#জেন্টাল_মনস্টার
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_৬৫
[ কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
লাড়ার চোখ বাঁধা। সেই সঙ্গে হাত দুটোও শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে।
মেয়েটা শব্দ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। স্যাঁতসেঁতে মাটির উপর রাখা একটি চেয়ারে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। চারপাশে ভয়ঙ্কর অন্ধকার আর বিশ্রী এক গন্ধের রাজত্ব। শ্বাস নিতেও যেন কষ্ট হচ্ছে।
লাড়া চিৎকার করতে চাইছে, কিন্তু তার কণ্ঠ রুদ্ধ। হাত দুটো অবিরাম বাঁধনের চাপে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে করতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। শেষমেশ মাথাটা একদিকে কাত করে দেয়।
ঠিক তখনই অন্ধকার ঘরের ভেতর কারও পদধ্বনি ভেসে আসে।
লাড়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা সোজা করে তাকায়।
হুট করেই তার চোখ এবং মুখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।
লাড়া চোখ মেলে তাকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকার কারণে সামনে সবকিছুই ঝাপসা দেখাচ্ছে।
লাড়ার সামনে বুকের উপর হাত গুঁজে বসে আছে সায়ের।
লাড়ার এমন অসহায় নড়াচড়া সায়েরের কাছে নিছক ঢং বলে মনে হচ্ছে। সে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিজের গার্ডদের দিকে ইশারা করে।
তারা তৎক্ষণাৎ লাড়ার মুখের উপর পানি ছুড়ে মারে।
চোখে মুখে পানি এসে পড়তেই লাড়া ঘাবড়ে যায়। দ্রুত চোখ খুলে সামনে তাকাতেই সায়েরকে দেখতে পায়।
সায়েরকে দেখে তার অন্তরাত্মা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
কাঁপা কণ্ঠে সে প্রশ্ন করে,
“স সায়ের, তুমি?”
সায়ের ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“ডিড ইউ মিস মি, লাড়া?”
এমন প্রশ্নের ঠিক কী উত্তর দেবে, লাড়া বুঝতে পারে না।
“এ এমন করছো কেন? এখানে এভাবে বেঁধে রেখে এটা কেমন প্রশ্ন?”
সায়েরের ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠে।
“তুমি কি জানো না আমি কী জিজ্ঞেস করছি?”
“স সত্যি বলছি, আমি বুঝতে পারছি না।”
কথাটা শুনে সায়ের হেসে ওঠে। তার হাসির শব্দ ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে আবার ফিরে আসে লাড়ার কানে।
লাড়া ভয় পাচ্ছে। প্রচণ্ড ভয়। সায়ের কি তবে সব জেনে গেছে?
হঠাৎই সায়ের বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে লাড়ার গালে সজোরে একটি চড় বসিয়ে দেয়।
চড়ের আঘাতে লাড়ার মাথা ঘুরে যায়। ঠোঁট কেটে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হতে শুরু করে।
লাড়া আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
“ক কী করছো, সায়ের?”
সায়েরের চোখে তখন দাউ দাউ করে জ্বলছে ক্রোধ।
“কুত্তার বাচ্চা, আমার বোনকে মারার প্ল্যান করেছিলি টোটোর সঙ্গে? তুই কি জানতিস না আমি কে?
তুই কি ভুলে গেছিস সায়ের সুভহান আলভি কে?
তুই কি এটাও ভুলে গেছিস আদ্রিস খান কে?
তুই কিভাবে এত বড় পাপ করলি?”
লাড়া বুঝতে পারে, তার সময় শেষ।
তবুও শেষবারের মতো চেষ্টা করে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলে,
“ক্ষমা করে দাও, সায়ের। সরি সায়ের, সরি। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার সঙ্গে মিরাকে দেখে আমার সহ্য হয়নি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর কোনোদিন তোমার সামনে আসব না।”
সায়ের কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
তারপর ধীর স্বরে বলে,
“তা বললে তো হয় না, লাড়া।
আমি তো শাস্তি দিতে এসেছি।
তোমায় ছেড়ে দিয়ে আবার সেই ভুলটা আমি করব না।
ওপারে ভালো থেকো।”
কথাগুলো বলেই সায়ের পাশ থেকে একটি কেরোসিনের ড্রাম টেনে নেয়।
তারপর ধীরে ধীরে লাড়ার শরীরের উপর কেরোসিন ঢালতে শুরু করে।
তীব্র গন্ধে লাড়ার শরীর কেঁপে ওঠে।
সে প্রাণপণে চিৎকার করে ওঠে।
কাঁদে। অনুনয় করে। বাঁচার জন্য আকুতি জানায়।
কিন্তু সেই চিৎকার, সেই কান্না, সেই আর্তনাদ সায়েরের হৃদয়ে পৌঁছায় না।
তার চোখে তখন কেবল একটাই জিনিস জ্বলছে।
প্রতিশোধ, আর সেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলবে লাড়া।
গর্ভবতী বোনকে যে কষ্ট এরা দিয়েছে তার সামনে সায়ের সামান্য শাস্তিই নির্ধারণ করেছে।
সায়ের পকেট থেকে দেশলাইট শেষ করে আগুন জ্বালে।
লাড়া তখনো বার বার না না বলেই চলেছে কিন্তু সায়েরের কান পর্যন্ত সে আকুতি পৌঁছায় না।
সায়ের দেশলাইট খানা লাড়ার উপর ছুঁড়ে দেয়।
কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে জ্বলন্ত লাড়াকে দেখে।
এরপর সে বেরিয়ে যায় বেসমেন্ট থেকে।
এখানেই সে শেষ করে দিলো তাদের জীবনে বাড়তে থাকা সকল শত্রু এবং বিপদকে।
———–
রাশিয়ার আকাশে আজ সূর্য উঠেছে এক অনন্য কোমলতা নিয়ে। দীর্ঘদিনের অবিরাম বৃষ্টির পর প্রকৃতি যেন অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। সোনালি রোদ চারদিকে মিষ্টি আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। ভেজা ঘাসের উপর জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে। বাতাসে রয়েছে হালকা শীতলতা, যা শরীর ছুঁয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জীবন প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আজকের এই নির্মল সকাল তাই যেন আশীর্বাদের মতো লাগছে।
জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিতা। এক হাত আলতো করে নিজের পেটের উপর রাখা। দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সে, অথচ তার মন ছুটে বেড়াচ্ছে নানা ভাবনার ভেতর।
তারা এখন আর আদ্রিসের মেনশনে নেই। নেই সুবহান মেনশনেও।
তারা এখন সম্পূর্ণ আলাদা একটি মেনশনে রয়েছে। এমন এক জায়গা, যেখানে নেই আদ্রিসের ইগো, নেই সায়েরের ইগো।
এটা আদ্রিতা, মিসেস মিহু, মিরা এবং প্রিয়ার মেনশন।
বর্তমানে তারা সবাই সেখানেই অবস্থান করছে।
এখানে কেউ কাউকে নিজের মেনশনে নিয়ে যাওয়ার দাবি করতে পারে না। আদ্রিস বলবে না তার মেনশনে যেতে, সায়েরও বলবে না তার মেনশনে যেতে।
পুরো পরিকল্পনাটাই ছিল মিসেস মিহুর মাথা থেকে বের হওয়া।
আদ্রিতা সুস্থ হয়েছে বেশ কিছুদিন হলো।
পর্শুদিন সায়ের এবং মিরার বিয়ে।
আদ্রিস ইতোমধ্যেই মাধবী বেগমকে দেশ থেকে রাশিয়ায় আনার ব্যবস্থা করেছে। হয়তো আজই তিনি পৌঁছে যাবেন।
সুস্থ হওয়ার পর আদ্রিতা বেশ কিছু খবর জানতে পেরেছে।
তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর খবর ছিল তার নিজের শ্বশুরের মৃত্যু।
আদ্রিস বলেছে, আসরাফ খান একটি এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছেন।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, আদ্রিসের চোখেমুখে সে বিশেষ কোনো শোকের ছাপ দেখেনি।
এসব নিয়েই ভাবছিল আদ্রিতা।
হঠাৎ নিজের পেটের উপর কারও উষ্ণ স্পর্শ অনুভব করে সে ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে।
আদ্রিস।
এখন আদ্রিসের উপস্থিতি সে খুব সহজেই টের পায়।
লোকটার শরীরের ঘ্রাণ যেন আলাদা এক পরিচয় বহন করে। গভীর, তীব্র, মাদকতাময়।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দেয়।
এক নিঃশ্বাসে যেন আদ্রিতার শরীরের সমস্ত ঘ্রাণ নিজের ভেতর টেনে নিতে চায় সে।
আদ্রিসের উষ্ণ নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যায় আদ্রিতার ত্বক।
তার শরীর হালকা কেঁপে ওঠে।
পরমুহূর্তেই আদ্রিস ঘাড়ের কাছে দাঁত চেপে ধরে।
ব্যথা নয়, বরং এক অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে আদ্রিতার শরীরে।
চোখ মেলে তাকায় সে। শরীর খানিকটা ঝাঁকুনি খেয়ে ওঠে।
“ক কি করছেন?”
আদ্রিস আরও কাছে ঝুঁকে আসে।
তার কণ্ঠস্বর নিচু, ভারী।
“তোকে মিস করেছি জান। তোর ঘ্রাণ, তোর সবকিছু। তোকে বুকের ভেতর রেখে দিতে পারলে শান্তি লাগত।”
আদ্রিতা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়।
সরাসরি তাকায় আদ্রিসের চোখে।
“তাই বুঝি?”
আদ্রিস নিচু হয়ে তার কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়।
“হ্যাঁ, তাই।”
আদ্রিতার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে।
“এত ভালোবাসেন আমাকে?”
আদ্রিসের দৃষ্টি তখন অস্বাভাবিক রকম গভীর।
এমন দৃষ্টি, যা মানুষকে একই সঙ্গে নিরাপদ এবং ভীত অনুভব করাতে পারে।
সে ধীরস্বরে বলে,
“অনেক বেশি। তুই ভাবতেও পারবি না ঠিক কতটা বেশি। তোরে ভালোবেসে আমি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছি, তোর জন্য মরতেও পারি, আবার মারতেও পারি।”
কথাগুলো ছিল ভয়ঙ্কর।
ভালোবাসার স্বীকারোক্তি হয়েও যেন তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অন্ধকারের ছায়া।
আদ্রিতার শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
সে বুঝতে পারে, আদ্রিসের ভালোবাসা সাধারণ কোনো অনুভূতি নয়।
এটা এমন এক অধিকারবোধ, যা সীমা মানে না।
এমন এক ভালোবাসা, যা নিজের মানুষটাকে আগলে রাখতে পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করতেও দ্বিধা করবে না।
আর সেই কারণেই আদ্রিসের চোখের গভীরে তাকালে আদ্রিতার বুকের ভেতর একই সঙ্গে জন্ম নেয় ভালোবাসা, বিস্ময় এবং অজানা এক শিহরণ।
আদ্রিস হুট করেই আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে। আদ্রিতাও বাঁধা দেয়না। কারান আজকাল তার হরমোন তার কথা শুনেনা। এগুলো বেসামাল হয়ে আদ্রিসের স্পর্শ চায়।
আদ্রিসের স্পর্শ, আদ্রিসের কাছে থাকা আদ্রিতাকে এক অন্য রকম অনুভুতি দেয়।
আদ্রিস ধিরে আদ্রিতাকে বিছনায় শুইয়ে দেয়।
আদ্রিতার কাঁধে চুমু খেতে খেতে নিজের কোট খানা খুলে ফেলে দেয়।
আদ্রিতার জামার চেইনে হাত দিতে আদ্রিতার চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।
আদ্রিস বাঁকা হাসে।
———
দু দিন পর বিয়ে বাড়িতে এত কাজ। রেভেন সকাল থেকেই এটা ওটা করতে ব্যস্ত। ব্রেকফাস্ট করেনি ঠিক মত।
প্রিয়া প্লেটে খাবার তুলে রেভেনের সামনে ধরলো।
রেভেন ফোনে কথদ বলছিলো প্রিয়ার এমন কান্ড দেখে সে ফোন কেটে প্রিয়ার দিকে চায়৷
“জান তুমি এখানে কেন এলে?”
“বা রে আপনি না খেয়েই কাজ করে চলেছেন আমারত চিন্তা হবেই।”
“জান তোমার ভাইরা দেখে ফেলবে।”
“দেখুক এমনিতেই আদ্রিতার আর মিরা সব জানে। ওরা বুঝাবে ভাইয়া দের। তোমাকে ভাবতে হবেনা এসব৷”
রেভেন কি প্রিয়ার সাথে পারবে।
সায়ের এবং আদ্রিস ঠিক যতটা রেড ফ্লাগ রেভেন ঠিক তার বিপরীত গ্রিন ফ্লাগ বললে ভুল হবে আস্ত গ্রিন ফরেস্ট যাকে বলে।
রেভেন খাবার প্লেট টা নিয়ে বাগানে দোলনায় বসে।
প্রিয়াও পাশে বসে।
বাগানের কাঁচের দরজার ওপাশ দিয়ে এ দৃশ্য মিরা দেখলো। দু’জনকে তার বেশ লাগে।
সে দেখে মিষ্টি হাসলো। বাসর রাতে সায়েরের থেকে এই উপহার চাইবে সে। সায়ের যাতে আদ্রিসকে রাজি করায় এবং নিজেও প্রিয়া আর রেভেনের সম্পর্কটা মেনে নেয়।
চলবে?
[ গল্পটা প্রাশ শেষের দিকে দয়া করে রেসপন্স করবা সবাই
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩