Golpo romantic golpo মিস্টার মাংকিম্যান

মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ৬


মিস্টার_মাংকিম্যান ( ১৮+ সতর্কতা )

পর্ব_৬

লেখনীতে, Atia Adiba – আতিয়া আদিবা

ধানমন্ডি লেকের দিক থেকে শেষ বিকেলের দমকা হাওয়াটায় এদিকেই তেড়ে আসে। নতুন দোতলা বাড়ির ছাদটা জুড়ে নিয়তি নিজ পরিচর্যায় একফালি সবুজ অরণ্য গড়ে তুলেছে। কাঠগোলাপ, কামিনী, মাধবীলতা আর রজনীগন্ধার টবগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো। ছাদের এক কোণে মাটির বড় পাত্রের চারিপাশে ঝরে পড়ে আছে সাদা রঙের শরৎকালীন শিউলিফুল।

এই মনরোম ছাদবাগানের ঠিক মাঝখানে একটি চেয়ারে চুপচাপ বসে আছে নিয়তি। নিষ্প্রাণ চেহারা।

সদ্য ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ করেছে সে। কিন্তু এই বয়সের অন্য পাঁচটা তরুণীর চোখেমুখে যে চঞ্চলতা বাস করে, ওষ্ঠাধরে যে চটুল হাসির রেখা প্রতিয়মান হয়, মনে যে রঙিন স্বপ্নেরা ডানার মেলে উড়ে – নিয়তির মাঝে তার এক চিলতে লেশমাত্র নেই। সে যেন এক জ্যান্ত ভাস্কর্য।
তার চোখ দুটো নিবদ্ধ দূর আকাশের ঈশান কোণে। যেখানে বিকেলের রোদ ক্রমশই ম্লান হয়ে আসছে। গোধুলিবেলার আগমনের জন্য প্রকৃতি যেন প্রস্তুত!

রেহানা বেগম সিঁড়িঘর পেরিয়ে ছাদে এলেন। তার দুই হাতে দুটো মাটির কাপে ধোঁয়া ওঠা গরম চা। রেহানার চুলে এখন সাদা রঙের রেখা দৃশ্যমান। মুখের চামড়ায় ক্লান্তির ভাঁজ স্পষ্ট।

তিনি ধীর পায়ে মেয়ের কাছে এসে বসলেন। একটি কাপ নিয়তির সামনের ছোট টেবিলে রাখলেন।

-কী করছিস রে মা একা একা বসে?

রেহানা আলতো করে নিয়তির কাঁধে হাত রাখলেন। নিয়তির সাথে কথা বলার সময় উনি গলার স্বর অত্যন্ত নরম রাখেন।

নিয়তি মায়ের দিকে আলগোছে মুখ তুলে তাকাল। তার চোখের মণি দুটো শান্ত। স্রোতবিহীন নদীর মতো। সে কোনো উত্তর দিল না। শুধু মিষ্টি করে হাসল।

রেহানা তার দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে ফেলল নিজের মাঝে। ছাদে কেমন একটা গুমোট নীরবতা বিরাজমান। সেই নীরবতা ভাঙার জন্যই তিনি চারিপাশে চোখ বুলিয়ে, ফুটে থাকা ফুলগুলো মন ভরে দেখতে দেখতে বললেন,

-তোর ছাদবাগানের শিউলি গাছটায় এবার বেশ ফুল এসেছে রে, নিয়তি। কি মিষ্টি সুবাস ছড়িয়েছে! ওই শিউলিটা তো তুই পাশের নার্সারি থেকে এনেছিলি না? ছাদবাগানের খুব যত্ন করেছিস, বোঝা যায়।

নিয়তি ঝরে পড়া শিউলি ফুলের দিকে একবার তাকাল। তারপর মৃদু স্বরে বলল,

-হু।

প্রতিটি কথার উত্তর খুব সংক্ষেপে দেওয়া, নিয়তির গত সাত বছরের অভ্যাস। সে প্রয়োজন ছাড়া একটা শব্দও উচ্চারণ করে না।

রেহানা চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে মেয়ের ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকালেন। মেয়ের মুখপানে চাইলেই উনার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে। আজও তার ব্যতিক্রম হল না।

তবে আজ তিনি এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছাদে এসেছেন। আসলাম সাহেবের বন্ধু শাহরিয়ার ওসমান চৌধুরীর পরিবার যে নিয়তিকে দেখতে আসতে চাইছে, সেই প্রস্তাবটাই এখন পাড়তে হবে।

-নিয়তি…

রেহানা একটু ইতস্তত করে বললেন,

-তোর বাবার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছেন। শাহরিয়ার সাহেব। ওনার একমাত্র ছোট ছেলে পেশায় বাবার মতই ওকালতি করে, বেশ নামডাক! তোর বাবা বলছিলেন, ওনারা তোকে একবার দেখতে আসতে চান।
তোর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে চান।

প্রস্তাবটা শোনার পরও নিয়তির চেহারায় বিন্দুমাত্র আলোড়ন তৈরি হলো না। সে ঠিক আগের মতোই নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে রইল। মেয়ের এই স্তব্ধতা রেহানাকে আরও বেশি ব্যথিত করল।

রেহানা নিজের চেয়ারটা নিয়তির আরও কাছে টেনে নিলেন। মেয়ের একখানা হাত নিজের মুঠোয় ভরে নিয়ে অত্যন্ত আকুল গলায় বললেন,

-মা রে, এভাবে আর কতদিন নিজের চারপাশে দেয়াল তুলে রাখবি? দেখতে দেখতে ওই ঘটনার সাত-সাতটা বছর পার হয়ে গেছে। সব কিছু ভুলে জীবনটা তোকে নতুন করে শুরু করতে হবে। এভাবে বেঁচে থাকবি কিভাবে?

নিয়তি এতক্ষণ পর মায়ের চোখের দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল বিষাদময় হাসি। সে তার হাতটা মায়ের মুঠো থেকে আলগোছে সরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-সাত বছর পার হয়ে গেছে বুঝি? আমার তো মনে হয় শুধুমাত্র ক্যালেন্ডারের পাতায় পার হয়েছে, মা। আমার ভেতরের ক্ষতগুলো তো এখনো নতুন! আমি প্রতিদিন অনুভব করি। যন্ত্রণা হয়। কষ্ট পাই।

মেয়ের মুখ থেকে এত গভীর কথা শুনে রেহানা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তার চোখ দিয়ে বাঁধভাঙা জল নেমে এলো। তিনি ঝট করে নিয়তিকে টেনে নিজের বুকের মাঝে চেপে ধরলেন। পরম মমতায় নিয়তির চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,

-এমন কথা বলিস না মা, আমার কলিজাটা ছিঁড়ে যায়। তুই কি ভাবিস আমাদের মনে কষ্ট নেই? আমরাও তোর কষ্টের ভাগিদার রে, মা! তোকে একটা স্বাভাবিক, সুন্দর জীবন দিতে না পারলে, আমরা যে মরেও শান্তি পাব না। একটা ভালো ছেলে তোর জীবনসঙ্গী হলে দেখবি, সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে গেছে!

নিয়তি মায়ের বুকের ওমে মাথা রেখে অতি শান্ত গলায় শুধালো,

-আর আমার অতীত? আমার অতীত নিয়ে ওদের কিছু জানাবে না, মা? নাকি সবকিছু আড়াল করে, লুকিয়ে, আরেক মায়ের ছেলেকে ঠকাতে চাইছ তোমরা?

এই প্রশ্নটা যেন রেহানার সম্ভ্রান্ত মাতৃত্বের দেয়ালে এক তীব্র কুঠারাঘাত করল। তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন। চোখের জল মুছে নিয়তির মুখটা নিজের দুই হাতের আঁজলায় তুলে ধরলেন। উনি কণ্ঠে এক চরম অসহায়তা মিশিয়ে বললেন,

-না রে নিয়তি, আমি কাউকে ঠকাতে চাইছি না। আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য একটা সাধারণ জীবন চাইছি। এই সমাজ বড় নিষ্ঠুর। তাই কিছু সত্য শুধু খোদার দরবারেই জমা থাকা ভালো।

নিয়তি মায়ের হাত দুটো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে চেয়ারে সোজা হয়ে বসল।

-তোমরা সমাজকে ভয় পাও। লোকলজ্জাকে ভয় পাও।সেটা আমি জানি। বুঝি। কিন্তু যে সম্পর্কের ভিত্তিটাই গড়ে উঠবে একটা মিথ্যার ওপর, সেই সম্পর্ক আমাকে কীভাবে শান্তি দেবে, মা?

রেহানা এ প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।

গোধূলির আলো মিলিয়ে যাবে কিছুক্ষণের মাঝেই।
ফুলগুলোর তীব্র সুবাস ভাসছে বাতাসে।
নিয়তি আবার আকাশের দিকে চোখ ফেরাল। নিজের ভাগ্যের শেষ রায়টুকু যেন ওই শূন্য আসমানেই খুঁজে বেড়াচ্ছে সে!

★★★★

ড্রেসিং টেবিলের বিশাল কাঁচের আয়নার সামনে চুপচাপ বসে আছে নিয়তি। তার পরনে এক গাঢ় নীল রঙের জামদানি শাড়ি। দুদিন আগে রেহানা তার জন্য শাড়ি, বিভিন্ন প্রসাধনী কিনে এনেছেন।

তবে শাড়ি পরা পর্যন্তই নিয়তির দৌড়। তার সামনে সাজিয়ে রাখা দামি দামি প্রসাধনীগুলোর দিকে তাকিয়ে সে সম্পূর্ণ দিশেহারা বোধ করছে এখন।

লিপস্টিক, কমপ্যাক্ট পাউডার, আইলাইনার – আরও কত কি! বিগত বছরগুলোতে নিয়তি আয়নার সামনে ভালোভাবে দাঁড়ায় নি। নিজের মুখ নিখুঁতভাবে দেখে নি।
অন্য মেয়েদের মত সে সাজতে জানে না। ভিন্নভাবে চুল বাঁধতে জানে না।

একদৃষ্টিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিয়তির চোখের মণি দুটো হঠাৎ স্থির হয়ে গেল। চারপাশের চেনা ঘরটা যেন এক নিমেষে অদৃশ্য হয়ে গেল। সে ফিরে গেলো তাদের আগের বাসায়। তলিয়ে যেতে লাগল সাত বছর আগের সেই নিঝুম দুপুরের অতল গহ্বরে –

শফিক কোলে বসে আছে চঞ্চল নিয়তি। মনে মামার কাছে নতুন আর্ট শেখার অদম্য ইচ্ছা।
সহসা শফিকের খসখসে একটি হাত নিয়তির মুখটা শক্ত করে চেপে ধরল। যেন তার বুকফাটা আর্তনাদ দেয়াল ভেদ করে বাইরে না যায়! অন্য একটি হাত বিশ্রিভাবে গলিয়ে দিল হাফপ্যান্টের ভেতর দিয়ে। নিয়তির মুখের খুব কাছে শফিকের মুখ। সস্তা জর্দার সেই তীব্র, বমি আনা গন্ধটা নিয়তির নাসারন্ধ্রে ঢুকতে লাগল প্রতিটি নিশ্বাসে। নিয়তি প্রাণপণে চেষ্টা করছে চিৎকার করার। কিন্তু শফিকের শক্তির সাথে কোনোভাবেই পেরে উঠছে না। তার কোমড়ের নিচ থেকে পা পর্যন্ত উন্মুক্ত হয়ে গেল। শফিক সমস্ত শরীরের ভর ছেড়ে দিল ছোট্ট নিয়তির ওপর। আর তারপরই……

“এখনো তৈরি হস নি, মা?”

আচমকা বাবার কণ্ঠস্বরে নিয়তির ঘোর ভাঙল। থরথর করে কাঁপছে সে। কপালে জমে আছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
নিয়তি দেখল, তার ঘরের দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছেন আসলাম সাহেব।

নিয়তি আয়নার দিকে তাকিয়ে তার গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল,

-এইতো বাবা, আরেকটু বাকি আছে। ভেতরে এসো।

আসলাম সাহেব ধীর পায়ে মেয়ের পেছনে এসে দাঁড়ালেন। আয়নায় নীল শাড়ি পরা নিয়তির দিকে তাকিয়ে তার চোখের কোণটা সামান্য ভিজে উঠল।
তিনি পরম মমতায় নিয়তির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
বললেন,

-আমার মেয়েটাকে একদম রাজকন্যার মতো লাগছে!
আমি নিশ্চিত মা, এই বিয়েটা যদি হয়ে যায়, তবে ওই বাড়িতে তুই একদম রানীর মতো থাকবি। শাহরিয়ারের ছেলেটা খুব ভালো, তোকে সুখে রাখবে।

নিয়তি আয়না থেকে চোখ না সরিয়েই মৃদু হাসল। খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,

-কোন রানীর মতো রাখবে বাবা? দুয়োরানী নাকি সুয়োরানী?

মেয়ের মুখে এমন অপ্রত্যাশিত কথার গভীরতায় আসলাম সাহেব এক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেলেন। উনার মেয়ে ভীষণ কম কথা বলে। কিন্তু যেটুকু বলে, তার ভেতরের অন্তর্নিহিত অর্থ আর বেদনা পরিমাপ করতে যেন এই মানব সমাজের সহস্র বছর পেরিয়ে যাবে!

আসলাম সাহেবের মনে হল, নিয়তি তার নীল শাড়ির আবরণে আসলে এক চিরস্থায়ী নির্বাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে!

আসলাম সাহেব একটু ঝুঁকে মেয়ের কাঁধ দুটো ধরলেন। তার চোখে এক ভয়ার্ত চাউনি।

-নিয়তি… তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না তো, মা? তোর যদি বিন্দুমাত্র অমত থাকে, তুই আমাকে বল। আমি শাহরিয়ারকে না করে দেব।

নিয়তি তার মাথাটা আলতো করে নাড়ল। না-সূচক। তার চোখ দুটো নিস্তরঙ্গ।

তবুও আসলাম সাহেব নিজেকে শান্ত করতে পারছিলেন না। তার মনে হচ্ছিল তিনি তার নিজের অপরাধবোধ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন। তিনি তার মেয়ের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আকুল গলায় বললেন,

“আমি… আমি শুধু তোর ভালোর জন্যই…

আসলাম সাহেব কথা শেষ করতে পারলেন না। তিনি নিয়তির হাত দুটো নিজের কপালে ঠেকিয়ে ক্ষণিককাল চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন। তার মনে পড়ে গেল, ওই অভিশপ্ত ঘটনার পর দীর্ঘদিন নিয়তি তার উপস্থিতিও সহ্য করতে পারত না। আসলাম সাহেব তার ঘরের দিকে এগোলেই নিয়তি ভয়ে কুঁকড়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসত। নিজের বাবার ওপর থেকেও বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল তার। দীর্ঘ কতগুলো বছর, কতগুলো রাত লেগেছে তার বাবার এই পবিত্র স্পর্শটাকে আবার বিশ্বাস করতে!

নিয়তি এবার তার বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল,

-আমার দুর্ভাগ্যের জন্য নিজেকে আর ওভাবে দোষারোপ করো না, বাবা।

আসলাম সাহেব স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তার অবচেতনের সমস্ত লুকানো হাহাকার আঠারো বছরের এই মেয়েটা এক সেকেন্ডে কীভাবে পড়ে ফেলল! তিনি মেয়ের দিকে একদম বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

এমন সময় ড্রয়িংরুম থেকে রেহানার ব্যস্ত গলা ভেসে এলো,

-নিয়তির বাবা, কই তুমি? ওনারা কিন্তু গাড়ি নিয়ে মেইন গেটের সামনে চলে এসেছেন! জলদি এসো!

নিয়তি ম্লান হাসল। সে তার বাবার হাত থেকে নিজের হাতটা আলতো করে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

  • তোমায় মা ডাকছে।

আসলাম সাহেব তার চোখের কোণের জলটা পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে কোনোমতে মুছে উঠে দাঁড়ালেন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার গলাটা আবার সেই রাশভারী কর্তার মতো করে বললেন,

-তুই দ্রুত রেডি হয়ে নে মা। ওরা কিন্তু চলে এসেছে!

বাবা ঘর থেকে চলে যাওয়ার পর নিয়তি পুনরায় আয়নার দিকে তাকাল। সে ভাবল, পাত্রপক্ষের সামনে যাওয়ার আগে তার চোখে অন্তত একটু কাজলের ছোঁয়া থাকা উচিত। নয়তো তার চোখ দুটোকে একদম মৃত মানুষের মতো দেখাবে।

সে টেবিল থেকে কাজলের পেনসিলটা হাতে নিল। তার হাতটা সামান্য কাঁপছিল। সে আয়নার দিকে আরও একটু ঝুঁকে তার ডান চোখের নিচে কাজলের রেখা টানার চেষ্টা করল। কিন্তু অনভ্যাস তার হাতটাকে স্থির রাখতে দিল না। কাজলের কালচে রঙটা তার চোখের পাতা পেরিয়ে তার ফর্সা গালের ওপর লেপ্টে কেমন কুৎসিত কালচে দাগ তৈরি করল।

নিয়তি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাজলের পেনসিলটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। নাহ, ওকে দিয়ে সাজসজ্জা হবে না।

[পর্যাপ্ত রেসপন্স পেলে পরবর্তী পর্ব আগামীকাল বিকাল ৫:০০ থেকে ৬:৩০ এর মধ্যে চলে আসবে। গল্পটা অনেক অসাধু পেইজ ক্রেডিট কপি করছে, বিভ্রান্ত হবেন না। ভালোবাসা রইল]

(চলবে…)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply