#তুমি_এলে_অবেলায়
#আতিয়া_আদিবা
শেহজাদ আর একটি শব্দও উচ্চারণ করল না। সামাইরার ওই যৌক্তিক প্রশ্নগুলোর উত্তর সত্যিই ওর কাছে নেই। সে বুকভরা হাহাকার নিয়ে ঝড়ের গতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সোজা চলে গেল নিজের ব্যক্তিগত অফিসঘরে। ঘরের দরজাটা ভেতর থেকে লক করে দিল।চেয়ারে বসে নিজের মাথাটা দুই হাতের মুঠোয় চেপে ধরল। পুরো বিকেলটা সে সেখানে বসে শুধু চিন্তা করতে লাগল, কীভাবে সামাইরাকে সে আজীবনের জন্য পাবে?তাকে দুই বাহুর মাঝে আটকে রাখবে? কীভাবে এই ভাঙা সংসারটাকে জোড়া দেবে?
ল্যাব থেকে ইউরিন স্যাম্পেলের ফাইনাল রিপোর্ট এসেছে। প্রেগনেন্সি টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে।
সুফিয়া রহমান খুশিতে আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণের ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু সামাইরা এবং শেহজাদের শোবার ঘরের আবহ ছিল আলাদা। কোনো আনন্দ নেই। উচ্ছ্বাস নেই! নেই কোনো উত্তেজনা।
সামাইরা বিছানায় এক কোণে বসে জানালার বাইরে এক ধ্যানে তাকিয়ে ছিল। শেহজাদও নিজের অফিসঘর থেকে বের হয়নি।
গোধূলি পেরিয়ে গেছে ক্ষণিককাল আগে। ক্লান্ত পাখিরা ফিরে গেছে নীড়ে। বসন্তের বাতাস দোলা দিয়ে যাচ্ছে শহরের বুকে। রাস্তার থোকায় থোকায় নিয়ন বাতি জ্বলে উঠেছে।
শেহজাদ ধীর পায়ে শোবার ঘরে ঢুকল।
শান্ত ভঙ্গিতে সামাইরার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। গলার স্বর নরম করে বলল,
-সামাইরা, আমার সাথে একটু রহমান টাওয়ারের ছাদে চলো।
সামাইরা ভ্রুঁ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
-রহমান টাওয়ারের ছাদে কেন?
-আমি তোমায় কিছু বলতে চাই।
-এখানে বলুন। শুনছি আমি।
-এখানে বলতে চাচ্ছি না। প্লিজ আমার সাথে চলো। বেশিক্ষণ লাগবে না।
সামাইরা প্রথমে যেতে অস্বীকার করল। পরক্ষণে শেহজাদের চোখের অনুনয় দেখে সে আর রাজি না হয়ে পারল না। গায়ে একটা ওড়না জড়িয়ে শেহজাদের সাথে গাড়িতে গিয়ে বসল।
রহমান টাওয়ারে পৌঁছানোর পর লিফটে করে তারা খোলা ছাদে এসে পা রাখল। চতুর্দিকে একবার চোখ বুলাতেই সামাইরা বিস্ময়ে এক পা পিছিয়ে গেল।
চাঁদের আলো রাতের আঁধারের ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। আকাশে সহস্র তারার মেলা। সাথে হু হু বাতাস। ছাদটা আজ যেন এক অলৌকিক স্বর্গে পরিণত হয়েছে! পুরো ছাদের চারপাশের রেলিং সাজানো হয়েছে দামী মরিচবাতি দিয়ে। ঠিক মাঝখানে একটি টেবিল আর দুটি চেয়ার রাখা। গোটা ছাদ হাজার হাজার তাজা লাল আর হোয়াইট অর্কিড ফুল দিয়ে সাজানো। নিয়ন বাতির আলোয় সেই অর্কিডগুলোর চকচক করছিল। বাতাসে ভাসছিল এক অতি মনোহর সুমিষ্ট সুবাস।
শেহজাদ আজ তার পুরো রাজত্ব এই অর্কিডের চাদরে ঢেকে দিয়েছে শুধুমাত্র একটা মানুষের জন্য। তার স্ত্রী, সামাইরা।
শেহজাদ সামাইরার মুখোমুখি হলো। সে সামাইরার নরম হাতদুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিল। সামাইরা হাতটা সরিয়ে নিতে চাইল। ফলস্বরূপ শেহজাদ আরও বেশি শক্ত করে ওর হাতজোড়া ধরে রাখল।
সামাইরার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের সেই দাম্ভিক আর অহংকারের মুখোশ চিরতরে খুলে ফেলল। কাতর স্বরে বলল,
-আই অ্যাম সরি, সামাইরা। আই অ্যাম রিয়েলি সরি ফর এভরিথিং। আমি জানি আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছি। ক্ষমার অযোগ্য আমি। তোমায় স্ত্রীর সম্মান দিতে পারি নি। কথায় কথায় অপমান করেছি। আজ তোমার গায়ে হাত তোলার মতো জঘন্য পাপও করেছি। আমি আজ নিজেকে একটুও ডিফেন্ড করতে চাই না। আমি খারাপ। আমি অসভ্য। আমি জঘন্য। এতগুলো সত্যির মাঝে আরেকটা সত্যি কি জানো? আমি তোমাকে হারাতে ভয় পাই।
দেশের সবচেয়ে বড় বিজনেস টাইকুন আজ এক মধ্যবিত্ত মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভালোবাসা ভিক্ষা চাইল।সে সামাইরার হাতের ওপর নিজের কপালটা ঠেকিয়ে বলল,
-আমি এই বিয়ে ভাঙতে চাই না সামাইরা। আমি কোনো ডিভোর্স চাই না। এই সন্তান আমাদের ভুলের ফল নয়। এই সন্তান আমাদের পবিত্র বন্ধনের প্রতীক। আমি তোমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে মন থেকে মেনে নিয়েছি, সামাইরা। আমার রাজ্যের রানি হিসেবে তোমায় আজীবনের জন্য আমি আমার পাশে চাই। আই ওয়ান্ট ইউ ফর আ লাইফটাইম, সামাইরা। আই ফেল ইন লাভ উইথ ইউ।
শেহজাদ এবার সামাইরার সামনে হাটুগেড়ে বসে পড়ল। মাথা নত করে বলল,
-চলো, সব ভুলে নতুন করে আমরা আমাদের সম্পর্কটা শুরু করি? প্লিজ?
শেহজাদের এই আত্মসমর্পণে, বুকফাটা আকুতিতে সামাইরার মনের বরফ ঠিক কতটুকু গলেছে তা বোঝা গেল না। কোনো পুরুষের এমন নিঃস্ব নির্বাসন কোনো নারীর পক্ষে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু সামাইরার চোখমুখ আগের মতই শক্ত রইল।
আলগোছে নিজের হাত দুটো শেহজাদের মুঠো থেকে টেনে মুক্ত করে নিল। সে এক পা পিছিয়ে গেল। নিস্পৃহ গলায় বলল,
-দুঃখিত, মিস্টার রহমান। আমি আপনার এই অনুশোচনার নাটক দেখে রাজি হতে পারলাম না।
আপনি খুব সহজেই একটা ‘সরি’ বলে আমার জীবনের অতীত অপমানগুলো মুছে দিতে পারেন না। আমার প্রতি যে অন্যায় আপনি করেছেন, তা আমি মরে গেলেও ভুলব না। আমি কোনোক্রমেই আপনার সাথে আজীবনের জন্য সংসার করতে পারব না। আমি আমাদের সম্পর্কটাকে ঘৃণা করি।
শেহজাদের চোখের মাঝে এতক্ষণ যে আশার আলো উঁকি দিয়েছিল, তা এক পলকে নিভে গেল। সে অবাক চোখে সামাইরার দিকে তাকিয়ে রইল।
সামাইরা আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। পুনরায় বলল,
-তবে হ্যাঁ, আমি বাচ্চা নষ্ট করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা থেকে সরে এসেছি। হাজার হোক ও আমারও সন্তান। আমার ভেতরের মাতৃত্ব আমাকে এই ঘৃণ্য, পৈশাচিক কাজটা করতে দেবে না। আমি আমার সন্তানকে পৃথিবীতে আনব। তাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আপনার স্ত্রী হয়ে এই বাড়িতে সারাজীবন থাকব।
শেহজাদ মাথা নত করেই জিজ্ঞেস করল,
-তাহলে তুমি কী চাও?
সামাইরা নিজের ব্যাগ থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করল। সে শেহজাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া শর্তের সুরে বলল,
-আমি এই বাচ্চা রাখার জন্য আপনার কাছে একটি জিনিস চাই। আগামীকালই আমি একজন উকিলকে ডেকে আনব। আমাদের মাঝে একটা লিগ্যাল ডকুমেন্ট সাইন হবে। আর সেই ডকুমেন্টে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে,
আমাদের এই বিয়ের বৈধতা শুধুমাত্র শাশুড়ি মা সুফিয়া রহমান যতদিন বেঁচে আছেন, ঠিক ততদিনই থাকবে। যেদিন শাশুড়ি মা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, ঠিক তার পরের দিনই এই বিয়ে অফিসিয়ালি এক্সপায়ারড হয়ে যাবে। আমি আপনার সন্তানকে জন্ম দেব। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর আমি আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে আমার সন্তানকে নিয়ে চিরকালের জন্য এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। আপনি আমাকে আর আমার সন্তানকে কোনো ক্ষমতা দিয়ে আটকে রাখতে পারবেন না। বলুন রাজি?
সামাইরা যখন এই নিষ্ঠুর চুক্তির শর্তটি উচ্চারণ করল, তখন রহমান টাওয়ারের ছাদের সমস্ত লাল অর্কিডগুলো যেন মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল।
শেহজাদের চোখের সামনে পুরো পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে গেল। সামাইরার আর নিজের সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার তীব্র আতঙ্ক তাকে এক লহমায় ঠেলে দিল বহু বছর পেছনের এক অন্ধকার অতীতে।
মস্তিস্কের অবচেতন প্রকোষ্ঠ চিরে তার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল এক ভয়ংকর স্মৃতি। এক রক্তাক্ত ফ্ল্যাশব্যাক।
তখন তার মা সুফিয়া রহমান চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পেটে নতুন প্রাণের স্পন্দন নিয়ে মা একদিন দুপুরে বাথরুমে ছোট্ট শেহজাদকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছিলেন। চারিদিকে পানির ছিটফোট আর সাবানের ফেনা নিয়ে মায়ের সাথে এক মায়াবী খুনসুটিতে মেতে ছিল ছোট্ট শেহজাদ। এক পর্যায়ে সে খেলার ছলেই তার ছোট্ট মাথাটা আলতো করে মায়ের স্ফীত পেটের ওপর রাখল। কান পেতে পেটের ভেতরের অনাগত বাবুর ধুকপুকানি শোনার নিষ্পাপ চেষ্টা! সে খিলখিল করে হেসে মায়ের দিকে তাকিয়ে চঞ্চল গলায় বলল,
-ও মা, এই বাবুটা কবে পেট থেকে বের হবে বলো না? ও কবে একটু বড় হবে আর আমরা দুজনে একসাথে খেলব?
সুফিয়া রহমান ছেলের কথায় হাসলেন। কিন্তু সেই অবুঝ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ ভাগ্য তাকে দিল না।
ঠিক সেই মুহূর্তেই বাথরুমের দরজাটা সজোরে লাথি মেরেভেতরে প্রবেশ করল শেহজাদের মদারু বাবা, জাবেদ রহমান। তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ। শরীর থেকে উপচে পড়ছে মদের তীব্র গন্ধ। সে সোজা বাথরুমে ঢুকে সুফিয়ার ভেজা চুলগুলো নিজের মুঠোয় খপ করে চেপে ধরে বন্য পশুর মতো গর্জে উঠল,
-কিরে মা*গী, রান্না হয়নি এখনো?
সুফিয়া আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে কোনোমতে অবরুদ্ধ গলায় উত্তর দিলেন,
– না।
ব্যস! এই একটিমাত্র ‘না’ জাবেদ রহমানের ভেতরের দানবটাকে খেপিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি বিকট এক চিৎকার দিয়ে সুফিয়াকে বাথরুমের পিচ্ছিল মেঝে থেকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে এলেন। শুরু হলো পৈশাচিক নির্যাতন। লাথি, থাপ্পড় অবিরত আছড়ে পড়তে লাগল চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে। সুফিয়া রহমান নিজের দুই হাত দিয়ে নিজের পেটটাকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। নিজের সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই নরপশুর পা থামল না।
এক পর্যায়ে সুফিয়ার দু পায়ের ফাঁক দিয়ে ছায়া বেয়ে মেঝেতে নেমে এলো গাঢ় লাল তাজা রক্তের এক কালিন্দী ধারা। হাড়কাঁপানো ভয়ংকর আর্তনাদে ফেটে পড়লেন সুফিয়া রহমান। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি মেঝেতে ঢলে পড়লেন। সেই রক্তের স্রোতের সাথে চিরতরে বিলীন হয়ে গেল শেহজাদের অনাগত ছোট ভাই কিংবা বোনটি। একটি নিষ্পাপ ভ্রূণ পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বাবার নৃশংসতায় শ্মশানে পরিণত হলো। আর ছোট্ট শেহজাদ? সে বাথরুমের দরজার আড়ালে তখনো কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরে আছে।
সে তার মাকে রক্তে ভেসে যেতে দেখল। শুধু দেখতে পেল না রক্তের সাথে বয়ে যাওয়া ওর ভাই কিংবা বোনের সেই অকাল মৃত্যু। সেদিনের সেই অসহায়ত্ব আজো তার বুকে পাথর হয়ে আছে।
স্মৃতির সেই তীব্রতা শেহজাদকে এক ঝটকায় কাঁপিয়ে দিল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘কিং’ এর চোখজোড়া টলমলে নোনা জলে ভিজে উঠল। তার বুক হু হু করে উঠল।দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু সে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। বড্ড অবহেলায় বলিষ্ঠ হাত দিয়ে চোখের কোণের পানিটুকু মুছে ফেলল সে। তার এই ইস্পাতকঠিন ব্যক্তিত্বের সাথে কান্না কোনোভাবেই মানানসই নয়।
কিন্তু তার ভেতরের পুরুষ সত্তাটি তখন এক ভয়ংকর প্রতিজ্ঞায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বাবা জাবেদ রহমান তাদের অনাগত সন্তানকে খুন করেছিল। কিন্তু শেহজাদ নিজের অনাগত সন্তানের গায়ে একটা ফুলের টোকাও লাগতে দিবে না। কোনো অন্যায় হতে দেবে না।
এই সন্তানের সুরক্ষার জন্য সে সামাইরার চরণে নিজের সমস্ত অহংকার, ইগো ধূলিসাৎ করতে রাজি। একশ বার রাজি। সামাইরার দেওয়া শর্তে সে বন্দি হতে রাজি। তবুও যেন তার সন্তান সুরক্ষিত থাকে।
নিজের পরাজয় স্বীকার করে মাথা নাড়ল শেহজাদ। বলল,
-ঠিক আছে সামাইরা। কালই লিগ্যাল ডকুমেন্টে সাইন
হবে। আই একসেপ্ট ইওর কন্ডিশন।
দূরে কোথাও আর্টসেলের ‘অনিকেত প্রান্তর’ গানটা বাজতে শুরু করল। বাতাসের বেগ বেড়েছে। আকাশের চাঁদটা কেমন যেন ফ্যাকাশে আলো ছড়াচ্ছে! সামাইরা আর সময় নষ্ট করল না। নেমে গেল ছাদ গেল। শেহজাদ আকাশের দিকে উদাস দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল।
অনেকগুলো কিশোর কিশোরীর সম্মিলিত সুরেলা কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে,
দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে
বিঁধে আছে অনুভূতি গুলোর ব্যবচ্ছেদ..
(আজকে গল্প দিতে চাইনি। কিন্তু আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন জানি। আপনাদের জন্যই শরীরের সাথে বিরোধীতা করে আজ গল্প লিখেছি। আপনারাও অনুগ্রহ করে ৩০০ কমেন্ট আর ২০০০ লাইক দ্রুত পূরণ করে দিয়েন)
চলবে..
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, তুমি এলে অবেলায়
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩২(বাসর স্পেশাল❤️)
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১১
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৬
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১৬
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১৮
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৩