে।”
ফারাজ চোয়াল থেকে হাতখানা সরালো না,যেন ছুড়ল সজোরে। রুষ্ট,ক্ষুব্দ চাহনি নিক্ষেপ করে তিতলির থেকে নজর সরিয়ে জনির দিকে তাকালো। জনি নিজের কলার থেকে ফারাজের হাত ছাড়িয়ে কিছু বলতে নিলে ফারাজ তিতলিকে নিজের সাথে আরো পিষে ফেলে জনিকে আবারও ধাক্কা মেরে জনির দিকে তেড়ে গিয়ে বলল,
“তুই ওর হাত ধরেছিস কোন সাহসে? তোদের মাঝে আমি হাত ঢুকিয়েছি? বল আমি হাত ঢুকিয়েছি? তুই জানিস তুই কার জানের দিকে হাত বাড়িয়েছিস?”
“আমি হাত বাড়িয়েছি তাতে তোর কি? তুই না বিয়ে করেছিস? বউকে তো দেখালি-ই না। বউয়ের কাছে না গিয়ে কাজিনের সাথে ঢলাঢলি করছিস কেন?”
ফারাজের রাগে যেন ঘি ঢালার মতো কাজ করল জনির কথাটা। ব্লেডের ন্যায় তীক্ষ্ণ হলো দৃঢ় চেয়ালের রেখা। দাঁত কপাটি বোধহয় একে অপরের সনে রুষ্ট চাপায় মত্ত। তার বউকে বলছে তার কাজিন? কাজিনের সাথে ঢলাঢলি করছে সে? এসব শুনলে মাথা ঠিক থাকার কথাও নয়।
কেমন কটমট শব্দ তুলে বাজখাঁই কন্ঠে আওয়াজ তুলে ফারাজ বলে উঠলো,
“সি ইজ মাই ওয়াইফ! আমার বউয়ের সাথে আমি ঢলাঢলি করবো না তো তোর সাথে করবো বেয়াদবের বাচ্চা? কাছে আয় দেখি ঠিক কোন জায়গায় সাহস নিয়ে তুই আমার বউয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছিস? জানে ভয় নেই? মরতে চাস আমার হাতে?”
” তোর ওয়াইফ মানে? ওর সাথে আমার বিয়ের কথা বলা হয়েছে। এতক্ষণে আম্মু মনে হয় বলেও ফেলেছে। সবাই রাজী হলে আমরা এখান থেকে যাওয়ার আগেই আকদ করে…”
ফারাজের রাগ এবার বোধহয় আকাশসম হলো। তক্ষুনি বলিষ্ঠ হাতের এক ঘুষি বসাল জনির নাক বরাবর। রাগে হিতাহিত অজ্ঞ হয়ে পড়ল ফারাজ। যেন নিজের মধ্যে নেই। তার বিয়ে করা বউ তার প্রপার্টি। সেই বউকে যখন অন্য কেউ বিয়ে করার নাম তো দূরের বিষয় ছুঁয়েও দেখতে চাইবে তখন দুনিয়া ধ্বংস করার মতো আগুন জ্বলে উঠে ভেতরে। সবকিছু ভেঙে গুলিয়ে দেওয়ার মতো তোলপাড় হয় মনে। এটা সে আরো আগে একদিন যখন তিতলির বন্ধু সিয়াম তিতলির খোলা কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলো সেদিনই টের পেয়েছে।
ফারাজ জনির কথার উত্তর না দিয়ে জনির কলার ধরে রেখে তিতলির দিকে ঝুঁকে সবটুকু তেজ কন্ঠে ঢেলে তিতলির উপর প্রশ্ন ছুড়লো,
“বলো আমি তোমার কি? ও বারবার একই কথা বলছে কেন? আমার রাগ বাড়িয়ে দিলে আমি খুন করবো। তাড়াতাড়ি বলো আমি তোমার কে হয়?”
“আ…আপনি..আমার আপনি..”
বাক্য এলোমেলো সপ্তদশীর। ভীষণ কুণ্ঠায় আওয়াজ বের হচ্ছে না তিতলির কণ্ঠনালী ভেদ করে। এক্ষুণি রুহুটা বেড়িয়ে গেলো বলে। তিতলির ভয়ার্ত চাউনীতে কোনোরূপ ভাবান্তর দেখা গেলো না ফারাজের মাঝে। উল্টো ফারাজ আবারও বিশাল হুংকার ছেড়ে আওড়াল,
“এখন তোতলামি করলে গাল টেনে ছিড়ে ফেলব। যা বলার স্পষ্ট ভাষায় এক্ষুনি ওকে বলো।
তিতলি ফারাজের এমন রুপ যেন চিনতে পারছে না। বেশ ভালোই টের পাচ্ছে এখন কিছু না বললে অত্যদিক, বেগাতিক হয়ে যাবে পরিবেশ। জনিও থামছে না। বারবার ফারাজকে রাগিয়ে দিচ্ছে। বাগানের পেছনে হওয়ায় হয়তো এখনও কারো কানে যায়নি ঘটনটা। অনেক ভেবে চিন্তে বুঝলো তার ফারাজকে থামানো উচিত । তক্ষুনি ত্রস্ত পা’দুটো উঁচু করে রমণী আচমকা কাঁপা কাঁপা তুলতুলে নরম দুহাত রাখল ফারাজের ক্লিন সেইভড করা দু’গালে। ধীরলয়ে ফারাজের গালে হাত বুলাতেই ফারাজের চোখদুটো আপনাআপনি বুঁজে এলো যেন। শক্ত হাতে ধরা রাখা জনির শার্টের কলার ঢিলে হয়ে এসেছে। তিতলি চোখ পিটপিট করে কান্নামিশ্রিত চাহনিতে তাকালো। ফারাজ চোয়াল কটমট করে চোখ খুলে তাকালো তিতলির পেলব মুখপানে। তক্ষুনি কর্ণকুহরে ভেসে এলো আদুরে রমণীর হৃদয় নিঙরানো কন্ঠ,
“আপনি আমার…আমার সবকিছু হন আমার এমন কোনোকিছু অবশিষ্ট নেই যেটা আপনি নন। সব আপনি আপনি আপনি… “
তিতলির কথার মাঝেই বাড়ির বাইরে মারামরি লেগেছে শুনে ভেতর থেকে সবাই দৌড়ে বেরিয়ে এসেছেন। হুশিয়ার সাহেব আর আফজাল খান এসে ফারাজকে থামালেন। ফারিন বেগম মনেমনে কিছু আন্দাজ করে ফেললেন যেন। হুশিয়ার সাহেব এসেই ফারাজকে বললেন,
“কি নিয়া মারপিট করতেছিস নাতি? থাম, থাম মাথে ঠান্ডা কর।”
জনির মা সহ হাশেম আলী ও হাশেম আলীর বউ এসে জনিকে ধরলেন। জনিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নাক পেটে রক্ত বের হচ্ছে। জাহানারা বেগম কেন্দে দিয়ে ছেলের নাকে হাত দিয়ে বললেন,
“আয়’হায় আমার সুস্থ-সবল ছেলেটার নাক পাটিয়ে দিয়েছে এ-কি দানবীয় ছেলে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো কীভাবে রক্ত বের হচ্ছে।”
দূর থেকে রোহান বাঁকা হেসে তার সাথের একজনকে বলল,
“কিছু করতে চাইলাম আমরা মাঝখান দিয়ে এই জনি ঝামেলা বাধিয়ে দিয়ে মাইর খেলো। যা করার খুব সাবধানে করতে হবে নয়তো তোদের এই জনির থেকেও বেশি কিছু হবে।”
“আমরা কেন মাইর খাবো?”
রোহান একটার চুল টেনে ধরে বলল,
“তোদের সাথে আমার কি কথা ছিলো? মেয়েটাকে ধরে নিয়ে যেতে পারলে পাঁচ লক্ষ টাকা দিবো যে সেটা কি মাগ্না নে?”
“সেটা তো বুঝলাম কিন্তু…”
“ধরা পড়লে যদি কোনোভাবেই আমার নাম বলিস তোদের একটাকেও ছাড়বো না।”
“তো তোর নাম বলব না কার নাম বলবো? তুই আমাদের টাকা খাইয়ে কাজ করাবি আমরা না হয় কাজ করলাম কিন্তু ধরা পড়লে তোর নামই বলবো কারণ আসল কারপিট তো তুই।”
“এই কু*ত্তার বাচ্চা তোদের নাক কেটে হাতে ধরিয়ে দেবো ডিপজলের তিন নাম্বার বাচ্চা এলিম!”
“নাক কাটিস না। অত্যন্ত তোর পাদের ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য হলেও আমাদের নাক কাটিস না।”
রোহান নাক সিটকে বলল,
“পাদের আবার ঘ্রাণ আছে নাকি? যা আছে তা দুর্গন্ধ। ছিঃ!”
“তাহলে আমরা বলব আমাদের পেছনে কারো হাত নেই আমরাই আসল, আমারাই নকল,আমারাই রাজা, আমারই বাদশা, আমাদের পেছনে কেউ নেই।”
“যা এবার বুঝছিস। কাজ ঠিকমতো করতে পারলে এক্সর্টা এক লাখ বেশি পাবি।”
—–
আফজাল খান বুঝলেন তার ছেলে থোড়াই কারো গায়ে হাত তুলবে না। আন্দাজ করে নিলেন জনি কিছু করেছে যেটা ফারাজকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। আর সে রাগের বহিঃপ্রকাশের ফলস্বরপ মেরেছে। তাও মানবতার খাতিরে তিনি ছেলেকে রেগে বললেন,
“এসব কী? ছেলেটাকে এভাবে মারলি কেন?”
ফারাজ কারো কথার কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে তিতলিকে টেনেহিঁচরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে এলো।
রুমে এসে দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দিয়ে তিতলির তুলোর সমেত দেহটাকে বিছানায় ফেলে দিতেই তিতলি হঠাৎ বেঘোরে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে উঠলো,
“আমি জানি আপনি জেলাস হচ্ছেন?”
এইমুহূর্তে তিতলিকে হাসতে দেখে ফারাজের রাগ বাড়বে নাকি কমবে বোধহয় বুঝা গেলো না। রমণীর গৌরবর্ণা সুশ্রী মুখমণ্ডলের হাসিতে যেন রাজ্যের সকল মোহ নিহিত। যুবকের হ্যাজেল রঙা চোখদুটো অটল! কেমন গভীর দৃষ্টে পরোখ করে যাচ্ছে সপ্তদশীর হাসি। রাগ তার কমেছে বৈকি।
হুট করেই বুকের বাঁপাশটা বড্ড জ্বলছে তার। এক অজানা কারণেই মাথার তালু গরম হচ্ছে রাগে। ছেলেটার কতবড় স্পর্ধা! তার সামনেই তারি প্রপার্টির হাত ধরে ভালোবাসি বলে? যুবক দাঁতে দাঁত চেপে তিতলির উপর ঝুঁকে এসে সহজ স্বীকারোক্তি দিলো,
“Me? jealous? yeah, you’re mine and only mine!”
“সত্যি জেলাস!”
ফারাজের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা বাক্যে হতবিহ্বল কন্ঠে পরপর একই প্রশ্ন আওড়ালো তিতলি। এরই মাঝে ওর পরনের ওড়নাটা একটানে খুলে ফেলে দিলো ফারাজ। ওদিকে তিতলি কথাটার মানে খুঁজলো, “হুমম আমি জেলাস কারণ তুমি আমার শুধুই আমার?” ওমন স্বীকারোক্তি শুনে মনের ভেতরে লুকায়িত কথাটা বোধহয় ধরে রাখতে পারল না তিতলি। মুখশ্রী উজ্জল বনে হুট করেই বলে বসল,
“ভালোবাসেন?”
তিতলির খুশিখুশি মুখটায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে ফারাজ তিতলির উপর ঝুঁকে আসতে শুরু করল। তিতলিও সহসা এমন কাজে ধনুকের মতো বেঁকে গিয়ে বিছানার সাথে লেপ্টে গেলো। একসময় ফারাজ নিজের বলিষ্ঠ দেহের সম্পূর্ন ভার ছেড়ে দিলো তিতলির উপর। তিতলির তুলতুলে নরম দুহাত বিছানার পাশে চেপে ধরল। তিতলির পাদুটো নিজের বলিষ্ঠ উরুর সাথে বাঁধল। তিতলির জামার ফাঁকে হাত গলিয়ে দিয়ে ফারাজ বলল,
“যেদিন আমার ডিএন এ তোমার ভেতরে প্রবেশ করবে সেদিন-ই বুঝবে ভালোবাসা কাকে বলে। ইউ্য নো, না! আমি বুঝিয়ে দেবো। নেক্সট টাইম ভালোবাসি শুনতে আসলে সরাসরি লাইভ দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। মাইন্ড ইট!”
তিতলি ফারাজের মুখের দিকে তাকাতে পারছে না। চোখখিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। তার তুলতুলে নরম ছোট্ট শরীর ফারাজের বলিষ্ঠ শরীরের ভারে যেন পিষে যাচ্ছে বিছানা ছিড়ে। তারউপর ফারাজ জামার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে রেখেছে। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে সুড়সুড়ি লাগছে।
একনাগাড়ে ব্যথাতুর সুরে আওড়াল,
“ছাড়ুন মরে গেলাম। এত ভারী কেন আপনি? আমার সব ভেঙে যাচ্ছে। হাত বের করুন!”
ফারাজ ছাড়লো না ওকে। উল্টো তিতলির নরম শরীরে আরও চাপ প্রয়োগ করল এবার। অবাধ্য হাতদুটোর এলোমেলো বিচরণ আরও বাড়ালো তিতলির জামার ভেতরে। ভ্রুযুগল মাত্রাতিরিক্ত কুঁচকে রেখে গমগমে আওয়াজে ফারাজ বলে,
“ভালোবাসি শুনতে চাও অথচ একটু ভার নেওয়ার শক্তি নেই? ওই ছেলে যখন তোমার হাত ধরছে তখন মুখে কি রুমাল পেঁচিয়ে রেখেছিলে? নাকি এসব শুনতে খুবই ভালো লাগছিলো। আন্সার মি?”
তিতলি ফারাজের শক্তিশালী শরীরের সাথে পেরে না উঠে ছটফট করতে করতে বলল,
“বি-বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে খুঁজতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ছেলেটা এসে এসব বলা শুরু করেছে। এবার সরুন প্লিজ!”
“আমাকে খুঁজতে গিয়েছিলে? আমি একবারও বলছিলাম আমাকে খুঁজতে? বেশি পাকনামি করো না? কোনদিন এই পাকনামি করার জন্য তোমাকে আমি থাপ্পড় মারব না।”
“আপনার খালাতো ভাই রোহান এসে বলছে আপনি নাকি আমাকে ওখানে ডাকছেন তাই গিয়েছি!”
তিতলির কপালে কপাল ঘষলো ফারাজ।
ওর উত্তপ্ত নিঃশ্বাস গিয়ে আঁচড়ে পড়ল তিতলির কাঁপতে থাকা ঠোঁটে। ঘন শ্বাস ফেলে গাঢ় স্বরে বলল,
“আমি বাদে বাদবাকি সবাই কে তোমার বিশ্বাস করতে হয় তাইনা? রোহানকে হাতের কাছে পাই ওই জনির মতোই নাক ফাটাবো কিন্তু তোমার কি ফাটাবো বলো তোমাকে তো এখনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।”
[৫ হাজার রিয়েক্ট হওয়া অবধি নেক্সট পর্ব আসবে না। দ্রুত যারা পড়ো রিয়েক্ট কমেন্ট করো পাখিরা]
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৭(প্রথমঅংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২০
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৪
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৬(প্রথম_অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৮
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১০
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৫