পর্ব – ২৫ ( ১৮+ এলার্ট কঠোরভাবে )
#ডার্ক_সাইড_অফ_লাভ
#দূর্বা_এহসান
“নিড ইউ ব্যাডলি,মৃন্ময়”
তরুর মুখে এমন কথা শুনে মৃন্ময়ের হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তরুর দু’চোখে এখন আর আগের সেই ক্লান্তি বা অসুস্থতার ছাপ নেই, সেখানে এখন খেলা করছে এক অদ্ভুত এক নেশা।মা হওয়ার খবরটা জানার পর ওর ভেতরের সমস্ত সংকোচ যেন এক নিমেষেই কপূরের মতো উড়ে গেছে।
মৃন্ময় তরুর কোমরে দু’হাত জড়িয়ে ওকে আরও কিছুটা নিজের দিকে টেনে নিল। তোয়ালেটা তখনো কোনোমতে ওর কোমরে টিকে আছে। সে তরুর কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল,
— “পাগলী নাকি? ডাক্তার মাত্রই বলে গেলেন এই সময় সাবধানে থাকতে হবে। আর তুমি এখন নিজেই উস্কানি দিচ্ছ?”
তরু মৃন্ময়ের গলার দুপাশে হাত জড়িয়ে ধরে আলতো করে হেসে উঠল। সেই হাসিতে চরম তৃপ্তি মিশে । সে ফিসফিস করে বলল,
—”আমি কিচ্ছু জানি না। আপনি কি আমাদের দূরে সরিয়ে দেবে?”
মৃন্ময় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তরুর এই রূপ তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং তীব্রভাবে আকর্ষনীয়। সে তরুর ঠোঁটে আবার নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল, তবে এবার আর আগের মতো রুড ছিল না। যত্নসহকারে সে চুমু দিচ্ছে।
কিছুসময় পর তরু এক ধাপ এগিয়ে মৃন্ময়ের টাওয়েল ধরে টান দিলো। কিস করা মৃন্ময় থেমে গেলো সেভাবেই।তরুর হঠাৎ করা কাজে সে একটু চমকেছে ।তবে পরমুহুর্তেই আবারো ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের মধ্যে নিলো । গাল থেকে হাত নেমে তরুর কোমরের দুদিক আঁকড়ে ধরলো। কিছুটা ফাঁকা রেখে টেনে নিলো কোলে । ছাড়লো ঠোঁটজোড়া । দুজনই কপালে কপাল ঠেকিয়ে নিশ্বাস নিলো বড় বড় করে । মৃন্ময় কন্ঠ নিচে নামিয়ে বললো,
—” থেমে যাই তরু, এখনো সময় আছে জান।থেমে যাই।”
—” না”
তরু দূরে সরলো একটু।মৃন্ময় ভাবলো হয়তো থেমে যাচ্ছে।কিন্তু ওর ভাবনাকে ভুল প্রমানিক করে তরু ঝুকলো ছোটমিয়ার পানে । ডএতো বড় একটা গুড নিউজ এর জন্যই তো| বেচারাকে কোনো রিওয়ার্ড দেওয়া হয়নি।আলতো হাতে ছোট মিয়াকে স্পর্শ করলো তরু।সাথে সাথেই মৃন্ময় চোখ বন্ধ করে ফেললো।পুরো শরীরে যেন কারেন্ট লাগলো মাত্রই। আহ্ এই ফিলিংসটা বোঝানোর মত নয়।
—” thanks”
চোখ খুললো মৃন্ময়। ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।হঠাৎ ধন্যবাদ দিচ্ছে কেন? তরু চোখের ইশারায় নিচের দিকে তাকাতে বলল। সে তো ছোট মিয়াকে থ্যাঙ্কস বলেছে।আশ্চর্য হয়ে গেলো মৃন্ময়। ছোটমিয়ার সাথে কথা!
—”এর জন্য তুমি একটা গিফট ডিজার্ভ করো”
বলতে বলতেই তরু এমন কিছু করলো যে মৃন্ময় এর পুরো শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো।তরুর করা কাজটা ২/৪ সেকেন্ডের হলেও মৃন্ময় এর আশ্চর্য ভাবটা বেশ সময় নিয়ে থাকলো।
— চুমু দিলে!!
আশ্চর্য গলায় বলল মৃন্ময়।তরু দাঁত বের করে হাসলো।এরকম অবস্থায় কি আর থাকা যায়! তরুকে টেনে কোলের উপর আনলো। ঘাড়ে আলতো কামড় বসালো মৃন্ময়।তার শরীরে হালকা কাঁপুনি অতিরিক্ত খুশিতে।এবার যদি তরু গলা ফটিতেও কাদে তারপরেও হয়তো আর ছাড় পাবে না মৃন্ময় এর থেকে। হ্যাঁ হলোও তাই।সেকেন্ড কয়েকের মধ্যে দুটো শরীর কা’প’ড়হীন। পুরুষালি শক্ত দেহের নিচে চাপা পরে গেলো তরু।উন্মাদ হয়ে উঠলো মৃন্ময়।
_____________________
সকাল সকাল খান বাড়িতে আজ যেন ঈদের আমেজ। চারদিকের উৎসবমুখর পরিবেশটা তৈরি হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আসা একটি খুশির খবরে। তরু মা হতে চলেছে। এই আনন্দের সংবাদে ভোর হতেই পুরো বাড়ির চেহারা বদলে গেছে। আরবাজ আর রেশমা মিলে ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে বারান্দা পর্যন্ত রঙিন আলো আর ফুল দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছে।
সাজানো ড্রয়িং রুমের সোফাটায় চুপচাপ বসে আছে তরু। তার সারা মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় বোন অরু আর দুলাভাই এর সামনে সে কিছুতেই সহজ হতে পারছে না। মাথাটা নিচু করে শাড়ির আঁচল আঙুলে পেঁচাচ্ছে সে।
খুব ছোটবেলায় তারা বাবা-মাকে হারিয়েছিল। তারপর থেকে অরু নিজের সমস্ত সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তরুকে আগলে রেখেছে, মায়ের মমতায় বড় করেছে। আজ থেকে বছর তিনেক আগে পারিবারিক সম্মতিতে খালাতো ভাই আরবাজের সঙ্গে অরুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারটা বেশ সুখেরই কাটছিল।
কিন্তু তরুর মনের ভেতর একটা দ্বিধা আর সংকোচ ক্রমাগত কাঁটার মতো বিঁধছে। বড় বোন অরু আর আরবাজের বিয়ের বয়স হয়েছে বেশ কয়েক বছর, অথচ এখনো তাদের কোল জুড়ে কোনো সন্তান আসেনি। সেখানে ছোট বোন হয়ে সে নিজে বিয়ের মাস দুয়েকের মাথায় প্রেগন্যান্ট হয়ে বসে আছে। বড় বোনের আগে মা হওয়ার এই বিষয়টা তরুকে ভীষণ লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। তার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে যদি সে কোনো জাদুমন্ত্রে এই ঘর থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারত, তবে বেঁচে যেত।
লজ্জা আর অস্বস্তি নিয়ে তরু আড়চোখে তাকাল ডাইনিং টেবিলের দিকে। অরু মুখে এক চিলতে মিষ্টি হাসি নিয়ে টেবিলে নানারকম সকালের নাস্তা সাজাচ্ছে। বোনের চোখে-মুখে তৃপ্তির ছোঁয়া। বোনের এই নিঃস্বার্থ আনন্দ দেখে তরুর বুকটা আরও ভার হয়ে উঠল। টেবিলে অরু একলা নয়, আরবাজ আর বাড়ির কাজের মেয়ে রেশমাও তাকে উৎসাহের সাথে হাতে হাতে সাহায্য করছে। আরবাজের মুখে চওড়া হাসি, নিজের খালু হওয়ার আনন্দ সে লুকাতে পারছে না।
তবে তরুর চোখ দুটো অন্য কাউকে খুঁজছিল। মৃন্ময়কে সকাল থেকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। কোথায় গেছে বলেও যায়নি।
সোফায় আর বসে থাকা সম্ভব হলো না তরুর পক্ষে। সে ধীর পায়ে উঠে গিয়ে অুরুর পাশে দাঁড়াল। টেবিল থেকে একটা বাটি তুলতে যেতেই অরু খপ করে তার হাতটা ধরে ফেলল।
—” তুমি বসো আপু,আমি করছি”
চোখ গরম করে তাকালো অরু।আদরের একমাত্র বোনকে এই অবস্থায় কিছুতেই কাজ করতে দিবে না সে। বোনের একটু ভালো থাকা,সুখের জন্য সব কিছু করতে রাজি সে।আচ্ছা তরু যখন জানতে পারবে অরুই তাকে মৃন্ময় এর হাতে তুলে দিয়েছে।তখন কি সে তার উপর রাগ করবে? সে তো মৃন্ময় এর চোখে তরুর প্রতি ভালোবাসা দেখেই দিয়েছিল।ভালোর জন্যই।এই একটা কথা ভাবলেই অরুর হাত পা কাপে।কোনোদিন যদি তরু জানতে পারে!
— ওখানে বস গিয়ে।কিছু করতে হবে না তোর।আমি আছি না?
জোর গলায় বলল অরু।তরু কিছু বলতেই যাবে তার আগে আরবাজ বলল,
— বস বস।এরকম যদি আমাকে পায়ের উপর পা তুলে আরাম করতে দিত তোর বোন! আহ্, ড্রিম ভাই ড্রিম।
তেঁতে উঠলো অরু।আগুন চোখে আরবাজের দিকে তাকালো।
— তুমিও প্রেগন্যান্ট হও তাহলে।
ফিচেল হেসে বলল অরু। আরবাজের মুখ কালো হয়ে গেলো। সে ছেলে মানুষ, সে কিভাবে প্রেগন্যান্ট হবে?আশ্চর্য সব কথা। তরু হেসে ফেললো।তাকে হাসতে দেখে বাকিরাও একই সুরে হাসলো।
ঠিক তখনই কলিং বেল বাজলো।রেশমা দরজা খুলে দিলো গিয়ে।মৃন্ময় আর ইখতিয়ার খান দাড়িয়ে। বিজনেস ট্রিপ থেকে ফিরেছেন ইখতিয়ার। মৃন্ময় হয়তো ওনাকেই রিসিভ করতে গেছিল।
ইখতিয়ার খান তরুর দিক এগিয়ে গেলেন। হেঁসে ক্লান্তি ভরা কন্ঠে বললেন,
—”দাদু হচ্ছি তাহলে”
ওনার মুখে হাসি।তরুর কেন জানি অসস্তি হচ্ছিল।ইখতিয়ার খান তার পেটের দিকে তাকিয়ে।তরু জোরপূর্বক হাসলো।ইখতিয়ার খান আর সেখানে দাঁড়ালেন না।সদ্য ফিরেছেন তিনি। ক্লান্ত, তাই রুমে চলে গেলেন।
চলবে…
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৯
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৯
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৮
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৭
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৫
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ১