Golpo romantic golpo নূর এ সাহাবাদ

নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৪১


#নূর_এ_সাহাবাদ

#jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

পর্ব – ৪১

ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই প্রশিক্ষণ দুর্গের ফটকে থামলো শ্বেত অশ্ব। দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকলো বাইজিদ। চোখে তাড়াহুড়া, মনে অজানা অস্বস্তি। সোজা চলে গেল সেই কক্ষে, যেখানে থাকার কথা মেহেরুন্নেসার। দরজা আধখোলা।

ভেতরে ঢুকেই থেমে গেল। এ তো খালি।

পালঙ্ক অগোছালো নয়, জানালার পর্দা স্থির, কোথাও কোনো তাড়াহুড়োর চিহ্ন নেই তবুও সে নেই। ভ্রু কুঁচকে উঠলো। দ্রুত ঘুরে বেরিয়ে এলো কক্ষ থেকে। একটার পর একটা কক্ষ প্রশিক্ষণ প্রাঙ্গণ, অস্ত্রাগার কোথাও নেই।

দুর্গের নিস্তব্ধতা যেন হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে উঠলো। দাসীদের ডেকে জিজ্ঞেস করা হলো

“বেগম কে দেখেছো?”

সবাই মাথা নাড়লো। কেউ কিছু জানে না।

রক্ষীদের জিজ্ঞেস করা হলো

“বেগম কক্ষ থেকে বের হয়েছেন?”

তাদের মুখেও একই উত্তর

“না, কেউ দেখেনি।”

একটা অস্বস্তিকর শীতলতা নেমে এলো চারপাশে।

ঠিক তখনই এক রক্ষী এগিয়ে এলো, কণ্ঠে দ্বিধা

“একটা বিষয় খেয়াল করেছি।”

তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ঘুরে গেল তার দিকে।

“বেগমের জন্য যে ঘোড়াটা বরাদ্দ ছিল… সেটা আস্তাবলে নেই।”

মুহূর্তেই সবকিছু যেন থেমে গেল। চোখে ঝলসে উঠলো কিছু হিসাব। আর ঠিক তখনই

মনে পড়লো আরেকট খবর। গতরাতে প্রাসাদের কারাগার থেকে নিখোঁজ হয়েছে মিরান। দুটো ঘটনা যেন এক সুতোয় গেঁথে গেল। মুখের রেখা কঠিন হয়ে উঠলো। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ফিরে গেল আস্তাবলে। শ্বেত অশ্বে চড়ে বসতেই ঘোড়াটা যেন নিজেও বুঝে গেল তাড়াহুড়োটা।

লাগাম টানতেই ছুটে চললো সামনে।

দুর্গের ফটক পেরিয়ে সোজা জঙ্গলের দিকে।

পথের ধুলো উড়তে লাগলো, বাতাস কেটে এগিয়ে চললো অশ্ব।

****

ধীরে ধীরে চোখ খুললো মেহেরুন্নেসার।

প্রথমে সবকিছু ঝাপসা। মাথাটা প্রচন্ড ভারি হয়ে আছে। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো চারপাশ। সে শুয়ে আছে ঠান্ডা পাথরের মেঝেতে। কিন্তু জায়গাটা কোনো সাধারণ কক্ষ নয়। চারদিকে ঝোলানো গাঢ় রঙের ভারী পর্দা, দেয়ালে খোদাই করা জটিল নকশা, যেন পুরনো রাজকীয় শিল্পের নিদর্শন।

উঁচু ছাদের মাঝখানে ঝুলছে ধাতব ঝাড়বাতি, তাতে জ্বলছে ক্ষীণ আলো। আলোটা ম্লান, কিন্তু তাতেই কক্ষটা আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

একপাশে খোদাই করা কাঠের আলমারি, অন্য পাশে সোনালি কারুকাজে মোড়া আয়না।

মেঝেতে বিছানো নরম গালিচা। তার ওপর ছড়িয়ে আছে কিছু ফলের খোসা, পাপড়ি। সবকিছুই রাজকীয়। হঠাৎ সে টের পেল তার হাত বাঁধা।

পা-ও শক্ত করে বেঁধে রাখা। মুখেও কাপড় গুঁজে দেওয়া। সে নড়তে গেল পারলো না।

একটা চাপা গুঙানি বের হলো তার গলা থেকে।

ঠিক তখনই সামনে থেকে ভেসে এলো এক হালকা, ঠান্ডা হাসি। মেহেরুন্নেসার দৃষ্টি সেদিকে গেল। কক্ষের মাঝখানে এক বিশাল, রাজকীয় পালঙ্ক। গাঢ় মখমলের আস্তরণ, সোনালি কারুকাজে মোড়া কাঠের ফ্রেম। সেই পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসে আছে অঙ্কুর।

তার এক পা ভাঁজ করা, অন্য পা আলগোছে ঝুলছে। হাতে একটা ফল, ধীরে ধীরে কামড় বসাচ্ছে তাতে। তার চোখ স্থির মেহেরুন্নেসার দিকে।

ঠোঁটের কোণে সেই ভয়ংকর, শয়তানি হাসি।

চিবাতে চিবাতে তাকিয়ে আছে যেন সে কোনো মানুষ না, একটা শিকার। মেহেরুন্নেসার বুক ধক করে উঠলো। সে মরিয়া হয়ে বাঁধন ছুটানোর চেষ্টা করলো হাত নড়ছে না। পা শক্ত। তার চোখে ভয় আর রাগ একসাথে জ্বলে উঠলো। সে গুঙিয়ে উঠলো, মাথা ঝাঁকাতে লাগলো। অঙ্কুর থেমে দেখলো তাকে। তারপর ধীরে ধীরে ফলটা মুখে তুলে আবার কামড় দিল। চিবোতে চিবোতে হাসলো। নিচু, ধীর, ঠান্ডা সেই হাসি কক্ষের ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো। যেন এই পুরো দৃশ্যটা তার কাছে বিনোদন ছাড়া কিছুই না।

সে একটু সামনে ঝুঁকল। চোখে সেই একই শিকারীর দৃষ্টি। অঙ্কুর ধীরে ধীরে উঠে এসে মেহেরুন্নেসার সামনে বসলো। তার চোখে সেই অদ্ভুত, বিকৃত আনন্দ। মুখটা একটু ঝুঁকিয়ে এনে বললো

“জানো, তোমায় প্রথম যেদিন দেখেছিলাম। সেদিনই ভেবেছিলাম এত সৌন্দর্য ওসব গরীব জায়গায় থাকা ঠিক না।”

তার ঠোঁটে হাসি ফুটলো।

“কি সুন্দর তোমার রক্তজবার ন্যায় কোমল লাল টকরকে ঠোটজোড়া। এমন কাউকে তো নিজের কাছেই রাখা উচিত।”

মেহেরুন্নেসার গা গুলিয়ে উঠলো। সে মুখ ঘুরিয়ে নিতে চাইল কিন্তু পারলো না। অঙ্কুর আবার বললো

“বাইজিদ তোমার মূল্য বুঝতে পারেনি… কিন্তু আমি বুঝেছি।”

সে ধীরে হাত বাড়িয়ে যেন ছুঁতে যাবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে থামলো।

“এই চোখ… এই মুখ…”

সে ফিসফিস করে বললো

“এগুলো ভয় দেখানোর জন্য না… উপভোগ করার জন্য।”

মেহেরুন্নেসার চোখে আগুন জ্বলে উঠলো।

সে বাঁধন ছুটানোর চেষ্টা করলো শরীরটা ছটফট করে উঠলো। গলায় আটকে থাকা শব্দ বের হলো গুঙিয়ে। তার চোখ রক্তবর্ণ। ঘৃণা, রাগ আর প্রতিবাদে ভরা। অঙ্কুর এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো সেই চোখের দিকে। তারপর হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলো।

“এই দৃষ্টিটা, এই আগুনটাই আমার ভালো লাগে!”

তার হাসি আরও জোরালো হলো। কক্ষের দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলতে লাগলো। মেহেরুন্নেসা— বাঁধা অবস্থাতেও মাথা উঁচু করে তাকিয়ে রইলো তার দিকে। ভয় নেই। শুধু প্রতিরোধ। মনে পড়লো গত রাতের ঘটনা। আচমকা পিছন থেকে এসে দাঁড়িয়েছিল অঙ্কুর। তার প্রথম শিকার হয় মিরান। কিছুর গুড়ো মেহেরুন্নেসার নাকে ফুঁকে দিয়ে মিরান কে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় বিজ্ঞানী দের কাছে। কে জানে এতক্ষণ কি হাল করেছে মেয়েটার। কিন্তু মেহেরুন্নেসা সেই যে জ্ঞান হারিয়েছে। ফিরলো মাত্র হুশে। অঙ্কুর ফের পালঙ্কে বসে ফল খেতে লাগলো।

“তোমার কি মনে হয়? তোমার শাহজাদা আসবে তোমায় বাঁচাতে? ভুল তুমি নূর, ভুল ভুল। ও স্বার্থ ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। তুমি জানো ও আমার বোন রুবায়েত কে ভালোবাসতো। যেই ওকে আমি আটকে রাখলাম। তখন তোমার রুপে পাগল হয়ে তোমায় বিয়ে করলো। ক’দিন পরেই ওদের ছেড়ে দিব আমি। তখন বাইজিদ ও তোমায় ছেড়ে দিবে। রুবায়েত কে বিয়ে করবে।”

মেহেরুন্নেসা হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে অঙ্কুরের

দিকে। যেন ছাড়া পেলেই খেয়ে ফেলবে। অঙ্কুর তা দেখে আবারও হেসে বলল

“কি ভাবছো? আমি মিথ্যা বলছি? শোনো আমি খারাপ হতে পারি। তবে মিথ্যা বা ছলনার আশ্রয় নিই না কখনো।”

বলেই বেরিয়ে গেল কক্ষ থেকে। দরজা টাও বন্ধ করে দিয়ে গেলো।

***

রাত নামতেই উত্তরের প্রাসাদ যেন অন্য এক রূপ নিল। চারপাশ অন্ধকারে ডুবে গেছে, শুধু সামনের বিশাল ভবনের প্রবেশদ্বারটা খোলা। ইচ্ছে করেই খোলা রাখা হয়েছে। ভেতর থেকে মৃদু আলো বাইরে এসে পড়ছে, আর সেই আলোয় দরজাটা মনে হচ্ছে কোনো ফাঁদের মুখ। দরজার ঠিক ভেতরে রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে আছে অঙ্কুর।

উঁচু আসনে হেলান দিয়ে, এক পা তুলে, হাতে ধরা পান-পাত্র। মদ্য পান করছে বসে বসে।

চোখ স্থির দরজার দিকে। মুখে সেই পরিচিত, শীতল হাসি। যেন সে জানে কে আসবে।

কতক্ষণ লাগবে। এমনকি কী হবে এরপরও।

নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে ভেসে এলো ঘোড়ার ক্ষিপ্র শব্দ। টপটপ… টপটপ…

তারপর তা আরও দ্রুত আরও কাছে। অঙ্কুরের ঠোঁটের কোণে হাসিটা আরও গাঢ় হলো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের মতো এসে থামলো শ্বেত অশ্ব। ধুলো উড়ে উঠলো চারপাশে।

অশ্ব থেকে লাফিয়ে নামতেই ছায়া থেকে আলোয় এগিয়ে এলো সে। চোখে আগুন মুখে কঠিন রাগের রেখা। “বাইজিদ”

দরজার সামনে দাঁড়াতেই অঙ্কুর ধীরে উঠে বসল, যেন অপেক্ষার অবসান হলো। হালকা হাততালি দিয়ে ঠান্ডা কণ্ঠে ভেসে এলো স্বাগত

“অবশেষে এলে, সাহাবাদের বীর শাহজাদা…”

তার হাসি আরও চওড়া হলো।

“আমি ভাবছিলাম আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন?”

বাইজিদ আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে রইলো না।

ঝড়ের মতো এগিয়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো অঙ্কুরের ওপর। প্রথম ঘুষিটা সোজা গিয়ে লাগলো মুখে অঙ্কুর কেঁপে উঠলো, তবুও ঠোঁটের কোণের হাসিটা মিলিয়ে গেল না।

বাইজিদের আঘাতগুলো এলোপাতাড়ি, থামাহীন।

রাগে তার চোখ লাল হয়ে উঠেছে।

গর্জে উঠলো

“বল! আমার মেহের কোথায়। বল”

অঙ্কুর এবার ধাক্কা খেয়ে পেছনে পড়ে গেল, কিন্তু পরক্ষণেই হেসে উঠলো হো হো করে, যেন এই আঘাতগুলোও তার কাছে খেলনা। ঠোঁটের কোণ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, তবুও সেই শয়তানি হাসি অটুট। ধীরে ধীরে উঠে বসে মাথা কাত করে তাকালো চোখে বিদ্রূপ।

নিচু গলায়, টেনে টেনে বললো

“একটা শর্তে… সব শেষ করে দিতে পারি আমি…”

বাইজিদ থামলো না, কিন্তু মুহূর্তের জন্য হাতের গতি কমে গেল। অঙ্কুর হেসে বললো

“তোর মহল… তোর রাজ্য… তোর মা… তোর বোন সব ছেড়ে দেবো।”

একটু থামলো সে। চোখে ভয়ংকর ঝিলিক

“শুধু… মেহেরুন্নেসার অধিকার ছেড়ে দে।”

নীরবতা। তারপর আরও নিচু, বিষাক্ত স্বরে

“দেখবি… তোর গোটা রাজ্যের মানুষ বেঁচে যাবে।”

কক্ষের বাতাস জমে গেল। বাইজিদের মুঠো শক্ত হয়ে উঠলো শিরায় শিরায় রাগ ফুঁসছে। আর অঙ্কুর রক্তাক্ত মুখে বসেই হেসে যাচ্ছে। অঙ্কুরের মুখের সেই শয়তানি হাসি একটুও বদলালো না।

যতই আঘাত পড়ুক সে শুধু হেসেই গেল।

বাইজিদের চোখে তখন রাগের আগুন, কিন্তু সেই আগুনে কোনো উত্তর মিললো না। মেহেরুন্নেসার কথা উঠতেই অঙ্কুর ঠোঁট চেপে চুপ করে রইলো ইচ্ছে করেই। একটা কথাও বললো না।

আর সেই নীরবতাই যেন আরও উন্মাদ করে তুললো বাইজিদকে। আরও কয়েকটা আঘাত তারপর হঠাৎ থেমে গেল সে। শ্বাস ভারী, চোখে হতাশা আর ক্ষোভ একসাথে। কিছুই পাওয়া গেল না। একটাও না। হতাশ, রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফিরে গেল সে। দরজা পেরিয়ে, অন্ধকারে মিলিয়ে গেল তার ছায়া। প্রাসাদের ভেতর আবার নেমে এলো নিস্তব্ধতা।

কয়েক মুহূর্ত পর অঙ্কুর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। ঠোঁটের রক্ত হাতের পিঠে মুছে ফেললো। তারপর সেই একই শীতল হাসি নিয়ে হাঁটা ধরলো ভেতরের দিকে। লম্বা করিডর পেরিয়ে পৌঁছালো সিঁড়িঘরে। নিচের দিকে নেমে যাওয়া পাথরের সিঁড়ি, চারপাশে মশালের আলো টিমটিম করছে।

সেখানে এক কোণে রাখা বড় বড় কাঠের বাক্স।

আর সেই বাক্সগুলোর সামনে বসে আছে চন্দ্রা।

তার সামনে ছড়িয়ে আছে কাচের অসংখ্য শিশি

কেউ গাঢ়, কেউ হালকা, কেউ প্রায় স্বচ্ছ।

সে একেকটা তুলে নিচ্ছে, খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে তারপর বেছে বেছে আলাদা আলাদা বাক্সে রাখছে। কখনো একই রঙেরগুলো একসাথে, কখনো আলাদা। তার হাতের ভঙ্গি নিখুঁত যেন সে জানে কোনটা কোথায় যাবে।

অঙ্কুর সিঁড়ির ছায়ায় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে।

চোখে গভীর পর্যবেক্ষণ কিন্তু মুখে কোনো শব্দ নেই। চন্দ্রপ্রভা আজ অস্বাভাবিক নীরব। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই কিন্তু চোখে একটা ভারী ক্লান্তি। মনে যেন কিছু জমে আছে অস্থিরতা, দ্বিধা, কিংবা অপরাধবোধ।

তার হাত চলছে, কাজ থামছে না তবুও বোঝা যায় আজ তার মন এখানে নেই। অঙ্কুর এবার আর নিজেকে থামালো না। পিছন থেকে গিয়ে চন্দ্রার কোমড় স্পর্শ করলো শক্ত করে। চন্দ্রপ্রভা রেগে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো তার হাত।

“কি করছো? দূর থেকে কথা বলো”

অঙ্কুর চোখে সরাসরি তাচ্ছিল্য নিয়ে আরও এক পা এগিয়ে এলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে নিচু গলায় ছুঁড়ে দিল

“কি হলো? এত সাজ সাজ ভাব কিসের?”

চন্দ্রা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।

অঙ্কুর হেসে উঠলো

“এখানে এসে আবার রাজকন্যার ভান ধরেছিস নাকি? ভুলে যাস না আমাদের রাজ্য নেই এখন।”

তার কণ্ঠে তীব্র বিদ্রূপ।

“যার সাথে দিনরাত কাটালি… তার পাশে থাকতে লজ্জা লাগেনি, আর এখন ছুঁতেই এমন আগুন জ্বলে উঠছে?”

চন্দ্রার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। তবুও গলা শক্ত করে বলে উঠলো

“মুখ সামলে কথা বলো।”

অঙ্কুর থামলো না।

“ওই গরীবটার ঘরে থাকতে তো খুব অসুবিধা হয়নি, তাই না?”

চোখ সরু করে তাকালো সে,

“নাকি নাটক করছিস এখন?”

চন্দ্রার চোখে আগুন জ্বলে উঠলো। সে সামনে এগিয়ে এলো এক পা

“চুপ করো! একটা কথাও আর বলবে না।”

অঙ্কুর হেসে উঠলো আবার

“সত্যি কথায় এত জ্বালা কেন?”

চন্দ্রা এবার আর নিজেকে থামালো না। কড়া গলায় বলল

“তুমি খুব ভালো করেই জানো মাহবুব এর বাড়িতে দুই বছর আমি কেন কাটিয়েছিলাম”

তার কণ্ঠে কোনো দ্বিধা নেই।

“আমি কিভাবে ছিলাম, সেটা তুমি জানো ভালো করেই। আর না জানলে জানার দরকারও নেই।”

এক মুহূর্ত থামলো তারপর আরও কঠিন স্বরে বলল

“তোমার মতো মানুষের সামনে নিজের ব্যাখ্যা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই আমার।”

কক্ষটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অঙ্কুরের মুখের হাসি সামান্য জমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার সেই বাঁকা, তাচ্ছিল্যের রেখা ফিরে এলো ঠোঁটে।

“তুই যত দ্রুত বিদায় হবি আমি ততই খুশি”

****

পরদিন…

হুট করে দিনের বেলা তেই উত্তরের প্রাসাদে আগমন বাইজিদ এর। অঙ্কুর তখন হলঘরে বসে কিছু ওষুধের কার্যকারীতা দেখছে। বাইজিদ কে দেখেই ঈষৎ ভ্রু কুচকালো। এই ছেলেটা কি পিছু ছাড়বে না? অঙ্কুর হাত থেকে সাদা মোজা জোড়া খুলে হেসে বলল।

“তাহলে কি সিদ্ধান্তঃ নিলি? কবে হচ্ছে আমার আর নূর এর বিয়ে?”

বাইজিদ শীতল কন্ঠে বলল

“ছেড়ে দে মেহেরুন্নেসা কে।”

“তোর না রুবা কে বিয়ে করার কথা ছিল? ভুলে গেলি বাইজিদ? সেদিন আমার জন্য বিয়ে টা হয়নি তোদের। কিন্তু আজ তো কেউ বাঁধা দেওয়ার নেই। আমি নিজেই আজ তোর হাতে তুলে দিচ্ছি আমার বোনকে। তুই তোর কথা রাখ। ভুলে যা নূর কে। আমার আর নূরের বিয়ে হয়ে গেছে ভাই”

এতক্ষণ ধরে অঙ্কুরের বাজে কথা শুনে আর ধৈর্যের বাঁধ মানলো না বাইজিদ এর। চটে গিয়ে দুম করে এক লাথি বসালো অঙ্কুরের বুক বরাবর। ছিটকে গিয়ে অঙ্কুর পড়লো কয়েক কদম দূরে। সেখানে পড়েও হো হো করে হেসে উঠলো। বাইজিদ দাঁতে দাঁত চিপে গলা টিপে ধরলো অঙ্কুরের।

“জানোয়ার, তোর ওই নোংরা মুখে আমার স্ত্রীর নাম নিয়েছিস তো, এক্ষুনি তোর ভবলীলা সাঙ্গ করবো আমি। তোকে বাঁচিয়ে রেখে ভুল করেছি। আমার স্ত্রীর দেহে এক বিন্দু প্রাণ থাকতে তোর নামে সে কবুল পড়বে না। এই আস্থা আমার আছে তার ওপর।”

অঙ্কুর কোনো মতে শব্দ বের করলো

“অর্ষার কোমড়ে কাটা দাগটা কিসের…..’

ব্যাস বাইজিদ এর হাতের বাধন আলগা হলো। বুকে মনে হলো ছুড়ি চালাচ্ছে কেউ অনবরত। রক্ত মাথায় উঠে গেল তার।

“তুই? তুই আমার বোন কে…..

অঙ্কুর হো হো করে শয়তানি হাসি তে ফেটে পড়লো। তখনই পিছন থেকে শোনালো এক ক্লান্ত দরদ মাখা স্বর

“বাইজিদ”

পিছনে ফিরেই দেখলো রুবায়েত দাঁড়িয়ে আছে। বাইজিদ অবাক হয়ে তাকালো একটু। অঙ্কুর হেসে বলল

“তোর রুবা”

বাইজিদ হাত মুষ্টি করে ফেলল চোখ বুজে। রাগ আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। রুবায়েত খুড়াতে খুড়াতে হেটে এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো বাইজিদ কে। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো নারীটি।

“আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো বাইজিদ। আমি আর থাকতে পারবো না এখানে। আজ এসেছো তুমি আমায় নিতে? এতদিন কেন আসোনি? আমি প্রতিটি মূহুর্ত তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। কবে আমার শাহজাদা আসবে। আমায় নিয়ে যাবে এখান থেকে।”

পর্দার ওপর পাশ থেকে নিঃশব্দে সবটা দেখানো হলো মেহেরুন্নেসা কে। আশ্রয় এবং আশ্বাসের শেষ জায়গা টাও গেল মেহেরুন্নেসার। তার মানে অঙ্কুর ঠিকই বলেছিল?

মন মেজাজ ভালো নেই। কি লিখছি জানি না। কেমন হইছে বলিও 🙃

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply