Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৮


তোমাতেই_আসক্ত

পর্ব:১৮

তানিশা সুলতানা

“আদ্রিতাকে তো পেলাম না।

অহনা হঠাৎ হাঁটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং সিয়ামের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে।
সিয়াম আশ্চর্য হয়। এই মেয়ে তো কানার মতো হাঁটলো সোজাসাপ্টা। আদ্রিতাকে খুঁজলো কখন? যে পাবে?

” কেনো পেলাম না? কোথায় আদ্রিতা?

অহনা কপাল কুঁচকে বলে।
সিয়ামের রাগ হয়। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
“আমি বিক্রি করে বাদাম কিনে খেয়েছি।

” ফকিন্নি
বাদাম কেনারও টাকা নেই।

সিয়াম এবার বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করে। বিরবির করে কবিতা আবৃত্তি করতেও ভোলে না
“মেয়ে মানুষ বড়ই আজব
গভীর পানির মাছ
সোজা পথ দেখালেও তাদের
তোমায় দেবে বাঁশ
ওরেহহ সিয়াম তুই কেটে পড়
পড়িস না মেয়ের ফাঁদে
অকালে মরবি রে পাগলা
তোর বাড়ি হবে চাঁদে

অহনা শুনলো কবিতা। এবং বললো
” ছন্দ মেলে না।
কবিতা আপনাকে দিয়ে হবে না অন্য কিছু ট্রাই করুন।

সিয়াম কিছু বললো না।।শুধু মুখ বাঁকায়।


নুপুরের ঝমঝম শব্দে গোটা বাড়ি মুখরিত। কেউ একজন অনবরত ছুটে চলেছে এবং তারই পায়ে থাকা নুপুর ঝমঝম করে বাজছে। সেই সঙ্গে চিকন স্বরে বলা কথা গুলোও স্পষ্ট
“বড় মা জানো
কেউ একজন আমাকে নুপুর গিফট করেছে। বেডের ওপর রাখা ছিলো। দেখো কেমন সুন্দর মানিয়েছে আমায়”
আবরার তাসনিন এর ঘুম ছুটে যায়। চোখ বন্ধ রেখেই বালিশের পাশে থাকা ফোন খানা হাতড়িয়ে খুঁজে নেয়। পরপর চোখ খুলে টাইম দেখে। নয়টা বেজে পাঁচ মিনিট। সাধারণত প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় উঠে পড়ে সে। দুই ঘন্টা জিম করে এবং আধঘন্টা হাঁটাহাঁটি করে। আজকে শরীরটা একটু খারাপ। পেইন কিলারের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ খাওয়ার ফলে টেরই পায় নি কখন সকাল হলো।
আবরারের কপালে ভাজ পড়ে। এসির রিমোট কাছাকাছিই ছিলো। ফোন রেখে রিমোট হাতে নিয়ে এসির পাওয়ার কমায়।
এতোক্ষণ উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলো এবার পাশ ফিরে শয়। কিছু মুহুর্ত আঁখি পল্লব বন্ধ করে সেভাবেই পড়ে রয়।
আজকে সুইজারল্যান্ড এর অসমানে মেঘ জমেছে। যখন তখন বৃষ্টি ঝড়বে।
সূর্য মামা ছুটি নিয়েছে৷ যার ফলে আবরার তাসনিন এর কক্ষে আলো প্রবেশ করে নি।
আবরার একবার জানালার পানে তাকায়। তারপর শরীরে ওপরে থাকা কম্বল সরায়। খাটের পাশেই মার্বেল ফ্লোরে এক জোড়া সাদা রংয়ের স্টেপ জুতো রাখা। বিছানা হতে নেমে জুতো জোড়া পায়ে গলিয়ে বেলকনিতে চলে যায়।
আড়মোড়া ভেঙে নিচে তাকাতেই দেখতে পায় আদ্রিতা শাড়ি পড়েছে। কালো রংয়ের পাতলা শাড়ির সঙ্গে ছোট হাতার ব্লাউজ। ফর্সা শরীরে বেশ মানিয়েছে।
এ্যানিকে নিয়ে বাগানে উপস্থিত হয়েছে। একবার অসমান পানে তাকাচ্ছে তো আরেকবার দুই হাত মেলে ঘুরছে। ঠোঁট নারিয়ে কিছু একটা বলছে যেটা আবরারের কান ওবদি পৌঁছাচ্ছে না।
আতিয়া বেগম বাগানে মরিচের বিচ লাগাচ্ছে। অহনা মাটি আলগা করে দিচ্ছে।
সেই মুহুর্তে সিয়ামও বাগানে আসে। আদ্রিতাকে শাড়িতে দেখে বলে

“এ বাবা তুমি সকাল সকাল সেজেছো কেনো?

আদ্রিতা মন খারাপ করে বলে
” বৃষ্টিতে ভিজবো বলে।

সিয়াম লজিক বুঝতে পারে না। বৃষ্টিতে ভেজার জন্য এতো সাজতে হয়?
আসলেই মেয়ে মানুষ একটা চিজজজ।
সিয়াম কফির মগে চুমুক দিয়ে বলে
“ভেজার জন্যও এতো সাজতে হয়?

” আপনি বোকা সিয়াম ভাইয়া।
বৃষ্টিরও তো একটা পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছে।
সেও তো চায় সুন্দরী মেয়েদের ছুঁয়ে দিতে।
পেত্নীর মতো হয়ে বৃষ্টির সামনে দাঁড়ালে বৃষ্টি রিজেক্ট করে দিবে না?

সিয়াম শুনলো তবে বুঝলো না। গরম কফির মগে চুমুক দিতে গিয়ে ঠোঁটে ছ্যাঁকা খেলো। তবে সেটা আদ্রিতাকে বুঝতে দিলো না। সে গভীর মনোযোগে ভাবছে “বৃষ্টির যদি পছন্দ অপছন্দ থাকে তাহলে নিশ্চয় চোখ কান নাক আর মুখও আছে?

ভাবতে ভাবতেই বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। আদ্রিতা লাফিয়ে ওঠে।
আতিয়া বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে
” বড় মা আমি ছাঁদে যাচ্ছি। আহহহা সেখানে ভিজতে বেশি ভালো লাগবে

কথা শেষ করেই দৌড় দেয়। নুপুরের ঝম ঝম শব্দ ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না।
আতিয়া বেগম এ্যানিকে কোলে তুলে দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।
সিয়াম বৃষ্টির ফোঁটার পানে তাকিয়ে আছে গভীর দৃষ্টিতে। মূলত চোখ কান খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অহনার বোধহয় সেটা সহ্য হলো না। সে সিয়ামের মাথায় চাটি মেরে বলে
“ভিজে যাচ্ছেন। জলদি ভেতরে আসুন।


আমান আহাদ ইভান বাসায় নেই। এই বৃষ্টি মুখোর দিনে খিচুড়ি খেয়ে দারুণ লাগে। আতিয়া বেগম সিদ্ধান্ত নিলো খিচুড়ি রান্না করবে।
সাথে গরুর মাংস। কিন্তু আমান আহাদ ইভান ওদের ছাড়া খাবে কিভাবে?
তাই সিয়ামকে দায়িত্ব দিলো ওদের কল করে ডাকার।।
আমান বড়ই খারাপ। সারাক্ষণ সিয়ামের পেছনে লাগে। মনের কথা বের করার জন্য খোঁচায়। ওর দূরে থাকাই ভালো। কিন্তু আতিয়া বেগম এর কথাও অমান্য করার সাহস তার নেই।
অগত্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও কল করে। আর বলদরা জানায় তারা এখুনি আসছে।

বৃষ্টির প্রলেব খুব বেশি নয় তবুও আদ্রিতার খুশি দেখার মতো।
সে একাধারে লাফিয়েই চলেছে। ইতিমধ্যেই শাড়ি ভিজে শরীরের সঙ্গে লেপ্টে গিয়েছে৷ হাঁটু সমান চুল গুলো ভিজে জবুথবু।
ছোট্ট এ্যানিও এসেছিলো আদ্রিতার সঙ্গে। সেও বেশ মজা পাচ্ছে।
আবরার তাসনিন ছাঁদের দরজায় দাঁড়িয়েছে। পরনে তার সাদা শার্ট।
ধৈর্য শীল পুরুষ সে নয়৷ তবুও আজকে তাকে বড্ড ধৈর্য্য শীল দেখালো।
দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে বুকে হাত গুঁজে গভীর দৃষ্টিতে আদ্রিতাকে দেখতে থাকে। মনে পড়ে যায় সেইদিন এবি রেস্টুরেন্ট এ বাজানো সেই গানটি।
সে মৃদু স্বরে গেয়ে ওঠে
” কি আবেশে মন তারে বারে বারে
দেখে তবু মেটে না তৃষ্ণা
সে যে পথ চলে বুকে ঝড় তোলে
জেগে ওঠে ঘুমোনো আশা”

এবার বৃষ্টির স্রোত বাড়তে থাকে। আদ্রিতারও বোধহয় ঠান্ডা লাগছে। কেমন কেঁপে কেঁপে উঠছে। এই যাত্রায় নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না আবরার।
ধীর গতিতে এগিয়ে যায়।
আদ্রিতার সামনে দাঁড়াতেও নজর পরে ওষ্ঠের পানে। মেয়েটা দুই ঠোঁট মেলে চমৎকার হেসে বলে
“আপনিও ভিজতে চান?

আবরার শুকনো ঢোক গিলে। মুহূর্তেই আদ্রিতার কোমর জড়িয়ে কাছে টেনে নেয়।
হাঙ্কি স্বরে বলে
” আমাকে পাগল বানাচ্ছো কেনে?
সহ্য করতে পারবে তো?

বুঝলো মা আদ্রিতা। তবে চমকিয়েছে বেশ।।
আবরার অপর হাত খানা দিয়ে আদ্রিতার মুখের ওপরে পরে থাকা চুল গুলো কানের পেছনে গুঁজে দেয়।
এখানেই ক্ষ্যান্ত থাকে না বৃদ্ধা আঙুল দ্বারা ছুঁড়ে দেয় ওষ্ঠদ্বয়।
হালকা গোলাপি রংয়ের লিপস্টিক লাগিয়েছে তারওপর বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির পানি।
অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে।

“তোমায় একটু ছুঁয়ে দেই পাখি?
একটুখানি
সহ্য করে নিও?

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply