Golpo romantic golpo তুমি এলে অবেলায়

তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১৭


#তুমি_এলে_অবেলায়🍁

#পর্ব_১৭ (সারপ্রাইজ)

#আতিয়া_আদিবা

স্কাইলাইন ভিলার বিশালাকৃতির রাজকীয় লোহার গেটটা স্বয়ংক্রিয় শব্দে খুলে গেল। মার্সিডিজ এস-ক্লাসটি পোর্টিকোর নিচে এসে থামল। লিভিং রুমের বিশাল বেলজিয়াম কাঁচের দেয়াল ভেদ করে হলদেটে আলোর আভা বাইরের ফোয়ারাটাকে বেশ রহস্যময় করে তুলেছে। একদম টিপটাপ সাজে গাড়ি থেকে নামল শেহজাদ। ঘুণাক্ষরেও টের পাবার উপায় নেই যে এই সুবেশধারী বিজনেস টাইকুনের আড়ালে লুকিয়ে আছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের একচ্ছত্র অধিপতি। দ্য কিং।

শেহজাদ সদর দরজা খুলে লিভিং রুমে পা রাখল। সোফায় বসে আছেন শেহজাদের বড় ফুফু আর ফুফাতো ভাই আবির। ফুফুর পরনে দামী বেনারসি সিল্কের শাড়ি, গলায় সোনার ভারী গহনা। কিন্তু তার মুখাবয়ব অন্ধকার। কুটিলতায় পরিপূর্ণ। তিনি সুফিয়া রহমানের হাতটা শক্ত করে ঝাঁকিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভঙ্গিতে বলছেন,

-ভাবী! তুমি আমার কথা সেদিন শুনলে এতবড় সর্বনাশ হত না। আমি তো প্রথম দিন থেকেই বলছিলাম, ছোটলোকের ঘরের মেয়ে। এদের স্বভাব কোনোদিন ভালো হয়না! তুমি কিভাবে এমন নিচু বংশের মেয়েকে আমাদের রাজপুত্র শেহজাদের বউ করে আনলে বলো তো?

সে মুখ আরোও বিকৃত করে বিভৎস গলায় বলল,

-যার ন্যাং*টা ভিডিও দিয়ে গোটা ফেসবুক ভাসছে! আবির তো লজ্জায় নিজের ফ্রেন্ড সার্কেলে মুখ দেখাতে পারছে না! লোকে এখন আমাদের মুখে থুথু দিবে।বান্দির মেয়ে বংশে চুনকালি লেপে দিল।

সুফিয়া রহমান সোফায় একদম নিস্তেজ হয়ে বসে ছিলেন। অপমানে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণাও হচ্ছে। মাস কয়েক আগের স্ট্রোকের ধকল পেরোতে না পেরোতেই আজ আবার এই মানসিক আঘাত তার শরীরকে একদম ভেঙে দিয়েছে। তবুও তিনি নিজের ছেলের বউয়ের এই চরম অবমাননা সহ্য করতে পারলেন না। ফুফুর হাতটা ঝ্যাংটা মেরে সরিয়ে দিয়ে দৃঢ় গলায় বললেন,

-নিলুফা! মুখ সামলে কথা বলো। সামাইরা এই বাড়ির বউ, আমার শেহজাদের স্ত্রী। যে ভিডিওর কথা বলছ ওসব নাকি কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যায়। মুখ বসিয়ে এসব বানানো যায়। আমার সামাইরা ওমন মেয়ে হতেই পারে না!

নিলুফা কেমন অদ্ভুত কায়দায় নাক কুঁচকালেন। বললেন,

-কী বললে? ওসব কে না কে বানিয়েছে? তোমায় সহজ সরল পেয়ে পাপ ঢাকতে ভুয়া কথা বলেছে।

নিলুফা গলার স্বর নামিয়ে আনলেন,

-বাপের ওইটুকুন চাকরির সামান্য বেতন। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা। ওর কপালে ঠিকমতো ডাল-ভাতই জুটত কি না আল্লাহ মালুম! সেই পরিবারের মেয়ে রাতারাতি রহমান বাড়ির অঢেল টাকার মাঝে এসে পড়ল। সতী তো সাজবেই! অভাবের ঘরের মেয়েরা টাকার লোভ দেখলে চরিত্র ঠিক রাখতে পারে না, ভাবী। এটাই চিরন্তন সত্য!

লাগয়া সিঁড়ির অন্ধকার কোণে দাঁড়িয়ে সামাইরা ফুফুর প্রতিটি বিষাক্ত সংলাপ শুনছিল। ওর চরিত্রের ওপর যেভাবে তিনি নোংরা কাদা ছিটাচ্ছিলেন তাতে সামাইরা নিজেকে সংবরণ করতে পারল না। আঁচলটা কামড়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।

ড্রয়িংরুমের নীরবতা নেমে এলো শেহজাদের জুতার শব্দে। উপস্থিত সকলে সামান্য চমকে উঠল। শেহজাদ সোজা এগিয়ে এসে ফুফুর মুখোমুখি সোফাটায় অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে বসল। নিজের দীর্ঘ পা দুটো একটির ওপর আরেকটি তুলে বেশ আরাম করেই বসল।

নিলুফা শেহজাদকে দেখে সুর পাল্টে ফেললেন। এবার তিনি শেহজাদের কান ভাঙানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। কিছুটা ঝুঁকে এসে বললেন,

-শেহজাদ বাবা! বলি কি, তুই দেশের এত বড় নামকরা ব্যবসায়ী। তোর একটা সম্মান আছে। বিদেশের কত নামী দামী মানুষ তোকে চেনে! তুই কীভাবে এমন একজন চরিত্রহীন মেয়ে নিয়ে সমাজ-সংসার করবি? তোর ইজ্জত তো ওই মেয়ে এক রাতে রাস্তায় নামিয়ে ফেলেছে! এখনো সময় আছে বাবা, এই আবর্জনাকে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দে!

শেহজাদ ফুফুর এই দীর্ঘ জ্ঞানের বিপরীতে কোনো রাগ দেখাল না। বরং সোফায় আরও একটু আরাম করে হেলান দিয়ে বসল। অত্যন্ত মিষ্টি ভাষায় বলল,

-ফুফু, তুমি আমার ইজ্জত নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করছ।ওয়েল ইওর ওন মেশিন।।

নিলুফা কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন।

-মানে? কী বলতে চাচ্ছিস রে বাবা?

শেহজাদ নিজের দামী ঘড়িটার দিকে একবার তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

-তোমার বড় ছেলে সাবির… আজ থেকে প্রায় আট মাস আগে দেশের বাইরে গেল। তাও নিজের আইডেন্টিটি লুকিয়ে। কেন? কারণ সে ব্যাংকের প্রায় তেইশ কোটি টাকার লোনখেলাপি হয়েছে। আমাদের সাথে সমস্ত যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। তোমার গুনধর বড় পুত্রের সেই লোনের ফাইলটা কিন্তু আমার অফিসের টেবিলের নিচে চাপা পড়ে আছে ফুফু। সেই ব্যাংক ফ্রড আর লোনখেলাপির কাহিনী আমি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ব্যালেন্স করছি যাতে বংশের বদনামটা ছড়িয়ে না পড়ে।

নিলুফার মুখখানা মুহুর্তেই শুকিয়ে গেল। সে আমতা আমতা করতে লাগল।

-না মানে, শেহজাদ বাবা! আমি তো তোর ভালোর জন্যই…

শেহজাদ হাতের ইশারায় ফুফুকে থামিয়ে দিল। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

-তোমার বড় ছেলের ওই জঘন্য জালিয়াতিতে যদি বংশের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে আমার সামাইরাকে নিয়ে তোমার এত না ভাবলেও চলবে। ওর চরিত্র জাজ করার ক্ষমতা আমি কাউকে দেইনি। মাইন্ড ইট!

এবার শেহজাদ আবিরের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,

-কিছু মনে করিস না ভাই, তবে ফুফুকে নিয়ে এখনই তোর চলে যাওয়া উচিত। আমার মনটা ভালো নেই। হঠাৎ বেয়াদবি করে বসব। তা দেখে আমার মা কষ্ট পাবে। আমি মাকে কষ্ট দিতে চাই না।

নিলুফা আর আবির আর এক মুহূর্তও সেখানে বসার সাহস পেলেন না। রীতিমতো কাঁপতে কাঁপতে সোফা ছেড়ে উঠলেন এবং স্কাইলাইন ভিলা থেকে পালিয়ে বাঁচলেন।

সিঁড়ির অন্ধকারে দাঁড়িয়ে সামাইরা এই পুরো কথোপকথনের সাক্ষী হল। শেহজাদ তার সম্মান রক্ষা করার জন্য ফুফুর জবান কেড়ে নিয়েছে। স্তব্ধ করে দিয়েছে তাকে। এটুকু উপলব্ধি করে সামাইরার চোখের জলের ধারা আরও তীব্র হলো। তবে সে চাইল না শেহজাদ তাকে এই দুর্বল অবস্থায় দেখুক। কাজেই শেহজাদের সিড়ির দিকে এগোতে দেখেই সামাইরা এক ছুটে নিজের বেডরুমে চলে গেল।

ক্ষণিককাল পর শেহজাদ রুমে ঢুকল। শেহজাদ নিজের ওভারকোটটা খুলে আলনায় রাখল। সে সামাইরার লাল হয়ে থাকা চোখ দুটোর দিকে একবার তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল,

-সারাদিন কিছু খেয়েছ?

সামাইরা মাথা নাড়িয়ে ‘না’ সূচক ইশারা করল।

শেহজাদ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে দেয়ালে ঝুলতে থাকা ইন্টারকম টেলিফোনের রিসিভারটা তুলল। কিচেনে ফোন করে সে অত্যন্ত ভারী গলায় বলল,

-ওপরের ঘরে ম্যাডামের জন্য রাতের খাবার পাঠিয়ে দাও। কুইক।

টেলিফোনটা রাখা মাত্রই সামাইরা রুক্ষ স্বরে বলে উঠল,

– আমি খাব না!

শেহজাদ সামাইরার এই তেজি প্রতিবাদের জবাবে চুপ রইল। নিজের পকেট থেকে আইফোনটা বের করল। এরপর সামাইরার একদম মুখোমুখি গিয়ে একটা ভিডিওপ্লে করল।

সামাইরা দেখল স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে তারই কলেজ লাইফের পরিচিত মুখ। তার বন্ধু নাফিস আহমেদ।ভিডিওতে তার মুখ রক্তমাখা। নাফিস কাঁপতে কাঁপতে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করছে, সামাইরা একদম পবিত্র। নির্দোষ। ঈর্ষায় অন্ধ হয়ে ওর ওপর প্রতিশোধ নিতে এই ডিপফেইক ভিডিওটা বানিয়েছে সে।

নাফিসের এই স্পষ্ট স্বীকারোক্তি দেখা মাত্রই সামাইরার চোখজোড়া বড় বড় হয়ে গেল। অস্ফুটে বলে উঠল,

-আমরা তো অনেক ভালো বন্ধু ছিলাম। ও এমন কাজ কেন করল?

শেহজাদ একথা শুনেও যেন শুনতে পেল না। সে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে সিগারেট ধরালো। সামাইরা এবার শেহজাদের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত নিচু স্বরে বলল,

– ধন্যবাদ।

এই একটিমাত্র শব্দই সামাইরার মুখ থেকে বের হলো। কোনো বাড়তি আবেগ ছিল না। শেহজাদ নিজেও কথা বাড়াল না। সে ফোনটা পকেটে রেখে দিল।

বাটলার দরজায় টোকা দিয়ে খাবারের ট্রলিটা ঘরের ভেতরে রেখে চলে গেল। শেহজাদ ট্রলির দিকে একবার তাকিয়ে শীতল গলায় সামাইরাকে বলল,

-খাবারটা যেন নষ্ট না হয়, সামাইরা।

একথা বলে শেহজাদ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিল। তাকে ওভাবে ঘর ছেড়ে চলে যেতে দেখে সামাইরা কপাল কুঁচকে ফেলল। সে কিছুটা উঁচু গলায় জিজ্ঞেস করল,

-কই যাচ্ছেন আপনি?

শেহজাদ দরজার চৌকাঠে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। কিন্তু সামাইরার দিকে তাকাল না। সে নিজের চোখ দুটো মেঝেতে নিবদ্ধ রেখে বড় আর্দ্র গলায় বলল,

-গতকাল লাউটারব্রুনেনের সেই নির্জন শ্যলেতে নেশার ঘোরে তোমায় ছুঁয়েছিলাম, সামাইরা। আজ সেই নেশা পুরোপুরি কেটে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কী জানো? নেশা কেটে যাওয়ার পরও এই মুহূর্তে আমার তোমায় আবারও ছুঁতে ইচ্ছা করছে। নিজের আত্মসম্মানটুকু বাচিয়ে রাখতে চাইছি এবার। তোমায় কথা দিলাম সামাইরা, গতরাতের মত এত মায়াবী, ভালোবাসাময় রাত আমাদের মাঝে আর কোনোদিন আসবে না।কোনোদিনও না।

শেহজাদ এক মুহূর্তও আর দাঁড়াল না। ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিল। সামাইরা ঘরের মাঝখানে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। শেহজাদের শেষ সংলাপটি তার বুকের ভেতর অদ্ভুতভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে সে বুঝতে পারল না নিজের অজান্তেই এই মানুষটার মনকে সে অপূরণীয় আঘাতে চূর্ণ করে দিয়েছে।

ছেলেকে ওভাবে হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে যেতে দেখে সুফিয়া অত্যন্ত চিন্তিত স্বরে বলে উঠলেন,

-কই যাচ্ছিস শেহজাদ? এই মাত্র তো বাড়ি এলি! শরীরটা তো বড় ক্লান্ত তোর। এত রাতে আবার কোথায় যাচ্ছিস বাবা?

শেহজাদ মায়ের কপালে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে নিস্পৃহ গলায় বলল,

-কাজ আছে মা। আগামীকাল দেখা হবে।

সুফিয়া রহমান বাধা দেবার আগেই শেহজাদ সদর দরজা খুলে বাইরের অন্ধকারের মাঝে মিলিয়ে গেল। মার্সিডিজের ইঞ্জিনের গর্জন ঢাকার সুনসান রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে রহমান টাওয়ারেত দিকে ছুটে চলল।

ঢাকার মধ্যরাতের আকাশটা আজ কেমন কুৎসিত ধূসর চাদরে ঢাকা। চতুর্দিকের বহুতল ভবনগুলোর সোডিয়াম আর নিয়ন বাতির আলো ঝলমল করছে।

রহমান টাওয়ারের খোলা ছাদে এসে দাঁড়াল শেহজাদ।

চারপাশের অবাধ্য হিমেল বাতাস শেহজাদের ছোট ছোট অবাধ্য চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছিল। তার হাতে ঝুলছে এক বোতল দামী ব্ল্যাক লেবেল স্কচ হুইস্কি।

এই বিশাল কমার্শিয়াল টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ শেহজাদকে ঈশ্বরতুল্য ক্ষমতাবান বলে মনে করে। অথচ এই মেঘের কাছাকাছি একাকী দাঁড়িয়ে শেহজাদ নিজেকে একজন নিঃস্ব কয়েদি ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারছিল না।

ছাদের একদম কিনারে রাখা ছিল দামী লেদারের সোফা। সেখানে ধপ করে বসে পড়ল শেহজাদ। হুইস্কির বোতলের ছিপিটা দাঁত দিয়ে এক টানে খুলে সরাসরি নিজের ঠোঁটে চেপে ধরল সে। বোতলে থাকা কড়া তরলটি গোগ্রাসে গিলতে লাগল।

পুরুষের যখন মন খারাপের ঔষধ মাত্র দুটি। প্রথমটি হল নারীসঙ্গ, দ্বিতীয়টি হল মদ। শেহজাদ আজ পরম অবজ্ঞায় প্রথমটি বর্জন করে দ্বিতীয়টি বেছে নিল।

শেহজাদ হুইস্কির বোতলটা পাশে রেখে কাঁপাকাঁপা হাতে পকেট থেকে লাইটার বের করে সিগারেট ধরাল। ধোঁয়ার গাঢ় কুণ্ডলী বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই সে নিজের ধবধবে সাদা শার্টের হাতাটা কনুই পর্যন্ত সজোরে গুটিয়ে নিল। নিয়ন বাতির দূরবর্তী আবছা আলোয় দেখা গেল তার ফর্সা চামড়ার ওপর ছোটবেলার কিছু পুরনো কুৎসিত ছেঁকার দাগ।

শেহজাদের মাঝে কোনো দ্বিধা কাজ করল না। দু আঙুলের ফাঁকে জ্বলতে থাকা সিগারেটের অগ্নিবর্ণ অগ্রভাগটা সরাসরি চেপে ধরল সেই পুরনো একটি ছেঁকার দাগের ওপর।

ছিঁসসস… চামড়া পোড়ার এক তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চতুর্দিকে। অসহ্য যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ল মস্তিস্কের প্রতিটি কোষে। তবুও শেহজাদের চোয়াল শক্ত। চোখজোড়া অনুভূতিহীন।

এই শারীরিক যন্ত্রণাই শেহজাদের ভেতরের মানসিক কষ্ট লাঘবের একমাত্র গোপন পথ্য। ভেতরের অদৃশ্য ক্ষতটা যখন বেশি রক্তক্ষরণ ঘটায়, তখন বাইরে নতুন ক্ষত তৈরি করে ভেতরের ব্যথার মনযোগ ঘুরিয়ে দিতে হয়।

দাগের ওপর নতুন দাগের সৃষ্টি করে সে যেন সামাইরার দেওয়া অপমানের জ্বালাটা ভুলে থাকতে চাইল।

নেশার তীব্র ঘোরে শেহজাদের স্নায়ুগুলোকে অবশ হতে শুরু করল। ধোঁয়াটে মস্তিস্কে আচমকা ভেসে উঠল রাইসার মুখ। ছাদের মেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে সে ভাবতে লাগল, রাইসা আসলে কী ছিল তার জীবনে?

সাময়িক মোহ ছাড়া আর কিছুই নয়। রাইসার আগমন শেহজাদকে এক সময় তাকে ভালোবাসার অভাব থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আজ এই নির্জন ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে সে একটা বিষয় একদম পরিষ্কার বুঝতে পারল। রাইসাকে সে কোনোদিনও ভালোবাসেনি।

যদিও সামাইরাকে ফাঁসানোর জন্যই সে সুইজারল্যান্ডে রাইসার সাথে ব্রেকআপের সেই নিষ্ঠুর নাটকটা সাজিয়েছিল, কিন্তু এবার সে এই মিথ্যা সম্পর্কটার অফিসিয়াল ইতি টানবে। আজ সকালেই সে রাইসার ফ্ল্যাটে এক তোড়া দামী ফুল আর একটা বেস্ট উইশেস কার্ড পাঠাবে। সে আর কোনো তিক্ততা চায় না। খুব মার্জিত ভাবেই সম্পর্কের ইতি টানবে সে।

কিন্তু সামাইরা? সামাইরার ওই জেদি, সোজাসাপ্টা ধারালো চোখগুলো কখন যেন তার পাথুরে হৃদয়ে এক নিষিদ্ধ অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। সে সামাইরাকে ভালোবেসে ফেলেছে।

-না! এটা হতে পারে না!।

শেহজাদ অন্ধকারের মাঝে নিজের মাথা চেপে ধরল। সে নিজের অনুভূতির তীব্র বিরোধিতা করতে লাগল। সে নিজেকে আরও বেশি মানসিক কষ্ট দিতে লাগল, নিজের ভেতরের এই অদ্ভুত দুর্বলতাকে সে নিজের নখ দিয়ে উপড়ে ফেলতে চাইল। যতবার সামাইরার মায়াবী মুখটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল, ততবার সে সিগারেটের নতুন একটি ছেঁকা নিজের চামড়ায় বসিয়ে দিতে লাগল।

রাত ফুরিয়ে আসছে, মদের বোতলটাও প্রায় শেষ। ভোর হতে হতে বোধহয় সহস্র সিগারেটের ছেঁকায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে শেহজাদের শরীর।

সারপ্রাইজ দিলাম। এই পর্বে অবশ্যই রেসপন্স চাই। ৩০০ কমেন্ট আর ২ হাজার লাইক 🥹 ৩০০ কমেন্ট পূর্ণ হলেই পরের পর্ব লিখতে বসব। আগামীকাল আসবে। অনেক অনেক ভালোবাসা প্রিয় পাঠক।❤️

চলবে.

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply