Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭৭


#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৭৭]

#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)

(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(দ্বিতীয় খন্ড)

আলো আঁধারে ডুবে আছে পুরো বাড়ি, ঘুটঘুটে এই অন্ধকারে যে কেউ ভয়ে সেঁধিয়ে যাবে। এই আঁধারে কেউ একজন সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। হ্যাঁ এটা ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা। আগের মতো আর অন্ধকারে ভয় পায় না। সে তো এক পুরুষকে ভয় পায়,সেই পুরুষের নাম আফরিদ এহসান। এই পুরুষ ব্যতীত ন্যান্সি কাউকে ভয় পায়না। গতকাল আফরিদকে কক্ষে আসতে দেয়নি ন্যান্সি অথচ আজকে পুরোটা দিন আফরিদ স্বভাবিক ছিলো। ন্যান্সি এক মূহুর্তের জন্য ভেবেছিল হয়তো আফরিদ রাতের সবটুকু রাগ তার উপর ঝাড়বে।

ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে নিচের দিকে অগ্রসর হতেই কিছু একটা শব্দ পেলো। কেউ একজন বেসমেন্টের দিক থেকে বেরিয়ে আসছে। আতংকে কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে রমণীর। চোখের কৌটা বড় হয়ে এলো তার। ন্যান্সি আড়াল হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। কে এটা বুঝতে পারছেনা, অবয়ব ধীরে ধীরে পা ফেলে সদর দরজার দিকে এগিয়ে চলেছে। জুতোর শব্দ হচ্ছে, এই নিরবতা ভেঙ্গে এই শব্দটুকু ভয়ংকর শোনাচ্ছে।

ফাঁকা ঢোক গিলল ন্যান্সি! বুকের ভেতর মোচড় দিচ্ছে তার। মস্তিষ্ক জুড়ে একটা নামই ঘুরপাক খাচ্ছে ‘আফরিদ এহসান ‘এটা কি সত্যি আফরিদ নাকি অন্য কেউ? ন্যান্সি ভেতরের উত্তেজনা চাপতে না পেরে দ্রুত পায়ের জুতো জোড়া খুলে হাতে নিলো। পিছু নিলো অবয়বের ।সে দেখতে চায় কে এই পুরুষ নাকি নারী?

অবয়ব ধীরে ধীরে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল। ন্যান্সি তৎক্ষণাৎ তর পিছু নিলো।

মঞ্জিলের বিশাল ফটক পেরিয়েই ন্যান্সির বুকের ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত এক শীতল স্রোত নেমে আসে। রাতটা যেন আজ অন্যরকম নিঃশব্দ, তবু অস্বস্তিকরভাবে জেগে থাকা। কুয়াশার ধোঁয়াটে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে এক ছায়ামূর্তি। স্থির। নির্বাক। অপেক্ষমাণ।

ন্যান্সির চোখ প্রথমে গিয়ে থামে পায়ের দিকে। পায়ে মেয়েলি জুতো জোড়া পরা। চিকন, মসৃণ পায়ের রেখা। না, এ কোনো পুরুষ নয়। এ এক নারী!

হৃদপিণ্ডটা ধক করে ওঠে। রক্ত যেন কানে এসে বাজতে থাকে। মস্তিষ্কের ভেতর ঝড় তোলে চারটি নাম কল্পনা, তিতলি, স্মাইলি আর মাইমুনা এহসান। তাদের মধ্যে একজন? তাহলে এতক্ষণ যে ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছিল এই মঞ্জিলে, সে কি তাদেরই কেউ?

কৃষ্ণবর্ণের আচ্ছাদনে মোড়া অবয়বটি নিঃশব্দে পেছনের ফটকের দিকে এগোয়। তার চলাফেরায় অদ্ভুত নিপুণতা। ন্যান্সি আর অপেক্ষা করে না। সন্দেহ আর আতঙ্ক মিশে তার ভেতরে এক তীব্র তাড়না তৈরি করে। দ্রুত পা বাড়ায়। তারপর প্রায় দৌড়।

কিন্তু ফটক পেরোতেই অবয়বটি মিলিয়ে যায়। যেন রাত তাকে গিলে ফেলেছে।

মেইন রোডে এসে দাঁড়িয়ে ন্যান্সি হাঁপাতে থাকে। চারদিক শুনশান। বাতাসে শুকনো পাতার খসখস শব্দ। দূরে বিশাল জঙ্গল যে পথ ধরে কেউ যায় না, কেউ আসে না। মঞ্জিলের চারপাশে পাহারাদার আছে, তবু এই নির্জনতা যেন ষড়যন্ত্রের মতো।

ন্যান্সির ঠোঁট কেঁপে ওঠে,

“কোথায় গেল?চোখের পলকে কিভাবে গায়েব হতে পারে?”

উত্তর মেলে না। বরং আচমকা পেছন থেকে ঝড়ের মতো আছড়ে পড়ে কেউ। প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পায় না ন্যান্সি। পিঠে তীক্ষ্ণ, জ্ব’লন্ত এক য’ন্ত্রণা। যেন ধারালো কিছু চামড়া চিরে ঢুকে গেছে। ছিটকে পড়ে যায় সে মাটিতে। শ্বাসরুদ্ধকর কষ্টে বুক কাঁপতে থাকে।

কালো অবয়বটি দ্বিতীয়বার আ’ঘাত হানতে উদ্যত।

ন্যান্সি ম’রিয়া হয়ে লড়ে ওঠে। ব্যথা উপেক্ষা করে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলে আক্রমণকারীর মুখের মাস্ক। চোখ পর্যন্ত ঢাকা কৃষ্ণ আবরণ। সে টেনে ধরতে থাকে।

ব্যথা, রাগ আর আতঙ্কের মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠে,

“আজ আমি তোমাকে দেখেই ছাড়ব! কে তুমি? বলো কে তুমি?”

দু’জনার মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। শুকনো পাতা উড়ে যায়। রাতের নীরবতা ভেঙে ওঠে চাপা শব্দে। কিন্তু অবয়বটি চটপটে, প্রশিক্ষিত। বুঝে যায়, এই লড়াই বেশিক্ষণ টিকবে না। হঠাৎ এক ধাক্কা।

ন্যান্সি আবারও পড়ে যায় মাটিতে। পিঠের ক্ষ’ত থেকে উষ্ণ র’ক্ত গড়িয়ে পড়ে ঠাণ্ডা মাটিতে। চোখের সামনে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। তবু সে তাকিয়ে থাকে দেখে কালো ছায়াটি জঙ্গলের অন্ধকার গহ্বরে ঢুকে যাচ্ছে।

তারপর কিছুই নেই।

শুধু কাঁপতে থাকা নিশ্বাস। ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া দেহ। আর জঙ্গলের ভেতর থেকে আসা অজানা আওয়াজ যেন রাত নিজেই কোনো গোপন সত্য আড়াল করে হাসছে। ন্যান্সির হাত মুঠো হয়ে যায় মাটির ওপর। সে ধরতে পারেনি।

🌼
🌼

নিস্তব্ধ এক ফ্ল্যাট। চারপাশে এমন গভীর নীরবতা, যেন শব্দও এখানে পা ফেলার আগে অনুমতি চায়। বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া আলো মেঝের উপর ফিকে সোনালি ছায়া এঁকে রেখেছে। সেই আলোর ভেতর দাঁড়িয়ে আছে এক নারী অপরিচিতা, অনাবিষ্কৃত, অদ্ভুত এক রহস্যে মোড়া।

সে কে? কী তার পরিচয়? কোথা থেকে এলো?

জানা নেই কিছুই।

ধীরে, নিঃশব্দ ভঙ্গিতে সে নিজের পরনের কালো পোশাকটি খুলে অদূরে ছুঁড়ে ফেলল। কালো কাপড়টি মেঝেতে পড়ে রইল নিঃসঙ্গ সাক্ষীর মতো। চোখের পলকে বদলে গেল তার রূপ সুইমিং কস্টিউমে মোড়া দেহে যেন নীলাভ আভা ছড়িয়ে পড়ল।

ফ্ল্যাটের মাঝখানে বিস্তৃত সুইমিং পুলটি অস্বাভাবিক শান্ত। পানির রং গাঢ় নীল অন্ধকার আকাশের মতো গভীর। হঠাৎ এক ঝাঁপ। জল ছিটকে উঠল চারদিকে, নীরবতা ভেঙে এক মুহূর্তের জন্য শব্দের বিস্ফোরণ। তারপর আবার নিস্তব্ধতা।

সে সাঁতার কাটছে এপাড় থেকে ওপাড়ে। তার চলনে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, নেই ক্লান্তি। যেন প্রতিটি স্ট্রোক হিসেব কষে দেওয়া, প্রতিটি নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রিত। নীল জলের ভেতর সে যেন আরেকটি ছায়া, এক অচেনা সাম্রাজ্যের রানি।

কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে জলের ভেতর থেকে উঠে এলো সে। ভেজা চুল কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে, ত্বকে জলের কণারা মুক্তোর মতো ঝিকমিক করছে। পাশে রাখা এক গ্লাস সফট ওয়াইন তুলে নিল। আঙুলের ফাঁকে গ্লাসটি ধরে সে ঠোঁটে নিল প্রথম চুমুক।

তার ধারালো চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে পুলের নীল পানির দিকে। সেই চোখে এক অদ্ভুত শীতলতা নির্লিপ্ত, অথচ তীক্ষ্ণ।

নিম্নস্বরে, কিন্তু স্পষ্ট উচ্চারণে সে বলল,

“ইলহাম ,সো স্যাড। ধরতে গিয়েও ধরতে পারলেনা। সুইটহার্ট।”

আগুন্তক নারীর কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক। কোমল নয়, কঠোরও নয় বরং এমন এক সুর, যেখানে উপহাস আর প্রশংসা একইসাথে মিশে থাকে।

দ্বিতীয়বার ওয়াইনে চুমুক দিয়ে সে মৃদু হাসল। ঠোঁটের কোণে জমে থাকা সেই হাসি ছিল বিপজ্জনকভাবে সুন্দর।

“বেটার লাক নেক্সট টাইম, লিটল মাউস।”

কথাগুলো নরম, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে চ্যালেঞ্জের ধার। পুলের স্থির জল তার প্রতিচ্ছবি ধারণ করে আছে এক নারী, যার পরিচয় অজানা। অতঃপর সেই নারী অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।

___________________

ভোরের আলো ফুটবে আর কিছুক্ষণ বাদেই।

ব্যথায় ককিয়ে উঠল। এখুনি এই মূহুর্তে চিকিৎসা প্রয়োজন তার। এই সময় কার কাছে যাবে? তিতলি, কল্পনা, স্মাইলি, মাইমুনা এহসান চার জনেই তার সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। উঁহু ন্যান্সি এই ভুলটা মোটেও করবেনা। তাকে সবার সাথে আলাদাভাবে কথা বলতে হবে, অবশ্যই সুযোগ বুঝে।

ন্যান্সি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে করিডোর দিয়ে। ব্যথায় একটু পরপর চোখ খিঁচিয়ে নিচ্ছে। ঘুরেফিরে তার আশ্রয় কেন নিতে হয় তার কাছে,যার থেকে সে পালাতে চায়?

এই যে নিজের রুমটা ছেড়ে আবারো সেই বৈধ পুরুষের নিকটে আশ্রয় নিতে হচ্ছে!

সাড়ে চারটা বেজেছে সবে। ফজরের আজান দিয়েছে সেই কখন। দেয়াল ঘড়িটা টিকটিক শব্দ করছে। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে বড় ব্যস্ত আফরিদ এহসান। এই দুটো রাত নির্ঘুম কেটেছে তার! প্রিয় রমণীর, শান্তির আশ্রয় পায়নি সে। আফরিদের সমস্ত মানসিক শান্তি ওই কন্যার নিকটে গচ্ছিত।

আফরিদ মস্ত বড় আকাশের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সহিতে আওড়াল,

“খোদা, তুমি বড় অদ্ভুত খেলোয়াড়

যার ছোঁয়ায় আমার পতন নিশ্চিত,

তারই বুকে কেন রাখলে আমার সুখ শান্তির ভার?”

দরজায় খটখট শব্দ হতেই ভ্রু বাঁকালো আফরিদ। আগেথেকেই দরজাটা খুলে রাখা, ভেতরে ঢুকে এলো অপ্রত্যাশিত রমণী। আফরিদ আড়চোখে এক নজর দেখে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। তাকাবেই না সে!

ন্যান্সি ভেতরে ঢুকে দেখলো ঘরটা অন্ধকার হয়ে আছে, তবে বাইরের কৃত্রিম আলোয় অল্প বিস্তর দেখা যাচ্ছে আফরিদকে। সিগারেট টানতে ব্যস্ত সে। ন্যান্সি খুব ভালো করেই জানে আফরিদ ঢের বুঝতে পেরেছে তার অস্তিত্ব।

ন্যান্সি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে গলা থেকে ওড়নাটা খুলে বেডের উপর ফেলল।

আফরিদ তাকে অবলোকন করছে আড়ালে।

মনে মনে বিড়বিড়াল,

“উ’ত্তেজনা নিশ্চয়ই মাথায় উঠে গেছে তাইতো এসেছে।নয়তো জীবনেও আসতো না।”

ন্যান্সি আফরিদের দিকে তাকিয়ে রিনরিনে গলায় বলল,

“শুনুন এহসান?”

মাঝপথেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠে আফরিদ,

“ডেকে লাভ নাই, তোকে কাছে আসতেই দেবনা।সে তোর উত্তেজনা যতই মাথায় উঠে যাক!”

ন্যান্সির প্রচন্ড হাসি পেলো, মন চাইলো হাত পা ছড়িয়ে হাসতে! হেসে গড়াগড়ি খেতে! উত্তেজনার নাতি তাকে বলছে তার উত্তেজনা নাকি মাথায় ওঠে গেছে।

“আপনার সাথে রঙ তামাশা করার সময় নেই আমার।’

কথাটা শ্রবণগোচরে প্রবেশ করতেই জ্ব’লে উঠলো আফরিদ।‌কপাল জুড়ে দেখা দিলো উদ্বেগের ভাঁজ। খ্যাঁক করে উঠলো,

“তাহলে এসেছিস কেন? তোকে তো টেনে হেঁচড়েও আনা যায়না!আজ কিভাবে কিভাবে চলে এলি?

ন্যান্সি ব্যথাতুর নয়নে তাকালো পুরুষটির মুখপানে,ভোঁতা মুখ করে বলল,

“ব্যথা পেয়েছি তাই এসেছি।”

আফরিদ পা থেকে মাথা অবধি ন্যান্সি কে পরোখ করে রোষপূর্ণ কন্ঠে বলল,

“দেখছি তো সবদিক দিয়েই ঠিক আছিস! পারফেক্ট আছিস, বিন্দাস আছিস!”

ন্যান্সি পিছন ঘুরে দাঁড়ালো। ছেড়ে রাখা চুল গুলো সবগুলো একপাশে নিয়ে এলো।

পিঠ জুড়ে র’ক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখে বুকের উপর মোচড় দিয়ে উঠল স্বামী নামক প্রেমিক পুরুষের। কেউ যেনো অদৃশ্য হস্ত দ্বারা তার হৃদপিন্ড খামচে ধরেছে।

আফরিদ সিগারেটটা হাতের মুঠোয় পিষ্ট করলো। কপালের রগগুলো ইতিমধ্যেই ফুলে ফেঁপে দৃশ্যমান।রাগের মাথার চুল খামচে ধরে।

ন্যান্সি আগের ন্যায় রিনরিনে গলায় বলল,

“হেল্প করেন না প্লিজ!”

আফরিদ চট করে ব্যালকনি ছেড়ে ন্যান্সির নিকটে এগিয়ে এলো, নরম তুলতুলে হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। একে পিঠের ব্যাথা এখন আবার শক্ত হাতের মোচড়! হিমশিম খাচ্ছে ন্যান্সি।

“তোকে কি বলি মাথায় ঢুকে না? এই তোকে বলছিলাম না এই দেহে যাতে একটাও ফুলের টোকা না লাগে? তাহলে লাগল কেন?বল কেন লাগল?”

শেষের কথাটা চিৎকার করে বলল আফরিদ। কেঁপে উঠলো শীর্ণ বদন খানি। নিজেকে গুটিয়ে নিলো ন্যান্সি।।

“ছাড়ুন ছাড়ুন, লাগবেনা আপনার হেল্প! উফ্!”

আফরিদ মোটেও ছাড়লোনা। ন্যান্সি কে টেনে নিয়ে বসালো বিছানায়। সে গিয়ে বসলো ন্যান্সির পিছনে। তাজা, উষ্ণ র’ক্ত! শুষ্ক ঢোক গিলল মাফিয়া কিং। বুকে ব্যথা হচ্ছে তার। এই রমণীকে কতবার বলেছে সে ব্যথা পেলে আফরিদের কষ্ট হয় অথচ তবুও ব্যথা পাবে। তার তো জ্বা’লাতে হবে ,আফরিদকে না জ্বা’লিয়ে পেটের ভাত হজম হয়না!

“জামা খুল।”

চাপা রাগ দেখিয়ে বলল আফরিদ। ঠিক এই ভয়টাই এতক্ষন ধরে পাচ্ছিল ন্যান্সি। জামা খুলতেই হবে। অবশ্য লজ্জা বা ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। স্বামী হয় তার। কিন্তু কি করবে তবুও দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারছেনা রমণী।

“বলছিলাম…জামা না খুললে হয়না!”

ন্যান্সির কাঁপা কাঁপা গলায় বলা কথাটা শুনে হুঁশ হারালো বেয়াদব পুরুষ। টেনে ফিতে খুলে ফেলল। একটানেই শরীরের রোমকূপ অবধি দাঁড়িয়ে পরে!

আফরিদ লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন বোধ করল না। জামাটা কাঁধ থেকে নামাতেই ভেতরের ভেতরের কাপড় নজরে এলো।‌ নজরে এলো চিকন বেল্টটা!

বড়সড় ঢোক গিলল আফরিদ। তবে অনূভুতির দরজায় সপাটে তালা ঝুলিয়ে দিলো তৎক্ষণাৎ!

ন্যান্সির অধরষ্টো কাঁপছে নিদারুণ ভঙ্গিতে।

সামনের ড্রেসিং টেবিলে প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে দুজনের।

এমন এক ভঙিতে বসেছে যার দরুন দুজনকে আয়নায় দেখা যাচ্ছে। বাইরের কৃত্রিম আলোয় ঘরটা আধো আধো আলোকিত হয়ে উঠেছে।

ন্যান্সি কাঁপছে, আফরিদ আলতো করে সেই বেল্ট খুলে দিলো। ওমনি উন্মুক্ত হলো কন্যা। ন্যান্সি রিনরিনে গলায় বলে উঠে,

“শু..শুধু ওষুধ লাগিয়ে দিন। বাকিটা আমি করে নেব।

আফরিদ কি কখনো কারো কথা সহজে শুনে? শোনবার মানুষ নয় সে। আজকেও তাই হলো। নিজের মতো করে জায়গাটা পরিষ্কার করে, ওষুধ লাগিয়ে নিজের মতো ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে।

ন্যান্সি ব্যাথায় খামচে ধরে তার উরু!

“আস্তে… ব্যথা লাগছে তো!”

সহসা সামনে হাত এসে গলা পেঁচিয়ে ধরে আফরিদ এহসান। দাঁতে দাঁত পিষ্ট করে বলল,

“এমনভাবে বলছিস যেনো আমি অন্যকিছু করছি? এসব আওয়াজ করিস না, মাইন্ড ডাইভার্ট হয়। বেয়াদব!”

ন্যান্সি মুখ নত করে নেয়। আঁখি পল্লব কাঁপছে তার! আফরিদ এতটাই সন্নিকটে যে তার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন শুনতে পাচ্ছে কন্যা!

“ব্যথার কথা আগে মনে ছিলোনা? শা’লী এত অবাধ্য কেন তুই? কিভাবে ব্যথা পেলি?”

উত্তর করলো না ন্যান্সি। আফরিদের বাজপাখির দৃষ্টি,সহজেই সবটা ধরে ফেলল। ন্যান্সি যে আড়াল করতে চাইছে কিছু একটা তা টের বুঝতে পারছে।

চলবে…………..।🌼

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply