দ্যাব্ল্যাকমার্ক পর্ব ২৫
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২৫
নিহান এবার গাড়ি থামিয়ে তুবার দিকে তাকাল।নিহানের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।তুবা একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়।নিহান তুবার গাল চেপে ধরে।তুবা ব্যাথায় চোক মুখ খিঁচে রেখেছে কিন্তু কোনো শব্দ করতে পারছে না।
নিহান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“হারামির বাচ্চা কোনোদিন আমারে বুঝার চেষ্টা করলি না।এই কয়েকমাস আমার সাথে ছিলি এতদিনেও বুঝলি না আমি কি চাই।অন্য পুরুষদের ছোঁয়া পেতে তাদের গায়ের শার্ট নিজের গায়ে লাগাতে খুব ভালো লাগে না?তাদের বাজে নজরে তাকালে খুব ভালো লাগে তাই না।”
তুবা এবার কেঁদে উঠে বলে,
“গাল ছাড়ুন প্লিজ।আমি ব্যাথা পাচ্ছি।”
নিহান আরেক হাতে ইফতিশামের পড়িয়ে দেওয়া শার্টটা টান মেরে গাড়ির জানলা দিয়ে ফেলে দেয়।কয়েক মিনিট পর তুবার গাল ছেড়ে আবারো স্পীডে গাড়ি চালানো শুরু করে।
কিছুক্ষণ পর এহসান বাড়ির সামনে এসে কালো রঙের গাড়িটি থামল।নিহান তাড়াহুড়ো করে নেমে ওপর পাশের ডোর খুলে তুবার হাতে হেচকা টান মেরে বাড়ির ভেতরের দিকে এগোয়।তুবাকে নিহান এত জোরেই নিয়ে যাচ্ছে যে খালি পা থাকায় আঙুলের কিছুটা অংশ ছি’লে র’ক্ত দেখা যাচ্ছে।নিহান তুবাকে এনে লিভিংরুমে দাড় করালো।নিহানের মুখোমুখি হয়ে আছে তুবা।নিহান তুবার ডান গালে পরপর চার-পাঁচটা থাপ্পড় মারল জোরে।তুবার ছোট্ট শরীর তাল সামলাতে না পেরে নিচে পরে যায়।তুবা মুখে কোনো শব্দ করতে পারছেনা শুধু ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।আতিয়া এসব দেখে রান্নাঘর থেকে বের হলো।খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারলো এটা কেন বা কি জন্য হচ্ছে! আতিয়া বেগম নিহানকে থামানোর বৃথা চেষ্টা করল কিন্তু নিহান কারো কথা শোনার মত মানুষ না। নিহান হাঁটুগেড়ে তুবার সামনে বসে বলে,
“ব্যাথা হচ্ছে না?খুব ব্যাথা হচ্ছে তাইনা?আমারো হয়েছিল কখন জানিস যখন তুই পুরুষদের সামনে কোমড় দুলিয়ে নাচছিলি ঠিক তখনিই আমারো ব্যাথা হয়েছিল ঠিক এখানটাই।”
নিহান বুকের বা পাশে দেখিয়ে কথাগুলো বলে।তুবা মাথা নিচে নামিয়ে কাঁদছে কালের একপাশ লালচে হয়ে আছে।নিহান কথাগুলো বলার পরপর গালের আরেকপাশে থাপ্পর বসিয়ে দিলো কয়েকটা।তুবা হেঁচকি তুলে কাঁদছে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না শুধু কাঁদছে।নিহান আরো রেগে গেল।উঠে দাড়িয়ে তুবার এক হাত ধরে টেনে উঠালো।নিহান রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,
“যখন এসব করেছিস শাস্তি তো পেতেই হবে।”
তুবা মিনতির স্বরে কাদতে কাদতে বলে,
“প্লিজ কিছু করবেন না।আমি.. আমি আর কোথাও যাবো না প্লিজ।”
নিহান তুবার কোনো কথা শুনলো না।হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল গেস্টরুমে।রুমটা ঘুটঘুটে অন্ধকার।বাইরের আলো হালকা হালকা দেখা যাচ্ছে ভেতরে তা ছাড়া আর কোনো আলো দেখা যায় না।তুবাকে এক ধাক্কায় ঘরের ভেতর ফেলে দিল নিহান।দরজা বন্ধ করে তালা দিয়ে দেয়।তুবা ভেতর থেকে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আমাকে নিয়ে যান প্লিজ আমি আর এমন করবো না।নিহান স্যার প্লিজ।”
কে শোনে কার কথা নিহান নিজের মতো নিচে চলে যায়।নিহান লিভিংরুমের সামনে গিয়ে আতিয়া বেগমকে বলে,
“গেস্ট রুমের দরজা কেউ যাতে না খুলে খেয়াল রাখবেন। আপনি যদি খুলেন তাহলে এত বছর যেখানে ছিলেন সেখান থেকে চলে যেতে হবে।”
“আচ্ছা স্যার আমি খেয়াল রাখব কিন্তু…।”
“কিন্তু?”
“তুবাকে ছেড়ে দিন স্যার মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
নিহান আতিয়া বেগমের সাথে আর একটা কথাও বলল না।হুড়হুড়িয়ে বেরিয়ে গেল।নিহান গেটের বাইরে গিয়ে রাহুল (গার্ড)কে কল করে।কথা শেষ করে নাম নিহান বেরিয়ে যায় নিজরে গন্তব্য।গাড়ি ঠিক তখনের মতই স্পীডে চালাচ্ছে। মাথায় ঘামগুলো চিকচিক করছে।চোখগুলোও ঠিক তখনের মতোই লাল।নিহান গাড়ি থামালো পুরনো একটি ঘরের সামনে।আশেপাশে নির্জন রাস্তা।কোনো মানুষের ছিটেফোঁটা ও নেই।দুপুরের সময় হলেও পুরো জঙ্গল নিস্তব্ধ।বাড়িটা জঙ্গলের একপাশে বেশি ছোট্ট নয় আবার বেশি বড় ও নয়।নিহান বেরিয়ে ঢুকল ঘড়টার ভিতরে।নিহান ঢুকে যাওয়ার পর একজন গার্ড গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।নিহান রাহুলকে বলে,
“এনেছিস?”
“হুম বলার সাথে সাথে ধরে এনেছি।”
“গুড।কোথায় জানোয়ারগুলো?”
“ওইদিকে বেঁধে রেখেছি।”
নিহন এগিয়ে যাই ওইদিকটাই।সারি করে বারো জন বাঁধা। চোখগুলো কালো পট্টি দিয়ে বাঁধা। রাহুল সহ আরো কিছুজন এসে চোখের পট্টিগুলো খুলে দিলো।নিহান তাদের সবার সমানে পায়ের উপর পা তুলে পা তুলে চেয়ারে বসে।
কয়েকজন বেশ ভালো করেই চিনতে পারে নিহানকে।ভার্সিটিতে দেখেছিল সেই জন্যই মনে আছে।নিহান গর্জে বলে,
“বাচ্চারা আমাকে চিনেছিস?”
একটি ছেলে সেখান থেকে বলে,
“চিনেছি।এখানে কেনো এনেছেন আমাদের।”
নিহান আর এক সেকেন্ড ও অপেক্ষা করল না ছেলেটার দিকে এগিয়ে গিয়ে ছুড়ি দিয়ে সোজা পেটের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়।সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটার দু-চোখ বন্ধ করে দেয়। বাকি সবাই হতভম্ব,আতঙ্কিত।তাদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।ছুড়িটা জোরে পেটের ভেতর ঢুকানুতে নিহানের মুখে একটু রক্তের ছিটে এসে পড়ে।একজন গার্ড এসে টিস্যু দিয়ে মুছে দেয়।
নিহান আবারো গিয়ে একিই জায়গায় বসল।চেহারাটা ঠান্ডা কিন্তু ভেতরে রয়েছে হাজারো রাগ।পুরো ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠল নিহান।
“আর কেউ প্রশ্ন করতে চাও?এনি কোয়েশ্চেন?”
সবাই ভয়ে চুপসে আছে।নিহান আবারো বলে,
“এবার কে ম’রতে চাও?”
একটা ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“স্যার আমরা কি ভুল করেছি। আমাদের ছেড়ে দিন।”
নিহান একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলে,
“তোরা কি ভুল করেছিস জানিস?আমার জানের দিকে বাজে চোখে তাকিয়েছিলিস।হু এটাই তোদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।”
আরেকটা ছেলে ছেলেটা আবারো কেঁদে বলল,
“আমরা কারো দিকে তাকাইনি।আমাদের ছেড়ে দিন।”
“এই চুপ বাস্টার্ড। আর এজটা কথা বলবি তো একদম জ্যান্ত কবর দিবো।”
ছেলেটা চুপ করে যায়।নিহান সবাইকে কে দেখছে।রাহুল কে পাশ থেকে ইশারা দিয়ে ডেকে বলে,
“ওই ছেলেটাকে নিয়ে আয়।”
রাহুল নিহানের কথামতো ছেলেটার কলার ধরে টেনে নিয়ে এসে নিহানের পায়ের কাছে বসাল।ছেলেটার হাতদুটো বেঁধে রেখেছে।নিহান একটু ঝুঁকে ডানগালে একটা জোরে থাপ্পড় বসাল।থাপ্পড় টা এত জোরেই মেরেছিল যে ছেলেটার কান দিয়ে গলগল করে র’ক্ত ঝড়ছে।ছেলেটা দুই হাত বাঁধা অবস্থায় কোনোমতে নিহানের পা জড়িয়ে ধরে বলে,
“স্যার স্যার আমাকে ছেড়ে দিন।”
নিহান ধারালো ছুরিটা হাতে নিয়ে বলে,
”ভিডিও করেছিলি না।যে হাতগুলো দিয়ে করেছিস সেই হাতগুলো সহ আমি কু’কুরদের বিলিয়ে দিবো।”
ছেলেটা কিছু বলতে যাবেই নিহান ছেলেটার হাতদুটো বড় একটা জিনিস নিয়ে কা’টাতে শুরু করে।ছেলেটা জোরে জোরে কাঁদছে আর চিলাচ্ছে।হাতদুটো নিচে পড়ে যায়।ছেলেটা অজ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে যায়।নিহান শরীরের বিভিন্ন জায়গা কেটে রাহুলকে বলে,
“এগুলো বস্তা ভরে প্রাণীদের খাইয়ে দিস।”
বাকি ছেলেগুলোর চোখে আতঙ্ক,ভয়।কেউ কেউ কাঁদছে কেউ ভয়ে চুপটি মেরে আছে।নিহানের হাত র’ক্ত দিয়ে ভরে আছে শার্টের কিছুটা অংশে র’ক্ত লেগে লাল হয়ে আছে।
নাহিয়ান আর নোভা কখন থেকে গাড়িতে বসে আছে।অথচ নিশানের আসার খবর নেই।রেস্টুরেন্টে বিল প্যামেন্ট করতে গিয়ে কি হারিয়ে গেলো নাকি এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ নিশান গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসে।নাহিয়ান আর নোভা পেছনে বসে বসে কথা বলছে।নিশান গম্ভীর আওয়াজে বলে,
“তোদের কি আমাকে ড্রাইভার মনে হয়?”
নাহিয়ান হালকা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“নতুন গাড়ি কিনেছো তাও আবার শুধু কানাডাতে আসলে ব্যবহারের জন্য আবার বলছো তুমি ড্রাইভার।”
“নাহিয়ান তুই কি আসলেই পা’গল।আমি তো জিজ্ঞেস করেছি কারণ তোরা দুজনিই পেছনে বসে আছিস।লাগছে আমাকে ড্রাইভার।”
নাহিয়ান জোরে হেসে উঠল,
“আচ্ছা তাহলে আমি সমানে আসছি।”
“তুই সামনে এসে কি করবি?”
“কেনো?তুমি না বললা তোমাকে আমরা ড্রাইভার মনে করি।”
“নোভাকে সামনে পাঠাতে বলেছি হাদারাম।”
নোভা ফিক করে হেঁসে উঠল।নোভা’র হাসি নিশান জানালার গ্লাসে দেখে বিড়বিড়য়ে বলে,
“একবার বলেছিলাম কলে তোমাকে হাসলে কি অপ্সরার মতো লাগে নাকি?এখন দেখছি অপ্সরার চেয়েও সুন্দর লাগে।”
নাহিয়ান নাক ফুলিয়ে বলে,
“ভাইয়া তুৃমি আমাকে হাদারাম বললে।”
“তো কি বলবো?”
“তুমি আমাকে হাদারাম বলতে পারলা।”
নিশান চুপ করে যায় জানে যে নাহিয়ানের সাথে কথায় এখন পারা যাবে না।ছোট্টবেলা থেকেই নাহিয়ানকে বেশ আদরে বড় করেছে নিশান আর নিহান।কোনো অভাব ছুঁতে পারেনি তাকে। নোভা এই কিছুদিনে বুঝতে পেরেছে যে নিশান যেমনিই হোক নাহিয়ানকে বেশ ভালোবাসে। নাহিয়ান নোভাকে বলে,
“ভাবি চলো নিহান ভাইকে কল করি তুবা’র সাথেও কথা বলতে পারবো।”
নোভা নাহিয়ানের কথায় সম্মতি জানায় কারণ কানাডায় আসার পর থেকেই তুবার সাথে কথা হয়নি নোভার।নাহিয়ান নিহানের নাম্বারে কল করে কিন্তু ফোন বন্ধ বলে।নাহিয়ানের চিন্তা হওয়ায় আতিয়ার নাম্বারে কল লাগায়।ওপাশ থেকে আতিয়া বলে,
“হ্যালো স্যার।”
“জ্বী নিহান ভাইয়া কই?”
“বাইরে গেছে।”
“তুবা কই?”
আতিয়া বেগম প্রথমে ভেবেছিল তুবার কথাটা বলবেনা পরক্ষণেই মেয়েটার প্রতি মায়া হওয়ায় নাহিয়ানকে বলে,
“গেস্ট রুমে বসে কান্না করছে মেয়েটা।গেস্ট রুমে পুরো অন্ধকার।তার উপর ধুলোবালি ও আছে পরিষ্কার করা হয়নি।”
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কেনো?”
আতিয়া বেগম সব খুলে বলে নাহিয়ানকে।নাহিয়ান কল রেখে নিশানকে বলে,
“ভাইয়া নিহান ভাই কিন্তু এটা বেশি বেশি করেছে।”
“কি করেছে নিহান?”
“তুবা আজকে ভার্সিটিতে গেছিল শাড়ি পরে সম্ভবত অনুষ্ঠান ছিল নিহান ভাই ওকে সেখান থেকে এনে গেস্ট রুমে বন্ধ করে রেখেছে।”
নিশান বলে,”নিহান কেনো মেয়েটার জন্য এমন করছে।মেয়েটা যা করবে করুক ওর কি?ওর তো মেয়েটাকে পছন্দ না।”
“পছন্দ না যে কে বলল?”
“ও নিজেই বলল।”
“ও ভালোবাসে তুবাকে। আমি সিউর।”
নিহান বাড়ি ফিরেছে সবেমাত্র।হাতগুলোতে লাল র*ক্ত লেগে
আছে সাদা শার্টটা র’ক্তে মাখামাখি।আতিয়া বেগম নিহানকে
দেখেও না দেখার ভান করল।নিহান সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে গেল।পুরো এহসান বাড়ি নীরব হয়ে আছে।নিহান গিয়ে কাবার্ড থেকে টিশার্ট আর ট্রাউজার বের করে লম্বা শাওয়ার নিতে যায়।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো কিন্তু তুবা সেই একিই জায়গায় পড়ে আছে জ্ঞানহীন অবস্থায়।চোখমুখ ফুলে লাল হয়ে আছে।নিহানের হাতের পাঁচ আঙুলের স্পঁষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে ফর্সা গালগুলোতে।সকাল থেকে তেমন কিছুই খায়নি তুবা তার উপর এসবে মেয়েটা জ্ঞান হারিয়েছে কিন্তু কেউ জানেই না।
চলবে….
নোট:আসসালামু আলাইকুম। এটা কিন্তু মোটামুটি বড় পর্ব। কারো কাছে ছোট্ট লাগলে আমার কিছু বলার বা করার নেই।
আপনাদের বলে রাখি আমি স্টুডেন্ট তার উপর কয়েকজন
স্টুডেন্ট পড়াই +ঘরের কাজ করতে হয় নাহলে আম্মাজান আমাকে 🙂 থাক আপুরা হয়তো বুঝছো আম্মাজানরা কি করে। যাইহোক সবাই ১ কে করে দিও তাড়াতাড়ি হ্যাপি রিডিং।😊🫶
দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২৫ (১)
দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমেছে। সূর্যের আলো ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে। পাখিরা আপন মনে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর হালকা বাতাস পরিবেশটাকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে।
নিহান সাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে মাত্র। হঠাৎ কী মনে করে সে গেস্ট রুমের দিকে যায়। ভেতরটা অস্বাভাবিক নীরব—না কোনো কান্না, না কোনো শব্দ।
চাবি দিয়ে দরজা খুলতেই চোখে পড়ে মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাগে ফুঁসতে থাকা নিহান কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর তুবাকে পাজাকোলে তুলে নেয়।
নিজের রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। নাকের কাছে আঙুল রাখতেই বুঝতে পারে—শ্বাস খুব ধীর। চোখ বন্ধ করে গভীর একটা শ্বাস নেয় সে। মাথার কাছে বসে বিড়বিড় করে বলে ওঠে—
“ইউ আর অনলি মাইন… অনলি মাইন।”
তুবার ঠোঁট কাঁপছে, চোখের পাতাও কাঁপছে অজ্ঞান অবস্থাতেই। ফর্সা গালে পাঁচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট।
কিছুক্ষণ পর তুবা ধীরে ধীরে চোখ খুলে।
ফিসফিস করে বলে—
“আমাকে নিয়ে যান… আমাকে এখান থেকে বের করুন, নিহান স্যার… আমার অন্ধকারে খুব ভয় লাগে…”
নিহান বুঝতে পারে, সে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কাছে গিয়ে পানির ছিটা দেয় চোখে। তুবা এবার পুরোপুরি জেগে উঠে তড়িঘড়ি করে বসে পড়ে।
কাঁদতে কাঁদতে বলে—
“আমি আম্মুর কাছে যাবো… আমি এখান থেকে চলে যাবো…”
নিহান গর্জে ওঠে—
“চুপ! একদম চুপ। আর একটা কথা বললে খারাপ রূপ দেখবে।”
তুবা থামে না—
“আপনি খারাপ মানুষ! আমাকে ছেড়ে দিন… আপনি আমার কেউ না… কেউ না!”
নিহান এবার তুবার হাত শক্ত করে ধরে বলে—
“আই এম ইউর হাসবেন্ড।”
মুহূর্তেই থেমে যায় তুবার কান্না। যেন সময় থমকে দাঁড়ায়।
তারপর হঠাৎ ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলে,
“না! কিসের হাসবেন্ড? আমাদের কোনো বিয়ে হয়নি!”
নিহান চুপচাপ কাবার্ড থেকে কিছু কাগজ এনে তার সামনে ছুঁড়ে দেয়।
তুবা কাগজগুলো হাতে নিয়ে পড়তে থাকে। কয়েক লাইন পড়তেই মাথায় ভেসে ওঠে সেই দিনের কথা—যেদিন এগুলোকে ‘কনট্রাক্ট পেপার’ বলা হয়েছিল।
হাত কাঁপতে কাঁপতে কাগজগুলো ছিঁড়ে ফেলে দেয় সে।
কলার চেপে ধরে বলে—
“দেখেছেন? কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছি। কোনো বিয়ে হয়নি! কাগজে কলমে কখনো বিয়ে হয় না!”
নিহান ঠান্ডা গলায় বলে—
“হয় না যখন… তাহলে আমার সাথে চলো।”
“আমি কোথাও যাবো না।”
কিন্তু তুবার কথা না শুনেই নিহান তার হাত টেনে নিচে নিয়ে যায়।নিচে বয়স্ক করে একজন বসে আছে তুবা দেখেই বুঝতে পারে কে।নিহান তুবাকে সোফায় বসাল তুবার গায়ের কাছে ঘেসে নিজেও বসল।পুরো লিভিংরুমে জুড়ে নীরবতা।
আতিয়া বেগম আরো কিছু সার্ভেন্ট দাড়িয়ে আছে।তুবা উঠে যেতে চাইলে নিহান তুবার হাত চেপে ধরে কানের কাছে ফিসফিসয়ে বলে,
“চুপচাপ বসে থাক।”
তুবা কেদে দিল।তুবাকে কাঁদতে দেখে কাজী সাহেব বলে,
“আব্বা মাইয়া তো মনেহয় বিয়েতে রাজি নাই।”
“মাইয়া না থাকলে কি হইছে আমি আছি না।বেশি কথা না বলে বিয়ে পড়ানো শুরু করুন।”
কাজী সাহেব নিহানের কথামতো বিয়ে পড়ানো শুরু করে।কিছুক্ষণ পর বলে উঠে,
“সম্মতি থাকিলে বলো মা কবুল।”
তুবার মুখ থেকে আর শব্দ বের হয় না।নিহান আবারো কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“তুবা আমি কিন্তু শেষ বারের মতো বলছি যদি আমার কথামতো না করো আমি মে’রে মাটিচাপা দিয়ে দেবো একদম।”
তুবা কেঁদে উঠল।কিছুক্ষণ ভেবে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,
“ক..কবুল।ক..কব..কবুল।কবুল।”
এবার এলো নিহানের পালা।নিহান গম্ভীর স্বরে বলে,,
“কবুল।কবুল। কবুল।”
কাজী সাহপব জোরে বলে,
“আলহামদুলিল্লাহ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।”
কিছু কিছু সার্ভেন্ট মুচকি হাসছে আতিয়া বেগমের ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠল।তুবা আর এক সেকেন্ড ও বসল না সোফা থেকে উঠে দোড়ে নিজের রুমে চলে যায়।
নিশান আর নাহিয়ান সোফায় বসে কথা বলছে।নিশান কথায় কথায় বলে,
“দেখ নাহিয়ান আমাকে না বলে বাসা থেকে এক পা ও বাড়ানি না এখন থেকে।”
“কেন ভাইয়া?”
“কায়ান পিছে পরেছে।আর সবথেকে বড় কথা আমি এখন বাংলাদেশে ফিরছি না কারণ আমার লাগছে কায়ান বাংলাদেশে।নিহানের ক্ষতি না করলেও তুবার ক্ষতি করতে পারে।”
নিশানের কথা নাহিয়ান মনযোগ দিয়ে শুনছিলো হঠাৎ ফোনে কল বেজে উঠল।আতিয়া বেগম কল করেছে নাহিয়ানকে।নাহিয়ান কল তুলতেই ওপাশ থেকে আতিয়া বলে,
“নিহান স্যার বিয়ে করেছে।”
“কি?কাকে?”
“তুবাকে।”
নাহিয়ানের ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
“ভালোই হয়েছে।আচ্ছা এবার রাখি।”
নাহিয়ান কল কেটে কথাটা নিশানকে বলতেই নিশান রেগে উঠে বলে,
“নিহান বিয়ে করেছে সত্যি?”
“হুম।”
“তাও আবার তুবাকে?”
“হুম।”
“নিহান তো বলেছিলো মেয়েটার প্রতি ওর প্রতি কোনো ফিলিংস নেই তাহলে?আমাকে একটিবার বলার প্রোয়জন ও মনে করলো না।”
নাহিয়ান নিশানের কথার উত্তরে কিছু বলল না।নাহিয়ান অপেক্ষা করছে কখন বাংলাদেশে ফিরে নিহান আর তুবাকে দেখবে একসাথে।
তুবা বিছানায় বসে বসে কাঁদছে।তার জীবনটা কীভাবে এমন হয়ে গেল?কেন এমনটা করলো সৃষ্টিকর্তা?তুবা কাঁদতে কাদতে বলে,
“আমার সাথেই কেনো এমনটা হলো?লোকটা আমাকে ভালোবাসে না আমিও তো লোকটাকে ভালোবাসি না তাহলে কেনো আমাদের বিয়েটা হলো?কেনো?”
তুবার কান্না থামছে না।বালিশে মুখ গুজে হাউমাউ করে কাঁদছে সে।বুকের ভেতরটা যেনো ফেটে যাচ্ছে। ঠিক তখনিই দরজাটা আস্তে করে খুলে যায়।নিহান ভেতরে ঢুকে।তুবা আচমকা চমকে উঠল।চোখ দুটো লাল,গালের দু’পাশে লাল,মুখটা ভেজা অশ্রুতে।বালিশ থেকে মুখ তুলে চিল্লিয়ে বলে,
“না! আমি মানি না!এটা জোর করানো বিয়ে।এটা কোনো বিয়ে না।আপনি আমার কেউ না কেউ না আপনি।”
নিহানের চোখমুখে রাগের ঝলক দেখা যায়।তুাবর দিকে এগিয়ে এসে একটুও অপেক্ষা করলো না।ঠাস্ করে থাপ্পড় মারল গালে।দাতে দাঁত চেপে বলে,
“সত্যি বদলায় না।”
তুবা বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে দৌড়ে যায়।বের হওয়ার আগেই নিহান হাতদুটো ধরে ফেলে।
“আমাকে ছেড়ে দিন না!আমি এখানে থাকবো না।আমি চলে যাবো।”—চেচিয়ে উঠে তুবা।
নিাহন তুবাকে ঘুড়িয়ে নিজের কাছে টেনে আনে।দু’জনের মাঝে দুরুত্বটা এক মুহুর্তেেই কমে যায়।আরেকটু কাচে আসলেই তুবার মুখ নিহানের বুক ছুঁবে। নিহান গম্ভীর আওয়াজে বলে,
“কোথায় যাবে তুমি?এই দুনিয়ায় এমন কোনো জায়গা নেই..যেখানে আমি তোমাকে খুজে পাবো না।”
তুবা চোখ দিয়ে টপটপ করে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে।ভয়,অসহায়ত্বে সে কাঁপছে।
“আপনি কেন এমন করছেন আমি কি করেছি আপনার?”
নিহান কিছুক্ষণ চুপ থাকল।তাপর ধীরে বলে,
“একদিন সব জানতে পারবে।”
নিহান আর দাড়াল না তুবার রুমে।দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে নিজরে রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।তুবা ধপ করে মেঝেতে বসে
পড়ে।নিজরে হাত দুটো জড়িয়ে ফিসফিস করে বলে,
“আমি যেভাবেই হোক এখান থেকে বের হবো।যেভাবেই হোক আমি পালাবো।এরকম মানুষের সাথে আমি থাকতে পারবোনা।”
নোভা বিছানায় আধশোয়া হয়ে মোবাইল দেখছে।নিশান এসে হঠাৎ মোবাইল টান দেওয়াতে চমকে উটল নোভা।
বিরক্ত কন্ঠে বলে,
“দেখছেন না মুভি দেখছি আমি।”
“এসব মুভি না দেখে রোমান্টিক মুভিও তো দেখতে পারো।তাতে যদি একটু করলার মতো কথাগুলো কমে।”
নোভা চোখদুটো বড় বড় করে তাকালো নিশানের দিকে।নোভা ফুস করে উঠে বলে,
“আমি মোটেও করলার মতো তেঁতো কথা বলি না।”
“তোমার কথা করলার চেয়েও তেঁতো।”
“সরুন তো।”
নিশান ঠোঁট টিপে হাসি দিল।নোবা বিরক্ত হয়ে অন্যপাশে ফিরে বসে বলে,
“আমার মোবাইল দিন।”
“আগে একটা চুমু দাও।”
“ওমা এটা কেমন আবদার?”
নুশান ঠোঁট টিপে হেসে বলে,
“এটা স্পেশালি নিশান এহসানের আবদার।”
নোভা ভেংচি কাটল।নিশান কয়েক সেকেন্ড পর নোভার গালের একপাশে ছোট্ট করে চুমু খেল।নোভা অবাক চোখে তাকালো নিশানের দিকে।নিশান ঠোঁট টিপে হাসল।
চলবে…?
নোট:আসসালামুআলাইকুম।আসলে পর্বটা খুব ছোট আমি সারাদিন খুব ব্যাস্ত আপনারা তো সব জানেন। আর একটা কথা আমার কিন্তু বিয়ে পড়ানো নিয়ে কোনো একৃসপেরিয়েন্স নাই তাই ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।হ্যাপি রিডিং..❤️🩹
দ্যাব্ল্যাকমার্ক
আশুওনিশু
পর্বসংখ্যা_২৫(শেষাংশ)
আজকের রাতটা অদ্ভুদ রকমের নীরব।চারপাশে এক অজানা স্হিরতা।আকাশে পূর্ণ চাঁদ ঝুলে আছে,তার আলো ছড়িয়ে পড়েছে শূন্য রাস্তায়।বাতাসে হালকা শীতলতা,গাছের পাতাগুলো মৃদু শব্দে যেনো কোনো গোপন গল্প বলছে।
তুবা জানালার ধারে বসে ছিল।বাইরের হালকা হালকা বাতাস তার চুলগুলোকে নাড়াচ্ছে।কিন্তু চোখ দুটো দূরের অন্ধকারের দিকে। তুবা পুরো রুম অন্ধকার করে বসে আছে।মনের শত শত অজানা প্রশ্ন,কৌতূহল তাকে চেপে ধরেছে।কান্নাগুলো গলায় আটকে আছে।এখন পর্যনত কিছু খায়নি সে।খাবার যে গলা দিয়ে নামছেনা।কীভাবেই বা নামবে তার সাথে যেগুলো হয়েছে সে সেগুলো সপ্নতেও ভাবেনি।নিহানের মতো মানুষকে সে কোনোদিন স্বামী রূপে গ্রহণ করতেই পারবেনা।নিহান তার জীবনে অভিশাপের মতই।এগুলো নিজের মনে মনে ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তুবা।চোখদিয়ে দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।হঠাৎ পেছন থেকে গম্ভীর আওয়াজ ভেসে এল,
“এত রাতে জানালায় বসে আছো কেন?”
তুবা’র হঠাৎ ধ্যান ভাঙায় চমকে উঠল।নিহান লাইট জ্বালিয়ে দেয়।তুবা নিজের চোখের পানি মুছে নেয়।নিহান আবারো বলে,
“শুধু শুধু কাঁদছো কেন?কি সমস্যা তোমার?”
তুবা তাকিয়ে আছে নিহানের দিকে।মুখ দিয়ে কথাগুলো যেন বের হচ্ছেনা।নিহান এবার তুবার গাল চেপে ধরে বলে,
“মুখে কথা বলতে বলেছিনা?ইগনোর করছো কেন?”
তুবা ব্যাথায় চোখ-মুখ খিঁচে রেখেছে।নিহান তুবার গাল ছেড়ে তুবাকে কোলে নিয়ে নেয়।তুবা গলা কা’টা মুরগীর ন্যায় ছটফট করছে।নিহান মেয়েটাকে নিজের রুমে এসে বিছানায় শুইয়ে দেয়।তুবা এক লাফে উঠে বসে।রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
“অসভ্যতামি করছেন কেনো?বিয়ে করেছেন বলে যা ইচ্ছা তাই করবেন?”
নিহান দুষ্টু হাসল।তা দেখে তুবা চমকে উঠে। চিন্তা করে কি খারাপ লোক! একটা ভালো কথাকেও খারাপ রূপে নিয়ে আসে।তুবা নিহানকে আর কিছু বলল না।কারণ এই লোকটাকে কিছু বলা মানে বিপদকে ডেকে আনা।
তুবা ওপাশ হয়ে নিহানের বিছানায় শুয়ে যায়।শরীর ক্লান্ত থাকায় তুবা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়।নিহান তুবার পায়ের কাছে বসে আছে।তার ঘুম আসছেনা!নিহান এবার তুবার মাথারা কাছে গিয়ে বসে।তুবা ওপাশ ফিরে থাকায় চুলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।নিহান একটু ঝুঁকে তুবার চুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নেয়।কি মিষ্টি ঘ্রাণ!
সকালের মিষ্টি আলো তুবার চোখে পড়তেই তুবা’র ঘুম ভেঙে যায়।ঘড়ি’র দিকে তাকিয়ে দেখল নয়টা বাজে।তুবা একটা হামি দিয়ে উঠে বসল।হঠাৎ চুলে টান খেতেই পেছনে ফিরে তাকাল।তা দেখে পিলে চমকে উঠে তুবার।নিহান ঘুমাচ্ছে!পা দুটো মেঝেতে।নিহান যে কাল কখন যে চুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নিতে নিতে ঘুমিয়ে গেল তা সে নিজেও জানে না!তুবা নিজের লম্বা চুলগুলো একটু একটু করে চেষ্টা করে।কিন্তু নিহান আষ্টেপৃষ্টে চুলগুলো জড়িয়ে আছে।তুবা কয়েকবার চেষ্টা করতেই নিহান চোখ খুলে তাকায়।বিড়বিড় করে বলে,
“ইউ যাস্ট লাইক আ ফ্লাওয়ার।”
তুবা ভ্রু কুঁচকে বলে,
“কি বলছেন?আমার চুল ছাড়ুন।”
নিহান নেশাক্ত কন্ঠে বলে,
“না ছাড়লে?”
নিহানের কথা’র সুরগুলে তুবাকে আরো দূর্বল করে তুলছে।এরকম সুন্দর কন্ঠ ছেলেদের কেন হতে হবে?তুবা বলে,
“ছাড়ুন খিদে পেয়েছে।”
“আমারও।”—দুষ্টু হেসে বলে নিহান।
তুবা চোখ দুটো ছোট্ট করে বলে,
“আমার চুল ছাড়ুন।”
নিহান তুবার চুল ছেড়ে দেয়।তুবা আর অপেক্ষা না কের দৌড়ে রুম থেকে বেড়োতে নেয়।পেছন থেকে নিহান বলে,
“শুনো।”
তুবা পেছনে তাকালো।
“তোমার সব জামাকাপড় এখানে নিয়ে আসবে।”
“কেন?”
“আমি বলেছি তাই।”
“পারব না।”
“না পারলে পরে যা করব তার জন্য পস্তাবা।”—নিহান কঠিন স্বরে বলে।
তুবা মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।মনের ভেতর কেমন জানি করছে তার!তুবা নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়।
চোখমুখ ফুলে আছে এখনো।নিচে গিয়ে ডাইনিং এ বসল।এরপর পর ই নিহান ও বসল তার সামনাসামনি।নিহান আসার সাথে সাথেই কিছু সার্ভেন্ট এসে খাবার পরিবেশন করে দিল।তুবা খাবার খেতে খেতে বলে,
“আমার একটা মোবাইল লাগবে।”
“কেনো?”
“সবার মোবাইল আছে আমার নেই।আমার সময় কাটে না।”
“এতদিন কেমনে কেটেছে তাহলে?”
“কোনোমতে কেটেছে আরকি।আমাকে একটা মোবাইল দিয়েন কমদামী হলেও চলবে।”
নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে হাসল।মনে মনে ভাবল ইস্ মেয়েটা কত বোকা!মেয়েটা কীভাবে ভাবল তাকে আমি কমদামী মোবাইল দেবো?নিহান তুবার সাথে আর কথা বাড়াল না।
তুবা খাওয়া সেই কখন শেষ হয়ে গিয়েছে বোকা বোকা চাহনিতে তাকিয়ে আছে নিহানের দিকে।নিহান একপলক তাকাল মেয়েটার দিকে।তুবা আতিয়া বেগমকে ডেকে বলে,
“আন্টি আমি সাহায্য করব আপনাকে?”
আতিয়া বেগম কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিহান বলে উঠল,
“চুপচাপ এখানে বসে থাকো।বেশি কথ বললে থাপড়িয়ে গালের দাঁত সব ফেলে দিবো।সৃটুপিড।”
তুবা বিরক্ত চোখে তাকাল নিহানের দিকে।লোকটাকে এখন দেখে বেশ ভয় লাগছে।তাড়াতাড়ি উঠে বাগানের দিকে চলে যায়।আজকে বাগানের গাছে তুবা পানি দেবে।পানি দিতে দিতে তুবা গুনগুন করে গান গাচ্ছে।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন থেকে কারো ডাকার শব্দ পেল।ফিসফিস করে ডাকছে ‘তুবা’ ‘তুবা’ বলে।তুবা পেছনে তাকিয়ে দেখল ইফতিশাম।তুবা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল আশেপাশে তাকিয়ে দেখল নিহান নেই।স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলো ইফতিশামের দিকে।ইফতিশাম বলে,
“তুবা।কালকে লোকটা তোমাকে কিছু করেছে?”
তুবা চুপ।ইফতিশাম গালের দাগগুলো দেখে বলে,
“মেরেছে তোমাকে?”
“আরে বাদ দিন তো এগুলো।আপনি এখানে কেমন আসলেন?ঠিকানা কে বলল?”—প্রশ্ন ছুড়ল তুবা।
“তিশা বলেছে।তুমি লোকটার কে হও?”
“আমি এ বাড়ির কাজের লোক।”
“তাহলে চলো আমার সাথে।”
“কোথায়?”
“আমি তোমাকে ভালোবাসি তুবা।অনেক ভালেবাসি।”
তুবা চমকে বলে,
“কিন্তু..আমি।”
“কোনো কিন্তু না।আমি তোমাকে বিয়ে করব।”
বিয়ে শব্দটা শোনার সাথে সাথেই তুবার বুকটা ধক করে উঠল। সে কাওকেই পছন্দ করেনা আর না বিয়ে করতে চাই!নিহান তাকে জোর করে বিয়ে করেছে।আর এখন ইফতিশাম বলছে এগুলো?তুবা ধীর কন্ঠে বলে,
“দেখুন ইফতিশাম আমি এসবে মোটেও সাচ্ছন্দবোধ করিনা।”
“তুমি কি তাহলে কাওকেই ভালোবাসো না?”
“না।”—সহসা জবার তুবার।
ইফতিশাম মৃদু হাসল।
“আচ্ছা একদিন ঠিক আমাকেই বাসবে।তো ভার্সিটি যাবে কাল?”
“হু।”
“দেখা হচ্ছে।”
এই বলেই ইফতিশাম গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।গেটে গার্ডরা থাকা সর্তেও তাকে ঢুকতে দিয়েছে কীভাবে তা তুবার জানা নেই।তুবা আশেপাশে তাকলো আবার নিহান কোথাও থেকে দেখেছে নাকি!নাহ্ নািহন নেই।তুবা গাছে পানি দেওয়া শেষ করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল।
কানাডায় এখন রাত।নাহিয়ান বসে আছে সোফায় এক কোণে।ঠোঁটে হাসি,চোখদুটো শান্ত।নাহিয়ান গলা ছেড়ে গান গাইছে,
“ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু
তোমায় যতনে।
আমার মনের ঘরে
চান্দের আলো
চুইয়া চুইয়া পড়ে।
পুষে রাখবো রাখবো রে বন্ধু।
তোমায় যতনে।”
হঠাৎ নিশান এসে পাশে বসল।নিশান হেসে বলে,
“কাকে নিয়ে এত গান গাওয়া হচ্ছে রে?”
“না ভাইয়া এমনি।”
“তোর আগে পৃথিবীতে এসেছি কিন্তু আমি।”
“তুমি তো সব জানো ভাইয়া।”
নাহিয়ানের হাসিমাখা মুখটা মুহুর্তেই হারিয়ে গেল।নিশান নাহিয়ানের কাঁধে হাত দিয়ে বলে,
“তাই আমি কোনো মেয়েদের বিশ্বাস করি না।”
“বাদ দাও ভাইয়া।অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো।”
”তুইও ঘুমাতে যা।”
নাহিয়ান নাথা নাড়িয়ে নিজের রুমের দিকে যায়।নোভা ঘুমোচ্ছে নিজের রুমে।কিন্তু নিশানের ঘুম আসছেনা তাই লিভিংরুমে বসে আছে।পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরায়।সিগারেটে টান দিতে দিতে মোবাইল স্ক্রল করছে নিশান।
তুবা মুখ ভার করে বসে আছে নিহানের সামনে।নিহান চোখ মুখে গম্ভীরতা।তুবার মুখ ভার করে বসে থাকার কারণ হলো নিহান তাকে বলেছে তাকে আজ থেকে এই রুমে থাকতে হবে।হাতে চুড়ি,নাকে নাকফুল ও পড়তে হবে।অথচ কোনো কালেই নিহান এগুলা বিশ্বাস করত না।আজ হঠাৎ ছেলেটার কি হলো?নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“এগুলো পড়ে নাও।”
“পড়ব না আমি।”
“তুমি কিন্তু ভুলে যাচ্ছো তুমি কাল থেকেই আমার বউ হয়েছো।”
“আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে করেছেন।আর এখন বলছেন আমি চুড়ি,নাকফুল এগুলল পড়বো?—রাগে গজগজ করতে করতে বলল তুবা।
নিহান তুবার হাত ধরে স্বর্ণের তৈরি চুড়িগুলল পড়িয়ে দেয়।ফর্সা হাতে এগুলো বেশ মানানসই।এআার পালা এলো নাকফুলের!নিহান এবার তুবার নাকে নাকফুল পড়াচ্ছিলো তুবা ব্যাথায় চোখ খিঁচে রেখেছে।নাক অনেক আগে ফোটানোর কারণে তাই এমন হচ্ছে! অবশেষে নাকফুলটা পড়িয়ে দিলো নিহান।তুবা’র চোখের কোণে জল জমে আছে।নিহান তুবাকে দেখে ফিসফিসিয়ে বলছে,
“পুরো নিহান এহসানের বউয়ের মত লাগছে এখন।”
“কিছু বললেন?”
“না।”
নিহান নিষ্পলক চেয়ে আছে মেয়েটার দিকে।তুবা নিহানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অস্তিত্বতে অন্য দিকে তাকায়।
নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে বাকা হাসল।
“লজ্জা পাচ্ছো সোনা?”—দুষ্টু কন্ঠে বলে নিহান।
“এসব নামে প্লিজ আমাকে ডাকবেন না।”—রেগে বলে তুবা
“রেগে যাচ্ছো জান?”
তুবা কানে হাত দিয়ে চিল্লিয়ে বলে,
“প্লিজ এসব বলবেন না।”
নিহান চুপ করে গেল।অন্যদিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসছে সে।তুবা বিরক্ত হয়ে তাকাল নিহানের দিকে।নিহান তুবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট গোল করে চুমু দেওয়ার মতো করে।তুবা নিহানের কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে চলে যায়।নিহান তুবার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছে মিটিমিটি করে।
তুবা নিহানের রুম থেকে বেরিয়ে ছাদের উদ্দেশ্য গেল।দুপুর হওয়া সত্বেও আজকে চারদিকে বাতাস বইছে আকাশে মেঘগুলো কালো হয়ে আছে।মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ পর ই মুষলধারে বৃষ্টি পড়বে।তুবার বৃষ্টি খুব পছন্দ কিন্তু বৃষ্টি পড়ার চেয়ে বৃষ্টি পড়ার আগ মুহুর্ত তার বেশি পছন্দ।হঠাৎ বজ্রপাত হওয়ায় তুবা কেঁপে উঠল।
চলবে???
(সবাই বড় বড় মন্তব্য করবেন।১কে রিয়েক্ট করে দিবেন।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০