Golpo ডিফেন্স রিলেটেড মেজর ওয়াসিফ

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২৮


#মেজর_ওয়াসিফ

#লেখনীতে_ঐশী_রহমান

পর্ব (২৮)

ওয়াসিফ ঘরে ঢুকে দরজা এঁটে পেছন ঘুরতেই দেখে ধারা ওর দিকে চেয়ে বসে আছে। এখনো এই মেয়েটাকে ঘুমাতে না দেখে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে।

‘ তুই ঘুমাসনি এখনো’?

‘ না ঘুম আসছেনা। আপনি কই গেলেন’?

ওয়াসিফ বিছানায় আধশোয়া হয়ে জিজ্ঞেস করে।

‘ কেনো খুঁজছিলি আমাকে’?

‘ আপনি সোজা কথার সোজা করে উত্তর দিতে পারেন না? এতো প্যাচিয়ে কথা বলেন কেনো’?

‘ বাইরে গিয়েছিলাম একটু’

‘ কোন কারনে?’

ধারার এতো এতো জেরা করা দেখে ওয়াসিফ ওর দিকে সরু চোখে তাকিয়ে থেকে বলে।

‘ দজ্জাল বৌ’দের মতো এতো প্রশ্ন করছিস কেনো? পরকীয়া করতে যাইনি, এমনিই গিয়েছিলাম’

‘ এমনি এমনিই কেউ এতো রাতে বাইরে যায়’?

‘ তা তোর কি মনে হয় কেনো গিয়েছিলাম’?

ধারা পট করে বলে ফেলে।

‘ গিয়েছিলেন তো সিগারেট খেতে, সহজ ভাবে বললেই হতো’

ধারার ও কথা শুনে ওয়াসিফ ঝটপট উঠে বসে।

‘ আমি স্মোক করতে গিয়েছিলাম সেকথা তোকে কে বললো’?

ধারা খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলে।

‘ এতো সাধু সাজার দরকার নেই হ্যা! আমি জানি আপনি সিগারেট খান’

ধারাকে নিশ্চিত ভাবে কথা গুলো বলতে দেখে আপাতত ওয়াসিফ সেকেন্ড কয়েক চুপ থেকে বলে।

‘ হ্যা, ঐ একটু গিয়েছিলাম, তবে বেশি খাইনি, একটাই খেয়েছি। মাঝে মধ্যে খাওয়া হয় আর কি’?

ওয়াসিফ পকেট থেকে লাইটার আর সিগারেটের প্যাকেট বের করে বিছানার তোশকের নিচে কায়দা করে রাখে। ধারা তা আড়চোখে দেখে। বলে।

‘ কবে থেকে খান’

‘ উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকে’

ধারা চোখ বড়ো বড়ো করে, মাথায় এক হাত উঠিয়ে, অবাক গলায় শুধায়।

‘ ইয়া আল্লাহ, আপনি এতো ছোটবেলা থেকে সিগারেট খাওয়া শুরু করেছেন’?

‘ ছোট বেলা কোথায় পাচ্ছিস তুই? বললাম তো উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক পর থেকে, চাকরি পাওয়ার বছর খানেক আগে থেকে’

‘ না, আপনি বলেছেন উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকে’

‘ আমি বলেছি ঠিকই, তুই কথা বুঝিসনি’

ধারা চুপ রইলো কিছু সময়, কারেন্ট এসেছে, ওয়াসিফ ফোন চার্জে বসিয়ে আবার বসলো বিছানায়। ধারা জিজ্ঞেস করে।

‘ ওগুলো খান কেনো? স্বাদ কেমন? খেতে কি খুব ভালো লাগে’?

ওয়াসিফ তাকায় ধারার কোতুহলী চোখের দিকে, বলে।

‘ স্বাদ আহামরি না, তবে ঐ একটু আধটু নেশা কাজ করে, তখন খাই’

‘ স্বাদ নেই বলছেন, তবে নেশা কেনো কাজ করে’?

‘ কিছুটা তোর মতো, কোনো স্বাদ,গন্ধ নেই কিন্তু নেশা আছে’

ধারা বুঝলোনা ও কথার মানে, সামান্য তেতে উঠে বলে।

‘ আমি সিগারেট নাকি? আমি মানুষ। আমি কেনো নেশা হতে যাবো’?

ওয়াসিফের ঘুমঘুম পাচ্ছে, এতো এতো কথার বিপরীতে ও সামন্য বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে।

‘ সিগারেট বিষয় এতোকিছু জিজ্ঞেস করছিস কেনো? তুই খাবি নাকি একটা’?

ওকথায় ধারা কিছুটা লজ্জা পায়, মিনমিন করে বলে।

‘ ইচ্ছে তো করে, জীবনে একবার হলেও সবকিছুর স্বাদ নিতে। কিন্তু!’

পরপর তাকায় ওয়াসিফের দিকে।

‘ আপনি! এই আপনি! আমাকে সিগারেট খাওয়ার অফার দিচ্ছেন’?

ধারার চোখমুখে অবাক আর বিস্ময়ের ছাপ।

ওয়াসিফ সামান্য হেঁসে বলে।

‘ জি না, সিগারেটের অফার দেওয়া হয়নি আপনাকে। আপনার যদি এতোই সবকিছুর স্বাদ নেওয়ার ইচ্ছে হয় তবে চলুন দুটো চুমু খাবেন আমার। আমি মাত্রই একটা সিগারেট শেষ করে এসেছি, গন্ধ স্বাদ দু’টোই আছে’

ধারা সঙ্গে চোখ মুখ কুঁচকে মাথা পেছনে সরিয়ে রেখে বলে।

‘ আশ্চর্য তো! আমি চুমুটুমু খেতে চাইনি’

‘ এই আস্তে চেঁচা, পাশের ঘরে ওরা শুনতে পাবে তো’

পরপর আবার ওয়াসিফ বলে।

‘ তুই কেনো খেতে চাইবি? আমি দিতে চেয়েছি’

বলেই ওয়াসিফ ওর দিকে একটু এগিয়ে বসতেই ধারা চিংড়ি মাছের মতো ছটকে গিয়ে ধপাস করে শুয়ে পড়ে। ওয়াসিফ নিঃশব্দে হেসে ফেলে।

_____

সকাল হতেই এবাড়ির গিন্নীদের কারো জিরিয়ে নেওয়ার মতো সময়টুকু ও নেই। ওরা তিন জা মিলে সেই ফজরের পর থেকে রান্নার আয়োজনে ভারি ব্যস্ত। ঘরে নতুন জামাই আছে, সঙ্গে একজন মেহমান ও আছে। তারপর ওরা সবাই আজ রওনা হবে। আরিয়ান, সামিরের তো ছুটিই হয়নি। ওয়াসিফেরও ছুটি শেষ নাকি আছে সেই বিষয় ওরা মা-চাচীরা নিশ্চিত না। গতকাল বললো চলে যেতে হবে।

পারুল বাইরের বড়ো রান্না ঘর থেকে শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে এঘরে ঢুকেই দেখলো লুইপা গ্যাসের চুলায় পাতিল বসিয়ে চায়ের পানি গরম করছে। মেয়েটার সঙ্গে গতকাল আর কথা হয়নি পারুলে। কি যেনো নিতে এসেছিলো এঘরে, ওসব ভুলে গিয়ে এগিয়ে দাঁড়ায় মেয়ের কাছে। জিজ্ঞেস করে।

‘ তোর কি মাথা ধরেছে? সরে দাঁড়া, আমি বানিয়ে দিচ্ছি চা’

‘ আমার মাথা ধরেনি আম্মু, চা আমি খাবো না, উনাকে দেবো’

‘ কাকে? সামির’

‘ হু’

‘ উঠেছে ও’

‘ হ্যা’

পারুল কিছুসময় চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে। তারপর বলে।

‘ জীবনে কিছু কিছু জায়গায় আল্লাহ আমাদের হারিয়ে দিয়ে পরমুহূর্তেই আবার বিশাল কিছু দিয়ে জিতিয়ে দেন। জানিনা তুই কতটুকু জিতেছিস? তবে বছর খানেক পর আল্লাহ বাঁচালে তোর কাছে আমি জিজ্ঞেস করবো, তুই কতটুকু জিতলি’

কথা শেষ করেই পারুল নিজের কাজ সেরে আবার বেরিয়ে বড়ো রান্না ঘরের দিকে বেরিয়ে যায়। মায়ের বলা কথাগুলোর মর্ম বুঝতে বুঝতে এদিকে চায়ের পানিতে উতল আসতেই ধ্যান ভাঙ্গে লুইপার।

_________

ধারার ঘুম ভাঙলো তখন, যখন ঘড়ির কাঁটায় সকাল আট’টা বেজে আঠাশ মিনিট। গাঢ় ঘুমের আড়মোড়া ভেঙে উঠতেই টের পলো পুরুষালী কর্কশ শব্দ। মাথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চোখে পড়লো বারান্দায় উল্টো ঘুরে দাড়িয়ে ওয়াসিফ ফোনে কাউকে মেজাজ খারাপ করে ঝারছে উরাধুরা। উদোম শ্যামলা পিঠের চওড়া কাঁধে এপাশ ওপাশ থেকে একটা তাওয়াল ঝুলিয়ে রেখেছে। এতোক্ষণে বুঝলো ওর ঘুমটা আসলে ঠিক কার জন্য ভাংলো। কানের কাছে এভাবে চেঁচালে কোনো মানুষ ঘুমাতে পারে? ধারা নামলো না বিছানা থেকে, কানচেপে ওভাবে বসে রইলো কতক্ষণ।

ঘরের সামনে থেকে সবে সামিরা যাচ্ছিলো, ঘরের দুয়োর খোলা তাই চোখ পড়লো মেয়ের দিকে। ভদ্র মহিলা ওখান থেকে গলা উঁচিয়ে চেচিয়ে ওঠে মেয়ের উপর।

‘ তোর কি কোনোদিন কান্ড-জ্ঞান হবেনা? বেলা কয়টা বাজে সেই হিসেব আছে তোর? আসলে গুণীদের কখনো বলতে হয়না তাদের কখন কি করতে হবে, নিচে নেমে দেখে যা, লুইপা সেই সাত সকালে উঠে জামাইয়ের চা-নাস্তা নিজের হাতে টেনে টেনে খাওয়াচ্ছে। আর তুই? এখনো বিছানায়ই ছাড়তে পারলি না। ওয়াসিফ আজ চলে যাবে তুই সেই খবর রাখিস? ছেলেটার কি লাগবে না লাগবে একটু এগিয়ে তো দিতে পারিস। আর কত? আর কত বকলে তুই শুধরাবি?’

ধারা চুপচাপ মুখ ভার করে শুনলো মায়ের বকাঝকা। ইতিমধ্যে ওয়াসিফও কথা শেষ করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ঘরে এলো। ওদের মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে ধারার পক্ষ টেনে নিয়ে বলে।

‘ রাতে তোমার মেয়ের ভালো ঘুম হয়নি চাচি আম্মা, কারেন্ট ছিলোনা তো, ঘুমাতে পারেনি। আজ বেশি বকাঝকা করোনা’

সামিরা মোটেও গললোনা ওয়াসিফের কথায়, বরং ওয়াসিফকে উপদেশের সুরে বললো।

‘ সময় থাকতে থাকতে লাগাম টান, শাসন কর। পরে পস্তাবি। তখন আমাকে নালিশ দিলে কিন্তু শুনবোনা, আগে থেকে বলে দিলাম’

‘ আমিই গায়ে টেনে বিয়ে করেছি তো, শাসন-বারন সময় বুঝে সবই করবো। তোমাদের নালিশ দিতে যাবোনা, নিশ্চিত থাকো’

সামিরা মেয়ের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে চলে গেলেন। ধারা ছোট ছোট চোখ করে তাকায় ওয়াসিফের দিকে। ওয়াসিফ ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করে।

‘ কি? ঘুম শেষ হয়েছে’?

‘ হু’

‘ তাহলে এবার যা, হাত মুখ ধুয়ে আমার জন্য কড়া করে এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়। তোর মা কে বুঝিয়ে দে তুই কামচোরা না’

ধারা হ্যা,না কিছু বলেনা। চুপচাপ উঠে চলে যায় ঘর থেকে। ও মুডটাই আজ মা নষ্ট করে ছেড়েছে।

#চলবে

( পর্ব বড়ো করে দিতে চেয়েও পারিনি তারজন্য দুঃখিত। আরেক পর্ব লিখতে বসি যদি শেষ হয় তবে মাঝরাতে দিবো)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply