#বাঁধন_রূপের_অধিকারী
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ৩
হাতে গুনে গুনে চৌদ্দটা বছর পার হয়ে গেছে। সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে অনেক স্মৃতি, বদলে গেছে শহরের চিরচেনা রূপ। কিন্তু সব পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে রূপা। সেই ছোট্ট, চঞ্চল রূপা আজ আর নেই সে এখন এক মায়াবী রূপসী তরুণী।রুপার সৌন্দর্য যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি। তার গায়ের রং শরতের মেঘমুক্ত আকাশের জ্যোৎস্নার মতো শুভ্র ও উজ্জ্বল। টানা টানা ডাগর চোখ দুটোয় সবসময় এক অদ্ভুত মায়া খেলা করে, যা নিমেষেই যে কাউকে মুগ্ধ করে দিতে পারে। তার রেশমের মতো কালো চুলগুলো পিঠের ওপর ঢেউ খেলে পড়ে, যেন এক অন্ধকার মেঘের মেলা। তবে রূপার সৌন্দর্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো তার ভুবনভোলানো হাসি। হাসলে তার মুক্তোর মতো সাদা দাঁতগুলোর মাঝে কোণের দিকে থাকা সেই *ঘ্যাচ দাঁতটি’উঁকি দেয়। এই একটিমাত্র দাঁত তার সৌন্দর্যে যেন এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে; যা তাকে সাধারণ সুন্দরীদের ভিড় থেকে আলাদা করে এক অনন্য সাধারণ রূপ দান করেছে। তাকে দেখলে মনে হয়, যেন স্বর্গের কোনো অপ্সরা মর্ত্যে নেমে এসেছে। এই চৌদ্দ বছরে সে নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে এক মায়াবতী রাজকন্যার মতো, যার রূপের ছটায় পুরো শহর আজ মোহগ্রস্ত।
সকাল সকাল রহমান বাড়িতে আজ রীতিমতো উৎসবের আমেজ। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে পোলাও, কোর্মা আর হরেক পদের সুঘ্রাণ। রজনী রহমান সেই ভোর থেকে হেঁসেলে ব্যস্ত, আগুনের তাপে ঘামছেন ঠিকই কিন্তু তার মুখে লেগে আছে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি।রূপা কলেজে যাওয়ার জন্য একদম রেডি হয়ে নিচে নামল। পরনে তার কলেজের ইউনিফর্ম ড্রেস, আর স্বভাবমতো দুই পাশে ঝুলে আছে দুটো লম্বা বেণী। বড় হলেও তার স্বভাবটা রয়ে গেছে ঠিক সেই আগের মতো বাচ্চাদের মতোই হয় দুটো বেণী করবে, নয়তো দুটো ঝুঁটি।
সে ড্রয়িং রুমে এসে দেখল আহসান রহমান আর আতিক রহমান চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর নিজেদের মাঝে গল্প করছেন। তাদের পাশের সোফায় বসে বেশ গম্ভীর মুখে খবরের কাগজ পড়ছেন হাজি রহমান। রূপাকে।দেখে আহসান রহমান স্নেহের সুরে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন। রূপা ধীর পায়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি তাকে নিজের পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন।
“পড়াশোনা কেমন চলছে তোমার মা? সব ঠিকঠাক আছে তো?”
রূপা মাথা নেড়ে মিষ্টি হেসে উত্তর দিল।
“হ্যাঁ বাবা, সব ঠিক আছে।”
“যাক, ভালো থাকলেই আলহামদুলিল্লাহ।”
কিছুক্ষণ পরেই শান্তা ভার্সিটির জন্য তৈরি হয়ে নিচে নেমে এল। রূপার কলেজ আর শান্তার ভার্সিটি পাশাপাশি হওয়ায় তারা সবসময় একসাথেই বের হয়। তবে বের হওয়ার আগে রূপা কৌতূহল সামলাতে না পেরে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল। এত আয়োজন দেখে অবাক হয়ে সে রজনী রহমানের উদ্দেশ্যে বলল।
“মা, আজ এত আয়োজন কেন? বিশেষ কেউ আসবে নাকি?”
পাশ থেকে শিলা রহমান উত্তর দিলেন।
“হ্যাঁ, আজ তোর বড় ভাই আসবে।”
রূপার চোখেমুখে বিস্ময়।
“কে? বাঁধন ভাইয়া?”
“হ্যাঁ।”
রূপা বেশ উৎসাহ নিয়ে বলল।
“খুব ভালো! ভাইয়াকে তো আমি কখনো দেখিনি। তাহলে এবার সামনাসামনি দেখা হচ্ছে ভাইয়ার সাথে!”
রূপারএমন কথা শুনে শিলা রহমান আর রজনী রহমানের মুখটা মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল। রজনী রহমানের মনে তখন হাজারো দুশ্চিন্তার পাহাড়। চৌদ্দ বছর আগের সেই জেদি, রাগী বাঁধন কি এখনো আগের মতোই আছে? নাকি সময়ের সাথে সে নিজেকে বদলেছে? মানুষ বড় হলে তো অনেক কিছু শেখে, বোধশক্তি বাড়ে। বাঁধনও তো এখন অনেক বড় হয়েছে, হয়তো সে আর আগের মতো সেই নিষ্ঠুর আচরণ করবে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে আল্লাহর কাছে শুধু মঙ্গলই প্রার্থনা করলেন রজনী রহমান।
_______
“বাঁধন ভাইয়া নাকি ছোট বেলায় তোর কাল্লা ফাটিয়ে দিয়েছিল।”
শান্তার হঠাৎ এমন কথা শুনে রূপার চলার গতি থমকে গেল। সে রাস্তার মাঝখানেই গাল ফুলিয়ে শান্তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাল রূপার সেই মায়াবী চেহারায় এখন এক রাশ বিস্ময় সে অভিমানী সুরে বলল।
“আপুউউউ মজা করছো?”
শান্তা রূপার অবস্থা দেখে খিলখিল করে হেসে দিল সে হাসতে হাসতেই বলল। “আরে না রে, মজা করব কেন? আমি একদিন আকাশ ভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম বাঁধন ভাইয়া নাকি তোর কাল্লা ফাটিয়ে দিয়েছিল!”
রূপা এবার বেশ জোর দিয়েই বলল।
“ভাইয়া আমার কাল্লা কেন ফাটাবে? এগুলা সব একদম মিথ্যা কথা। আকাশ ভাল্লুক ভাইয়ের তো আজ খবর আছে!”
শান্তা মাথা নেড়ে বলল।
“আচ্ছা, বাড়ি গিয়ে ওর খবর নিস।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। শান্তা তার ভার্সিটির রাস্তার দিকে চলে গেল রূপা নিজেও গটগট করে তার কলেজের দিকে হাঁটা দিল। রূপা ময়মনসিংহের বিখ্যাত আনন্দমোহন কলেজে পড়ে এবং সে এবার ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী।রূপা ক্লাসে ঢুকে দেখে তার তিন প্রিয় বান্ধবী নাদিয়া, কেয়া আর বৃষ্টি এক বেঞ্চে বসে গভীর আড্ডায় মেতে আছে। রূপা গটগট করে গিয়ে কোনো কথা না বলে চুপচাপ তাদের পাশেই বসে পড়ল। রূপার সেই ফোলা গাল আর গম্ভীর মুখ দেখে নাদিয়া টিপ্পনী কেটে বলল।
“কিরে লিচু, গাল এমন ফুলিয়ে রেখেছিস কেন?”
রূপা ছোট করে উত্তর দিল।
“এমনি?”
কিন্তু রূপার এমন চুপচাপ থাকাটা কেয়ার হজম হলো না। সে এক চোখ ছোট করে সন্দিগ্ধ গলায় শুধাল।
“কিছু তো একটা হয়েছে, নাহলে আমাদের এই চঞ্চল লিচু তো এত চুপচাপ থাকার কথা না।”
রূপা এবার গলার স্বরে কিছুটা ক্ষোভ মিশিয়ে বলেই ফেলল।
“ছোটবেলায় আমার বড় ভাই নাকি আমার কাল্লা ফাটিয়ে দিয়েছিল।”
কথাটা শোনামাত্রই নাদিয়া, কেয়া আর বৃষ্টি একসাথে খিলখিল করে হেসে উঠল। তাদের এমন হাসি দেখে রূপার রাগ যেন সপ্তম আকাশে চড়ে গেল। সে গাল দুটো আরও ফুলিয়ে মুখ ফিরিয়ে উল্টো দিকে তাকিয়ে গুম হয়ে বসে থাকল।হাসি কিছুটা থামিয়ে বৃষ্টি লম্বা শ্বাস নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
“তোর ভাই তোর কাল্লা ফাটিয়ে দিয়েছে, এই আজগুবি কথা তোকে কে বলেছে?”
রূপা দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিল।
“ওই আকাশ ভাল্লুক ভাইয়া বলেছে।”
কেয়া নাক কুঁচকে সায় দিয়ে বলল।
“তোর এই আকাশ ভাই না সত্যি একদম ভাল্লুকের মতো! সারাক্ষণ শুধু খাউ খাউ করে।”
রূপা তখন হাত ঝাড়া দিয়ে কাল্লা ফাটানোর টেনশন ঝেড়ে ফেলল। চোখ চকচক করে সে ফিসফিস করে বলল।
“বাদ দে ওকে, বাড়িতে গিয়ে ওর একদিন কি আমার একদিন! শোন, আসার সময় ওই রোডের পাশের বাগানে একটা পেয়ারা গাছ দেখছি, থোকায় থোকায় পেয়ারা ঝুলে আছে। যাবি নাকি চুরি করতে?”
চুরির নাম শুনে বৃষ্টির তো আহ্লাদে আটখানা অবস্থা। সে জিভে জল সামলাতে সামলাতে বলল।
“বলিস কি! চল চল, এখনই যাই। নাহলে একটু পরেই ক্লাসে স্যার ঢুকে পড়বে, তখন আর বের হতে পারব না।”
__________
রূপা, নাদিয়া, কেয়া আর বৃষ্টি চার মূর্তিমান আতঙ্ক তখন কলেজের দেওয়াল ঘেঁষে ওই বাগানের দিকে পা টিপে টিপে এগিয়ে চলল। পেয়ারা গাছের নিচে পৌঁছে সবাই উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে নিল মালিক আশেপাশে আছে কি না। তারপর শুরু হলো হুলুস্থুল কাণ্ড! কেউ ডাল ধরে ঝাঁকাচ্ছে, কেউ ওড়নার খুঁটে পেয়ারা জমাচ্ছে। চুরির সময় যে কী এক আদিম আনন্দ আর হাসি পায়, তা সবার মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল। হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল ধরার জোগাড়।সবাই যখন পাঁচ-ছয়টা করে পেয়ারা বাগিয়ে নিয়েছে, ঠিক তখনই ‘পালা পালা’ বলে দিল এক দৌড়! কিন্তু কিছুটা পথ যেতেই চারজনেরই পায়ের তলার মাটি যেন থমকে গেল। হাসি মিলিয়ে গিয়ে সবার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বৃষ্টি তো ভয়ে বড় বড় ঢোক গিলতে শুরু করল।তাদের সামনে ছয়জন ছেলে একটা জটলা পাকিয়ে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই বৃত্তের মাঝখানে একটা ছেলেকে মাটিতে ফেলে কেউ একজন পৈশাচিক শক্তিতে পেটাচ্ছে। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু মারের শব্দ আর ছেলেটার গোঙানি শোনা যাচ্ছে। মারের চোটে ছেলেটা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আর যে মারছে তার সেই সুঠাম দেহ আর হাতের পেশিগুলো রাগে ফুলে উঠছে।
ছেলেটাকে যেভাবে পাষাণ হৃদয়ে মারা হচ্ছে, তা দেখে রূপার বুকটা হু হু করে উঠল তার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ঘুরছে মানুষের মনে কি মায়া-দয়া বলতে কিছু নেই? রূপা যখনই প্রতিবাদ করার জন্য এক পা বাড়াতে যাবে, ওমনি কেয়া তার হাতটা ঝপ করে টেনে ধরল।কেয়া ভয়ার্ত গলায় ফিসফিস করে বলল।
“কোথায় যাস? চল তাড়াতাড়ি কলেজে যাই! এসবের মধ্যে একদম যাস না, এরা এই এলাকার মাস্তান, ভীষণ খারাপ ছেলে সব।”
রূপা নিজের হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে তেজ দেখিয়ে বলল।
“তাই বলে একটা লোককে এইভাবে মারবে? দেখ ছেলেটা কত কষ্ট পাচ্ছে!”
নাদিয়া এবার বিরক্ত হয়ে বলল।
“তোর সেটা দেখতে হবে কেন? এখন এখান থেকে কেটে পড়াই ভালো।”
কিন্তু রূপার সেই জেদি আর প্রতিবাদী মন কিছুতেই মানল না। সে এক ঝটকায় বান্ধবীদের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বলল।
“না আমি যাব না! একটা ছেলেকে এইভাবে পশুর মতো মারবে আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব? কিছুতেই না!”
বলেই রূপা একরকম দৌড়ে ওই ছেলেদের জটলার মাঝখানে গিয়ে রুখে দাঁড়াল। কোমরে হাত দিয়ে বেশ কড়া গলায় সে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল।
“কী হচ্ছে কী? ওকে এইভাবে পশুর মতো মারছেন কেন?”
পুরো চত্বর যেন এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল। যারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা অবাক হয়ে এই দুই বেণী করা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের মেয়েটার দিকে তাকাল। আর যে ছেলেটা মারছিল, সে ধীর পায়ে ঘুরে দাঁড়াল। রূপাকে দেখা মাত্রই যুবকটির বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। লম্বা দুটো দুই পাশে বেনুনি, টানা টানা ডাগর মায়াবী চোখ রূপাকে দেখে যুবকটি মুহূর্তেই কথা বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেলল। রূপা ছেলেটাকে এইভাবে হাঁ করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হলো। সে কপাল কুঁচকে ঝামটা দিয়ে বলল।
“মুখে মাছি ঢুকে যাবে তো?।”
পাশ থেকে রনি নামে একটা ছেলে রূপার দিকে তাচ্ছিল্যের নজরে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলল।
“এই মেয়ে কে তুমি আর এখানে কী করছো?।”
রূপা ভয় পাওয়া তো দূর, উল্টো তার ওড়নার খুঁটে রাখা পেয়ারাগুলো উঁচিয়ে দেখিয়ে বেশ তেজ নিয়ে বলল।
“পেয়ারা চুরি করতে এসেছি, খাবেন নাকি? না, দিব না আপনাদের। আপনারা খুব খারাপ মানুষ, একটু আগে ওই ছেলেটাকে কীভাবে মারছিলেন?।”
রনি এবার দাঁত মুখ খিঁচিয়ে শাসানোর সুরে বলল।
“এই মেয়ে মুখ সামলে কথা বলো। কলেজের পিচ্চি মেয়ে, কলেজে যাও। বেশি সাহস দেখাতে এসো না।”
এতক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে অপলক তাকিয়ে থাকা সেই যুবক, নাম তার ইশতিয়াক, যে এই এলাকার সব বখাটে পোলাপানের নেতা। সে হঠাৎ রনির দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকাল। ইশতিয়াক রনির দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু খুনে গলায় বলল।
“আর একটা কথা বললে তোর প্যান্ট খুলে বাতাসে উড়িয়ে দিবো।”
মুহূর্তে বাকি কয়জন ছেলে হো হো করে হেসে উঠল। রনির মুখটা অপমানে আর ভয়ে একদম চুপসে গেল। ইশতিয়াক এবার রূপার দিকে তার চোখের সেই কঠিন চাহনিটা বদলে খুব নরম দৃষ্টিতে তাকাল। সে বেশ কৌতূহলী হয়ে আলতো করে জিজ্ঞেস করল।
“নাম কী তোমার?।”
রূপা এক ঝটকায় নিজের ঘাড় বাঁকিয়ে বেশ তাচ্ছিল্যের সাথে বলল।
“নাম দিয়ে কাম কী?।”
ইশতিয়াক রুপার এমন ঠোঁটকাটা উত্তর শুনে মুগ্ধতার আবেশে মাথা নেড়ে বলল।
“তুমি মেয়ে বড্ড বেশি কথা বলো তো?।”
রূপা এবার কোমরে হাত দিয়ে তড়বড় করে বলে উঠল।
“এইটা তো সবাই জানে, শুধু আজ আপনি নতুন জানলেন। যা-ই হোক, শুনুন মানুষকে এভাবে মারা একদম ভালো কাজ না। কোনো মানুষকে মারার অধিকার কারো নেই। তাই সাবধান করছি, এইভাবে আর কাউকে মারবেন না। এই টুকুই বলার ছিল, এখন আসি, কলেজের দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
রূপা কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলে গটগট করে ঘুরে যেতে নিলে, পিছন থেকে ইশতিয়াক বেশ গভীর আর নেশাক্ত গলায় বলে উঠল।
“তুমি কি জানো তুমি কারো বুকে ঝড় তুলে দিছো?।”
কথাটা শোনামাত্রই রূপা চট করে ঘুরে ইশতিয়াকের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে দিল। তার সেই মায়াবী ঘ্যাঁচ দাঁতটা ঠোঁটের আড়ালে চিকচিক করে উঁকি দিল। তার সেই মুক্তোঝরা হাসিতে যেন মুহূর্তের জন্য পুরো বাগান আর বাতাসের শনশন শব্দ থমকে গেল। ইশতিয়াক নামক মানুষটা যেন এই সামান্য হাসিতেই নিজের চেনা জগতটা একদম ভুলে গেল। রূপা ইশতিয়াকের সম্মোহিত মুখের দিকে তাকিয়ে হাসি থামিয়ে বেশ বিজ্ঞের মতো বলল।
“কোনো সাধারণ মানুষ কি ঝড় তুলতে পারে? স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া কেউ ঝড় তুলতে পারে না।”
বলেই রূপা তার ওড়নার খুঁটে পেয়ারাগুলো সামলে নিয়ে গটগট করে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল। ইশতিয়াক পাথরের মূর্তির মতো অপলক সেদিকে তাকিয়ে রইল। সে নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে বলল।
“এই মেয়েটাকে আমার চাই, যেভাবেই হোক।”
বলেই সে তার সাঙ্গপাঙ্গদের দিকে খুনে চোখে তাকিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বলল।
“খোঁজ লাগা! ওর সব ডিটেইলস আমার চাই আজকের মধ্যে।”
—–
দুপুরের দিকে রহমান বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠল। শিলা রহমান হাতের কাজ ফেলে দ্রুত এসে দরজা খুলে দিলেন। কিন্তু দরজা খোলা মাত্রই শিলা রহমান সামনে তাকাতেই তার চোখ যেন কপালে উঠে গেল। তিনি যেন কথা বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেললেন, পাথর হয়ে শুধু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির দিকে অপলক তাকিয়ে রইলেন।
রজনী রহমানও রান্নাঘর থেকে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলেন। তিনি কে এসেছে দেখার জন্য দরজার কাছে এসে সামনে তাকিয়েই থমকে গেলেন তার পা যেন সেখানেই মেঝের সাথে আটকে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে রজনী রহমানের চোখ থেকে দু ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
রানিং…!
Share On:
TAGS: বাঁধন রূপের অধিকারী, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৮
-
বাঁধন রূপের অধিকারী গল্পের লিংক
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৯
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৮
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭