আশুওনিশু
পর্বসংখ্যা_২৭(শেষাংশ)
তুবা নিজের রুমে এসে থম মেরে বসে আছে।মনের ভেতর প্রবল বেগে ঝড় চলছে।তা তুবার নিজের জানা থাকলেও কেন এমন লাগছে সে বুঝতে পারছে না।কেনো এই লোকের জন্য এমন লাগছে তার?কেন তার বুকে ফেটে কান্না আসছে।এই লোকটাকে তো সে ভালোবাসে না ঘৃণা করে আসছে শুরু থেকে তাহলে আজ?আজ কেনো তার এমন লাগছে?এগুলো ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়ছে।দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে তুবা তাড়াহুড়ো করে নিজের চোখের জল মুছে ফেলে।যেনো সব চোখের পানিগুলো মিথ্যা!তুবা নিজেকে শান্ত করে দরজা খুলে দেয়।দরজায় দাড়িয়ে আছে নিহান তার পাশে আরু।তুবা হাসার চেষ্টা করে বলে,
“কেমন আছেন?”
”গুড!তুমি কেমন আছো?”
“জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
নিহান শান্ত স্বরে বলে,
“এই রুমে আজকে তুই থাকবি।আর তুবা আমার রুমে আসো।”
তুবা হালকা করে মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।উদ্দেশ্য নিহানের রুম।তার রুমে নিহান আর মেয়েটাকে দেখার রুচি হলো না তার।নিহানের রুমে এসে জানালার কাছে দাঁড়ালো।কিছুক্ষণ পর নিহান ঢুকল রুমে দরজাটা লাগিয়ে দেয়।তুবা সেদিকে তাকানের প্রয়োজনটুকু মনে করলো না।নিহান গম্ভীর স্বরে বলে,
”কাদছিলে কেনো?”
”কই আমি কাঁদবো কেন?আমি কাঁদিনি।”
“আমি তোমার চোখ দেখেই বুঝেছি।”
তুবাকে এরপর আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না সে।দুষ্টু চোখে তাকিয়ে বলে,
“জেলাস নাকি?”
”আমার জেলাসি এতটা সহজ না মিঃ এহসান।যার তার প্রতি আমার জেলাসি আসে না।”
”রিয়েলি মিসেস এহসান?”
“ইয়েস।”
“ওকে লেটস সি।”
নিহান গম্ভীরতা মুখ নিয়ে বিছানায় বসে পড়ে।তুবা জানালার ধারে মুখ দিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকটাই।কিন্তু তার চোখে ভাসছে মেয়েটার নিহানকে জড়িয়ে ধরার মুহুর্তটা।
বাইরে পাখিরা কিচিরমিচির ডাকছে, বাগানের সুন্দর ফুলগুলো যেন তুবার দিকে মুখ করে চেয়ে আছে।কিন্তু তুবাস কি সেদিকটাই খেয়াল আছে?তুবা লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রুমের বাইরে দিকে এগিয়ে গেল।নিহানের রুম থেকে বের হতেই হঠাৎ কেউ তার হাত টান দেয়।তুবা পিছে ফিরে দেখল নোভা।তুবার মলিন মুখটা দেখে বেশ মায়া হলো নোভার।নোভা নরম কন্ঠে বলে,
”কি হয়েছে?মন খারাপ তাই না।”
তুবা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ তারপর ধীরে বলে,
“নিচে যায়।কাজ আছে।”
নোভা তুবাকে ছেড়ে দেয়।আর নোভা যায় তুবার রুমে।যেখানে বসে আছে আরু।নোভা দরজায় নক করে বলে,
“আসব?”
“হুম।”
নোভা ভেতরে প্রবেশ করে।একটু হেসে বলে,
“কেমন আছো?”
“ভালো।”
“তুমি জানো ওই মেয়েটা কে?”
“না নিহান থেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার আর মেয়েটার কথা কিন্তু ও তো বলল না।”
”মেয়েটার নাম তুবা।কিছুদিন আগেই নিহান এহসান ওকে বিয়ে করেছে।”
আরু ভুত দেখার মতো চমকে উঠল।কাঁপা স্বরে বলে,
“এই মেয়ে কি বলছো এসব?”
“হুম।নিহান বিয়ে করেছে তুবাকে।আর তুবা নিহানের বউ।”
আরুর বুকটা কেঁপে উঠল।
“এই মেয়ে শুধু শুধু এসব বলছো কেন?আমি জানি নিহান কেমন ছেলে।”
নোভা ঠোঁট হালকা বাঁকিয়ে হেঁসে বলে,
“নিহান ভালোবাসে তুবাকেই।”
আরু নোভার সাথে আর একটা কথাও বলল না।দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।নিহানের রুমের ভেতর ঢুকল।নিহান রেডি হচ্ছে।আরু কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,
“নিহান তুই নাকি বিয়ে করেছিস?”
নিহান পেছনে তাকালো।গম্ভীর স্বরে বলে,
”তোকে কে বললো?”
“বলেছে আরকি।তুই সত্যিটা বল।”
“হুম।”
আরু হুট করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।নিহান অবাক চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
“কিরে কাঁদছিস কেনো?”
“তুই এটা করতে পারলি?তুই না বলেছিলি তুই কোনোদিন কাউকে ভালোবাসবি না।তোর কারো প্রতি ফিলিংস আসে না তাহলে আজ কেনো মেয়েটাকে বিয়ে করলি?আমি কত আাশা নিয়ে এসেছিলাম শুধুমাত্র তোর জন্য।আমি ভালোবাসি।তোকে তুই ম..মেয়েটাকে ছেড়ে দে।”
“কি বলছিস এগুলো আরু?আমি তোকে কোনোদিন সেই চোখে দেখিনি।”
ঢাকার শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, পাহাড়ঘেরা এক রহস্যময় জঙ্গল। চারপাশ জুড়ে ঘন সবুজ গাছগাছালি, যেন প্রকৃতি নিজের আড়ালে ঢেকে রেখেছে জায়গাটাকে। উঁচু উঁচু গাছগুলো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ডালপালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে তৈরি করছে আলো-ছায়ার এক অদ্ভুত খেলা।
সেখানেই রয়েছে একটি ছোট্ট কুটির। নিস্তব্ধ পরিবেশে কুটিরটা যেন আরও রহস্যময় লাগছে। কুটিরের ভেতরে নিশান পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে, আর নাহিয়ান পাশে বসে মোবাইল স্ক্রল করছে।
নিশান নাহিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে—
“কোনটাকে আগে মারি বলতো?”
নাহিয়ান উচ্চস্বরে হেসে ওদিকটা আঙুল দেখিয়ে বলে—
“এইযে, এই শয়তানটাকে।”
নিশান সাথে সাথে হাতে থাকা বন্দুকটা তুলে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই লক্ষ্য স্থির করে ট্রিগার চাপে।
শব্দটা চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়ে জঙ্গলের নীরবতা ভেঙে দেয়। গাছের ডালে বসে থাকা পাখিরা আতঙ্কে উড়ে যায়। পুরুষটার বুকের মাঝখানে গুলি লাগে। সে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়, চোখে বিস্ময় আর আতঙ্কের ছাপ ফুটে ওঠে… তারপর ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
নাহিয়ান হাসতে হাসতে সামনে এগিয়ে যায়, কিন্তু তার চোখে কোনো দয়া নেই—শুধু নিষ্ঠুর আনন্দ।
“দেখলি? একদম ঠিক জায়গায়,” ঠান্ডা গলায় দাঁতে দাঁত বলে সে।
নিশান কিছুক্ষণ চুপ থাকে। চারপাশে হালকা বাতাস বইছে, কিন্তু পরিবেশটা অদ্ভুত ভারী হয়ে উঠেছে। তার চোখে এক ঝলক দ্বিধা দেখা যায়… যেন ভেতরে কোথাও কিছু ঠিক লাগছে না।
নাহিয়ান পাশে থাকা একজন গার্ডকে বলে,
“এটাকে ট্রান্সফার করে দিস।”
“আচ্ছা বস।”
নাহিয়ান নিশানকে বলে,
“ভাই ৩ টা বাজতেই চলছে চলে যায় চলো।৪ টা থেকে মিটিং।”
নিশান ভাইয়ের কথামতো উঠে যায়।দুজন মিলে কুটির টার থেকে বাইরে গিয়ে কিছুদূর হাটার পর গাড়িতে উঠল।নিশান নাহিয়ানকে বলল,
“ দেখেছিস র*ক্তের ছিটে এসে পড়েছে শার্টে।”
“মানিয়েছে কিন্তু।”
নিশান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।
নিহান সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে ধীর পায়ে।তার মুখে গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট। কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া মুহুর্তের কথা মনে পড়ল তার।আরু মেয়েটা যে তাকে এতটা ভালোবাসে জানা ছিলো না নিহানের।কানাডায় হাই স্কুলে থাকতে তখন বন্ধুত্ব হয়েছিলো নিহান আর আরুর।তারপর একসাথে ভার্সিটি পর্যন্ত ছিলো তাদের বন্ধত্ব।নিহানকে ভার্সিটিতেও কোনো মেয়ে পছন্দ করলে নিহান পাত্তা দিতো না।সেই একিই কথাই বলতো তার কাোর জন্য ফিলিংস নেই।
কিন্তু আরু মেয়েটা যে তাকে ভালোবেসেছিল তা নিহানের অজানা।আরুকে কোনোদিন নিহান অন্যকোনো চোখে দেখেনি।
নিহান এসব ভাবতে ভাবতেই এহসান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।হঠাৎ বাগানে তুবাকে দেখে বিড়বিড়িয়ে বলে উঠে,,
“তোমার পাশে ফুলকে বেমানান লাগছে সুইটহার্ট। দুনিয়ায় কেউ তোমার থেকে বেশি সুন্দর হতে পারেনা সেই আকাশের চাঁদ, ফুল কোনোকিছুই ন।”
বলেই নিহান ঠোঁট এলিয়ে হাসে।ঘড়িতে সময় দেখল।মনে মনে ভাবে, “মিটিং এর অনেকক্ষণ বাকি আছে, তাই তার মনে অন্যকিছু চলছে।”নিহান এগিয়ে গেলো বাগনাের মাঝখানটাই যেখানে তুবা দাঁড়িয়ে আছে।তুবা কেউ আসার কথা টের পেয়ে পেছনে তাকালো তার আগেই নিহান তাকে জড়িয়ে ধরায় তুবার ঠোঁটের সাথে নিহানের ঠোঁট মিলে যায়।এমন ঘটনায় দুজনিই হতভম্ব হয়ে গেলো।তুবা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেয় সামনে।নিহান তুবার কোমড় জড়িয়ে আছে। তুবা নরম স্বরে বলে,
“ছাড়ুন কেউ দেখলে ভুল ভাববে।”
“ভাবুক ভুল।আমার তো অন্যকিছু করতে ইচ্ছে করছে।”
“আপনার বান্ধবী দেখলে মন খারাপ করবে আবার।”—অভিমানী সুরে বলে তুবা।
নিহান মুচকি হেঁসে বলে,
“সোনা কি হয়েছে।”
“কিছু হয়নি।”
“একটা চুমু দাও তাহলে।”
“বা’লের চুমু।সরুন তো!”
নিহান এবার তুবাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়।তুবাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই গলায় নাক ডুবিয়ে দেয়।তুবা লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে।গেটে কত গার্ড তাও এই লোকের লজ্জা নেই?নিহান দশ-বার মিনিট পর মুখ উঠিয়ে নিয়ে গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরে।
তুবা কাঁপা কাঁপা হাতে নিহানের কোর্ট কে খামচে ধরে।ছটফট করছে তুবা নিজেকে নিহানের থেকে ছাড়ানোর জন্য কিন্তু নিহামের সেই হুশ ন্যায়।সে মত্ত হয়ে আছে তুবাতে।
কয়েক মিনিট পর নিহান নিজেকে সামলে তুবা থেকে দূরে সড়ে আসে।দুষ্টু স্বরে তুবাকে বলে,
“সাবধানে থেকো ডার্লিং!বাড়ি থেকে বের হবা না কিন্তু সোনা।”
তুবা মাথা নাড়ায়।নিহান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।কিন্তু কিছুক্ষণ আগের মুহুর্ত যে কেউ ক্যামেরায় ধারণ করেছিলো তা নিহান বা তুবা কেউ ই খেয়াল করেনি।
নিহান গাড়িতে বসে বসে তুবার কথা ভাবছে হঠাৎ একটা গান চালায়।তুবাকে মনে করে গানের সাথে তাল মিলিয়ে গেয়ে উঠে,
“মন বলেছে তোর সাথে যাবো
তোকে নিয়ে চল আজকে হারাবো।
সোহাগের হাওয়ায় মেঘেদের ডানায়,
এই মন বেখেয়ালে, অন্তরালে
সপ্ন রেখে যায়।
জোনাকির গানে,আদরের টানে।
এই রং ছুঁয়ে থাকে,ইচ্ছে আঁকে!”
চলবে?
(আসসালামু ওয়ালাইকুম। কেমন আছেন সবাই?আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো।আপনারা সবাই রেসপন্স করনেন এবং আমার ২২ তারিখ থেকে পরীক্ষা তখন গল্প নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হবে না।আাশাকরি সকলে বিষয়টা বুঝবেন।ধন্যবাদ)❤️🩹
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৫ এর সকল পর্ব
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১