Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫০ | সারপ্রাইজ পর্ব|


#বাঁধন_রূপের_অধিকারী |সারপ্রাইজ পর্ব|

#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী||৫০||

‎বাঁধন ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসিটা আরও খানিকটা ছড়িয়ে দিয়ে ধীরেসুস্থে বললো,

‎

‎”খুব বেশি কিছু না। আজকে রাতের মধ্যেই, যেকোনো উপায়ে বৃষ্টিদের বাড়ি থেকে রূপকে এখানে নিয়ে আসতে হবে।”

‎

‎আকাশ মুহূর্তের জন্য যেন থমকে গেল। বেশ অবাক হয়েই কপালে ভাঁজ ফেলে শুধালো,

‎

‎”সেটা তো তুই নিজেই পারিস… আমি কেন?”

‎

‎বাঁধন একরাশ আফসোস ঢেলে দিয়ে মাথা নাড়লো,

‎

‎”উঁহু, হবে না! রূপ আমার ওপর ভীষণ চটে আছে। এখন আমি নিজে গেলে ও কিছুতেই আসবে না।”

‎

‎আকাশ আশার আলো দেখে লহমায় সোজা হয়ে বসলো। চোখ দুটো বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো,

‎

‎”আমি যদি রূপাকে কোনোমতে এখানে নিয়ে আসতে পারি, তবে তুই বৃষ্টির এই বিয়েটা সত্যি সত্যিই ভেঙে দিবি তো?”

‎

‎বাঁধন হালকা চালে হাত দুটো ছড়িয়ে দিল,

‎

‎”ভেবে দেখবো।”

‎

‎আকাশের মুখটা নিমেষে আবার মেঘলা হয়ে উঠলো।চিন্তিত গলায় বললো,

‎

‎”ভেবে দেখবি। তার মানে তুই বিয়েটা ভাঙবি না?”

‎

‎বাঁধন চিরাচরিত গভীর গলায় বাঁকা হেসে শুধরে দিল,

‎

‎”আরে, সেটা তো বলিনি৷ ভেবে দেখা মানে বিয়েটা কীভাবে আর কোন উপায়ে ভাঙবো, সেটাই ভাবা।”

‎

‎তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালো আকাশ। চোখে-মুখে তার মরিয়া ভাব। সোজা বাঁধনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

‎

‎”ওকে, আমি রাজি! আজ জীবন বাজি রেখে হলেও রূপকে আমি এ বাড়িতে এনে ছাড়বোই! চল, এখন।”

‎

‎বাঁধন বেশ নির্বিকার ভঙ্গিতে কপালে ভাঁজ ফেলে শুধালো,

‎

‎”আমি আবার কোথায় যাবো?”

‎

‎আকাশ অধৈর্য গলায় বললো,

‎

‎”কেন? বৃষ্টিদের বাড়িতে!”

‎

‎বাঁধন গভীর কিছু একটা ভেবে নিয়ে লহমায় সিদ্ধান্ত নিল। আলতো করে মাথা নেড়ে বললো,

‎

‎”আচ্ছা, চল।”

‎

‎দুই ভাই মিলে রাতের ঘন আঁধার চিরে বেরিয়ে পড়লো বাইরে। রহমান বাড়ির গেট পার হয়ে এসে আকাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। বিষণ্ণ সুরে বললো,

‎

‎”আমার মনটা একদম ভালো নেই রে… গাড়িটা তুই চালা।”

‎

‎বাঁধন আর কোনো কথা বাড়ালো না। চুপচাপ গিয়ে সোজা ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো। আকাশও পাশে গিয়ে বসার সাথে সাথেই, হুহু করে গতি বাড়িয়ে গাড়িটা ছুটে চললো বৃষ্টিদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।বৃষ্টিদের বাড়ির ঠিক সামনে এসে একটা তীব্র শব্দে গাড়ি থামলো। গেট ঠেলে দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো দুজনে।

‎

‎ওদিকে ওপরের বেলকনিতে বৃষ্টি আর রূপা তখনো চুপিচুপি আড্ডায় মশগুল। হঠাৎ বৃষ্টির নজর গিয়ে পড়লো নিচের চত্বরে। এত রাতে মাঝপথে আকাশ আর বাঁধনকে এভাবে এক সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে যেন আকাশ ভেঙে পড়লো তার মাথায়! চমকে উঠে রূপার কাঁধে একটা ধাক্কা মেরে ফিসফিস করে বললো,

‎

‎”এই, দেখ!”

‎

‎রূপা তখন একদম আয়েশ করে বয়াম থেকে আচার তুলে চাটছিল। সে মুখ না ঘুরিয়েই নির্ভাবনায় বললো,

‎

‎”কী দেখবো?”

‎

‎”আরে, নিচে তাকিয়ে দেখ না একবার!”

‎

‎রূপা আলতো করে ঘুরে দাঁড়িয়ে সোজা নিচের দিকে তাকালো। বাঁধন আর আকাশকে দেখে সেও মুহূর্তের জন্য খানিকটা থমকে গেল। তবে পরক্ষণেই সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ওপর থেকে হাত নেড়ে চঞ্চল গলায় ডেকে উঠলো,

‎

‎”আকাশ ভাইয়া!”

‎

‎রূপার সুমিষ্ট গলার আওয়াজ পেতেই আকাশ আর বাঁধন দুজনেই ঝটপট ওপরের দিকে চোখ তুললো। এতক্ষণ পর রূপার মিষ্টি মুখখানা চোখের সামনে দেখেই যেন বাঁধনের ধুকপুক করা বুকে এক ফোটা প্রাণ ফিরে এলো!

‎‎আকাশ এক পলক একদৃষ্টিতে বৃষ্টির দিকে তাকালো; তার আকুল চোখজোড়া যেন নিমিষেই স্থির হয়ে গেল। তারপর দৃষ্টি সরিয়ে রূপার পানে চেয়ে ধীর কিন্তু স্পষ্ট গলায় বললো,

‎

‎”রূপা, নিচে নেমে আয় তো!”

‎

‎রূপা একজোড়া ভ্রু কুঁচকে শুধালো,

‎

‎”কেন?”

‎

‎আকাশ অধৈর্য গলায় বললো,

‎

‎”দরকার আছে রে, তুই আগে নিচে আয়!”

‎

‎রূপা বৃষ্টির দিকে ঘুরে তাড়া দিয়ে বললো,

‎

‎”চল নিচে যাই! দেখি ভাইয়া কিসের জন্য ডাকছে?”

‎

‎বৃষ্টি আমতা আমতা করে পিছিয়ে গিয়ে বললো,

‎

‎”তুই যা৷ আমি যাবো না।”

‎

‎কিন্তু রূপা কোনো বারণ শুনলো না। জোর করে হাত ধরে টেনেটুনে বৃষ্টিকে সাথে নিয়েই নিচে নেমে এলো।রাতের শীতল হাওয়া তখন বেশ জেঁকে বসেছে চারিদিকে। বাইর বাড়ির ফাঁকা জায়গায় পা রাখতেই হিমেল বাতাসে শরীরটা যেন কনকন করে উঠলো ওদের। রূপা এসে দাঁড়ালো ঠিকই, কিন্তু একবারের জন্যও বাঁধনের চোখের দিকে তাকালো না একদম স্পষ্ট অবহেলা! সে সোজা আকাশের দিকে চেয়ে শুধালো,

‎

‎”কী বলবে বলো?”

‎

‎আকাশ আকুল চোখে তার দিকে চেয়ে এক বাক্যে বললো,

‎

‎”বাড়ি চল!”

‎

‎

‎রূপা আড়চোখে বাঁধনের থমথমে মুখের দিকে একবার তাকালো। তারপর নাকের ডগায় কৃত্রিম রাগ ফুটিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে বললো,

‎

‎”পাগল নাকি তুমি, ভাইয়া! কাল বৃষ্টির এনগেজমেন্ট, আর আমি কিনা বাড়ি চলে যাবো? কখনো না!”

‎

‎আকাশ চোখের পলক না ফেলে ধীর কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললো,

‎

‎”কাল ওর কোনো এনগেজমেন্ট হবে না। তুই চুপচাপ বাড়ি চল!”

‎

‎কথাটা শোনামাত্রই রূপা আর বৃষ্টি দুজন চরম অবাক হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকালো।

‎

‎ওদিকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধনের মনে মনে তখন তীব্র হাসির তোড় উঠছে। তবে মুখটা একদম গম্ভীর রেখে, ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের হাসি চেপে রাখলো সে।‎রূপা অবিশ্বাস ভরা চোখে শুধালো,

‎

‎”হবে না মানে! তুমি কি আমার সাথে মজা করছো?”

‎

‎আকাশ ব্যাকুল গলায় বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলো,

‎

‎”আরে সত্যি বলছি, হবে না! তুই এখন বাড়ি চল, কাল নিজের চোখে দেখলেই বুঝবি হবে কি হবে না!”

‎

‎রূপার মনে হলো, আকাশ হয়তো তাকে যেভাবেই হোক বাড়ি ফেরানোর জন্য মনগড়া বান বানিয়ে মিথ্যা বলছে। সে ঝটপট মুখ ঘুরিয়ে অবহেলার সুর বললো,

‎

‎”উঁহু, আমি কিচ্ছু শুনবো না! আমি যাবো না!”

‎

‎আকাশের ধৈর্যের বাঁধ এবার পুরোপুরি ভেঙে গেল। সে রূপার সামনে দু-হাত জোড় করে কাকুতি-মিনতি করে বললো,

‎

‎”হাত জোড় করে বলছি রে বোন! তুই প্লিজ এখন বাড়ি চল!”

‎

‎রূপা এবার আবার আড়চোখে বাঁধনের দিকে তাকালো। তারপর গাল ফুলিয়ে বেশ অভিমানী গলায় আকাশের উদ্দেশ্যে বললো,

‎

‎”একজন আমাকে ভীষণ বকেছে, অনর্থক চোখ রাঙিয়েছে! আমি কিচ্ছুতেই যাবো না!”

‎

‎বাঁধন নিমেষেই বুঝে গেল৷ তার এই অভিমানী বউটা তীরটা সোজা তার কলিজা লক্ষ্য করেই ছুড়েছে! সে আর নীরবতা ধরে রাখতে পারলো না। নিজের গম্ভীর ভাব ঝেড়ে ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে রূপার ইঙ্গিতপূর্ণ গলায় বললো,

‎

‎”আকাশ, ওকে বল.. সে সরি বলেছে। আর কখনো বকবে না, কখনো চোখও রাঙাবে না।”

‎

‎আকাশ সাথে সাথে বাঁধনের কথাটা লুফে নিয়ে রূপার দিকে তাকিয়ে তাড়া দিল,

‎

‎”ওই যে দেখছিস, সে সরি বলছে! প্লিজ বোন, এবার তো অন্তত বাড়ি চল!”

‎

‎

‎রূপা একগাল ফুলিয়ে, বাঁধনের দিক থেকে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে অভিমানী গলায় বললো,

‎

‎”এহহ! উনি আমাকে তো বলেননি, তোমাকে বলেছেন! আমাকে বলতে হলে সোজা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতো!”

‎

‎কথাটা শেষ হতে না হতেই কোনো ব্যাকরণ না মেনে, নিমিষে রূপার ঠিক সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো বাঁধন! তারপর নিজের দুই কান ধরে, সরাসরি রূপার কাজলকালো চোখের দিকে তাকিয়ে কাতর কণ্ঠে বলে উঠলো,

‎

‎”সরি… সরি… সরি! আই রিয়েলি সরি, রূপ! প্লিজ এবার বাড়ি চল! তোকে মিস করছি। তোকে ছাড়া আর এক মুহূর্তও থাকতে পারছি না আমি।”

‎

‎

‎এত মানুষের সামনে বাঁধনের এমন অভাবনীয় কান্ড দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেল বৃষ্টি। সে এক পলক আকাশের দিকে তাকাতেই দেখলো, লোকটা হাঁ করে ড্যাবড্যাব করে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে আছে! নিমিষেই কোত্থেকে যেন সাহস সঞ্চার হলো বৃষ্টির মনে; সে হুট করে আকাশের হাতটা চেপে ধরে টেনে খানিকটা দূরে, গাছের আড়ালে নিয়ে এলো।

‎

‎হাঁপাতে হাঁপাতে অতি সাবধানে ফিসফিস করে বললো,

‎

‎”স্যার! আমাদের ওখানে আর দাঁড়িয়ে থাকা একদম ঠিক হবে না।”

‎

‎আকাশ বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর ধীরপায়ে বৃষ্টির আরেকটু কাছে সরে এসে আকুল চোখে ওর কাজলকালো মুখের দিকে তাকালো। বিষণ্ণ গলায় শুধালো,

‎

‎”বৃষ্টি… তুমি কি সত্যি এই বিয়েতে রাজি?”

‎

‎আচমকা আকাশের ধারালো প্রশ্নে থমকে গেল বৃষ্টি! বুকটা এক লহমায় ধড়ফড় করে উঠলো তার, যেন হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম! কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত মাথা নিচু করে ফেললো সে; চোখের পাতা দুটো থরথর করে কাঁপতে লাগলো।

‎

‎আকাশ এবার আরও একটু আকুতি মিশিয়ে ধীরকণ্ঠে বললো,

‎

‎”কী হলো, উত্তর দাও?”

‎

‎

‎পুনরায় কেঁপে উঠলো বৃষ্টি। বুকের ভেতরটা তীব্র এক অস্থিরতায় ধড়ফড় করতে লাগলো। থরথর করে কাঁপা ঠোঁটে সে আলগোছে মাথা নেড়ে নিচু স্বরে বললো,

‎

‎”জ্বি স্যার…”

‎

‎আকাশ একদৃষ্টিতে, অপলক চোখে তাকিয়ে রইলো বৃষ্টির কাজলকালো মুখের পানে। কী যে এক তীব্র, অলৌকিক মায়া খেলা করে মেয়েটার ওই নিষ্পাপ চেহারায়! তা কেবল আকাশই বোঝে, একমাত্র আকাশই জানে। আর এই মায়ার শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে গেলে যে তার নিজের প্রাণটাই শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যাবে!

‎

‎—

‎

‎ওদিকে রূপা তখনও একরাশ কৃত্রিম অভিমানে দুই হাত বুকের ওপর শক্ত করে ক্রস করে, মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টু শব্দটিও করছে না সে।বাঁধন রূপার এমন জেদ দেখে আবার ধীরপায়ে তার সামনে এসে দাঁড়ালো। এবার কোনো দ্বিধা না রেখে, নিজের দুই কানে হাত দিয়ে একটার পর একটা উঠবস করতে করতে কাতর কণ্ঠে বলে উঠলো,

‎

‎”সরি বউ… সরি সোনা… সরি সুইটহার্ট! সরি তীরন্দাজিনী… সরি মাফিয়ার বাচ্চা! এই তো দেখো, আমি কান ধরে উঠবস করছি তো! আর জীবনেও কখনো রাগ দেখাবো না তোমার সাথে, সত্যি বলছি! তবু প্লিজ, আমার সাথে চলো… আমি আর এক সেকেন্ডও তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো। কষ্ট হয় আমার, ভীষণ যন্ত্রণায় বুকটা ফেটে যায় তোমাকে ছাড়া থাকতে!”

‎

‎হুট করে বাঁধনের মুখে চিরচেনা গম্ভীর ‘তুই’-এর বদলে অনুরাগে ভরা ‘তুমি’ ডাকটা শুনে রূপা যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারলো না! এক লহমায় তার বুকের ভেতরটা অচেনা শিহরণে কেঁপে উঠলো। রূপা চোখ দুটো বড় বড় করে, আলতো গলায় শুধালো,

‎

‎”আপনি… আপনি আমাকে ‘তুমি’ করে ডাকলেন?”

‎

‎বাঁধন তখনও কানে হাত রেখে সমান তালে উঠবস করতে করতেই একবুক আকুতি ঢেলে বললো,

‎

‎”হ্যাঁ, আমি তোমাকে ‘তুমি’ করেই ডেকেছি! আর আজ থেকে, এখন থেকে সারাটা জীবন আমি তোমাকে তুমি বলেই ডাকবো… অনেক অনেক ভালোবাসবো তোমাকে! প্লিজ জান আমার… বেবি আমার… এবার চলো, ফিরে এসো আমার বুকে!”

‎

‎রূপার মনটা বাঁধনের এমন ব্যাকুলতায় ভেতরে ভেতরে খুশিতে মেতে উঠলেও, সে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে চালবাজির সুরে বললো,

‎

‎”আপনি আমাকে বকেছেন!”

‎

‎বাঁধন কানের লতি চেপে উঠবস করতে করতে সোজা জবাব দিল,

‎

‎”আর বকবো না!”

‎

‎”চোখ রাঙিয়েছেন?”

‎

‎”আর কখনো রাঙাবো না!”

‎

‎”চুপ থাকতে বলেছেন?”

‎

‎”আর কোনোদিন চুপ থাকতে বলবো না!”

‎

‎”রাগ দেখিয়েছেন!”

‎

‎”আর জীবনেও দেখাবো না!”

‎

‎”মনে থাকবে তো?”

‎

‎”সারাটা জীবন মনে থাকবে, কথা দিচ্ছি।”

‎

‎রূপা এবার সোজা হয়ে দাঁড়ালো। রূপসীর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো মলজ্জামাখা মায়াবি হাসি। বাঁধনের কাজলচোখে চোখ রেখে আলতো গলায় বললো,

‎”এবারের মতো মাফ করলাম!”

‎

‎কথাটা শোনামাত্রই বাঁধন যেন নিজের হারিয়ে যাওয়া প্রাণটা এক লহমায় ফিরে পেলো! আর এক সেকেন্ডও দেরি করলো না সে৷ তৎক্ষণাৎ কানের লতি ছেড়ে দিয়ে রূপাকে এক ঝটকায় নিজের বুকের মাঝখানে টেনে নিলো। পাষাণ হৃদয়ের শক্ত দুই বাহু দিয়ে তাকে বাঁধলো অনড় মাতাল আলিঙ্গনে।

‎

‎বাঁধনের বুকের ভেতরটা তখন তীব্র ঝড়ের বেগে ধুকপুক করে চলেছে! সেই ভালোবাসার উথালপাথাল স্পন্দন রূপার কানের কাছে স্পষ্ট বেজে উঠলো।বাঁধন আলতো করে রূপার ঘাড়ের খাঁজে মুখ গুঁজে দিলো। তারপর একবুক তৃপ্তি আর তীব্র আকুলতা নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো,

‎”কী জাদু করলা বউ৷ তুমি সাথে থাকলে পৃথিবীটা সুন্দর, আর না থাকলে মনটা দিশেহারা পাগল। তুমি কাছে থাকলে মনে অখণ্ড শান্তি৷ আর দূরে গেলে বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা।”

‎

চলবে…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply