প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
১৭
গাড়ি এসে থামলো বাড়ির সামনে। চিন্তিত মন নিয়ে গাড়ি থেকে নামলাম আমি।প্রলয় নেমে গেছে আগেই।ফেরার পথেই কে যেন ওকে কল করেছিল।ওর অফিসে কী যেন প্রবলেম হয়েছে।আর্জেন্ট যেতে বলে।তাই প্রলয় গাড়ি থেকে নেমে পড়ে আমায় যেতে বলেছে।
বাড়ি থেকে এতোবার কল আসার কথা প্রলয়কে বলিনি আমি।সময় পাইনি।
এবার আমার চিন্তাই হচ্ছে।
কলিং বেল চাপতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম দরজা খোলা।ভেতরে প্রবেশ করতেই চারপাশ থেকে করতালি শুরু হলো।
মা হাত তালি দিতে দিতে এগিয়ে এসে বলল,”এই এলো আমার গুণধর পুত্রবধু।যিনি কিনা সকালে বেড়িয়ে এতো রাতে বাড়ি ফিরছে।
বলি কোন বাড়ির বউ এভাবে দিনভর বাইরে থাকে?”
সুমা আপু বলল,”কতোবার কল দিয়েছি?রিসিভ কেন করোনি?
কোন মহাকাজ করছিলে যে ফোন রিসিভের সময় পাওনি?
আক্কেল-জ্ঞান কী বাড়িতে রেখে যাও?
কমনসেন্স ছাড়া মেয়েমানুষ!”
“এই মেয়ের চরিত্রের ঠিক নেই।
রাত-দুপুরে বাইরে থাকে।আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল মুখের চোপা শুনে।কী চ্যাটাং চ্যাটাং কথা!
দুশ্চরিত্র মেয়ে কোথাকার!”
উচু গলায় বললাম,”মুখ সামলে কথা বলুন মা।এতোক্ষণ অনেক সহ্য করেছি।
আপনারা আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে পারেননা।
আমি আমার মায়ের কাছে গিয়েছিলাম।এবং সেটাও প্রলয়ের থেকে শুনেই।
আমায় নিয়েও এলো প্রলয়।ওর অফিস থেকে কল দিয়েছে দেখে মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে গেছে।”
মা এবার চুপ গেলেন।
কিছুটা নরম গলায় বললেন,”সেটা আমাদের কল ধরে বললেই হতো।আমাদের কী চিন্তা হয়না তোমার জন্য?
তুমি নাহয় আমাদের নিয়ে ভাবোনা,আমরা তো ভাবি।সেই সকালে গিয়েছো,ফেরার কথা বিকেলে।ফিরলে এতো রাতে।”
আমিও কন্ঠস্বর কমিয়ে এনে বললাম,”দুঃখীত মা।
একটা গুড নিউজ আছে।আপনারা হয়ত শুনলে খুশি হবেন,আমার সেই চুরি হওয়া গহনা ফিরে পেয়েছি।”
উনাদের চোখ-মুখে কোনো খুশি বা আকর্ষীকতা দেখলাম না।যেন আগে থেকেই জানে সবটা।
মাকে চুপ থাকতে দেখে বললাম,”কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আপনার গুলো পাইনি।ওগুলো নাকি বিক্রি করে দিয়েছে।
এক দোকানদারের কাছে কেউ দিয়েছিল বিক্রি করতে।সেই মনে হয় চোর।
খুব শিগ্রই সত্যিটা বেড়িয়ে আসবে।সেই দোকানদারকে পুলিশ ধরেছে।আজ তার বাড়িতে পাহারা বসিয়ে চোরকে ধরা হবে।চোর নাকি আজ টাকা নিতে আসবে।”
মা ঝাঁঝালো স্বরে বললেন,”হ্যা চোরকে তো পাগলে পেয়েছে যে ধরা খেতে বাড়ি আসবে।”
অবাক হয়ে বললাম,”একথা বলছেন কেন মা?”
মা আমতা আমতা করে বলল,”না মানে চোরতো এতোক্ষণে নিশ্চয় জেনে সবটা।এজন্য সতর্ক হয়ে যাবে।”
“তা তো ঠিকই।কপালে যা আছে হবে।”
“কপাল তো পড়ে দেখা যাবে রাতের রান্না কে করবে?সকালের টা আমরা করেছি।তোমার হুশ দেখে আমি অবাক হই।নিজে দিব্যি বাপের বাড়ি থেকে গিলে এলে।আমরা কী খাবো?এতো গুলো মানুষ কী খাবে?
বাড়িতে জামাই আছে সেই খেয়াল আছে?বাড়ির বড়ো বউ তুমি।এই তোমার দায়িত্ববোধ?
জানোই আজ কাজের লোকরা নেই।ছুটিতে সবাই।তোমার উচিৎ ছিল বিকেলের মাঝে কাজ চুকিয়ে চলে আসা।সকালের রান্নাটা কতো কষ্টে করেছি।এতো মানুষের রান্না আমি একা হাতে করতে পারি বাচ্চাওয়ালা মানুষ?”
“তাহলে প্রিয়তা কী করে করবে একা?
তুমি বয়সে বড়ো,সম্পর্কে বড়ো,সংসারের দিনে বড়ো।তুমিই নাকি পারোনা।তাহলে প্রিয়তা কীভাবে পারবে? ও তো সব দিক দিয়েই তোমার চেয়ে ছোট।
আর বললে বাচ্চার কথা।
বাচ্চা কী তোমার কোলের ছেলে?কতো বড়ো হয়ে গেছে ছেলে।বুঝদার কতো।
রান্নার সময়টা আমার কাছেই ছিল।তবুও তুমি হিমশিম খেয়ে খেলে।”
সুমা আপু ছ্যাৎ করে উঠে বলল,”শোনো কবির বেশি বলবেনা।
তোমার এতো সমস্যা কেন?কথা বলছি ওর সঙ্গে।তুমি কেন নাক গলাচ্ছো?”
“কারণ আমার নাকটা বড়ো।এজন্য গলিয়ে কমিয়ে নিচ্ছি।আমি এসব অন্যায় সহ্য করতে পারিনা।
একটা মেয়ে বাড়িতে ছিল না।রাত হয়েছে কতো,এখনো তোমরা তার ভরসায় রান্না করোনি?
উল্টে তাকেই বলছো বাড়ির জামাইয়ের চিন্তা করতে?
বলি জামাইটা কার?তোমার মায়ের।
তাহলে চিন্তাটাও তারই আগে করা উচিৎ ছিল।
এতোকাল কী তোমরা খাওনি?প্রিয়তা এসেছে একমাস ও হয়নি।এর মাঝেই সবকিছু মেয়েটার ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছো?”
কারো মুখে আর কোনো কথা নেই।
আমিও কিছু বললাম না আর।
কবির ভাই ঘরে যেতে বলে আমায়।
চলে গেলাম চুপচাপ।সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় শুনলাম মাকে রান্না করতে বলছে সবাই।
ঘরে ঢুকে প্রথমে ড্রেস চেঞ্জ করলাম।
গোসল করলাম।
গোসল করে এখন একটু ফ্রেশ লাগছে।এখন আর জামা পড়িনি।নাইট ড্রেস পড়েছি।বের হবোনা ঘর থেকে।
চুল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকাচ্ছিলাম।প্রলয় এলো তখন।এসেই ঘরে ঢুকে বিছানায় ফ্লাট হয়ে শুয়ে পড়লো।
পেছন ফিরে বললাম,”কী হয়েছিল অফিসে?
এনিথিং সিরিয়াস?”
প্রলয় বলল,”ওই কিছু হিসেবে গড়মিল হয়েছিল।
কাল প্রোডাক্ট আসবে তো।এজন্য একটু চাপ আছে।”
আমি কথা বলছিলাম আর চুল শুকাচ্ছিলাম।হঠাৎ মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠলো।
পেছনের দিকে হেলে যেতেই প্রলয় লাফিয়ে উঠে ধরে নেয় আমায়।
ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে,”ঠিক আছেন তো আপনি?
মাথা ঘুরছে?শরীর খারাপ?
ডাক্তার ডাকবো?”
“ঠিক আছি আমি।সারাদিন রোদে ঘুরেছি।এজন্য একটু উইক লাগছে।”
প্রলয় আমায় বসালো।হাত থেকে হেয়ার ড্রায়ারটা নিয়ে চুল শুকাতে লাগে।আমি নিষেধ করি।প্রলয় বলল,”ভেজা চুলে ঘুমোলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।চুপ করে বসুন। আমি চুল শুকিয়ে দিচ্ছি।”
প্রচন্ড বাতাসে আমার চুলগুলো আচড়ে পড়ছে ওর চোখ-মুখে।ও বিরক্ত হচ্ছেনা।বরং সরিয়ে দিচ্ছে আলতো হাতে।
চুলগুলো নেড়েচেড়ে শুকিয়ে দিচ্ছে গভীর মনোযোগ দিয়ে।চুল শুকোনো শেষ হয়।
হেয়ার ড্রায়ার রেখে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
প্রলয় দরজা বন্ধ করতে গেল।তখনই হুট করেই ভেতরে ঢুকলো মা।
বলল,”কী করছিলি তোরা?”
“কী করছিলি মানে?তোমাকে কেন বলবো?
আমরা স্বামী-স্ত্রী যা খুশি করতে পারি।”
মা মুখটা গম্ভীর করলো।সেকেন্ড পাঁচেক সময় নিয়ে বলল,”প্রিয়তা তোমার সেই পুলিশ ভাইকে বলোনা আমার গহনাগুলোও খুঁজে দিতে।তোমার গুলো তো পেলে।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
প্রলয় মুখের কথা কেড়ে বলল,”ওগুলো মনে হয়না আর পাবে।প্রিয়তার ভাগ্য ভালো ছিল বলে পেয়েছে।তোমারও যে ভাগ্য ভালো হবে এমনটাতো নয়।”
মা কিছুটা হুংকার দিয়ে বলল,”হ্যা তোমার বউয়ের কপাল সোনায় মোড়ানো।আর আমাদের কপাল হলো তামা-দস্তা।যত্তসব!”
রাগ করে চলে যায় তিনি।
আমার একটু হাসিই পেল।
বিছানায় শুয়ে পড়লাম।প্রলয় আমার পাশেই।ইতিমধ্যে প্রলয় চোখ বন্ধ করেছে।
আমারও ঘুম পাচ্ছে।কালঘুম হতেই হঠাৎ শরীরে প্রচন্ড ঝাঁকি অনুভব করলাম।
ঘুমের ঘোরে প্রলয় এসে জড়িয়ে ধরেছে আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে একদম।ওর একহাত আমার কোমর চেপে ধরেছে।অন্যহাত আমার মাথার ওপর দিয়ে।
বিরবির করে বলছে,”আপনাকে আমি যেতে দেবনা প্রিয়তা।একজনকে হারিয়ে দেওলিয়া হয়েছি আমি।এবার আপনাকে হারালে পাগল হয়ে যাবো আমি।
বাঁচবোনা আমি আপনাকে ছাড়া।”
ফট করে তাকালাম ওর দিকে।কথাগুলো বলছে ঘুমের ঘোরে।আমার মায়া জাগে লোকটার প্রতি।অন্য সময় হলে হাত-পা সরিয়ে দিতাম।এবারে দিলাম না।বরং উপভোগ করলাম আমার স্বামীর ছোঁয়া।
সকালের মৃদু কিরণ প্রলয়ের চোখে পড়ে আগে।
পিটপিটিয়ে চোখ খোলে সে।হাতে ভারী কিছু অনুভব করে।
নিচে তাকিয়েই দেখলো ওর একহাতের ওপর শোয়া আমি।মুখটা ঠিক বুক বরাবর।প্রলয়ের পরণের সেই পাতলা শার্টের ওপরের দুটো বোতামই খোলা।আমার মুখ সোজা ওর উন্মুক্ত বুকে।ওর সুকাঠাম ফর্সা শরীরে আমি চুপটি করে মুখ গুজে ঘুমোচ্ছি।
ওর ইচ্ছে করছেনা আমায় জাগাতে,ঘুম ভাঙাতে।
বরং চরম উষ্ণতায়,গভীর আবেসে এভাবেই থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে।
রোদ এসে পড়ে আমার চোখে।ভ্রু কুচকাই আমি।প্রলয় দ্রুতই ওর হাত আমার চোখের ওপর ধরে আলো আটকানোর চেষ্টা করে।ততক্ষণে ঘুম ভেঙেছে আমার।নিজেকে প্রলয়ের এতো কাছে দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করলাম আমি।সরে এলাম ধীরে ধীরে।খাট থেকে নামতেই প্রলয় বলে উঠলো,”ঘুমন্ত আপনিকে ভীষণ কিউট লাগে।ঠিক যেন ঘুমন্ত এক পরী।”
সরাসরি এভাবে প্রশংসায় আমি আরোই লজ্জা পেলাম।জবাব না দিয়ে ঘর ছাড়লাম।প্রলয় হাসে।
নিচে এসে দেখি মা রাধছেন।
আমি তাকে হেল্প করতে গেলাম।
একবার মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন,”থাক করতে হবেনা কিছু।ঘুমোয় বেলা দশটা পযর্ন্ত।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
আমিও সরে এলাম।
ওতো সেধে কাজ করতে পারবোনা।
মা আমার যাওয়ার পানে রাগান্বিত ভাবে তাকালেন।
পিছে পিছে এসে বললেন,”আমি রাগ করে যেতে বললাম,আর তুমি চলে যাচ্ছো সত্যি সত্যি?”
“আমার কারণে তো আপনার রাগ হওয়ার কথা নয়।তো আমি কেন আপনার রাগ সহ্য করবো?”
কথাটা বলে রান্নাঘরের দিকে গেলাম আমি।মা ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে রাগে।তাতে আমার কী?
উচিৎ কথা বললে কারো গায়ে লাগলে আমার কিছুই করার নেই।
নিজের মতো বাসন ধুচ্ছিলাম।তখনই ভেতরে এলো কাজের আন্টিরা।
উনাদের দেখে এগিয়ে গিয়ে বললাম,”ভালো আছেন আন্টি আপনারা?
আপনাদের না দুদিন পর আসার কথা।একদিন পরেই এলেন যে।কিছু হয়েছে আন্টি?”
“আপনার জন্য চিন্তা হচ্ছিলো মা।একা হাতে সব সামলাতে পারবেন কিনা এজন্য চলে এলাম।
তারপর আপনাকে অসুস্থ রেখে গেছি।তাই আর বাড়িতে থাকতে মন চাইলোনা।”
উনারা পর মানুষ হয়েও আমার কথা কতোটা ভাবে।অথচ এরা!
মা দৌড়ে এলো।এসেই তাদের জড়িয়ে ধরে বলল,”ভালো করেছিস এসেছিস তোরা।আর তোদের ছাড়ছিনা।এই একটা দিনে ওরা আমায় যা খাটান খাটিয়েছে!
কোমর ব্যাথা হয়ে গেছে আমার।সব কাজ আমায় দিয়ে করিয়ে নিয়েছে।তোরা আর যাসনা কেমন?
এবার যা কিচেনে।রান্না বসিয়েছি।বাকিটা করে নিয়ে আয়।ক্ষিদে পেয়েছে।আমি ঘরে গিয়ে একটু রেস্ট নেই।অনেক কাজ করেছি।”
অথচ তিনি কাজ বলতে শুধু রাইসে চাল ধুয়ে দিয়েছে আর চুলোয় ডালের পানি দিয়েছে।বাসী থালা-বাসন পড়ে আছে,বাসী ঘরটা অব্দি ঝাড় দেয়নি।কিচেনটাও পরিষ্কার করেনি।রাগে রাগে রান্না করছে কাল থেকে।তাই কিচেনটা একটুও পরিষ্কার করেনি।কালকের তরকারি কাঁটার খোসা এখনো মেঝেতে পড়ে।সিঙ্কে হলুদ ছিটিয়ে।আটা-ময়দা দিয়ে সব যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।এমন রান্নাঘরের রান্না খেতে মন চায়?
অন্তত ঝাড়টা দিতে পারতো।
কাল সারাদিন আমি বাড়িতে ছিলাম না।নাহলে আমিই করতাম।
মা চলে গেল।
আমি কিচেনে গিয়ে আগে সব পরিষ্কার করতে লাগলাম।আন্টিরাও এসে হেল্প করছে বলছে একদিনেই রান্নাঘরকে ময়লার স্তুপ বানিয়ে ফেলেছে।
সব শেষে বেড়িয়ে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।প্রলয় চলে গেছে।আন্টিকে দিয়ে ওকে ব্রেকফাস্ট পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
সোফায় বসলাম।দেখছি সুমা আপু মুখ ভার করে টেবিলের ওপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছে।
আমি তার পাশে বসে নাস্তা করছি।
হঠাৎ আপু বলল,”দূর ভালোলাগেনা।কবির বাইরে গেছে।”
মজার ছলে বললাম,”বাহ আপুতো দেখছি ভাইয়াকে চোখে হারায়।”
“চোখে হারাই নাকি ছাই! সাত সকালে গেছে ওর মা-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে।আমায় যেতে বলেছে যাইনি।গেলেই বলবে দুটো দিন থাকো।নাতীটাকে ছাড়া ভালো লাগেনা।মন মানেনা।
থাকলে আবার ওর বাবা টাকাকে টাকা বলবেনা।ইচ্ছে মতো বাজার করে খাওয়াবে।বলবে এতোদিন পর এসেছি,মা-বোনকে ইচ্ছে মতো খাওয়াতে হবে।
একদিনেই সব মলন দেবে।ধ্বংস করে দেবে একেবারে।সঙ্গে আসার দিন তো কান্নাকাটি আছেই নাতীকে ধরে।সব উটকো ঝামেলা।
কবিরকে বললাম কেজি খানিক ফল নিয়ে দেখা করে এসো।বলে কিনা বিদেশ থেকে এসেছি,মিষ্টি না নিলে হয়?
আট কেজি মিষ্টি নিয়েছে।যেন ওর ম”রা বাপের বিয়ে।
সঙ্গে তিন পদের ফল নিয়েছে।বয়স্ক মানুষ ওতো ফল কী করবে?
মায়ের জন্য শাড়ি নিয়েছে।শাড়ি কী তার নাই?এমনিতেই আসার সময় কতো টাকায জিনিস এসেছে।তারপর ফ্লাইটের টিকিটে কতো টাকা খরচা হলো।
আবার বোনের জন্য চকলেট নিয়ে গেল।
বোন কী ওর বাচ্চা নাকি?যে চকলেট খেতে হবে।
শখ দেখলে বাঁচিনা।”
“ভাইয়া আসার সময় কতো চকলেট আলনো।আপনিই আনতে বলেছেন।দুদিন ভর খেলেন।তো আপনি কী বাচ্চা?
চকলেট, আইসক্রিম এগুলো কিন্তু শুধু বাচ্চাদের জন্য নয়।এগুলো হলো ইমোশন।
ভাই তার বোনের জন্য ভালোবেসে চকলেট নিতেই পারে।ছেলে তার মায়ের জন্য শাড়ি দেবেই।এটা তার দায়িত্বের মাঝে পড়ে।
আপনাকে,আপনার ছেলেকে ভরণপোষণ দেওয়া যেমন তার দায়িত্ব,তেমনি বিধবা মাকে দেখা,বোনকে দেখাও তার কর্তব্য।”
“পরের স্বামীকে ভালোই কর্তব্য শেখাতে এসেছো?
আর তোমার নিজের স্বামী?
সে পালন করে তার সকল কর্তব্য?”
“আলবাদ করে।
মায়ের যাবতীয় ভরণপোষণ দিচ্ছে।বোনটাকে মানুষ করছে।বিয়েও দেবে নিজ দায়িত্ব।যতোদূর শুনেছি আপনার সব দায়িত্বও প্রলয় পালন করে গেছে।”
“তোহ কী হয়েছে?মাথা কিনে নিয়েছো?
শোনো প্রিয়তা মন মেজাজ আমার এমনিতেই ভালো নেই।তুমি প্লিজ আমার সাথে ঝামেলা তৈরি করোনা।”
এই বলে তিনি চলে গেলেন।
উচিৎ কথা বললে ঝামেলা লাগানো এদের কাছে।
এদের সর্বস্র দিচ্ছে।আর নিজের মা-বোনকে একটু ছিটেফোটা দিলেই দোষ।অথচ এরা নেবে ঠিকই।নিজের বেলায় ষোলো আনা সবসময়।অন্যের বেলা ফাঁকা কলসি।
খেয়ে নিলাম।
দুপুরের রান্নায় সাহায্য করলাম।দুপুরে সবাই খাবার টেবিলে বসলো।আন্টিরা আমাকেও বসিয়ে দিয়েছে।আন্টিরা আমার প্লেটে ভাত সহ মাছ ডিম ও সবজি দিল।এতো নিতে চাইনি আমি।জোর করে দিয়েছে।মা ও আপু আমার থালের দিকে চেয়ে রইলেন।আন্টিরা দুষ্টুমি করে আমার থালে আরো একটি ডিম দিল।ওমনি জ্বলে উঠলো মা।
বলল,”হ্যা সব ওকেই দে।আমরা সব হাওয়া খেয়ে থাকি।”
আমি মিটিমিটি হাসলাম।
একটা ডিম মুখে পুড়ে বললাম,”মা যেহেতু বলছে,দিয়েই দিন আমাকে সবগুলো।আজ বরং মায়েরা হাওয়া খেয়েই দেখুক কেমন স্বাধের।”
মা আরো চেতে গেল।
আমি আর লাগলাম না তার পিছে।চুপচাপ খেয়ে উঠলাম।
খাওয়া শেষে গুছাচ্ছিলাম সব,এমনই সময় মা বললেন,”বুঝলি সুমা জামাইকে বুঝিয়ে বল বাড়ির কাজ ধরার কথা।
ওর পকেট খালি করতে হবে।মাথায় বোঝা চাপাতে হবে।তাহলে আর মা-বোন করে করে টাকা উড়াবেনা।এখন পকেট ভর্তি তো, তাই মন যা চাইছে করছে।তোর এসব বন্ধ করতে হবে।
সুমা আপুও তাল মিলিয়ে বলল,”ঠিকই বলেছো মা।সেটাই করবো।”
কবির ভাই ফিরলো প্রায় সন্ধ্যায়।
আজ দেখলাম সুমা আপু নিজ হাতে নাস্তা বানালো হরেক রকম।
স্বামীকে নিজের হাতে নাস্তা দিলেন।পাশে বসে রইলেন।এতো মহব্বত দেখে আমার ভালোই লাগলো।স্বামী-স্ত্রী মিল থাকাই ভালো।
কবির ভাইয়ের খাওয়ার মাঝখানে সুমা আপু তার ফোন থেকে একটা ছবি বের করে সামনে ধরে বলল,”দেখো এটা?সুন্দর না বাড়ির ডিজাইন টা?”
“হুম।”
“আমরা বরং এই বাড়ি টাই করবো।”
কবির ভাই সহসা বলে উঠলো,”কিসের বাড়ি?”
“কিসের বাড়ি মানে?আমাদের বাড়ি?
নতুন বাড়ি করবো না আমরা?”
“আমার তো বাড়ি আছেই।নতুন বাড়ির প্রয়োজন নেই।”
সুমা আপু ঠাস করে উঠে পড়লো।
বলল,”প্রয়োজন নেই মানে?কী কথা ছিল তোমার সঙ্গে?বিদেশ থেকে এসে নতুন বাড়িতে হাত দেবে।আমার পছন্দসই বাড়ি করে দেবে।ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে।”
কবির ভাই হাত ধুয়ে বলল,”সে বলেছি এমনিই।এখন প্রয়োজন নেই।বাড়িটাড়ি হবেনা।আমার বাবার ওতো বড়ো বাড়ি থাকতে পয়সা খরচ করে আবার কেন বাড়ি করবো আমি?আর আমার এক ছেলের ওবাড়িতেই হয়ে যাবে।পরপর আরো দুটো ছেলে-মেয়ে হলেও আমার ঐ বাড়িই যথেষ্ট।
এখানে থাকতে অসুবিধা হলে চলো কাল আমার সঙ্গে।নিজের বাড়িতে গিয়ে থাকবে।”
আপু হুংকার দিয়ে বলল,”না।কোনো দিনও সম্ভব নয় এটা।আমি যাবোনা ঐ বস্তির বাড়িতে।ওখানে প্রতিটি মানুষ আনকালচার,গাইয়া,ন্যাকা স্বভাবের।আমি ওখানে গিয়ে কিছুতেই থাকতে পারবোনা।”
“কোনটাকে বস্তির বাড়ি বলছো?আমার বাবার তৈরি তাও ঐ বাস্তুভিটা টুকু আছে।তোমার বাবার কী আছে?এইযে সাম্রাজ্যে পা তুলে খাচ্ছো,পড়ছো সবই কিন্তু ভাইয়ের টাকায়।তোমার বাবাতো ছাউনি ছাড়া দুটো টিনের চালাও তুলে দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল না।সুতরাং আমায় ছোট করতে এসোনা।নিজের পজিশন দেখে অন্যকে বলবে।
আমার বাড়ির লোক আনকালচার দেখেই তোমায় এখনো সহ্য করছে।অন্যকোনো শশুরবাড়ি হলে তোমাকে কবেই তাড়াতো।অন্তত তোমার বাড়ির লোক বা তোমাদের মতো হলে তো কথাই নেই।”
সুমা আপু দ্বিগুণ চিৎকার করে বলল,”এই মুখ সামলে কথা বলো।কোন সাহসে আমার বাড়ি তুলে কথা বলো তুমি?
এতো সাহস কোথা থেকে পাচ্ছো তুমি?তাও আমার বাড়িতে থেকেই।”
কবির ভাই এবারো গরম গলায় বলল,”যেই সাহসে তুমি আমার বাড়ির লোক সম্পর্কে মন্দ কথা বলো।আর তোমার বাড়ি নয়।বলো ভাইয়ের বাড়ি।”
মা আমার পাশে দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিলেন।এবারে হাই হুতাশ করতে করতে সেদিকে যেতে নেয় সে।
আমি আটকে দিয়ে বললাম,”ওদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আপনার যাওয়া ঠিক হবেনা মা।ওদের বিষয় ওরা মিটাক না মা।”
মা শুনলোনা আমার কথা।
হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে চললো মেয়ের কাছে।সুমা আপু ততক্ষণে কান্না শুরু করে দিয়েছে।
মা বললেন,”এমন কেন করছো তুমি কবির?
স্ত্রীর সঙ্গে এ কেমন ব্যবহার?
ওকে তুমি কথা দিয়ে কথা কেন রাখবেনা?
তুমি এতো বিশ্বাসঘাতক কেন?”
কবির ভাই মাথা নিচু করে ছিলেন।শাশুড়িকে কিছু বলতে পারছেননা।
সুমা আপু কাঁদতে কাঁদতে বলল,”ও এমন ছিলনা মা।আজ বাড়ি যাওয়ার পর ওর ব্রেন ওয়াশ করা হয়েছে।ওর অসভ্য মা আর অভদ্র বোন ওকে কালো জাদু করেছে।”
কবির ভাই আর সহ্য করতে পারলোনা।ছুট্টে গিয়ে সুমা আপুকে স্বজোড়ে থাপ্পড় দিল।
মা ওমনি বলে উঠলো,”এই ছেলে এত্তোবড়ো সাহস তোমার।”
কবির ভাই রক্তচক্ষুতে তাকায় তার দিকে।চিৎকার করে বলে,”আপনি আর একটা কথাও বলবেন না।আপনার জন্য সব হয়েছে।শুধুমাত্র আপনার কূবুদ্ধিতে আজ আমার সংসার ছন্নছাড়া।আমার মা প্রতিনিয়ত কাঁদে।আমার বোনটা কষ্ট পায়।
সব আপনার জন্য।
আপনার মতো একজন মা থাকলে সেই মেয়ের সংসার কোনোদিনও সুখের হবেনা।
অনেক সহ্য করেছি আমি।আর নয়।এবারে দেখবে আমার আরেকটি রুপ।”
ভয়ে যেন সবার মুখটা কালো হয়ে গেছে।এমন কবিরকে কেউ কল্পনাও করেনি।কী হতে চলেছে এবার থেকে?
কোন দিকে মোড় নেবে এবার?
ইবই….’একি,আপনি আমার বিষ টুকু খেয়ে নিলেন কেন?”
রানাভ চোখ বড়ো বড়ো করে আর্জার দিকে তাকিয়ে বললো,”হোয়াট?ঘরে তুমি বিষ এনে রেখেছো?”
:,,,,,”হ্যা।আসলে পুরোটা একেবারে খেতে পারিনা তো।তাই রেখে দিয়েছে একটু একটু করে খাবো বলে।কিন্তু আপনি তো খেয়েই নিলেন।”
রানাভ অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছালো।বলছে কী এই মেয়ে?
কাপা স্বরে বললো,”বিষ খাবে কেন তুমি?”
:,,,,,,”শরীর ফিট এন্ড পারফেক্ট রাখার জন্য।”
:,,,,,”হোয়াট ননসেন্স!বিষ খেয়ে শরীর কার ফিট থাকে?এটা খেলে তো তুমিই ফিট হয়ে যাবে।”
:,,,,,,,”আপনি অনেক গর্ধব।এটা খাওয়া সাস্থ্যের জন্য ভালো।এই বিষ অনেক কার্যকর,অনেক হেলদি।”
আর্জার বলা কথাগুলো মাথার ওপর দিয়ে গেল রানাভের।
শুধু একটা কথাই মনে হলো,সে আর বাচবে না।কালকের নিউজে আসবে,শেষ পর্যন্ত কীনা রানাভ খান বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলো।
ওয়াক ওয়াক করতে শুরু করলো রানাভ।
আর্জা এগিয়ে এসে বললো,বিষ খেয়েছেন তো কী হয়েছে?
হজম করে নেবেন।
:,,,,,,”তার আগেই আমি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যাবো।”
:,,,,,,”অদ্ভুত কথা তো!এটা তো ব্র্যান্ডের বিষ।দাড়ান দেখাচ্ছি আমি।”
রানাভ মনে মনে ভাবলো,বিষ আবার ব্র্যান্ডের হয় নাকি।
আর্জা ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে একটি প্যাকেট রানাভের সামনে ধরলো।
:,,,,,,”এটাতো গ্রিন-টি।সবুজ চা।”
:,,,,,,”হ্যা সবুজ চা ই তো।আমি ফাস্ট টাইম খাচ্ছি।তেতো লাগছিল খুবই।তাই বিষ নাম দিয়েছি এটার।”
ধপ করে বিছানায় বসে পরলো রানাভ।
মাথায় হাত দিয়ে বললো,আমার কপালে এটা কে জুটলো!
:,,,,,,”কেন জানেন না?আর্জা জুটেছে আর্জা।”
আমার দ্বিতীয় ই-বুক,ট্রু ওর ডেয়ার।
মাত্র :৪০ টাকা
বইয়ের লিংক:,,,,পড়ুন ই-বই “ট্রুথ ওর ডেয়ার”
https://link.boitoi.com.bd/76pk
প্রিয়তার পূর্ণতা টাইপ গল্প আরেকটি পড়তে আমার #বড়োজা বইটি কিনতে পারেন মাত্র ২৯৯ টাকায়।
প্রতারিত হওয়া এক নারীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
অর্ডার করুন বইবাড়ি রোম্যান্টিক বুকশপ বা যেকোনো বুকশপে।
জিতে নিন বুকমার্ক ও চিঠি।
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১৬
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৭
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১৩
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১০
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৬
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৯
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১