Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৪২


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৪২||

ফারজানারহমানসেতু

শাওয়ারের পানি পড়ার শব্দ পুরো রুমে একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা তৈরি করল।রোজা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন ভেতরে ভেতরে ঝড় বইছে।তূর্জানের কথাটা বারবার মাথায় ঘুরছে।“ আপনি বলবেন, নাকি আমি বলাবো আপনাকে দিয়ে!”

কি এমন কথা যা এভাবে বলছে? নিজের বুকের উপর হাত রাখল রোজা। হৃদস্পন্দনটা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি দ্রুত আর তীব্র অনুভূত হচ্ছে । নিজেই বিরবির করছে,
“আমি কেন এত নার্ভাস হচ্ছি? আমি কেন তূর্জান নেওয়াজ কে আমার নার্ভাসেস দেখাচ্ছি? ”

এত কেন এর উত্তর কে দেবে। মানলাম, তূর্জানের প্রতি রোজার ভালো লাগা কাজ করেছে, সেই প্রথম দিন থেকেই। যেদিন প্রথম দেখেছিলো
আর ওগুলোকেই ধামাচাপা দিতে তূর্জানের সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতো। কিন্তু হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন? তবে তূর্জানকে কি ভালোবেসে ফেলেছে..

আর ভাবতে পারল না। উত্তরটা সে নিজেই এড়িয়ে গেল।কিছুক্ষণ পর শাওয়ার বন্ধ হলো।
পানির ফোঁটা পড়ার শব্দ থেমে যেতেই, রুমের দরজার দিকে অজান্তেই তাকিয়ে রইল রোজা।
তূর্জান বের হলো, ভ্রু তুলে বলল,“এখনো দাঁড়িয়ে আছিস? আমাকে এভাবে দেখার কি আছে?”

রোজা হকচকিয়ে বইটা তুলে নিয়ে বলল,“আমি পড়ছিলাম। মোটেই আপনাকে দেখছিলাম না।”

তূর্জান হালকা হেসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল, নিজের চুলগুলো হাত দিয়ে ঝাড়া দিয়ে বলল,“ বই উল্টো ধরে পড়ে? জানতাম না। আজকে নতুন কিছু শেখানোর জন্য থ্যাংকস সুইটনেস রোজ।”

রোজা থমকে গেল বইয়ের দিকে তাকিয়ে, সত্যিই বইটা উল্টো। ধূর বইও বেঈমানী করল।
চোখ নামিয়ে নিল,লজ্জায় পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে তার। তূর্জান আজকে চুল শুকানোর প্রয়োজনবোধ করল না। যেখানে প্রতিদিন হেয়ার-ড্রায়ার লাগে। তূর্জান ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বইটা তার হাত থেকে নিয়ে টেবিলে রাখল।
তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,” খাবার আনতে বলেছিলাম। “

রোজা তড়িঘড়ি করে উঠতে গিয়ে বলল, “ সরি, নিয়ে আসছি। “

“ লাগবে না। টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে, খাবার খেতে গেলে আরো ওয়েস্ট হবে। তার চেয়ে বরং চল হিসাবটা মিটাই।”

রোজার বুক ধুকপুক করছে। তাও কোনোমতে বলল,“কি হিসাব?”

তূর্জান এক পা এগিয়ে এলো। তারপর সোজা রোজার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বেডে বসিয়ে দিল।
তূর্জান মাত্রই শাওয়ার নেওয়ায় মুখশ্রী যেন জলজল করছে। রোজাকে এমনভাবে বেডে বসালো, যেন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পালাতে না পারে। নিজে সামনে দাড়িয়ে আছে, যেন অবুঝ বাচ্চা কিছু বোঝে না। এমনভাবে দাড়িয়েছে, রোজা একচুল নড়তেও পারছে না। নড়তে গেলেই তূর্জান সামনে।

তূর্জানের গায়ে কালো টিশার্ট আর পরনে ব্ল্যাক প্যান্ট। মাত্রই শাওয়ার নেওয়ার জন্য মুখে এখনো পানিকণা বিন্দু বিন্দু হয়ে জমা হয়ে আছে। কপালে ছড়িয়ে আছে, কয়েক গোছা অবাধ্য চুল।রোজা নিচু হয়ে তাকিয়ে আছে। তূর্জানই নিরবতা ভেঙে বলল, “ আমি উত্তর পাইনি। “

“ আপনি প্রশ্নই তো করেন নি! উত্তর দিবো কিভাবে? “

“ আমি কি বলতে চাইছি তুই নিশ্চয় জানিস? “

“ না, জানি না।কেউ কারোর মন নিশ্চয় পড়তে জানে না। “

“ ভালো। “

“ যা বলার দ্রুত বলেন। “

“তিনদিনে একটা ফোন না করার হিসাব।একটুও মিস না করার হিসাব, আর কিছু একটা অযথাই চেপে যাওয়ার হিসাব… এবার বল কোনটা আগে দিবি?”

রোজা হতবম্ব হয়ে তূর্জানের চেয়ে আছে দেখে তূর্জান বলল, “ সারাজীবন দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, সারাজীবন দেখতে পারবি। এখন ফাস্ট ফাস্ট আ্যন্সার মি।!

রোজা গলা পরিষ্কার করে বলল, “ সকালেই তো বললাম, আপনি বিজি ছিলেন ভেবে ফোন দেয়নি। আর আপনি যেহেতু ফোন করেননি, আমি কেন করবো? “

“আ’ম হ্যাপি বউ। আ্যন্সারে একটু অভিমান অভিমান ভাব পেলাম। যাক বউ হওয়ার এক স্টেপ কম্পিলিট করে ফেলেছো। এবার সেকেন্ড কোশ্চেনের আ্যন্সার দিয়ে দেও ফাস্ট!”

রোজা সহজ ভাবেই ফ্লোরে পা খুটতে খুটতে বলল, “ আমি কেন আপনাকে মিস করবো? “

“ আমি যে কারণে করেছিলাম। “

“ আপনি কেন মিস করেছিলেন? “

“ নাথিং, বাট তোর আমাকে মিস করা উচিত ছিলো। যতই হোক একটা মাত্র হাজবেন্ড তোর। “

“ হাজবেন্ড একটাই হয়। “

রোজার কথা শেষ না হতেই তূর্জান বলল, “ যাক, অনন্ত আমার স্মৃতিবিলানী বউ একটা কথা বুঝেছে। তো এসব কথা বাদ, লাস্ট কোশ্চেন, কিছু একটা গোপন রয়েছে। সেটা কি বলে ফেল? “

“ আশ্চর্য, আমি কি গোপন করবো? আর আমার গোপন করার আছেই বা কি? “

তূর্জান হয়তো কিছু বলতেই যাচ্ছিলো, তখনি দরজার বাইরে তুবার গলা,“এইইই মিরান ভাইয়া, ভালো হবে না কিন্তু।”

মিরান যোগ দিল,” আমার ভালো আমি দেখে নিবো। তুই ফোঠ এখান থেকে। “

“ আমার ফোন দাও, চলে যাচ্ছি। “

“ আরিয়ান, ফোন দিবে বুঝি। হাইরে বাঙ্গালী, বড় ভাইয়ের কাছে বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলার জন্য ফোন চাস, লজ্জা করে না? “

“ ছোট বোনের কাছে প্রেমের সংলাপ শিখে, প্রোপোজ করতে যাও, তখন লজ্জা লাগে না? “

দুজন তর্কবির্তক করছে, কিন্তু কোথায়? কার রুমের সামনে করছে তা নিজেরাই হয়তো ভুলে গেছে। রোজাও এই সুযোগে তূর্জানের থেকে ছাড়া পেল। বলল, “ সরুন,আমি দেখে আসছি কি হয়েছে? “

“ দেখা লাগবে না। এখনো আমি আমার কোশ্চেনের আ্যন্সার পাইনি। “

বাইরে তখন দুজনের কথা বলার গতি বেরেই যাচ্ছে। রোজা এবার বেশ খুশিই হলো। কি সব প্রশ্নের থেকে মুক্তি তো পেয়েছে। তূর্জানরের বুকে হাত রেখে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিল। হঠাৎ ঠেলে দেওয়ায় তূর্জান বেশ খানিক টা পিছিয়ে যেতেই রোজা বলল, “ রাখুন তো আপনার আ্যন্সার, এখন ওদেরকে না থামালে রণকান্ড বাধিয়ে ফেলবে। “

রোজা যেতেই তূর্জান বিরক্ত মুখে বলল,“এই দুইটা শয়তান না থাকলে লাইফটা আরও সুন্দর হতো। আমার বউ আমার থেকে ওদেরকে বেশি প্রয়োরিটি দেয়। এটা ঠিক না।”

রোজা এসে দেখে দুজনে ছোটদের মতো ফোন নিয়ে টানাটানি করছে। মিরান বলে উঠলো, “ আরে ফোন টা দে, দুইমিনিট কথা বলবো। আমার ফোনের চার্জ শেষ।”

তুবা ফোন কেড়ে নিতে গিয়ে বলছে, “ আমার এখন কাজ আছে। ফোন লাগবে। “

“ জানি তো কি কাজ। “

“ জানোই যখন, দিয়ে দাও। “

রোজা দুজনের কথাবার্তা দেখে যা বুঝতে পারল, মিরানের ফোনের চার্জ শেষ। সে এখন অনন্যার সাথে কথা বলবে জন্য তুবার ফোন নিতে চায়ছে। আর আরিয়ান এই মুহূর্তে ফ্রি থাকে, মানে তুবা যত সম্ভব আরিয়ানের সাথে কথা বলবে। রোজা দুজনের ছোট মানুষী দেখে বলল, “ তুবা ভাইয়াকে ফোন দিয়ে দে। তুই আমার ফোন নে…

রোজার কথা শেষই হয়নি, দুজনের সূর পাল্টে গেল। তূর্জানকে দেখেই তুবা চুপ করে দাড়িয়ে গেল। মিরান তুবার চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলল,“বনু চুলে তেল দিস না, কেমন উস্কো খুস্ক, আর অগোছালো হয়ে আছে। যা চুল ঠিক কর।”

দুজন তো গিরগিটির চেয়ে ও দ্রুত রঙ বদলায়। তবে কথার ধরন পাল্টানোর কারণ খুজে পেল না। রোজা দুজনের দৃষ্টি অনুসরন করে তাকাতেই দেখল, তার পিছনে তূর্জান নেওয়াজ দাড়িয়ে। একটুর জন্য বেধে যায়নি। দাড়িয়েছে ভালো কথা, এত কাছে দাড়ানোর কি আছে? অদ্ভুত! রোজা তূর্জানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ এভাবে দাড়িয়ে আছেন কেন? “

“ দেখছিলাম, ঝগড়া থামাতে এসে কতটা থামাতে পারলি। “

রোজার এইমূহুতে এদের সামনে ঝগড়া করার ইচ্ছে নেই। তাই তূর্জানের পাশ কাটিয়ে সেন্টার টেবিলের উপর থেকে নিজের ফোন এনে তুবাকে দিয়ে দিল। তুবা ভাইয়ার সামনে আর না থেকে একপ্রকার দৌড়ে নিজের রুমে গেল।

মিরান হাসল। তূর্জান বিরক্ত হয়ে আবার রুমে যেতে যেতে বলল, “ তোর মুখে হাসি মানাচ্ছে না।এভাবে জোর করে হাসার দরকার নেই। “

মিরান তূর্জানের সামনে গিয়ে দাড়াল। তূর্জানকে বলল,“ বড় আম্মু তোমাকে খেতে ডাকলো তারাতারি চলে এসো “


রাতে ডিনারে সবাই ডাইনিং টেবিলে উচ্ছাস নিয়ে খেতে বসেছে। রোজা তূর্জানের থেকে দূরে, তিনটা চেয়ার পরে বসেছে। তূর্জান যদিও কিছু বলছে না, বেশি অসস্থিতে ফেলতে চায় না। একটু একটু করেই না হয়, ভালোবাসা পূর্ণতা পাক। জোর করে তূর্জানের প্রতি ফিলিংস আনার কোনো মানেই হয় না। আর আসল কাজটাই যেখানে হয়ে গেছে, চিরদিনের জন্য রোজাকে পেয়ে গেছে। সেখানে রোজা ঘুরে ফিরে অবশ্যই তূর্জানের নীড়েই বাসা বাধবে। এটুকু বিশ্বাস আছে, রোজা শত বাধা ভুলে তূর্জানের বুকে ঠাই নেবে।

রোজা আরাজের সাথে কি নিয়ে যেন হাসছে। এই হাসি দেখলে তূর্জান নিজেকে মাতাল রুপে আবিষ্কার করে। এই একমাত্র ডাইনিং টেবিল, যেখানে তাজারুল নেওয়াজ থাকাকালীন কেউ কোনো কথাই বলে না। এমন ভাব করে যেন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুরা কথা বলতে জানে না। যদিও এমনটা তাজারুল নেওয়াজেরই শিক্ষা। খাবারের সময় কোনো বাড়তি কথা হবে না।

তবে আজ তিনিই নিরবতা ভেঙে তূর্জানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ শুনলাম, যে কাজে পাঠিয়েছিলাম তা সম্পূর্ণ না করে ফিরে এসেছো। এবারও টাকার গরম দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ দিবে। ইউ কে গিয়ে ভার্সিটিতে জব করেছো। টাকা জমিয়েছো ভালো কথা। তাই বলে বারবার ছন্নছাড়া আচরণ করে যাবে? “

“ ফিরে আসার জন্য সরি। আপনার কাজ হয়ে যাবে, আমি আবার কালকে যাচ্ছি। “

“ তা আবার যাবেই যখন ফিরে এলে কেন? একেবারে শেষ করে আসতে। “

যতই হোক বাবা তো। তার সামনে কিভাবে বলবে, বউকে ছেড়ে থাকতে পারছিলাম না। ভীষণ মিস করছিলাম তাই চলে এসেছি। তবে এও সত্যি যে অফিসের কাজ সারতে আরো অনেকদিন লাগতো। আর রোজাকে যেহেতু বলে যায়নি, রোজাও ফোন করেনি তাই চলে এসেছে। হয়তো ফোন করলে, বুকে পাথর চেপে হলেও একেবারে কাজ শেষ করে তারপর আসতো। কিন্তু ওই মহিলাকে তো ভিডিও কলে দেখা দূর। একটা অডিও কল দিয়ে নিজের কণ্ঠটাও শোনায়নি।

মুখে বলল, “ আপনার ওই অফিসে অনেক কাজ পেন্ডিং এ পড়ে আছে। আরও একসপ্তাহ মতো সময় লাগবে। সকালে যাবো। “

আর কেউ কোনো কথা বলল না। তাজারুল নেওয়াজ উঠে গেল। মোস্তফা নেওয়াজ ও আজ কোনো মশকরা করলেন না। মিরান রাফেজসহ সবাই উঠে গেল। বাকি রোজা আর তূর্জান, আর রোজার পাশে আরাজ। যদিও তূর্জান তাকালো, দেখতে চাইলো তার চলে যাওয়ার কথা শুনে কোনো রিয়েক্ট করে কিনা। নাহ কোনো ভাবান্তর নেই। তূর্জানও উঠে চলে গেল। যাওয়ার আগে একবার পিছনে তাকাতে ভুললো না। তূর্জান উঠে যেতেই রোজা যেন হাফ ছেড়ে বাচল। কেন যেন দমবন্ধ লাগছিলো। তিনদিনেই তো রোজা মিস করছিলো তূর্জানকে, এখন আবার সাতদিন।

আজ রাতে আর কেউই বেশি কথা বললো না। সবাই ক্লান্ত। সামনের সপ্তাহে তুবার বিয়েও ঠিক হয়ে আছে। তাই সবাই ডিনার করেই আজকে আড্ডা বাদ দিয়ে ঘুমাতে চলে গেল। রোজার গন্তব্য এখন ওই তূর্জান নেওয়াজের রুম। তাই কিচ্ছু করার নেই। রোজা একটু রাহেলা নেওয়াজের রুমে গেল। তার হঠাৎ মনটা কেমন যেন লাগছে। রাহেলা নেওয়াজের সাথে আলাপচারিতা শেষ করে তূর্জানের রুমে গেল।

আস্তে করে দরজা খুলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখল, রুম ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথায় গেল লোকটা। রুমে এসেই ঘুমিয়ে গেছে বোধহয়। তাই লাইট অফ করে দিয়েছে। তূর্জানের রুমে বড়সড় একটা বেলকনি আছে। আজকে বেলকনিতেও লাইট অফ করে রেখেছে। রোজার আর কি করার,ঘুমানোর জন্য বেডে গিয়ে দেখল তূর্জান নেই। কি মনে করে বেলকনিতে উকি দিল। আবছা চন্দ্রের আলোয় সামনে দাড়িয়ে থাকা পুরুষটাকে চিনতে একটু দেরিও হয়নি। রোজা তূর্জানের সামনে গিয়ে বলল, “ সিগারেট খাচ্ছিলেন? “

“ উহু। “

“ তো এখনে দাড়িয়ে আছেন কেন? সিগারেট খাওয়ার জন্য? “

“ আমি ওইসব খাই না। কোনোদিন ভুল করে ছুঁয়েছি কি না সন্দেহ! আর ওইসব খাওয়ার কথা বলছিস? “

“ পৃথিবীতে এমন কোনো পুরুষ আছে, যে সিগারেট ঠোঁটে ছোয়ায়নি? “

“ কেন আমাকে চোখে বাঁধছে না? “

“ আপনি সিগারেট খাননি তার প্রমান কি? “

তূর্জান এবার রোজাকে নিজের দুহাত দিয়ে আবদ্ধ করে ফেলল। দুষ্ট হেসে বলল, “ বউ বউ ফিল পাচ্ছি তোর থেকে। তা বউ প্রমান লাগবে আমার ঠোঁট পবিত্র কি না ? “

রোজা অন্ধকারে তূর্জানের দিকে তাকালো। অন্ধকারেও যেন ওই রহস্যভরা চোখ পড়তে পারছে। রোজা যেন কিছুক্ষন মোহ তে আটকে গেল। বলল, “ তা ঠোঁটে সিগারেট ছোঁয়াননি কেন? “

“ অন্যের নামে লেখা জিনিস, আমি অপবিত্র করি কিভাবে? আমার আমিটাই তো অন্য কারোর হয়ে গেছি। তো তার অপছন্দের কাজ কিভাবে করি? “

রোজা তূর্জানের কথা বুঝল না। প্রশ্ন করে বসল, “ মানে? “

“ মানে, কোনো এক নয়বছরের মেয়ের মুখে শুনেছিলাম, তার সিগারেট একদম পছন্দ নয়। তাই জীবনে সিগারেট ছুঁয়ে দেখিনি। “

“ ভালোবাসতেন তাকে? “

“ হুমম, ভীষণ ভালোবাসতাম হয়তো। কিন্তু তুমি বউ হয়ে অন্যের ব্যাপারে শুনতে আগ্ৰহী কেন? “

রোজা যেন আজ তূর্জানের বলা সেই পুরোনো কথা ঘাটতেই চাচ্ছে বেশি। তাইতো সেই পুরোনো প্রশ্ন গুলোই করে যাচ্ছে।” কতটা ভালোবাসতেন তাকে? “

“ জীবনের থেকেও বেশি। “

“ তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেন? “

“ তোমাকেও ভীষণ ভালোবাসি। “

“ কাকে বেশি ভালোবাসেন? “

বলেই থেমে গেল। আবেগীয় হয়ে কি সব প্রশ্ন করে যাচ্ছে। ইশ লজ্জা! রোজা ইদানিং আবেগপ্রবণ হয়ে গেছে। আর তূর্জানের সামনে তো আজকাল আবল- তাবল প্রশ্নই বেশি করে ফেলে। লজ্জা ঢাকতে বলল, “ ঘুম আসছে আমার, ঘুমাবো। “

“ একদিন জেগে থাকলে কি খুব বেশি ক্ষতি হবে? সাতদিন তো ঘুমাতেই পারবে। “

রোজার এবার কেমন যেন লাগছে। তূর্জানের গায়ের সেই, Roja Perfums Haute Luax এর তীব্র গন্ধ, নাসারন্ধ ভেদ করছে। রোজা নিশ্চয় তূর্জানের না প্রথম দিনেই এই পারফিউমের প্রেমে পড়েছিলো। রোজার কল্পনার মাঝেই তূর্জান রোজাকে ছেড়ে দিলো। হয়তো অভিমান করেছে। কিন্তু রোজা তো কিছুই বলতে পারছে না। কেন? তূর্জান ধমকে বলল, “ অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাতে যা। শরীর খারাপ করবে। “

“ করবে না। “

অকপটে কথাখানা বলে নিজেই লজ্জায় আড়ষ্ট হলো। তার মুখ, মন, মস্তিস্ক সব এখন বেপরোয়া। তূর্জানের সঙ্গী, তার ইশারায় বেশি চলে। তূর্জান আবারও বলল, “ ঘুমাতে যেতে বলছি। ঘুমিয়ে পড়, আর কাল থেকে ভার্সিটি যাবি। “

রোজার আর কি করার? জেগে থাকতে বেশ ভালোই লাগতো। কিন্তু লজ্জা ঢাকতে ঘুমের কথা বলে, এখন সত্যিই ঘুমাতে হবে। তূ্র্জানও আর দেরি করল না, কালকে জার্নি করতে হবে। রোজা রুমে যেতেই নিজেও বেলকনির ডোর লক করে দিল। বেডের কাছে আসতেই দেখল, রোজা একপাশে গুটিয়ে শুয়েছে। তূর্জান নিজের পাশে শুয়ে বলল, “ পড়ে যাবি নিচে, কোমড় ভাঙার শখ জেগেছে? আমার অল্প জায়গাতেই হয়ে যায়। এদিকে সরে এসে ঠিক হয়ে ঘুমা। “

রোজা তাও একচুল নড়ল না। ওভাবেই শুয়ে রইলো।ঘন্টা খানিকবাদে, তূর্জান রোজাকে পলকন করে নিজের দিকে সরিয়ে আনল। রোজার মাথা এনে নিজের বুকে রাখল। রোজা তখনও জেগে, অথচ তূর্জান ভেবেছে ঘুমন্ত প্রেয়সীকে কাছে টেনেছে। এভাবেই দৈনিক কাছে টানে, আর সকালে দোষ হয়, রোজা ঘুমের ঘোরে তূর্জানের দিকে এগিয়ে যায়। তবে রোজা কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই বোঘোরে ঘুমানো, মানুষের মতো তূর্জান নেওয়াজের হৃদপিন্ড বরাবর মাথা রেখে শুয়ে রইলো। তূর্জান ফিসফিসিয়ে গেয়ে উঠল,
“ একটা প্রেমের গান লিখেছি,
আর তাতে তোর নাম লিখেছি।
মাঝরাতে বদনাম হয়েছে মন.!

যেই না চোখের ইচ্ছে হলো,
তোর পাড়াতেই থাকতে গেল,
ডাকনামে তোকে ডাকতে গেল মন..!

কি করি এমন অসুখে,
জমেছে মরণ এ বুকে,
ও কি করি এমন অসুখে,
ওও জমেছে মরণ এ বুকে..!


সকাল সাতটা বেজে দশমিনিট। রোজার ঘুম হালকা হতেই আড়মোড়া ভেঙে, ওভাবেই শুয়ে থাকল। হাতরে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু পাচ্ছে না। এখন সেই তীব্র পারফিউমের গন্ধটাও এখন নাকে লাগছে না। হঠাৎ মনে হলো সে কারোর বুকে নয় বরং নরম কুশনে শুয়ে আছে। হঠাৎই মনে হলো, তূর্জানের চলে যাওয়ার কথা। তাকে আবারও না বলেই চলে গেল। বেডে বসেই ঝিমুতে ঝিমুতে কি সব ভাবছিলো, হঠাৎ সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “ গুডমর্নিং সুইটনেস রোজ। “

কিন্তু কণ্ঠের উৎস খুজে পেল না রোজা। হঠাৎ চোখ গেল, সে যেখানে ঘুমিয়ে ছিলো, ঠিক তার মুখ বরাবর ফোন রেখে ভিডিও কল চালু। সময়টা দেখতেই যেন চোখ বড় বড় হয়ে গেল। প্রায় দুইঘন্টা। মানে তূর্জান যাওয়ার সময় রোজাকে না ডেকে নিজেই ফোনে এভাবে ভিডিও কল চালু করে রেখে গেছে। রোজা ফোনের সোজা হয়ে আবার শুয়ে পড়েই রোজা বলল, “ বলে গেলেন না কেন? “

“ ওত সকালে ঘুম থেকে উঠাতে মন চাচ্ছিলো না।”

“ ভিডিও কল চালু রেখে গেছেন কেন? “

“ তোমাকে রেখে আসতে মন চাচ্ছিলো না। কিন্তু তোমার শশুরটা বড্ডো জেদি, না আসলে আবার উল্টো পাল্টা বলতো। তাই ভিডিও কল চালু রেখে তোমাকে দেখতে দেখতে যাচ্ছি। “

“ আপনি ড্রাইভ করছেন না? “

“ হুমম, কেন? “

“ তো ভিডিও কল কেন দিয়ে রেখেছেন? “

তূর্জান সহজ স্বীকারোক্তি দিয়ে বলল, “ কল্পনাতে বড্ডো জ্বালাচ্ছো বউ। তাই।”

না চাইতেও রোজা বলে ফেলল,“, আপনার প্রবলেম হচ্ছে না, এভাবে দুই কাজ করতে। আচ্ছা রাখছি, আপনি সাবধানে যাবেন। “

“ আমি বলেছি প্রবলেম হচ্ছে? ফোন রাখলে কিন্তু, বাড়ি এসে খবর করে ছাড়বো,

তারপর দুষ্ট হেসে বলল, ” মাই পারসোনাল সুইটনেস রোজ। “

“ইনশাআল্লাহ চলমান….

শুনলাম,, কারা যেন তূর্জানরে নিয়ে আবার পড়ছে। হাসবো নাকি কাদবো, নিজেই বুঝি না। যাইহোক তোমরা তো আমার পাশে আছো, এতেই আমি খুশি, বাকি দুনিয়া যা হয় হোক।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply