Golpo ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ ডিফেন্স রিলেটেড

ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৭


ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ

লেখনীতে_সাদিয়া

পর্ব_৭

রাহার বুকটা ঢিপঢিপ করছে। মনটা খচখচ করছে ওই খাড়ুস লোকের সাথে যেতে। নাক মুখ কুঁচকে পা টিপে টিপে এক পা বাড়াচ্ছে কি বাড়ায় না। ভিহান সরু নয়নে রাহার পায়ের দিকে তাকিয়ে মোটা গলায় বলল,

“বউ সেজেছিস? জোরে হাটতে পারছিস না?”

রাহার বুঝি ভালো লাগলো না কথাটা। ঠোঁট উল্টে বলল, “সময় হলে ঠিকি বউ সাজবো। আপনার বলে দিতে হবে না।”

রাহার কথায় কপালে আরো সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল ভিহানের। কন্ঠ সরু হয়ে এলো তার।

“আমি না বললে এই দুনিয়ার কারো ক্ষমতা আছে তোকে বউ সাজাবে?”

ভিহান কোন দিক দিয়ে এই কথা বলেছে তা অবুঝ মেয়েটা বুঝলও না। এ কথা শুনামাত্র রাহার মুহূর্তে রাগ উঠে গেলো। ভিহান ভাই কি বলতে চাইছে, সে না বললে বউ সাজতে পারবে না? মগেরমুল্লুক? সবসময় এমন জোর খাটাবে আর সে মেনে নিবে ভেবেছে? কখনো না।

“এখন কি আপনি আমার বিয়েও হতে দিবেন না?”

“দেবো কি দেবো না সেটা সময় বলবে।”

“মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি ভিহান ভাই? আপনার সময় না হলে আপনি আমার বিয়ে হতে দিবেন না তাই তো?”

“আমার সময় হলেও তোর সময় হয়েছে কি না সেটা ডিসাইট করবো আমি।”

“কেন? আপনি কেন ডিসাইট করবেন?”

“তোর বিয়ে করতে হবে?”
কপাল কুঁচকে সন্দিহানি কন্ঠে প্রশ্ন করল ভিহান। সরল রাহার কথার জশে জবাব দিলো,

“তো করতে হবে না? সবাই করবে। আপনি বিয়ে করবেন জিদান ভাই করবে রুশমি আপু করবে। আমিও বিয়ে করবো। বউ সাজবো। লাল টুকটুকে বউ সাজা আমার খুব শখ।”

“বিয়ে করবি, বড় হয়েছিস?”

“তো হইনি? দামড়ি একটা মেয়েকে আপনার চোখে লাগে না? আপনি আমার দিকে তাকিয়ে কখনো দেখেন না? এই যে ভালো করে তাকিয়ে দেখেন আমি কত বড় হয়েছি ভিহান ভাই।”

ভিহানের খুব হাসি পেলো রাহার এহেন কথায়। সে উপরের দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরল। ঘাড় ফিরিয়ে নিয়ে নিজেকেই যেন নিজে বলল, “কে বলেছে তোর দিকে আমি তাকাই না? তুই সাক্ষাৎ আমার চোখে আগুন। যার তাপ আমার সত্তায় জ্বলন ধরায়। ওই আগুনে বেশিক্ষণ আমি তাকিয়ে থাকলে নিজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলি।”

“কি হলো ভিহান ভাই দেখছেন না কেন আপনি?”

রাহার কন্ঠে একটু অভিমান একটু রাগ। ভিহান চোখমুখ শক্ত করে রাহার দিকে এক পলক তাকালো। কপাল কুঁচকে কঠোর গলায় বলল,

“তোর দিকে তাকানোর রুচি নেই আমার।”

রাগে রাহা ফুতফুত করতে লাগল। ভিহান ভাই এর দিকে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে মুখ ভেংচালো। মনেমনে খাড়ুস গণ্ডার জাঁদরেল পঁচা মুলা যা পরল বলল। নিজের রাগটা ভেতরে না পুষে রেখে বলল,

“আপনার আসলেই চোখ নেই ভিহান ভাই। তাই আপনি আমাকে দেখতে পারেন না। আপনার চোখে আমি বড় না হলেও আমাকে সিনিয়র অনিক ভাইয়া ঠিকি পছন্দ করে। আমাকে মাঝেমাঝেই চিপস চকলেট কিনে দেয়। মিষ্টিমিষ্টি কথা বলে। সবসময় বলে রাহা তুমি দেখতে অনেক সুন্দর।”

রাহার কথা যেন বজ্রপাত হয়ে ভিহানের মাথার ওপর আছড়ে পড়ল। মুহূর্তে পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়ল যেন ভিহানের মাথায়। অবিশ্বাস্য চোখে সে রাহার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এই মাথামোটা মেয়েটা কি বলছে? ভিহানের শিরায় শিরায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে তা কি ওই মেয়ে বুঝতে পারছে? বুকের ভেতর উত্তপ্ত রক্ত টগবগ করে ফুটছে। মাথাটা তীব্র রাগে ফেটে যাচ্ছে। সীমাহীন ক্রোধে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, দাঁতে দাঁত চেপে ধরল সে। কবে থেকে এসব হলো? সে কিছু জানলো না কেন? সব কিছু কে তার তছনছ করে দিতে মন চাইছে এসবের কিছু টের পাচ্ছে ওই গাধাটা? শরীরের চামড়া জ্বলে যাচ্ছে তার। এই বলদের উপর এখন রাগ বাড়ছে। আর ওই জানোয়ারটাকে মন চাইছে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে ফেলতে।

অসীম রাগে কটমট করতে করতে উত্তপ্ত নয়নে তাকালো রাহার পানে। দাঁতে দাঁত পিঁষে চাঁপা বিক্ষোভ সুরে বলল,

“উঠে আয়।”

“না আগে বলুন আমার বিয়েতে আপনি কোনো বাঁধা দিবেন না। আমার বউ সাজা কত শখ। আপনি ওই বিষয়ে দয়া করে কোনো বাঁধা দিবেন না বলুন আগে। কোনো ঝামেলা গণ্ডগোল করে আমার বিয়ে আটকাবেন না বলুন সেটা।”

কটমট করতে করতে চিবিয়ে বলে উঠল ভিহান, “তোর বিয়ের সময় হলে আমি ভিহান আরভিদ এক দিনও অপেক্ষা করবো না কথা দিলাম তোকে।”

রাহা কে খুশি হতে দেখা গেলো। পাগল কি বুঝল কে জানে। ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটেছে গাঁধাটার। কিন্তু রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে ভিহানে। চিবিয়ে বলল আবারও,

“এবার কানের নিচে দুইটা খাওয়ার আগে দ্রুত উঠ।”

রাহাও খুশি মনে এগিয়ে এলো। বাইকে বসার আগে বলল, “মাঝ রাস্তায় সেবারের মতো কিন্তু আমায় নামিয়ে দিবেন না।”

ভিহান জবাব দিলো না। কিন্তু মনে পড়ে গেলো রাহার ১৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে মেয়েটা বায়না ধরেছিল তাকে বাইকে নিয়ে ঘুরতে। সে জীবনেও বাইকে উঠেনি। এবার সে ভিহান ভাই এর বাইকে উঠতে চায়। তার আবদার শুনে ভিহান সাফসাফ না জানিয়ে দিলেও নাছোড়বান্দা রাহা খেতে উঠতে বসতে ভিহানের কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান শুরু করে দিয়েছিল। সময়ে অসময়ে তার ঘরে গিয়ে বসে থেকে প্যানপ্যান করেছে। এমনকি ওয়াশরুম গেলেও দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে খুলিয়েও অনুনয় করেছিল বাইকে উঠানোর। তার যখন যা লাগতো তাই আগ বাড়িয়ে এনে দিতো কিন্তু গাঁধাটা কাজ করার বদলে সবসময় কিছুনা কিছু কাজ বাড়িয়েই দিতো। এক প্রকার অতিষ্ঠ করে ছেড়েছে। শেষমেশ নাক ফুলিয়ে পায়ে ধরে বসে ছিল বিধায় ভিহান রাজি হয়েছে।

বিকেল বেলায় যখন রাহা কে নিয়ে বের হলো। মেয়ের সে কি উচ্ছ্বাস। ওর হাসি বাতাসে চিৎকারে করে কথা বলা ওর উল্লাস বাইক চালানো ভিহান নীরবে হজম করছিলো। ঠোঁটে ক্রমে ক্রমে মেয়েটার আনন্দে, বাচ্চামো তে প্রসারিত হচ্ছিল। রাহা যখন মনের সবটা আনন্দ ঠেলে বারবার বলছিল,

“খুব ভালো লাগছে ভিহান ভাই। আমি আজ অনেক খুশি। খুব খুশি। এই যে পাখির মতো উড়তে পারছি আপনার জন্যে। অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনায়।”

নীরব রাস্তা। বাতাসে শো শো করে শব্দ হচ্ছে। পিছনে রাহা বসে দুই হাত মেলে দিয়েছে। সর্তক ভিহান লুকিং গ্লাসে বারবার দেখছে উচ্ছ্বাসিত রাহার আদুরে মুখখানা। ভেতর থেকে বারংবার প্রতিধ্বনি হয়ে আসছে, “তোর খুশি আমার জীবনের একমাত্র বিলাসিতা। এই খুশির জন্যে আমি ভিহান বুক পেতে সহস্র আঘাতও নিঃশব্দে মেনে নিতে রাজি।” ভিহান ঠোঁটে মুচকি হেসে রাহার আনন্দ নিজে উপভোগ করছিল। মেয়েটা যেন পুরো হাওয়াই মিঠাই। একটু বাতাসে একটু আনন্দে একটুখানি আদরেই গলে যায়।

কিন্তু বিপত্তি তো ঘটলো তখন যখন ভিহান বাইকের গতি বাড়িয়ে দিলো। ভিহানের সবসময় দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর স্বভাব। সে ভেবেছে রাহা যেহেতু এত খুশি হচ্ছে আনন্দ পাচ্ছে। নিশ্চয়ই মেয়েটা এটাও উপভোগ করবে। তাই গতি আস্তেধীরে বাড়িয়ে দিচ্ছিলো। কিন্তু এটাই যেন ভিহানের কাল হয়ে দাঁড়ালো। গতি বাড়ার সাথে সাথে রাহার চিৎকার বেড়ে গেলো। সেই সাথে বাড়লো তার ছোঁয়া। অবুঝ রাহা কেবল নিজেকে সুরক্ষায় রাখতে ভিহান ভাই এর সাথে আরো মিশে গেলো। ভিহান ভাই এর পিঠের সাথে একেবারে লেপ্টে রইল নরম কাঁদার মতো। ওদের মাঝে তখন সুই সুতো রাখারও দূরত্ব নেই।

রাহা একেবারে ভিহানের সাথে মিশে রইল। বাইকের গতি বাড়ার সাথে সাথে তার উল্লাস আর ছোঁয়াও সমান তালে তালে দ্বিগুণ হচ্ছিলো। ভিহানের বুকের শার্ট খামছে ধরছিলো রাহা।

এদিকে নিজের দেহে নরম তুলতুলে সত্তার অস্তিত্ব টের পেয়ে ভিহানের শরীরের রক্ত ছলাৎ করে উঠল। তপ্ত শোণিত ধারা শিরায় শিরায় প্রবল বেগে বইতে শুরু করল। বুকের ভেতরটা অজানা অনুভূতিতে উষ্ণ হয়ে যাচ্ছিলো। হৃদপিন্ডের বা পাশে রাহার ছোট্ট মোলায়েম হাতের ছোঁয়া ভিহান কে আরো অস্থির করছিল। ওর ধৈর্যের বাঁধ একটু একটু করে কমছিলো যেন। নিজেকে সামলে রাখা ধৈর্যের চরম সীমানায় উপনীত হয়েও তার নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছিলো। শেষে রাহা ধ্যানজ্ঞান হীন হারিয়ে যখন পিছন থেকে দুই হাত দিয়ে খামছে ভিহান কে জড়িয়ে ধরেছিলো তখন ছেলেটা আর এক দণ্ড সইতে পারলো না। আর না নিজেকে সামলে উঠতে পারলো শক্ত মনের মানুষটা। নিজের পৌরুষ সত্তার ছটফটানি তে দাঁতে দাঁত কেটে তীব্র বেগে ভিহান তৎক্ষণাৎ ব্রেক কষে নিলো। আচমকা গাড়ি থেমে যাওয়াতে রাহা একেবারে মিশে গেলো ভিহানের পিঠের সাথে। বুকের কাছের শার্টটা খামছে ধরে চিৎকারও করে উঠল।

ভিহান দাঁতে দাঁত চেঁপে চোখ বুজে নিয়ে পরপর কয়েকটা নিশ্বাস ফেলল। ঘাড় নুয়িয়ে দেখল নিজের বুকের কাছটা। যেখানে রাহা এখনো তাকে খামছে ধরে আছে। পিঠে অনুভব করল রাহা মাথা হেলিয়ে রেখে তাকে ঝাপটে আছে।

মুহূর্তে মেজাজের খেঁই হারিয়ে ফেলল। চোয়াল শক্ত করে পিষে কন্ঠে বলল ভিহান, “নেমে যা বাইক থেকে।”

রাহা আতঙ্কে লম্বা লম্বা নিশ্বাস ফেলে চমকে গেলো। মাথা তুলে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল শুধু। ঠিক তখনি ভিহান বজ্রকন্ঠে চেঁচিয়ে বলল,

“তোকে নামতে বলেছি তো আমার বাইক থেকে। এখুনি নাম।”

হঠাৎ এমন ক্ষিপ্ত কন্ঠস্বরে চমকে উঠল রাহা। ভয় পেলেও দ্রুত করে নেমে দাঁড়ালো। ভিহানও নামল। একপল রাহা কে দেখে কিছু দূর গিয়ে ঘন ঘন শ্বাস টানলো। যেন কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারছে না। স্মৃতি থেকে মুছতে পারছে না ওই বাজে অনুভূতির কথাটুক। রাগে কটমট করতে করতে রাস্তার পাশেই একটা গাছে পরপর দুটো পাঞ্চ করে বসল। সেটা দেখেই রাহা ভয়ে কেঁপে উঠল। ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলো তার অন্তরটা। ছোট্ট দেহটা কাঁপতে লাগলো।

ভিহান রাহার থেকে কিছুটা দূরে বেশ কিছুক্ষণ থেকে নিজেকে স্বাভাবিক করল। আবারও ঘাড় ঝুকিয়ে নিজের বুকের দিকে লক্ষ্য করলো। লাল তরলের আবির্ভাব ঘটেছে। মেয়েটা বোধহয় প্রাণপণে খামছে ধরে মাংস ছিঁড়ে ফেলেছে। মৃদু জ্বলুনিও অনুভব করলো। চামড়ার জ্বলুনি থেকে বুকের বা পাশের গহীনে যে জ্বলন ধরেছে তা ভিহানের কাছে ব্যাখাহীন। শেষে ফোঁস করে তপ্ত শ্বাস ঝেড়ে এগিয়ে এলো বাইকের কাছে। দুই হাত দূরে বোকা মেয়েটা ভীতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভিহান ভুলেও ওর দিকে তাকালো না। যেন এই শুনশান রাস্তায় সে একাই দাঁড়িয়ে আছে। রাহার কোনো অস্তিত্বই নেই এখানে। তা দেখে অভিমানি রাহার নাক ফুলে উঠে। ভিহান ভাই টা জানি কেমন। থাকবে থাকবে হঠাৎ কি যে হয় সে কিছুই বুঝতে পারে না। পরে শুধুশুধু অকারণে তাকে ধমকাবে বকবে। খুব পঁচা ভিহান ভাই। এই লোকটা তাকে যেন সহ্য করতে পারে না।

রাহাও চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। আড়চোখে দেখল ভিহান ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে চুপচাপ। গুমড়া মুখোটা এতো চুপচাপ থাকে কি করে সে বুঝতে পারে না। এই যে তার এখন চুপ থাকতে একটুও ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে।

চোখ তুলে তাকাতেই রাহার নজর গেলো ভিহান ভাই এর ফর্শা হাতটা লাল হয়ে আছে। ইশশশ নিশ্চয়ই তখন ওখানে গাছে অকারণে ঘুষি দিয়ে ছিলো বলে হয়তো। ব্যথাও পেয়েছে নিশ্চয়ই। গন্ডারটার শরীরে কি ব্যথা লাগছে না? রাহা মনেমনে ভাবে, “কেন রে ওই নিষ্পাপ গাছটা কি তোর চুল টেনে ধরেছিলো? সুড়সুড়ি দিচ্ছিলো? শুধুশুধু মারলি কেন? গাছের যদি প্রাণ থাকতো তবে তোর নাক বরাবর দুটোর বদলে চারটা ঘুষি ফেরত দিতো। জল্লাদ একটা, গণ্ডারের চামড়া।”

মুখ জুবিয়ে আর থাকতে পারলো না রাহা। পরিস্থিতি বুঝে মিনমিন গলায় ডাকল,

“ভিহান ভাই, বাড়ি যাবো আমি।”

ভিহান শুনল কিনা বলা গেলো না। না কোনো জবাব দিলো আর না তার দিকে তাকালো। রাহা ভাবল লোকটা শুনেনি। তাই এবার গলার আওয়াজ একটু বাড়িয়েই বলল,

“আমায় বাড়ি দিয়ে আসুন ভিহান ভাই। আমি বাড়ি যাবো।”

এবার তড়িৎ বেগে ভিহান রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো রাহার দিক। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “চুপ। কোনো কথা বলবি না। আই রিপিট এগেইন রাহা চুপ থাক। নয়তো এখানে তোকে একা ফেলেই আমি চলে যাবো।”

ভিহান ভাই এর রাগান্বিত লাল চোখ মুখ দেখে রাহা ভয় পেলো। এরপর আর সত্যিই কোনো কথা বলল না।

একটু পর একটা গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখা গেলো। গাড়িটা রাহার পরিচিত মনে হলো। সে কপাল কুঁচকে সেদিকেই তাকিয়ে রইল। আস্তেধীরে গাড়িটা এসে তাদের সামনেই দাঁড়ালো। জানলার কাঁচ সরাতেই জিদান ভাই কে দেখে রাহার চোখ বড় হলো।

জিদান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “কি হলো ভাইয়া এতো দ্রুত ডাকলে কেন? কি দরকার। আর বোনুই বা এখানে কেন? কোনো কি সমস্যা ভাইয়া?”

ভিহান জিদানের কথার কেনো জবাব দিলো না। কালো মেটারেলের হেলমেটটা মাথায় চরিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে চাবিটা বের করতে করতে বাইকে উঠে বসল। রাহার দিকে তাকিয়েই রুক্ষ স্বরে বলল,

“এটাকে বাড়ি নিয়ে যা।”

অতঃপর আর ডান বাম না তাকিয়ে কোনো কথা না বলে বাতাসের বেগে গাড়িটা শো করে ডান মেরে সোজা রাস্তায় চলে গেলো।

সেদিনের সেই কথা মনে হলেও ভিহান সে প্রসঙ্গ টানলো না। উল্টো গম্ভীর গলায় বলল,

“মেজাজ না চড়িয়ে উঠে পড়।”

রাহা মুখ মুচড়ে বাইকে উঠে বসল। সঙ্গেসঙ্গে জেন্টাল পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে এসে লাগতেই রাহা চোখ দুটি বন্ধ করে নিলো। তখনি ভিহান ভাই এর কর্কশ গলা শুনা গেলো,

“দূরত্ব বজায় রেখে বসবি।”

সঙ্গেসঙ্গে রাহা চোখ খুলে ফেলল। ভিহান ভাই এর দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “বয়েই গেছে আপনার সাথে ঘেঁষে বসার জন্যে।”

ভিহান বাইক স্টার্ট করার আগে রাহাকে প্রশ্ন করল, “মরার শখ জেগেছে।”

“বালাইষাট এতো তাড়াতাড়ি মরবো কেন? আমার তো এখনো বিয়ে হইনি ভিহান ভাই। বিয়ে হবে বাচ্চাকাচ্চা হবে তারপরে না মরার কথা।”

ভিহানও ঘাড় বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল, “যে নিজেই বাচ্চা তার আবার বাচ্চাকাচ্চা নেওয়ার শখ, স্টুপিড একটা।

পরক্ষণে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে বলল, “কাঁধে হাত রাখ।”

“কেন কেন আপনি না মাত্র বললেন দূরত্ব বজায় রেখে বসবি?”

“তোকে কৈফিয়ত দিবো আমি? দূরত্ব বজায় রেখে বোস কিন্তু কাঁধে হাতটা রাখ। তোর জন্যে আমি জেল হাজতে যেতে পারবো না।”

রাহা এদিক ওদিক মুখ মুচড়ায় ভিহান ভাই এর পিঠ পিছে। অথচ ভিহান লুকিং গ্লাসে ঠিকি দেখে রাহার হাবভাব। খুব হাসি পায় তার। ঠোঁটে ঠোঁট চেঁপে মৃদু হেসেও নেয়।

ধীর গতিতে ভিহান ভাই বাইক চালাচ্ছে। হাল্কা বাতাস, মিষ্টি রোদ আর ভিহান ভাই এর গা থেকে ভেসে আসা পারফিউমের সুভাস রাহার মত মাতিয়ে দিচ্ছে। অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে ভেতরে। আবার মনে মনে শঙ্কিতও হচ্ছে। তার ভালো লাগা তো আবার ভিহান ভাই এর সহ্য হয় না। কোনো না কোনো কারণে ভিহান ভাই তার ভালোলাগার বারোটা বাজিয়েই ছাড়ে সবসময়। জাঁদরেল টা কেন এইরকম করে তাও জানে না সে। সেই ভয়ই পাচ্ছে এখন। সেদিনের মতো আজও না আবার কিছু হয় তার সাথে।

চলমান….

কেউ আলসেমি না করে রেসপন্স করুন। তাহলে দ্রুতই পরের পর্ব দিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ। আর গল্প কেমন লাগছে দুই লাইনে লিখতে আপনাদের এত কষ্ট কেন হয় বলুন তো?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply