মিস্টার মাংকিম্যান
#পর্ব_৮
লেখনীতে, Atia Adiba – আতিয়া আদিবা
শাহরিয়ার সাহেব চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে কেবল সোফায় আরাম করে বসেছিলেন। স্বপ্নিল পাঞ্জাবীর দুই পকেটে হাত গুঁজে সহজ গলায় বলল,
-পাপা, মা। আমার একটা অ্যানাউন্সমেন্ট আছে। এই সম্বন্ধ নিয়ে আর এক ইঞ্চিও আগানোর দরকার নাই। ইটস এ ক্লোজড চ্যাপ্টার। ফাইল ক্লোজড। কেস ডিসমিসড!
শাহরিয়ার সাহেব চশমাটা আবার নাকের ডগায় তুলে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। উনার গলার স্বর বেশ গম্ভীর শোনাল,
-কেন? নিয়তি তো চমৎকার মেয়ে। দেখে যথেষ্ট শান্ত-শিষ্ট, লক্ষ্মী বলে মনে হল। তোর ওকে পছন্দ হয় নি?
স্বপ্নিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফার ওপর ধপ করে বসে পড়ল। পাঞ্জাবির হাতাটা একটু ওপরে গুটিয়ে বলল,
-পছন্দ হয় নি একথা কি আমি একবারও বলেছি? প্রবলেম হল মেয়েটা অতিরিক্ত চুপচাপ। পুরাই সাইলেন্সার। আমার সাথে কোনোদিনও ম্যাচ করবে না।
নীলা বেগম এতক্ষণ স্বামী আর পুত্রের কথা চুপচাপ শুনছিলেন। এবার তিনি স্বপ্নিলের পাশে এসে বসলেন। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
-আহা স্বপ্নিল, প্রথম দিন বলে হয়ত একটু লজ্জা পাচ্ছিল। হুট করে একটা মেয়ে অপরিচিত ছেলের সামনে আর কত কথাই বা বলবে? তাছাড়া মেয়েদের একটু আধটু চুপচাপ আর লাজুক হওয়াই তো ভালো। আমাদের আমলের কথা চিন্তা কর! আমি তো….
– ওউ ওউ ওউ! থামো মা, প্লিজ!
স্বপ্নিল নিজের হাত দুটো শূন্যে তুলে ধরল। বলল,
– কোনো লজ্জা টজ্জা না! এটা ওর পার্মানেন্ট স্টেট অফ মাইন্ড! তাছাড়া আমার বিশ্বাস ওর নিজেরও আমাকে বিন্দুমাত্র পছন্দ হয় নাই। ওর চোখ-মুখে কোনো এক্সসাইটমেন্টই দেখলাম না! তুমি শিওর থাকো মা,
একটু পরেই আসলাম আঙ্কেল পাপা-কে ফোন করে অফিশিয়ালি ‘না’ করে দেবেন।
শাহরিয়ার সাহেব একটু চিন্তিত হয়ে বললেন,
– তুই আবার বারান্দায় গিয়ে কোনো উদ্ভট প্রশ্ন করিস নি তো?
স্বপ্নিল মাথা চুলকে বলল,
-না পাপা। একটা জেঞ্জি স্ট্যান্ডার্ডের প্রশ্ন করেছিলাম অবশ্য! ওটা বাদ দাও। মূল কথা হলো, দুই পক্ষই যখন মিউচুয়ালি আনহ্যাপি, তখন কাজী সাহেবের খাতা খোলার আগেই ইস্তফা দেওয়া ভালো। বিষয়টাকে একদম স্বাভাবিকভাবে নাও।
স্বপ্নিল আর ওনাদের কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না।
এগিয় গিয়ে গুটিসুটি মেরে থাকা আসিফের ঘাড় খপাৎ করে ধরে নিজের দিকে টান দিল। ফিসফিস করে বলল,
-চল জানু। রুমে চল। আজ তোর সাথে বাসর হবে।
আসিফ ভয়ার্ত চোখে নীলার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,
– আন্টি, আমাকে বাঁচা…..
স্বপ্নিল আসিফের মুখের ওপর এক হাত চেপে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। নিজের রুমে ঢুকে লাথি দিয়ে ধড়াম করে দরজাটা আটকে দিল।
_★★ _★★ _
স্বপ্নিলের ঘরের দরজাটা পার হলে যে কেউ থমকে যাবে। একজন উকিলের ঘরে যা কিছু সচরাচর শোভা পায় তার
লেশমাত্র নেই এখানে। দণ্ডবিধি কিংবা দেওয়ানি কার্যবিধির কোনো মোটা বইও ঘরের কোথাও চোখে পড়ে না।
ঘরের ডান দিকে জ্বলজ্বল করছে একটি চমৎকার গেমিং সেটআপ। আরজিবি লাইটের আলোয় চকমক করছে। পাশে রাখা আছে একটা পিএস ফাইভ। কন্ট্রোলার তিনটে চার্জি ডেকে বসানো।
তার ঠিক পাশে দেয়ালে ঝুলছে দুটো গিটার। একোস্টিক আর ইলেক্ট্রিক দুটোই। ঠিক মাঝখানের দেয়ালটায় টাঙানো রয়েছে ইমরান হাসমির একটা বিশাল বাঁধাই করা পোস্টার, জ্যাকেটের কলার উঁচিয়ে তার সেই চেনা সিগনেচার স্টাইল! সারা ঘরের মেঝে আর টেবিলের চারপাশ নানা রঙের তারে একদম জট পাকিয়ে আছে।
বিছানার ওপর ইতোমধ্যে পা ছড়িয়ে বসে ছিল ফাহিম আর রিফাত। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতেই ওরা স্বপ্নিলের বাসায় আসে। বহু পুরোনো অভ্যাস।
স্বপ্নিল আর আসিফ ঘরে ঢুকতেই ফাহিম টিপ্পনি কেটে বলল,
-কী রে মিস্টার মাংকিম্যান? মুখখানা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেন? মেয়ে রিজেক্ট করে দিয়েছে নাকি!
আসিফ সামান্য ঝুঁকে ফাহিমকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-আরে ব্যাটা! আমাদের গাউছিয়ার ইমরান হাশমি নিশ্চয়ই বারান্দায় গিয়ে চুমু খেতে চেয়েছিল!
এরপর নাক চেপে ধরে আরোও যুক্ত করল,
-শালা আমার নাকে মুখের গন্ধ ঢেলে দিছে! ক্লোজ আপ কাছে আসার গল্প বানাবে নিজের পাত্রী দেখার স্টোরি নিয়ে। ভাগ!
স্বপ্নিল কোনো কথা বলল না। ওর ভেতরের এতক্ষণের জমানো ক্ষোভটা এবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। চোখ দুটো সরু হয়ে আসিফের দিকে নিবদ্ধ হতেই সে আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। আসিফকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে বিছানার মাঝখানে ফেলে দিল এবং ওর বুকের ওপর চড়ে বসল।
রিফাত এই লাইভ ফাইট দেখে সোজা দাঁড়িয়ে গেল। একটি হাত গোল করে কাল্পনিক মাইক্রোফোনের মতো মুখের সামনে ধরে ডাব্লিউডাব্লিউই কমেন্টেটরের স্টাইলে চিৎকার শুরু করল_
-ওহ মাই গড!
ওহ মাই গড!
দ্য আন্ডারটেকার ইজ ব্যাক! আরিয়ান স্বপ্নিল ‘দ্য আন্ডারটেকার’ এখন পুরোপুরি ডমিনেট করছেন ওঁর চিরদিনের উইক রাইভাল আসিফকে! দিস ইজ অ্যাবসোলিউট কার্নেজ ইন আফতাবনগর!
আসিফ বিছানায় পিষ্ট হতে হতে স্বপ্নিলের হাত দুটো সরানোর চেষ্টা করে চেঁচিয়ে উঠল,
-আরে শালা, মারছিস কেন? আমি কী করছি? অপরাধটা কী আমার?
স্বপ্নিল আসিফের বুকের ওপর নিজের ওজনটা আরেকটু এক পা ওর কাধের ওপর চেপে ধরে রাগত স্বরে বলল,
-অপরাধ কী মানে? তুই ওই বাড়িতে ড্রয়িংরুমে আমার কানের কাছে গিয়ে বলছিস ‘না হওয়া ভাবির দোয়া আসমানে ডিরেক্ট কবুল হইছে’ – এই শুভক্ষণে অনন্যার কথা তুলতে গেলি কেন ওখানে?
আসিফ দম আটকে যাওয়ার ভান করে বলল,
-আরে, আমি তো তোরে ইজি করার ট্রাই করতেছিলাম! তোর যে গাড়ি থেকে নামার সময় হাটু কাঁপছিল?
-রিয়েলি? হাটু কাঁপছিল আমার? না না আসিফ, তুই আজকে বাঁচবি না। আজ তোকে শেষ করেই ছাড়ব।
আসিফ হাতজোড় করে বলল,
-ওরে মাফ করে দে! আর জীবনেও এসব বলব না মুরুব্বিদের সামনে।
স্বপ্নিল আসিফের পিঠে একটা চাপড় মেরে ওর ওপর থেকে নেমে এলো। ওর ডেক্সটপের রিভলভিং চেয়ারটার ওপর গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল। সে চেয়ারটায় একটা চক্কর দিয়ে চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে বলল,
-আজকে ছেড়ে দিলাম শুধু তোর ওই করুণ মুখটার দিকে তাকিয়ে। নেক্সট টাইম যদি কোনো কনে দেখার আসরে আমার সাথে গিয়ে এমন ফালতু রসিকতা করিস, তবে তোরে আমি সোজা লাথি মেরে নর্দমায় ফেলে দেব।
আসিফ বিছানা থেকে কোনোমতে উঠে বসে শার্টের কলারটা ঠিক করল। বলল,
-তা বারান্দার গল্পটা কী হলো সত্যি করে বল তো শুনি?
স্বপ্নিল চেয়ারে হেলান দিয়ে স্বভাবসুলভ বক্র হাসিটা ঝুলালো মুখে। বলল,
-মেয়েটা অদ্ভুত রকমের শান্ত রে ভাই!
রিফাত অবাক চোখে জিজ্ঞেস করল,
– এতটুকুতেই ঘাবড়ে গেলা স্বপ্নিল ভাই?
– ও হরি! ঘাবড়াবো না?
স্বপ্নিল সোজা হয়ে বসল,
-আমি ওকে বলছি আমার লয়ালিটি ছাড়া আর কিছু নিয়ে মাথাব্যথা নাই, উনি পড়াশোনা করুক, চাকরি করুক, সব কিছুতেই আমি চিল। উনার কি ইচ্ছা আমার সাথে যেন শেয়ার করে। আর উনি জাস্ট ছোট্ট একটা রিপ্লাই দিল, ‘আমার কোনো ইচ্ছা নেই’। কোনো ইচ্ছা নেই মানে কী? এই মেয়ের সাথে কিভাবে সারাজীবন কাটাবো আমি! তাছাড়া…
স্বপ্নিল একটু বিরতি নিল। আয়েশ করে সিগারেট ধরালো। এরপর দীর্ঘ ধোঁয়া ছেড়ে বলল,
-মেয়েটা যথেষ্ট ছোট। আমি প্ল্যান করে রেখেছি বিয়ের পর আমার দিন শুরু হবে ‘আশিক বানায়া’ এত মত আর শেষ হবে ‘ও জানা’ এর মত। শি ওন্ট বি এবেল টু টেইক দ্যাট!
কথা শেষ করে চোখ টিপল স্বপ্নিল।
ফাহিম গাল চুলকে জিজ্ঞেস করল,
-আর এজন্য তুই রিজেক্ট করে দিবি?
-সরাসরি করি নি বাট..
স্বপ্নিল টেবিলের ওপর পা দুটো তুলে দিয়ে বলল,
-বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই পাপা-মা কে বলেছি, আমরা কমপেটিবল না। এই ফাইল এখানেই ক্লোজ।
এখন এসব আলাপ বাদ দে! নতুন একটা সিরিজ এসেছে দেখলাম। অনেক নাকি ভালো। নামটা যদিও ভুলে গেলাম, সার্চ করে দেখতে হবে। তোরা দেখবি?
সকলে একযোগে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিতে বলল, হ্যাঁ দেখব।
__★★ __★★
নিয়তি নির্ঘুম দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়।
এখনো সেই নীল শাড়ি পরে আছে। আঁচলটা আলতো করে পিঠে জড়িয়ে বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে
শরতের আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছিল সে! ঠিক তখনই কাঁচের স্লাইডিং ডোরটা গলে খুব ধীর পায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন রেহানা। মেয়ের কাঁধে আলতো করে একটা হাত রেখে খুব নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
-কী রে মা? এত রাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস? শাড়িটাও দেখি খুলিস নি। ঘুম আসছে না?
নিয়তি মায়ের দিকে তাকাল না। আকাশের ওই ম্লান তারাটার দিকে তাকিয়েই খুব শান্ত গলায় বলল,
-না।
রেহানা বেগম মেয়ের খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ালেন। মনে চাপা শঙ্কা নিয়ে মেয়ের চিবুকটা সামান্য ছুঁয়ে খুব কৌতূহলী গলায় জানতে চাইলেন,
-ইয়ে… নিয়তি, স্বপ্নিলকে তোর কেমন মনে হলো? ছেলেটাকে তোর ভালো লেগেছে তো?
নিয়তি এক মুহূর্তের জন্য থামল। ওর নিস্তরঙ্গ ঠোঁটের কোণে অতি সূক্ষ্ম এক চিলতে ম্লান হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে খুব ধীর ভঙ্গিতে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল।
মেয়ের কাছ থেকে এত সহজে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়ে রেহানা বেগমের বুক থেকে যেন একটা বিশাল পাথর নেমে গেল। উনার চোখেমুখে এক নিমেষে খুশির ঝিলিক দেখা দিল। উনি নিয়তির হাতটা শক্ত করে ধরে বললেন,
-সত্যি বলছিস মা? আলহামদুলিল্লাহ! তোর বাবা তো ভীষণ টেনশনে ছিল। শাহরিয়ার ভাইয়ের ছেলেকে আমারও খুব পছন্দ হয়েছে। কেমন চটপটে, প্রাণোচ্ছল স্বভাবের। আর তুই যখন রাজি, তখন তো আর কোনো বাঁধাই রইল না…..
-কিন্তু মা….
নিয়তি মায়ের উচ্ছ্বসিত কথাটার মাঝখানেই খুব শান্ত গলায় বাধা দিল। ওর চোখ দুটো এবার সোজা মায়ের চোখের ওপর স্থির হলো। বলল,
-আমি এই বিয়েটা করতে পারব না।
রেহানা এবার যেন আকাশ থেকে পড়লেন। উনার মুখের সমস্ত খুশি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। সেখানে ভর করল তীব্র বিস্ময় আর বিভ্রান্তি।
-মানে কী? এই মাত্রই তো বললি ছেলেটাকে তোর ভালো লেগেছে! তাহলে আবার না করছিস কেন? তোর মাথায় কি চলছে রে নিয়তি?
নিয়তির গলার স্বর আরও নিচু হয়ে এলো,
-উনি ভীষণ হাসিখুশি একজন মানুষ। খুব সহজ আর মডার্ন একটা লাইফ চায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ও আমাকে খুব স্পষ্ট করে বলেছে, উনার কাছে শুধু লয়ালিটি ম্যাটার করে। উনার মতো মানুষকে আমি এভাবে ঠকাতে চাই না। বিয়ের যদি করতেই হয় তো আগেই আমি ওনাকে সব সত্যিটা বলে দিতে চাই।
একথা শোনামাত্রই রেহানা বেগমের ফর্সা মুখটা ভয়ে আর আতঙ্কে একদম ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চোখের মণি দুটো কাঁপতে লাগল। উনি ঝটপট স্লাইডিং ডোরের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিলেন আসলাম সাহেব ঘুমিয়ে পড়েছেন কি না। তারপর নিয়তির হাতটা প্রায় খপ করে ধরে ফিসফিসানি গলায় ধমকে উঠলেন,
-একদম চুপ! আর একটা শব্দও মুখ থেকে বের করবি না নিয়তি! তুই কি পাগল হয়েছিস? কীসের সত্যি বলবি তুই? কোন সত্য?
নিয়তি মায়ের এমন আকস্মিক কঠোরতায় একটুও ঘাবড়াল না। চোখে সেই চেনা অতলান্ত শান্ত ভাব ধরে রেখেই বলল,
-যেটা সত্যি, সেটাই বলব। লুকানোর তো কিছু নেই। উনি যদি জানার পর আমাকে মেনে নেয়, তবেই এই বিয়ে সম্ভব। কিন্তু মিথ্যা দিয়ে শুরু করা একটা সম্পর্কে আমি কোনোদিন সুখী হব না মা।
-ভুলেও এ কাজ করবি না নিয়তি! আমি তোকে বারণ করছি! বুঝেছিস?
রেহানা বেগমের গলার স্বর এবার কাঁপতে লাগল।
-তুই ওই ছেলেকে কিচ্ছু বলবি না। দুনিয়ার সব মানুষ সব সত্যি বলে সংসার করে না। তুই যদি বেশি বুঝতে যাস, তবে নিজের জীবনটা তো ধ্বংস করবিই, সাথে তোর বাবার সম্মানটাও ধুলোয় মিশিয়ে দিবি।
নিয়তি আবার মেঝের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল। ওঁর এই নিশ্চুপ ভাব দেখে রেহানা বেগম আরও কিছুটা ঝুঁকে এসে ওঁর কাঁধ ধরে ঝাঁকানি দিয়ে বললেন,
-আমার কথা খুব ভালো করে কান খুলে শুনে রাখ। আগামীকাল সকালে তোর বাবা নিজেই শাহরিয়ার সাহেবকে ফোন করবেন। যা বলার, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তোর বাবাই নেবে। যদি একটা কথাও তোর মুখ থেকে বের হয়েছে, তবে আমার মরা মুখ দেখবি!
মায়ের এই কঠোর আদেশের সামনে নিয়তি আর কোনো পাল্টা যুক্তি দিল না। সে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল গগণপানে। যেন ওর মাঝে কোনো রাগ নেই। কোনো প্রতিবাদ নেই। ওর ভাগ্যটাই কেমন এক নিচ্ছিদ্র নীরবতার দেয়ালে বন্দি!
রেহানা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের মাথাটায় একটু আদর করে দিলেন। বললেন,
-ঘরে চলে যা। রাত তো অনেক হল! ঘুমানোর চেষ্টা কর।
রেহানা দ্রুত পায়ে বারান্দা ছেড়ে ঘরের ভেতরে চলে গেলেন। নিয়তি আবার একা হয়ে গেল।
__★★ __★★
এই নতুন সিরিজটা একদমই জমছিল না। কাজেই অন্যমনস্ক হয়ে প্রথমে রিফাত পেট চাপড়ে বলল,
-বড় ভাই, পেটে তো ছুঁচো দৌঁড়াচ্ছে। আজকের থার্সডে নাইটটা কি ঘরে বসে এই বা*লের সিরিজ দেখে কেটে যাবে?
স্বপ্নিলও বেশ উসখুস করছিল। সে বলল,
-ধুত্তুর ছাই, ঘরে বসে কী হবে? মনটা উড়ুউড়ু করছে। বাইক বের কর। চল আজকে মাওয়া যাবো। মাঝরাতে পদ্মার নদীর বাতাসে, লুঙ্গী উড়বে আকাশে!
(চলবে…)
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, মিস্টার মাংকিম্যান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২১
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১০
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ২২
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ২০
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩০
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৮
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১২