Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৪


চেকমেট_২ ||৪||

খাবার টেবিলে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন সুফিয়ান চৌধুরী।তার মুখে ভাত উঠছে না।সব কিছু বিতৃষ্ণা লাগছে।মনে হচ্ছে সব ছেড়ে ছুড়ে কোথাও চলে যেতে।বহু কষ্টে মুখে এক লোকমা ভাত তুলে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললেন তিনি।গলা দিয়ে খাবার নামতে চাচ্ছে না।মনে হচ্ছে কেউ গলনালি টিপে ধরেছে।শ্বাস রোধ অনুভূতি দিচ্ছে।শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে।গত রাতের নাতির মায়াবী করুন মুখটা চোখে ভাসছে বারবার।কানে বেজে চলেছে আকুতি ভরা সেই ক্লান্ত ক্লিষ্ট কন্ঠস্বর

“আল্লাহরে এভাবে চাইলে এত দিন পেয়ে যেতাম নানাভাই।মৃত্যুর পর বেহেশত নসিব হতো।দুই পারেই জাহান্নামী কেনো হলাম বলতে পারো?

সুফিয়ান চৌধুরীর চোখে জল চিকচিক করে উঠলো।খাবার প্লেট দূরে ছুড়ে ফেলে বৃদ্ধা মায়া চৌধুরীর পানে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে সুফিয়ান চৌধুরী কম্পিত গলায় শুধালেন

“সুবহান চৌধুরীর রক্ত বড্ড নিষ্ঠুর তাই না বেয়াইন?

বৃদ্ধা মায়া খাওয়া থামিয়ে কেমন অপরাধীর ন্যয় তাকিয়ে রইলেন।সরফরাজ আকস্মিক এহেন প্রশ্নে সুফিয়ান চৌধুরীর কুঁচকানো জলে ভরা চোখ দুটোতে তাকালো।বুঝে গেল সবটা।খাবার প্লেট থেকে হাত সরিয়ে গুটিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো।অতঃপর নরম কন্ঠে বলে উঠলো

“টিকিট কেটে দিচ্ছি গিয়ে নাতিকে দেখে আসুন ।পারলে বুঝিয়ে দেশে আনুন ।এক সুবহান আমার জীবন তামা তামা করে রেখে গেছে।এখন সুবহানের নাতনি তেজপাতা করে ভেঙে চূড়ে হাওয়ায় উঠিয়ে দেবে আমার ছেলের জীবন।আমার চৌদ্দগুষ্টি জ্বালিয়ে খাক করে দেবার জন্য এক সুবহানের রক্তই যথেষ্ট।

বলেই উঠে গেলো সরফরাজ।সুফিয়ান চৌধুরীর পাশে এসে দাড়ালো রূপকথা।ব্যথিত গলায় শুধালো

“কি হয়েছে বাবা?

“হাসিখুশি শাহরানের বুকে কান্নার সমুদ্র জমেছে মা।আর কিছু জিজ্ঞেস করিস না।নিজেকে সব কিছুতেই দোষী মনে হয়।মনে হয় আমার জন্যই সব কিছু ঘটতে চলেছে।

রেখা তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলেন

“অস্বীকার করতে পারবে না কিচ্ছুটি।যেই বয়সে অন্যের বাচ্চারা হাট্টিমাটিম টিম ছড়া পড়ে তখন তুমি তোমার নাতিকে শিখিয়েছ কিভাবে কাকে ভালোবাসতে হয়,ভালোবাসার মজা কেমন।এখন এত আফসোস করছো কেনো?নাতির গলায় ফাঁসের দড়ি পড়েছে এজন্য?যখন সরফরাজ কে শিক্ষা দিতে সেসব কুকীর্তি করেছিলে তখন আফসোস লাগেনি?

স্ত্রীর কথায় গায়ে জ্বালা ধরলো সুফিয়ান চৌধুরীর।ইচ্ছে হলো লাঠি দিয়ে পিঠে এক বারী মারতে।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আজকাল তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে এই মহিলা সুফিয়ান চৌধুরী কে।গায়ে পূর্বের ন্যয় তাকত থাকলে এই ভদ্র মহিলাকে বুঝিয়ে দিতো সুফিয়ান চৌধুরী কি জিনিস।কিন্তু এখন এসবের সময় নেই।

সুফিয়ান চৌধুরী আর দাড়ালেন না ডাইনিং এরিয়ায়।লাঠি ভর দিয়ে চলে গেলেন নিজ কক্ষে।ব্যাগ গুছাতে হবে।রাশিয়া না গেলে তিনি আজ রাতেই নাতির চিন্তায় মরে যাবেন।হয় রুদ্ররাজ এর মেয়ের সাথে শাহরানের মিল করিয়ে ওখান থেকে ফিরবেন।নয়তো শাহরান কে নিয়ে রুদ্ররাজ আর তার মেয়ের কপালে থুথু দিয়ে চিরতরে ফিরে আসবেন।নাতির বিয়ের বয়স পালিয়ে যাচ্ছে না।বয়সই বা কত?কেবল তরুণ।চেহারায় গায়ে,পায়ে উচ্চতায় তালগাছ হলেই কি পুরুষ হয় নাকি?পেট মোটা হলেই তো আর দারোগা নয় তাই না?নাতির যেই চেহারা এক চুটকি দিলে হাজারটা মেয়ে এসে পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পরবে।দরকার পরলে ওই রোদসী অরোরার থেকে দশ গুন সুন্দরী মেয়ে দিয়ে নাতির বিয়ে দিবেন তিনি।তাই বলে নাতিকে দূর দেশে কেঁদে কেঁদে মরে যেতে দিবেন?উহু!নো ,নেভার।না কক্ষনো না।


রুদ্ররাজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে শাহরান।উদ্দেশ্য কিচ্ছুটি নয়।এই বাড়ির আশেপাশে থাকতে তার ভালো লাগে।সব সময় তার উদ্দেশ্য রোদ কে দেখা হয় না।তার মনে হয় বাড়ির চারপাশের হাওয়ায় রোদের সুগন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়।সেই বাতাস যখন শাহরান কে ছুঁয়ে যায় তখন তার মনে হয় যেনো রোদের স্পর্শ আছড়ে পড়ছে তার সারা দেহে।অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়।যেই অনুভূতি কাউকে বোঝানোর ক্ষমতা তার নেই।

আজ একটু দ্রুত হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরলো রুদ্ররাজ।বাড়ির গেইটের কাছে পেছন থেকে কাউকে পায়চারি করতে দেখে গাড়ির হর্ণ বাজাল রুদ্র।কিন্তু ওপাশের যুবক নির্বিকার অনুভূতি হীন।গাড়ির হর্ণ তার কানের দেয়াল ভেদ করতে পারছে না।রুদ্র বুঝলো মানুষটা কে।সে ভ্রুকুটি করে ক্লান্ত শরীরে গাড়ি থেকে নেমে শাহরানের সামনে দাঁড়িয়ে ভারী গলায় বলল

“হর্ণ দিচ্ছি শুনতে পাচ্ছ না?

“কেন হর্ণ দিয়ে অযথা শব্দ দূষণ করছেন?আপনার পথ রুখে দাঁড়িয়েছি আমি?না তো!তবে?

রুদ্র এই উত্তরে কিছুটা অপ্রস্তুত হলো।অতঃপর জিভ দিয়ে লাল টকটকে ঠোঁট টা ভিজিয়ে বলে উঠলো

“বাড়ির আশেপাশে স্ট্রেনজার এর আনাগোনা নিষেধ।এজন্য।

তাচ্ছিল্য হাসলো শাহরান।অতঃপর চোখ তুলে রুদ্রের পানে তাকিয়ে শুধালো

“ওহ গড,লাইক সিরিয়াসলি?আমি স্ট্রেনজার?আপনি আমাকে চিনেন না?নতুন করে আমার পরিচয় দিতে হবে?

রুদ্র ভরকালো।ছেলেটা একটা কথাও মাটিতে পড়তে দেয় না।একদম বাপের মতো নীল রক্তের কাঁকড়া।নয়তো নরম সুন্দর ওই লাল ঠোঁট গুলোতে এত ধার কেনো?রুদ্র মনের ভাবনা ফেলে ভ্রু চুলকে বলে উঠলো

“ঘরে চলো।নাস্তা খেয়ে যাও।

“নাস্তা খেতে আসিনি।

“তবে?

“আপনার মেয়েকে…

“হুয়াট?

ধমকে উঠলো রুদ্র।শাহরান মাথার চুল গুলো ব্যাকব্রাশ করতে করতে নির্বিকার জবাব দিলো

“আপনার মেয়েকে দেখতে এসেছি।আর জবাব চাইতে এসেছি কেন আগের দুই দুই বার বাসা চেন্জ করে আমাকে দৌড় করিয়েছেন?

রুদ্র অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো

“আমার মেয়েই কেনো?

“আমার বুক কে টে হৃদপিণ্ড বের করে তাকে জিগ্গেজ করুন।আমি কিচ্ছুটি জানিনা।

“আমি আমার মেয়েকে তোমার হাতে কক্ষনো তুলে দেবো না!

এবার ক্ষোভ জমলো শাহরানের মনে।সে ফট করে অপমান জনক প্রশ্নে শুধালো

“আমার মাকে পান নি এজন্য শোধ তুলছেন?

জিভ কাটলো রুদ্র।লজ্জায় তার মরন হলো এই মাঝ বয়সে।সরফরাজ যে আজই কল করে জবাব চাইবে সে।

“এই বুড়ো বয়সে কেন তোর ছেলেকে দিয়ে এত হয়রানি করাচ্ছিস আমায়?আমি মরে গেলে খুব খুশি হবি বুঝি?তোদের থেকে পালিয়ে রাশিয়া এসে নাম ঠিকানা বদলিয়েও শান্তি পাচ্ছি না।করব পর্যন্ত দৌড়াবি আমায়.?

“কি ভাবছেন?

শাহরান উৎসুক হয়ে শুধালো।রুদ্র জবাব দিলো না।শুধু বললো

“রোদ তোমার বোনের মতো।

“আমি ওকে বউয়ের নজরে দেখি।বোন হবে কোন দুঃখে?

রুদ্রের ইচ্ছে করলো বার্চ গাছের সাথে কপালে বাড়ি মেরে জ্ঞান হারিয়ে পরে থাকতে।কিন্তু পারলো না।সে বাড়ির ভেতরে গলা বাড়িয়ে ড্রাইভার প্যাসকেল কে ডাকলো।বলল

“গাড়ি পার্ক করে দাও।

প্যাসকেল গাড়ি নিয়ে চলে যেতেই রুদ্র বলে উঠলো

“পড়াশোনার তো কোনো নমুনা দেখছি না।সারাদিন গান বাজনা করলে চলবে?

“কে বলেছে সারাদিন আমি গান বাজনা করি?সার্টিফিকেট গুলো আপনি অর্জন করে দিয়েছেন?আর গানবাজনা আমার প্যাশন।এটা দিয়েই আমি ক্যারিয়ার গড়বো।

রুদ্র ঠোঁট উল্টে বললো

“কোনো সিঙ্গার ফিঙ্গার মিডিয়া ওয়ালা লাফাঙ্গা ছেলের সাথে আমি মরে গেলেও আমার মেয়েকে বিয়ে দেবো না।আমার মেয়ের জামাই হবে আমার মতো ডক্টর নয়তো বিজনেস ম্যান।

শাহরান কপাল কুঁচকে বলে উঠলো

“আপনি তো একটা কসাই।

রুদ্রের খুক খুক করে কাশি পেলো।কেমন অপমান করলো ছেলেটা তাকে।আগের সেই রুদ্ররাজ থাকলে শাহরান কি এতো বড় বড় কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়ে থাকত?রুদ্র নিশ্চিত এতক্ষণ তাকে মাটি চাপা দিয়ে হাত ঝেড়ে ফেলত তাই না?রুদ্র গলার টাইয়ের নট ঢিলে করে বলে উঠলো

“বাসায় আজ বিরিয়ানি রান্না হয়েছে।আমাকে বেইজ্জতি করা শেষ হলে চলো খাবে।

“নাহ খাবো না।মুড নেই।চলে যাচ্ছি।

বলেই হাঁটা ধরলো শাহরান।বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রোদ সবটা দেখলো।তার বাপের সাথে কত অবলীলায় ছেলেটা বেয়াদবি করে চলে গেলো।শাহরানের প্রতি চূড়ান্ত বিতৃষ্ণা এসে ভর করলো তার চোখে মুখে।সে চোখ মুখ কুঁচকে বেলকনীর দরজা আটকে কক্ষে এসে খরগোশ দুটো নিয়ে বসে গেলো।আজকাল এই তুলতুলে প্রাণী দুটো তার মন প্রাণ ভালো করার মহা ওষধ।


ভার্সিটিতে সকাল থেকেই সকলের মধ্যে ব্যাস্ততা পরিলক্ষিত হলো।কেউ কারোর দিকে তাকাচ্ছে না।সকলেই ছুটছে যার যার কাজে।আজ ভ্যালেন্টাইন।আজকের এই বিশেষ দিনে ভরা তুষারে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে নিচ্ছে ভালোবাসার উষ্ণতায়।এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে ছোট পরিসরে নাচ গানের আয়োজন করা হয়েছে ভার্সিটির হল রুমে।চারপাশ সেজেছে লাল বেলুন আর বাহারী ফুলে।গোলাপ চকলেট আর বিভিন্ন গিফ্টসের সমন্বয়ে প্রেমিক যুগল বিনিময় করছে নিজেদের তপ্ত ভালোবাসা।এতকিছুর মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে রোদ।না সে আবেদন ময়ী কোনো পোশাক জড়িয়েছে গায়ে না কোনো সাজগোজ।বরং নিত্য দিনের ন্যয় একটা জিন্স, একটা টিশার্ট আর ওভারকোট।সঙ্গে সেই অদ্ভুত বেনামী গিফটের মাফলার আর টুপি।কাঁধে ছোট ব্যাকপ্যাক নিয়ে এদিক সেদিক নজর বুলালো সে।চারিপাশের ভালোবাসাময় উন্মাদনা দেখে তার মনে হলো ভুল করে ভালোবাসার রাজ্যে ঢুকে পড়েছে সে।চুম্বনরত এক কাপল কে দেখে লজ্জায় চোখ সরিয়ে নিল রোদ।পূর্বের জায়গা ত্যাগ করে খুজলো প্রিয়ন্তীকে।মেয়েটির দেখা নেই কোত্থাও।রোদ ভার্সিটির সাইডের এরিয়ায় এলো।এখানে শীতকালীন বিভিন্ন ফুলের সমারোহ।হঠাৎ বরফের মাঝে এক গুচ্ছ বেগুনি ক্রোকাস ফুল রোদের নজর কাড়লো।সে আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে এগিয়ে গেল ফুল গুলো ছুঁয়ে দিতে।ঠিক তখন ই পেছন থেকে এলো সতর্ক বাণী

“হুশ,ডোন্ট টাচ দেম।দে উইল শাই।

রোদ চমকিত হয়ে পিছনে তাকাতেই শাহরানের মুগ্ধ হাসি খানা চোখে পরলো।বসা থেকে ত্বরিত উঠে দাঁড়ালো সে।শাহরান এক পা সামনে এগুলো।রোদ ব্যাগ প্যাকের দুই পাশের ফিতা ধরে দুকদম পিছালো।শাহরান লম্বা পায়ে রোদের একদম সন্নিকটে দাঁড়ালো।অতঃপর রোদের মুখপানে ঝুকে ফিসফিস করে বলে উঠলো

“তুমি ছুঁয়ে দিলে ওই ফুল ঝরে পরবে।সইতে পারবে না ওই স্পর্শ।

রোদ বিস্ফারিত তাকালো শাহরানের পানে।ইচ্ছে হলো এখনই ছেলেটির সমস্ত নাটকীয় বাণী মিথ্যে প্রমান করতে।শাহরান বুঝলো বোধ করি তা।সে এক ভ্রু উঁচু করে চোখ নির্দেশ করে কাঁধ ঝাঁকালো।অর্থ দাঁড়ালো

“বিশ্বাস না করলে ছুঁয়ে দেখো।

রোদ যখন ক্রোকাস এর দিকে ফিরলো শাহরান তখন বলে উঠলো

“যদি ফুল ঝরে যায় তবে আমায় চুমু খেতে হবে।এগ্রি?

রোদ বিস্ময়ে পেছন ফিরলো।কেউ ছুলেই ফুল ঝরেনা সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সে ফট করে উঠলো

“এগ্রি।বাট যদি না ঝরে তবে তোমার চেহারা আর আমাকে দেখাবে না।রাজি?

কনফিডেন্স এর সহিত শাহরান প্যান্টের পকেটে দুই হাত গুঁজে বলে উঠলো

“আজই তল্পিতল্পা গুটিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ফিরবো।

রোদ শক্ত চোয়ালে ফুলের কাছে গিয়ে বসলো,বাড়ালো কম্পিত হাত।মন থেকে কেউ ধমকে বলে উঠলো

“ডোন্ট টাচ..

রোদ ভয় পেলো।ফাঁকা ঢোক গিলে শাহরান কে এক পলক দেখলো।অতঃপর ভীত পাংশু মুখে স্পর্শ করল ফুলগুচ্ছ।কিন্তু একি!শাহরানের ভবিষ্যৎ বানী সত্য করে ঝুরঝুর করে ঝরে পড়লো সমস্ত পাপড়ি।রোদ কেঁপে উঠলো।হেসে উঠলো শাহরান।এরপর দম্ভ ভরা পদচ্ছাপে ঠিক রোদের পিছনে দাঁড়িয়ে শীতল ঠান্ডা গলায় বলল

“আমার চুমু টা আমাকে দিয়ে দাও আমি চলে যাই।

রোদ থমকালো ক্ষণকাল।বুক ঠেলে কান্না পেলো।শাহরান নির্দয়ের মতো বলে উঠলো

‘ধরে নেব তুমি ওয়াদা ভঙ্গকারী?

রোদ বিচলিত হলো।সে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে শাহরানের পানে ফিরলো।ব্যাগের ফিতা ছেড়ে টেনে নামালো টুপি।ঢেকে ফেললো চোখ জোড়া।শুধু লাল হয়ে আসা সফেদ নাক আর গোলাপি ঠোঁট দৃষ্টিগোচর হলো।শাহরান কাতর চোখে দেখলো সেই অপার্থিব সৌন্দর্য।মুহুর্তেই রোদের চোখ থেকে টুপ করে খসে পড়লো দুফোঁটা জল।শাহরান কাতর চোখে তাকিয়ে সমস্ত বেদনা গিলে নিলো।বুকটা কেউ খামচে ধরলো।এগুলো না আর এক পা ও।
নিঃশব্দে প্রস্থান নিলো।রোদ কতক্ষন এভাবেই রইলো তার হিসেব রইলো না।সজাগ হলো গিটারের শব্দ আর হৃদয়ে কাঁপন তোলা কন্ঠে

“তোকে দেখি শুনশান রাতে
জ্বলে আসা চিন্তা হঠাৎ এ
শান্ত অশান্ত সময়
তুই কেন থাকিস না সাথে
বরবাদ হয়েছি আমি তোর অপেক্ষায়
চুরমার করে দে আরোও কিছু ইশারায়”
আমাকে থাকতে দে
ডুবে থাকতে দে তোর নাম ধরে

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply