ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ
লেখনীতে_সাদিয়া
পর্ব_২
আজ শুক্রবার।
সকাল তখন ১১ টার কাছাকাছি বাজে।
রাহা দ্রুত করে মেইন দরজা দিয়ে বের হলো। ওই লোকটা আসার আগেই বাসা থেকে বের হতে হবে। শুধুশুধু ধমক খাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার নেই। কলেজ তো আজ নেই তাই বান্ধবী বাড়িতেই যাচ্ছে। বিকালে ফিরবে।
মেইন দরজা দিয়ে কয়েক কদম সামনে এগুতেই বাগান দিয়ে বাড়ির মেইন দরজা পর্যন্ত আসা পাঁকা রাস্তায় এসে একটা গাড়ি থামলো। গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে এলো এক বিশাল দেহী লম্বাটে সুদর্শন পুরুষে। কাঁধে ব্যাগ, চোখে চশমা, গায়ে জলপাই রাঙ্গা এক কালারের শার্ট। ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে সামনে। রাহা হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইল মুগ্ধ ভঙ্গিতে। এটা কে? কোন সুদর্শন পুরুষ এলো তাদের বাড়িতে? এই ছেলের রূপ তো মনে হচ্ছে রোদের ঝিলিক দ্বিগুণ করে দিয়েছে। হাটার নিজেস্ব এক ভঙ্গিমা তার গুরুগম্ভীর ভাব আর আভিজাত্য প্রকাশে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। প্রতিটি পদক্ষেপ পরিবেশকে কে যেন থমথমে নিস্তব্ধ করার অঙ্গীকার প্রকাশে মশগুল।
রাহা বোকার মতো হা করে আছে। চোখেরও পাতাও পড়ছে না তার। এই লোকটার কি বয়স বাড়ছে না কমছে? দিন দিন যেন আরো ইয়াং আর হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে। এই দেড়বছরে মনে হচ্ছে লোকটা আরো সুদর্শন হয়েছে। সেই সাথে চেহারায় বেড়েছে গম্ভীর ভাব।
ফর্শা মুখটায় কালো মোটা রোদচশমা টা এঁটে আছে। কি দারুন লাগছে। চোখ ফেরানোই মুশকিল। রাহা তখনো থম মেরে বিমূঢ় ভাবে তাকিয়ে দেখছে ভিহান আরভিদ খান নামক বাড়ির প্রথম সন্তান কে। যার জন্যে বাড়ির প্রতিটা সদস্য পাগল। অবশ্য সে ছাড়া।
রাহার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভিহান শক্ত গলায় বলল, “মুখ বন্ধ কর স্টুপিড। মশার ফার্ম ঢুকে যাবে।”
এমন গা ছমছমে রুক্ষ কন্ঠ শুনে হুঁশ ফিরে রাহার। নড়চড়ে উঠে মেয়েটা। ভালো করে তাকিয়ে দেখে ভিহান ভাই তার পাশ কাটিয়েই চলে যাচ্ছে। মানে ঠিক কতটা খচ্চর আর খাডাস হলে একটা লোক দেড় বছর পর এসে বাড়ির কাউকে দেখে সামান্য “কেমন আছিস” টুক জিজ্ঞেস করতে পারে না?
রাহা দাঁত খিঁচে নিজেকে সামলে নিলো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল ভিহান এক কদম এগিয়ে গিয়েছে। তাই সেও দুই কদম আবারও পিছন ফিরে এগিয়ে যায় ভিহানের সামনে। বোকা বোকা হাসি হেসে বলে,
“আসসালামু আলাইকুম ভিহান ভাই। মাত্রই এলেন?”
ভিহান সালামের জবাবটুক নিয়েছে কিনা সন্দেহ। রাহা ভালো করে কিছুই শুনলো না। শুধু একটুখানি দেখল লোকটা হয়তো ঠোঁট নাড়িয়েছে সামান্য। যদিও বলা যায় না এটা সালামের উত্তর ছিল নাকি তাকে দেওয়া বকা।
ভিহান দুই আঙ্গুল চেঁপে চশমা টা খুলে ফেলে ভ্রু সরু করে তাকায় রাহার পানে। মেয়েটা এখনো আহ্লাদীর মতো শরীর দুলিয়ে হাসছে। যা বিরক্ত লাগে ভিহানের কাছে। এত ছটফট করার কি আছে এই বেয়াদপ মেয়ের? কপাল কুঁচকে আসে তার। চিবিয়ে স্বল্প কথায় জবাব দেয়,
“কানা হয়েছিস? দেখতে পাচ্ছিস না?”
হাসি থামায় রাহা। গাল টা খানিক ফুলানোর অভিনয় করে বলে, “কই আপনি যে দেড় বছর পর বাসায় এলেন আমাকে দেখেও জিজ্ঞেস করলেন না কিছু তখন কি আপনাকে আমি কানা ডেকেছি?”
“সামনে থেকে সর স্টুপিড।”
বিরক্ত গলায় বলল ভিহান। রাহা মোটেও সরলো না।
“আমায় কিছু জিজ্ঞেস করলেন না কেন ভিহান ভাই?”
দাঁত পিষে জবাব দিলো ভিহান, “প্রয়োজন বোধ করিনি।”
উত্তরটা বুঝি কিশোরী রাহার পছন্দ হলো না। সে কপাল কুঁচকে বলল, “কেন প্রয়োজন বোধ করলেন না? হ্যাঁ? আমি কি মানুষ না? আমি কি আপনার কেউ না? আমি কি আপনার পরিবার না? আমি কি আপনার বোন না বলুন?”
গম্ভীর স্বরে জবাব দেয় ভিহান, “তোকে কোনো কালে বোন হিসেবে মানিই নি আমি।”
ভিহান আর কথা বাড়ালো না। সে সামনে এগিয়ে গেল। রাগে দুঃখে দাঁত কটমট করতে লাগল রাহা। মনে মনে হাজারটা বকে দিল ভিহান ভাই কে। বিড়বিড় করে বলল,
“আমি আর এমনি এমনি এই জলহস্তী টাকে খাডাস ডাকি? উনি আসলেই একটা খাডাস।”
রাহা ফোঁস ফোঁস করতে লাগল।
ভিহান কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে আবার থামল। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ফিরে তাকাল ভ্রুকুটি করে। দেখতে পেলো রাগ নিয়ে রাহা দ্রুত চলে যাচ্ছে বাহিরের দিকে। ভিহান জোর গলায় তাকে ডাকল।
“ওখানেই থাম রাহা।”
এত জোরে কথাটা বলল ভিহান ভাই রাহা সত্যি থেমে গেলো। কিন্তু পিছন ফিরল না। ওভাবে ওখানেই মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। ভিহান কপাল কুঁচকে এগিয়ে এলো তার দিকে। পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে রাহার দিকে তাকালো পা থেকে মাথা পর্যন্ত। গোল একটা ফ্রগ পরনে, উপরে কটি সাথে গলায় স্কার্ফ ঝুলানো। একটা জিন্স প্যান্ট পরনে তার আবার পায়ে টাকনুর উপরে। ভিহানের চোখে মুখে বিরক্ত ফুটে উঠে। ত্যক্ত ভরাট গলায় প্রশ্ন করল সে,
“কোথায় যাচ্ছিস?”
রাহা হাসার চেষ্টা করল।
বলল, “বাহিরে।”
“বাহিরে কোথায়?”
ঢোক গিলল রাহা। “ও ওই মিথিলাদের বা বাড়ি।”
ভিহানের কপালে বিরক্তির আরো কয়েকটা ভাঁজ দেখা গেলো।
“ওখানে কি কাজ?”
“ন না এমনি। আসলে আন্টি যেতে বলেছিলো তো তাই..”
“কেউ বললেই যেতে হবে?”.
“তো হবে না? আমি খুবই ভদ্র ভিহান ভাই। সবার সব কথা শুনি। আন্টি বলেছে আর আমি যাবো না? আপনি ভেতরে যান আমি যাই।”
রাহা তাড়াতাড়ি পালানোর চেষ্টা করল। ভিহান আবারও উঁচু গলায় ডাকল।
“গেইট দিয়ে এক পা বের হয়ে দেখ শুধু।”
রাহার পা থেমে গেলো।
“খাডাসটা আসতে না আসতেই শুরু করে দিয়েছে তার ঐতিহাসিক বিরক্তিকর খাডাস গিরি। আজরাইল একটা।”
বিড়বিড় করতে লাগল রাহা।
ভিহান আবারও অল্প শব্দে বলল, “ভেতরে যা।”.
রাহা তাকায় ভিহানের দিকে। আবারও মেকি হেসে বলল, “দে দেখুন ভিহান ভাই আন্টি যেতে বলেছে এখন যদি না যাই..”
“আর আমি তোকে ভেতরে যেতে বলেছি স্টুপিড। এখনি যা।”
ধমক খেয়ে চুপসে গেলো রাহা। জলহস্তী টা আসার পাঁচ মিনিট হলো না অথচ তাকে ধমকানো শুরু করে দিলো। রাহা গাল ফুলিয়ে রাগে মাথা নিচু করে রাখল। তা দেখে ভিহান হাত বাড়িয়ে ওর ঘাড়ের কাছে কটির অংশ মুটো চেঁপে ধরল। এরপর বিড়ালের বাচ্চার মতো টানতে টানতে নিয়ে গেলো ভেতরের দিকে। যেন কোনো অবাধ্য দুষ্টু বিড়াল কে ঘাড় ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভিহান শক্ত তবে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই রাহার ঘাড়ের কটির অংশ চেঁপে ধরে হাটতে লাগল। না চাইলেও রাহা বিড়াল বাচ্চার মতো পা চালাচ্ছে।
“ও ভিহান ভাই ছেড়ে দিন না। যেতে দিন আমায়।”
ভিহান কোনো জবাব দিলো না। পাশ ফিরে তাকিয়েও দেখল না। শুধু শক্ত মুখে দরজার সামনে নিয়ে গেলো টেনে। এরপর ঘাড় বাঁকিয়ে ফিরল রাহার দিকে।
“এই তোর সবার কথা শুনার নমুনা তাই তো?”
বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রাহার মুখ ছোট হয়ে যায়। বাসার মেইন দরজা বাহির থেকে লাগানো। ভিহান আর কথা খরচ করল না। এই বেয়াদপ কে কিছু বলে লাভ নেই। নিশ্চয় বাড়ির কেউ মানা করেছিল বের হতে তবুও বেয়াদপ বের হয়ে এসে বাহির থেকে বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। রাগে ভিহানের শরীর জ্বলে উঠল। ইচ্ছা হলো স্টুপিড টাকে ঠাটিয়ে একটা চড় লাগাতে।
অবশেষে ভিহান রাহার ঘাড়ের অংশ চেঁপে ধরেই বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলো।
“আম্মা” এই একটা ডাক শুনেই আফসানা বেগম ছুটে এলেন। দেড় বছর পর ছেলেকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি চোখের পানি ছেড়ে দেন। ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন ছেলেকে।
এরপর একেএকে সবাই চলে এলো বসার রুমে। কামিলি ভিহান ভাই এর আসার খবর শুনে দৌড়ে দৌড়ে এলো। তবে রাহাকে এভাবে ধরে থাকতে দেখে সে থমকে গেলো। কপালে সরু ভাঁজ ফেলে তাকিয়ে রইল নির্নিমিখ।
রাহা চাঁপা গলায় বলল, “দয়া করে এবার ছেড়ে দিন ভিহান ভাই। সবাই দেখছে।”
ভিহান রাহার কথা শুনে তাচ্ছিল্যের মতো ছেড়ে দিলো হাতের মুটোয় রাখা কটির অংশটা। এমন একটা ভাব করল যেন ময়লার কোনো জিনিস ছুড়ে দিয়েছে সে। বিষয়টা রাহা খেয়াল করে মুখ মুচড়ায়।
এতদিন পর বাড়ির ছেলেকে পেয়ে সবাই গদগদ হয়ে গেলো। তারউপর আজ শুক্রবার, বাপ চাচা সবাই বাড়ি। ভিহান সবার শেষে বাবার দিকে ফিরল। তিনি গম্ভীর মুখ করে দাঁড়িয়ে।
ভিহান মিষ্ট সুরে ডাকল, “বাবা” বলে। দেড় বছর পর ছেলেকে দেখে তিনি আর রাগ করে থাকতে পারেননি। ছেলে কাছে আসতেই তিনিও জড়িয়ে ধরলেন। যত যাই বলুক ছেলের সামনে তিনিও যেন বাধ্য হয়ে যান।
ভিহান কামিলি কে দেখে বলল, “কিরে কেমন আছিস কামিলি?”
লাজুক হাসে কামিলি। মাথা নুয়ে ভদ্র সুরে জবাব দেয়, “ভালো তুমি কেমন আছো ভিহান ভাই?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
শেষে রুশমি বলল, “কিন্তু ভাইয়া তোমার সাথে রাহা এলো। তাও আবার..”
“ওই স্টুপিড টাকে বাগানের এখান থেকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসেছি।”
আফসানা বেগম বললেন, “ঘাড় ধরে মানে? কেন কি হয়েছে?”
জাহানারা বেগম বলেন, “কি আর হবে? মিথিলাদের বাড়ি যেতে চেয়েছিল। আমি বললাম আজ ভিহান বাবা আসবে কোথাও যেতে হবে না। না করার পরেও হয়তো চলে যেতে গিয়েছিল। তাই না বাপ?”
ভিহান পুরু গলায় বলল, “ওর উপর তোমরা বেশি করে নজর দাও না কেন? দিনকে দিন আরো বেশি করে স্টুপিড হচ্ছে।
উপরে আড়াল থেকে রাহা এসব দেখছিল আর রাগে ফুঁসছিল। “দিনকে দিন আরো বেশি করে স্টুপিড হচ্ছে।” কথাটা তাকে আরো রাগিয়ে দিচ্ছে। শয়তান একটা। আসতে না আসতেই জল্লাদগিরি শুরু করে দিয়েছে। সবার সাথে কি সুন্দর করে কথা বলে শুধু রাহার বেলাতেই এসে লোকটা জল্লাদ রূপ ধারন করে। খাডাস একটা। রাহা রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে মুখ ভেঙ্গিয়ে বলে, “উমম, ঘেড় ধরে নিয়ে এতেছি, খাডাস একটা।”
দুপুরে খাবার টেবিলে তখন এলাহি কান্ড। মা চাচি মিলে বাড়ির আদরের সন্তানের জন্যে টেবিল ভর্তি করে রান্না করেছে। কি নেই সেখানে? মাছ গোশত চিংড়ি কোরমা কুফতা ছোটমাছের চর্চরী থেকে শুরু করে নানান রকম ভর্তা পর্যন্ত করা আছে। সাথে পায়েস ফিন্নি তো আছেই। সব কিছু দেখে রাহা মুখ ভেংচায়। বাড়িতে মনে হয় কোনো মানুষ নয় রাক্ষস এসেছে। রাহা মুখ মুচড়াতে মুচড়াতে নিজের জায়গায় বসে। তার ঠিক সোজাসোজি অপর পাশে বসে জিদান। আর তার পাশে নীরবে এসে বসেছে ভিহান।
জিদান দুই হাত ঢলে প্রফুল্ল মুখে বলল, “বাহ আজ তো দেখি জমপেশ খাওয়া হবে তাই না রে বোনু?”
আফসানা বেগম হেসে উঠেন। “কোন শুক্রবার কম করে খাস তুই বল তো?”
“মা আর যাই করো খাওয়া নিয়ে খুটা চলবে না।”
রায়হান খান বলে, “ভাত দাও সবার প্লেটে। ভিহান কে দাও আগে।”
রাহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে সকালে ছেলেকে কি ঝাড়ি দিল অদেখায়। যেই সামনে পেলো সব ভুলে গেল? লোকটা কি জাদু জানে সবাই কে কেমন বশে করে নেয়।
ভিহান ফ্ল্যাটে থাকলেও সবসময় খাবারের প্রতি সচেতন। বেশি তেল মশলা বা ঝাল খাবার সবসময় এড়িয়ে চলে। তবে আজ এতএত খাবার দেখে তারও লোভ হলো। মা চাচি এত কষ্ট করে রান্না করেছে বলে সবকিছুই নিচ্ছে। পাতে একটা চিংড়ি মাছ আসতেই বলল ভিহান,
“মা চিংড়ি টা তুলে নাও।”
“কেন রে? একটাই তো দিলাম। খেয়ে দেখ বাবা।”
খান বাড়িতে সবচেয়ে চিংড়ি যদি কেউ পছন্দ করে তাহলে সেটা হলো রাহা। এরপর জিদান আর সামি রাফি।
ভিহানের কথা শুনে কামিলি মিষ্টি হেসে দ্রুত বলে উঠল, “তুমি না খেলে আমাকে দিয়ে দাও।”
তা শুনে পাশ থেকে দ্রুত রাহা উঠে দাঁড়িয়ে ভিহানের প্লেটের চিংড়ি তে থাবা বসিয়ে দিতে দিতে বলল,
“না না কামিলি আপু চিংড়ি একটুও পছন্দ করে না। তারচেয়ে বরং আমাকে দিন।”
ততক্ষণে রাহা চিংড়ি থাবা বসিয়ে নিয়ে নিয়েছে নিজের পাতে। মুখে রাজ্যজয়ের হাসি হাসতে লাগল পাতে বড়বড় দুইটা চিংড়ি দেখে। কিন্তু চোখ তুলে দেখলো না ভিহানের ভয়ংকর রক্তচক্ষু গুলি। রাহার কাজে বাড়ির বাকিরাও হা করে তাকিয়ে আছে। আফসানা বেগম কিছু বলবেন তার আগে ভিহান চেঁচিয়ে উঠল,
“স্টুপিড একটা, সামান্য ম্যানার্সটুক শিখিস নি?”
রাহা কিছু না বুঝে বোকার মতো তাকিয়ে রইল ভিহান ভাই এর দিকে।
পাশ থেকে ছেলের রাগ বুঝে বললেন আফসানা বেগম,
“বাবা তুই শান্ত হো। সামান্য,”
“কিসের সামান্য? কি সামান্য? ছোটলোকের মতো এমন করবে কেন? ন্যূনতম ভদ্রতা টুক নেই ওর মাঝে?”
রাহার চোখ দুটি ছলছল করে উঠে। সামান্য একটা চিংড়ির জন্যে ভিহান ভাই তাকে ছোটলোক বলল?
জিদান রুশমি সামি রাফি সবাই চুপ। কামিলি অদ্ভুত মুখ করে মাথা নিচু রেখেছে। খাবারের জমজমা পরিবেশটা মুহূর্তে থমথমে হয়ে গেলো।
ভিহান আবারও উচ্চস্বরে বলল,
“এত বড় হয়েছে ও। অথচ এখনো বুঝে না কোনটা করা ঠিক আর কোনটা উচিৎ নয়। আমাকে বললে কি আমি চিংড়িটা দিতাম না ওই স্টুপিড কে? ইডিয়েটা কেন অন্যের পাতে হাত দিতে যাবে? এটা কোন ধরনের অভদ্রতা কাজ?”
রাহার খুব কান্না পেলো। বলতে ইচ্ছা হলো, “আপনি তো আমার পর নয় ভিহান ভাই। আমার চাচাতো ভাই, কাছের আপন। সামান্য চিংড়িটা নিয়েছি বলে এভাবে বলবেন?”
কিন্তু কান্নারা গলায় আটকে এসেছে বলে তা আর পারলো না।
আফসানা বেগম ক্ষীণ গলায় বললেন, “এমন করছিস কেন বাপ? ও তো তোর ছোট বোনই হয়। না হয় তোর..”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই গর্জে উঠল ভিহান। তার চিৎকারে সবাই নড়েচড়ে উঠল। রাহা শরীর দুলিয়ে কেঁপে উঠল। সামান্য চিংড়ির জন্যে এমন হবে জানলে কোনো সময় ভিহান ভাই এর পাতে হাত দিতো না।
“বোন মাই ফুট। এসব ডিজগাস্টিং কথাবার্তা আর কখনো বলবে না মা।”
রায়হান খান শান্ত তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “সামান্য একটা ব্যাপারে এতটা রিয়েক্ট কেন করছো বাবা?”
ভিহান জবাব দেয় না। রাহা লজ্জায় অপমানে চোখ ভর্তি পানি নিয়ে আবারও ভিহান ভাই এর পাতে চিংড়িটা দিয়ে ধরে আসা গলায় বলে,
“স সরি ভিহান ভাই।”
তাতেই যেন আরো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে ভিহান। রাগে দাঁতে দাঁত কেটে বলতে লাগে,
“ননসেন্স গাধা তোকে বলেছি এটা আবার ব্যাক দিতে?”
রাগে পারে না ভিহান এখানেই রাহা কে চিবিয়ে খায়। এই গর্দভ টা কবে বড় হবে? কবে সব কিছু বুঝতে শিখবে?
রাহা মাথা নিচু করে রাখে। চোখ দুটিতে জলে চুঁইচুঁই। ভিহান ধারালো গম্ভীর গলায় বলল,
“এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলে দেখ খালি কি করি তোকে..”
রাহা কান্না আটকাবে কি তার চোখ দিয়ে আরো পানি বের হয়ে আসতে চাইল। যেন খাডাস লোকটা না করেছে বলে আরো বেশি করে কান্না পেলো তার। বারবার নাক টানলো সে। তা দেখে জিদান চিবিয়ে চিবিয়ে ফিসফিস করল,
“বোনুর বাচ্চা রে এটার জন্যে না জাঁদরেলের কাছে আবার ধোলাই খাস।”
ভিহান বিরক্ত রাগান্বিত চোখে কেবল তাকিয়ে দেখছে রাহার কাজ।
লতিফা বেগম বললেন এবার, “দাদুভাই ও ছেলেমানুষি করে তোমার পাতে হাত বাড়িয়েছে তাই বলে এতো রেগে যাচ্ছো কেন?”
“বাড়াবে কেন? ওর কি এখনো ছেলেমানুষির বয়স আছে সেটা বলো? ভেবে চিন্তে কাজ করা যায় না? এখনো ও ছোট?”
আরমান খান মেয়ের মলিন মুখ টা এক পল দেখলেন। পাশ থেকে সাদমান খান বললেন, “হয়েছে বাবা এটা নিয়ে রাগ করো না। আমাদের রাহা এমনই দূরন্তপনা করে সবসময়। তুমি প্লিজ ঠান্ডা হও।”
জাহানারা বেগম রেগে মেয়েকে বললেন, “সবসময় মানা করি তো এমন উশৃঙ্খল গিরি করতে? মানা করি না? তবুও কেন শুনিস না কথা? সব কিছুর মাঝে গণ্ডগোল না পাকালে চলে না তোর?”
জাহানারা বেগমের মতিগতি বুঝে ভিহান আবারও চেঁচিয়ে উঠল, “মেজো চাচি আমার সামনে যেন ওর গায়ে একটা হাতও না উঠে।”
থেমে যান জাহানারা বেগম। আরমান খান এবার মুখ খুলেন, “তুমিও দেখছি ছেলেমানুষি করার চেষ্টা করছো জাহানারা।”
“আমাকে না বলে এসব তোমার মেয়েকে বলো। যদি একটু কাজে আসে।”
তরকারির খালি বাটিটা হাতে নিয়ে তিনি চলে যান রান্নাঘরে। আফসানা বেগম একটু ইতস্তত করেন তিনি জানেন জাহানারা মেয়েকে অতিরিক্ত ভালোবাসে। এর কারণও উনার জানা।
রাহা ছলছল চোখ নিয়ে মাথা নিচু রেখেই উঠে যেতে চাইল। তীক্ষ্ণ চোখে সামনে বসা ভিহান সেটা দেখে কঠিন গলায় বলে,
“খাবার রেখে এক পা উঠে দেখ তোর পা দুটি আমি এখানেই কাটবো।”
রাহার এবার সত্যিই কান্না পেলো। ঠোঁট দুটি কেঁপেও উঠল তার। ভিহান সেসব তোয়াক্কা না করে নিজের পাতে ফেরত দেওয়া চিংড়িটা আবারও তুলে দিলো রাহার প্লেটে। সাথে বাটি ভর্তি চিংড়ির তরকারিটাও ওর সামনেই রাখল। অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে পিঁষে বলল,
“খাবার শেষ না করে উঠতে পারবি না ইডিয়েট।”
অন্য সময় হলে এত চিংড়ি দেখে সে খুব খুশি হতো। কিন্তু এখন একটুও ভালো লাগছে না তার। মনে মনে রাহার বড্ড রাগ হলো। দাঁত কিড়িমিড়ি করে বকতে লাগল ভিহান ভাই কে। খাডাসটা এসেছে পর থেকে তাকে শান্তি দিচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বিদায় হয় ততই শান্তি তার।
রাহা পাশে বসা কামিলির দিকে মুখ ঘুরিয়ে মোটা গলায় প্রশ্ন করল,
“কামিলি আপু ভিহান ভাই এর ওই পঁচা চিংড়ি টা আমি খাবো না। তোমাকে দিয়ে দেই?”
ফোলা ফোলা গাল নিয়ে আধো কন্ঠে বলা রাহার কথার ধরন দেখে বাকিরা মুচকি হেসে উঠল। শুধু রাগে শরীর জ্বলল ভিহানের। সে কটমট করে তাকিয়ে রইল রাহার দিকে। কামিলি ভিহান ভাই কে দেখে মাথা নিচু করে জবাব দিলো,
“না, ওটা তোকে দিয়েছে তুই’ই খা। অন্যের জিনিসের প্রতি আমি এত নজর নেই।”
রাহা সামি রাফির দিকে তাকিয়ে নাক ফুলিয়ে বলল,
“এই সামি রাফি ওই পঁচা চিংড়িটা খাবো না আমি। নিয়ে নে। ওটা আমার পেটে হজম হবে না।”
রায়হান খান আফসানা বেগম মিটমিট করে হাসতে লাগলেন। আরমান খান হেসে বলেন, “মা খাবার টেবিলে এত কথা বলতে নেই। খাও।”
ভিহান কটমট করে তাকিয়ে রইল রাহার দিকে। মেয়েটা তাকে অপমান করছে নাকি?
চিবিয়ে এবার বলল ভিহান, “ওটা তোকে খেতেই হবে। দরকার পরলে ভাত না খেয়ে চিংড়ি দুটো খাবি। তবুও ওগুলি ফেলে উঠবি তো..”
“আপনি কি আমার উপর জোর করছেন?”
“যেটা মনে করিস সেটাই। খা।”
“খাবো না আমি আপনার চিংড়ি। আপনারটা আপনি খান।”
ভিহান কথা রেখে আরেকটা চিংড়ি পাতে দিলো রাহার। সবাই অবাক হয়ে রইল,
“না খেয়ে যতবার কথা বলবি ততগুলি চিংড়ি উঠবে তোর পাতে। আর পাত খালি না করে তুই উঠতে পারবি না। আই রিপিট এগেইন উঠতে পারবি না।”
রাগে ফোঁসফোঁস করতে লাগল রাহা। রায়হান খান বললেন, “বাপ কেন মেয়েটার সাথে এমন করছিস?”
“তুমি কথা বলো না বাবা, ও বেশি বেড়েছে। বেয়াদপ টা কে ঠিক করা প্রয়োজন।”
রাহা অসহায় চোখে তাকায় জিদান ভাই এর দিকে। জিদান মেকি হেসে ফিসফিস করে বলে, “তোর চিংড়ি নিয়ে মারা খেতে চাই না।”
সবার খাওয়া শেষ। কিন্তু ভিহান এখনো বসে আছে। সাথে রাহাও। একটা ভাতও গলা দিয়ে নামেনি তার। শুধু পাতে থাকা চিংড়ি তিনটাই গিলেছে কোনোরকম। এরপর অনেকটা রাগ নিয়েই বলল রাহা,
“হয়েছে? শেষ করেছি এবার শান্তি তো আপনার? এখন তো উঠতে পারবো?”
ভিহান জবাব দিলো না। তীক্ষ্ণ চোখ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করল রাহা কে। রাহা গজগজ করতে করতে চলে গেলো উপরে।
রুশমির ঘরে এসেই রাহা নাক টানা শুরুর করল,
“দেখেছো রুশমি আপু তোমার খাডাস ভাই টা কি করেছে আমার সাথে? আস্তো খচ্চর। খবিশ লোক একটা। জাঁদরেল পুরো আজরাইল।”
“ভাইয়া কিন্তু বাড়িতেই যদি শুনে কি করবে তোর ভেবেছিস?”
“কি করবে তোমার ওই খবিশ ভাই? কি করবে হ্যাঁ? রাক্ষটা পারবে কি করতে?”
“যদি তোকে গিলে ফেলে রে রাহা?”
“এ্যা বললেই হলো? গিলে ফেলা এতোই সহজ নাকি? উনার পেটে গিয়ে খামছে নাড়িভুঁড়ি সব ছিঁড়ে ফেলবো না? জাঁদরেল একটা। কোনোদিন বউ জুটবে না উনার কপালে।”
“রুশমি তুই ঘরে?”
বাহির থেকে আসা ভরাট গলাটায় হকচকিয়ে যায় রাহা। এই রে আজরাইল টা কি শুনে নিলো নাকি? রাহা দ্রুত করে রুশমির বিছানার পাশে থাকা কম্বল মুড়িয়ে দিয়ে গুটিশুটি হয়ে পড়ল।
ভিহান ধীর পায়ে আরেকটু এগিয়ে বলল,
“তোর ঘরে রাহা?”
রুশমি কম্বলে মুড়ি দিয়ে থাকা রাহার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। এরপর বলল, “হ্যাঁ ভাইয়া ও এখানেই।”
“বেয়াদপ টাকে আমার রুমে পাঠিয়ে দিস।”
ভিহান টাউজারের পকেটে হাত গুঁজে লম্বা পা ফেলে চলে গেলো। রুশমি বলল,
“ভাইয়া চলে গেছে। উঠ।”
“তুমি ওই খাডাসটাকে বললে কেন আমি এখানে?”
“তাড়াতাড়ি যা নয়তো দেরি হলে আবার বকবে।”
“তুমি জিদান ভাই এত ভালো তাহলে বড়মার পেট থেকে ওমন খবিশ একটা লোক বের হলো কি করে?”
রাহা পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলো ভিহান ভাই এর রুমে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উঁকি দিলো। বিছানার ওপর পাশে থাকা সোফাটায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে কাজ করছে শয়তান লোকটা। সে দরজার সামনে দাঁড়িয়েই ভালো করে দেখল ড্রেসিংটেবিল টা। ওই তো ওখানে নতুন নতুন আরো কত গুলি পারফিউম যোগ হয়েছে। নিশ্চয়ই লোকটা ঢাকা থেকে নতুন নিয়ে এসেছে আরো। খুশিতে লাফাতে ইচ্ছা হলো তার। পারফিউমের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক। প্রতিদিন জিদান ভাই এর ঘর থেকে পারফিউম মাখে সে। তবে এটা সত্যি জিদান ভাই এর থেকে ওই খবিশ লোকের স্মেল সেন্স দুর্দান্ত। ওই লোকটার সব গুলি পারফিউম তার একেবারে খেয়ে ফেলতে মন চায়।
“চুরের মতো উঁকিঝুঁকি না দিয়ে ভেতরে আসবি?”
রাহা মুখ ভেংচায়। ধীর পায়ে এগিয়ে আসে।
“কেন ডেকেছেন ভিহান ভাই?”
“নিশ্চয়ই তোর চেহারা দেখার জন্যে নয়।”
“আমার চেহারা এত সস্তা নাকি? যে যাকে তাকে দেখতে দিবো?”
“কি বললি?”
“ও ওই না আরকি বলছিলাম আপনি কেন ডেকেছেন?”
ভিহান টেবিলের উপর কোকের গ্লাসটা দেখিয়ে বলল, “এটা খেয়ে নে।”
পেটুক রাহার জিহ্বে পানি এলো। কিন্তু পরক্ষণে নিজেকে সামলে সে অভিমান সুরে বলল,
“না খাবো না আমি।”
ভিহান গ্লাসটা হাতে নিয়ে এগিয়ে যায়।
“খেয়ে নে। লেবু আর লবণ মিশিয়ে এনেছি। গ্যাস হবে না।”
“লাগবে না। আপনার টা আপনি খেয়ে নিন।”
রাহা চলে যেতে নিলেই খপ করে তার কব্জি চেঁপে ধরে ভিহান। চোখ গরম করে বলে,
“রাগাস না রাহা। চুপচাপ শেষ কর।”
“আমি না খেলে জোর করবেন আমায়?”
“দরকার পরলে তাই।”
“কেন? আপনি সবসময় আমার উপর জোর করবেন কেন?”
“স্টুপিড সবসময় এত কথা বলতে হবে কেন তোকে?”
“আপনি আমার উপর সবসময় জোর করেন ভিহান ভাই। কই আমি তো আপনাকে কিছু নিয়ে জোর করি না।”
“তুই আর আমি কি এক হলাম?”
“পার্থক্য কি? আমি আপনি আপনি আমি একই কথা।”
ভিহানের ওষ্ঠপুট নিগূঢ় দুলে উঠল। ভ্রু খানিকটা সরু করে একটু ঝুঁকল রাহার দিকে। ফিসফিস করে বলল,
“সত্যি কি তুই এতটা বুঝদার হয়েছিস যে বুঝিস তুই আমি আমি তুই একই কথা?”
হঠাৎ ভিহান ভাই এতটা কাছে আসায় রাহা থতবত খেলো। তাল সামলাতে না পেরে পিছনে হেলে পরতে নিলেই ভিহান ওর পিঠ পিছনে হাত চেঁপে ধরে ওকে সামলে নেয়। ভিহান ভাই এর আচমকা স্পর্শে কেঁপে উঠল সে। দ্রুত করে নিজেকে সামলে দাঁড়ালো।
“এই তোর বড় হওয়ার ধরন?”
ভিহানের চোখে মুখে বিরক্ত ফুটে উঠে।
“তোর ওই টুকুন শরীরে ভার স্থির কবে আসবে রে রাহা?”
রাহা কেমন হাঁসফাঁস করে।
“স্টুপিড একটা। এটা নিয়ে বিদায় হো আমার রুম থেকে।”
রাহা কপাল কুঁচকে নিচু গলায় বলে, “এমন ধমকাচ্ছেন কেন আপনি?”
ভিহান কটমট করে রাহার বাহু চেঁপে ধরে। “আহহ” করে মৃদু শব্দ করে সে। ভিহান তাকে টেনে দরজার বাহিরে নিয়ে গিয়ে হাতের গ্লাসটা ধরিয়ে দেয় রাহা কে। শক্ত কঠোর গলায় বলে,
“তুই বেয়াদপ কে দেখলেই আমার প্রচণ্ড রাগ হয় ইডিয়েট। সো আউট।”
ভিহান তর্জনী আঙ্গুল উঁচু করে করিডোরের পথ দেখিয়ে দিলো। রাহা কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মুখের উপর শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দিলো। রাহা রাগে কটমট করে বলল,
“খবিশ একটা, খাডাসের বাচ্চা খচ্চর। ডেকে এনে অপমান করে। জাঁদরেল একটা। তোর কলেরা হবে দেখিস..”
রাহা নাক মুখ ফুলিয়ে চলে গেলো।
–
বিকেল বেলায় বাগানের দিকে রুশমি সহ সামি রাফি জিদান রাহা কানামাছি খেলছিল। তার পাশেই একটা শানবাঁধানো পুকুর আছে। ভিহান বাড়ি আসলেই মাঝেমাঝে এখানে গোসল করে। আজও দুপুরের পর বের হয়ে সবে এলো ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে।
রাহা কে ডেকে বলল, “যা আমার টাওয়াল টাউজার আর সাবান নিয়ে আয়।”
রাহা গাল ফুলিয়ে বলল, “আমাকে কেন বলছেন?”
“কারণ তুই পিচ্চি। বাড়ির ছোট মানুষ, মাথায় কোনো ঘিলু নেই। আর ছোটদের সবাই কাজ দেয়। যা এবার।”
নাক ফুলিয়ে রাহা জবাব দিল, “আপনায় কে বলেছে আমি ছোট? আমি যদি ছোট হই সামি রাফি কি?”
“সামি রাফির মাথায় তোর চেয়ে বেশি ঘিলু আছে। বকবক না করে দ্রুত যা।”
“যাবো না আমি। আপনি সবসময় এমন করেন আমার সাথে।”
পাশ থেকে কামিলি দ্রুত করে বলল, “থাক না ভিহান ভাই ও যখন না করছে। আমি গিয়ে নিয়ে আসি।”
কামিলি ভিহানের জবাবের আশা না করেই ছুটে গেলো।
জিদান বলে উঠল, “মনে হচ্ছে ভাইয়ার জন্যে কামিলির দরদ দুধের মতো উতলে উতলে পড়ে মাইরি।”
রুশমি রাহা কে রাগ দেখিয়ে বলল, “ভাইয়ার জিনিস গুলি এনে দিলি না কেন?”
“কেন এনে দিবো? আমার কি ঠেকা পড়েছে?”
“তোকে ভাইয়া এমনি এমনি গাঁধা বলে না।”
জিদান বলে উঠল, “সাথে বলদও বলে?”
রাহা নাক মুখে ফুলিয়ে অভিমানি গলায় বলে, “ভাইয়া তুমিও..”
“না ভাই, আমি তো শুধু বলছিলাম। ভাইয়া কে আমরা মেরে দিবো।”
“সত্যি তো?”
“তোর কি মনে হয় বোনু কেউ যেচে পড়ে বাঘের গুহায় ঢোকে? শয়তানের পাছায় আঙ্গুল দেওয়া যায় কিন্তু ভিহান আরভিদ খানের সাথে.. উঁহু।”
ততক্ষণে কামিলি সব জিনিস এসে ভিহান কে দিলে সে সুন্দর করে হাসি দেয়। তা দেখে শরীর জ্বলে রাহার।
“খচ্চর টা শুধু তাকেই বকাবকি করে। জাঁদরেল!”
ভিহান কত গুলি ডুব দিয়ে এসে সিঁড়ির উপর বসে গায়ে সাবান মাখতে লাগল। তা দেখে রাহা মুচকি মুচকি হেসে গান ধরল,
“ঘঁষা মাজা যতই করো
আসলে তুমি কাইল্লা।
কোনো লাভ হইবো না গো
সাবান সোডা ডইল্লা।”
চলমান…
সবাই দয়া করে সাড়া দিবেন। আর গল্প ভালো না লাগলে দয়া করে জানাবেন আমি অফ করে দিয়ে নতুন গল্প দিবো।
Share On:
TAGS: ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ, সাদিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ১৫
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২০
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩৯
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৬
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৫
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩০
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩৮
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৯