#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৩৩
#তানিশা সুলতানা
আদ্রিতা বাংলাদেশ এসেছে চার দিন হয়ে গেলো। কিন্তু এখনো মানিয়ে নিতে পারছে না। কোন কারণ ছাড়াই তার মন খারাপ থাকে। একটু পরপরই কান্না পায়। নিষ্ঠুর পাষাণ ওই মানুষটার কথা মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে। তাকে দেখার জন্য কলিজাটা ছটফট করতে থাকে।
কোথাও একটা আছে লেখা পড়েছিলো
“কাউকে খুব বেশি মনে পড়লো তার সঙ্গে যোগাযোগ করো। কথা বলো। জীবন তো একটাই আফসোস নিয়ে দুনিয়া ছেড়ো না”
এই কথাটা আদ্রিতার মনে সর্বক্ষণ ঘুরতে থাকে। সে আফসোস নিয়ে মরতে চায় না।
তাইতো পাষাণ ওই মানুষটিকে ছাড়া থাকতে না পেরে কল করেছিলো একবার। সে কল ধরলো না।
হাজার হাজার মাইল দূরে চলে এসেছে তবুও ওই মানুষটার ইগনোর করা কমছে না। নিজেকে প্রকাশ করছে না। কেনো?
তবে কি সত্যিই সে আদ্রিতাকে ভালোবাসে না? কোনো ফিলিংস নেই ওর প্রতি?
ঠিক আছে
সে যদি আদ্রিতাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে তবে আদ্রিতাও তার অভাবে মরবে না।
তার যদি ফিলিংস না থাকে তবে আদ্রিতাও নিজের ফিলিংকে গলা টিপে মেরে ফেলবে।
ভাবনার মাঝেই আদ্রিতার কক্ষে অহনা প্রবেশ করে
“তুই এ্যানিকে কেনো রেখে আসলি? ভাইয়া হয়ত ওকে ফেলে দিবে।
এই প্রশ্নের জবাব আদ্রিতার কাছে নেই।
কেনো রেখে আসলো?
আবরার যাতে ওকে কখনো ভুলতে না পারে তার জন্যই এ্যানিকে রেখে এসেছে। যাতে এ্যানিকে দেখে ওর কথা মনে পড়ে।।
___
বহুদিন বাদে আজকে ভার্সিটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদ্রিতা। বর্ষা হাজার বার মানা করছে। কেনোনা প্রচন্ড পরিমাণে বৃষ্টি নামছে। এখন অবশ্য একটু কমেছে কিন্তু আকাশে প্রচন্ড পরিমাণে মেঘ। যখন তখন আবার ছমছম এই বৃষ্টি পড়বে।
আর ঢাকার শহরের বৃষ্টি মানে ভয়াবহ পরিস্থিতি। পানি জমে রাস্তা নদী হয়ে যাবে।
মায়ের কথা শুনতে রাজি নয় আদ্রিতা। সে কোনো রকমে একটা ডিম খেয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটেছে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।
ঠিক করেছে আজকে রিকশায় যাবে। তাই গাড়ি নিয়ে বেরোলো না।
ভাগ্য বোধহয় আজকে প্রচন্ড ভালো ওর। তাইতো বাড়ির সামনে থেকে রিক্সা পেয়ে যায়।
রিকশায় চড়ে কিছুটা এগোতেই তিথির সঙ্গে দেখা হয়। সেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিক্সা খুঁজছিলো।
আদ্রিতাকে তাকে ডেকে রিকশায় তোলে।
তারপর শুরু হয় দুই বান্ধবীর আলাপ।
তিথি বলে
“সুইজারল্যান্ড কেমন রে?
আর তোর কাজিন আবরার তাসনিন। সে কি সামনাসামনি আরও বেশি হ্যান্ডসাম?
ইস ভাই আমি যদি তাকে একটু দেখতে পেতাম।
আদ্রিতার বেশ রাগ হলো। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
“সামনাসামনি দেখতে পেলে কি হতো?
“কি হতো না?
আমার স্বপ্ন পূরণ হয়ে যেতো। তাকে প্রপোজ করতাম। ইমপ্রেস করার চেষ্টা করতাম। যদি একবার ইমপ্রেস হয়ে যেতো টেনে নিয়ে যেতাম কাজি অফিস।
ওনার মতো একটা চকলেট বয়, জেন্টলম্যান, হ্যান্ডসাম হিরো লাইফ পার্টনার হলে জীবনডা ধন্য হয়ে যেতো রেহহহ।
আদ্রিতা আর সহ্য করতে পারলো না। রাগে সারা শরীর কাঁপছে। ধাক্কা মেরে রিকশা থেকে ফেলে দেয় তিথিকে। বৃষ্টি নামার ফলে রাস্তা ঘাটে কাঁদা জমে আছে। সেই কাঁদার মধ্যেই পড়লো তিথি। যার ফলে খুব বেশি ব্যথা পেল না।
আদ্রিতা ধমকে রিকশা মামাকে রিকশা চালাতে বললো।
_____
পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করা হলেও চায়না এই প্রথম বার আসলো আবরার ইভান এবং আহাদ। মানতেই হবে বেশ উন্নত এবং সাজানো গোছানো চায়না শহর।
ইভান এবং আহাদ ছবি তোলায় ব্যস্ত। বাচ্চাদের মতো দৌড়াদৌড়ি করছে এটা ওটায় হাত দিচ্ছে, হাসাহাসি করছে।
আবরার দুই বন্ধুর বাচ্চামি দেখতে থাকে। সমুদ্র বরাবরই পছন্দের। সেটা যে দেশেরই সমুদ্র হোক। চায়নার সমুদ্র একটু বেশি অন্যরকম।
” আবরার তাসনিন হোয়াট এ প্রেজেন্ট সারপ্রাইজ
পেছন থেকে ইয়াংইউ বলে ওঠে।
আবরার পেছন ঘুরে তাকায়। মেয়েটিকে দেখে হাসার চেষ্টা করে, বা নিজেকে একটু আন্তরিক বলে প্রমাণিত করতে চায়। তবে ব্যর্থ হয়।
যেটা সে নয় সেটা সে দেখাতে পারেনা।
ইয়াং ইউ এগিয়ে আসলো। মানতে হবে মেয়েটা বেশ সুন্দরী এবং গোছানো।
আবরার ভনিতা ছাড়াই বলে
“আই নিড ইউওর হেল্প।
ইয়াং ইউ হাসে।
“ইউ নো হোয়াট
গোটা পৃথিবীর ১ নাম্বার সুন্দরী আমি।
মিস ওয়ার্ল্ড এর মুকুট আমার আমার মাথায়। তুমি আমায় রিজেক্ট করেছ
কখনো মনে হয় না পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মেয়েটিকে হাত ছাড়া করে ফেললাম?
এই যাত্রায় আবরার হাসলো। শব্দ করে হাসি নয়। শুধু দুই ঠোঁট মেলে দিলো। পরপর আসমান পানে তাকিয়ে বলে
“তুমি কি জানো
এই পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর চাঁদটা আমার ঘরে।
তার মুখের তাকালে গোটা পৃথিবী সৌন্দর্য দেখতে পাই আমি।
সে যখন কথা বলে মনে হয় এর থেকে সুন্দর দৃশ্য হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও পাওয়া যাবে না।
হতে পারো তুমি সুন্দরী
তাদের কাছে কিছুই না। মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট তোমার মাথায় থাকতেই পারে।
তবে আমার চাঁদের মাথায় আছে আবরার তাসনিন এর হাত। যেটা মুকুটের থেকেও শতগুণ বেশি মূল্যবান।।
ইয়াং ইউ বলার মত আর কোন কথা খুঁজে পায় না। সে আবরার তাসনিনকে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে না। তবে বাংলাদেশের এক সাধারণ মেয়ের কাছে হেরে যাচ্ছে এটাই মানতে পারছে না।
গোটা পৃথিবীতে এমন কোনো ছেলে নেই যে তাকে পাওয়া স্বপ্ন দেখে না। সে চাইলে ছেলেদের লাইন লেগে যাবে।
সেই ইয়াং ইউকে রিজেক্ট করে আবরার তাসনিন সাধারণ অতি সাধারণ একটা মেয়েকে নিয়ে মেতে আছে।
এটা মেনে নেওয়া সহজ।।
তবু নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে ইয়াং ইউ বলে
“তোমরা চাইলে আমার বাড়িতে থাকতে পারো।
একদম সেফলি থাকতে পারবা।
আর কি কি হেল্প লাগবে জাস্ট বলবে।
আমি আমার ১০০% দিয়ে চেষ্টা করব।
আবরার সম্মতি প্রকাশ করলো। ইভান এবং আহাদ এতোক্ষণ ওদের কথা শুনছিলো। এইবার ইভান ফিসফিস করে বলে
” ভাই আবরার ইয়াং ইউ এর বাড়িতে থেকে তার বাবাকেই খু/ন করবে।
এইবার আর জান নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না রে। বিয়ে করার আগেই বউ বিধবা হয়ে গেলো রেহহহহ
আমার আর রোমাঞ্চ করার স্বপ্ন পূরণ হলো না।
আহাদ ধমকের স্বরে বলে
“চুপ কর শালা
আবরার সিয়াম আর আমানের লাইফ সেফ করতে এতোকিছু করছে। আর আমরা ওর জন্য মরতে পারবো না?
ইভান বিড়বিড় করে বলে
“কিসের জন্য কি করছে একমাত্র আল্লাহ আর ও জানে।
আমাদের ঘটে অত বুদ্ধি নেই যে আবরার তাসনিনের মাথায় কি চলছে সেটা বুঝবো।
____
এ্যানিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে আবরার। আদ্রিতা তাকে সুইজারল্যান্ড এ ফেলে গিয়েছিলো। হয়তো নিতে ভুলে গেছে।
ইয়াং ইউ এর বাড়িটা বিশাল বড়। অথচ এখানে মাত্র দুজন মানুষ থাকে। চারিপাশে রোবট সেটআপ করা। ক্যামেরা কতগুলো আছে তার কোন হিসেব নেই। ইভান এবং আহাদ ঘুরে ঘুরে সবটা দেখছে।
আবরার এ্যানিকে বুকের ওপর রেখে শুয়ে পড়ে।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫২
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৩