#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৮৪]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
(
দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(
কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
[দ্বিতীয় খন্ড]
মাত্র বাংলাদেশে পা রেখেছে আফরিদ এহসান। সবটাই কেমন বদলে গেল। আকাশে তখনো প্লেনের ডানার শব্দের রেশ, আর রানওয়ের ওপর ভেসে আছে আগমনের ভারী নিঃশ্বাস। সেই নিঃশ্বাস চিরে নামল আফরিদ নিজের একগুঁয়ে জেদের মতোই দৃঢ়, নিঃশব্দ অথচ প্রবল উপস্থিতিতে।
জেটের সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় তার কালো স্যুটটা হালকা বাতাসে দুলে উঠছিল। দুই পাশের কোনাগুলো টেনে এক ঝটকায় বাটন লাগিয়ে নিল সে ভঙ্গিটা এতটাই স্বাভাবিক, অথচ তাতে ছিলো অদ্ভুত এক ক্ষমতার ছাপ। যেন সে শুধু মাটি ছুঁয়েই নয়, চারপাশের পরিবেশটাকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলছে। সে রাজা, মহারাজ। তার হাতের মুঠোয় দেশের সবকিছু। ক্ষমতা সে দেখাবে না তো আর কে দেখাবে?
তার ঠিক পেছনে ঈশান, ইদ্রান দুজনেই নীরব, কিন্তু চোখে সতর্কতার রেখা স্পষ্ট। আর তাদের চারপাশে কালো পোশাকে মোড়া গার্ডদের দল, যেন চলন্ত এক প্রাচীর যার ভেতরে বন্দী নয়, বরং সুরক্ষিত এক বিপজ্জনক কেন্দ্রবিন্দু।
হেঁটে যেতে যেতে আফরিদ ফোনে কিছু একটা করল। স্ক্রিনের ক্ষীণ আলো তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য ঝলসে উঠল, তারপর ফোনটা বাড়িয়ে দিল ইদ্রানের দিকে। ইদ্রান তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড, তারপর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক তৃপ্তির হাসি যেন কোনো অদৃশ্য পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সফল হয়েছে।
এরই মধ্যে দূর থেকে শোনা গেল গাড়ির ইঞ্জিনের গর্জন “বোম, বোম।” শব্দ তুলে চারটি গাড়ি এসে থামল একসাথে। প্রথম গাড়িটা রোলস রয়েস তার গাঢ় চকচকে বডিতে চারপাশের আলোকে গিলে খাচ্ছে।
একজন গার্ড এগিয়ে এসে দরজা খুলে ধরতেই কোনো কথা না বলে ভেতরে উঠে বসল তারা। সামনে ড্রাইভারের পাশে ঈশান, পেছনের আসনে আফরিদ আর ইদ্রান নীরবতা যেন তাদের ভাষা, আর চোখের দৃষ্টিই নির্দেশ। আফরিদ হঠাৎ গম্ভীর মুখ করে বসে আছে।
গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল। শহরের ব্যস্ততা, আলো, মানুষের ভিড় সবকিছু পেছনে পড়ে যেতে লাগল।
তাদের গন্তব্য এহসান মঞ্জিল। প্রিয় বউটাকে কতদিন মনস্টার দেখে না।আর না ছুঁতে পারে। তার স্নিগ্ধ আদল আঁজলায় তুলে অসংখ্য চুম্বন আঁকতে পারেনা কতদিন। কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতর বন্দী পাখিটি ছটফট করে উঠে।
“ইস্ক্রিয়াসকে কি শুধুমাত্র রাইসার জন্য ছেড়ে দিলি আফরিদ?”
গাঢ় এই নিরবতা ভেঙ্গে কথাটা বলল ইদ্রান। আফরিদ হালকা হেসে বলল,
“ওটা ওর জন্য সতর্কবাণী ছিলো। পরের বার ডিরেক্ট মৃ’ত্যু।”
ইদ্রান বাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আফরিদের দিকে। অথচ মানুষটার মুখাবয়বে বিন্দুমাত্র ভাবান্তর নেই। পাথরে খোদাই করা মুখশ্রী; তার অন্তর্লীন অনুভূতির সামান্যতম রেখাও পাঠ করা দুঃসাধ্য।
রাইসা আবারও বার্সেলোনায় ইস্ক্রিয়াসের সঙ্গে অবস্থান করছে। ব্যাপারটি ইদ্রানের একেবারেই মনঃপূত হচ্ছে না। ওই ইন্সপেক্টরকে বিশ্বাস করার মতো উদারতা তার অন্তরে নেই। কিন্তু আফরিদ যখন নিজেই সবকিছুকে এতখানি প্রশ্রয় দিচ্ছে, নিশ্চয়ই এর অন্তরালে কোনো সুদূরপ্রসারী কারণ রয়েছে। আফরিদের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে কারণ থাকে তা সে যতই দুর্বোধ্য হোক।
অন্যদিকে ঈশান বেশ কিছুক্ষণ ধরেই অস্থিরভাবে নড়াচড়া করছিল। যেন কোনো একটি সংবাদ তার কণ্ঠনালিতে এসে আটকে আছে, বেরোবার পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ড্রাইভিং সিটের পাশের আসনে বসে অবশেষে সাহস সঞ্চয় করল সে।
“ব…বস, একটা কথা ছিল!”
আফরিদ ভ্রু সামান্য কুঞ্চিত করল।
“তুই কি মেয়ে? এমন কাঁপা কাঁপা গলায় কথা বলছিস কেন?”
আফরিদের নির্লিপ্ত ঠাট্টায় ইদ্রানের মুখেও অনিচ্ছুক হাসির রেখা ফুটে উঠল।পরক্ষণেই আফরিদের কণ্ঠে ফিরে এলো স্বভাবসিদ্ধ কঠোরতা।
“যা বলার, বল।”
ঈশান শুকনো ঢোক গিলল। কীভাবে সংবাদটা উপস্থাপন করবে, সেটাই যেন তার কাছে এক দুরূহ ধাঁধা। তিতলির কাছ থেকে পাওয়া খবরটি যে নিছক কোনো সংবাদ নয় একেবারে বজ্রাঘাতের সমতুল্য।
কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে তার।
“ইয়ে… মানে বস, আসলে,,,,
আফরিদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল।
“এই জাউরার জাউরা, আসল-নকল বাদ দিয়ে সরাসরি পয়েন্টে আয়। নইলে গুলি করে দেব।”
ঈশান প্রায় লাফিয়ে উঠল। আর এক মুহূর্তও ভূমিকা টানার সাহস হলো না।
“আসলে… আসলে ইলহাম ম্যাম প… প্রেগন্যান্ট!”
শব্দগুলো গাড়ির আবদ্ধ পরিবেশে প্রতিধ্বনিত হওয়ার আগেই যেন সময় থমকে গেল।আফরিদের মুঠোবদ্ধ হাত থেকে ফোনটি নিঃশব্দে ফসকে পড়ল গাড়ির মেঝেতে।
মানুষটা স্থির,সম্পূর্ণ স্থির চোখের পাতা পর্যন্ত যেন নড়তে ভুলে গেছে।
“কি… বললি?”
কণ্ঠস্বরটি এত নিচু যে তাতে বিস্ময়ের চেয়ে অবিশ্বাসই বেশি স্পষ্ট। ঈশান পেছন ফিরে তাকাল। ইদ্রানের মুখেও ইতোমধ্যে বিস্ময়ের জমাট ছাপ। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে মানুষটি কথার তীক্ষ্ণতায় সবাইকে কোণঠাসা করে রাখছিল, সেই আফরিদ এহসান এখন যেন নিজের অস্তিত্বের সঙ্গেই যুদ্ধ করছে।
ঈশান পুনরায় বলল,
“ম… ম্যাম প্রেগন্যান্ট। তিতলি আমাকে জানিয়েছে,,,
বাক্যটি সম্পূর্ণ করার আগেই আফরিদ দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস টেনে নিল। তার বউ,তার অ্যাঞ্জেলিনা প্রেগন্যান্ট?
তার ভেতরে আরেকটি প্রাণ বেড়ে উঠছে? বারবার একই শব্দ মস্তিষ্কের ভেতর প্রতিধ্বনিত হতে লাগল প্রেগন্যান্ট। প্রেগন্যান্ট। প্রেগন্যান্ট।
হঠাৎ করেই তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো। চারপাশের সমস্ত দৃশ্য যেন কুয়াশার আবরণে ঢেকে গেল। বুকের গভীরে অচেনা এক আলোড়ন আছড়ে পড়ল।
আফরিদ এহসান যে মানুষটি মৃ’ত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও চোখের পাতা ফেলে না, যে র’ক্ত দেখেও যার স্নায়ুতে সামান্যতম কম্পন জাগে না সেই মানুষটির চোখ এবার অদৃশ্য আবেগে ধীরে ধীরে বুজে এলো। তার অজান্তেই ঠোঁট কেঁপে উঠল।
“আমার… বাচ্চা?”
জ্ঞান ফিরতেই প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না আফরিদ এহসান।
চোখের পাতায় ভারী ক্লান্তি। মাথার ভেতরটা যেন এখনও কুয়াশায় আচ্ছন্ন। কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ধীরে দৃষ্টি পরিষ্কার হতেই সাদা ছাদের দিকে চোখ আটকে গেল।
হাসপাতাল। ডান হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা। বক্ষদেশে ব্যান্ডেজ। পাশে কয়েকটি মনিটর, আর সেই মনিটরের নিরবচ্ছিন্ন বিপ্,বিপ্ শব্দ।
কিন্তু এসবের চেয়েও অস্বস্তিকর দৃশ্য ছিল সামনে।চার-পাঁচজন ডাক্তার একেবারে তটস্থ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। কারও হাতে রিপোর্ট, কেউ আবার বারবার মনিটরের দিকে তাকাচ্ছে। এমনকি একজন নার্সও এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যেন আফরিদ এহসান হঠাৎ উঠে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দিতে পারে।
বিশ্বখ্যাত বিজনেস টাইকুন, অন্ধকার জগতের দুর্ধর্ষ মানুষ আজ হাসপাতালের বেডে অচেতন হয়ে পড়েছিল।
তাই চিকিৎসকদের স্নায়ু টানটান থাকাটাই স্বাভাবিক হঠাৎই আফরিদের চোখ বিস্ফারিত হলো। এক ঝটকায় উঠে বসতে গিয়েই মাথা ঘুরে উঠল। নার্স ছুটে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করল।
“স্যার, প্লিজ! এখনই উঠবেন না,,,
“ঈশান কোথায়?”
কণ্ঠে এমন গর্জন যে নার্সের হাত মাঝপথেই থেমে গেল।ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান ইতস্তত করে সামনে এগিয়ে এলো।
“জি বস?”
আফরিদ র’ক্তচক্ষু মেলে তাকাল।
“এই জা’নোয়ারের বাচ্চা, কী বললি তুই?”
ঈশানের গলা শুকিয়ে গেল।
“বস, আমি আসলে,,,
“কি বললি?”
“জি… মানে…
আফরিদ বিছানার চাদর মুঠো করে ধরল।
“আবার বল! ঠিক কী বলেছিলি?”
ঈশান অসহায় চোখে পাশে দাঁড়ানো ইদ্রানের দিকে তাকাল।ইদ্রান এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল, যেন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঈশানের সঙ্গে তার কোনো পরিচয়ই নেই।ঈশান বুঝল নিজেকেই সামলাতে হবে।
শুকনো ঢোক গিলে অবশেষে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“ম… ম্যাম প্রেগন্যান্ট!”
আবারও নীরবতা। আফরিদের চোখের মণি স্থির হয়ে গেল। পরক্ষণেই মনিটরে বিপ, বিপ, বিপবিপবিপ!
হার্ট রেট আচমকা বেড়ে গেল।একজন ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে মনিটরের দিকে তাকালেন।
“স্যার, প্লিজ রিল্যাক্স করুন।”
আফরিদ যেন তার কথা শুনতেই পেল না।বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। একবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিল। তারপর আরেকবার।
“প্রেগন্যান্ট…
শব্দটা যেন নিজের কাছেই যাচাই করছে সে।
“আমার বউ… প্রেগন্যান্ট?”
ঈশান মাথা নাড়ল।
“জি বস।”
আফরিদ কয়েক সেকেন্ড নির্বাক।তারপর হঠাৎ চোখ কুঁচকে গেল।
“গাদ্দার নারী…
ইদ্রানের ভ্রু উঠে গেল। আফরিদ বুকের ওপর হাত রেখে অত্যন্ত আহত গলায় বলল,
“বেইমান নারী!”
ঈশান হতভম্ব।
“কিন্তু বস,,,
“আবার বেইমানি করল!”
ডাক্তাররা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। একজন সাহস করে বললেন,
“স্যার, এটা তো, ভালো খবর।”
আফরিদ তার দিকে তাকাল।
“ভালো খবর?”
ডাক্তার মাথা নাড়লেন।
“জি। আপনি বাবা হতে চলেছেন।”
আফরিদের চোখে আবার সেই বিস্ময়।
“বাবা?আমি বাবা…
কণ্ঠটা এবার আশ্চর্য রকম নরম। পরক্ষণেই তার মুখে এমন এক হাসি ফুটে উঠল, যেন পৃথিবীর সমস্ত সাম্রাজ্য এক মুহূর্তে তার পায়ের নিচে এসে পড়েছে।কিন্তু আনন্দের সেই আবেশ স্থায়ী হলো না।
হঠাৎ ভ্রু কুঁচকে গেল।
“তাহলে আমাকে জানায়নি কেন?”
কেউ উত্তর দিল না।আফরিদ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল।
“আমার বউ আমার থেকে আমার নিজের বাচ্চার খবর লুকিয়েছে?”
ঈশান মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।ইদ্রান কষ্টে হাসি চেপে রাখছে।আফরিদ আবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস টানল।
“গাদ্দার নারী…
তারপর চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করল,
“এত বড় গোপন কথা লুকিয়ে রাখল আমার কাছ থেকে!”
একজন ডাক্তার ইতস্তত করে বললেন,
“স্যার, আপনার এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত উত্তেজিত হলে,,,
আফরিদ চোখ খুলে তাকাল।
“ডাক্তার…
“জি,স্যার?”
“আমার বউ প্রেগন্যান্ট।”
ডাক্তার মৃদু হেসে বললেন,
“জি স্যার, আমরা সেটাই বলছি।”
আফরিদ কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে আবার ফিসফিস করল,
“আমার বাচ্চা…
চোখের কোণে অদৃশ্য এক কোমলতা নেমে এলো তারপরই হঠাৎ মুখ বিকৃত করে বলল,
“কিন্তু ওই বেইমান নারী আমাকে কিছুই জানায়নি!”
ঈশান এবার আর মুখ সামলাতে পারল না। মুখ ফিরিয়ে চাপা হাসি দিল। আফরিদের চোখ পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে হাসি বন্ধ।
“তুই হাসছিস?”
“না বস!”
“দাঁত দেখা যাচ্ছে কেন?”
“স্যরি বস!”
ইদ্রান এবার আরেক দিকে তাকিয়ে ফেলল। কিন্তু ঠিক তখনই আফরিদের মুখের রং আবার ফ্যাকাশে হয়ে এলো।
“আমার… একটা বাচ্চা…
কণ্ঠটা দুর্বল হয়ে গেল।
ডাক্তাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই,বিপ শব্দ হলো, আফরিদের চোখ বুজে এলো।
“স্যার!”
ধপ করে আবার বালিশের ওপর মাথা পড়ল তার। সবাই স্তব্ধ। ঈশান হাঁ করে তাকিয়ে রইল। ইদ্রান কপালে হাত ঠেকাল।একজন ডাক্তার দ্রুত পালস পরীক্ষা করতে করতে বিড়বিড় করলেন,
“এটা দ্বিতীয়বার হলো, তাই না?”
অন্য ডাক্তার গম্ভীর মুখে মাথা নাড়লেন।
“জি।”
প্রথম ডাক্তার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“নিজের স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির খবর শুনে দুবার অজ্ঞান হওয়ার রেকর্ডও বোধহয় আমাদের হাসপাতালে এই প্রথম।”
ঈশান মুখ নিচু করে ফিসফিস করল,
“বসের বাচ্চা আসছে খবরটা বোধহয় উনি বোধহয় নিতে পারেননি।”
ইদ্রান কটমট করে তাকাল।
“চুপ কর। আবার জ্ঞান ফিরলে তোকে আগে গু’লি করবে।”
ঈশান সঙ্গে সঙ্গে মুখ বন্ধ করল।অন্যদিকে আফরিদ এহসান সম্পূর্ণ অচেতন।ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ এক হাসি।
যেন অচেতনতার মধ্যেও একটিই কথা তার সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সে বাবা হতে চলেছে।
প্রকৃতি আজ বড্ড উন্মাদ। ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা অঝোরে ঝরে পড়ছে।
কিছুক্ষণ আগেও যে প্রকৃতি রোদ্দুরে খাঁ খাঁ করছিল, ধুলোর স্তরে ঢেকে ছিল ক্লান্ত আর শুষ্ক সেই প্রকৃতিই এখন ধুয়ে-মুছে একদম নতুন রূপে সেজে উঠছে। গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ঝিকমিক করে উঠছে, যেন সবুজের বুকে ছড়িয়ে পড়েছে অগণিত মুক্তোর মালা। হঠাৎ দমকে ওঠা ঝোড়ো হাওয়া যেন প্রকৃতির উচ্ছ্বাসে যোগ দিচ্ছে আরেকটি বুনো ছন্দ।
চারিদিক আবারো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। শুকনো মাটি ভিজে নরম হয়ে উঠছে, ক্লান্ত ডালপালা সজীবতায় ভরে উঠছে, আর আকাশ যেন তার সমস্ত জড়তা ঝেড়ে ফেলে উজাড় করে দিচ্ছে আপন স্নেহধারা। পরণে নীল জমিনের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘের মিশ্রণে একটি গোল জামা জড়িয়েছে ন্যান্সি। চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া এলোমেলো ভাবে। সদ্য শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসেছে সে। ক্লান্ত মেয়েটা। গত কয়েকটা রাত ঠিকমত ঘুমোতে পারেনি।তার উপর আফরিদের গু’লির খবরটা শোনে আরো ঘুম হয়নি। চিন্তায় চিন্তায় রাতের আঁধারে হুহু করে কেঁদেছে। মুখ চেপে কেঁদেছে যাতে কেউ শুনতে না পায়। ক্লান্ত পায়ে ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে এগিয়ে চলেছে ন্যান্সি। কিছুটা এগুতেই দেখতে পেলো তিতলি, স্মাইলি, কল্পনা এবং কি কিছুটা দূরে মাইমুনা এহসান দাঁড়িয়ে আছে। ন্যান্সি বুঝলো না তারা হঠাৎ এভাবে একত্রে দাঁড়িয়ে আছে কেন?
তিতলির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেই দেখল মেয়েটা মিটিমিটি হাসছে।
ন্যান্সি থমকালো, বুকের ভেতর ধক করে উঠল তার। জুতোর শব্দ তুলে ধীর গতিতে একটা মানুষ এগিয়ে আসছে। চিরচেনা মুখশ্রী। সেই মুখ, গম্ভীর ছাপ। ন্যান্সি নিঃশ্বাস নিতেই বুঝি ভুলে গেল তাকে দেখে।
আফরিদ এহসান তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।কালো স্যুট পরণে। তার পিছনে বাকি পরিচিত মুখগুলো একে একে স্পষ্ট হচ্ছে।
ন্যান্সি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তিতলি তখনো মুচকি মুচকি হাসছে।
আফরিদ অপলক চেয়ে দেখল স্নিগ্ধ মুখশ্রী। যাতে লেপ্টে আছে ক্লান্তির ছাপ। এলোমেলো ভেজা চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। একটা মেয়ে এতটা আদুরে কেন হবে তা বুঝতে পারেনা মনস্টার মাফিয়া। মেয়েটার প্রতি এই মুগ্ধতা আফরিদের এই জীবনে বোধহয় শেষ হবেনা।
আফরিদ রয়ে সয়ে ন্যান্সিকে দেখছে। দৃষ্টি তার নেমে এসেছে ন্যান্সির উদরে।ওই ছোট্ট টাম্মিতে কি আছে?
তিতলি, স্মাইলি,মাইমুনা এহসান কি সত্যি বলেছে তাকে?
“ওরা যা বলছে তা কি সত্যি?”
ন্যান্সির হৃদয় ক্রমশ বেগতিক হচ্ছে। মেয়েটা কাঁপছে। জড়ানো কন্ঠে বলে।
“ক..কী বলছে?”
আফরিদ এক পা এগুতেই ন্যান্সি দু পা পিছিয়ে গেল। আফরিদ ভেতরে ভেতরে হাসলো।
ন্যান্সি আমতা আমতা করে অস্থির হয়ে উঠে,
“ও..ওরা.. ওরা মিথ্যে বলছে। স..সব মিথ্যে!”
আফরিদ হালকা ওষ্ঠো বাঁকালো। স্তিমিত স্বরে বলল,
“কিন্তু রিপোর্ট যে অন্য কথা বলছে!”
রিপোর্টের কথা শ্রবণন্দ্রিয়ে গলিয়ে ধাক্কা দিলো অন্দর মহলে। ভয়ে আড়ষ্ট হলো বক্ষঃস্থল।
“আনসার মি?”
বুকের ভেতর ধকধক করছে ন্যান্সির।সে ধীর গতিতে পিছুতে লাগলো। আফরিদ ধুমধাম পা ফেলে এগুতে দেখে ন্যান্সি সহসা পিছুতে লাগল। ভয়ে আমতা আমতা করে বলল,
“আ.. আপনি এগুচ্ছেন কেন?”
আফরিদ নির্বিকার,
“কি হলো এভাবে এগুচ্ছেন কেন?”
ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল মনস্টার মাফিয়া।
ভরাট কন্ঠে ছুড়ে দিল,
“তুই পিছিয়ে যাচ্ছিস কেন?”
আফরিদ এতটা দ্রুত এগুচ্ছে দেখে পিছন ফিরে দৌড় দিল ন্যান্সি। ঘটনা প্রবাহ এতটাই তাড়াতাড়ি ঘটল যে কেউ কিচ্ছুটি বলতে অবধি পারল না। এদিকে ন্যান্সিকে এমনভাবে দৌড়াতে দেখে মেজাজ খিঁচল আফরিদের।
“স্টপ অ্যাঞ্জেলিনা। এমন করিস না।”
ন্যান্সি বুঝলো না আফরিদ কেন তাকে থামতে বলছে। মেয়েটা কোনোরকমে রুমের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস টানছে। হৃৎপিণ্ড বেগতিক ভাবে নিজের কার্য চালিয়ে যাচ্ছে।
“দরজা খুল,বউ। খুল দরজাটা।”
দরজায় রীতিমতো থাপ্পড়িয়ে চলেছে মাফিয়া।অথচ ন্যান্সির নাম গন্ধ নেই তা খোলার।
“খুল বলছি! দরজাটা খুল!”
ন্যান্সি কোনো রকম প্রত্যুত্তর করলো না। মিনিট দশেক পরেই ন্যান্সি আর কোনো সাড়া শব্দ পেলো না। তারমানে আফরিদ চলে গেছে বিরক্ত হয়ে। অন্দর মহলের কোথাও ভয়ের দানা বাঁধছে,সেই ভয় থেকেই দরজা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়ালো কন্যা। হাফ ছেড়ে বাঁচার ন্যায় নিঃশ্বাস টানতেই পিছন ফিরল। দেয়ালে হেলান দিয়ে দুহাত ভাঁজ করে অপ্রিয় হৃদয়হীন পুরুষটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওখানেই বরফের মতো জমে গেল ন্যান্সির শীর্ণ তনু।
“আ.. আফরিদ!”
পিঠের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ালো এহসান। ঘাড় বাঁকিয়ে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“সামান্য দরজা আমাকে তোর কাছে আসা থেকে বাধা দেবে? হোয়াট আ ফুলিশ লেডি।”
শুষ্ক ঢোক গিলল ন্যান্সি।এক গ্লাস পানি প্রয়োজন তার। গলাটা মরুভূমির ন্যায় খরখরে হয়ে আসছে।
“এমন করছেন কেন হুঁ?”
আফরিদ বিনা বাক্যব্যয়ে এগিয়ে এলো রমনীর নিকটে। ডান হাত আঁকড়ে ধরে লতানো কোমর এবং বাঁ হাতের আস্তরিণে আঁকড়ে ধরে সিল্কি চুলগুলো। হিমশীতল কন্ঠে বলে উঠে,
“তুই প্রেগন্যান্ট না?”
“না।”
অকপটে বলে ওঠে ন্যান্সি। আফরিদ ঠোঁট কামড়ে কিয়ৎক্ষণ তার মুখের দিকে চেয়ে রইল তারপর বলল,
“ওকে, তাহলে আমি প্রেগন্যান্সি কিট আনাচ্ছি। আমি চেক করব।”
বুকের ভেতর ছলকে উঠে কন্যার। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,
“মা.. মানে?”
“মানে আমি এখুনি প্রেগন্যান্সি কিট আনাচ্ছি। তিতলি….এই তিতলি তাড়াতাড়ি এসো।”
তিতলিকে ডাকতে দেখে ন্যান্সি স্যুটের কলার খামচে ধরল আফরিদের। টেনে আনে নিজের সন্নিকটে। দু’জনের নিঃশ্বাস একই ছন্দে চলছে। কিঞ্চিৎ রাগ দেখিয়ে বলল,
“আমি বললাম তো, আপনি মোটেও এমন করবেন না ফাজিল লোক।”
আফরিদ ওই ছোট্ট মুঠো থেকে কলার ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“আমি চেক করব বললাম না?”
লজ্জায় চিবুক লাল হয়ে এলো কন্যার।ন্যান্সি রিনরিনে গলায় বলল,
“প্রয়োজন নেই। রিপোর্ট যা বলছে সত্যি।”
বরফের ন্যায় জমে গেল আফরিদ। চকিতে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকালো মেয়ের আদলে। আফরিদ চুল টেনে ধরে নিজের।এদিক সেদিক পায়চারী করছে। শরীরটা বড্ড দুর্বল তার। হসপিটাল থেকে স্যালাইন টেনে খুলে এক রকম হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছে। ধপ করে বসল কাউচের উপর। দৃষ্টি মুদিয়ে কপালের একপাশে বুড়ো আঙ্গুল ঘষে। এই ছোট্ট টাম্মিতে তার বাচ্চা আছে? অবিশ্বাস্য।
ফের দৃষ্টি মেলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো সম্মুখের গাদ্দার নারীর দিকে।
ধারালো কন্ঠে আওড়ালো।
“আমার সন্তানের মা হতে চলেছিস অথচ আমি জানি না!এত বড় কথা আমার থেকে লুকানোর অপরাধে কি তোর দন্ড পাওয়া উচিত নয়?
“কেন মনে হলো আপনার জানার অধিকার আছে?”
একের পর এক দুঃসাহস দেখিয়ে চলেছে ন্যান্সি।তার অকপটে বলা কথাটা শক্ত বক্ষে আঘাত হানে। কন্যা এতটা নির্দয়, নিষ্ঠুর হয় বুঝি?তারা তো কোমল মনের অধিকারী।তবে কেন তার স্ত্রী স্বরূপ নারী এতটা নিষ্ঠুর?
আফরিদ আচমকা তীর্যক হেসে বলে,
“বড় নিষ্ঠুর তুমি নারী। আমার নামে কবুল পড়ে, আমার সন্তানের জননী হয়ে আমাকেই বলছো জানার অধিকার নেই?নারী তুমি ভয়ংকর সত্তা।”
আফরিদ নিজের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে মেয়েটাকে। চোখ বুঁজে শান্তির নিশ্বাস ফেলল।
“অ্যাঁই, তোকে এখন যদি আমি একটু আদর করি তাহলে কি ক্ষতি হবে?”
“আলবাত হবে” কথাটা বলার সুযোগ পেলো না। তুলতুলে গোলাপী আভায় রাঙানো ওষ্ঠো জোড়া সিগারেট খাওয়া ঠোঁট দুটি টেনে নেয় আপন ভাঁজে। বড্ড যত্ন নিয়ে গভীর চুমুতে মত্ত হয়।
এক ধাক্কায় ফেলে দেয় বিছানায়, অতঃপর কন্যাকে বিরোধীতা করার সুযোগ টুকু লুফে নেয় যুবক।
রকিং চেয়ারে বসে চিন্তিত ভঙ্গিতে এদিক ওদিক মাথা দোলাচ্ছে মিখাইল।
ভেতরটা যেন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়েছে সবকিছু এলোমেলো, বিশৃঙ্খল। এতদিন ধরে যাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছে, যাকে অচেনা এক আগন্তক ভেবে বিশ্বাস করেছিল , সেই মানুষটিই যে আসলে ছদ্মবেশী এক মাফিয়া এই সত্যটা মিখাইলের মনে যেন বি’ষের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। সামনে থেকেও প্রতারণা! বিশ্বাসের আবরণ ছিঁড়ে এভাবে ঠকানো এ যেন নিজের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তারপরও সে থামেনি। নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা এক নিখুঁত ছক সবকিছুই সাজিয়েছিল হিসেব কষে। কিন্তু ভাগ্য যেন আজ তার বিপরীতেই দাঁড়িয়ে। শার্প শ্যুটার ব্যর্থ। গু’লির লক্ষ্যভ্রষ্টতা যেন তার সমস্ত পরিকল্পনাকেই উপহাস করেছে। আর সেই মানুষ মাফিয়া এখনও বেঁচে আছে, শ্বাস নিচ্ছে, যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
চিন্তার গভীর জটিলতা ভেঙে হঠাৎই বেজে উঠল ফোনের কর্কশ শব্দ। নিস্তব্ধ ঘরের মধ্যে সেই রিংটোন যেন অশনি সংকেতের মতো কানে বাজল। মিখাইল ধীরে ধীরে দৃষ্টি ফেরাল কাঁচের টেবিলের ওপর রাখা ফোনটির দিকে। চোখদুটো সূচালো, তীক্ষ্ণ যেন পর্দার ওপারটাকেও ভেদ করে দেখতে চায়।
সে জানে, কে কল করেছে।
অদ্ভুত সেই নারী রহস্যে মোড়া, ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের খেলোয়াড় যে বছরের পর বছর ধরে এই বিপজ্জনক খেলায় তার সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। সম্পর্কের নাম নেই, তবুও এক অদৃশ্য টান তাদের বেঁধে রেখেছে বিশ্বাস আর বি’শ্বাসঘাতকতার মাঝামাঝি কোথাও। মিখাইল কল রিসিভ করল।
“হ্যালো?”
ওপাশ থেকে ভেসে এলো কটাক্ষমাখা কণ্ঠ শীতল, ধারালো।
“কেমন শার্প শ্যুটারকে পাঠিয়েছিলে? যে কিনা গু’লিটা ঠিকমতো বুকেই বসাতে পারল না?”
কণ্ঠের তাচ্ছিল্যে মিখাইলের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। বিরক্তি যেন ধীরে ধীরে রাগে রূপ নিচ্ছে। কপালের ভাঁজগুলো আরও গভীর হলো, কিন্তু চোখে জ্বলে উঠল এক অদ্ভুত স্থিরতা।
সে ঠাণ্ডা স্বরে, রাশিয়ান ভাষায় বলল,
“তাহলে তুমিই চলে যেতে। থেকেও তো কিছুই করতে পারোনি।”
কথাগুলো যেন ছু’রি হয়ে কেটে গেল নীরবতার বুকে সেই আগুন্তক নারীর।
“তুমি নিজের ভুলটা কেন স্বীকার করছো না, বেইবি?”
মিখাইল তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে চেয়ার ছাড়ল। হিম জড়িত কন্ঠে হিসহিসালো,
“ইডিয়ট। তুমি জানো আমি যাকে পাঠিয়েছি সে এমন একজন শার্প শ্যুটার ছিলো যার নিশানা আজ পর্যন্ত ভুল হয়নি?”
আগুন্তক নারী ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।শীতালু বাতাসের ঝাপটা এসে ছুঁয়ে গেল তার সুনিপুণ অঙ্গ।
লিপগ্লসের জেল্লা ঠোঁট জুড়ে। আচমকা ওই ওষ্ঠোদ্বয় বেঁকে এলো অদ্ভুত ভাবে।
“আমাকে চেনো না তুমি, বেবি? আমি চাইলে তোমাকেও শেষ করে দিতে পারি। জানো তো আমি কে?”
অপর প্রান্তের নারীর কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস না, আত্মবিশ্বাস নয়, যেন নিখাদ দম্ভ। কথাগুলো মিখাইলের কানে পৌঁছাতেই তার ভ্রূদ্বয় কুঞ্চিত হয়ে উঠল। চোখের দৃষ্টিতে জমাট বাঁধল বিরক্তি আর অবজ্ঞার মিশেল।
ঠাণ্ডা, ভারী কণ্ঠে সে উত্তর দিল,
“আমাকে ভয় দেখাচ্ছ? রাশিয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারকে?”
কথাগুলো উচ্চারণের ভঙ্গিতে ছিল অহংকার, ছিল নিজের শক্তির প্রতি অটল বিশ্বাস। যেন সে নিজেই এক সাম্রাজ্য, আর বাকিরা কেবল তার ছায়াতলে বসবাসরত কর্মচারী মাত্র।
ওপাশে মুহূর্তের নীরবতা। তারপরই ভেসে এলো এক চাপা হাসি কটাক্ষে ভরা, তীক্ষ্ণ, বিদ্রূপাত্মক।
“অবশ্যই, বেবি।”
নারীটি ধীরে ধীরে বলল, যেন প্রতিটি শব্দ মেপে ছুড়ে দিচ্ছে,
“তোমার ভয় পাওয়া উচিত। আফটার অল… আমার জন্যই কিন্তু…
“চুপ করো, ইউ বিচ!”
হঠাৎই বিস্ফো’রিত হলো মিখাইলের কণ্ঠ। সংযমের বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো রূঢ়তা, অশ্রাব্য রাগ। বাক্যগুলো যেন ছুটে গেল আগুনের শিখার মতো, পুড়িয়ে দিতে চাইল ওপাশের নীরবতাকে।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই নারী একটুও বিচলিত হলো না।
বরং তার কণ্ঠে ফুটে উঠল আরও গাঢ় এক নির্লিপ্ততা,
“বিচ বলো, বা যা খুশি বলো, আই ডোন্ট কেয়ার, বেবি।”
একটু থামল সে, যেন মিখাইলের উত্তেজনাটা উপভোগ করছে।
তারপর নরম, কিন্তু বিষাক্ত সুরে যোগ করল,
“আমার উপর রাগ ঝাড়ার বদলে এটা ভাবে কীভাবে মাফিয়াকে শেষ করবে। ওকে?”
মুখের উপর ফোনটা কেটে দিলো নারী। রাগে ফোনটা ছুড়ে ফেলল ফ্লোরে। কয়েক খন্ডে রূপান্তরিত হলো সেই ফোনটা।
চলবে……….
।
(
এক প্রথম বোধহয় কোনো মাফিয়া বউয়ের প্রেগন্যান্সির কথা জেনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। সেটা দেখে একটা গান মনে পড়ছে (হু তা হ্যে ক্যে,ইস্ক হু তা হ্যে ক্যে? দিওয়ানো ছে পোচলেএএএএ
!) দোষটা আমার নয়, গাদ্দার নারীটির। তারপর বলো আফরিদকে বাচ্চাটা দেখানো উচিত নাকি ন্যান্সির আত্মার মাগফেরাত কামনা করা উচিত?) See less
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭১