প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬৩
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
স্বামীর সোহাগে আদুরে বাচ্চার ন্যায় গুটিয়ে গেছে কায়নাত। স্বামীর বুকে মাথা রেখে রাত্রি বিলাস করছে সে। বারান্দার গ্রিল ভেদ করে ঠান্ডা হাওয়া ছুঁয়ে দিচ্ছে সর্বাঙ্গ। আর একটু শরীর ঘেঁষে এলো তার ছোট্ট দেহ। অর্ণ বিলি কেটে দিচ্ছে ওর মাথায়, কখনও বা ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে গোটা মুখশ্রী। এত সুখ সে কোথায় রাখবে? কাকে বলবে তার গোটা দুনিয়ার সুখ পায়ের নিচে এনে হাজির করেছে এই ছোট্ট মেয়েটা!
কায়নাত কপাল কুঁচকে ঘাড় উঁচু করে তাকাল। অর্ণর চাপ দাড়ির ভাজে হাত স্পর্শ করতেই অর্ণ দৃষ্টি নত করল।
“কী হলো? শরীর খারাপ লাগছে?”
কায়নাত মৃদু মাথা নাড়িয়ে বলে,
“খারাপ লাগছে না। ভালো লাগছে। আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন না!”
অর্ণ মৃদু হাসল। হাতের বাঁধন শক্ত করল।
“এই পরীক্ষার সময় এমন একটা সংবাদ সত্যি-ই খুব ভাবাচ্ছে আমায়। আমার জন্য তোমার কষ্ট করতে হচ্ছে।”
কায়নাত বলল,
“বাচ্চাটা কী আপনার একার? আমার নয়? পরীক্ষা তো আর মাত্র কয়েকদিন। আপনি থাকতে আমার চিন্তা কীসের?”
“তোমাকে নিয়ে ভয় আমার। আমি একদিন পাশে না থাকলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারো না। যদি আমি না থাকি তাহলে নিজের খেয়াল কে রাখবে? নিজেকেই তো রাখতে হবে বলো?”
“আপনি এমন কথা বললে আপনার সাথে আমি আর জীবনেও কথা বলব না।”
অর্ণ আর কোনো কথা বলল না। এই মেয়েকে বলেও লাভ নেই তার জানা আছে। আগামী ৩দিন বন্ধ আছে ওর। তাই অর্ণ ভাবল দুদিন চৌধুরী বাড়ি থাকবে সে। তার হাতের অমন বিশ্রী রান্না খেতে কায়নাতের নিশ্চয়ই খুব কষ্ট হয়? তবু মেয়েটা টু শব্দ না করে চুপচাপ খাবার খায়। সকাল বেলা অর্ণর ঘরের সামনে হাজির হয়েছে জয়া। আর ঠিক তার পেছনে প্রেম। সে ভ্রু কুঁচকে জয়ার কাহিনি দেখছে। কাল রাতে ভাই বারবার বলে দিয়েছিল তাদের যেন কেউ বিরক্ত না করে; অথচ এই মেয়ে সকালের আলো ফুটতে না ফুটতেই হাজির হয়েছে ঘরের সামনে। জয়া কোমরে হাত দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। চোখ পাঁকাল বড় বড় করে।
“আপনার বড় ভাইয়ের বউ আমি। আমার পেছনে ঘুরঘুর করছেন কেন? লজ্জা করে না?”
প্রেম সরু চোখে তাকাল।
“তা মরুব্বি ভাবি, আপনি আমার বড় ভাইয়ের ঘরের সামনে কী করেন?”
“আপনার ভাইয়ের ঘর আমার বোনের ঘর হয়। ওর সাথে কথা বলতে এসেছি আমি।”
“ভাইয়ারা ঘুমোচ্ছে এখন, তুমি পরে আসো।”
“আপনাকে পাহারা দিতে কে বলেছে শুনি? আপনি আপনার কাজে যান না বাপু!”
প্রেম বুকে হাত গুজল।
“নাজনীন ভাই আজ বাড়িতে আছে। ভাবছি তার সাথে মিটিং করব তোমাকে নিয়ে।”
“আমি কী আপনার ভাইকে দেখে ভয় পাই?”
“পাস না বুঝি?”
হঠাৎ নাজনীনের কণ্ঠস্বর শুনে দুজন ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল বাঁ পাশে। নাজনীন পাঞ্জাবীর হাতা গোটাতে গোটাতে এগিয়ে আসছে। জয়া শুকনো ঢোক গিলল। প্রেম বাঁকা হেসে বলল,
“তোমার বউকে জিজ্ঞেস করো!”
জয়া মুখ কালো করে বলল,
“আশ্চর্য! আমি কায়নাতের সাথে একটু দেখা করতে এসেছিলাম, এখানেও ওর দেবরের এত সমস্যা?”
নাজনীন কিছুটা চাপা স্বরে বলল,
“একটুও আক্কেল কী নেই মাথায়? কাল ওর জন্য কত আয়োজন করেছে অর্ণ। রাত করেই হয়তো ঘুমিয়েছে ওরা।”
প্রেম এক প্রকার জোর করে জয়াকে সরাল নাজনীনকে দিয়ে। এই মেয়ের ঘটে কী আসলেই বুদ্ধি নেই? কখন কোথায় কী করতে হয় তার ন্যূনতম জ্ঞান নেই।
আজ আকাশ জুড়ে রঙের বাহার। চিকচিক করছে সোনালী রঙে। কায়নাতের ঘুম ভেঙেছে দুপুরের একটু আগ দিয়ে। ঘুম থেকে উঠেই অর্ণর ঘরে বাড়ির সব মানুষদের দেখে বেচারি হতভম্ব হয়ে গেছে। বাদ যায়নি ঢাকার কেউ। সবার গুনগুন শব্দের মধ্যেই কায়নাত উঠে বসল কোনরকম। মাথায় ওড়না টানতেই ছোট্ট আদি পাশ থেকে ঝাঁপটে ধরল তাকে। ফটাফট গালে বেশ কয়েকটা চুমু খেল। কায়নাত ফ্যালফ্যাল করে সবার দিকে তাকিয়ে কিছু বোঝার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে গেলেই বেহরুজ বেগম এসে বসলেন ওর পাশে। বাড়ির সব মহিলা মানুষ জড়ো হয়েছে এই ঘরে। তাদের মধ্যে শাশুড়িকে দেখে কায়নাত শুকনো ঢোক গিলল। বেহরুজ বেগম বললেন,
“খুশির মুহূর্ত সবাই মিলে উপভোগ করতে চলে এলাম। তোমার শ্বশুর পাগল হয়ে যাচ্ছিলেন তোমায় দেখবে বলে।”
কায়নাত বলল,
“আপনারা কখন এসেছেন মা?”
“রাতে রওনা হয়েছিলাম। সকাল হয়েছে আসতে আসতে।”
আদি নানির কথা কেটে কায়নাতের গলা জড়িয়ে ধরল। খুব আদুরে গলায় বলল,
“স্বার্থ ভাই বলেছে আমার বউ খুব তাড়াতাড়ি আসবে। আমি ওর নাম ঠিক করেছি।”
ওর কথায় উপস্থিত সবাই ঠোঁট টিপে হাসলেন। কায়নাত বোকার মতো জিজ্ঞেস করল,
“কী নাম রেখেছ?”
“কাশি।”
কায়নাত অবাক গলায় প্রশ্ন করল,
“কাশি কেন?”
“মামু বলেছে, যদি তোমার মেয়ে হয় তাহলে নাম রাখবে কাশরিকা।”
কায়নাত পলক পিটপিট করল। অর্ণ মেয়ের নামও ঠিক করে রেখেছে? যদি মেয়েই না হয়? সে কপাল চাপড়ে ধরল।
“তাহলে কাশি নাম কেন রাখবে?”
আদি উত্তর দিল না। নুসরাত ওর পিঠে হালকা চাপড় মেরে বলল,
“ওর কথা রাখো তো! তোমার শরীর কেমন সেটা বলো?”
কায়নাত বলল,
“ভালো আছি আপু। ভাইয়া এসেছে?”
“সবাই এসেছে। নিচে আছে সকলেই।”
কায়নাত ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল সবার সাথে। আজ শুক্রবার। বেশ কিছু এতিম খানায় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব করেছে অর্ণ। নিজের সামর্থ অনুযায়ী। একটা টাকাও কারোর থেকে নেয়নি। সে যতটুকু পেরেছে ঠিক ততটুকুই করেছে। সকলে খুশিও হয়েছে খুব। সব চেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন মাশফিক চৌধুরী। তার প্রথম নাতি/নাতনি বলে কথা। মেয়ের ঘরের নাতির স্বাদ তো পেয়েছেনই, এবার ছেলের ঘরের বাকি। কায়নাতকে তিনি ছাড়ছেন না। বউমা আর শ্বশুর মিলে আড্ডায় মেতে আছে প্রায় ঘণ্টাখানিক ধরে। মূল আলোচনা বাচ্চা নিয়ে। কায়নাত অবশ্য শ্বশুরের পরিকল্পনা শুনে যাচ্ছে শুধু। বাপ আর ছেলে সমান পাগল। বাচ্চাটা দুনিয়ায় এলে কী হবে? মুচকি হাসল সে। অর্ণ সামনের সোফায় বসে চোয়াল ঘুচিয়ে বসে আছে। বাবা কায়নাতকে ছাড়ছে না আর সে চাচ্ছে বউকে নিয়ে ঘরে যাবে। মেয়েটার এখন বিশ্রাম দরকার সব সময়। অর্ণ চায় না এক ফোঁটা কষ্ট হোক ওর।
আব্দুর চৌধুরী হেলে-দুলে এসে বসলেন অর্ণর পাশে। অর্ণ দৃষ্টি সরিয়ে নিল বিরক্ত হয়ে। এখন নিশ্চিত এই লোক শুরু করবে নিজের ভাষণ। তার ভাবনা সত্যি করতে আব্দুর চৌধুরী বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ওর আর ঢাকায় যাওয়ার দরকার নেই ভাইজান। পরীক্ষা টা দিয়ে এখানেই থাকুক। সবাই দেখা-শোনা করতে পারবে।”
অর্ণ বলল,
“বউটা আমার চাচ্চু। আমি ওকে আমার সাথেই রাখব।”
“আমি বারণ করেছি রাখতে? তুমিও এখানে থেকে যাও। ঘর জামাই তো আর থাকতে হচ্ছে না।”
আব্দুর চৌধুরী মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অর্ণর কথা শুনতে তার ভালো লাগছে না। কায়নাত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল দুজনের জন্য। অর্ণ হঠাৎ চোখ পাকিয়ে তাকাল ওর দিকে।
“এই মেয়ে, তুমি আমার সাথে ঢাকায় ফিরবে নাকি এখানে বাপের হয়ে লেউটামি করবে?”
আব্দুর চৌধুরী দাঁত কটমট করে বললেন,
“বেয়াদব ছেলে! তুমি আমায় অপমান করছ? তোমার বউকে তুমি কিভাবে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাও সেটা আমিও দেখব। অসভ্য ছেলে!”
অর্ণ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। কায়নাতকে টেনে নিয়ে গেল সেখান থেকে। মাশফিক চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
“ছেলেটার সাথে লাগতে যাস কেন?”
“তোমার ছেলে এত বেয়াদব হলো কী করে বলো তো? আমি কী কিছু খারাপ বলেছি? এই সময়টাতে একটু সাবধানে না থাকলে চলে?”
••
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত কিছু যে বদলে গেছে তার ইয়াত্তা নেই। মেহরাবের বিয়ে আগামী সপ্তায়। তাও আবার কায়নাতের ফুপুর বড় মেয়ে সুরঞ্জনার সাথে। খবর এলো এইতো সকালে। সুরঞ্জনার দাদা বাড়ি থেকে বিয়ের আয়োজন হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, খুলনায় বর যাত্রী আসবে ঢাকা থেকে। অর্ণ কপাল কুঁচকে বসে আছে ল্যাপটপের সামনে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে মেহরাবের মুখটা জ্বলজ্বল করছে। অর্ণর সামনে কায়নাত গালে হাত দিয়ে বসে আছে। আর ঠিক তাদের পেছনে কায়নাতের বাহিনী। আদাল, আয়মান, নিশা, প্রেম এবং আদি। শেহের বোধহয় বউয়ের পিছু পিছু ঘুরছে। কায়নাত ভাবুক গলায় বলে,
“কিন্তু সামনে সপ্তায় তো আমার পরীক্ষা আছে। আমি কিভাবে বিয়েতে যাব? ফুপুমা বলেছে ওই বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে, কিন্তু এটা কী সম্ভব?”
মেহরাব বলল,
“আমাকে মাফ করো ভাবি, এই ব্যপারে আমি কিছু বলতে পারব না। বিয়ের ডেট তোমার ফুপুমার শ্বশুর ঠিক করেছেন।”
অর্ণ গম্ভীর হয়ে বলল,
“বিয়ে পিছিয়ে দে। আমার বউ যেতে না পারলে আমিও যাব না।”
“তুই অভিনয়ে সেরা রে অর্ণ। তোর বউয়ের রুটিন মাত্র দেখেছি আমি। আগামী সপ্তার শুক্রবারে আমার বিয়ে আর কায়নাতের বুধবারে পরীক্ষা। বন্ধর দিনেই তো হচ্ছেরে বাপ!”
কায়নাত বলল,
“ঠিক আছে ঠিক আছে।” তারপর অর্ণর দিকে ফিরে বলল,
“আপনি বউ পক্ষ নাকি বর পক্ষ?”
আদি একটু নড়েচরে কায়নাতের কোল ঘেঁষে বলল,
“আমি আমার বউয়ের পক্ষে ভাবি।”
অর্ণ ওকে কায়নাতের কাছ থেকে টেনে নিজের কাছে আনল। আদির ছোট্ট মুখ খানা মুঠোয় নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“তুমি না আমার মেয়েকে বিয়ে করবে? তাহলে আমার বউকে ভাবি ডাকো কেন? শাশুড়ি মা বলে ডাকবে এখন থেকে। মনে থাকবে?”
আদি ঘনঘন মাথা নাড়ল। উপস্থিত সবাই ঝড় তুলেছে ঘরে হাসতে হাসতে। বাচ্চা আসার নাম নেই আর এখানে বউ ভাগাভাগি হচ্ছে। না-জানি অর্ণর একটা মেয়ে হলে এই আদি ঠিক কী করবে!
•••
শেহের আর নুসরাতের সংসার টা দিব্যি চলছে। দুজনের মাঝে এক ফোঁটা দেয়াল আছে বলে মনে হয় না। দুজনের একজনও কি ভেবেছিল, তাদেরও এমন একটা সুখের সংসার হবে? ছোট্ট আদিকে নিয়ে বেশ যাচ্ছে দিন। তবে তানিয়া বেগম এখনো মানেননি নুসরাতকে। মনটা যেন বড্ড শক্ত। ঠিক যেমনটা পাহাড়ের হয়, তেমন। এতে অবশ্য নুসরাত এখন কিছু মনে করে না, তবে একটা সময় খুব খারাপ লাগত। শাশুড়ির সাথে তার দিনে একবার কথা হয় কিনা সন্দেহ। আদিকে একটু-আধটু আদর করতে দেখা যায়। ছোট বাচ্চা টা পুরো বাড়ি দাঁপিয়ে বেড়ায়। দাদার হাত ধরে প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় বের হয় আড্ডা দিতে। পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানে দাদার বন্ধুদের সাথেও গিয়ে বসে থাকে। নরুল সৈয়দ বড্ড ভালোবাসেন নাতিকে। না হোক সে রক্তের, কিন্তু নাতি তো? এতেই নুসরাত খুশি।
শেহের নুসরাতের মুখের সামনের চুল গুলো আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিল। অবাধ্য চুলের স্থানে তার অবাধ্য আঙুলের স্পর্শ লাগল। ঠোঁট কামড়ে ধরল মেয়েটা। বালিশ মুঠোয় ধরে শেহেরের বুকে মারতেই সে ধরে ফেলল হাত টা।
“কী সমস্যা রাতপাখি? ভালোবাসছি সেটা তোমার ভালোলাগছে না?”
নুসরাত মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“দরজা টা খোলা। কেউ চলে এলে কী ভাববে বলো তো?”
“কী ভাববে?”
নাকে নাক ঘষল শেহের। এলোমেলো ঠোঁটের স্পর্শ গেঁথে দিল সারা ঘাড় জুড়ে। নুসরাত বলল,
“আজই চলে যাবে? তুমি গেলে আদি খুব কাঁদবে।”
শেহের নুসরাতের পাশে বালিশে মাথা রাখল। ওকে টেনে নিল বুকে।
“শুধু আদি কাঁদবে? তুমি কাঁদবে না?”
“আমি কেন কাঁদব?”
“স্বামীর সোহাগ মিস করবে না?”
“ইশ! শেহের, একদম বাজে কথা বলে আমায় লজ্জায় ফেলবে না।”
“রাতপাখি যে লজ্জাও পায় সেটা কিন্তু আমি জানতাম না। এত লজ্জা কোথায় রেখেছ? আমাকেও দেখাও, আমিও একটু দেখি।”
নুসরাত চাপড় মারল ওর বুকে।
“খারাপ লোক। থেকে যাও না!”
“আসব তো আবার। আমাকে অফিসে কাল উপস্থিত থাকতেই হবে সোনা। মেহরাবের বিয়ের আগেই আসব। কথা দিচ্ছি।”
অমন শেষ প্রহরের ঘনিষ্ঠতার মাঝে কেমন যেন শব্দ হলো ঘরে। শেহের কপাল কুঁচকে উঠে বসল। ঘাড় ঘুরিয়ে সোফার দিকে নজর যেতেই আসমান থেকে পড়ল মনে হলো। আদি বাবার ফোন নিয়ে সোফায় শুয়ে শুয়ে পায়ের উপর পা তুলে গেম খেলছে। নুসরাত হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল ছেলের কাণ্ডে। শেহের কপাল চাপড়ে বলল,
“বেয়াদব টা পুরো স্বার্থর কপি। বাপের রোমান্সও সহ্য হয় না ওর।”
নুসরাত দাঁত চেপে বলল,
“চুপ করো তুমি। না জানি কী দেখেছে ও?”
শেহের মাথা চুলকে গলা চওড়া করে বলল,
“আদি, কিছু দেখেছিস?”
আদি ঘাড় বাঁকিয়ে ওদের দিকে তাকাল।
“কী দেখব?”
“ঘরে এসে আমাদের দিকে তাকিয়েছিলি?”
আদি ফের ফোনের দিকে নজর দিয়ে বলল,
“তুমি মাকে চুমু দিচ্ছিলে, যেভাবে বড় মামু মামিকে দেয়। ডেকো না আমায়, খেলছি দেখছ না?”
নুসরাত চোখ পাঁকাল। শেহেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। শেহের শুকনো ঢোক গিলল। এই ছেলে একটু বেশিই ডেঞ্জারাস। কখন কাকে কী বলে দেয় বলা যায় না।
(নতুন গল্প কবে শুরু করব? গল্পের নাম #আত্মার_অংশ দিব নাকি #কৃষ্ণপ্রহর? কমেন্ট করে জানাও।)
চলবে…?
শাড়ি:Glow Culture বোনের পেইজ, ফলো দিয়ো সবাই😘
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২