কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_২৩
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
হঠাৎ বদলির কথা শুনে ভীষণ অবাক হয় সাহারিয়ার।
সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের বাবাকে কল করে।
সাহারিয়ার বাবা একজন রিটায়ার্ড উচ্চপদস্থ আর্মি অফিসার।
“বাবা আমি এই মুহুর্তে বদলি নিতে চাইনা আপনি ঠেকান৷”
“তোমায় বদলি দিয়েছে! কোথায় বদলি দিয়েছে?”
“বান্দরবান।’
” এটাত ভালো তুমিত চেয়েছিলে বান্দরবান যেতে৷’
“বাবা সেটা আগের কথা। কিন্তু তুমিত জানো আমি সেরিন নামক একটা মেয়েকে পছন্দ করে ফেলেছি।
অন্তত একটা মাস ঠেকাও৷”
মিস্টার আরিফ ছেলেকে শান্তনা দিলেন,
“আমি দেখছি সাহারিয়ার। আর যত দ্রুত সম্ভব মেয়েটার পরিবারকে রাজি করাও। বিয়ের আগে ওর সাথে দেখা শোনা কম করাই ভালো।”
“জানি বাবা এই প্রথম আমি সঠিক এবং ভুলের তফাত করতে পারছি না। আমি বোধ-হয় মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছি বাবা। ওকে আমার লাগবে।’
সাহারিয়ার বাবা আরিফ চৌধুরী চুপ হয়ে গেলেন।
তার ছেলে বরাবরই শান্ত। খুবই নীরব সভাবের। সব থেকে বড় কথা তার ছেলে বড্ড ন্যায় পরাশন মানুষ।
ছোট থেকে বুঝদারের মত কথা বলেছে।
আজ এই পরিস্থিতিতে এসে তার কি হলো এটাই বুঝতে পারছে না আরিফ চৌধুরী।
তবে তার ছেলে এই প্রথম মুখ ফুটে কিছু চেয়েছে তার কাছে।
তিনি অবশ্যই মেয়েটাকে তার ছেলের সাথে এনে দিবেন।
তার ছেলেকে তিনি এতটা নিরাশ করবেন না।
সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। আজই রওনা করবেন।
দুপুরে রান্না শেষে সেরিন গোসল করে আসে।
পরিবারে এখন তিনজন মানুষ সবাই এক সাথে বসে খেয়ে নেয়।
সেরিন খাবার খেয়ে নিজের রুমে গিয়ে রেস্ট করে।
কাল -পর্শুর মাঝে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট খানা দিবে।
সেরিনের একটু টেনশন হচ্ছে।
সব ভাবতে ভাবতে সেরিনের হটাৎ মাথায় আসে কাল যে কায়ান একটা প্যাকেট নিয়ে এসেছিলো।
সেরিন উঠে দেখে তার আম্মা কোথায়।
নূরবানু সিকদার তখন গরুর গোয়ালে কাজ করছেন৷
সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাহিরে থাকবেন।
সেরিন সেই সুযোগে দ্রুত প্যাকেট খানা খুলে।
অনেক গুলো চকলেট। একটা চিঠি।
আবার কিছু হেয়ার ক্লিপ।
সেরিন মিষ্টি হাসে তার চুলের ক্লিপ ভীষণ পছন্দ।
এই কথা সে একবার বলেছিলো কায়ানকে। ভেতরে আরও ছোট খাটো জিনিস৷
কিছু চেইন, কিউট কিউট লকেট।
কিছু আংটি আবার ব্রেসলেট।
সব কিছু সেরিনের স্টাইলের।
সেরিন হাসে লোকটা তাকে কতটা খেয়াল করে দেখেছে যে এতটা সুক্ষ্ম বিষয়ও সে বুঝেছে।
সেখানে এলটা ফটো এলবাম। সেরিনের ছবি সেখানে। সব কায়ানের তোলা। এত সুন্দর একটা উপহার পেয়ে সেরিনের চোখে পানি চলে আসে। এই ছবি গুলোর দৃশ্য গুলো তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সমুদ্র পাড়ে কাটানো দিন গুলোর কথা।
সেরিন নিজের বিকালটা দেয় কায়ান এবং তাকে। নিজেদের কাটানো স্মৃতি গুলোকে ফের বাঁচে।
বিকালের দিকে কায়ান বাড়িতে ফেরে।
কায়ান মূলত একটা কম্পানি ওন করে যার মূল শাখা চট্টগ্রাম।
কায়ান চাইলে এটাকে ঢাকা শিফট করতে পারত কিন্তু সমুদ্র বন্দর থাকায় আর মায়ের স্মৃতি জড়িত সিকদার নিবাস এখানে থাকায় সে আর এ কাজ করেনি।
তবে এটার ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় আছে। ঢাকায়ও আছে।
কায়ানের কম্পানি মূলত কাজ করে প্রিজার্ভেটিভ ফুড নিয়ে।
তবে কায়ানের ব্যক্তিগত কিছু বিজনেস আছে যা সম্পর্কে শুধু সে এবং তার বন্ধু হিমেল জানে।
কায়ান বাড়িতে ফিরে দেখে তাদের, লিভিং রুমে আফজাল খান, মেহেরীণ এবং মাহমুদ বসে।
আহি, শিমুল খাবার এনে দিচ্ছে ওদের সামনে।
জেবরান মায়ের সাথো বসে অপর দিকে।
কায়ানকে দেখে আফজাল খান উঠে দাঁড়ায়,
“আরে জামাই বাবা দেখি। এসো তোমারি কথা হচ্ছিলো এখানে।”
কায়ানের মুখশ্রী গম্ভীর।
সে এগিয়ে যায় সবার দিকে।
এরপর নিজের আম্মাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“আম্মা বেগম আমি রুমে যাচ্ছি আমি ভীষণ টায়ার্ড৷”
কথাটা বলে কায়ান নিজের রুমে চলে গেলো।
আফজাল খান রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠলেন
“কায়ান, তোমার শ্বশুর আমি সেই লিহাজ টুকু ভুলে গিয়েছো? দিন দিন কি এটাই শিখছো?
তোমার আম্মা এটাই শেখাচ্ছেন নাকি?’
থেমে গেলো কায়ানের পা। বানু মির্জা কথাটা শুনে বেস চটে গেলেন।
তবে তার কিছু বলার আগেই কায়ান ফিরে তাকালো।
” মিস্টার আসরাফ খান। সম্মান আদায় করে নিতে হয়। দেওয়া যায় না।
আর আমি এখন এই বয়সে নেই যে আমার আম্মা আমাকে শেখাবে। মুখ সামলে কথা বলবেন। আপনার মুখ বন্ধ করতে আমার সময় লাগবে ৩ সেকেন্ড। “
কথাটা বলে কায়ান হনহনিয়ে চলে যায় নিজের রুমে।
আসরাফ খান উঠে দাঁড়ায় বসা থেকে।
“আপা আপনার ছেলে এত বড় বেয়াদব হলো কবে থেকে?’
বানু মির্জা শান্ত কন্ঠো জবাব দিলেন,
” বেয়াদবি টা আপনি আগে করেছেন। আমার ছেলে শুধু উত্তর দিয়েছে।”
“বাহ পুরো গোষ্ঠী দেখি কথা বলা শিখে গেছে।”
জেবরান এবার বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,
“আম্মা বেগম শান্ত হন। আর আপনি চাচা আপনি এভাবে কথা কেন বলছেন? আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন যে বড়াই করে এতদিন এসব বলতেন সেটা আর নেই। আপনি গলা নামিয়ে কথা বলুন।”
মেহেরীণ উঠে দাঁড়ায়,
“জেবরান তুমিও আমার বাবার সাথে এভাবে কথা বলছো।”
“ভাবি আপনার বাবাকে বলুন আমার মায়ের সাথে ঠিক ভাবে কথা বলতে।”
ওদের এসব কথোপকথনের মাঝে কায়ান নেমে আসে নিচে।
আফজাল খান কায়ানের দিকে তাকিয়ে রয়।
তার ভেতর এখন অনেক কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে।
এবং কায়ানের ভেতরেও অনেক কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে।
কায়ান অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের।
কায়ান নেমে এসে আফজাল খানের মুখোমুখি দাঁড়ায়।
তখন সবাই নীরব। কায়ানের উপস্থিতি বাকি সব কিছুকে চুপ করিয়ে দিতে যথেষ্ট।
জেবরান তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে।
আফজাল খান শান্ত নয়নে তাকিয়ে আছেন,
“আমার মেয়েকে অবহেলা কেন করছো কায়ান?”
“আপনার মেয়েকে কিভাবে অবহেলার করলাম মিস্টার খান। জিজ্ঞেস করতে পারি সে আপনাকে কি বলেছে?”
মেহেরীণ ঘাবড়ে যায়। তবো আফজাল খানের উত্তর তাকে শান্ত করে,
“সে আমাকে কিছুই বলেনি।
হটাৎ আমার বাড়িতে এলো। ওর মুখ দেখে আমি সবই বুঝি৷”
কায়ান কিছুক্ষন চুপ রইলো।
“আমাকে একটু সময় দিন। আমি সব ঠিক করে দিব৷”
আফজাল খান খুশি হয়ে গেলেন।
মেহেরীণ অবাক হলো।
সে বুঝতে চেষ্টা করছে কায়ানের মাথায় আসলে কি চলছে।
বানু মির্জা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। যতটা সহজ কায়ান নিজেকে উপস্থাপন করলো কায়ান আদও এতটা সহজ নয়।
তার ভেতরে অন্য কিছু চলছে।
কুমিল্লা,
সেরিন তার রুমে ঘুমিয়ে ছিলো।
নূরবানু সিকদার তার কাজে ছিলেন।
সেরিনের বাবাও বের হবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।
এমন সময় সাদা পাঞ্জাবিতে কিছু ভদ্রলোকের উপস্থিতিতে সেরিনের বাবা দাঁড়িয়ে গেলেন।
তাদের মধ্যে সেরিনের স্যার আসলাম ভুইয়া আছেন।
আসলাম ভুইয়া এগিয়ে এসে বললেন
“আসসালামু আলাইকুম। কিরে কেমন আছিস ভাই সুফিয়ান?”
“এইত আলহামদুলিল্লাহ। এনারা কারা?”
“ইনি হলেন আমার বড় ভাই আরিফ চৌধুরী, শাহারিয়ার বাবা৷”
“ও আচ্ছা আসসালামু আলাইকুম ভাই৷”
“ওয়ালাইকুম সালাম।”
“ভেতরে আসুন আপনারা৷”
শাহারিয়া তখনো চারিদিকে সেরিনকে খুঁজছে।
ওদিকে নূরবানু সিকদার হাত মুখ ধুয়ে ভেতরে এলেন মাথায় কাপড় টেনে।
সাদা পাঞ্জাবিতে শাহারিয়াকে এতটা সুদর্শন লাগছে।
নূরবানু সিকদারের চোখ লেগে গেলো।
এমন একটা সুদর্শন যোগ্য পাত্র তার সেরিনের জন্য হলে আর কি চাই।
নূরবানু সিকদারকে দেখে সবাই সালাম দিলো।
নূরবানু সিকদার সালামের উত্তর দিয়ে চলে গেলেন ভেতরের রান্না ঘরে কিছু নাস্তার ব্যাবস্থা করতে।
“শুনেন ভাই আমার ছেলে কখনো আমার কাছে কিছু চায় নি।
কিন্তু সে প্রথম মুখ ফুটে সেরিন মামনির কথা বলেছে। সত্যি বলতে আমার ছেলের মত শান্ত ছেলে হয়না।
আমার কিছু লাগবেনা ভাইজান শুধু মেয়েটাকে দিলেই হবে।’
আবু সুফিয়ান সাহেব হাসলেন।
মেয়েটা তারও যে কলিজার টুকরো।
এতটা আদরে কেউ চাইছে দেখে ভালো লাগছে। তা ছাড়া আবু সুফিয়ান খবর লাগিয়েছিলেন। শাহারিয়ার সম্পর্কে তিনি কোন ভুল পায়নি।
ধৈর্যশীল একজন আর্মি ক্যাপ্টেন সে।
তাদের পরিবারে সবাই ডিফেন্সে আছে।
শাহারিয়ার এক বড় বোন আছে বোনের বিয়ে হয়েছে।
বোনের হাসবেন্ডও ডিফেন্সে আছেন। মেজর পদে আছেন।
কাল রাতে অবশ্য স্ত্রী নূরবানুর সাথে এটা নিয়ে কথা বলেছিলেন আবু সুফিয়ান।
তবে শাহারিয়ার এতটা ভালো লাগা সেরিনের প্রতি কাজ করছে এটা তারা জানতেন না।
” ভাই মেয়েটা কোথায়? আমি একটু দেখি৷”
“হ্যাঁ হ্যাঁ মেয়ের মা মেয়েকে নিয়ে আসছে। আসলে মেয়েটা ঘুমাচ্ছিলো।’
” ও থাক থাক তাহলে।’
“না না সমস্যা নেই। আমি আনতে বলছি।’
আবু সুফিয়ান সাহেব স্ত্রী কে ডাকলেন,
” নূরবানু আমার সেরিন মাকে নিয়ে এসো।”
“জি আনছি।’
নূরবানু সিকদার গিয়ে সেরিনকে ডাকলেন,
” সেরিন মা। সেরিন৷”
সেরিন আড়মোড়া ভেঙে বলল,
“আম্মা প্লিজ চোখ ছাড়ে না। মুরগি পরে তাড়িয়ে দেব৷’
” আরে পাগল ওঠ বাহিরে মেহমান এসেছে।”
সেরিন চোখ খুলে তাকায়। এক সেকেন্ডের জন্য সে ভাবল হয়ত কায়ান এসেছে।।
“মেহমান কে এসেছে?”
“ওঠ মুখ ধুয়ে আয়।”
সেরিন উঠে দাঁড়ায়। ওয়াসরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। নূরবানু সিকদার মেয়ের মাথায় কাপড় তুলে দেয়।
সেরিনের খটকা লাগে।
তবে বাহিরে এসে যা দেখল তা দেখার জন্য সে প্রস্তুত ছিলোনা।
ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার তার পাশে বসে আছে তার স্যার তার পাশে আরেকটা লোক।
সেরিনকে বসায় নূরবানু সিকদার।
সেরিন মাথা নুইয়ে নেয়।
শাহারিয়ার অপলক দৃষ্টিতে সেরিনকে দেখছিলো। যেন এ দেখার তৃষ্ণা তার মিটেও মিটবে না।
চলবে?
[ পরবর্তী পর্বে ধামাকা আছে।
এখন সহজ কথা বলি। আমি বোনের বাসায় এসেছি। এত টায়ার্ড এখন বোনের ছোট ছেলেটা ভীষণ বিরক্ত করেছে সারা দিন। আমি যে কিছু লিখব সত্যি বলতে আমার জানি কি হয়েছে আমি বুঝতেছি না এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে লিখা। এই পর্বও এলোমেলো আমি জানি। আমি চাইছিলাম বহু কিছু লিখতে কিন্তু হচ্ছে না।
আমি কি করব বলোত। আমার একটু সময় প্রয়োজন। কাল বাড়িতে যাব। নিরিবিলি হয়ে বড় বড় পর্ব দিব।
এই এক লেখা ৩ বার কেটে ফের লিখেছি। বুঝো কত প্রেশার নিচ্ছি। আমার দিকটা একটু দেখো। পেজে লাল বাতি। নতুন ই বুকের লেখাও শুরু করিনি। ওদিকে জে ন্টাল মন্সটারের পান্ডু।
আমি না এলোমেলো হয়ে আছি।
পারলে আমাকে কিছু সমাধান দিও ]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৭