Golpo romantic golpo নবরূপা

নবরূপা পর্ব ২৭


নবরূপা

পর্ব_২৭

কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা

দিনটা যেন খুব দ্রুত কেটে গেলো আজ। নীহারিকার মনটাও বেশ ফুরফুরে আর সুন্দর। আজ সারাটা দিন সে ইনায়াকে নিয়েই ব্যস্ত ছিল। মেয়েটাকে ভালো করে গোসল করে দিয়েছে, ঠিকমতো খাইয়েছে। এদিকে ইরফান কলেজ থেকে এসে দুপুরের পরে। এসেই সে ফ্রেশ হওয়ার জন্যে ওয়াশরুমে চলে গেলো। নীহারিকা ছুটে এসে রুমে হাজির হলো। দ্রুত আলমারি খুলে ইরফানের পরনের জামাকাপড় বের করে রাখলো। কোলে থাকা ইনায়াকে বসিয়ে দিল বিছানার উপরে। ইরফানের ফোন সামনে পেলেই ইনায়া খুশিমনে সেটা নিয়ে খেলা করে। অবুঝ বাচ্চা হলেও ফোন নিয়ে খেলাটা যেন বেশ আনন্দের তার কাছে।

নীহারিকা তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমের বাইরে সামনে রেখে দিল যেন ইরফান বের হওয়ার সাথে সাথে তা হাতের কাছে পায়। এরপর ইনায়ার হাতে ইরফানের ফোন দেখে হেসে উঠলো। মেয়েটা মাঝে মাঝে ফোন মুখেও নিয়ে নিচ্ছে। কি একটা অবস্থা! ফোন, মানিব্যাগ সব একসাথে বিছানায় রেখে গিয়েছে লোকটা। নীহারিকা এবারে দ্রুত ইনায়ার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিল,
—” উহু, এটা খাওয়ার জিনিস না।”
বলেই ফোনটা হাতে নিতেই স্ক্রিন অন হয়ে গেলো। আর ওয়ালপেপারে চোখ পড়তেই নীহারিকার মুখের হাসি নিভে গেলো। জ্বলজ্বল করা চোখের জ্যোতি যেন কমে গেলো সবটা। কাঁপা হাতে ফোনটা কাছে নিল সে। খুব সুক্ষ্ম নয়নে যত্ন নিয়ে দেখতে থাকলো ইরফানের ফোনের ওয়ালপেপারে জ্বলজ্বল করতে থাকা তাহিয়ার ছবিটার দিকে। ইনায়া খিলখিল করে হেসে নীহারিকার চুল নিয়ে খেলা শুরু করেছে। কিন্তু নীহারিকা স্তব্ধ। হ্যাঁ, এটা তো তাহিয়া-ই। আর সে ইরফানের প্রথম স্ত্রী। ফোনে তার ছবি থাকতেই পারে। নীহারিকা আগে কখনোই ইরফানের ফোনে স্পর্শ করেনি বিধায় কখনো চোখেও পড়েনি। তবে এটা তো স্বাভাবিক তাইনা? তাহলে ইরফানের ফোনের ওয়ালপেপারে তাহিয়ার ছবি দেখে নীহারিকার বুকে সূক্ষ্ণ ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে তার! লোকটা এতটাই ভালোবাসতো তার বউকে? নাহ, ভালোবাসতো না, এখনো বাসে।

নীহারিকা স্থির হয়ে বসে রইল। ফোনটা এখনো তার হাতে। স্ক্রিনে ভেসে থাকা সেই হাসিমাখা মুখ—তাহিয়া। শান্ত, মায়াময়, সুন্দর। এমন এক মুখ, যাকে দেখলে সহজেই ভালোবেসে ফেলা যায়। মেয়েটা আসলেই বেশ সুন্দর! ফর্সা! অনেকদিন পর নীহারিকার মনে পড়লো তার নিজের গায়ের রং চাপা। এতদিন কেও তাকে এ কথা মনে করিয়ে না দিলেও আজ এটা দেখে তার মনে পড়ল সে সমাজের কাছে সুন্দর নয়। নীহারিকার বুকের ভেতরটা হালকা করে টনটন করে উঠল। মনে মনে স্বপ্ন দেখলো ইরফানের ফোনে এভাবে তার ছবি থাকতে পারে? নাহ হয়তো না। তাহিয়া তো ইরফানের কাছে সারাজীবনই জীবিত থাকবে। সে চোখ নামিয়ে নিল এক মুহূর্তের জন্য। আবার তাকাল। হ্যাঁ, এটাই স্বাভাবিক। খুবই স্বাভাবিক। তাহিয়া তো ইরফানের স্ত্রী ছিল। শুধু স্ত্রী না—প্রথম স্ত্রী। তার সন্তানের মা। ভালোবাসা থাকবেই। থাকা উচিত। নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করল নীহারিকা- এতে অবাক হওয়ার কী আছে? এটা তো স্বাভাবিক। তুমি কে? তুমি তো তার জীবনে পরে এসেছো!
কিন্তু এই যুক্তিগুলো যেন তার মনকে পুরোপুরি শান্ত করতে পারলো না। অদ্ভুত একটা অনুভূতি ধীরে ধীরে গলা বেয়ে বুকের ভেতর নেমে আসতে লাগল। খুব সূক্ষ্ম, খুব নীরব একটা ব্যথা। সে ভাবতে লাগল, ইরফান কি এখনো তাহিয়াকেই ভালোবাসে? এই বিয়েটা.. তাহলে কী? শুধু দায়িত্ব? শুধু প্রয়োজন? তার ঠোঁট শুকিয়ে গেল। সে নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বলল,
—” তাহলে আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?”
ইনায়া তখনো খিলখিল করে হাসছে। তার ছোট্ট হাত দিয়ে নীহারিকার চুল টানছে, খেলছে। নীহারিকা তাকালো তার দিকে। এই বাচ্চাটা, এই মেয়েটার জন্যই তো সে সবকিছু করছে। তার বুকটা হালকা মোচড় দিয়ে উঠল। সে আবার ফোনের দিকে তাকাল। তাহিয়ার ছবিটার দিকে। মনে হলো, এই মেয়েটা হয়তো সত্যিই ভালো ছিল। খুব ভালো। তাই তো ইরফান এখনো তাকে সরাতে পারেনি নিজের কাছ থেকে।

নীহারিকা নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল। তার ভেতরে তখন দুইটা অনুভূতি লড়াই করছে, একটা বলছে,
” এটা স্বাভাবিক। তোমার কোনো অধিকার নেই কষ্ট পাওয়ার।” আরেকটা খুব নরম, খুব কষ্টভরা স্বরে বলছে,
” কিন্তু সে তো এখন তোমার স্বামী… একবারও কি তোমার জন্য তার মনে জায়গা হয়নি?”
চোখ হালকা ভিজে উঠল মেয়েটার। সে দ্রুত চোখ মুছে ফেলল, যেন নিজেকেই ধরা না পড়ে।
—” হিংসে করা উচিত না, একদমই উচিত না..!”
নিজেকে বোঝালো সে। কিন্তু মানুষ তো শুধু যুক্তিতে চলে না। নীহারিকা অনুভব করল, সে কষ্ট পাচ্ছে। খুব বেশি না, খুব স্পষ্টও না, কিন্তু ঠিক এমনভাবে, যেন বুকের ভেতর কোথাও ছোট্ট একটা কাঁটা বিঁধে আছে। আর সবচেয়ে বেশি যেটা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিল, ইরফান তো একদিন বলেছিল, সে তাকে ভালোবাসে না। তাহলে, আজও কি সেই কথাটাই সত্যি? নীহারিকা নিঃশ্বাস ফেলল ধীরে। তার মুখে একটা খুব মৃদু, ভাঙা হাসি ফুটল।
—” হয়তো, আমার ভালোবাসাটাই একপাক্ষিক…!”
ভাবনাটা মাথায় আসতেই বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।
সে আর তাকাতে পারল না ফোনের দিকে। ধীরে স্ক্রিনটা বন্ধ করে রাখল পাশে। তারপর ইনায়াকে কোলে তুলে নিল শক্ত করে। মেয়েটার গালে মুখ ডুবিয়ে খুব আস্তে বলল,
—” তুই থাকলেই হয়..তোর জন্যেই তো এসেছি।”
কিন্তু নিজের বুকের ভেতরটা সে নিজেও জানে,সেটা পুরোপুরি মানতে পারছে না।

ফট করে দরজা খোলার শব্দে চমকে তাকালো নীহারিকা। সে ভুলেই গিয়েছিল ওয়াশরুমে ইরফান রয়েছে। গোসল সেড়ে এসেছে ইরফান। ইনায়া বাবাকে দেখে আরো বেশি জোরে হাসলো। আধোস্বরে বলল,
—” বাবা, কোলে!”
নীহারিকাও তাল মিলিয়ে ইরফানের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল ইরফান কোলে নিতে চায় কিনা। ইরফান হাত বাড়াতেই নীহারিকা সাথে সাথে ইনায়াকে তার কোলে দিল।

ইরফান এবারে নীহারিকার দিকে তাকিয়ে বলল,
—” আমার ব্যাগে একটা জিনিস রয়েছে। বের করো তো।”
বলে আবারো ইনায়ার সাথে খিলখিল করে হাসতে থাকলো সে। নীহারিকা মাথা নেড়ে ইরফানের ব্যাগটা খুলল। ভেতর থেকে আরেকটা ছোট্ট প্যাকেট বেরিয়ে এলো। সে কোনো কথা না বলে ওটা ইরফানের দিকে বাড়িয়ে দিতেই ইরফান বলল,
—” তোমার জন্য এনেছি।”

নীহারিকা আগে হলে খুশিমনে হাসতো। তবে আজ এখন এই মুহুর্তে হাসি এলো না। মলিন হেসে বলল
—” কী এটা?”
—” মোগলাই আর লাচ্ছি। খেয়ে নাও।”
—” হঠাৎ এসব কেনো?”
—” আজ কলেজে অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে সবাই মিলে ছোট্ট করে আয়োজন করেছিল। তো আমি ভাবলাম একা কেনো খাব? তাই আমার ভাগেরটা নিয়ে এসেছি। তুমি খাও।”

নীহারিকা অভিমানী চোখে তাকালো। কিছু একটা ভেবে আবারো হেসে বলল- “আচ্ছা। ধন্যবাদ।”
ইরফান ভ্রু কুঁচকালো। মেয়েটার কথায় আজ মিষ্টতা নেই কেনো? কেমন যেন তেতো কথা বলছে।হুট করে জিজ্ঞেস করা উচিত হবেনা বলে কিছু বলল না ইরফান। নীহারিকা প্যাকেট টা বেডসাইড টেবিলে রেখে দিল। ইরফান ইনায়াকে নিয়ে বিছানায় বসে বলল,
—” ওভেনে গরম করে এখনি খেয়ে নাও।”

নীহারিকা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা নেড়ে সত্যি সত্যি প্যাকেট টা নিয়ে চলে গেলো। ইরফান তার যাওয়ার পথে কিছুক্ষণ ভাবুক নয়নে তাকিয়ে থেকে আবারো ইনায়ার দিকে নজর দিল।

ইয়াশার প্রাণ এখন মূলত জীবন-মরণের মধ্যে ঝুলে রয়েছে। আজ দুপুরেই সে হোস্টেল থেকে বাসায় ফিরেছে। টেস্ট পরীক্ষা শেষ। এবারে বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার পালা। সেটা নিয়ে দারুণ পরিশ্রম করছে মেয়েটা। মেয়েটা এতটাই ব্যস্ত যে নিচে গিয়ে খাবার খাওয়ারও সময় পাচ্ছে না। ঘড়ির কাঁটা রাত আটটায় গিয়ে ঠেকেছে। নীহারিকা আয়েশা বেগমের নির্দেশে ইয়াশার খাবার নিয়ে তার ঘরের সামনে এসে টোকা দিল
—’ ইয়াশা, আসব?”

কোঁমড় বেঁধে পড়তে থাকা ইয়াশা গলা উঁচিয়ে বলল,
—” এসো ভাবি!”

নীহারিকা ভেতরে ঢুকে রীতিমতো থতমত খেয়ে গেলো।
—” এ কি অবস্থা ইয়াশা। এটা ঘর নাকি পুরোনো লাইব্রেরি? বই সব এতো এলোমেলো কেনো? টেবিল থেকে সব বই নামিয়ে বিছানায় কেনো সাজিয়েছো হ্যাঁ? আয়হায়!”

ইয়াশা খু্বই গুরুতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
—” দেখো ভাবি, আমি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তুমি আমার ঘরকে অপমান করতে পারো না। পড়াশোনা করছি আমি। বই গোছানোর সময় নেই। শুধু পড়েই যাব। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি!”
বলেই হাতের বইটাও পাশে রেখে আরেকটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করল ইয়াশা। নীহারিকা চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল,
—” ওকে ওকে। ক্যারি অন!”

ইয়াশা এবারে উৎফুল্লিত কন্ঠে বলল,
—” থ্যাংকস টু ইউ। কাল তো ফ্রি আছি। ভাবছি মাইন্ড ফ্রেশ করার জন্য ঘুরতে যাব। চলো ভাবি একসাথে কোথাও যাই?”

নীহারিকা প্রথমে হ্যাঁ বলতে গিয়েও থেমে গেলো। মলিন হেসে বলল,
—” না গো। সরি। আমি কাল পারবনা। অন্য কাজ আছে।”

ইয়াশা চোখ সরু করে হুমকিস্বরূপ তাকালে নীহারিকা মেকি হেসে বেরিয়ে গেলো। অবহেলা পেয়ে কষ্টিত হয়ে বেচারি ইয়াশা বিড়বিড় করল,

—” কেও ভালুপাশে না গো মাবুদ, কেও না!”

ইয়াশা বাড়িতে থাকলে ইনায়াকে কোনোভাবেই অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই হার মেনে নীহারিকা ইনায়াকে কোলে করে ঘুম পাড়িয়ে ইয়াশার ঘরে রেখে এসেছে। একমাত্র ভাতিজিকে জড়িয়ে ধরে ইয়াশা আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে। এদিকে ঘরে ঢোকার সাথে সাথে নীহারিকার চারপাশ চাপা অস্বস্তিতে ঘিরে ধরলো। ইরফান জেগে রয়েছে। ঘরের আলো নেই। তবে ল্যাম্প জালানো। আর ইরফান বিছানায় শোয়ার জায়গাতেই হেলান দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করছে। নীহারিকা কোনো কিছু না বলে গুটিগুটি পায়ে আলমারির কাছে চলে গেলো। সেখানে কিছু একটা কাজ করে সে আলগোছে খু্ব সাবধানে ইরফানের দিকে পিঠ করে শুয়ে পড়লো নিজের জায়গায়। প্রতিদিনের তুলনায় আজ একটু বেশিই দুরত্ব নিয়ে শুয়েছে নীহারিকা।

ইরফান এবারে তটস্থ হলো। উল্টো দিকে মুখ করে শোয়া নীহারিকা কে ডাকলো,
—” কী হয়েছে তোমার?”

নীহারিকা চোখ বুঁজেছিল কেবল। ইরফানের কন্ঠে ঝট করে চোখের পাতা খুলে মলিন স্বরে বলল
—” কিছু না তো।”
—” অনেক কিছুই মনে হচ্ছে। মন খারাপ?”
—” নাহ! “
—” তো?”
—” কিছুই না।”

ইরফান কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। ফট করে ভেবে বলল,
—” আমাকে ইগনোর করছো?”

নীহারিকা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—” কথা বলতে ভালো লাগছে না। ঘুমাব।”

ইরফান ল্যাপটপ বন্ধ করল সাথে সাথে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ঘড়ির কাঁটা দশটা অতিক্রম করেছে মিনিট দশেক আগেই। তবুও মনের ইচ্ছেতে জিজ্ঞেস করল,
—” ফুচকা খাবে?”
—” এত রাতে পাবেন না।”
—” তুমি খাবে কিনা বলো।”
নীহারিকা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
—” নাহ খাব না!”

আবারো নীরবতা। ইরফানের মন খুতখুত করছে। নীহারিকা তার সাথে ভালো করে কথা বলেনি বাড়িতে আসার পর থেকে। তাই পরিবেশ টা ঠান্ডা করা দরকার। কিছুক্ষণ ভেবে ইরফান আবারো অফার করল,
—” ছাদে যাবে?”
—” কেনো?”
—” অকারনেই।”
—” ইচ্ছে নেই।”
—” কেনো?”

নীহারিকা না পেরে বাধ্য হয়ে বলল,
—” ক্লান্ত লাগছে। হাঁটতে পারব না।”

ইরফানও সেভাবেই বলল,
—” কোলে করে নিয়ে যাই? “
—” দরকার নেই।”
—” আছে। খুব আছে।”

নীহারিকা এবারে শোয়া থেকে উঠে বসে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলল,
—” কেনো বিরক্ত করছেন আপনি? বললাম না ইচ্ছে নেই।”

—” তুমি আমায় ইগনোর করছো কেনো? যতক্ষণ না পর্যন্ত কারন বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমোতে দেব না।”

বেশ আদুরে স্বরেই কথাটা বলল ইরফান। কিন্তু কেনো যেন মেজাজ খারাপ হলো নীহারিকার। সে ফট করে বিছানা থেকে উঠে পড়লো। মাথার বালিশটা নিয়ে গটগট করে রুম থেকেই বেরিয়ে গেলো। হা হয়ে খোলা থাকা ঘরের দরজাটার দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইরফান। অভিমান জেঁকে বসলো তার মনেও। মনটা আর চাইলো না অভিমানী বউটার পিছু নিয়ে ফিরিয়ে আনতে। রাগ করে ইরফানও শুয়ে পড়ল ফাঁকা বিছানায়। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল আর বিরক্ত করবেনা নীহারিকা কে। এদিকে নীহারিকা বসার ঘরে গিয়ে সোফায় বালিশ ছুঁড়ে দিয়ে সেখানেই শুয়ে পড়ল। চোখের কোণ থেকে আপনাআপনি পানি গড়িয়ে পড়ল অযত্নে। বিকেলে নেয়া সিদ্ধান্ত টা একদম পাকাপোক্ত করে চোখ বুঁজে ফেলল সে।

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply