Golpo romantic golpo মূল্য

মূল্য পর্ব সমাপ্ত


#মূল্য |~ সমাপ্ত ~|
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
[গল্পের শেষের কথাগুলো পড়ার অনুরোধ রইবে। ]
অরিত্র কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে মিরাজের দিকে তাকিয়ে রইল। কথাগুলো যেন তার মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
—“আমি কী করেছি?”
অবশেষে প্রশ্নটা বেরিয়ে এল তার মুখ দিয়ে।
মিরাজ চেয়ারটায় হেলান দিয়ে কিছুক্ষণ বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
—“তুমি সবচেয়ে বড় যে ভুলটা করেছো, সেটা হলো—তুমি ধরে নিয়েছো নীলা বদলে গেছে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখোনি, নীলাকে বদলে দেওয়ার পেছনে তোমার কোনো ভূমিকা আছে কি না।”
অরিত্র ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
—“মানে?”
—“মানে, তুমি নীলার আচরণ লক্ষ্য করেছো। ও আগের মতো কথা বলে না, আগের মতো তোমার জন্য অপেক্ষা করে না, অভিমান করে না, তোমার সঙ্গে নিজের কথা শেয়ার করে না—এসব তুমি খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছো। কিন্তু তুমি কি কখনো ভেবেছো, কেন?”
অরিত্র কোনো উত্তর দিল না। মিরাজ এবার একটু সামনে ঝুঁকে এল।
—“তুমি কি খেয়াল করেছো, নীলা যখন তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাইত, তখন তুমি কী করতে?”
অরিত্র মনে করার চেষ্টা করল। তারপর খুব ধীরে বলল,
—“সবসময় তো সময় দিতে পারিনি।”
—“এই ‘সবসময় সময় দিতে পারিনি’ কথাটাই আসল সমস্যা।”
মিরাজের কণ্ঠে এবার বন্ধুত্বপূর্ণ কোমলতা থাকলেও কথাগুলো ছিল যথেষ্ট কঠিন।
—“একজন মানুষকে দিনের পর দিন অবহেলা করলে সে একসময় অভিমান করাও বন্ধ করে দেয়। কারণ অভিমান করার জন্যও তো একটা বিশ্বাস লাগে—যে মানুষটার কাছে অভিমান করছি, সে আমার অভিমানটা বুঝবে। তার অভিমান ভাঙাবে।”
অরিত্রের বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। মিরাজ থামল না।
—“তুমি হয়তো নীলাকে কখনো ইচ্ছে করে কষ্ট দিতে চাওনি। এটাই তোমার সবচেয়ে বড় যুক্তি। কিন্তু কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবসময় ইচ্ছা থাকা লাগে না, অরিত্র। কখনো কখনো মানুষের উদাসীনতাই অন্য একজনের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়।”
অরিত্র এবার চোখ নামিয়ে নিল। নিজের ভুল গুলো যেন অরিত্র একটু একটু করে বুঝতে সক্ষম হচ্ছে।
মিরাজ ধীরে ধীরে বলল,
—“তুমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলে। নতুন অফিস, নতুন দায়িত্ব, নতুন মানুষ। এসবকিছু তোমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তুমি এদের নিয়েই মেতে থাকতে শুরু করলে। আর ভাবতে, নীলা তো আছেই, ও বুঝবে আমার ব্যস্ততা।”
অরিত্রের বুকের ভেতর হঠাৎ একটা পুরোনো দৃশ্য ভেসে উঠল। নীলা একদিন রাতে তার পাশে বসে কিছু বলতে চেয়েছিল। সে তখন ল্যাপটপে কাজ করছিল।
নীলা কয়েকবার কথা শুরু করেও থেমে গিয়েছিল তার ব্যস্ততা আর মনোযোগ দেখে। অরিত্র কাজ করতে করতেই জিজ্ঞেস করে–
—কিছু বলবে? বলতে চাইলে বলে ফেলো।
তার ব্যস্ততা দেখে শেষ পর্যন্ত নীলা শুধু বলেছিল—
—‘থাক, পরে বলব।’
অরিত্র মাথা না তুলেই বলেছিল–
—‘হুম, পরে বলো।’
কিন্তু সেই ‘পরে’ কি এসেছিল কখনো? অরিত্র চোখ বন্ধ করে ভাবল, কিন্তু মনে পড়ল না। মিরাজ তার মুখের পরিবর্তনটা লক্ষ্য করল।
—“মনে পড়ছে?”
অরিত্র কোনো উত্তর দিল না। মিরাজ এবার একটু নরম হয়ে বলল,
—“দেখো, নীলার পরিবর্তনটা হঠাৎ হয়নি। মানুষ হঠাৎ করে ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যায় না। নিজেকে গুটিয়ে নেয় না। বারবার ছোট ছোট জায়গায় আঘাত পেলে, বারবার নিজের অনুভূতিকে অপ্রয়োজনীয় মনে হলে, একসময় সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।”
অরিত্র ফিসফিস করে বলল,
—“তাহলে ও আমাকে আর ভালোবাসে না?”
মিরাজ মাথা নাড়ল।
—“আমি সেটা বলিনি।”
—“তাহলে?”
—“আমি বলছি, নীলা হয়তো এখন আর তোমার কাছে নিজের অনুভূতিগুলো ভাগ করতে নিরাপদ বোধ করছে না। ভরসা নেই যার কারণে।”
কথাটা শুনে অরিত্র স্তব্ধ হয়ে গেল। ‘ভালোবাসে না’ কথাটা হয়তো সে কোনোভাবে মেনে নিতে পারত। কিন্তু ‘ভরসা করে না’ এই কথাটা তার ভেতরটা যেন একেবারে ফাঁকা করে দিল।
মিরাজ ধীরে বলল,
—“ভালোবাসা শুধু কাউকে কাছে পাওয়ার নাম না, অরিত্র। ভালোবাসার একটা বড় অংশ হলো—মানুষটার অনুভূতিগুলোকে নিরাপদ জায়গা দেওয়া। তার ভরসাস্থল হওয়া।
তোমার বিগত সময়ের আচরণের কারণে নীলা এখন কাঁদতে গিয়ে ভাবে তুমি বিরক্ত হবে, অভিমান করতে গিয়ে ভাবে তুমি তাকে ‘ড্রামাটিক’ বলবে, আর নিজের কষ্ট বলতে গিয়ে ভাবে তুমি আবার কাজের অজুহাত দেবে।আর এসব ভাবনা থেকেই সে চুপ হয়ে গিয়েছে।”
অরিত্রের ঠোঁট কেঁপে উঠল।
—“কিন্তু আমি তো কখনো চাইনি ও এমন হোক।”
—“আমি জানি।”
মিরাজ এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—“সমস্যাটা সেখানেই। তুমি চাওনি। কিন্তু তুমি নিজেকে থামাওনি। দুটো এক জিনিস না।”
অরিত্র মাথা তুলে বন্ধুর দিকে তাকাল। মিরাজ বলল,
—“তুমি নীলাকে হারানোর ভয় পাচ্ছো এখন। অথচ একটা সময় ছিল, যখন নীলাকে হারানোর ভয় তোমার আচরণে ছিল না। তুমি নিশ্চিত ছিলে, ও কোথাও যাবে না।”
মিরাজ মিথ্যা বলছে না। নীলা চুপ ছিল বলেই সে তাকে স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিল। নীলা মতো সব কিছু চুপচাপ সয়ে নেওয়া একজন ব্যক্তি তার স্ত্রী ছিল বলেই সে ভেবেছিল, দিনের শেষে নীলা তার কাছেই থাকবে।
আর সেই নিশ্চয়তার আড়ালেই সে ভুলে গিয়েছিল, একজন স্ত্রীও প্রতিদিন ভালোবাসা, গুরুত্ব আর যত্ন পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে।
অরিত্র ধীরে ধীরে দুহাতের তালুতে মুখ ঢেকে ফেলল।কণ্ঠটা ভারী হয়ে যায় তার। বুকের ভেতর কেমন উথাল-পাতাল করতে থাকে। খানিক বাদে সে জিজ্ঞেস করল–
—“আমি তাহলে এখম কী করব, যাতে করে নীলা আগের মতো হয়ে যায়?”
মিরাজ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,
—“প্রথমে “নীলা আগের মতো হয়ে যাবে” এই ভাবনা বন্ধ করো।”
অরিত্র মুখ তুলল।
—“মানে?”
—“ও কেন বদলে গেছে, সেটা নিয়ে তর্ক করবে না। ও কেন এমন করছে, সেটা নিয়ে নিজের সাফাইও দেবে না। শুধু শুনবে।”
মিরাজ একটু থেমে আবার বলল,
—“আর একটা কথা মনে রেখো—তুমি একদিন ভালো ব্যবহার করলেই নীলা আগের মতো হয়ে যাবে, এমন আশা করো না। কারণ ওর পরিবর্তনটা তোমার করা বহুদিনের অবহেলা, কষ্ট দেওয়া আর একাকিত্বের ফল। তাই তোমার প্রতি ওর আবার আস্থা নিশ্চয়ই একদিনের ভালো ব্যবহারেই জন্মাবে না।
অরিত্র দীর্ঘশ্বাস ফেলল নিজের কৃতকর্মের জন্য। সে সত্যি এতদিন বুঝতে পারে নি তার ছোট ছোট অবহেলা, সময় না দেওয়া, কষ্ট ভাগাভাগি না করার মতো বিষয়গুলোর জন্য নীলার এত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। বুঝতে পারলে হয়ত সে এহেন ভুল করত না। তারপর খুব আস্তে বলল,
—“আমি এতদিন বুঝতেই পারিনি…”
মিরাজ মৃদু হেসে বলল,
—“মানুষ নিজের ভুলটা সবচেয়ে দেরিতে বুঝতে পারে, অরিত্র। কারণ নিজের কাছে আমরা সবসময়ই একটা ব্যাখ্যা তৈরি করে রাখি।”
অরিত্র এবার কোনো জবাব দিল না। শুধু তার মাথার ভেতর একটা কথাই ঘুরতে লাগল—
—‘নীলা বদলায়নি। অরিত্রের কারণে নীলাকে বদলে যেতে হয়েছে।’
আর প্রথমবারের মতো অরিত্রের মনে হলো, এতদিন সে নীলার নীরবতাকে অভিমান ভেবেছে। অথচ সেই নীরবতা হয়তো ছিল—তার কাছে পৌঁছানোর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নীলার শেষ আশ্রয়।
সেদিনের পর থেকে অরিত্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নীলার সেই ভরসা যোগ্য প্রিয় মানুষটি হওয়ার, যার কাঁধে মাথা রেখে নীলা চাঁদ দেখতে দেখতে সারাদিন জমা হওয়া কথাগুলো উগরে দিত। সেই ব্যক্তিটি হতে চাচ্ছে, যার কাছে নীলা ছোট ছোট আবদার করত, অভিমান করে গাল ফুলাতো।
বয়সটা হয়ত তাদের দু’জনেরই কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু ধুলোপড়া ভালোবাসা নামক অধ্যায়গুলো পুনরায় সজীব করতে চাইছে অরিত্র। আর নীলা যদি তার কাছে আবদার না করে, অভিমান করা ছেড়ে দেয়, মাঝে মধ্য ইমম্যাচিউরের মতো আচরণ না করে–মোট কথা তাঁকে ভরসা না করে তাহলে তারা কেমন সঙ্গী হলো একে অপরের? জীবন সঙ্গীকে একটা কমফোর্ট জোন না দিতে পারলে অরিত্রই বা কীভাবে কমফোর্টনেস আশা করে নীলার থেকে? তখন কি তার এমন আশা করা সাজে?
অরিত্র আর নীলার দিন গুলো খুব একটা মন্দ যাচ্ছে না ইদানীং। অরিত্র আগের মতো নীলাকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করে, তাঁকে বুঝার চেষ্টা করে, তার মুখে হাসি ফোটার কারণ হয়। এখনও সে অফিসের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু আগের মতো নীলাকে অদেখা করে নয়।
নীলার শ্বাশুড়িকে তার শ্বশুর সেই কাকলীদের বাসার ঘটনার পর জোর করে গ্রামে নিয়ে চলে গেছেন। নীলার বিজনেস আস্তে আস্তে বড় হতে শুরু করেছে। এই তো কিছুদিন আগেই নীলা বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত এক বাৎসরিক মেলায় স্টল দিয়েছিল। সে যতটা আশা করেছিল, তার থেকেও দ্বিগুণ ভালো গিয়েছে মেলার দিনগুলোতে।
বিজনেস বড় হওয়ায় নীলা অনলাইনে মেসেঞ্জার অপরেট করার জন্য একজন মডারেট রেখেছে। ইদানীং বেশি অর্ডার পাওয়ায় সে তার দু’জন পুরোনো বান্ধবীকেও কাজে রেখেছে। তাদের নাম হলো, অহনা ও প্রীতি। তাঁদেরকে সে কাপড়, রঙ ও ব্লকপ্রিন্টের যাবতীয় জিনিস কিনে দিয়েছে।
বেশি অর্ডার আসলে তারাও নীলাকে সাহায্য করে অর্ডার কমপ্লিট করতে। কাজ শেষ হলে খরচের টাকা বাদ রেখে তাঁদের একটা পার্সেন্টেজ দেয় নীলা। এতে করে অহনা আর প্রীতির হাত খরচটাও বেশ ভালোভাবেই চলে যায়।
অহনা আর প্রীতির অবস্থা একসময় নীলার মতোই ছিল। উপরন্তু নীলার থেকে একটু বেশিই খারাপ ছিল। শ্বাশুড়ি মায়ের মানসিক অত্যাচার, স্বামীর টাকা নিয়ে বারবার খোঁটা দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো তাদের দু’জনের জীবনকে ক্রমেই দূর্বিষহ করে তুলছিল।
তারপর একদিন তাদের ভার্সিটির পুরাতন মেসেঞ্জার গ্রুপে কেউ একজন নীলার বিজনেসের কথা তুললে, অহনা আর প্রীতি নিজ থেকে বান্ধবীর কাছে গিয়ে নিজেদের করুণ অবস্থার কথা খুলে বলে। তখন নীলা তাদের প্রথমে মানসিকভাবে শক্ত হতে বলে। কারণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, একজন বিবাহিত মেয়ে সংসার ব্যতীত নিজের জন্য কিছু করবে এটা আজও এই সমাজ মেনে নিতে নারাজ।
তারপর নীলা তাদেরকে অনেকটা হাতে-কলমের মাধ্যমে কাজটা শেখায়। যেহেতু অহনা আর প্রীতিরও নিজেদের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছে ছিল, তাই তাদের কাজটা শিখতে বেশি সময় লাগে না। কোন একটা বিষয়ের প্রতি প্রবল ইচ্ছা সেই কাজটিকে শতভাগ সফল হতে সাহায্য করে।
কাজ শেখার পরও নীলা প্রথম প্রথম ছোট ছোট দুয়েকটা কাজ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ায়। একসময় যখন সে নিশ্চিত হয়, অহনা ও প্রীতি ব্লকপ্রিন্ট ও হ্যান্ড পেইন কাজটা সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞ হয়েছে তখন বড় ধরণের কাজগুলো দেয়। এভাবেই সে আস্তে আস্তে নিজের পাশাপাশি অন্য আরো তিন মেয়ের ভীত শক্ত করে। আজ হয়ত সংখ্যাটি কম, কিন্তু একদিন এই সংখ্যা তিনশতে গিয়ে ঠেকবে বলে সে প্রবল আকাঙ্খা রাখে।
নীলার শ্বাশুড়িও এখন আর তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে না। বিজনেস করা নিয়ে প্যারা বা কটুক্তি করে না। এর পেছনে অবশ্য কারণ রয়েছে। কারণটি হলো, কিছুদিন আগে উনি গ্রামে কলপাড়ে পড়ে গিয়ে কোমড়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রায় অনেকগুলো মাস তাদের ঢাকাতেই থাকতে হয়েছিল। তখন নীলার একনিষ্ঠ সেবা ও বিজনেসের প্রতি অক্লান্ত পরিশ্রম দেখে পাষাণ মহিলার মনেও গলে যায়।
প্রতিদিন তাকে নিয়ম করে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া, তার ঔষধপত্রের প্রতি সূক্ষ্ম নজর রাখা, তাঁর সেবা যত্নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া মেয়েটিকে খুব কাছ থেকেই সে প্রত্যাক্ষ করেন। তাকে আর সংসারকে সামলানোর পরও নীলা ঠিকই নিজের বিজনেসে সময় দিতো। তারপর থেকে তার সংকীর্ণ মন-মানসিকতা পরিবর্তন হতে শুরু করে। সে স্বীকার করতে বাধ্য হয়, “যে নারী রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।”
এখন সে গর্ব করে সকলকে তার ছেলের বউদের সফলতার কথা শোনায়। সুস্থ হওয়ার পর তারা আবারও গ্রামে ফিরে যান। কাকলীর বর্তমানে সাত মাথা চলছে প্রেগ্ন্যাসির। সে আপাতত নিজের সকল কাজ গুটিয়ে নিয়েছে। বাবু হওয়ার পর আবারও করবে। ঢাকার বদ্ধ পরিবেশ ভালো লাগছিল না বলে, সেও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে গ্রামে চলে যায়। তার প্রেগ্ন্যাসিতে কোন সমস্যা না থাকায় কাকলী মত নিয়েই সবাই সিদ্ধান্ত নেয়, উপজেলার মাতৃসদন কেন্দ্রেই তার ডেলিভারি হবে।
কিছুদিন আগে জানা যায়, নীলা অন্তঃসত্ত্বা। এটা জানার পর অরিত্রের মায়ের খুশি দেখে কে! সে প্রতিদিন ফোন করে বড় বউয়ের স্বাস্থ্যের খবরাখবর নেন। গর্ভবতী কালীর সময়ের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। সময়-সুযোগ বুঝো বিভিন্ন খাবার বানিয়ে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেয় নীলার জন্য।
একজন নারীর স্বপ্ন কখনোই তার সংসারের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাকে সুযোগ দিলে সে সংসার সামলানোর পাশাপাশি, নিজের পরিচয়ও গড়তে পারে। আর একজন নারী যখন নিজের পায়ে দাঁড়ায়, তখন শুধু তার জীবন নয়—তার হাত ধরে আরও অনেক নারীর জীবন বদলে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। কারণ নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু নিজে এগিয়ে যাওয়া নয়, অন্য নারীকেও সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। আর গল্পটা সম্পর্কে রিভিউ দিয়ে ছোট করে বিভিন্ন গল্পের গ্রুপে। এতে করে অন্যরাও একজন নারীর নিজের পরিচয় তৈরি করার গল্পটা পড়তে পারবে।]
~সমাপ্ত
[আলহামদুলিল্লাহ, আমি যেমনটা চেয়েছিলাম তেমন ভাবেই লেখাটা শেষ করতে পেরেছি। অনেকেই আরেকটু বড় করতে বলেছিলেন, তবে দুঃখিত তাদের কথা না রাখতে পারার জন্য। আমার পরীক্ষা চলে আসায় পারলাম না গল্প আর বড় করতে। পরীক্ষা না থাকলে হয়ত আরো বড় করতাম।
আমার পরীক্ষা সামনের মাসে ইনশা আল্লাহ শেষ হয়ে যাবে। #মূল্য গল্পের সিজন টু আনার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।
আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ রইবে অন্তত আপনাদের গল্পটা কেমন লাগল এটা নিয়ে ছোট করে রিভিউ দিতে বিভিন্ন গল্পের গ্রুপে। এতে অন্যরাও গল্পটি সম্পর্কে জানতে পারবে। পড়তে পারবে।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply