#কাজরী-৫০
#সাবিকুন_নাহার_নিপা
আল্পনাকে সাদরে বরণ করে চৌধুরী প্যালেসে প্রবেশ করালেন শিরিন চৌধুরী। তারপর সরাসরি নিয়ে গেলেন মন্যুজান খাতুন এর কাছে। বৃদ্ধা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যেন নিশানের বউকে তার ঘরে ঢোকানো না হয়। শিরিন অবশ্য রিস্ক নিতে চাইছিলেন না। মন্যুজান খাতুন ভীষণ অসামাজিক মানুষ। বয়সের দোহাই দিয়ে তিনি অসামাজিক কাজগুলো করেন আনন্দ নিয়ে। কিন্তু কাজরী আল্পনাকে নিয়ে গেল মন্যুজান খাতুন এর ঘরে। মন্যুজান খাতুন আল্পনার সালাম গ্রহণ করে ভোতা মুখে বললেন,
“যাও নিজের ঘরে। “
কাজরী তাকে বলল,
“নিশানের বউ এর মুখ দেখেছেন কিছু দিবেন না! আপনি জমিদার বংশের মেয়ে ছিলেন। কোথায় আপনার উদারতা। নাতবউ এর মুখ দেখে কিছু অন্তত দিন। “
মন্যুজান খাতুন এশনার দিকে তাকালেন। এশনা একটা গয়নার বক্স হাতে দিলে সেটা দায়সারা ভাবে আল্পনার হাতে দিলো। ঘর খালি হতেই মন্যুজান খাতুন ইশানকে ডেকে পাঠালেন। ইশান আগের মতো এই ঘরে এসে দাদীর সঙ্গে সময় কাটায় না। এক দুই মিনিটের জন্য আসে শুধু খোঁজ নেবার জন্য। মন্যুজান খাতুন অবশ্য নিজের ঘরে থেকে কোনো কাজ না করেও সময় কাটিয়ে দিতে পারেন বিরক্তি ছাড়া।
“কী ব্যাপার? এই সময়ে আমাকে খুঁজছ?”
মন্যুজান খাতুন ক্ষিপ্ত গলায় বললেন,
“আখতারউজ্জামান এর মাইয়ারে এই বাসায় ঢুকায়ে ভালো করো নাই তুমি? তোমার দরকার ছিলো নিশানরে বাসা থেকে বের করে দেয়া। “
ইশান হেসে ফেলল। বলল,
“তোমার ছেলে তো নিশানকে বের করে দেয় নি। আমি কেন করব? আর ও তো আমারও ভাই। বাবা আলাদা হলেও মা তো একই। “
মন্যুজান খাতুন রাগে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন রীতিমতো। কেউ তার কথা শুনছে না। শিরিন তো শুনবেই না, সেই সঙ্গে কাজরীকেও তিনি বশে আনতে পারছেন না। ইশান বলল,
“তুমি আরাম করো। এই বয়সে এতো কিছু ভাবছ কেন? “
“তুমি বংশের মান ইজ্জত সব ডুবাইতেছ। ভুল করতেছ। তোমার বউও ভুল করতেছে। এরপর একদিন দেখবা, তোমার সবকিছু নিশান সবকিছুর দখল নিবে। তোমাকে সরায়ে দিয়ে সে মালিক হয়ে যাবে। “
ইশানের ভ্রু কুঞ্চিত হয়।
“হঠাৎ এমন কথা? এরকম হয়েছে নাকি?”
“হয়। টাকা, পয়সা বড় খারাপ জিনিস। আপন পর হয়ে যায় টাকা, পয়সার কারণে। নিশান তো তোমার পর ই। “
ইশান হেসে ফেলল। বলল,
“পান সুপুরি খেতে খেতে এসব ভাবো তুমি? “
মন্যুজান খাতুন গলা নামিয়ে বললেন,
“নিশান তোমার রক্তের কেউ না। ভুইলা গেলে হবে ?”
ইশান বিচিত্র ভঙ্গিতে হাসলো। বলল,
“তুমি কখনো তোমার রক্তের সম্পর্কের মানুষের সঙ্গে বেইমানী করেছ দাদী?”
মন্যুজান খাতুন ঢোক গিললেন। প্রশ্নটা শুনে সর্বপ্রথম যে মুখটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেটা হলো তার ভাইয়ের। তবুও আত্মবিশ্বাসী গলায় বললেন,
“না। “
“তোমার ছেলে মানে আমার বাবা তো করেছে তাই না?”
মন্যুজান খাতুন চোখ নামিয়ে নিলেন। ইশান বলল,
“তুমি তোমার ছেলেকে ভীষণ ঘৃনা করতে দাদী৷ প্যালেসের সবচেয়ে দূরের ঘরটিতে তুমি নিরিবিলিতে থাকতে কেন আমি জানি। বাবাকে তুমি প্রচন্ড ঘৃনা করতে। তিনিও একই মনোভাব রাখতেন তোমার জন্য। সেজন্য তুমি আমার আর মায়ের সম্পর্ক নিয়ে খুশি ছিলে তাই না?”
মন্যুজান খাতুন আমতা আমতা করে বললেন,
“না… দাদুভাই, শিরিন তো তোমার দিকে নজর দিতো না। তোমার ভালো, মন্দ দেখতো না। আমার তো বুক পুড়ে যাইতো। “
ইশান হেসে ফেলল শব্দ করে।
মন্যুজান খাতুন অপ্রস্তুত হন। ইশান নীরবে হাসে৷ দাদীকে আয়না দেখানোর ইচ্ছে ওর নেই। সবকিছুতে আগ্রহ, সবার জীবন সম্পর্কে জানতে মরিয়া একজন মানুষ কেন দূরে থাকার ভান করছে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ইশান কিছু অপ্রিয় সত্য জানতে পারে। ইশান বলল,
“বাবার নিষ্ঠুর হবার পিছনে তুমি দায়ী দাদী। “
বৃদ্ধা বিচলিত বোধ করলেন। বললেন,
“না। ওর বাপ অমানুষ ছিলেন। বংশের ধারা ভালো ছিলো না। “
“না দাদী। কেউ সেকথা বলেন না। তোমার দ্বিতীয় স্বামীর কথা বলেন সবাই। তিনি ব*র্বর, অস*ভ্য ছিলেন। আমার ধারণা তুমি নিজ হাতে তাকে কিছু খাইয়ে মেরেছ। সেজন্য তুমি কারোর হাতের খাবার খাও না। “
মন্যুজান খাতুন তাকালেন বিস্ফোরিত চোখে। তিনি কাঁপছেন। ইশান এই কথা জেনেছে নিশ্চয়ই ওর বাবার কাছ থেকে। ওয়াজেদ চৌধুরী কী তাহলে কিছু বলে গেছেন ও’কে!
ইশান আশ্বস্ত করে বলল,
“তুমি নিশ্চিন্ত থাকো, আমি কাউকে কিছু বলব না। “
ইশান হাসতে হাসতেই বেরিয়ে যায়। মন্যুজান খাতুন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে বসে থাকেন। এতো গোপন কথা জেনে গেল ইশান। তার জীবনের সবচেয়ে গোপন অধ্যায়! ছেলের কাছ থেকে তিনি জোর করে কথা নিয়েছিলেন যেন কাউকে না বলে।
তার প্রথম স্বামী ভালোমানুষ ছিলেন। অবস্থাপন্ন পরিবারের মেয়ে হয়েও তার বিয়ে হয়েছিল সাধারণ এক পরিবারে। তার বাবা টাকা, পয়সার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন ভদ্র ঘর ও সচ্চরিত্রের অধিকারী শিক্ষিত একজন পাত্রকে৷ মন্যুজান খাতুন সেই ভদ্রলোককে খুব একটা সহ্য করতে পারেন নি। ওয়াজেদ চৌধুরী ছোট থাকা অবস্থায়ই মারা গেলেন তার প্রথম স্বামী। আকস্মিক মৃত্যু। একদম সুস্থ, সবল মানুষ টা দুপুরে ভাত খেতে বসে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সন্ধ্যের মধ্যে মৃত্যু। সদ্যবিধবা মন্যুজান খাতুন এর বয়স কম তখন। মাস ছয়েক যেতেই বিয়ে হলো দেবরের সঙ্গে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার গুরুত্ব টের পেলেন। দ্বিতীয় স্বামীর সংসারেও তিনি ছিলেন ভীষণ অসুখী। লোভী মানুষটার ছিলো শুধু টাকার নেশা। মন্যুজান খাতুন এর বাপের জমিদারি দেখে মৃত ভাইয়ের বউকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর থেকে মন্যুজান খাতুনকে নানানরকম মানসিক অত্যাচার করতেন। দিনের পর দিন গায়েব থাকতেন। জলের মতো বেহিসেবী পয়সা উড়াতেন। ফিরে এসে সংসারটাকে জাহান্নামে পরিনত করতেন। হাসতে হাসতেই বলে দিতেন যে মন্যুজান খাতুন তার স্বামীকে ভাতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়ে মেরে ফেলেছেন। মন্যুজান খাতুন এই অপবাদ মেনে নিতে পারতেন না। আর লোকটা এই ধরনের অপমানকে ঢাল বানিয়ে তাকে পায়ের তলায় পিষে ফেলতে চাইতেন।
বনেদী পরিবারের মেয়ে ছিলেন মন্যুজান খাতুন৷ সেই সঙ্গে বংশীয় অহংকারও কম ছিলো না। যে লোকটা ওনাদের বাড়ির কর্মচারী হবার যোগ্যতা রাখেন না তাকে স্বামীর পরিচয়ে সংসারে আটকে রাখার আগ্রহ ফুরিয়ে আসে। তিনি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করলেন৷ একটুও বুক কাঁপলো না। ততদিনে বর্বর লোকটার জন্ম দেয়া ছেলেটা তার কোলে বড় হচ্ছিল। এক শুক্রবার সকালে বাজার থেকে খাসি কিনে আনিয়ে কসাই দিয়ে জবাই করালেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে৷ যত্ন করে রান্না করেছিলেন অনেকটা পরিমাণ খাসির মাংস। আয়োজন করে কাসার থালায় গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলেন এক বাটি খাসির মাংস। লোকটা ভাত খেতে খেতে বুকে হাত দিয়ে তীব্র আর্তনাদ করলেন। ছুটে আসার মতো কেউ ছিলো না। মন্যুজান খাতুন ছিলেন সামনেই। পান সুপুরি খাচ্ছিলেন আয়েশ করে। কাঁটা মুরগির মতো তড়পাতে তড়পাতে যখন মারা গেলেন তখন তিনি ভাতের থালাটা সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বড় পুকুরে ছুড়ে মেরেছিলেন থালাসমেত ভাতগুলো। পরদিন সকালে পুকুরে ভাসতে দেখা গিয়েছিল কিছু মরা মাছ। লোকের সন্দেহ অবধিই ছিলো ব্যাপার টা। সামনাসামনি মুখ খোলার সাহস কারোর হয় নি।
মেঘে মেঘে অনেক বেলা পেরিয়ে গেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন প্রায়। আজও সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেন নি তিনি। যতটা নির্লিপ্ত তিনি ওই সময়ে ছিলেন পরবর্তী সময়ে ছিলেন ভয়ে, আতঙ্কে। কারোর হাতের খাবার তিনি খান না। আল্লাহর হিসাবে নাকি ভুল হয় না, মন্যুজান খাতুন ভয় পান। তাকেও যদি কেউ ওভাবে বিষ খাইয়ে দেয়!
****
নিশান যখন ঘরে প্রবেশ করলো তখন আল্পনা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। নিশান সরাসরি তাকালে আল্পনা খানিকটা আড়ষ্ট হয়ে যায়। আল্পনার পরনে হালকা গোলাপি শাড়ি। ভেজা চুলে মাত্রই আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছে। মুখে মেকাপ কিংবা প্রসাধনীর ছোঁয়া নেই। একদম সাধারণ বেশভূষা। নিশানের উদ্দেশ্যে বলল,
“আমি বেডে ঘুমাব। তুমি তোমারটা ম্যানেজ করে নিও। “
নিশান কাবার্ডের দিকে এগিয়ে গেল। কোনো জবাব দিলো না। এতোদিন যে ঘরটা ওর একার ছিলো, সেটার সিংহভাগ দখল নিচ্ছে এমন একজন যাকে ও পছন্দ, অপছন্দ কোনোটাই করে না। শুধু নিজের স্বার্থ বুঝে নিতে এই স্টেপ নেয়া। নিশান ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াতে যাবে তখন আল্পনা আবারও বলল,
“থ্যাংক ইউ নিশান। যদিও তুমি এটা ডিজার্ভ করো না। তবুও জানালাম। আমাকে বেশীদিন সহ্য করতে হবে না।তবে যতদিন আমি এই বাড়িতে থাকব আমাকে প্রোটেক্ট করার রেসপন্সিবিলিটি তোমার। প্রোটেক্ট না করতে পারো, অন্তত ক্ষতি করার চিন্তা করবে না। “
নিশান তাকালো। মেয়েটা নরম গলায় শক্ত করে কথাগুলো বলল। নিশান বিস্মিত হয় না। কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখায় না। ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে ভাবে। এই বিয়েটা ওর কাছে বিশেষ কিছু নয়, কিছুটা সামাজিকতা আর অনেকটা নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্যকিছু না ভাবলেও চলবে।
আল্পনা বাতি কমিয়ে শুয়ে পড়েছে। বিছানার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিছু লাল গোলাপের পাপড়ি। ঘরের বেশ কিছু জায়গা জুড়ে জ্বলছে ক্যান্ডেলও। নিশান তাকালো আল্পনার দিকে। কোনো অনুভূতি তৈরী হচ্ছে না। কিন্তু কেমন যেন লাগছে।
“কিছু বলবে?”
নিশান নির্লিপ্ত গলায় বলে,
“গুড নাইট। “
***
“এখানে? এই সময়? ঠান্ডা লাগছে না?”
কাজরী বসে ছিলো পুলসাইডে। ইশান গা ঘেঁষে বসলো। কাজরীর হাতের উপর হাত রেখে বলল,
“আর ইউ ওকে নাউ?”
কাজরী তাকালো ইশানের চোখের দিকে। মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।
“মনে হচ্ছে না। তুমি আপসেট থাকলে আমার গিল্টি ফিলিং হয়। “
কাজরীর ভ্রু কুঞ্চিত হয়। বলে,
“গিল্টি ফিলিং? কেন?”
“আই ডোন্ট নো। কাজরী আমি তোমাকে আগেও বলেছি যে তোমাকে ঠিক করতে হবে, তুমি কী চাও, আর তুমি কী চাও না। “
“আমি পানপাতা নেকলেস টা আল্পনাকে দিয়েছি ইশান। “
ইশান তাকালো। কাজরী মৃদু হেসে বলল,
“তোমার জেনে ভালো লাগবে বলে জানালাম।”
ইশান শক্ত করে ওর হাত ধরলো। কাজরী তাকিয়ে আছে নীল জলের দিকে একদৃষ্টিতে। ভুল করেও চোখের পলক ফেলছে না। বিন্দু বিন্দু নোনাজল এসে জমা হচ্ছে বৃষ্টির ফোটার মতো ঝরবে বলে।
****
আল্পনা ঘুমায় নি। হাত বাড়িয়ে ফটোফ্রেমটা ছুঁয়ে দিলো। আল্পনা চোখ বন্ধ করে। ফিরে যায় কয়েকমাস আগের স্মৃতিতে। সাইকোলজিস্ট এর চেম্বারে। সন্ধ্যে সাতটার এপোয়েন্টমেন্ট। সাইকোলজিস্ট এর প্রশ্ন
“আল্পনা আপনি ছোটবেলার মেমোরিজ মনে করার চেষ্টা করুন। আপনার বাবার সঙ্গে সময় কিভাবে কাটতো?”
“যতটুকু মনে পড়ে বাবা আমাদের সময় দিতেন খুব কম। আমাদের একসঙ্গে বেড়াতে যাবার স্মৃতি নেই, ভালো কোনো স্মৃতি মনে পড়ে না। মা অসুস্থ, বাবা ব্যস্ত মানুষ। তিনি সকাল থেকে রাত অবধি কাজ নিয়ে ব্যস্ত। অফিস, মিটিং, লোকজন। প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা হতো না আমাদের।”
“তোমার বোনের সঙ্গে? “
আল্পনা কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। হ্যাঁ বাবা কাজরীর খেয়াল রাখতেন। মায়ের অসুখ বাড়াবাড়ি হলে তিনি কাজরীর জন্য সচেতন থাকতেন।
“কাজরী আমার বোন নয়। ও’কে এডপ্ট করা হয়েছিল। আমি জানতাম না, কখনো মনেও হয় নি। আমরা ছোটবেলায় কিছুটা ভালো সময় কাটিয়েছি। আমি শান্ত ছিলাম আর ও ছিলো খানিকটা দুরন্ত স্বভাবের। একসঙ্গে ছবি আঁকা, টিভি দেখা এসব উপভোগ করতাম। কিন্তু মা কাজরীকে অপছন্দ করতেন। এই বিষয়টার প্রভাব আমাদের মধ্যেও পড়ে। বাবাও কাজরীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আলাদা করে দেন। “
“আল্পনা আপনি একটু খেয়াল করুন তো। এমন কী কখনো মনে হয়েছে যে বাবা আপনার সঙ্গে একটু বেশিই রুড?”
আল্পনা ভেবে জানায়,
“না। তবে কাজরীকে তিনি একটু বেশি ভালোবাসতেন আমার থেকে। যখন আমি জানতে পারি কাজরী আমার নিজের বোন না, তখন আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। “
সাইকোলজিস্ট এর প্রশ্ন বন্ধ হয়। আল্পনা ফোনের কাঙ্খিত টেক্সট টা পেয়ে বেরিয়ে যায়। লিফট থেকে বেরিয়ে সোজা গাড়িতে ওঠে। ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা ব্যক্তিটি জানায়,
“গাড়ি কোথাও থামবে না আল্পনা। গাড়ি চলা অবস্থায়ই আমরা কনভার্সেশনগুলো চালিয়ে নেব। “
“কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। কেন আমি এখানে আসি, আর এই সাইকোলজিস্ট কেনই বা ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করছে। “
“এটা ওনার ট্রিটমেন্ট এর ধরন। “
“আমাকে প্লিজ একটু ক্লিয়ার করে বলবেন আপনি আসলে কী চাচ্ছেন? “
“সব ক্লিয়ার হবে। তার আগে তোমাকে কিছু কাজ করতে হবে। তোমার বাবার কিছু ডকুমেন্টস আমার প্রয়োজন। অনেক পুরোনো ডকুমেন্টস কোথায় থাকে তোমার জানা আছে? আমার ধারণা ওগুলো লকার কিংবা অন্য কোথাও নেই। তিনি যেখানে থাকেন সেখানেই আছে। “
আল্পনাকে দ্বিধাগ্রস্ত দেখায়। বলে,
“বাবা কখনো চাবিরগোছা হাতছাড়া করেন না। “
“ডুপ্লিকেট চাবির ব্যবস্থা করতে হবে। কাজটা তুমিই করবে। তোমাদের কোনো হেল্পিং হ্যান্ডকে দিয়ে করানো যাবে না। তুমি ভেবে বের করো যে কিভাবে করবে। “
আল্পনাকে বিভ্রান্ত দেখায়৷
“আল্পনা লিসেন, তোমার বাবার আচরণ স্বাভাবিক না। খুব অস্বাভাবিক আচরণ তিনি তোমার সঙ্গে করছেন। একজন বাবার মেয়ের প্রতি স্বাভাবিক যে কনসার্ন থাকে সেটা তার মধ্যে নেই। তুমি ব্যাপার টা বোঝার চেষ্টা করছ না সামহাউ। “
আল্পনা স্তম্ভিত হয়। অপ্রস্তুত গলায় বলে,
“বাবা কাজরীকে বেশী ভালোবাসে….
“তার সবচেয়ে বেশী কনসার্ন থাকবে তোমার জন্য। জাস্ট লুক এট ইউ আল্পনা। “
“আমি…. আমি… আমি আখতারউজ্জামান এর মেয়ে নই?”
ইশান গাড়ি থামিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“এটাই জানতে হবে। প্রমাণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তোমাকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করছেন আখতারউজ্জামান। কাজরীকে চৌধুরী প্যালেসে পাঠাতে যে গুটির চালটা দরকার ছিলো সেটার যথাযথ ব্যবহার করেছেন তোমাকে দিয়ে। “
আল্পনা বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে ছিলো।
চলবে…..
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ১১
-
কাজরী পর্ব ১৯
-
কাজরী পর্ব ৪৮
-
কাজরী পর্ব ৪৪+৪৫
-
কাজরী পর্ব (৩০+৩১)
-
কাজরী পর্ব ৩৬+৩৭
-
কাজরী পর্ব ৩৮
-
কাজরী পর্ব ২৫
-
কাজরী পর্ব ১০
-
কাজরী পর্ব ১২