#মন_বোঝে_না (১৩)
#সানা_শেখ
পরদিন ভার্সিটিতে এসে আবরারের দেখা পেল না সারাহ। আবরারের বন্ধুরা থাকতেও আবরার কোথাও নেই। আবরারকে খুঁজে না পেয়ে নিজ ডিপার্টমেন্টের দিকে এগোল সারাহ। সকালেও বেশ কয়েকবার আবরারের ফোনে কল করেছিল, ফোন বন্ধ। আজকে আবার ভার্সিটিতেও আসেনি। অপরাধ বোধ জেঁকে ধরেছে সারাহকে।
ফারিশ বোনকে ভার্সিটিতে রেখে মামার বাড়িতে এলো সোজা। দরজা খোলা পেয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়ল। সোফায় বসে আছেন আমজাদ খান, উনার হাতে আবরারের লেখা চিঠিটা এখনো রয়েছে। উনার পাশে বসে মহুয়া কবীর কিছু বলছেন।
ফারিশ দ্রুত পায়ে মামার কাছে এগিয়ে এলো। তাকে দেখেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন আমজাদ খান। ফারিশ মামার লাল টকটকে চোখজোড়া দেখল, চেহারায় দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা বিরাজ করছে।
“কী হয়েছিল, মামা?”
মহুয়া কবীর বললেন,
“আবরার গতকাল বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজের রুমে চলে গিয়েছিল, তারপর আর নিজের রুম থেকে বের হয়নি। আমি খাওয়ার জন্য ডাকলেও কিছু বলেনি। বিরক্ত হবে বলে আমিও আর বেশি কিছু বলিনি। রাতে আটটার দিকে আমাদের রুমে যায় আর আমাকে সরি বলে। রুম থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ি থেকেই বেরিয়ে গেছে, তারপর থেকে ওর আর কোনো খোঁজ খবর নেই। সকালে তোমার মামা ওর রুমে এসে দেখে রুমে কেউ নেই, মেইড জানায় আবরার রাতে বাড়িতে ফেরেনি। কল করছি ফোন বন্ধ। ওর বন্ধু, পরিচিত মানুষজন কেউ ওর খোঁজ খবর জানে না। সবাই একই কথা বলছে গতকাল রাত থেকে ওর ফোনে কল ঢুকছে না।”
“খালি হাতে গেছে?”
“মেইড আর দারোয়ান বলল খালি হাতে বেরিয়েছে। আমরা ফুটেজ চেক করেও দেখেছি, ব্যাগপত্র কিছু নেয়নি। গাড়ি বা বাইকও নেয়নি। পুরোপুরি খালি হাতে বেরিয়ে গেছে। কোথায় যাচ্ছে কিছু বলেনি।”
ফারিশ মামার মুখের দিকে তাকাল। একমাত্র ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়ছেন তিনি।
মামার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ফারিশ নিজেও পড়ল। হাতের লেখা দেখে বোঝা যাচ্ছে চিঠিটা লেখার সময় আবরার স্বাভাবিক ছিল না। কোথায় যাচ্ছে বা যাবে এমন কিছু লেখা নেই চিঠিতে।
গত পরশু থেকে আবরার তার কাছে সারাহকে নিয়ে কোনো কথা বলেনি।
শক্ত হৃদয়ের মানুষ আমজাদ খান ধরা গলায় বললেন,
“গত পরশু রাতে আবরার আমাকে বলেছিল ও দেশের বাইরে চলে যাবে, আমি যেন যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করে দেই। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেছিল এখানে ওর ভালো লাগছে না, এখানে আর থাকতে চায় না। আর পরের রাতে কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেল! ওর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। এভাবে মাফ চেয়ে কোথায় চলে গেল আমার ছেলেটা!”
ফারিশ মামার মুখের দিকে রইল। তিনি পুরুষ বলে কাঁদতে পারছেন না, নারী হলে এতক্ষণে হাউমাউ করে কাঁদতেন ছেলের জন্য। কত কষ্টে যে নিজেকে শক্ত রেখেছেন সেটা উনার চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
আবরার এভাবে কাউকে কিছু না বলে কোথায় হারিয়ে গেল? সারাহকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে আবার দেশ ছাড়তে চেয়েছিল কেন?
“পুলিশকে জানিয়েছো?”
“হুম।”
“কী বলল?”
“চব্বিশ ঘণ্টা দেখবে।”
ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাসে আবরারকে খুঁজতে লাগল সারাহ। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। আবরারের কোনো বন্ধুকেও খুঁজে পেল না। সবাই গেল কোথায়? ক্লাস না থাকলেও তো এরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকে। গেইটের বাইরে বেরিয়ে আসতেই জুনায়েদের বাইক এসে দাঁড়াল, তার পেছনে বসে আছে মৃন্ময়। আর কাউকে দেখতে পেল না সারাহ। সারাহ আশপাশে নজর বুলিয়ে দেখল আজ ফারিশও এখনো এসে পৌঁছায়নি।
সারাহ জুনায়েদের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
“ভাইয়া, একটু শুনবেন?”
সারাহকে চিনতে অসুবিধা হলো না জুনায়েদ আর মৃন্ময়ের। জুনায়েদ বলল,
“জি বলো।”
সারাহ ইতস্তত করে বলল,
“আপনাদের বন্ধু আবরার সাহিল খান কোথায়?”
“ওকে কেন খুঁজছো?”
“একটু দরকার ছিল।”
“আবরারকে গতরাত থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
জুনায়েদের কথা শুনে বিস্মিত হলো সারাহ। বিস্ময় নিয়েই বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে?”
মৃন্ময় বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে আবরার হঠাৎ করে গায়েব হয়ে গেছে কাউকে কিছু না জানিয়ে। কোথায় গেছে আমরা কেউ জানি না।”
“ওহ।”
সারাহ নিজের ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে জুনায়েদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“উনি এলে এটা উনাকে দিয়ে দিবেন।”
জুনায়েদ চিঠিটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে বলল,
“লাভ লেটার?”
মৃন্ময় বলল,
“ওই তিতা করলা নিরামিষের উপর এত মেয়ে ক্রাশ খায় কেন?”
সারাহ মিনমিন করে বলল,
“এটা লাভ লেটার নয়।”
“তাহলে কীসের লেটার, আপা?”
সারাহ জুনায়েদের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল,
“আপনাদের দিতে হবে না, আমিই দিয়ে দিবো।”
বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। পেছন থেকে মৃন্ময় হাত তুলে বলল,
“এই এই আপা, কই যান?”
জুনায়েদ বলল,
“আরে রাখ তো এসব। ওই শা’লা কই চলে গেল এভাবে? টেনশনে ভাল্লাগছেনা কিছু। ও তো কখনো এমন করে না।”
“গতকাল এসে বলল এখানে আর পড়বে না, ক্লাসও করবে না আর, খুব শীগ্রই দেশের বাইরে চলে যাবে। আর রাত হতেই ব্যাটা গায়েব হয়ে গেছে। ওর হয়েছেটা কী?”
“ও এলেই জানতে পারব। এই রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ওকে খুঁজতে খুঁজতে আমার মাথা ধরে গেছে।”
সারাহ ফারিশকে কল করার পর ফারিশ তাকে আর পাঁচ মিনিট দাঁড়াতে বলল, সে আসছে।
সারাহকে বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে ফারিশ বলল,
“তুমি ভেতরে যাও, আমি আসছি।”
সারাহ মাথা নেড়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই ফারিশ বাইক নিয়ে চলে গেল।
সাড়ে চারটা বাজতেই সারাহর ফোন একনাগাড়ে বাজতে লাগল বিরতিহীন। কল কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার কল আসছে। সারাহ হন্তদন্ত হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। সে জানে আবির কল করছে। কল রিসিভ করে বিছানায় বসতে বসতে সালাম দিলো স্ক্রিনে তাকিয়ে। আবির সালামের জবাব দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“কেমন আছো, চেরি ব্লসম?”
আবিরের গম্ভীর গলার আওয়াজ শুনে সারাহ স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। আবিরের চেহারা গম্ভীর থমথমে হয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে কিছুটা রেগেও আছে। সারাহ মৃদু স্বরে বলল,
“ভালো, আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো।”
“কিছু হয়েছে? আপনাকে এমন লাগছে কেন?”
“ভার্সিটিতে কেমন কা’টলো সারাদিন?”
“অন্যদিন যেমন কা’টে তেমনই।”
“আসলেই?”
“কী হয়েছে?”
“কী হয়েছে সেটা তো তুমিই জানো।”
“আমি কী জানবো?”
“জানো না কিছু?”
“কী জানার কথা বলছেন?”
“ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
সারাহ অবাক হলো আবিরের কথা শুনে। সে ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছে এটা আবির জানলো কীভাবে? আবির আগের ভাব বজায় রেখে বলল,
“কথা বলছো না কেন? ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
“সাধারণ কথা ছিল, আবির। এভাবে রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই।”
আবির চেঁচিয়ে উঠল, বাজখাঁই গলায় বলল,
“রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই? তুমি আমার বাগদত্তা হয়ে আরেক ছেলেকে চিঠি দাও কীভাবে?”
আবিরের গলার আওয়াজ শুনে হতভম্ব সারাহ। এ কেমন আচরণ?
“কথা বলছো না কেন এখন?”
সারাহ নিজেকে সামলে চোখজোড়া মুছে নিল। আবিরের আচরণে তার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে। ধরা গলায় বলল,
“আবির চিঠিটা কোনো ভালোবাসার চিঠি ছিল না। আমি সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেছি এটা সত্যি কথাই। আমি শুধু উনাদের দুজনকে আবরার—
সারাহকে থামিয়ে আরও বেশি চেঁচিয়ে উঠল আবির। চিৎকার করে বলল,
“আবরার আবরার আবরার! এই আবরারের মধ্যে কী আছে? ওর নাম মুখে নিতে নিষেধ করেছি না তোমাকে? ওর নাম মুখে নিবে না তুমি।”
সারাহ স্তব্ধ হয়ে গেল। এ কোন আবিরকে দেখছে সে? এটা তো সেই আবির না। আবির তো এমন নয়। আবির শান্ত, ভদ্র, মিষ্টভাষী মানুষ।
“আবির, আপনি আমার পুরো কথা তো শুনবেন নাকি? এভাবে চিৎকার করছেন কেন? ওই দুজনকে আমি শুধুমাত্র আবরার সাহিল খানের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আবরার সাহিল খানের সঙ্গে আমি বাজে আচরণ করেছিলাম তাই সরি বলার জন্যই তার খোঁজ করছিলাম। চিঠিতে আমি শুধু তার কাছে মাফই চেয়েছি, এর বেশি কিছু নয়। চিঠিটা আমি আবার ফিরিয়েই এনেছি।”
আবির রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“আমি কিচ্ছু জানতে চাই না, শুনতে চাই না। তুই ভার্সিটিতে যাবি না আর, ওই আবরারের সামনে তো আরও না। আজকের পর তুই আমার অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরেও বের হবি না। কোনো ছেলের সামনে যেতে পারবি না। তোর দুই সৎ ভাইয়ের সামনেও যাবি না।”
আবিরের কথা শুনে আর ব্যবহার দেখে কেঁদে ফেলল সারাহ।
“একদম ন্যাকা কান্না করবি না আমার সামনে।”
সারাহ কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আবির, এমন করছেন কেন আপনি?”
আবির কল কে’টে দিলো কিছু না বলে। সারাহর বুক ফেটে যেতে চাইছে কষ্টে। এমন ব্যবহার তার সঙ্গে আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। আবির তার সঙ্গে এভাবে কথা বলল তার বিশ্বাস হচ্ছে না। যেই আবিরের প্রত্যেকটা কথায় আদর মিশে থাকতো সেই আবিরের কথা এমন জঘন্য হলো কীভাবে? তাকে বোঝার চেষ্টাই করল না। আবার কী বিশ্রী ভাবে তাকে তার ভাইদের সামনে যেতে নিষেধ করল!
চলবে…………..
#সানা_শেখ
পরদিন ভার্সিটিতে এসে আবরারের দেখা পেল না সারাহ। আবরারের বন্ধুরা থাকতেও আবরার কোথাও নেই। আবরারকে খুঁজে না পেয়ে নিজ ডিপার্টমেন্টের দিকে এগোল সারাহ। সকালেও বেশ কয়েকবার আবরারের ফোনে কল করেছিল, ফোন বন্ধ। আজকে আবার ভার্সিটিতেও আসেনি। অপরাধ বোধ জেঁকে ধরেছে সারাহকে।
ফারিশ বোনকে ভার্সিটিতে রেখে মামার বাড়িতে এলো সোজা। দরজা খোলা পেয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়ল। সোফায় বসে আছেন আমজাদ খান, উনার হাতে আবরারের লেখা চিঠিটা এখনো রয়েছে। উনার পাশে বসে মহুয়া কবীর কিছু বলছেন।
ফারিশ দ্রুত পায়ে মামার কাছে এগিয়ে এলো। তাকে দেখেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন আমজাদ খান। ফারিশ মামার লাল টকটকে চোখজোড়া দেখল, চেহারায় দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা বিরাজ করছে।
“কী হয়েছিল, মামা?”
মহুয়া কবীর বললেন,
“আবরার গতকাল বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজের রুমে চলে গিয়েছিল, তারপর আর নিজের রুম থেকে বের হয়নি। আমি খাওয়ার জন্য ডাকলেও কিছু বলেনি। বিরক্ত হবে বলে আমিও আর বেশি কিছু বলিনি। রাতে আটটার দিকে আমাদের রুমে যায় আর আমাকে সরি বলে। রুম থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ি থেকেই বেরিয়ে গেছে, তারপর থেকে ওর আর কোনো খোঁজ খবর নেই। সকালে তোমার মামা ওর রুমে এসে দেখে রুমে কেউ নেই, মেইড জানায় আবরার রাতে বাড়িতে ফেরেনি। কল করছি ফোন বন্ধ। ওর বন্ধু, পরিচিত মানুষজন কেউ ওর খোঁজ খবর জানে না। সবাই একই কথা বলছে গতকাল রাত থেকে ওর ফোনে কল ঢুকছে না।”
“খালি হাতে গেছে?”
“মেইড আর দারোয়ান বলল খালি হাতে বেরিয়েছে। আমরা ফুটেজ চেক করেও দেখেছি, ব্যাগপত্র কিছু নেয়নি। গাড়ি বা বাইকও নেয়নি। পুরোপুরি খালি হাতে বেরিয়ে গেছে। কোথায় যাচ্ছে কিছু বলেনি।”
ফারিশ মামার মুখের দিকে তাকাল। একমাত্র ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়ছেন তিনি।
মামার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ফারিশ নিজেও পড়ল। হাতের লেখা দেখে বোঝা যাচ্ছে চিঠিটা লেখার সময় আবরার স্বাভাবিক ছিল না। কোথায় যাচ্ছে বা যাবে এমন কিছু লেখা নেই চিঠিতে।
গত পরশু থেকে আবরার তার কাছে সারাহকে নিয়ে কোনো কথা বলেনি।
শক্ত হৃদয়ের মানুষ আমজাদ খান ধরা গলায় বললেন,
“গত পরশু রাতে আবরার আমাকে বলেছিল ও দেশের বাইরে চলে যাবে, আমি যেন যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করে দেই। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেছিল এখানে ওর ভালো লাগছে না, এখানে আর থাকতে চায় না। আর পরের রাতে কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেল! ওর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। এভাবে মাফ চেয়ে কোথায় চলে গেল আমার ছেলেটা!”
ফারিশ মামার মুখের দিকে রইল। তিনি পুরুষ বলে কাঁদতে পারছেন না, নারী হলে এতক্ষণে হাউমাউ করে কাঁদতেন ছেলের জন্য। কত কষ্টে যে নিজেকে শক্ত রেখেছেন সেটা উনার চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
আবরার এভাবে কাউকে কিছু না বলে কোথায় হারিয়ে গেল? সারাহকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে আবার দেশ ছাড়তে চেয়েছিল কেন?
“পুলিশকে জানিয়েছো?”
“হুম।”
“কী বলল?”
“চব্বিশ ঘণ্টা দেখবে।”
ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাসে আবরারকে খুঁজতে লাগল সারাহ। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। আবরারের কোনো বন্ধুকেও খুঁজে পেল না। সবাই গেল কোথায়? ক্লাস না থাকলেও তো এরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকে। গেইটের বাইরে বেরিয়ে আসতেই জুনায়েদের বাইক এসে দাঁড়াল, তার পেছনে বসে আছে মৃন্ময়। আর কাউকে দেখতে পেল না সারাহ। সারাহ আশপাশে নজর বুলিয়ে দেখল আজ ফারিশও এখনো এসে পৌঁছায়নি।
সারাহ জুনায়েদের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
“ভাইয়া, একটু শুনবেন?”
সারাহকে চিনতে অসুবিধা হলো না জুনায়েদ আর মৃন্ময়ের। জুনায়েদ বলল,
“জি বলো।”
সারাহ ইতস্তত করে বলল,
“আপনাদের বন্ধু আবরার সাহিল খান কোথায়?”
“ওকে কেন খুঁজছো?”
“একটু দরকার ছিল।”
“আবরারকে গতরাত থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
জুনায়েদের কথা শুনে বিস্মিত হলো সারাহ। বিস্ময় নিয়েই বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে?”
মৃন্ময় বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে আবরার হঠাৎ করে গায়েব হয়ে গেছে কাউকে কিছু না জানিয়ে। কোথায় গেছে আমরা কেউ জানি না।”
“ওহ।”
সারাহ নিজের ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে জুনায়েদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“উনি এলে এটা উনাকে দিয়ে দিবেন।”
জুনায়েদ চিঠিটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে বলল,
“লাভ লেটার?”
মৃন্ময় বলল,
“ওই তিতা করলা নিরামিষের উপর এত মেয়ে ক্রাশ খায় কেন?”
সারাহ মিনমিন করে বলল,
“এটা লাভ লেটার নয়।”
“তাহলে কীসের লেটার, আপা?”
সারাহ জুনায়েদের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল,
“আপনাদের দিতে হবে না, আমিই দিয়ে দিবো।”
বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। পেছন থেকে মৃন্ময় হাত তুলে বলল,
“এই এই আপা, কই যান?”
জুনায়েদ বলল,
“আরে রাখ তো এসব। ওই শা’লা কই চলে গেল এভাবে? টেনশনে ভাল্লাগছেনা কিছু। ও তো কখনো এমন করে না।”
“গতকাল এসে বলল এখানে আর পড়বে না, ক্লাসও করবে না আর, খুব শীগ্রই দেশের বাইরে চলে যাবে। আর রাত হতেই ব্যাটা গায়েব হয়ে গেছে। ওর হয়েছেটা কী?”
“ও এলেই জানতে পারব। এই রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ওকে খুঁজতে খুঁজতে আমার মাথা ধরে গেছে।”
সারাহ ফারিশকে কল করার পর ফারিশ তাকে আর পাঁচ মিনিট দাঁড়াতে বলল, সে আসছে।
সারাহকে বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে ফারিশ বলল,
“তুমি ভেতরে যাও, আমি আসছি।”
সারাহ মাথা নেড়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই ফারিশ বাইক নিয়ে চলে গেল।
সাড়ে চারটা বাজতেই সারাহর ফোন একনাগাড়ে বাজতে লাগল বিরতিহীন। কল কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার কল আসছে। সারাহ হন্তদন্ত হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। সে জানে আবির কল করছে। কল রিসিভ করে বিছানায় বসতে বসতে সালাম দিলো স্ক্রিনে তাকিয়ে। আবির সালামের জবাব দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“কেমন আছো, চেরি ব্লসম?”
আবিরের গম্ভীর গলার আওয়াজ শুনে সারাহ স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। আবিরের চেহারা গম্ভীর থমথমে হয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে কিছুটা রেগেও আছে। সারাহ মৃদু স্বরে বলল,
“ভালো, আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো।”
“কিছু হয়েছে? আপনাকে এমন লাগছে কেন?”
“ভার্সিটিতে কেমন কা’টলো সারাদিন?”
“অন্যদিন যেমন কা’টে তেমনই।”
“আসলেই?”
“কী হয়েছে?”
“কী হয়েছে সেটা তো তুমিই জানো।”
“আমি কী জানবো?”
“জানো না কিছু?”
“কী জানার কথা বলছেন?”
“ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
সারাহ অবাক হলো আবিরের কথা শুনে। সে ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছে এটা আবির জানলো কীভাবে? আবির আগের ভাব বজায় রেখে বলল,
“কথা বলছো না কেন? ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
“সাধারণ কথা ছিল, আবির। এভাবে রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই।”
আবির চেঁচিয়ে উঠল, বাজখাঁই গলায় বলল,
“রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই? তুমি আমার বাগদত্তা হয়ে আরেক ছেলেকে চিঠি দাও কীভাবে?”
আবিরের গলার আওয়াজ শুনে হতভম্ব সারাহ। এ কেমন আচরণ?
“কথা বলছো না কেন এখন?”
সারাহ নিজেকে সামলে চোখজোড়া মুছে নিল। আবিরের আচরণে তার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে। ধরা গলায় বলল,
“আবির চিঠিটা কোনো ভালোবাসার চিঠি ছিল না। আমি সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেছি এটা সত্যি কথাই। আমি শুধু উনাদের দুজনকে আবরার—
সারাহকে থামিয়ে আরও বেশি চেঁচিয়ে উঠল আবির। চিৎকার করে বলল,
“আবরার আবরার আবরার! এই আবরারের মধ্যে কী আছে? ওর নাম মুখে নিতে নিষেধ করেছি না তোমাকে? ওর নাম মুখে নিবে না তুমি।”
সারাহ স্তব্ধ হয়ে গেল। এ কোন আবিরকে দেখছে সে? এটা তো সেই আবির না। আবির তো এমন নয়। আবির শান্ত, ভদ্র, মিষ্টভাষী মানুষ।
“আবির, আপনি আমার পুরো কথা তো শুনবেন নাকি? এভাবে চিৎকার করছেন কেন? ওই দুজনকে আমি শুধুমাত্র আবরার সাহিল খানের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আবরার সাহিল খানের সঙ্গে আমি বাজে আচরণ করেছিলাম তাই সরি বলার জন্যই তার খোঁজ করছিলাম। চিঠিতে আমি শুধু তার কাছে মাফই চেয়েছি, এর বেশি কিছু নয়। চিঠিটা আমি আবার ফিরিয়েই এনেছি।”
আবির রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“আমি কিচ্ছু জানতে চাই না, শুনতে চাই না। তুই ভার্সিটিতে যাবি না আর, ওই আবরারের সামনে তো আরও না। আজকের পর তুই আমার অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরেও বের হবি না। কোনো ছেলের সামনে যেতে পারবি না। তোর দুই সৎ ভাইয়ের সামনেও যাবি না।”
আবিরের কথা শুনে আর ব্যবহার দেখে কেঁদে ফেলল সারাহ।
“একদম ন্যাকা কান্না করবি না আমার সামনে।”
সারাহ কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আবির, এমন করছেন কেন আপনি?”
আবির কল কে’টে দিলো কিছু না বলে। সারাহর বুক ফেটে যেতে চাইছে কষ্টে। এমন ব্যবহার তার সঙ্গে আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। আবির তার সঙ্গে এভাবে কথা বলল তার বিশ্বাস হচ্ছে না। যেই আবিরের প্রত্যেকটা কথায় আদর মিশে থাকতো সেই আবিরের কথা এমন জঘন্য হলো কীভাবে? তাকে বোঝার চেষ্টাই করল না। আবার কী বিশ্রী ভাবে তাকে তার ভাইদের সামনে যেতে নিষেধ করল!
চলবে…………..
Posts
সানা শেখ •
Sdrsotepnoh16c6c0lfhmi21i87c1aac6f8g77tffhy40:ictlum9 2 81M ·
খাবার খাওয়ার মাঝে হঠাৎ বমি পায় সোহার। চেয়ার ছেড়ে দৌড়ে গিয়ে বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে গলগল করে বমি করে দেয়।
শ্রবণের খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বসা থেকে উঠে রাগে প্লেট ছুঁড়ে ফেলে মেঝেতে। ঝনঝন শব্দ তুলে প্লেটটা খন্ড খন্ড হয়ে গেছে। খাওয়ার সময় যত নাটক শুরু। দিলো খাওয়ার বারোটা বাজিয়ে।
হাত ধুয়ে পানি না খেয়েই বেডরুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গালি দিয়ে বলে,
“বালের এক মেয়েকে বিয়ে করে জীবন শেষ। খেতে বসেও শান্তি নেই। কোন দুঃখে এই ডাইনির বাচ্চাকে যে নিজের জীবনে জড়িয়েছিলাম!”
সোহার বমি বন্ধ হলে কুলি করে মুখ ধোয়। পেটে যা ছিল সব বেরিয়ে গেছে। ক্লান্ত লাগছে বমি করে। চোখ বন্ধ করে বেসিনের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। শ্রবণের প্লেট ছুঁড়ে ফেলার শব্দ ওর কানে এসেছে, গালি দিয়ে বলা কথাগুলোও এসেছে। এ আর আজ নতুন কী? কিছু হলেই গালি দেওয়া, গ্লাস প্লেট ছুঁড়ে ফেলা এসব শ্রবণের পুরোনো অভ্যাস।
ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে আসতেই দেখে শ্রবণ বেরিয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাট থেকে। যেতে যেতে সোহার দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে ভোলেনি। রাগে চেহারাই লাল হয়ে গেছে ছেলেটার।
সোহা ফ্লোরে পড়ে থাকা ভাঙা প্লেট আর ছড়িয়ে থাকা খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু সময়। ও কি ইচ্ছে করে বমি করেছে? বমি পেলে কী করবে? কীভাবে আটকে রাখবে? বমি আটকে রাখা যায়? সম্ভব?
এই কারণেই তো শ্রবণের সঙ্গে খেতে বসতে চাইতো না। ওর তো চেনা হয়ে গেছে শ্রবণকে। একটু ঊনিশ/বিশ হলেই শ্রবণের রাগ উঠে যায়। শ্রবণ নিজেই তো ওকে বলেছিল ওর সঙ্গে খাওয়ার জন্য। সেজন্যই তো খেতে বসেছিল। যদি জানতো আজকে খাওয়ার সময় বমি পাবে তাহলে তো খেতে বসতো না। বেশকিছুদিন ধরেই তো খাওয়ার সময় বমি পায় না।
দু’চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
চোখের পানি মুছে রান্নাঘর থেকে ছোটো একটা বালতি আর বেলচা নিয়ে আসে। ছড়িয়ে থাকা খাবার আর ভাঙা প্লেটের কাছে পায়ের উপর ভর করে বসে আট মাসের উঁচু ভারী পেট নিয়ে। কিছুদিন পরেই ডেলিভারি ডেট। ডাক্তার বলেছেন ওদের ছেলে হবে।
হাত দিয়ে একটা একটা করে ভাঙা প্লেটের খন্ড তুলে রাখে বালতিতে। খাবার তুলে রাখে বেলচার সাহায্যে।
সব তোলা শেষ হলে বালতি আর বেলচা রান্নাঘরে রেখে মপ নিয়ে আসে ফ্লোর মোছার জন্য। তরকারির তেল ঝোল দিয়ে ফ্লোর হলুদ হয়ে গেছে।
ফ্লোর মোছা শেষ হলে মপ রেখে হাত ধুয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারে না, অল্প কাজ করেই হাঁপিয়ে যায়। নড়াচড়া করতেও বেশ বেগ পেতে হয়। জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে টেবিলের ওপর থাকা নিজের খাবারের প্লেটের দিকে তাকায়। এখন আর খেতে ইচ্ছে করছে না যদিও পেট পুরোপুরি খালি হয়ে গেছে বমি করে। শ্রবণ না খেয়েই চলে গেল। রাতের আগে বোধহয় আর ফিরবে না।
বাবু এতক্ষণ নড়াচড়া না করলেও এখন করছে। সোহা নিজের উঁচু পেটের ওপর হাত রাখে। চোখ দুটো বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করে পেটের ওপর।
বিয়ের পর থেকে কত কষ্টই না শ্রবণ দিয়েছে ওকে। সোহা চুপচাপ মুখ বুঝে সব সহ্য করে নেয় এই আশায় শ্রবণ একদিন পরিবর্তন হবে, ওকে ভালোবাসবে। চুপচাপ সহ্য না করেও তো উপায় নেই, শ্রবণের কথার বিপরীতে টু শব্দ করা মানেই নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা।
শ্রবণ যেদিন জানতে পেরেছিল সোহা প্রেগন্যান্ট সেদিন তো পারছিল না গলা চেপে মেয়েটাকে মেরে ফেলতে। দাদা সামাদ চৌধুরী শ্রবণকে না বোঝালে হয়তো বাবু এখন আর ওর পেটেই থাকতো না, থাকতো কোনো ময়লার ভাগাড়ে বা নর্দমায়, পচে গলে চিহ্ন টুকুও মিলিয়ে যেত এতদিনে। কী পাগলামিই না করেছিল অ্যাবর্শন করানোর জন্য। সোহার কত কাকুতি মিনতি আহাজারি বাচ্চাটাকে যেন না মারে। বাবা হয়ে কীভাবে নিজের সন্তানকে মারতে চায়? অনেক বোঝানোর পর শ্রবণ শান্ত হয়েছিল।
আস্তে আস্তে শ্রবণের মধ্যে পরিবর্তন আসে, নিজেদের অনাগত সন্তানকে ভালোবাসতে শুরু করে। সন্তানের জন্য সোহারও যত্ন নিতে শুরু করে। সোহার যত্ন নিলেও ওর বকাঝকা রাগারাগি করা কমেনি। একটু কিছু হলেই খ্যাক খ্যাক করে কথা বলা, গর্জন করে ওঠা, রেগে তাকানো নিত্যদিনের ঘটনা।
শ্রবণ আগের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল কিন্তু গত দু’দিন ধরে কী যেন হয়েছে, গত দু’দিন ধরেই রেগে আছে কিছু একটা নিয়ে। ‘কী হয়েছে’ এটা জিজ্ঞেস করার সাহস করেনি সোহা। প্রশ্ন করা একদম পছন্দ করে না শ্রবণ। শ্রবণ যেভাবে শান্ত থাকে সোহাও সেভাবেই থাকার চেষ্টা করে সবসময়।
বিয়ের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর আর বাড়িতে যেতে দেয়নি সোহাকে। নিজে হয়তো প্রয়োজনে গিয়েছিল দুই তিনবার। বাড়ির কেউ ওকে দেখতে আসলেও শ্রবণ কাউকে ফ্ল্যাটের ভেতরে আসতে দেয় না, সোহাকেও বাইরে যেতে দেয় না। সামাদ চৌধুরী আর মাজেদা আন্টি বাদে অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি নেই ওর ফ্ল্যাটে। পাখির মতো বন্দী করে রেখেছে মেয়েটাকে।
শ্রবণকে অনেকবার সাইকিয়াট্রিস্ট-এর কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, ওকে অনেকবার বোঝানো হয়েছে একটাবার যেন যায় কিন্তু শ্রবণ কোনোভাবেই রাজি হয়নি আর যায়ওনি। মানসিক অবস্থা একটু উন্নতির দিকে গেলে আবার অবনতির দিকে যায়। এত বেশি রাগ, ওর রাগের মুখে টিকে থাকাও কষ্টসাধ্য। রাগ উঠলে আর হুঁশ জ্ঞান থাকে না। দিশেহারা, বেপরোয়া, উন্মাদ হয়ে ওঠে। সামান্য ছোটো ছোটো কারণেও অনেক বেশি রেগে যায়। কখনও কখনও তো রেগে যাওয়ার মতো কোনো কারণই থাকে না তবুও রেগে যায়। নিজে তো আবার মানসিক রোগীতে পরিণত হচ্ছেই দিন দিন ওকেও বানাচ্ছে। এতকিছু সহ্য করে একজন মানুষ ভালো থাকতে পারে? সুস্থ থাকতে পারে? ও প্রেগন্যান্ট, মুড সুইং হবে ওর, না, মুড সুইং হয় শ্রবণের। ওর সঙ্গে এক ঘণ্টা সময় কাটালে শ্রবণের একশোবার মুড পরিবর্তন হয়। মাঝেমধ্যে হাসিও পায় দুঃখও হয়। ওর কপালেই এমন একজন মানুষ জোটার ছিল?
বাবুর লাথি খেয়ে কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে সোহা। এ হচ্ছে আরেক জন, পুরো বাপের কার্বন কপি। পেটে আসার পর থেকে ওকে একটুও শান্তি দেয় না বাপের মতোই। পেটের ভেতর থাকবে শান্তি মতো কিন্তু না, সে পেটের ভেতরে এখনই ফুটবল খেলে। এত জোরে জোরে কিক মারে যে সোহা ব্যথায় ককিয়ে ওঠে। রাতে ঠিকমতো ঘুমোতেও পারে না, উঠে বসে থাকে অনেক সময়।
না খেয়েই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, টেবিলের সব খাবার ঢেকে রেখে রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। কয়েক কদম আগাতেই পা পিছলে ধপাস করে আছড়ে পড়ে নিচে। ব্যথা পেয়ে গগন বিদারী চিৎকার করে ওঠে। মুহূর্তেই পানি দিয়ে পরনের কাপড় আর ফ্লোর ভেসে যায়। সোহা ভয় পেয়ে আরও জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করে পেট ধরে। বাবুর নড়াচড়া অনেক বেড়ে গেছে, মায়ের পেটের ভেতরে থেকেই বোধহয় বাচ্চাটা ব্যথা পেয়েছে। যা জোরে আছড়ে পড়ল।
কাঁদতে কাঁদতে উঠে বসার চেষ্টা করে কিন্তু ব্যথার কারণে পারছে না। শ্রবণ তো নেই ফ্ল্যাটে, কাকে ডাকবে এখন? কী হবে ওর আর ওর সন্তানের? শ্রবণ কখন ফিরবে ঠিক নেই, অন্তত সন্ধ্যার আগে ফিরবে না এটা শিওর।
অনেক কষ্টে উঠে বসে। বাবুর নড়াচড়া কমে গেছে এখন, নড়াচড়া করছে নাকি করছে না তা ব্যথার কারণে অনুভব করতে পারছে না। সোহার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখে ওয়াটার ব্রেক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লিডিংও হচ্ছে। ফ্লোরের সাদা ধবধবে টাইলস রক্তে রাঙা হয়ে গেছে। এমন দেখে সোহার কান্না আরও বেড়ে যায় ভয়ে।
কি করবে না করবে সোহার মাথা কাজ করছে না। দাঁড়াতে গেলে ব্যর্থ হয়। হাতের উপর ভর করে বহু কষ্টে শরীর টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে বেডরুমের দিকে।
রুমে এসে ফোন হাতে নেয়। কাঁপা কাঁপা হাতে ডায়াল করে শ্রবণের ফোনে। ঠিকভাবে ফোনটাও ধরে রাখতে পারছে না।
রিং বেজে কল কেটে যায় রিসিভ হয় না। টানা একুশবার কল করে শ্রবণের ফোনে কিন্তু শ্রবণ কল রিসিভ করে না, উল্টো কয়েকবার কল কেটে দিয়েছে।
আবার কল করে কেঁদে কেঁদে বলে,
“প্লীজ কল রিসিভ করো। আমার ভয় লাগছে, তুমি আসো দ্রুত।”
ই-বুক: দিশেহারা
পুরোটা পেয়ে যাবেন বইটই অ্যাপে।
ই-বুক লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়া হয়েছে।
See less
সানা শেখ •
erSntodops08tf583 7847fy94Mfa15t6a1a7uu 9 t16ct8i087ug3290:t ·
#মন_বোঝে_না (১৩)
পরদিন ভার্সিটিতে এসে আবরারের দেখা পেল না সারাহ। আবরারের বন্ধুরা থাকতেও আবরার কোথাও নেই। আবরারকে খুঁজে না পেয়ে নিজ ডিপার্টমেন্টের দিকে এগোল সারাহ। সকালেও বেশ কয়েকবার আবরারের ফোনে কল করেছিল, ফোন বন্ধ। আজকে আবার ভার্সিটিতেও আসেনি। অপরাধ বোধ জেঁকে ধরেছে সারাহকে।
ফারিশ বোনকে ভার্সিটিতে রেখে মামার বাড়িতে এলো সোজা। দরজা খোলা পেয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে পড়ল। সোফায় বসে আছেন আমজাদ খান, উনার হাতে আবরারের লেখা চিঠিটা এখনো রয়েছে। উনার পাশে বসে মহুয়া কবীর কিছু বলছেন।
ফারিশ দ্রুত পায়ে মামার কাছে এগিয়ে এলো। তাকে দেখেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন আমজাদ খান। ফারিশ মামার লাল টকটকে চোখজোড়া দেখল, চেহারায় দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতা বিরাজ করছে।
“কী হয়েছিল, মামা?”
মহুয়া কবীর বললেন,
“আবরার গতকাল বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজের রুমে চলে গিয়েছিল, তারপর আর নিজের রুম থেকে বের হয়নি। আমি খাওয়ার জন্য ডাকলেও কিছু বলেনি। বিরক্ত হবে বলে আমিও আর বেশি কিছু বলিনি। রাতে আটটার দিকে আমাদের রুমে যায় আর আমাকে সরি বলে। রুম থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ি থেকেই বেরিয়ে গেছে, তারপর থেকে ওর আর কোনো খোঁজ খবর নেই। সকালে তোমার মামা ওর রুমে এসে দেখে রুমে কেউ নেই, মেইড জানায় আবরার রাতে বাড়িতে ফেরেনি। কল করছি ফোন বন্ধ। ওর বন্ধু, পরিচিত মানুষজন কেউ ওর খোঁজ খবর জানে না। সবাই একই কথা বলছে গতকাল রাত থেকে ওর ফোনে কল ঢুকছে না।”
“খালি হাতে গেছে?”
“মেইড আর দারোয়ান বলল খালি হাতে বেরিয়েছে। আমরা ফুটেজ চেক করেও দেখেছি, ব্যাগপত্র কিছু নেয়নি। গাড়ি বা বাইকও নেয়নি। পুরোপুরি খালি হাতে বেরিয়ে গেছে। কোথায় যাচ্ছে কিছু বলেনি।”
ফারিশ মামার মুখের দিকে তাকাল। একমাত্র ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়ছেন তিনি।
মামার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ফারিশ নিজেও পড়ল। হাতের লেখা দেখে বোঝা যাচ্ছে চিঠিটা লেখার সময় আবরার স্বাভাবিক ছিল না। কোথায় যাচ্ছে বা যাবে এমন কিছু লেখা নেই চিঠিতে।
গত পরশু থেকে আবরার তার কাছে সারাহকে নিয়ে কোনো কথা বলেনি।
শক্ত হৃদয়ের মানুষ আমজাদ খান ধরা গলায় বললেন,
“গত পরশু রাতে আবরার আমাকে বলেছিল ও দেশের বাইরে চলে যাবে, আমি যেন যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করে দেই। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেছিল এখানে ওর ভালো লাগছে না, এখানে আর থাকতে চায় না। আর পরের রাতে কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেল! ওর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। এভাবে মাফ চেয়ে কোথায় চলে গেল আমার ছেলেটা!”
ফারিশ মামার মুখের দিকে রইল। তিনি পুরুষ বলে কাঁদতে পারছেন না, নারী হলে এতক্ষণে হাউমাউ করে কাঁদতেন ছেলের জন্য। কত কষ্টে যে নিজেকে শক্ত রেখেছেন সেটা উনার চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
আবরার এভাবে কাউকে কিছু না বলে কোথায় হারিয়ে গেল? সারাহকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে আবার দেশ ছাড়তে চেয়েছিল কেন?
“পুলিশকে জানিয়েছো?”
“হুম।”
“কী বলল?”
“চব্বিশ ঘণ্টা দেখবে।”
ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাসে আবরারকে খুঁজতে লাগল সারাহ। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না। আবরারের কোনো বন্ধুকেও খুঁজে পেল না। সবাই গেল কোথায়? ক্লাস না থাকলেও তো এরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকে। গেইটের বাইরে বেরিয়ে আসতেই জুনায়েদের বাইক এসে দাঁড়াল, তার পেছনে বসে আছে মৃন্ময়। আর কাউকে দেখতে পেল না সারাহ। সারাহ আশপাশে নজর বুলিয়ে দেখল আজ ফারিশও এখনো এসে পৌঁছায়নি।
সারাহ জুনায়েদের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
“ভাইয়া, একটু শুনবেন?”
সারাহকে চিনতে অসুবিধা হলো না জুনায়েদ আর মৃন্ময়ের। জুনায়েদ বলল,
“জি বলো।”
সারাহ ইতস্তত করে বলল,
“আপনাদের বন্ধু আবরার সাহিল খান কোথায়?”
“ওকে কেন খুঁজছো?”
“একটু দরকার ছিল।”
“আবরারকে গতরাত থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
জুনায়েদের কথা শুনে বিস্মিত হলো সারাহ। বিস্ময় নিয়েই বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে?”
মৃন্ময় বলল,
“খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে আবরার হঠাৎ করে গায়েব হয়ে গেছে কাউকে কিছু না জানিয়ে। কোথায় গেছে আমরা কেউ জানি না।”
“ওহ।”
সারাহ নিজের ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে জুনায়েদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“উনি এলে এটা উনাকে দিয়ে দিবেন।”
জুনায়েদ চিঠিটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে বলল,
“লাভ লেটার?”
মৃন্ময় বলল,
“ওই তিতা করলা নিরামিষের উপর এত মেয়ে ক্রাশ খায় কেন?”
সারাহ মিনমিন করে বলল,
“এটা লাভ লেটার নয়।”
“তাহলে কীসের লেটার, আপা?”
সারাহ জুনায়েদের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল,
“আপনাদের দিতে হবে না, আমিই দিয়ে দিবো।”
বলেই উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল। পেছন থেকে মৃন্ময় হাত তুলে বলল,
“এই এই আপা, কই যান?”
জুনায়েদ বলল,
“আরে রাখ তো এসব। ওই শা’লা কই চলে গেল এভাবে? টেনশনে ভাল্লাগছেনা কিছু। ও তো কখনো এমন করে না।”
“গতকাল এসে বলল এখানে আর পড়বে না, ক্লাসও করবে না আর, খুব শীগ্রই দেশের বাইরে চলে যাবে। আর রাত হতেই ব্যাটা গায়েব হয়ে গেছে। ওর হয়েছেটা কী?”
“ও এলেই জানতে পারব। এই রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ওকে খুঁজতে খুঁজতে আমার মাথা ধরে গেছে।”
সারাহ ফারিশকে কল করার পর ফারিশ তাকে আর পাঁচ মিনিট দাঁড়াতে বলল, সে আসছে।
সারাহকে বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে ফারিশ বলল,
“তুমি ভেতরে যাও, আমি আসছি।”
সারাহ মাথা নেড়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই ফারিশ বাইক নিয়ে চলে গেল।
সাড়ে চারটা বাজতেই সারাহর ফোন একনাগাড়ে বাজতে লাগল বিরতিহীন। কল কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার কল আসছে। সারাহ হন্তদন্ত হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। সে জানে আবির কল করছে। কল রিসিভ করে বিছানায় বসতে বসতে সালাম দিলো স্ক্রিনে তাকিয়ে। আবির সালামের জবাব দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“কেমন আছো, চেরি ব্লসম?”
আবিরের গম্ভীর গলার আওয়াজ শুনে সারাহ স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল। আবিরের চেহারা গম্ভীর থমথমে হয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে কিছুটা রেগেও আছে। সারাহ মৃদু স্বরে বলল,
“ভালো, আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো।”
“কিছু হয়েছে? আপনাকে এমন লাগছে কেন?”
“ভার্সিটিতে কেমন কা’টলো সারাদিন?”
“অন্যদিন যেমন কা’টে তেমনই।”
“আসলেই?”
“কী হয়েছে?”
“কী হয়েছে সেটা তো তুমিই জানো।”
“আমি কী জানবো?”
“জানো না কিছু?”
“কী জানার কথা বলছেন?”
“ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
সারাহ অবাক হলো আবিরের কথা শুনে। সে ভার্সিটিতে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছে এটা আবির জানলো কীভাবে? আবির আগের ভাব বজায় রেখে বলল,
“কথা বলছো না কেন? ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছো কেন?”
“সাধারণ কথা ছিল, আবির। এভাবে রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই।”
আবির চেঁচিয়ে উঠল, বাজখাঁই গলায় বলল,
“রিঅ্যাক্ট করার মতন কোনো ব্যাপার নেই? তুমি আমার বাগদত্তা হয়ে আরেক ছেলেকে চিঠি দাও কীভাবে?”
আবিরের গলার আওয়াজ শুনে হতভম্ব সারাহ। এ কেমন আচরণ?
“কথা বলছো না কেন এখন?”
সারাহ নিজেকে সামলে চোখজোড়া মুছে নিল। আবিরের আচরণে তার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে। ধরা গলায় বলল,
“আবির চিঠিটা কোনো ভালোবাসার চিঠি ছিল না। আমি সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেছি এটা সত্যি কথাই। আমি শুধু উনাদের দুজনকে আবরার—
সারাহকে থামিয়ে আরও বেশি চেঁচিয়ে উঠল আবির। চিৎকার করে বলল,
“আবরার আবরার আবরার! এই আবরারের মধ্যে কী আছে? ওর নাম মুখে নিতে নিষেধ করেছি না তোমাকে? ওর নাম মুখে নিবে না তুমি।”
সারাহ স্তব্ধ হয়ে গেল। এ কোন আবিরকে দেখছে সে? এটা তো সেই আবির না। আবির তো এমন নয়। আবির শান্ত, ভদ্র, মিষ্টভাষী মানুষ।
“আবির, আপনি আমার পুরো কথা তো শুনবেন নাকি? এভাবে চিৎকার করছেন কেন? ওই দুজনকে আমি শুধুমাত্র আবরার সাহিল খানের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আবরার সাহিল খানের সঙ্গে আমি বাজে আচরণ করেছিলাম তাই সরি বলার জন্যই তার খোঁজ করছিলাম। চিঠিতে আমি শুধু তার কাছে মাফই চেয়েছি, এর বেশি কিছু নয়। চিঠিটা আমি আবার ফিরিয়েই এনেছি।”
আবির রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“আমি কিচ্ছু জানতে চাই না, শুনতে চাই না। তুই ভার্সিটিতে যাবি না আর, ওই আবরারের সামনে তো আরও না। আজকের পর তুই আমার অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরেও বের হবি না। কোনো ছেলের সামনে যেতে পারবি না। তোর দুই সৎ ভাইয়ের সামনেও যাবি না।”
আবিরের কথা শুনে আর ব্যবহার দেখে কেঁদে ফেলল সারাহ।
“একদম ন্যাকা কান্না করবি না আমার সামনে।”
সারাহ কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আবির, এমন করছেন কেন আপনি?”
আবির কল কে’টে দিলো কিছু না বলে। সারাহর বুক ফেটে যেতে চাইছে কষ্টে। এমন ব্যবহার তার সঙ্গে আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। আবির তার সঙ্গে এভাবে কথা বলল তার বিশ্বাস হচ্ছে না। যেই আবিরের প্রত্যেকটা কথায় আদর মিশে থাকতো সেই আবিরের কথা এমন জঘন্য হলো কীভাবে? তাকে বোঝার চেষ্টাই করল না। আবার কী বিশ্রী ভাবে তাকে তার ভাইদের সামনে যেতে নিষেধ করল!
চলবে………..
Share On:
TAGS: মন বোঝে না, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৮
-
দিশেহারা পর্ব ৩৯
-
দিশেহারা পর্ব ৭১
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ৫৮
-
দিশেহারা পর্ব ১৯
-
দিশেহারা পর্ব ৩৬
-
দিশেহারা পর্ব ৪০
-
দিশেহারা পর্ব ৬৭