সাদিয়াসুলতানামনি [হালকার উপর ঝাপসা রোমান্টিক 🤭]
~তাজওয়াদকে কিডন্যাপের দিন~
—”তো মিসেস জাওয়াদ শেখ যা বলছিলাম আরকি…. যদি আপনি আপনার থুক্কু আমাদের একমাত্র সন্তান তাজওয়াদ শেখ আদরকে ফিরে পেতে চান, তাহলে আজ রাত নয়টায় হোটেল হোয়াইট প্যালেসে চলে আসবেন।
আর হ্যাঁ, এখন রাস্তায় বসে কান্নাকাটি না করে বাসায় গিয়ে সুন্দর একটা শাওয়ার দিয়ে আমার পাঠানো ড্রেস গুলো পরে আস্তে-ধীরে চলে আসুন তো অবাধ্য বউপাখি। তাহলে রাখছি, হ্যাঁ? আল্লাহ হাফেজ সুইটহার্ট। “
পূর্ণতাকে কিছু বলতে না দিয়ে জাওয়াদ কলটা কেটে দেয়। কল কেটে যাওয়ার পরও পূর্ণতা ফোনটা কানের সাথে চেপে ধরে থাকে কিছুক্ষণ। তার যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, জাওয়াদ তাজওয়াদকে কিডন্যাপ করেছে। কিন্তু সে তার পি.এ. হুমায়ূনের কাছে আজ সকালে টনির কল পাওয়ার পর কল করে জানতে পারে, জাওয়াদ নাকি ঢাকার বাহিরে গিয়েছে। তাহলে ছেলেটা কি তাকে মিথ্যে বললো? হ্যাঁ, তাই হবে হয়ত।
পূর্ণতা ফুটপাত থেকে উঠে দাঁড়ায়। তারপর ক্লান্ত পায়ে নিজের গাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা লাগায়। শত্রুপক্ষ কখনো আপনার দূর্বলতা ঘুনাক্ষরেও টের পেয়ে যায়, তাহলে বুঝে নিবেন আপনার জীবন জাহান্নাম হতে বেশি দেরি নেই আর।
জাওয়াদ থেকে শুরু করে আঞ্জুমান সবাই বুঝে গিয়েছে, পূর্ণতার দূর্বলতা তার ছেলে। তাই তো, তারা কথায় কথায় তসর ছেলেকে টার্গেট করে। পূর্ণতার কানাডা যাওয়ার মূল কারণ ছিলো, আঞ্জুমানের হুমকি। হ্যাঁ, আঞ্জুমান এখনও তাদের পেছন ছাড়েনি। সেই জাওয়াদের গুলি লাগার পরের দিন একটা ট্রাক পূর্ণতার গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করাতে চেয়েছিল, সেটাও আঞ্জুমানরাই করিয়েছে।
প্রতি দুইদিন অন্তর, পূর্ণতার নিকট বিভিন্ন বেনামি চিঠি আসে। যেগুলো মূলত আঞ্জুমানের পক্ষ থেকেই আসে আরকি। আঞ্জুমান কড়া হুশিয়ারি দিয়ে চিঠিতে বলেছে, সে যদি জাওয়াদকে না ছাড়ে বা জাওয়াদকে তার এসব হুমকি সম্পর্কে জানায় তাহলে এবার সে তার ছেলেকে শেষ করবে।
পূর্ণতার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছেলে, তাই সেই ছেলের ক্ষতির কথা শুনে পূর্ণতার মাতৃমন ভয়ে নেতিয়ে পড়ে আর সিদ্ধান্ত নেয় পুনরায় কানাডা চলে যাওয়ার। কিন্তু জাওয়াদ সেই খবর পেয়ে গিয়েছে এখন৷ এখন আর তাদের কানাডা ব্যাক করা হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
রাত নয়টায় হোটেল হোয়াইট প্যালেসের সামনে পূর্ণতার গাড়ি এসে থামে। আজ গাড়ি পূর্ণতা নিজেই ড্রাইভ করে এসেছে। শাড়ি সামলে গাড়ি থেকে বের হয়ে এসে চাবি টা সিকিউরিটি গার্ডের কাছে দিয়ে নিজে চলে যায় হোটেলের ভেতরে। দুধে-আলতা গায়ে কালো শাড়ি পূর্ণতার সৌন্দর্যকে কয়েকশ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পূর্ণতা তার পূর্বের এটিটিউড নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করে। আশপাশে অন্য যেসব গেস্টরা ছিল তারা সহ পুরুষ স্টাফরা পূর্ণতার রূপের এমন তেজ দেখে থমকে যায়। দু’জন স্টাফ বিপরীত পাশ দিয়ে হেঁটে আসছিল, তখন তাদের নজর পূর্ণতার উপর পরতে তারা হুঁশ হারিয়ে ফেলে। ফলস্বরূপ দু’জনেরই মুখোমুখি টক্কর লাগে আর তারা পড়ে যায়।
পূর্ণতা সেসবে ধ্যান না দিয়ে স্ট্রেট হেঁটে রিসেপশনে চলে যায় এবং রিসেপশনিস্টকে জাওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। পূর্ণতা বিজনেস নিজের হাতে আবারও নেওয়ার পর তার নাম যশ আগের থেকেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে সকলের চিনতে বাকি থাকে না বর্তমান সময়ের সবচাইতে রিচ এন্ড ইয়াংগেস্ট বিজনেস ওমেনকে।
রিসেপশনিস্ট পূর্ণতাকে জাওয়াদের রুম নাম্বার বলতেই পূর্ণতা হাঁটা দেয় সেই উদ্দেশ্যে, তখনই তার সামনে এসে উপস্থিত হয় হোটেলটির ম্যানেজার সাইফুল আলম। মি.আলম বিনয়ের সাথে বলে–
—”আসসালামু আলাইকুম ম্যাম। আমি সাইফুল আলম, এই হোটেলের ম্যানেজার।”
—”ওয়া আলাইকুমুস সালাম, মি.আলম।”
—”ম্যাম আপনি আমার সাথে আসুন, মি.শেখ আমায় স্পেশাল ভাবে বলেছে আমি যাতে আপনাকে তার রুম পর্যন্ত পৌঁছে দেই।”
পূর্ণতা তার কথায় অসম্মতি জানিয়ে বলে–
—”তার কোন প্রয়োজন পড়বে না মি.আলম। আমি যেতে পারব একা একাই।”
মি.আলম গলাটায় আরেকটু নমনীয়তা ও বিনয় নিয়ে বলে–
—”প্লিজ ম্যাম মানা করবেন না। স্যারের অর্ডার না মানলে সে ভীষণ রেগে যান। আমাকে আমার অর্ডার পালনে আপনি একটু সাহায্য করুন প্লিজ।”
পূর্ণতা বুঝতে পারে জাওয়াদের বেশ ভালোই প্রভাব প্রতিপত্তি হয়েছে। নাহলে এমন একটা হাইফাই হোটেলের ম্যানেজার নাকি তার অর্ডার পালনে দৌড়ছুট করে। আসলে পূর্ণতা তো আর জানে না, তার স্বামী বর্তমানে তাকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর এই হোটেলের মালিক।
পূর্ণতা আর অমত করে না। মি.আলমকে সম্মতি জানাতেই মি.আলম আগে আগে গিয়ে তাকে পথ দেখাতে থাকে আর পূর্ণতা তার পেছন পেছন যেতে থাকে। তেরো তম তলায় এসে পূর্ণতাদের লিফট থামতেই তারা নেমে আসে। এই পর্যায়ে মি.আলম আর সামনে এগোয় না, জাওয়াদ তাকে এই পর্যন্তই আসার অনুমতি দিয়েছে। এর বেশি এক কদমও গেলে কাল থেকে তার নতুন চাকরি খুঁজতে হবে।
পূর্ণতা ২১৩ নাম্বার রুমের সামনে এসে কি-কার্ড লক খুলে যায় আর পূর্ণতা ভেতরে প্রবেশ করে। রুমের ভেতরে প্রবেশ করেই পূর্ণতার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। কেনো? কারণ রুমটা এমন চমৎকার ভাবে সাজানো হয়েছে যে পূর্ণতার মনে হচ্ছে সে এক ভিন্ন দুনিয়ায় চলে এসেছে।
ক্যান্ডেলস ও ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট থিমে সাজানো রুমটা দেখে তার পাঁচ বছর আগের কথা মনে পড়ে যায়। ব্ল্যাক বরাবরের মতোই পূর্ণতার পছন্দের। তাই তো পূর্ণতা সেই কালা মানিককে পছন্দ করেছিল জীবনসঙ্গী হিসেবে। জাওয়াদের গায়ের রং-ও তার প্রতি পূর্ণতার দূর্বলতার আরেকটি কারণ।
পূর্ণতা উত্তরে গেলে জাওয়াদ দক্ষিণে যাবে এটা সকলেরই জানা কথা। জাওয়াদের আবার হোয়াইট পছন্দের বরাবরই। তাই পূর্ণতা তাদের বেডরুমে টাকে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট কালার কম্বিনেশনে সাজিয়েছিল। সবচাইতে বেশি অবাক হয় পূর্ণতা তখন, যখন সে খেয়াল করে রুম টার মাঝ বরাবর রাখা বেডের ঠিক উপরের সিলিংয়ে আয়না লাগানো।
এই আয়না লাগানোর বিষয়ও তাকে আগের কিছু কথা মনে করিয়ে দেয়। না চাইতেও পূর্ণতাকে আজ বার-বার সে কষ্টদায়ক অতীতের কথা মনে পরে যাচ্ছে। তার আঁখি জোড়া জলে ভরে যাচ্ছে সেসব দিনের কথা মনে করে। কতটা ব্যাকুল, অস্থির ছিল সে কৃষ্ণবর্ণের জাওয়াদের জন্য।
পূর্ণতার মন তাকে প্রশ্ন করে ওঠে– কেন জাওয়াদ তাকে ভালোবাসল না? কেন আঞ্জুমানকে এতটা বিশ্বাস করলো যে, নিজের স্ত্রীকে রাতের আঁধারে বাসা থেকে বের করে দিতে দ্বিতীয় বার ভাবে নও? কেন তাকে একটু বিশ্বাস করল না? ধর্মীয় ও আইনী ভাবে বৈধ হওয়া স্ত্রী কাছে যাওয়ায় কেন পূর্ণতাকে তার স্বামীর কাছে চরিত্রহীন, খারাপ ক্যারেক্টারের মেয়ে এসব শুনতে হলো? কেনো তার বাবা তাকে একা করে দিয়ে চলে গেলো? কেনো, কেনো, কেনো…….. এতগুলো কেনোর কোনটিরও উত্তর পূর্ণতার কাছে নেই।
টপটপ করে গড়িয়ে পড়া চোখের পানিতে পূর্ণতার গাল, গলা, বুকের কাছের শাড়ির কিছু অংশ ভিজে একাকার হয়ে যায়। পূর্ণতা নিজেই তার চোখের পানি মুছে নেয়। এখানে সে তার দুঃখ, কষ্ট বা হাহাকার দেখাতে আসেনি জাওয়াদকে। সে তার ছেলেকে ফেরত নিতে এসেছে।
পূর্ণতা ভেবে রেখেছে, আজকে তাজকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার পর সব বিক্রি করে আবারও কানাডায় চলে যাবে। সেখানে নতুন করে সবটা শুরু করবে। বাংলাদেশে থাকলে সে বা তাজ কেউই জাওয়াদের সংস্পর্শে না এসে থাকতে পারবে না। জাওয়াদই তাদের বাধ্য করবে কাজটা করতে। কিন্তু পূর্ণতা চায় না দ্বিতীয় বারের মতো কারো মায়া, ভালোবাসায় জড়াতে। একবার ভালোবেসে তার শিক্ষা হয়ে গিয়েছে। এক জীবনে সে দিব্যি ছেলেকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবে।
হঠাৎই পূর্ণতা অনুভব করে একটা শক্তপোক্ত হাত তার কোমড়ের পাশ দিয়ে ঘেঁষে এসে তার উন্মুক্ত উদরে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। অন্য আরেকটি হাত তার ঘাড়ের কাছের চুলগুলো সরিয়ে নাক দিয়ে ঘষছে। ভীষণ আদুরে আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ স্পর্শ গুলো। পূর্ণতা এহেন স্পর্শ কিছুটা কেঁপে ওঠে সরে যেতে চায়, কিন্তু ব্যক্তিটি তা করতে দেয় না।
পুরুষটি পূর্ণতার উদরে হালকা চাপ প্রয়োগ করে তাকে নিজের বক্ষের সাথে মিশিয়ে নেয়। পূর্ণতা ছটফটিয়ে সরে যেতে চায়, কিন্তু জাওয়াদ তাকে ছাড়ে না। বরং পূর্ণতাকে ঘায়েল করতে কোমড় বেঁধে লেগে যায়। পূর্ণতার ফর্সা, কোমল ত্বকে একের পর এক ভালোবাসার স্পর্শ দিতো ব্যস্ত হয়ে পড়ে। জাওয়াদ যতই তাকে নিজের মাঝে ডুবিয়ে নিতে চায়, পূর্ণতা ততই ছটফট করতে থাকে তার থেকে ছাড়া পেতে।
পূর্ণতা রুক্ষ গলায় বলে–
—”জাওয়াদ, ছাড়ুন। এসব করতে আমায় ডেকেছেন না? দিনকে দিন এত অধঃপতন হয়েছে আপনার চরিত্রের? আমার ছেলে কই? তাজ…..”
পূর্ণতার সকল বলতি থেমে যায় জাওয়াদের একটা স্পর্শেই। জাওয়াদ পূর্ণতার কানের লতি কামড়ে ধরে, মৃদু ব্যথায় পূর্ণতা চোখজোড়া খিচে বন্ধ করে নিয়ে একহাত দিয়ে তার পেটের উপর থাকা জাওয়াদের হাতটা খামচে ধরে নিজের অজান্তেই। জাওয়াদ তার খামচি খেয়েও হেঁসে দেয়, তারপর কানের লতি থেকে দাঁত সরিয়ে সেই জায়গাটা উষ্ণ স্পর্শে ভরিয়ে দিতে থাকে।
অনুভূতির অসহ্য পীড়ায় পূর্ণতা হুঁশ হারিয়ে ফেলতে থাকে ক্রমেই। জাওয়াদ বাধ্য করে তাকে নিজের মাঝে ডুবে যেতে। কখনো ছোট্ট একটা কামড়, কখনো বা গভীর একটা ভালোবাসার স্পর্শে পূর্ণতার অভিমানের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে তারই অজানায়।
জাওয়াদ একটু থামে, নিজেকে কন্ট্রোল করতে। এই থামাটা জরুরি হয়ে পড়েছে তার জন্য। পূর্ণতাকে গভীর ভাবে আপন করে নেওয়ার জন্য এই কয়েক মিনিটের বিরতিটা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। জাওয়াদ পুনরায় তার মুখটা পূর্ণতার কানের কাছে নিয়ে যায়, তারপর ফিসফিসিয়ে বলে–
—”পুরাই পা/রমা/ণবিক বো/ম লাগছে তোমাকে। আমার ভালোবাসার মিসাইল কখন বি/স্ফো/রণ ঘটিয়ে তোমাকে ছাড়খার করে দেয় বলা মুশকিল জান।”
জাওয়াদের এমন অদ্ভুত কমপ্লিমেন্ট শুনে পূর্ণতা থমকে যায়। এতদিন জেনে এসেছে, কাউকে সুন্দর লাগলে তাঁকে বিউটিফুল, নাইস এসব বলতে হয়। কিন্তু আজ সে কমপ্লিমেন্ট হিসেবে শুনল, তাকে নাকি পারমানবিক বোম লাগছে। হায় রে কপাল! এই শ্যামসুন্দর পুরুষের বদৌলতে তাকে আরো কতকিছু যে দেখার ও শোনার বাকি আছে সেটা উপরওয়ালাই জানেন।
পূর্ণতা নিজেও একটু সময় নেয় নিজেকে স্বাভাবিক করতে। তারপর হঠাৎই একটা ঝটকা দিয়ে জাওয়াদের থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে কিছুটা দূরে সরে যায়। রাগ দমিয়ে রেখে হাসি মুখ করে বলে–
—”মায়ের আদর্শবান ছেলে আজ এই চরিত্রহীন মেয়ের আগেপিছে ঘুরছে কেনো? আপনার আম্মা জানেন তো, তার ছেলে আরেক মায়ের কোল খালি করার পাঁয়তারা করছে? তার বাঁচার শেষ অবলম্বনটুকুও কেড়ে নিতে চাইছে মিসেস শেখের গুণধর ছেলে। তাকে তার বাচ্চার সাথে দেখা করিয়ে দিবে বলে, আশ্বাস দিয়ে ডেকে এনে এখন তাকে দিয়ে দেহের ক্ষুধা মিটাতে চাইছে।
জানেন তো আপনার আম্মা এসব? জানার তো কথা, কারণ আপনি তো তার এতই বাধ্যগত সন্তান যে, তার পারমিশন ছাড়া বউয়ের সাথে রাত কাটানোর কথাও মাথায় আনেন না। তা উনি জানার পরও, এসব করার পারমিশন দিলো আপনাকে? অবাক করার মতো বিষয় তো!”
পূর্ণতার একেকটা কথা জাওয়াদের বুক এফোড় ওফোড় করে দিচ্ছে। তার ভালোবাসাকে পূর্ণতা দেহের ক্ষুধা বলে অভিহিত করছে,। আজ জাওয়াদ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, ভালোবাসা নামক পবিত্র অনুভূতিকে অন্য নামে অভিহিত করা কতটা জঘন্য কাজ। যে কাজটা জাওয়াদই একসময় করেছে।
জাওয়াদ শান্ত গলায় নির্লজ্জের মতো বলে–
—”বউয়ের আগেপিছে ঘোরা স্বামীদের কবুলগত অধিকার। আর কেউ তোমার কোল খালি করার পাঁয়তারা করেনি, বরং তোমাকে একটা ভরাট সংসার দেওয়ার চেষ্টায় সকলে উঠেপড়ে লেগেছে।
জাওয়াদ শেখ মিথ্যে আশ্বাস দেয় না কাউকে, এত রাতে ছেলের কাছে গিয়ে কি করবে হ্যা? ছেলে তার দাদীর হাতে খাবার খেয়ে, ফুপির কোলে আরামের ঘুম দিচ্ছে। তুমি এখন আমার বুকে এসে নিজের আরাম আদায় করো।”
কথাটা শেষ করেই জাওয়াদ কেমন একটা ভিলেন টাইপ হাসি দেয় আর নিজের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে পূর্ণতার দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু পূর্ণতার একটা কথার বাণ তাকে আবারও থামিয়ে দেয়, আহত করে তার হৃদয়কে বাজে ভাবে।
পূর্ণতা কেমন একটা করে বলে–
—”আমার ছেলেকে আপনার মা খাইয়ে দিয়েছেন? কি খাইয়েছে? ওয়েট এ মিনিট, খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়নি তো?”
—”পূর্ণতাআআআ……”
জাওয়াদ পূর্ণতার গায়ে হাত তুলতে গিয়েও নিজেকে দমিয়ে দেয়। সাহস হয়ে ওঠে না পাঁচ বছর আগে করা সেই ভুলটা আবারও করতে। বুকটা কেঁপে ওঠে তার আগেই। কিন্তু জাওয়াদের রাগ এক বিন্দুও কমে না। সে পূর্ণতার দুই বাহু খামচে ধরে রাগে ফসফস করতে করতে বলে–
—”আমার মা তার নাতিকে বিষ খাওয়াবে? এতটা নিকৃষ্ট মনে করো তাকে তুমি?”
পূর্ণতাকে নিজেকে জাওয়াদের হাত থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে–
—”যে মা নিজের বিবাহিত ছেলেকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে তাকে অচেতন করে, তারই ঘরে নিজের অবিবাহিত ভাতিজিকে পাঠাতে পারে ছেলের চরিত্র কলুষিত করার জন্য, সেই মা যা কিছু করতে পারে। যেই মায়ের কাছে নিজের ছেলেই সুরক্ষিত না, তার কাছে আমার ছেলে সুরক্ষিত আছে, এটা ভেবে আমি নিশ্চিত থাকি কি করে?”
পূর্ণতার এমন যৌক্তিক কথায় জাওয়াদের রাগ কিছুটা হলেও পড়ে যায়। সেখানে এসে জমা হয় একরাশ কষ্ট, মায়া আর আফসোস। ভুল তো কিছু বলেনি মেয়েটা। তার মায়ের ঐ জঘন্য কাজটার জন্য আজ পাঁচটা বছর ধরে সে আর পূর্ণতা নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে। কাঁদতে কাঁদতে তাদের দিন শুরু হয় আর কান্নার মাধ্যমেই তার সমাপ্তি হয়।
জাওয়াদ পূর্ণতাকে নিজের বুকের সাথে আকস্মিক জড়িয়ে ধরে।পূর্ণতা থতমত খেয়ে সরে যেতে নিলে জাওয়াদ ছাড়ে না, বরং তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রেখেই পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে কল লাগায়। ফোনটা রিসিভ হয় কিছুক্ষণের মাঝেই। ভিডিওকল থাকায় পূর্ণতা ফোনের অপর পাশের ব্যক্তিটিকে সহজেই দেখতে পারে। জিনিয়াকে কল করেছে জাওয়াদ।
জিনিয়া ভ্রুজোড়া কুঁচকে তাকিয়ে জাওয়াদকে বলে–
—”কি ব্যাপার ভাইয়া? এত রাতে কল দিলে তার উপর ক্যামেরা অফ করে রেখেছো।
জাওয়াদ গুরুগম্ভীর গলায় বলে–
—”তাজ তোর কাছে ঘুমিয়েছে না? ওকে দেখা তো।”
জাওয়াদের এমন গম্ভীর গলার আদেশ শুনে জিনিয়া কথা বাড়ায় না, চুপচাপ ফোনের ক্যামেরা তাজের দিকে করে। ছোট জানটা নিশ্চিন্তে ফুপির পেট জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। পূর্ণতা তাজওয়াদকে দেখে একটু শান্ত হয়। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে পূর্ণতা বর্তমানে নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করতে ভয় পায়।
[পর্বটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
শব্দসংখ্যা~২০০০
চলবে?
[রিচ হয় ৫০/৬০ হাজারের বেশি অথচ ২কে রিয়াক্ট উঠাতে আপনাদের নাভিশ্বাস অবস্থা হয়ে যায়। 😅💔
পারলে একটু রেসপন্স করিয়েন সবাই। তাহলে গল্প দেওয়ার উৎসাহ পাই। ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🖤]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫২.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫১.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৮.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৫.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৬.১
-
শেষ পাতায় সূচনা গল্পের লিংক