Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭৬


#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৭৬]

#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)

(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(দ্বিতীয় খন্ড)

বিয়ের আনুষ্ঠানিক পর্ব সমাপ্ত হয়েছে অল্পক্ষণ পূর্বেই। পবিত্র কবুলের ধ্বনি স্তিমিত হতেই নবদম্পতিকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে আলোকোজ্জ্বল ড্যান্স ফ্লোরে নিয়ে আসা হলো। চারদিকে করতালির উচ্ছ্বাস, হাস্যরোল আর ক্যামেরার ঝলকানিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র মঞ্জিল।

ঈশানের মুখাবয়বে অবশ্য উৎসবের সেই উচ্ছ্বাসের লেশমাত্র নেই। এমন আড়ম্বর তার স্বভাববিরুদ্ধ। সে বহুবার আপত্তি তুলেছিল, কিন্তু আফরিদ এহসানের একটিমাত্র কঠোর দৃষ্টিই তার সমস্ত আপত্তিকে নীরব আত্মসমর্পণে পরিণত করেছে। অতঃপর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিতলির পাশে এসে দাঁড়াতেই হয়েছে তাকে।

সমগ্র আয়োজনের ভার যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছে ন্যান্সি। তার নিখুঁত তত্ত্বাবধানে একের পর এক অসাধারণ যুগলচিত্র ধারণ করে চলেছে। প্রতিটি ফ্রেমে নবদম্পতির লাজুক হাসি, সংকোচ আর নতুন জীবনের অনিশ্চিত আনন্দ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস।

নবদম্পতির পাশেই এসে দাঁড়িয়েছে ইদ্রান ও স্মাইলি। অপর প্রান্তে পাশাপাশি অবস্থান নিয়েছে আফরিদ ও ন্যান্সি। চার জোড়া মানুষের উপস্থিতিতে ড্যান্স ফ্লোরে যেন আরও জীবন্ত, আরও বর্ণিল হয়ে উঠেছে।

তবুও সেই রঙিন পরিবেশের মাঝখানে এক অদৃশ্য শীতলতা স্পষ্ট অনুভব করছিল আফরিদ।

ন্যান্সি একবারের জন্যও তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল না। মুখ ফিরিয়ে রেখেছে অন্যদিকে, যেন আফরিদ নামক মানুষটির অস্তিত্বই তার কাছে অর্থহীন। আফরিদ বুঝতে পারছে এই নীরবতাই সবচেয়ে কঠিন অভিমান।

সে ধীর পায়ে আরও খানিকটা সন্নিকটে এগিয়ে এলো। চারপাশের কোলাহলকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত নিম্নস্বরে উচ্চারণ করল,

“সরি!”

একটি শব্দ।মাত্র একটি শব্দ।কিন্তু সেই শব্দটুকুও ন্যান্সির হৃদয়ের প্রাচীরে আ’ঘাত হানতে পারল না।

সে নিরুত্তাপ।নির্বিকার। ক্ষমার পরিবর্তে নীরবতাকেই বেছে নিল। পরক্ষণেই আলতো ভঙ্গিতে আফরিদের সান্নিধ্য ছেড়ে করে ড্যান্স ফ্লোর থেকে সরে এলো। সাদা লেহেঙ্গার প্রান্ত মৃদু দোল খেতে খেতে সে গিয়ে বসল কল্পনার পাশে।

কল্পনা এতক্ষণ নিশ্চুপ দর্শকের মতো সমগ্র আয়োজন অবলোকন করছিল। ন্যান্সিকে নিজের পাশে বসতে দেখে তাঁর বিবর্ণ অধরে একফালি স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠল।

আর দূরে দাঁড়িয়ে আফরিদ এহসান স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিজের অভিমানিনী রমণীর দিকে।

সেদিন প্রথমবারের মতো তার মনে হলো শ’ত্রুর গু’লি, র’ক্তা’ক্ত সংঘর্ষ কিংবা মৃ’ত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো যতটা কঠিন নয়, তার চেয়েও অসহনীয় হলো প্রিয় মানুষের নীরব অভিমান।

🌼
🌼

রাত তখন আড়াইটা বাজে,

নত মস্তকে মাস্টার বেডে মাঝখানে বসে আছে নতুন বধূ। অপেক্ষা করে চলেছে সদ্য স্বামী হওয়া মানুষটির জন্য। তিতলি জানেনা নতুন জীবন তার কিভাবে শুরু হবে! সে তো আর কম জ্বালায়নি ঈশানকে! এখন যদি রাগ দেখিয়ে,,,

ভাবনার মধ্যেখানে খট করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো ঈশান।

টুকটুকে লাল রঙের বধূ সাজে ফুলে সজ্জিত বিছানায় বসা তিতলিকে দেখলো। সে নিজেই যেনো সদ্য ফোঁটা এক গোলাপ ফুল। দেখতে একদম জীবন্ত।

রমণীর চোখে আজ হাজারো স্বপ্ন তবে সঙ্গে কাজ করছে এক রাশ ভীতি। ভয়ে হৃদয় প্রান্ত মরূভূমির ন্যায় শুকিয়ে আসছে।

ঈশান ভেতরে ঢুকেও সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এল না। দরজার পাল্লার সঙ্গেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। নিঃশব্দে, নিঃশেষ মনোযোগে তাকিয়ে দেখল তার জন্য অপেক্ষারত নববধূকে। সেই দেখা ছিল নিছক দৃষ্টি নয় ছিল দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি মুছিয়ে নেওয়া এক পরম তৃপ্তি। চোখের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছিল সে, বারবার। এই রংপুরের মাইয়াকে নিজের করে পেতে কত ঝড়ঝাপটা যে পেরোতে হয়েছে, কত অদৃশ্য যু’দ্ধ সব যেন মুহূর্তে এসে মিলল ওই একটি দৃষ্টিতে। উপর থেকে ঈশান যতবারই বলেছে বিয়ে করবে না কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই কন্যাকে সে ভালোবেসে ফেলেছে।

সময় গড়িয়ে গেল ধীরে, নিঃশব্দে। তারপর ঈশান মৃদু পদক্ষেপে এগিয়ে এল। তিতলির সামনে এসে বসতেই তাদের মাঝে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা যেখানে কথা নেই, অনুভূতির অভাবও নেই।

আলতো হাতে ঈশান ঘোমটাটা সরিয়ে দিল। আবির্ভূত হলো স্নিগ্ধ, লাজে রাঙা এক মুখশ্রী যেন সন্ধ্যার আলোয় ফোটা কোমল কোনো ফুল। চোখে লাজের আড়াল, ঠোঁটে অনুচ্চারিত আবেগ। সেই সৌন্দর্যের সামনে শব্দও যেন কুণ্ঠিত। তবু অস্ফুট কণ্ঠে ঈশানের ঠোঁট ছুঁয়ে বেরিয়ে এলো একটিমাত্র শব্দ।

“মাশাআল্লাহ।”

তিতলি ভীতু চোখে তাকায় ঈশানের দিকে। সে যা ভেবেছিল তার কিচ্ছুটি হয়নি। ঈশান হাতে চুমু খেলো তিতলির। স্বভাব সুলভ বলল,

“আমার জীবনে তোমাকে স্বাগতম মেয়ে। আজ থেকে আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছো। মনে রেখো এখন কিন্তু পালানোর পথ নেই।”

তিতলির কি হলো সে ভীষণ লজ্জা পেলো। ঈশান ফিচলে হাসে। তিতলি নিজেকে গুটিয়ে নেয় কিন্তু তা যে হতে দেয়না ঈশান।

“ভালোবাসার পারমিশন কি পাবো? নাকি আজকেও পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করবে?”

তিতলিও কম নয়, ফোড়ন কে টে বলল।

“না চাইলে হাতে হাত দিয়ে ঝগড়া করতে পারেন।”

থতমত খেয়ে গেল ঈশান। তার মুখটা দেখে উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো তিতলি। চোখ পাকা তাকালো ঈশান।

“তাই নাকি? তাহলে চলো হাতে হাত দিয়ে ঝগড়া করি।”

তিতলি ভয় পেয়ে কিছুটা সরে গেল। আমতা আমতা করে বলল,

“মানে?”

ঈশান বাঁকা হেসে বলল,

“ডোন্ট ওরি, আমি কিন্তু জেন্টলম্যান।”

তিতলি চোখ বড়বড় করে তাকালো, ঈশান অকস্মাৎ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তিতলির মনে হলো নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। ঈশানের প্রতিটা স্পর্শে ভালোবাসা জড়ানো। আদরে ভরিয়ে দিলো তার ছোট্ট ছিমছিমে শরীরটা।

ওষ্ঠোদ্বয় আপন ওষ্ঠো ভাঁজে টেনে নিলো, মিলিন হলো হাতের আঙ্গুল। একে অপরের মাঝে ডুবে গেল মূহুর্তের মধ্যে। তিতলি চমকালো স্থির হয়ে গেল ঈশানের উন্মাদতা দেখে। ক্ষণে ক্ষণে চাঁপা স্বরে বলল,

“ভালোবাসি, ভালোবাসি।”

তিতলি যেনো বিশ্বাস করতে পারছেনা। নওফেলের কাছে ঠকে গিয়ে ভালোবাসার উপর বিশ্বাস হারিয়েছে সে। কিন্তু সেই বিশ্বাস যেনো ঈশানের কথায় আবারো ফিরে পেলো।

তিতলি কেঁদে ফেলল, তার কান্না থেমে গেল ঈশান। ভীতু কন্ঠে শুধোয়।

“কি হয়েছে জান? ব্যথা দিচ্ছি?সরি সরি খুব সরি।”

তিতলি একটাও কথা বললো না, জাপটে ধরে ঈশানের গলা। মিনমিনে গলায় আকুতি জানালো।

“আজকের পর থেকে কখনো আমাকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। ম’রে যাবো আমি।”

ঈশান বুঝলো তিতলিকে, মেয়েটা কি তার ভালোবাসায় শান্তি খুঁজে পেয়েছে? হয়তো তাই।

_____________________

নিজের প্রয়োজনীয় জামাকাপড় নীরবে গুছিয়ে বক্ষের সঙ্গে চেপে রুম ত্যাগ করল ন্যান্সি। সিদ্ধান্ত সে নিয়ে ফেলেছে আজ থেকে আর আফরিদ এহসানের বেডরুমে তার অবস্থান হবে না। অভিমানেরও এক সীমারেখা থাকে; সেই সীমা অতিক্রম করলেই হৃদয় নীরব বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

ঠিক সেই সময়ই করিডোর ধরে নিজ কক্ষের দিকে ফিরছিল আফরিদ। অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে ন্যান্সিকে অপর রুমের দিকে অগ্রসর হতে দেখে তার পদক্ষেপ আচমকাই থমকে গেল। কপালের ভাঁজ গাঢ় হলো। পরক্ষণেই দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে ন্যান্সির পিছু নিল।

ন্যান্সি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করতে উদ্যত হতেই বজ্রসম উপস্থিতি নিয়ে সম্মুখে এসে দাঁড়াল আফরিদ।

অপ্রত্যাশিত সেই উপস্থিতিতে ন্যান্সির অন্তর্গত ক্ষোভ যেন আরও দাউদাউ করে জ্বলে উঠল।

আফরিদ কিঞ্চিৎ সংযত অথচ ভারী কণ্ঠে প্রশ্ন করল,

“তুই এখানে কী করছিস?”

ন্যান্সি একটুও ইতস্তত না করে নির্লিপ্ত স্বরে উচ্চারণ করল,

“আজকের পর থেকে আমি আর আপনার সঙ্গে একই রুমে থাকব না।”

বাক্যটি শুনেই আফরিদের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। বিরক্তি, অস্বস্তি আর ক্রোধ একসঙ্গে জমাট বাঁধল তার মুখাবয়বে।

“কীসব বাচ্চাদের মতো নাটক শুরু করেছিস?”

ন্যান্সির দৃষ্টি অনড়।

“আমি আগেই বলেছিলাম, সবকিছু ছেড়ে দিন। কিন্তু আপনার কাছে আমার চেয়ে আপনার সাম্রাজ্য অনেক বেশি মূল্যবান। সুতরাং আপনি আপনার সাম্রাজ্য নিয়েই থাকুন। ও হ্যাঁ এই সাম্রাজ্যকে বলবেন বাচ্চা দিতে!”

এরপর আর একটি মুহূর্তও অপচয় করল না সে।

সশব্দে দরজাটি আফরিদের মুখের ওপর বন্ধ করে দিল।

দরজার আ’ঘাতে যেন আফরিদের ধৈর্যের শেষ অবশিষ্টটুকুও ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।

প্রচণ্ড শক্তিতে মুষ্টিবদ্ধ হাত আছড়ে পড়ল কাঠের দরজায়।

“অ্যাঞ্জেলিনা! অ্যাঞ্জেলিনা, দরজা খোল। বলছি দরজা খোল! আমাকে বাধ্য করিস না। দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ব। আমি কিন্তু শক্ত মা’র দেব!”

অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এল ন্যান্সির তীক্ষ্ণ, বিদ্রূপমিশ্রিত কণ্ঠ,

“হ্যাঁ, সেটাই তো বাকি আছে। আসুন, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমাকেও আ’ঘাত করুন।”

কথাগুলো যেন উত্তপ্ত সীসার মতো গিয়ে বিদ্ধ হলো আফরিদের অন্তরে। আরও একবার প্রবল শক্তিতে দরজায় আঘাত হানল সে। সমগ্র করিডোর কেঁপে উঠল সেই অভিঘাতে। কক্ষের ভেতরে দাঁড়িয়ে ন্যান্সির শরীরও অনিচ্ছায় শিউরে উঠল, তবু সে নড়ল না। নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে এল না।

দরজার ওপার থেকে এবার আফরিদের কণ্ঠে ক্রো’ধের পরিবর্তে অসহায়তার সুর স্পষ্ট হয়ে উঠল।

“দরজাটা খোল, প্লিজ। এমন করিস না।”

ন্যান্সি নীরব। নীরবতাই যেন তার প্রতিবাদ, তার অভিমান, তার শাস্তি। আফরিদ জানেরাত নামলেই সে ন্যান্সির বক্ষেই আশ্রয় খোঁজে। দিনের সমস্ত যুদ্ধ, রক্ত, ষড়যন্ত্র আর ক্লান্তির অবসান ঘটে সেই একটিমাত্র মানুষের সান্নিধ্যে। আজ সেই আশ্রয় তার জন্য রুদ্ধ।

কিছুক্ষণ নির্বাক দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত দরজা থেকে সরে এল আফরিদ। দীর্ঘ, ভারাক্রান্ত পদক্ষেপে করিডোর পেরিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল সে। মস্তিষ্ক যেন শূন্য হয়ে আসছে। অসংখ্য শত্রুকে পরাস্ত করা মানুষটি আজ সম্পূর্ণ অসহায়। একটি মাত্র রমণী—তার অভিমান, তার নীরবতা, তার দূরত্ব এই দুর্ধর্ষ পুরুষটিকে এমনভাবে পরাভূত করেছে, যেন সে নিজের সাম্রাজ্যের নয়, বরং ভালোবাসারই এক অসহায় বন্দী। আঙ্গুলের ডগায় নাচিয়ে চলেছে!

________________

গত দু’দিন যাবত আলিয়াজকে কোনো প্রকার খাবার দেওয়া হয়নি ,তা না দেওয়ার পিছনে কারণ আছে আফরিদের। এই একটা নরখাদক তাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। খুব শীঘ্রই সে সবকিছুর বন্দোবস্ত করবে।

রিসার্চ সেন্টারেও যেতে হবে তাকে। মিস্টার আলবার্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে। নয়তো ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে সামনে তা বেশ আন্দাজ করতে পারছে আফরিদ এহসান।

________________

সকাল সকাল দমবন্ধ করা নীরবতা, অদৃশ্য উত্তেজনার চাপ। স্মাইলি আর ইদ্রানের ফেরার খবরটা ন্যান্সির কানে ঢোকার পর থেকেই তার মাথার ভেতর প্রশ্নেরা বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বার্সেলোনা যেখান থেকে তারা এসেছিল, সেখানেই আবার ফেরা। কিন্তু কেন? হঠাৎ কেন? এই ‘কেন’ এর উত্তর কেউ দেয়নি। আফরিদের কথাই শেষ কথা ওরা ফিরছে, মানেই ফিরছে। ব্যস।

ন্যান্সির মস্তিষ্কে তখন ঝড়। অসংখ্য প্রশ্ন একসাথে আছড়ে পড়ছে, কিন্তু উত্তর নেই একটাও। আরও যেটা বুকের ভেতর খচখচ করে, তা হলো ইদ্রান। নীলাদ্রির সাথে আফরিদের অগোচরে কী করেছে সে, সেটুকুও আজ অবধি জানা হলো না ন্যান্সির। অজানা সত্যগুলো যেন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দাঁত বের করে হাসছে।

রুমে ইদ্রান আছে এই খবর পেয়েই অনুমতির তোয়াক্কা না করে ঢুকে পড়ে ন্যান্সি। দরজার কড়া শব্দে ঘরের বাতাস কেঁপে ওঠে। চোখে চোখ রেখে সে ছুঁড়ে দেয় প্রশ্ন কণ্ঠে তীক্ষ্ণতা, ঠোঁটে বিদ্রুপ।

“পালিয়ে যাচ্ছেন, ইদ্রান ভাইয়া? এত ভয়?”

ইদ্রান ধীরে ফিরে তাকায়। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি সেই চেনা, ঠান্ডা হাসি।

“ভয়? কীসের?”

ন্যান্সির চোখে তখন ক্রোধের অগ্নিশিখা। কথাগুলো সে যেন চিবিয়ে চিবিয়ে বের করে আনে।

“ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়! আমার কাছে সব ধরা পড়ে যাবে বলে পালাচ্ছেন?”

ইদ্রান হেসে ওঠে হালকা, নির্লিপ্ত হাসি। যেন প্রশ্নগুলো তার গায়ে লেগে গড়িয়ে পড়ে।

“এসব ভয় ইদ্রান পায় না, বুঝলে?”

“তাহলে পালাচ্ছেন কেন?”

এক মুহূর্ত থামে ইদ্রান। ঘাড়টা সামান্য বাঁকিয়ে, চোখে রহস্যের ছায়া টেনে বলে,

“গিয়ে তোমার এহসানকে জিজ্ঞেস করো।”

কথাগুলো ঘরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনিত হয়। ন্যান্সি বোঝে এই যাত্রা শুধু ফেরা নয়, কারও না কারও গোপন সত্যের পালাবদল।

🌿

ইস্ক্রিয়াস আজ দু’দিন ধরে ঘুমোতে পারেনা, তাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। সে নাকি ইচ্ছে করেই রাইসাকে পালাতে সাহায্য করেছে। উপর মহল থেকে বলা হয়েছে এ ঘটনার উপর তদন্ত কমিটি বসাতে। যতদিন না তদন্ত শেষ হচ্ছে ততদিন অবধি ডিউটিতে জয়েন করতে পারবেনা সে।

যখন ইস্ক্রিয়াসকে সাসপেন্ড করা হয় তখন চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এসেছিল ছেলেটার। এতকিছু করেছিল নিজের দায়িত্বের উপর কঠোর থেকে। নিজ পরণের আইনের পোশাককে সম্মান জানিয়ে নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করেছে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে অথচ দিন শেষে আজ সাসপেন্ড লেটার তার হাতে।

বড় মায়া হয় নিজের উপর ইস্ক্রিয়াসের। এই পেশার জন্য নিজের ভালোবাসার পরোয়া করেনি অথচ আজ তাকে এই দিনটি দেখতে হচ্ছে?

কিছুক্ষণ আগেই দিবাং ফোন করে ইস্ক্রিয়াসের খোঁজখবর নিয়েছে। ইস্ক্রিয়াস টুকটাক কথা বলে ফোন রেখে দিয়েছে। ল্যাপটপ কোলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেই একই ভিডিও দেখে চলেছে যা তাকে ইদ্রান পাঠিয়েছে!

“You’ve made a very big mistake by doing this, Idran.”

ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ইস্ক্রিয়াস। তীব্র রাগ নিয়ে বলল,

“তোমার মোটেও উচিত হয়নি এই ভিডিওটা আমাকে পাঠানো। এবার দেখবে অন ডিউটিতে থাকা অফিসার যা করতে পারেনি, অফ ডিউটিতে তাই করে দেখাবে। আই মিন ইট! জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।”

🌿
🌿

রিসার্চ সেন্টারে রয়েছে রাইসা ,এ কটা দিন তারজন্য দমবন্ধকর ছিলো।তবে সে আজ খুশি। ইদ্রান জানিয়েছে ইস্ক্রিয়াস ঠিক আছে, সুস্থ সবল বার্সেলোনা রয়েছে।

ইদ্রান আর আফরিদ একত্রে এসে পৌঁছেছে রিসার্চ সেন্টারে সর্বপ্রথম দেখা করলো রাইসার সাথে। রাইসাকে জানানো হলো তারা আবারো ফিরছে বার্সেলোনা। তাদের শহরে, যেখানে রাজ করে আফরিদ এহসান।

“কিন্তু আবার বার্সেলোনা ফিরে যাওয়া কি ঠিক হবে?”

রাইসার কথায় টেবিলের উপর রাখা মার্বেল পাথরটা তুলে নিলো আফরিদ। সেটা শূন্যে ছুঁড়ে আবার ধরে ফেলছে, অতঃপর বাঁকা হেসে বলল।

“তোর কি মনে হয় রাইসা, আমি আফরিদ কাউকে ভয় পাই?”

প্রত্যুত্তরে শুষ্ক ঢোক গিলল রাইসা। ইদ্রান ফোনালাপ শেষে বলল,

“আই থিংক এখন আর ইস্ক্রিয়াস আমাদের কিছু করতে পারবেনা।যদি করতে চায় তাহলে তার পাওয়ারের প্রয়োজন। এতদিন নিজেকে ইন্সপেক্টর হিসেবে যতটা যা করতে পেরেছে এখন সাধারণ একজন মানুষ হয়ে তা তার দ্বারা সম্ভব নয়।”

আফরিদ ফের হাসলো। হেড চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো। কর্দয হেসে বলল,

“সময় এসেছে ইন্সপেক্টরের সাথে দেখা করার।”

রাইসা চমকে উঠে আফরিদের কথায়। সে জানে আফরিদের দেখা দেওয়া মানেই মৃত্যু!

“কিন্তু ভাই….

“রিল্যাক্স রাইসা, এত উতলা হতে নেই।”

থেমে গেল রাইসা, অবশ্য সে ভুল পথেই হাঁটছে। তার অন্ধকার জীবনে ইস্ক্রিয়াসের মতো আলোর দিকে হাত বাড়ানো বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

আফরিদ রাইসার উদ্দেশ্যে বলল,

“মন শক্ত করতে শিখতে হয় কন্যা। অন্ধকারে থেকে আলোর আশা করা বোকামি বৈ কিছু নয়।”

রাইসার চোখ ঘোলাটে হয়ে এলো। অবশ্য সে যদি আফরিদ কে বলে সে ইন্সপেক্টরকে ভালোবাসে তাহলে আফরিদ ছেড়ে দেবে তাকে। বেছে নিতে দেবে তার পথ। কিন্তু রাইসা চায়না সেই জীবন যেখানে অমানিশা ছাড়া কিছুই নেই। যেখানে মানুষ বাঁচতে মানুষকে মা’রে।

চলবে………….।🌼

(📌সবাই একটু রেসপন্স করবেন কেমন?আর হ্যাঁ আফরিদের টুনাটুনিকে নিয়ে সংসার পড়তে চাইলে ইবুক পড়তে পারেন। একটা শান্তি শান্তি সংসার পাবেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply