#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
(২৭)
রৌদ্রোজ্জ্বল স্নিগ্ধ সকাল। নীল আকাশের বুকে খণ্ড খণ্ড মেঘেদের ভেলা। আকাশ জুড়ে নানান পাখির মেলা। মেঘেদের মায়ায় ডুবেছে তাঁরা। প্রকৃতির এই রূপে বিষাদে ডুবা মনও প্রফুল্ল হতে বাধ্য। তাজের মন খারাপ থাকা স্বত্বেও পরিবার আর কাছের মানুষদের হাসিমুখগুলোর জন্য
রাজি হয়েছে। অনেকটা দূরের পথ। বাসা থেকে অটো দিয়ে যেতে হবে। তারপর ঘন্টা দুয়েক বাসের পথ। নৌমিরা রেডি হয়ে অটোতে বসে আছে। তাজের অপেক্ষাতেই আছে সবাই। শুভ্র ফোন হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সুযোগ পেলেই নৌমির দিকে তাকাচ্ছে। শাড়িতে মেয়েটাকে আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে। শুভ্র বেশ কয়েকবার ছবি তোলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাফিদের জন্য সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। শুভ্র বাড়ির দিকে এক নজর দেখে নৌমির দিকে তাকালো। শান্ত গলায় বলল,
” তাজের আসতে বোধহয় সময় লাগবে৷ চলো আমরা একসঙ্গে কয়েকটা ছবি তুলে রাখি।”
নৌমির কাটকাট জবাব,
” তামজিদ ভাইয়া না আসলে ছবি তুলবো না। “
শুভ্র বরাবরের মতো হাসল। মনের ভেতরে ক্ষানিকটা রাগ থাকলেও প্রকাশ করল না। সহসা বলে ওঠল,
” ওইতো তাজ এসেছে।”
নৌমিও সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে তাকালো। তাজের পড়নে বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি। কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বিয়েতে কিনেছিল। সেটাই পড়েছে আজ। হাতে ঘড়ি, চুলগুলো গোছালো, ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি টেনে কাছে এসে দাঁড়াল। নৌমির দুচোখ স্থির। গত কয়েকদিনের মন খারাপের ছাপ এখন বিন্দুমাত্র নেই। তাজ হাতে থাকা সানগ্লাসটা চোখে দিতে দিতে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল,
” আমাকে কেমন লাগছে?”
আন্নি, রাফি, সুমি, রাদ সবাই একসঙ্গে বলে ওঠল,
” ওয়াও, সো নাইস৷ “
তাজের ঠোঁটের হাসি প্রখর হলো। অকস্মাৎ চোখ পরল নৌমির দিকে। নৌমি নিষ্পলক চোখে চেয়ে আছে। তাজ সহসা ভ্রু কুঁচকালো। সন্দেহের দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ দেখল। নৌমি ভাবনায় মগ্ন৷ তাজ আবারও বলল,
” কে কে ছবি তুলবে আমার পাশে এসে দাঁড়া।”
আন্নি মজার ছলে বলল,
” ভাইয়া, তুমি কি বলতে চাচ্ছো! আজকে তোমাকে বেশি সুন্দর লাগছে?”
তাজ বিড়বিড় করে বলল,
” তারজন্যই হয়তো কারো দৃষ্টি সরছে না।”
“কি বললে!”
” আমাকে কবে পঁচা লাগে!”
আন্নি ঝটপট জবাব দিল,
” তুমি যখন আমাকে পড়াও তখন! কখনও ট্রাউজার আর শার্ট, কখনও লুঙ্গি আর ছেঁড়া গেঞ্জি। চুলের অবস্থা নাজেহাল থাকে সবসময়।”
তাজ একটু ক্ষেপে গেল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
” তোর জন্য আমি কি বাসাতেও এখন শেরওয়ানি পড়ে বসে থাকব?”
“শেরওয়ানি না পড়ো অন্ততপক্ষে ভালো একটা টিশার্ট তো পড়তে পারো। যেনো দেখতে, স্যার স্যার লাগে। তোমার ছেঁড়া গেঞ্জি দেখলে সম্মান ও ভেতর থেকে পালিয়ে যায়।”
” মেয়ে হয়ে জন্মেছিস তো তাই ছেলেদের দুঃখ বুঝিস না। টাকা ইনকাম করা কতটা কষ্টের সেটা তোরা কিভাবে বুঝবি!”
শুভ্র মৃদুস্বরে বলল,
” দুঃখ কষ্ট পরেও শোনা যাবে ভাই। এখন দেরিতে রওনা দিলে ফিরতে কয়টা বাজবে খেয়াল আছে? শুনেছি অনেকটা দূর!”
তাজ আর কথা বাড়ালো না। সবাই ছবি তোলার জন্য কাছাকাছি দাঁড়াল। নৌমি তখনও অটোতে বসে মনোযোগ সহকারে তাজকে দেখছে। শুভ্র ছোট করে ডাকল,
“নৌমি, আসো।”
তাজ নৌমির দিকে তাকিয়ে বিরক্তির স্বরে বলল,
” শুনেছি মেয়েরা শাড়ি পড়লে প্রচুর ভাবে থাকে। আজ নিজের চোখে দেখছি৷”
নৌমি এবার নড়েচড়ে ওঠল৷ অটো থেকে নামতে নামতে মোলায়েম কণ্ঠে বলল,
” ভিডিওতে দেখি মেয়েরা সুন্দর সুন্দর শাড়ি পড়ে পাহাড়ে যায় ঘুরতে। কত সুন্দর লাগে দেখতে! তাই সাহস করে আমিও শাড়ি পড়েছিলাম৷ কিন্তু সময় যত এগুচ্ছে তত ভয় বাড়তেছে।”
তাজ মৃদুস্বরে বলল,
” চিন্তা করিস না, আমরা আছি তো।”
সবাই একসঙ্গে বেশ কিছু ছবি তুলল। এরমধ্যে তাজের আব্বু বেরিয়ে এলেন। তাজকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন,
” টাকা আছে সাথে?”
“জি আব্বু, আছে। আপনার চিন্তা করতে হবে না।”
তাজের আব্বু তাজের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলেন। তাজ বারণ করতে চাইল কিন্তু তাজের আব্বু রাগী স্বরে বললেন,
” কোনো কথা বলবে না। সাবধানে ঘুরাফেরা করবে। সবাইকে দেখে রাখার দায়িত্ব তোমার। বিশেষ করে আমার নৌমি আম্মুর যত্নে যেনো কোনো ত্রুটি না থাকে। সে যেন ফিরে এসে আমার কাছে কোনো অভিযোগ করতে না পারে। কথাটা মাথায় থাকবে?”
“জি আব্বু।”
” সাবধানে যাও, আল্লাহ হাফেজ।”
” আল্লাহ হাফেজ, আব্বু। আপনিও সাবধানে থাকবেন। “
★
সারাদিনের ঘুরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া আর অসংখ্য ছবি তোলা শেষে ফেরার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তারমধ্যে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সন্ধ্যে পেরিয়েছে অনেক আগে। বাসস্ট্যান্ড অনেকটা দূর। যেতে যেতে সময়ও লাগবে অনেক। শুনেছে বাস এ রাস্তাতেই যাবে৷ এখানে মিনিট খানেকের জন্য দাঁড়ায়। তখন উঠে গেলে এত কষ্ট করে বৃষ্টিতে ভিজে এতটা পথ যেতে হবে না। বাস আসতে এখনও অনেক দেরি তাই সবাই একসঙ্গে চা-নাস্তা করতে বসেছে। নৌমি চা খাচ্ছে আর বার বার তাজকে দেখছে। কয়েকবার তাজের সঙ্গে চোখাচোখিও হয়েছে। তাজ প্রতিবারই চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। শুভ্র বিষয়টা লক্ষ্য করছে ঠিকই কিন্তু সবার সামনে কিছুই বলতে পারছে না। আচমকা মুসল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাতে আঁধারে একের পর এক বিদ্যুৎ চমকানো তার সঙ্গে টিনের চালের বৃষ্টির শব্দে পরিবেশটা মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
নৌমির ভাবনার আকাশ জুড়ে জড়িয়ে আছে তাজ। শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত কতশত স্মৃতি। কখনো দিনরাত ভুলে গল্প করা, কখনও রাতের আঁধারে পার্কে ঘুরে আইসক্রিম খাওয়া কিংবা ঝগড়া করে ৩ দিন কেউ কারো মুখোমুখি না হওয়া। তিনদিন পর ঠিকই একসঙ্গে বসে গত তিনদিনের কাটানো সময় গুলো শেয়ার করা। এভাবেই কাটছিল তাদের দিন। একসঙ্গে চলতে চলতে নৌমি না চাইতেও তাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছিলো। তাজ পাশে থাকলে পুরো দুনিয়া জয় করা সাধ্য রাখতো। তাজ না থাকলে একা বের হতেই ভয় পেতো। কিন্তু যখন থেকে তাজের জীবনে নিলুর আগমন ঘটে তখন থেকেই দু’জনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। কথা বলা কমে গেছে। তাজ নিজের জীবন নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আগে প্রতিদিন ঘুরতে পারলেও এখন সেটা সপ্তাহে একদিন অথবা ১৫ দিনে একদিন এসে থেমেছে।
নৌমি যেদিন প্রথমবার নিলুর সঙ্গে তাজকে দেখেছিল তখন না চাইতেও বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠেছিল৷ হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এসেছিল। সেই দীর্ঘশ্বাস আজও নৌমির মনকে পুড়ায়। তাজ অন্য কারো হয়ে যাচ্ছে তারজন্য নয় বরং নৌমি তাজের প্রতি খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছিল সে ভয়ে। সেই থেকে নৌমির নিজের সঙ্গে লড়াই শুরু। একাকী চলা, রাস্তার বকাটে ছেলেদের হুমকি দেওয়া, ভার্সিটিতে একা যাওয়া সবই শিখে ফেলেছে এতদিনে। শুধু একটা জিনিস বাকি। রাতে শহর ঘুরার অভ্যাস। যে অভ্যাস তাজ নিজে করেছিল। নিলু আসার পর তাদের দু’জনের সম্পর্কে আরও ফাটল ধরবে। যার জন্য তাজদের বাড়ি যাওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নৌমির তাতেও কোনো আপসোস নেই। তবে আপসোস একটায়।
নৌমির জীবনে কোনো বন্ধু নেই। চলার পথে বন্ধুর কোনো অভাব নেই তবে সে তালিকায় বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কোনো শব্দ নেই। তাজই ছিল একমাত্র সঙ্গী। ঝগড়া, মারামারি, প্রিয়জন সবই।
নৌমির অন্যমনস্ক দৃষ্টি দেখে তাজ নৌমির হাতটা শক্ত করে ধরল৷ ওমনি নৌমি হুশে ফিরল। তাজ শান্ত গলায় বলল,
” বাস চলে এসেছে, চল।”
নৌমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। তাজ আবারও বলল,
” ওরা বাসের দিকে চলে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি না গেলে সিট পাবো না।”
নৌমি ব্যাগ নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে এলো। বৃষ্টির জন্য ঠিকমতো তাকানো যাচ্ছে না। নৌমি নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে রাস্তার দিকে ছুটছে। শাড়ি পড়ে বৃষ্টিতে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না। রাস্তায় পানি জমে একাকার অবস্থা। কিছুটা এগুতেই বাস চলতে শুরু করেছে। এখনও অনেক মানুষ ওঠতে পারেনি। সবাই বাসে উঠতে ছুটোছুটি করছে। দ্রুত দৌড়াতে গিয়ে শাড়িতে পা আঁটকে যেই পড়তে যাবে সঙ্গে সঙ্গে তাজ নৌমির পেট আঁকড়ে ধরল। ভেজা শরীর, গায়ের সঙ্গে আঁটকে থাকার শাড়ির ভাঁজে তাজের শক্তপোক্ত হাত৷ নৌমির শীতল শরীরে অস্বাভাবিক কম্পন শুরু হয়েছে। পানিতে জুবুথুবু গায়ে অজানা শিহরণ বয়ে যাচ্ছে৷ তাজের শক্ত হাতের বাঁধন হৃৎস্পন্দন বন্ধ করে দিচ্ছে। তাজ যেই অন্য হাতে নৌমির কাঁধে হাত রাখতে যাবে ওমনি স্লিপ খেয়ে সেকেন্ডের মধ্যে দু’জনেই রাস্তায় পড়ল। নৌমি নিচে পড়েছে তারউপর তাজ পড়েছে। বৃষ্টি, কাঁদার নোংরা পানিতে পড়ে আছে দু’জন। নৌমির মস্তিষ্ক এখনও তাজের স্পর্শে আঁটকে আছে। আশপাশ থেকে দুয়েকজন ছুটে এসে তাজকে টেনে তুললো। তাজ নিজেকে সামলে নৌমিকে পাঁজা কোলে তুলে নিল। নৌমি কথা বলতে পারছে না৷ গলা কাঁপছে থরথর করে। বৃষ্টির ঠান্ডা পানিতে শরীরের তাপমাত্রা নেমে আসছে। ভেজা শাড়ি গায়ের সঙ্গে লেপ্টে আছে। নৌমিকে পূর্বের দোকানের সামনে বসিয়ে তাজ পকেট থেকে ফোন, ওয়ালেট বের করল। ফোনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে আছে। ওয়ালেটের সব টাকা ভেজা। শুভ্ররা সবাই সম্ভবত বাসে ওঠে গেছে।
তাজ দোকান থেকে একজনের ফোন নিয়ে শুভ্রকে কল করল। কিন্তু শুভ্র’র ফোনও বন্ধ। চার্জ শেষ হতে পারে। বাসায় কল করল। কিন্তু রিসিভ করছে না কেউ। আশেপাশের মানুষজন বলাবলি করছে,
” আজকে রাতে আর কোনো বাস নাই। তোমরা যাইবা কিভাবে!”
নৌমি তাজের দিকে তাকিয়ে আছে৷ ভয়ে অন্তরাত্মা পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে। অপরিচিত জায়গা৷ আন্নি, সুমি কেউ নেই। তারউপর অতিরিক্ত বৃষ্টি। কোথায় থাকবে! বাসায় ফিরবেই বা কিভাবে!
একজন বয়স্ক লোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন,
” তোমরা কি হও?”
তাজের অকপট জবাব,
” ও আমার ফুফাতো বোন।”
” বিয়ে হয়েছে তোমাদের? “
তাজ নৌমিকে একবার দেখল৷ নৌমির দৃষ্টিতে জড়তা। বার বার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাচ্ছে। তাজ মৃদুস্বরে বলল,
” বিয়ে হলে বউ বলতাম, আংকেল। ফুফাতো বোন বলতাম না।”
আরেকজন জিজ্ঞেস করলেন,
” তোমাদের সাথে যারা ছিল তাঁরা কি হয়?”
“আমরা সবাই কাজিন। একসঙ্গে ঘুরতে এসেছিলাম। ওরা মনে হয় বাসে ওঠে গিয়েছিল।”
লোকটা মলিন কণ্ঠে বললেন,
” এখানে এভাবেই বাস ধরতে হয়। প্রায়ই এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তারজন্য আমরা কয়েকজন চাইতেছি এখানে একটা বাস কাউন্টার দিব৷ যেন অন্ততপক্ষে ১০ মিনিটের জন্য হলেও বাসটা থেমে থাকে।”
তাজ জানতে চাইল,
” এরপর আর কোনো বাস নেই?”
“ভোর ৫ টায় একটা বাস আছে।”
“সিএনজি, বাইক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই?”
“না বাবা। মাঝে মাঝে দুই একটা সিএনজি আসে তবে আজকে যে বৃষ্টি সিএনজি আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।”
তাজ হতাশ ভঙ্গিতে শুধাল,
” রাতে থাকার মতো কোনো হোটেল আছে এদিকে?”
ভদ্রলোক হাসতে হাসতে বললেন,
” কয়েকটা দোকান ছাড়া এখানে কিছুই নেই, বাবা। তোমরা চাইলে একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”
” কি ব্যবস্থা?”
“তোমরা আমার বাড়িতে যেতে পারো। এখান থেকে খুব বেশি দূরে না।”
তাজ খানিকক্ষণ ভেবে রাজি হলো। লোকটা দেরি না করে তাদের নিয়ে রওনা হলো। কিছুটা যেতেই নৌমি তাজের হাত খামচে ধরেছে। তাজ বিড়বিড় করে আওড়ালো,
” কি সমস্যা? “
” আমি যাব না বাড়িতে৷”
“কেনো?”
“যদি খারাপ মানুষ হয়! আমাদের মে*রে ফেলে তখন কি হবে?”
তাজ থামলো। লোকটা একা একা হাঁটছে আর গল্প করছে। তাজ এক নজর লোকটার দিকে তাকাল। ভদ্রলোক পেছন ফিরে দেখছেও না একবার। তাজ নৌমির গা ঘেঁষে দাঁড়াল। বাহুতে হাত রেখে নিজের কাছে টেনে নিল। ঘাড়ের কাছে মুখ নিতেই নৌমির শরীরে মৃদু কম্পন শুরু হলো। তাজ কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল,
” মে* রে ফেললে নির্দ্বিধায় ম*রে যাব। ক্ষতি কি তাতে! কিছু ইচ্ছের পূর্ণতা মিলে না, কিছু স্বপ্নের ব্যাখ্যা থাকে না অথচ কিছু না পাওয়াতেও শান্তি মেলে। মৃ*ত্যু না হোক সে শান্তি।”
“কি বললে!”
তাজ মলিন হেসে বলল,
” সকালে যেভাবে দেখছিলি, ইচ্ছে তো করছিলো তখনই তোর হাতে ম*রে যাই৷ “
“কি আবোলতাবোল কথা বলব! আমি কখন তাকিয়েছি?”
তাজের মুখের হাসি প্রখর হলো। এক সেকেন্ড সময় না নিয়ে নৌমিকে কোলে তোলে নিল৷ নৌমি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতে লাগল,
” আমাকে কোলে নিলে কেনো? নামাও এক্ষুনি।”
“যেভাবে হাঁটছিলি সেভাবে হাঁটতে থাকলে ওনার বাড়ি পর্যন্ত যেতে যেতে নিউমোনিয়া কনফার্ম। “
“আমি যেতে পারব। নামিয়ে দাও।”
“চুপ, একদম চুপ।”
ভদ্রলোক পুরোনো দিনের কাঠের একটা দুতলা বাড়িতে ঢুকলেন। পেছন পেছন তাজও নৌমিকে নিয়ে ঢুকল। শব্দ শুনে একজন ভদ্রমহিলা গামছা নিয়ে এগিয়ে এলেন। বললেন,
” কি গো, ফিরতে এত রাত হলো কেনো? আর ওঁরায় বা কারা?”
ভদ্রলোক গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে বললেন,
” ওরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। আমার কাছে ধরা খেয়েছে। আজ রাতেই বিয়ে দিব ওঁদের। তুমি আয়োজন করো।”
নৌমি আর তাজ দু’জন একসঙ্গে চিৎকার করল,
” মানে?”
চলবে….
Share On:
TAGS: প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে, সালমা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২২+বর্ধিতাংশ
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৪
-
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে গল্পের লিংক
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৫
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে গল্পের লিংক
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৬
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৮
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৯
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১০