অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ২৪
🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫
শুভ্রের চোখের সামনে দুনিয়াটা যেন বনবন করে ঘুরছে। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো পৃথিবীটা বুঝি থমকে গেছে। সারা শরীরের হাড়গুলো যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। সে কি তবে সত্যিই রিদিকে হারিয়ে ফেলল? তার মায়াবীকে কি সে আর কোনোদিন ‘মনোমোহিনী’ বলে ডাকতে পারবে না? তীব্র এক অপরাধবোধ আর বুকফাটা হাহাকারে শুভ্র যখন জ্ঞান হারাবার উপক্রম করছে ঠিক তখনই এক আকাশ ফাটানো চিৎকার ড্রয়িংরুমের দেয়াল ভেদ করে তার কানে আছড়ে পড়ল।
“নেহহহহহহহহহহহহহহা!
নির্ভানের এই বুক চেরা আর্তনাদ শুনে শুভ্র চমকে উঠল। সে অমানুষিক কষ্টে নিজের ভারী হয়ে আসা চোখের পাতা মেলে সামনে তাকাল। ঝাপসা দৃষ্টি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করল। আর যা দেখল তাতে তার মৃতপ্রায় শরীরে মুহূর্তেই যেন সহস্র প্রাণের সঞ্চার হলো।
রিদি একদম সুস্থ অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। তার গায়ে এক বিন্দু আঁচড় লাগেনি। সেও ঘোরের মধ্যে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্রর কপাল আর গালে লেপ্টে থাকা গরম রক্তগুলো তবে কার? রিদি যদি ঠিক থাকে তবে এই রক্তের বন্যা কোত্থেকে এল?
ভাবতে ভাবতেই শুভ্রর দৃষ্টি মেঝেতে নামল। সেখানে সাদা মার্বেলের ওপর লুটিয়ে আছে নেহা। ছুরিটা রিদির গলায় নয় বরং নেহার নিজের পেটের গভীরে আমূল গেঁথে আছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে ফ্লোরটাকে রক্তগঙ্গায় পরিণত করেছে। নেহার সেই প্রতিহিংসায় জ্বলে ওঠা চোখ দুটো এখন নিথর আর প্রাণহীন। সে কি শেষ মুহূর্তে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিল? নাকি শুভ্র আর রিদির এই মিলন সহ্য করতে না পেরে নিজেই নিজেকে শেষ করে দিল?
শুভ্র অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠল।
“নেহা!”
পুরো ড্রয়িংরুম যেন এক নিমিষেই শ্মশানের মতো নিস্তব্ধ হয়ে গেল। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট এমনকি চতুর ঈশানও পাথরের মূর্তির মতো থমকে দাঁড়িয়ে আছে। যে মেয়েটা কয়েক মুহূর্ত আগে ভালোবাসার নেশায় অন্ধ হয়ে খুনি সাজতে চেয়েছিল, সেই নেহা কীভাবে শেষ মুহূর্তে নিজের জিঘাংসা বিসর্জন দিয়ে ছুরিটা রিদির বদলে নিজের পেটে আমূল বসিয়ে দিল, তা কারো মাথায় খেলছে না। তপ্ত রক্তে সাদা মার্বেল ফ্লোরটা তখন লালে লাল হয়ে গেছে।
নির্ভান পাগলের মতো ছটফট করছে। লোহার হাতকড়াটা কবজিতে দেবে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই। সে গগনবিদারী চিৎকার করে উঠল।
“নেহহহহা! বোন আমার, এইটা তুই কী করলি? আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাকে ছাড়! আমাকে আমার বোনের কাছে যেতে দে!”
শুভ্র আর রিদি দুজনেই স্তম্ভিত। তারা একে অপরের দিকে তাকাল, তারপর তাকাল নিথরপ্রায় নেহার দিকে। নেহার দুচোখ তখনো খোলা, কিন্তু সেই দুর্ধর্ষ চাউনি আর নেই। তার চোখের কোণা দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অনুশোচনা আর অব্যক্ত যন্ত্রণার জল। সে অনেক কষ্টে ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে শুভ্রর দিকে তাকাল। তার কণ্ঠস্বর তখন মরণাপন্ন মানুষের মতো ক্ষীণ।
“শু-শুভ্র… আমার ভাইটাকে একটু ছাড়তে বলো। আর কেউ না জানুক, আমি তো জানি আমার ভাইয়া আমাকে কতটা ভালোবাসে। ও যতোই খারাপ হোক, শেষ মুহূর্তে একটু ওকে আমার কাছে আসতে দাও।”
নেহার এই অন্তিম আকুতি শুনে শুভ্রর মতো কঠিন মানুষের হৃদয়েও যেন কেউ সজোরে আঘাত করল। সে ম্যাজিস্ট্রেট আর পুলিশের দিকে একবার কাতর দৃষ্টিতে তাকাল। শুভ্রর চোখের ইশারায় পুলিশ অফিসাররা অনিচ্ছা সত্ত্বেও নির্ভানের হাতকড়াটা খুলে দিল।
বাধনমুক্ত হতেই নির্ভান জানোয়ারের মতো আর্তনাদ করে আছড়ে পড়ল নেহার রক্তমাখা দেহের ওপর। নেহার নিথর শরীরটাকে নিজের কোলে তুলে নিল। তার হাত কাঁপছে, চোখ উন্মাদের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে নেহার মুখে সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না সামনে যা দেখছে তা সত্যি। বুক ফেটে চিৎকার করে উঠল সে।
“কি করলি তুই, নেহা! পাগল হয়ে গেছিস নাকি? চল এখনই তোকে হাসপাতালে নিয়ে যাবো। তোর কিছু হবে না কিছুই হবে না।”
কথাগুলো বলতে বলতেই সে নেহাকে কোলে তোলার চেষ্টা করল। কিন্তু নেহা শেষ শক্তিটুকু জড়ো করে নির্ভানের হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। তার ঠোঁট কাঁপছে, নিঃশ্বাস ভেঙে ভেঙে আসছে তবুও সে থামল না।
“ভা -ভাইয়া তুমি তো সবসময় আমার খুশিটাই চেয়েছিলে চেয়েছিলে তোমার বোনটা হাসুক ভালো থাকুক তাই না?”
এক ফোঁটা রক্ত ঠোঁটের কোণে জমে উঠল, তবুও কষ্টে হালকা হাসল সে।
“তাহলে আমাকে খুশি থাকতে দাও ভাইয়া আমি আর বাঁচতে চাই না আমার ভেতরটা এত ক্লান্ত এত ভাঙা যে আর বাঁচার মতো শক্তি নেই।”
তার চোখের কোণে জমে থাকা জল গড়িয়ে পড়ল কানের পাশে।
“জানি না আমি যে পাপ করেছি আল্লাহ আমাকে মাফ করবে কিনা পরপারে গিয়ে কী শাস্তি পাবো কিছুই জানি না শুধু একটা জিনিস চাই যদি পারি নিঃশব্দে কাউকে ভুলে থাকতে সেখানেই শান্তি খুঁজে নেবো।”
নির্ভানের হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল।
“ভাইয়া আমি রিদিকে মারতে পারলাম না পারিনি কারণ যতোই হোক রিদি শুভ্রের ভালোবাসা আর শুভ্র সে তো আমার ভালোবাসা।”
একটু থামল যেন প্রতিটা শব্দ বলার আগে বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
“আমার ভালোবাসা মিথ্যা না ভাইয়া কখনোই না তাহলে আমি কীভাবে আমার ভালোবাসার মানুষের সুখ কেড়ে নিই?এটা কি ভালোবাসা হতো?”
তার কণ্ঠ ভেঙে গেল চোখ ধীরে ধীরে বুজে আসছে।
“আমি না হয় পরপারে গিয়েই তাকে চাইবো এই দুনিয়ায় সে না হয় রিদিকে নিয়েই বাঁচুক অন্তত দূর থেকে তার মুখের হাসিটা তো দেখতে পাবো এইটাই আমার জন্য অনেক।”
নেহার কথাগুলো নির্ভানের বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দিল, যেন কেউ তার হৃদয় চেপে ধরেছে। সে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই নেহা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“ভাইয়া শুভ্র আর রিদিকে আমার কাছে আসতে বলো প্লিজ।”
শুভ্র সব কথা দূর থেকে শুনছিল। তার ভেতরে তখন কী চলছে, সে নিজেও বুঝতে পারছিল না। পায়ের নিচে মাটি যেন সরে যাচ্ছে, তবুও সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো নেহার দিকে। চোখে অস্থিরতা আর কষ্ট জমে আছে। সে ভারী গলায় বলল।
“এসব পাগলামির কোনো মানে হয় না নেহা ভালোবাসা পবিত্র কিন্তু এই পাগলামিটা পবিত্রতা নষ্ট করে দিচ্ছে”
তারপর শুভ্র এক মুহূর্ত থেমে নির্ভানের দিকে তাকাল। কণ্ঠে চাপা তাড়াহুড়া আর ভাঙা ভয় মিশে বলল।
“চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছিস কেন আমি এম্বুলেন্স ডাকছি তাড়াতাড়ি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যা”
ঈশান আর পুলিশরা দ্রুত এম্বুলেন্সে খবর দিল, চারপাশে তখন দৌড়াদৌড়ি আর চিৎকারে ভারী হয়ে উঠলেও নেহার চোখ ছিল শুধু শুভ্রের দিকে, হঠাৎ করেই সে কাঁপা কাঁপা হাতে শুভ্রের এক পা শক্ত করে ধরে ফেলল, ঝাপসা চোখে তার দিকে তাকিয়ে ভাঙা কণ্ঠে বলল।
“ভালোবাসা তো পবিত্র, কিন্তু যদি একটু শান্তি পাওয়ার জন্য আমাকে অপবিত্রতাকেই বেছে নিতে হয় তাহলে আমি রাজি শুভ্র, বিশ্বাস করো আমার ভালোবাসা কখনো মিথ্যা ছিল না হয়তো একতরফা ছিল কিন্তু মন প্রাণ দিয়ে শুধু তোমাকেই চেয়েছি শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছি, এই ভালোবাসার পাগলামিটা এতটাই গভীরে চলে গিয়েছিল যে আমি না বুঝে তোমার সাথে আর রিদির সাথেও খারাপ ব্যবহার করেছি যেগুলোর কোনো ক্ষমা নেই কোনো যুক্তি নেই, কি করবো বলো ভালোবাসা তো কখনো বলে আসে না কারও প্রতি হঠাৎ করেই হয়ে যায় আমারও ঠিক তোমার প্রতি হয়ে গিয়েছিল, তোমাকে ভুলতে চেয়েও পারিনি,আর ভুলবোই কিভাবে #ভালোবাসারমতোভালোবাসলে তারে কি
ভুলা যায়। জানো তুমি এমন একজন হয়ে আমার জীবনে এসেছো যাকে ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের প্রতি আর কোনো অনুভূতিই কাজ করে না ভালোও লাগে না কাউকে, তোমাকে দেখলেই ভিতরটা শান্ত হয়ে যেত অদ্ভুত এক ভালো লাগা কাজ করত আমি জানি না এই অনুভূতির নাম কী আর জানতেও চাই না, কারণ ভালোবাসা সবার জীবনে সুখ নিয়ে আসে না এটা কাউকে ভেঙে দিতে পারে আবার কাউকে নিঃশব্দে শেষও করে দিতে পারে, কিন্তু আমার ভাগ্য আমাকে শুধু ভাঙার গল্পই লিখে রেখেছিল, আমি আর কোনো অভিযোগ করবো না কেন তুমি আমাকে ভালোবাসোনি এই প্রশ্নও আর নেই, শুধু শেষবারের মতো একটা কথা আমাকে মাফ করে দিও যদি তোমরা না করো আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করেন, আমি মন থেকে দোয়া করি তুমি অনেক সুখে থাকো ভালো থাকো তোমার স্ত্রীকে নিয়ে।”
শুভ্র নির্বাক, নিথর পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, কিন্তু মুখ ফুটে একটা শব্দও বেরোচ্ছে না। নেহা মরণাপন্ন চোখে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে তৃষ্ণার্ত গলায় ফিসফিস করে বলল।
“রিদিকে… একটু ডাক দিবে?”
শুভ্রর ঝাপসা দৃষ্টি রিদির ওপর পড়ল। রিদি এক মুহূর্ত দেরি না করে নেহার সামনে এসে হাঁটু গেঁড়ে বসল। নেহা রিদির অশ্রুসিক্ত, ভয়ার্ত চোখের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে ম্লান, করুণ হাসি হাসল। তার কন্ঠস্বর ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
“আমি জানি… তোমার সাথে অনেক… অনেক খারাপ আচরণ করেছি। জানি না এই অভাগীকে মাফ করবে কি না… তবুও… ভুল করলে তো মাফ চাইতে হয়, তাই না? তাই আমিও চাইছি… আমাকে মাফ করে দিও রিদি, প্লিজ মাফ করে দিও।”
রিদি নেহার একটা রক্তাক্ত, হিম হয়ে আসা হাত নিজের দুহাতে আঁকড়ে ধরল। ডুকরে কেঁদে উঠে সে ধরা গলায় বলল।
“না না আপু! আমি কিচ্ছু মনে করিনি, কিচ্ছু না! আমি আজ বুঝতে পারছি তুমি শুভ্র ভাইকে কতটা ভালোবাসো। নেহা আপু, তোমার কিচ্ছু হবে না, তুমি তুমি ঠিক হয়ে যাবে। দেখবে তুমি আবার হাসবে।”
নেহা এবার মরণলগ্নের এক অদ্ভুত শান্ত হাসি হাসল। তার চোখের মণিগুলো ক্রমে ঘোলাটে হয়ে আসছে, যেন দূর অজানার ডাক শুনতে পাচ্ছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাঙা গলায় বলল।
“আমি আর চাই না ঠিক হতে, রিদি… জানো, তোমাকে দেখে আজ আমার বড্ড হিংসে হচ্ছে। কেন যে আমি রিদি হয়ে জন্ম নিলাম না? কেন বিধাতা আমাকে রিদি বানালেন না? তাহলে… তাহলে হয়তো এই শুভ্র নামক পুরুষটাকে আমি পেতাম। বলতেই হচ্ছে… তুমি খুব ভাগ্যবতী এক নারী। যাকে ভালোবেসেছ, সেও তোমাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছে। এর থেকে সুন্দর অনুভূতি পৃথিবীতে আর হয় না। আমি… আমি মন থেকে দোয়া করি তোমাদের এই বাঁধন যেন চিরজীবন অটুট থাকে। কোনো অশুভ শক্তি যেন তোমাদের আলাদা করতে না পারে। যদি কখনো ভাগ্য হয়… তবে আকাশের তারা হয়ে তোমাদের দেখব আর দূর থেকে হাসব।”
নেহা এবার ক্লান্ত, অপরাধবোধে ভরা দৃষ্টিতে নির্ভানের দিকে তাকাল। নির্ভান তখন বাচ্চার মতো ডুকরে কাঁদছে। নেহা অনেক কষ্টে তার হাতটা নির্ভানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
“ভাইয়া… আমার একটা শেষ কথা রাখবে?”
নির্ভান নেহার হিম হয়ে আসা হাতে পাগলের মতো চুমু খেয়ে আর্তনাদ করে উঠল।
“বল! একটা কথা কেন? আমি তোর হাজারটা কথা রাখব! তুই শুধু আমাদের ছেড়ে যাস না বোন, প্লিজ যাস না!”
নেহা নির্ভানের হাতটা শেষবারের মতো শক্ত করে ধরল। তার ঠোঁট যন্ত্রণায় কাঁপছে, প্রতিটা শব্দ বের করতে বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
“তুমি… তুমি যা ভুল করেছ, আইন তোমাকে যা শাস্তি দিবে… তুমি সেই শাস্তি মাথা পেতে নিবে ভাইয়া। যদি আইন কোনোদিন তোমাকে মুক্তি দেয়… তবে কথা দাও, এসব খারাপ কাজ আর কখনো করবে না। ভালো হয়ে চলবে… আর আব্বু-আম্মুকে বলবে, এই অভাগী মেয়েটাকে যেন মাফ করে দেয়। তারা যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়।”
কথাগুলো বলতে বলতে নেহা হঠাৎ যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগল। তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। নির্ভান নেহার দুগাল আগলে ধরে চিৎকার করতে লাগল।
“নেহা! বোন আমার! এমন করছিস কেন? কিচ্ছু হবে না তোর! আমি তোর সব কথা রাখব, সব! আমি আর এসব খারাপ কাজ করব না, আমি ভালো হয়ে যাব! তুই শুধু চোখ মেল!”
শুভ্রের বুকের ভিতর টা অজান্তেই একটু কেঁপে ওঠল,নেহাকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিতে হবে। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে নেহাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে নেহার শরীরটা নিস্তেজ হয়ে এল, তার চেহারায় নেমে এল এক স্বর্গীয় শান্তি। সে তার শেষ নিশ্বাসটুকু ত্যাগ করার আগে শুভ্রর বুকে মুখ গুঁজে পরম তৃপ্তিতে চোখ বুজল। তার ফিসফিসানি কণ্ঠস্বর শুভ্রর কানে শেষবারের মতো প্রতিধ্বনিত হলো, যেন এক চিরন্তন ভালোবাসার কাব্য।
“মৃত্যুকে আমি আজ সম্মান করছি শুভ্র… কারণ শেষ নিশ্বাসটা অন্তত তোমার বুকে মাথা রেখে ত্যাগ করতে পারছি। আমার মতো অভাগীর ভাগ্যে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এর চেয়ে পবিত্র মুহূর্ত আর কী হতে পারে? আমি খুব শান্তি পাচ্ছি শুভ্র, বিশ্বাস করো… আচ্ছা শুভ্র, বিধাতা যদি এই বুকের অধিকারটা আমায় দিতেন… তবে তাঁর কী এমন কমতি হতো? বিধাতার ভাণ্ডার কি শূন্য হয়ে যেত? তবুও… তবুও আমার কোনো অভিযোগ নেই। শেষবার… শুধু একটি বার বলব… শুভ্র, তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি। পারলে আমায় মাফ করে দিও… আর তোমার বুকে মাথা রাখার ধৃষ্টতা করেছি বলে অনেক বকা দিও আমায়। তবুও প্লিজ… প্লিজ রাগ করে থেকো না। ভালো থেকো… অনেক সুখে থেকো।”
কথাগুলো শেষ হতে না হতেই নেহার চোখজোড়া চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। তার হাত দুটো নিথর হয়ে ঝুলে পড়ল শুভ্রর কোল থেকে। তার নাকে আর কোনো স্পন্দন নেই, বুকে আর কোনো হাহাকার নেই। চারপাশের সব কোলাহল ছাপিয়ে যেন এক বীভৎস, স্তব্ধ নিস্তব্ধতা নেমে এল। নেহা নিজের সবটুকু ভালোবাসা, সবটুকু অভিমান আর না পাওয়ার বেদনা নিয়ে পাড়ি জমাল না ফেরার দেশে।
রানিং..!
মাফ চেয়ে নিচ্ছি গল্পটা আমি লিখতে পারছি না, অজান্তেই আমার হাত কেঁপে ওঠছে না চাইতেও আমি লেখিকা কেন জানি কেঁদে ফেললাম। তাই আর লিখতে পারলাম না, কালকে দুই পর্ব দিবো গল্পটা কালকে থেকে নতুন মুডে নিবে…!🙂
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৬
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ৩