Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৯


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৫৯

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
বিষাদে মোড়া এক দীর্ঘ দিন পার করল আদ্রিতা।
সারাটা সময় মনজুড়ে ঘুরপাক খেতে থাকা অগণিত ভাবনা তাকে করে তুলেছিল অস্থির, অশান্ত।
ইদানীং শরীরটাও আর সায় দিচ্ছে না।
অকারণ ক্লান্তি যেন হাড়ে হাড়ে বাসা বেঁধেছে, দেহে লেগে আছে এক অদ্ভুত ভারী অনুভূতি।
তবু এতসব অবসাদ, দুর্বলতা আর মানসিক ঝড়কে পাশে সরিয়ে দুপুরবেলা আদ্রিতা পা রাখল রান্নাঘরে।
উদ্দেশ্য একটাই, নিজ হাতে রান্না করবে আদ্রিসের প্রিয় খাবার, তারপর তা নিয়ে যাবে তার অফিসে।
তার বিশ্বাস, নিজের হাতে ভালোবেসে রান্না করা খাবার সামনে নিয়ে গেলে আদ্রিস আর বেশিক্ষণ অভিমান ধরে রাখতে পারবে না।
যেমন ভাবনা, তেমনই কাজ।
অনেকদিন পর আজ আবার রান্নাঘরে দেখা গেল আদ্রিতাকে।
নীরব মনোযোগে একের পর এক পদ তৈরি করতে লাগল সে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সার্ভেন্টরা বারবার সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও আদ্রিতা কারও সহায়তা নিল না।
সে যেন আজ সমস্ত কাজ নিজের হাতেই শেষ করতে চায়, নিজের যত্ন, নিজের অনুতাপ, নিজের ভালোবাসা মিশিয়ে।
ঠিক সেই সময় মিসেস মিহু দূর থেকে মেয়েকে রান্না করতে দেখলেন।
সবই বুঝলেন, তবু কিছু বললেন না।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার দূরত্ব কিংবা মান-অভিমানের দেয়ালে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ শোভা পায় না, এ কথা তিনি ভালো করেই জানেন।


খাবারগুলো যত্ন করে প্যাক করে আদ্রিতা রওনা দিল আদ্রিসের অফিসের উদ্দেশ্যে।
গাড়ি ধীরে ধীরে মিশে গেল রাশিয়ার ব্যস্ত নগরপথের স্রোতে।
দুপুরের সময়টায় শহর যেন নিজস্ব ছন্দে জেগে থাকে।
প্রশস্ত সড়কজুড়ে একের পর এক গাড়ির সারি, কোথাও থেমে থাকা সিগন্যাল, কোথাও আবার দ্রুতগতির ছুটে চলা যানবাহন, সব মিলিয়ে ব্যস্ততার এক নিখুঁত চিত্র।
দুই ধারে সারি সারি সুউচ্চ অট্টালিকা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের কাঁচঘেরা দেয়ালে দুপুরের সূর্যালোক পড়ে ঝিলমিল আভা ছড়াচ্ছে।
কোথাও পুরোনো স্থাপত্যের গম্ভীর সৌন্দর্য, কোথাও আধুনিক ভবনের দৃষ্টিনন্দন গড়ন, শহরটাকে দিয়েছে এক অনন্য মাধুর্য।
রাস্তার ধারে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ বৃক্ষরাজি হালকা বাতাসে দুলছে।
কিছু মানুষ দ্রুত পায়ে নিজেদের গন্তব্যে ছুটছে, কেউ হাতে কফির কাপ নিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে পথ হাঁটছে, কেউবা বেঞ্চে বসে দুপুরের নরম রোদ উপভোগ করছে।
আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে, আর সেই আকাশের নিচে শহরজুড়ে ব্যস্ততা, সৌন্দর্য আর শৃঙ্খলার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
গাড়ির জানালার বাইরে তাকিয়ে আদ্রিতা নিঃশব্দে সবকিছু দেখছিল।
চোখে বিস্ময়, মনে অদ্ভুত এক শূন্যতা।
চারপাশ এত সুন্দর, এত জীবন্ত, তবু তার ভেতরটা যেন কোথাও নিস্তব্ধ, কোথাও বিষণ্ন।
শহরের কোলাহল তার কানে পৌঁছালেও হৃদয়ের ভেতরের নীরবতা ভাঙতে পারল না।


আজ সকাল থেকেই আদ্রিসের মেজাজ ছিল অস্বাভাবিক রকমের খিটখিটে।
মনে হচ্ছিল, যেন সামান্য কারণও তার ক্রোধ জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
অফিসে ঢোকার পর থেকেই কথায় কথায় কর্মচারীদের উপর চিৎকার করে উঠছিল সে।
কারও সামান্য ভুল, কারও দেরি, কারও অসাবধানতা, সবকিছুই আজ তার কাছে অসহ্য লাগছিল।
চারপাশে যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল; সবাই নিঃশব্দে নিজেদের কাজে মন দিলেও ভেতরে ভেতরে স্নায়ুচাপে কাঁপছিল।
সাধারণত আদ্রিসের সব কাজ সামলায় তার একমাত্র ভাই এবং দক্ষ সেক্রেটারি রেভেন।
তবে রেভেন অনুপস্থিত থাকলে সেই দায়িত্ব এসে পড়ত সোফির উপর।
আজও রেভেন জরুরি কাজে বাইরে গেছে, তাই আদ্রিসের যাবতীয় কাজের ভার সামলাচ্ছিল সোফি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে কিছু ভুল ধরা পড়েছিল।
সেগুলো সংশোধনের জন্য সোফি ফাইল হাতে নিয়ে আদ্রিসের কেবিনের দিকে এগোচ্ছিল।
ঠিক তখনই করিডোরে তার মুখোমুখি হলো মিলা।
মিলাকে চিনত সোফি, আর এটাও জানত কিছুক্ষণ আগেই সে অফিসে এসেছে।
তাকে দেখে সোফি থেমে বিনীত কণ্ঠে বলল,
“ম্যাম, আপনি এখানে?”

মিলাও দাঁড়িয়ে হালকা হাসল।
“ও, হাই সোফি। আদ্রিস ভেতরে আছে?”

“জি ম্যাম, স্যার কেবিনে আছেন… কিন্তু আপনি এখন এখানে”

মিলা তার কথা শেষ হওয়ার আগেই কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
“ও কাম অন, সোফি। আমি এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসেছি।”

সোফি আবার বলতে চাইল,
“কিন্তু স্যার আসলে”

কথা শেষ হওয়ার আগেই মিলা দৃঢ় পদক্ষেপে কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল।
সোফি ফাইল হাতে করিডোরে স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তা।
সে জানত, এই মুহূর্তে আদ্রিসের সামনে যাওয়া মানে যেন ক্ষুধার্ত সিংহের গুহায় প্রবেশ করা।
এমন ক্রুদ্ধ অবস্থায় তাকে বোঝানো বৃথা।
অগত্যা আর কিছু না বলে সোফি ধীর পায়ে নিজের কেবিনে ফিরে গেল।
যেহেতু আদ্রিস মিলাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনে, তাই এখন আর কিছু বলারও ছিল না তার।


মিলা ছিল আদ্রিসের সেই মানুষদের একজন, যার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রাশিয়ায় পা রাখার পর।
অচেনা দেশের নিঃসঙ্গ জীবনে সে-ই একসময় হয়ে উঠেছিল পরিচিত মুখ, সহজ আশ্রয়।
রাশিয়ায় আসার সময় আদ্রিস পেছনে ফেলে এসেছিল আসরাফ খানের অর্থ, প্রভাব, পরিচিতি—সবকিছু।
সে চেয়েছিল নিজের পরিচয় নিজেই গড়তে, অন্য কারও ছায়ায় নয়।
কিন্তু নতুন দেশের জীবন তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
প্রথম দুই মাস তাকে পার করতে হয়েছিল চরম কষ্ট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এমন দিনও গেছে, যখন ক্ষুধার জ্বালায় সারাদিন কিছু না খেয়েই কাটাতে হয়েছে তাকে।
আসরাফ খান তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, ভর্তি করিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
কথা ছিল, সে থাকবে নিজের মামার কাছে।
কিন্তু আত্মসম্মানী আদ্রিস কারও দয়ার আশ্রয় নিতে চায়নি।
মামার সঙ্গেও যোগাযোগ করেনি সে।
এক গভীর রাতে ক্লান্ত, অবসন্ন আর ক্ষুধার্ত শরীর নিয়ে রাস্তার ধারে পড়ে ছিল আদ্রিস।
সেই সময়ই মিলা তাকে দেখতে পায়।
অচেনা একজন মানুষকে উপেক্ষা না করে সে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।
মিলার বাবা, মিস্টার পার্ক মার্কো, ছিলেন উদার মনের মানুষ।
তিনি আদ্রিসকে আশ্রয় দেন, পাশে দাঁড়ান।
আর সায়েরের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তাকে সায়েরের কোম্পানিতে একটি পার্ট-টাইম কাজও জোগাড় করে দেন।
সায়ের প্রথম দিন থেকেই আদ্রিসকে অন্যদের মতো দেখেনি।
তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত তীক্ষ্ণতা, ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য জেদ, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না।
সময়ের সঙ্গে সেই ধারণাই সত্য প্রমাণিত হয়।
নিজের স্বপ্ন, সাহস আর অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অনুসরণ করে আদ্রিস ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে রাশিয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ভয়ংকর নাম।
সায়েরের সঙ্গে তার সম্পর্কও দিনে দিনে গভীর হয়।
গত ছয় বছরে তারা রক্তের সম্পর্ক না হয়েও ভাইয়ের মতো পাশাপাশি থেকেছে।
আর মিসেস মিহু আদ্রিসকে নিজের ছোট ছেলের মতোই স্নেহ করতেন।
তার চোখে আদ্রিস ছিল পরিবারেরই একজন।
সেদিক থেকে মিলা’র কাছে আদ্রিস নিজেকে ঋণী মনে করত।
হয়তো সে কারণেই মেয়েটির হাজারো ন্যাকামি, বাড়াবাড়ি আর জেদও সে নীরবে সহ্য করে যেত।


অফিসে এসে কাউন্টারে দাঁড়িয়েই আদ্রিতা প্রথমে আদ্রিসের খোঁজ করেছিল। লেডি এমপ্লয়ি ভদ্রভাবে জানায়, তিনি নিজের কেবিনেই আছেন। খবরটা শুনে আদ্রিতার মুখে সঙ্গে সঙ্গে আলো ফুটে ওঠে। হাতে যত্ন করে আনা লাঞ্চবক্স আঁকড়ে সে খুশি মনে কেবিনের দিকে রওনা হয়।
লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল সে, এমন সময় নিচে নামতে থাকা সায়েরের সঙ্গে দেখা। সায়ের তাকে দেখে থমকে দাঁড়াল।
“প্রিন্সেস, কখন এলি?”

“এই তো মাত্র, ভাইয়া।”

“লাঞ্চ নিয়ে এসেছিস?”

“হ্যাঁ।”

“ও মাই গড! আমিও খেতে চাই।”

আদ্রিতা মিষ্টি হেসে বলল,
“হ্যাঁ ভাইয়া, তোমার জন্যও আজ রান্না করেছি”

সায়ের স্নেহভরে বোনের গাল টেনে দিল। সে বুঝতে পারল, আদ্রিতা এসেছে অভিমান গলাতে, দূরত্ব মুছে দিতে। দৃশ্যটা দেখে আশেপাশের কর্মচারীরাও বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। কারণ আদ্রিস আর সায়ের, দু’জনেই স্বভাবে গম্ভীর, সহজে কাউকে আপন করে কথা বলে না।
দু’জনে একসঙ্গে আদ্রিসের কেবিনের সামনে এসে দাঁড়াল। সায়ের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল, আদ্রিতাও পা বাড়াল তার সঙ্গে।
কিন্তু ভেতরে ঢুকেই যে দৃশ্য চোখে পড়ল, তার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিল না।
আদ্রিতার হাত থেকে খাবারের বক্সটা সশব্দে মেঝেতে পড়ে গেল।
শব্দ শুনে আদ্রিস মাথা তুলে তাকাল। মিলা তার সামনে এমনভাবে বসে আছে, দেখে মনে হয় দু’জন যেন চুম্বনে ডুবে আছে। আদ্রিস তার হাত দু’টি ধরে রেখেছিল, যেন সরিয়ে দেবে, অথচ বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই।
সামনে আদ্রিতাকে দেখেই সে মিলাকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে উল্টো তার কোমর জড়িয়ে ধরল।
আদ্রিতা স্তব্ধ হয়ে সায়েরের দিকে তাকাল। সায়েরও পাথরের মতো দাঁড়িয়ে।
তার আগেই আদ্রিতা কাঁপা কণ্ঠে এগিয়ে এসে বলল,
“এ… এগুলো কী হচ্ছে?”

আদ্রিসের আচরণে মিলা নিজেও বিস্মিত হয়েছিল, তবু চুপ করে রইল। কেন সে এমন করছে, তা সে জানে না। তবে যে মনোযোগ সে চাইছিল, তা বিনা চেষ্টায় পেয়ে যাওয়ায় তার নীরবতাই শ্রেয় মনে হলো।
আদ্রিস শীতল স্বরে বলল,
“সি ইজ মিলা, আদ্রিতা। ভাবছি ওকেই বিয়ে করব। সুন্দর না মেয়েটা?”

মুহূর্তেই যেন আদ্রিতার পৃথিবী থেমে গেল। বুকের ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা মোচড় দিয়ে উঠল। সে ছিল সহজ-সরল, কোমল হৃদয়ের মেয়ে, পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা বোঝার মতো কঠিন হয়নি কখনো।
কাঁপতে কাঁপতে সে জিজ্ঞেস করল,
“তা… তাহলে আমি কে?”

আদ্রিস নির্মম ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“মেবি… এক্স ওয়াইফ।”

শব্দটা শুনেই আদ্রিতা ভেঙে পড়ল। আচমকা কান্না জড়িয়ে ধরল তাকে। সে অসহায় চোখে সায়েরের দিকে তাকাল।
“ভ… ভাইয়া”

আর কিছু বলতে পারল না। নিশ্বাস নিতেও যেন কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, সমগ্র পৃথিবীর ভার তার বুকের ওপর নেমে এসেছে। চোখের সামনে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে এলো।
দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে সে হেলে পড়তেই সায়ের দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে সামলে নিল।
এবার আদ্রিসও মিলাকে সরিয়ে দিয়ে ছুটে এল।
সায়ের জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে।
“তুই কি পাগল?”

আদ্রিস কোনো উত্তর দিল না। নীরবে আদ্রিতাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে কেবিনের বাইরে বেরিয়ে গেল। সায়ের তাকে বাধা দিল না। ওদের ভেতরের ভুল বোঝাবুঝি ওরাই মিটিয়ে নিলে ভালো হবে।
আদ্রিস চলে যেতেই সায়ের ধীরে মুখ ফিরিয়ে মিলার দিকে তাকাল।
“সি ইজ সানা সুবহান আলভি। আরেক নাম আদ্রিতা। আদ্রিসের স্ত্রী। আশা করি, আজকের পর থেকে তুমি আদ্রিসকে এড়িয়ে চলবে, মিলা।”

কথাগুলো বলে সায়েরও বেরিয়ে গেল।
আর কেবিনজুড়ে পড়ে রইল শুধু স্তব্ধতা, আর ভাঙা এক দুপুরের নিঃশব্দ


ধরণীজুড়ে রাত নেমে এসেছে।
আদ্রিসের বিশাল কক্ষটিকে ঘিরে আছে গভীর নিস্তব্ধতা। চারপাশে এমন এক স্তব্ধ আবহ, যেন সময় নিজেও এখানে এসে থেমে গেছে। খোলা জানালা বেয়ে মৃদু শীতল বাতাস ভেসে আসছে ভেতরে, পর্দাগুলোকে ধীরে ধীরে দুলিয়ে দিচ্ছে। রাশিয়ায় এ ক’দিন ধরেই কখনো হালকা, কখনো ভারী বৃষ্টি নেমে চলেছে। আজও সন্ধ্যার পর বেশ কিছুক্ষণ ঝরেছে আকাশ। এখন বৃষ্টি থেমেছে বটে, তবে দমকা হাওয়া বইছে অবিরাম, মনে হচ্ছে, যে কোনো মুহূর্তে আবার মুষলধারে নেমে আসবে বর্ষণ।
কক্ষের এক পাশে কাউচে বসে আছে আদ্রিস। তার শরীরে কোনো শার্ট নেই; উদাম বক্ষ, কঠিন অবয়ব, আর আঙুলের ফাঁকে ধরা জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়ার সরু রেখা পাক খেতে খেতে ওপরে উঠছে, তারপর অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে।
তার সামনে বিছানায় শুয়ে আছে আদ্রিতা। গভীর, নির্ভার ঘুমে আচ্ছন্ন মেয়েটি। মুখশ্রীতে ছড়িয়ে আছে প্রশান্তির কোমল ছায়া, যেন সমস্ত ক্লান্তি ঝরে গিয়ে সে আশ্রয় পেয়েছে নিশ্চিন্ত নিদ্রায়।
আদ্রিস স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। একদৃষ্টে, নীরবে, যেন সেই ঘুমন্ত মুখের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা অজস্র অপ্রকাশিত কথার মানে খুঁজে ফিরছে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply