#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৫৮(বাসর শুরুর পথে)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
নিস্তব্ধতা! আবদ্ধতায় ঘেরা চারপাশে। সম্পূর্ণ রুমে তিতলি একা। না আর বসে থাকতে পারছেনা। হাতের ঘড়িতে নজর দিলো। নয়টা বাজে। এতক্ষণ বসে থাকা যায়? ফারাজ আলভীর সাথে কোথাও একটা বেরিয়েছে। তার পরপরই শাওন আর শিফা জোরপূর্বক ভাবে তাদের রুম থেকে বের করে দিয়েছে তাকে। কেন বের করে দেওয়া হলো? কি করছে ওরা তাদের রুমে? ভেবেই কোল পাচ্ছেনা। এখন সে শিফাদের রুমে। বাইর থেকো দরজা লক করা। তিতলির হঠাৎ ভীষণ মন খারাপ হলো। তার জন্মদিন। অথচ কোনো আয়োজন নেই। প্রতি বছর এই দিনটায় তার মা-বাবা ভাই,বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে তার জন্মদিন পালন করা হয়। গিফট দিয়ে তার রুম ভরতি হয়ে যায়। মা তার পছন্দের সব খাবার রান্না করে। বাবা-মা জায়নামাজে নফল নামায আদায় করে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে। ভাই ঘুরতে নিয়ে যায়। কিন্তু এ বছরে সেসব কোনটাই হচ্ছে না। আজকের দিনটা মা-বাবা সবার মনে আছে কী? সবাইকে ভীষণ মনে পড়ছে। সব মিলিয়ে তিতলি অধৈর্য হয়ে পড়েছে। মোবাইল হাতে নিয়ে ফারাজের নাম্বারে কল করল। রিং হয়েই কেটে গেল। কেন রিসিভ করলো না? এত ব্যস্ততা। সুমদ্রে ঘুরাঘুরি করার সময় তো জানিয়েই দিয়েছিল তার জন্মদিন সেটা ভুলে গেল নাকি? অভিমানে তিতলির গাল দুটো ফুলে উঠেছে। চোখের কোণে পানি জমেছে। কান্না করে দিবে ভাব। বিড়বিড় করে বললো,
“ভুলে যাবেই তো ওনার যে বউ বলে একটা মানুষ আছে সেটাই তো ওনার মনে থাকেনা। সেখানে বউয়ের জন্মদিন মনে রাখা তো বিলাসিতা।”
অবশ্যই ফারাজ যাওয়ার সময় বলেছে কোনো দরকার পড়লে কল করতে। সে দ্রুত ফিরবে। কিন্তু কই? সে কল করলো অথচ ওই ভাল্লুক তো তার ফোন রিসিভ করেনি। কি আর করার। নাক মুখ ফুলিয়ে বসেবসে বিকেলের হয়ে যাওয়া ঘটনাটা ভাবতে বসলো। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করার পর একটু শুয়েছিল। তিতলি তখন ফারাজের কাছে একটা আবদার করল। বললো,
“আমি আবার বউ সাজতে চাই।”
তিতলির মুখে আবার বউ সাজার কথা শুনে ফারাজের মুখে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। স্বাভাবিক। এবং সাথেসাথেই জবাব দিয়েছিল,
“একজন মানুষ কয়বার বউ সাজে?”
“যতবার মন চাই ততবার সাজে। তাছাড়া আপনার সাথে যখন আমার বিয়ে হয়েছে আমি আমার বউ সাজা মুখটা পর্যন্ত দেখতে পারিনি। অখচ এই বউ সাজার জন্যই আমি বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতাম। এখন সে স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। দায়িত্ব আপনার।”
“তো? মুখ দেখো নি কেন? আমি কি নিষেধ করেছিলাম?”
“আমি কি জানতাম নাকি যে আমার বিয়ে আপনার সাথেই হচ্ছে। তাহলে তো….”
ফারাজ তিতলিকে থামিয়ে দিলো। যেন তিতলির এমুহূর্তে বলা কথাটা একদম পছন্দ হলো না তার। কেন না জেনেশুনে বিয়ের মতো এমন একটা সিদ্ধান্তে রাজী হলো? তাকে না ভালোবাসে? ভালোবাসা এত সহজ! যখনই পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক করলো নাচতে নাচতে রাজী হয়ে গেলো? যদিও সে তখন তিতলিকে পাত্তা দিতো না। স্টুডেন্ট ব্যতিত তেমন চোখেও দেখেনি। ধমকের উপরে রেখেছে। পরে যখনই শুনলো বিয়েটা এই বেয়াদব মেয়ের সাথেই হচ্ছে তখন কোনো এক কারণে রাজি হয়েছে। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল শাস্তি দেওয়া। কিন্তু সময়ের পরির্বতনে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টা বদলেছে। এখন আসল কথা হচ্ছে না দেখে না জেনে বিয়ে করায় তার জায়গায় অন্য কেউও তো থাকতে পারতো। এমন কিছু ভাবলেই মস্তিষ্কে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠেছে গম্ভীর মুখো রুঢ় মানবের। ফারাজ বললো,
“না জেনেশুনে কাকে না কাকে বিয়ে করতে রাজী হয়ে গেলে? যদি আমার জায়গায় কোনো বুড়ো থাকতো?”
তিতলি ঠোঁট উল্টে ফারাজের দিকে তাকায়। সেও মুখ ভেংচি কেটে বললো,
“তো এখন কি আমার জোয়ান লোকের সাথে বিয়ে হয়েছে? সেই বুড়ো লোকের সাথেই বিয়ে হয়েছে আমার হুহ!”
“শাটআপ!”
তিতলি ভাবনা ভাঙল দরজায় কাড়াগাতের শব্দে। ভাবনা ভাঙলেও ঘটনা এখনো শেষ হয়নি। তখন বুড়ো বলায় ফারাজ রেগেমেগে অস্থির। আবার কাড়াগাতের শব্দ। এবার ভাবনাচিন্তা বাদ দিয়ে তিতলি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। ভেবেছিল আজ বোধহয় তাকে এই রুমের ভেতর বন্দি হয়ে থাকতে হবে সারারাত। তিতলি দরজা খুলে দিতেই হুড়মুড়িয়ে রুমের ভেতরে ঢুকল শিফা। তিতলি সঙ্গেসঙ্গে বললো,
“তুমি এসেছো আপু এবার আমি তাহলে যায়।”
“তুমি যাবে মানে? এবার তাড়াতাড়ি লক্ষি মেয়ের মতো ফ্রেশ হয়ে আসো দেখি।”
শিফার বলা কথাটা তিতলি ঠিক বুঝতে পারল না। সে কেন ফ্রেশ হবে? খেয়াল করলো শিফার হাতে বেশ কয়েকটা শপিং ব্যাগ। শিফা তিতলির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে হাতের শপিং ব্যাগ গুলো একে একে বিছানায় রাখছে। তিতলি এতগুলো শপিং ব্যাগ দেখে ভাবছে, হঠাৎ এতগুলো শপিং ব্যাগে কি রাখা আছে এগুলোতে? হয়তো শাওন ভাইয়া বিশেষ কিছু এনেছে। ব্যাগের উপর দিয়েই সবকিছু ঝিলমিল করছে। শাড়ি, গয়না এমন হবে। বাহ কত ভালোবাসা ওদের মধ্যে। অন্যের ভালোবাসা দেখতেও ভালোলাগে।
তিতলি খুশি মনে জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া তোমার জন্য শপিং করেছে বুঝি আপু।”
“হুম ঠিক ধরেছো।”
তিতলি মুগ্ধ হয়ে বললো, “শাওন ভাইয়া তোমাকে খুব ভালোবাসে তাইনা আপু?”
তিতলির কথা শুনে হুট করে শব্দ করে হাসতে লাগলো শিফা। তিতলি হঠাৎ হাসির কারণ বুঝতে পারল না। বোকার মতো তাকিয়ে আছে। শিফা এগিয়ে এসে তিতলির গাল টেনে ধরল। একটা মেয়ের গাল এতটা তুলতুলে নরম কি করে হয়? কই সেও তো মেয়ে তার গাল তো এত তুলতুলে নরম নয়। মেয়েটার গালদুটো এতটাই নরম যেমন মনে হয় একটু শক্ত করে ধরলেই দাগ বসে যাবে। কি আদুরে। শিফা বললো,
“হ্যাঁ আমাকে শাওন ভালোবাসে, কিন্তু তোমার স্যার থেকে হয়ে যাওয়া সোয়ামি তোমাকে ভালোবাসে না বুঝি?”
তিতলির উজ্জ্বল মুখশ্রী বড্ড অন্ধকার দেখাচ্ছে। কই? ফারাজ তো কখনো ভালোবাসি বলেনি তাকে। কতবার শুনতে চেয়েছে সে। প্রত্যেকবার কোনো না কোনো ভাবে তাকে এড়িয়ে গিয়েছে। তার মানে তো বোঝায় ভালোবাসে না।
তিতলি দুঃখিত গলায় বলল,
” না। আমাকে কখনো ভালোবাসি বলেন নি।”
তিতলির অন্ধকার মুখশ্রী দেখে শিফার মায়া হলো। মেয়েটা আসলেই একটা বাচ্চা। ভালোবাসা বুঝেনা।
সে তিতলিকে বুঝাতে বললো,
“ভালোবাসি সবসময় মুখে বলতে হয়না। আমাদের বুঝে নিতে হবে বুঝলে? বুঝে নেওয়ার ব্যাপারটা সবচেয়ে দারুন।”
তিতলি শিফার কথা শুনে মনে মনে ভাবছে,
“আমি কিভাবে বুঝবো যে ওনি আমাকে ভালোবাসেন কিনা। ওনি তো গিরগিটির থেকেও দ্রুত রঙ বদলায, এখন ভালো ব্যবহার তো কিছুক্ষণ পর আকাশ ফাটিয়ে ধমক দেয়।”
তিতলি অবুঝ ভঙ্গিতে শিফাকে বললো,”কিভাবে বুঝবো? ওনিতো সবসময় আমাকে ধমকের উপর রাখেন।”
শিফা ভীষণ বুঝদার মেয়ে। তিতলিকে বুঝানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করল। একনাগাড়ে বলতে লাগলো,
“তুমি ভুল করলে ধমক দিবে এটা স্বাভাবিক।
একজন মানুষ যখন তোমাকে ভালোবাসবে তোমার ভুল ধরবে, শাসন করবে, যত্ন করবে, খেয়াল রাখবে, কেয়ার করবে। অধিকার দেখাবে। এমনকি তোমার জন্য সব করবে। তাছাড়া সব পুরুষ মুখে ভালোবাসি বলতে পছন্দ করেনা। ফারাজ ভাইয়াও হয়তো তেমন ধাচের। ভালোবাসি ভালোবাসি বলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেনা। কিন্তু মনেমনে ঠিক ভালোবাসে।”
“শিফা তুমি এখনো সাজতে শুরু করো নি?”
বাইর থেকে শাওনের কন্ঠ। শিফা আর তিতলির কথার এখানেই সমাপ্তি ঘটল। শিফা তিতলিকে জোরপূর্বক ওয়াশরুমে পাঠিয়েছে ফ্রেশ হতে। কিন্তু তিতলি কিছুই বুঝতে পারছেনা। হঠাৎ কি হচ্ছে তার সাথে সব তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় এখনো শিফার বলা কথাগুলো ঘুরছে। তাহলে ফারাজ তাকে ভালোবাসে কি? তাকে এখন থেকে সেটা বুঝতে হবে। এর ভেতরে বাইর থেকে শিফা বলছে, দ্রুত বের হও। তিতলি বেশ সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হলো।
তিতলিকে সাজানোর জন্য বসানো হয়েছে। তিতলি এত কথা বলছে কেন সাজানো হচ্ছে তাকে। শিফা শপিং ব্যাগ থেকে শাড়ি বের করল। একটা চোখ ধাঁধানো নীল চকচকে শাড়ি। তিতলি চোখ ফেরাতে পারছেনা শাড়িটার থেকে। শিফা তিতলিকে শাড়ি পরানো শুরু করেছে। তিতলি বললো,
“কিন্তু এগুলো তো শাওন ভাইয়া তোমার জন্য এনেছে। আমাকে পরাচ্ছ কেন?”
তিতলির এত এত প্রশ্ন শুনে শিফা বলছে,
“এটা তোমার। আমারটাও আছে।”
“এতরাতে শাড়ি পরে কি হবে আপু?”
“ছাঁদে পার্টি হবে। আমিও তো সাজব তার আগে তোমাকে সাজিয়ে দিচ্ছি।”
তিতলি বাধ্য হয়ে পুতুলের ন্যায় বসে থাকল। ফারাজ কোথায়? শাড়ি পরায় আবার তার উপর রাগ দেখাবে না তো? ফারাজ তো তাকে একবারও বলেনি পার্টির কথা। তার জন্মদিন বাদ দিয়ে এখন পার্টি? বাহ। সে ভেবেছিল ফারাজ তার জন্মদিনের বিষয়টা মনে রাখবে। এত সাজুগুজু মাঝেও তিতলি খুশি হতে পারছেনা।
তিতলিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুতুলের মতো সাজানো হচ্ছে। মুখের সাজ হতে চুল বাধা সব কমপ্লিট। সাজাতে সাজাতে শিফা বলছে,
“আমি পার্লারে কাজ করি সেটা হয়তো তুমি জানো না তিতলি। জীবনে কতকত বউ সাজিয়েছি হিসেব নেই।”
তিতলি অবাক হয়ে বলল,
“সত্যি?”
“হুম। কিন্তু বিয়ের পর শাওনের এক কথায় পার্লারের কাজ ছেড়ে দিয়েছি।’
★
ঘড়ির কাঁটা দশটা পঁয়তাল্লিশ। টানা দেড়ঘন্টা সময় লেগেছে তিতলিকে সাজাতে। সব কিছু কমপ্লিট। আপাতত তিতলি এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। তিতলি আয়নায় নিজেকে দেখে বড়সড় ঝটকা খেল। তাকে তো বউ সাজানো হয়েছে। বিষয়টা কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে তিতলির কাছে। পুরো নীল অপ্সরী লাগছে দেখতে। ঘুরে ফিরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখল। শিফা পেছন থেকে বললো,
“মাশাআল্লাহ ভীষণ সুন্দর লাগছে তোমায়। আমি যদি ছেলে হতাম তোমার প্রেমে পড়ে যেতাম জানো? তোমার কেমন লাগছে তিতলি?”
তিতলি পেছনে ফিরল লজুক মুখশ্রী নিয়ে। ফারাজ যখন তাকে এমন সাজে দেখবে তখন কেমন রিয়াক্শন দেখাবে? তিতলি আজ প্রথম নিজের বউ সাঁজে মুখ দেখছে আয়নায়। বিয়ের সময় মুখটা দেখার ইচ্ছেই মরে গিয়েছিল। যদিও পরে ভিডিও, ছবিতে দেখেছে তাতে হবে? নিজে নিজে আয়নায় দাঁড়িযে রং ডং করতে পারেনি। কোথায় যেন একটা শূণ্যতা রয়েই গিয়েছিল। বিয়ের আগে ভাবতো ইশশ কখন বউ সাজব। কিন্তু বিয়েটা হঠাৎ কার সাথে না কার সাথে হয়ে যাচ্ছিল তিতলি বউ সাজার মুখটা দেখা তে দূরের বিষয় কাঁদতে কাঁদতে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তিতলি বললো,
“সুন্দর। কিন্তু আমাকে বউ কেন সাজিয়েছো আপু? তুমি তো বললে পার্টি হবে পার্টিতে কেউ এভাবে সাজে?”
“আমিও সাজব এভাবে তাই তোমাকে সাজিয়ে দিলাম। চুপচাপ লক্ষি মেয়ের মতো বসে থাকো এখন। আমরা একসাথে বের হবো।”
শিফা তিতলিকে বিছানায় বসতে বলে নিজেও সাজতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। তিতলি মোবাইলে নিজের ছবি তুলছে ডং করে। ছবি তুলে কি মনে করে একটা হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে ফারাজের আইডিতে সেন্ড করে দিলো। তারপর মাকে ভিডিও কল করল। রিসিভ হলো। তিতলি ভিডিও কলের সামনে গেল না। কিন্তু বললো,
“কেমন আছো আম্মু।”
আলেয়া শেখ :-“আলহামদুলিল্লাহ্ আমরা সবাই ভালো আছি। তুই কেমন আছিম মা?”
তিতলি বললো,”ভালো আম্মু।”
আলেয়া শেখ ওপাশ থেকে বললেন,
“ভিডিও কলের সামনে আয়।”
তিতলি সামনে আসলো। আলেয়া শেখ মেয়েকে এত সাজগোজ করে বউ সাজা দেখে মুখটা হা করে ফেললেন। পরপর মুগ্ধ গলায় বললেন,
“মাশাআল্লাহ! বউ সাজিয়ে দিলো কে? জামাই কোথায়?’
তিতলি জামাই কোথায় কথাটা এড়িয়ে মুখ ফুলিয়ে বললো,
“আজকে আমার জন্মদিন সেটা তোমরা সবাই ভুলে গেছো তাইনা আম্মু।”
আলেয়া শেখ -“তোর জন্মদিন সেটা আমরা ভুলবো কি করে পাগলী মেয়ে। তোর পছন্দের সব খাবার বাড়িতে রান্না করেছি আজ। তোর আব্বু তোর জন্য গিফট নিয়ে এসেছে। কিন্তু তুই নেই। তুকে ছাড়া পুরো বাড়িটা খালি খালি হয়ে আছে জানিস।”
তিতলির চোখে পানি জমেছে। মা বাবা ছাড়া কেউ তার জন্মদিনের কথা ভাবেনা। মনে রাখেনা। এমনকি ফারাজও না। আহারে বিয়ের পর মেয়েদের জীবন আর আগের মতো থাকেনা কথাটা সত্যি তার সাথে মিলে গেল। তিতলি কান্না চেপে রেখে বললো,
“আব্বু কোথায়? ফোন ঢুকছেনা কেন? আব্বুকে দাও।”
আলেয়া শেখ -“তোর আব্বু তো বাথরুমে গেছে। মোবাইল সাইলেন্ট করা মনে হয়।”
তৌসিফ শেখ বাথরুম থেকে বেরোতে বেরোতে বললেন,
“আমি বাথরুম থেকে চলে এসেছি। আমার আম্মুজান কল করেছে নাকি দেখি আমাকে দাও আলেয়া।”
তিতলি আম্মুর সাথে কথা বলা শেষে আব্বুর সাথেও বলল। ভাইয়ের সাথেও বলল। নিধির সাথে বলল। তারপর আবার হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকল। ফারাজ তার ছবিটা সিন করেছে। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কেন? ওকে না দেখাক প্রতিক্রিয়া। কিছুক্ষণ পর যখন ছাঁদে যাবে তখন তো তাকে দেখবে। তখন তিতলি একদম কথা বলবেনা। ফিরেও তাকাবেনা। রাতে একসঙ্গে এক বিছানায় শুবে না একদম। প্রয়োজনে মেঝেতে শুবে তারপরও না। দেখে নিবে একদম হুহু!
★
রাতের দ্বিপ্রহর চলমান। আকাশ কালো মেঘেদের আনাগোনা। মিটিমিটি জ্বলতে থাকা শুকতারা আলতো করে মেঘের আড়ালে ঢাকা পরেছে। চাঁদেরও একই অবস্থা, পেঁজা তুলোর মতো মেঘের আড়ালে ধীরেলয়ে হারিয়ে যাচ্ছে দূর সীমানায়। আবহাওয়া ঠান্ডা। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাতাস ছেড়েছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামার সম্ভবনা রয়েছে। ছাঁদের একপাশে আলাদাভাবে পর্দার মতো টাঙানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে রঙ বেরঙ ফুল দিয়ে। ফেইরি লাইট জ্বলছে। সবকিছু সাজানো গুছানো। সব মিলিয়ে আজকে ছাঁদের দৃশ্য অন্যরকম সৌন্দর্যে মুখরিত।
তিতলি কুঁচি ধরে হাঁটছে। শাড়ি সামলাতে বড্ড হিমশিম খাচ্ছে। কখন না জানি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। ব্যাকুল নয়নে চারিপাশে তাকাচ্ছে। সবাই হাঁটাহাঁটি করছে। হাসাহাসি করছে। আনন্দে মেতে উঠেছে। কিন্তু তার ব্যকুল চোখদুটো যাকে খুঁজছে তার দেখা পাচ্ছেনা। ফারাজ নেই। তিতলি চাই ফারাজ তাকে নয়ন জুড়িয়ে দেখুক। কিন্তু সে পাত্তা দিবেনা। এড়িয়ে যাবে। ডং করবে। কিন্তু ফারাজকে দেখলেই তো! পর্দার আড়ালে আলভীদের তর্কবিতর্কের শব্দ আসছে। তিতলি শিফাকে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। সরাসরি ফারাজের কথা জিজ্ঞেস করতে লজ্জা, লজ্জা লাগছে। কি ভাববে। তাই বললো,
“ওপাশে পর্দা টাঙানো সেখানে যাই আমরা? আলভী ভাইয়ারা সবাই ওখানে আছেন নিশ্চয়ই।”
শিফা মোবাইলে সময় দেখল। এগারোটা চল্লিশ। তিতলিকে নিয়ে আরো কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে হবে। যেভাবেই হোক। শিফা তিতলিকে বললো,
“দাঁড়াও তোমার কয়টা ছবি তুলে দিচ্ছি। খুব সুন্দর আসবে।”
তিতলি রাজী হয়ে গেল। বললো,
“আচ্ছা তুলে দাও তাহলে।”
তিতলি ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে বেশ কয়েকটা ছবি তুলল। সুন্দর এসেছে ছবি গুলো। তিতলি তুলা শেষে শিফাও তুলল।
★
তিতলিকে পর্দার ভেতরে আনা হয়েছে। না কেউ নিয়ে আসেনি। সে ফারাজের খুঁজে এসেছে। কিন্তু পর্দার ভেতরে পা দেওয়ার আগেই হঠাৎ সম্পূর্ণ ছাঁদ গুটগুটে অন্ধকারে পরিনিত হয়েছে। তিতলি কিছুই বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও তো লাইট জ্বলছিল। আলোকিত ছিলো। তাহলে হঠাৎ অন্ধকার হয়ে গেল। কেন? কারেন্ট চলে গেল নাকি? ছাঁদে তো সবাই ছিলো। এখন তারা সবাই কোথায়? সে সম্পূর্ণ ছাঁদে একা। অন্ধকার। কেউ নেই। ভাবতেই ভয়ে গায়ের লোমকূপ কাঁটা দিয়ে উঠছে। অন্ধকারে কিছুই দেখছেনা। কোনদিকে যাবে। হাতের সাহায্য আন্দাজ করে ত্রস্ত এক’পা দু’পা করে পর্দার ভেতরে এগোলো। মনেমনে ভাবছে, ফারাজ কি তাকে খুঁজতে আসবে না?
তিতলি নিজের আকাশ-পাতাল ভাবনার মাঝেই হঠাৎ পাশে কারো উপস্থিতি টের পেল। পরপরই কোমরে ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া। তিতলির মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না অদ্ভুতভাবে। লম্বা নিঃশ্বাস টানল। সেই চিরচেনা পারফিউমের ঘ্রাণ নাসারন্ধ্র ভেদ করেছে। নেশা ধরে যায় এই ঘ্রাণে। এই ঘ্রাণ তো একমাত্র তার ফারাজের। মনের ভেতরে বাসা বাধা সব ভয় উধাও হয়ে গেল নিমিষেই। মানুষটাকে না দেখেই নিশ্চিত হলো। এটা তার ফারাজ। তাকে খুঁজতে এসেছে।
হঠাৎ কানের কাছে নিঃশ্বাসের শব্দ পেল। কেঁপে উঠল তিতলি। এভাবে কানে মুখ নিয়ে রেখেছে কেন! পরপরই নরম ঠোঁটের ছোঁয়া। দম আটকে রাখল তিতলি। ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছে না। রুদ্ধশ্বাসে নড়েচড়ে উঠল, কিন্তু সরতে পারল না। মানুষটা শক্ত করে ধরে রেখেছে তাকে। ঠোঁটের স্পর্শ কানের লতিতে বিচরণ করছে। হঠাৎ গলায় শক্ত দু’হাতের স্পর্শ। ফারাজ আলতো হাতে কিছু একটা পরিয়ে দিচ্ছে তাকে। অতঃপর সেই চিরচেনা গম্ভীর কণ্ঠস্বর একদম কানের কাছে ধীরলয়ে ভেসে এলো, অথচ তিতলির মনে হলো কানে বজ্রপাতের মতো বাজল —
“হ্যাপি বার্থডে মাই ওয়াইফি। মাই অনলি গোল্ডেন ফারাশা। ইউভ গট ইওর বার্থডে উইশ, নাউ বি রেডি টু গিভ মি মাই ট্রিট।”
ফারাজ কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই চারিপাশে অদ্ভুতভাবে সব লাইট জ্বলে উঠল। সবকিছু জলমলে আলোকিত হয়ে উঠল। বেলুন, ফুল দিয়ে চারিপাশ সাজানো। তার সামনে টেবিলের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে একটি তিন স্তরের চকলেট ফাজ কেক। কেকের চারপাশে ছোট ছোট মোমবাতি জ্বলছে। মাঝখানে লেখা —
“Happy Birthday My Wife”
তিতলির অবাক, বিস্মিত, হতবিহ্বল চাহনি নিয়ে চারিপাশ দেখছে। সবকিছু তার কাছে কেমন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। কিন্তু না স্বপ্ন না! সবকিছু বাস্তব। তখন থেকে খারাপ থাকা মনটা মুহূর্তেই ভালো লাগায় পরিনিত হয়েছে। গলার জিনিসটা কী সেটা দেখতে আলতো করে মাথা নিচু করল। পুরো গলা জুড়ে ঝলমল করছে। দেখতে মনে হচ্ছে কোনে দামি ডায়মন্ডের নেকলেস। চারপাশে ছোট ছোট পাথর বসানো। আর মাঝখানে পাথরের উপর ডিজাইন করে লেখা–
“Faraz’s Wife”
তিতলি মোটেও এত দামী নেকলেস চাইনা। ফারাজ আদর করে একটা সাধারণ ফুল এনে তার কানে গুঁজে দিলেই হতো। উইশ হিসেবে নরম গলায় ভালোবাসি বললেই আনন্দে তিতলির দুনিয়া থমকে যেতো। সে তো তার নরম ফারাজের জন্য খুব দুর্বল। ভালোবাসি শোনার পাগল।
ফারাজ সেই কবেই লাইট জ্বলে উঠার পরপর তিতলিকে ছেড়ে দিয়েছে। পাশে কাঠকাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে। স্তব্ধ শরীর আর মুগ্ধ নয়নে অনিমেষ ভঙ্গিতে তিতলিকে দেখছে। তিতলি যখন লাজুক চোখে ফারাজের দিকে তাকাল। তখন ফারাজের দৃষ্টি নড়ে গেল। ভুল করেও আর পাশে ফিরছেনা। তাকাচ্ছেনা। ভাব-ভঙ্গিমা এমন যেমন অন্ধকারে মুরগী চুরি করতে আসা লোকটা আসলেই ফারাজ নয়। তিতলি খানিক মন খারাপ হলো। এতো সুন্দর করে বউ সেজে আছে অথচ ফারাজ তাকাচ্ছেও না ভালোভাবে! কেন!
পেছন থেকে আলভী, শাওন একসাথে হাসতে হাসতে চিৎকার করে উঠল। আলভীর এক হাতে ক্যামেরা। অন্য হাতে গিফট। আলভী হাসতে হাসতে এগিয়ে আসলো। ফারাজের উদ্দেশ্য বলল,
“বাহ বাহ বউকে তো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিলি আর যখনই দেখলি বউ তাকালো তখন না দেখার ভান করছিস? আমি কিন্তু সব ক্যামেরাতে বন্দি করে নিয়েছি ।”
লজ্জায় তিতলি শেষ। মাথা নত করে রেখেছে। আলভী গিফট তিতলির দিকে বাড়িয়ে দিলো,
“হ্যাপি বার্থডে ভাবি! আজকের এই দিনে আপনি পৃথিবীতে ডাউনলোড হয়েছেন বলেই আপনি এখন আমাদের ভাবি। আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া রইল যাতে ভবিষ্যতে একাধিক বাচ্চার মা হতে পারেন!”
শাওন সহ বললো,”আমিন। আজকে রাতেই প্রথম মিশন শুরু…”
ফারাজের চোখ রাঙানো দেখে শাওন আর বাকি কথা বলল না। কিন্তু তিতলিকে শুভেচ্ছে জানাতে ভুললো না,
“শুভ জন্মদিন ভাবি আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুক ও জান্নাত দান করুক।”
তিতলি হাসিমুখে খোঁচা মেরে বললো,
“অগ্রিম দোয়া করে দেওয়ার জন্য ধন্যাবাদ ভাইয়া।”
শিফা শাওনের কান টেনে ধরেছে। এই ছেলের ভন্ডামি যায়নি এখনো? বিয়ের আগে তার সাথেও মেসেজে এমন অদ্ভুত কথাবার্তা বলতো।
শাওন নিজের কান ছাড়াতে চেয়ে বললো,
“আরে কি করছো ছাড়ো। কান ছিড়ে যাবে তো।”
শিফা বললো,”কান ছিড়ে গেলেই ভালো হবে।”
“শুনো কান ছিড়ে গেলে আমার কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু তোমার অসুবিধা। তোমাকে সবাই কানছিড়ার বউ ডাকবে। তখন বিষয়টা ভালো দেখাবে বলো?”
শিফা শাওনের কথা শুনে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“আমারও অসুবিধা নেই। যে যা বলবে বলুক। আমি কান ছিড়ার সাথে থাকতে রাজী আছি।”
“তাহলে কি তুমি প্ল্যান করেই আমার কান ছিড়ার জন্য ধরেছো।”
“ঠিক তাই।”
শাওন ভয় পাওয়ার ভান করল। পরপর দুঃখের সহিত বললো,
“শুনো আমার ছেলেমেয়েদের মানুষ জন বলবে এইতো কান ছিড়ার মেয়ে যাইতেছে। এটা আমি সহ্য করতে পারব না ছাড়ো।”
শিফা বাধ্য হয়ে শাওনের কান ছাড়ল। কিন্তু ছাড়ার পর শাওন শিফাকে ছাড়ল না। সব সুদে আসলে উসুল করে নিলো।
________________
অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নেমেছে হঠাৎ। বাতাসও ছেড়েছে। আজকে সন্ধ্যার পর থেকে আকাশে ঘন কালো মেঘে ঢাকা ছিল। সে মেঘ এখন বৃষ্টি হয়ে ধরণীতে হানা দিয়েছে। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। ওয়েদার দেখে আগে থেকেই পর্দার উপরে তাবু টাঙানো হয়েছিল। বৃষ্টি বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই তাড়াতাড়ি কেক কাটা হলো।
★
কেক কাটা হয়েছে কিছুক্ষণ হলো। ছাঁদে অন্যঅন্য কাপলরাও এসেছে। মিউজিকে গান চলছে। বৃষ্টির সাথেসাথে যে যার মতো আনন্দফূর্তি আর নাচগান মেতে উঠেছে। কেউ কাপল ডান্স করছে কেউ সিঙ্গেল ডান্স করছে। উত্তেজিত তিতলি সবার সাথে উত্তেজিত হয়ে ছোট্ট গলায় গানের সাথে তাল মিলাচ্ছে। হাততালি দিচ্ছে। ফারাজকে ভুলতে বসেছিল প্রায়।
___
কিছুক্ষণ পর আলভী দৌড়ে এসে শাওনকে বললো,
“দোস্ত ঘটনা তো ঘটে গেছে।”
“কী ঘটনা ঘটেছে সেটা বল।”
“ফারাজ ছাঁদের কোথাও নেই। সঙ্গে ভাবি ও নেই।
শাওন বললো, “এরে খাইছে এনা কাম সারছে।”
“তুই ও কাম সাড়া যা হারামি। নতুন বিয়ে করে হানিমুনে এসেছিস। তুইও তো সেই একই নৌকার মাঝি।”
শাওন শিফাকে শরীর খারাপ লাগছে বলে ভুলিয়ে বালিয়ে রুমে নিয়ে এসেছে। বেচারা আলভী একা একা ছাঁদে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। বৃষ্টিও পড়ছে। রুমের দিকে পা বাড়াল। বউ বাচ্চাকে ভিডিও কল দিয়ে দেখবে।
★
ঘড়ির কাঁটা রাত একটা ছুঁইছুঁই। ছাঁদে ফারাজ তিতলিকে ডাকার নাম করে সবার মাঝখান থেকে সাইডে নিয়ে এসেছিল। অদ্ভুত গভীর স্বরে বলছিল,
“আমাকে আগুনে জ্বলতে দিয়ে খুব আনন্দ লাগছে না?” তারপর তিতলিকে কিছু বোঝার কিংবা বলার সুযোগ দেয়নি। পাঁজাকোলে তুলে সোজা রুমে নিয়ে এসেছিল। রুমে এসে আরেক দফা বিষম খেল। পুরো বিছানা কাঁচা ফুল দিয়ে সাজানো। যেমন বিছানাকে একটা ফুলের বাগান বানানো হয়েছে। ফুলের সুভাসে সম্পূর্ণ কক্ষ মৌ মৌ করছে। এসব…এসব দেখে তিতলি লজ্জায় হতভম্ব হয়ে পড়েছে। কিছু একটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বাসর ঘর! সে বউ সেজেছে! মনে হচ্ছে তার আজ নতুন বিয়ে হয়েছে। আর এখন তার বাসর রাত।
তিতলি ওয়াশরুম গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এসেছে। মনেমনে ভাবছে, ফুলে সাজানো বিছানায় লম্বা একটা ঘুম দিবে আরামে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একেএকে গলার নেকলেস হাতের চুড়ি সব খুলে ড্রেসিন টেবিলে রাখল।
হঠাৎ ঠাস করে দরজার লাগানোর শব্দ। এতটা জোড়ে লাগানো হলো যে ভয়ে লাফিয়ে উঠল তিতলি। ফারাজ এগিয়ে আসছে। তার দিকে। মুখভঙ্গিতে অদ্ভত মাদকতা। গভীর নেশাতুর চাহনিতে তাকিয়ে আছে। সে দৃষ্টি তিতলির সর্বাঙ্গে কম্পন ধরিয়ে দিলো। কি বলবে বুঝতে পারছেনা। ফারাজের বড়বড় পায়ের ধাপ। সেকেন্ডে তার খুব কাছে চলে এসেছে। তিতলিও অজান্তে পিছিয়ে বিছানার কাঠের সঙ্গে লেগে গেল। তিতলির হঠাৎ দমবন্ধ লাগছে। হাঁসফাঁস লাগছে। কিছু একটা অনুভব করছে। তবে কি সেটা? ফারাজ তিতলির গা ঘেষে দাঁড়িয়েছে। তার ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস তিতলির মুখে পড়ছে। দুজনের নিশ্বাস একত্রিত। ভয়ার্ত তিতলি চোখজোড়া শক্ত করে বন্ধ করে নিয়েছে। চোখের পাতা কাঁপছে। ঠোঁটজোড়া থরথর করে কাঁপছে। শরীরের সব শক্তিও যেন উধাও।
সে মুহূর্তে তিতলি তোতলানো সুরে বললো,
“আ…আ..আপনার কি ঘু…ঘুম আসছে? আমার….আমার ঘুম আসছে। আমি ঘুম যাব।”
তিতলির বলা কথাটা আদৌ ফারাজের কান পর্যন্ত পৌঁছালো কিনা কে-জানে? অস্থির ফারাজ আজ নিজের মধ্যে নেই। উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। সে মুহূর্তে কোনোরকম ওয়ার্নিং ছাড়াই নিজের পুরুষালী ঠোঁটের ভাঁজে তিতলির নরম ঠোঁটজোড়া আকড়ে ধরল। চুষতে শুরু করল। তার জিভ তিতলির ঠোঁটের গভীরে চলে গেল। সময় নিজের মতো চলে যাচ্ছে। দীর্ঘচুম্বনে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম তিতলির। ফারাজ তিতলির ঠোঁট ছাড়ল একেবারে নিজের মর্জি মতো। দেহে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে তিতলি। এবার বুঝি ফারাজ তাকে ছেড়ে দিবে। ঘুমাতে দিবে। কিন্তু না। অস্থির ফারাজ ঠোঁট থেকে এবার গলায় মুখ ডুবালো। দুএকটা কামড়ও বসিয়েছে গলার নরম চামড়ায়। শক্ত হাতের স্পর্শ তিতলির সম্পূর্ণ শরীরে বিচরন চালাচ্ছে। তিতলিকে পুরোপুরি ভাবে কাছে পাওয়ার জন্য তার পুরুষসত্তা যেন উন্মাদ হয়ে গিয়েছে আজ। তার কন্ঠ স্পষ্ট মাদকতায় ভরা,
“এতদিন তোমার সব…সব ধরনের বাহানা মেনে নিয়েছি। কিন্তু আর সম্ভব না। আজকে রাতের জন্য তোমার ঘুম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিলাম আমি।”
#চলবে
বাসরের বাকি অর্ধেক ও লেখা আছে। তবে আরো লিখতে হবে। তাই তোমরা যদি বাকি অর্ধেক চাও অবশ্যই রিয়েক্ট কমেন্ট করো। তাহলে রাতে দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্।
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪১+৪২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৮
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪((প্রথমঅংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৫(প্রথমঅংশ+দ্বিতীয় অংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪০(প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৬(প্রথম_অংশ+শেষাংশ)