#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৬৩+৬৪ ]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
কালো রঙের গাড়িদ্বয় বিমানবন্দরের অভিমুখে তীব্র গতিতে ধাবিত হচ্ছিল। ইতোমধ্যেই তাদের গতিপথ প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় এসেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আফরিদ এহসানের আদেশ কার্যকর হলো বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে সিল করা হোক। কোনো ফ্লাইট উড্ডয়ন করবে না, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকা ত্যাগ করতে পারবে না।
ফলস্বরূপ, অপহরণকারীরা এক অনিবার্য বাধার সম্মুখীন হলো। পরিকল্পিত পালানোর প্রতিটি দ্বার একে একে রুদ্ধ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে তারা দিক পরিবর্তন করল।
শহরের কেন্দ্র ছেড়ে গাড়ি দুটি ছুটে চলল খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে। আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ।
এক পাশে গভীর খাদ। অন্য পাশে ঘন অরণ্যের নিঃশব্দ অন্ধকার। গাড়ির গতি এতটাই উগ্র যে চারপাশের দৃশ্য এক অস্পষ্ট রেখায় পরিণত হয়েছে।
পিছনে ক্রমাগত ধাওয়া করছে পুলিশ ভ্যান ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহর। সাইরেনের কর্কশ ধ্বনি পাহাড়ি নীরবতাকে বিদীর্ণ করে দিচ্ছে বারবার। অন্যদিকে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হচ্ছে আফরিদ এহসানের নেতৃত্বাধীন বিশেষ ফোর্স।
কালো ট্যাকটিক্যাল স্যুটে আবৃত প্রত্যেক সদস্যের চোখে কঠিন দৃঢ়তা।
কিন্তু সবার কেন্দ্রে একটাই নাম আফরিদ এহসান।
তার দৃষ্টি অস্বাভাবিক রক্তিম ক্রোধে জ্বলছে।
চোয়াল শক্ত। মুখাবয়ব পাথরের মতো কঠিন। গাড়ির ভেতরে বন্দি তার স্ত্রী।এই একটি চিন্তাই তার ভেতরের সমস্ত ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং সংযমকে প্রতিনিয়ত চূর্ণ করে দিচ্ছে। সে ধীরে, বরফশীতল স্বরে বলল,
“অ্যাঞ্জেলিনার গায়ে যদি একটুও আঁচড় লাগে, কেউ বেঁচে ফিরবে না।”
তবুও পরিস্থিতি জটিল।কারণ স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে ফায়ারিং নিষিদ্ধ। একটি ভুল গুলি। একটি সামান্য বিচ্যুতি। আর তার প্রিয়জন চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
ফলে পুরো অভিযান পরিণত হয়েছে এক অনিশ্চিত ভারসাম্যে। যেন টানটান তারের উপর হাঁটা।
পাহাড়ি বাঁকানো পথে অমানবিক গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িটা। তার পেছনে ছুটছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহর। কিন্তু ট্রিগার টানার আগেই থেমে যাচ্ছে প্রতিটি সিদ্ধান্ত কারণ সেখানে শুধু অপরাধী নয়, বন্দি হয়ে আছে এক জীবন্ত জীবন।
_____________
কালো এবং তার পশ্চাদ্ধাবনরত বাহিনী অবশেষে প্রবেশ করল দিঘিনালার ঘন সবুজ অরণ্যাঞ্চলে। রাত্রির গভীর অন্ধকার, আর গাছপালার নিবিড় ছায়া মিলেমিশে পুরো পরিবেশকে এক দুর্ভেদ্য, ভয়ংকর আচ্ছাদনে আবৃত করেছে। হেডলাইটের তীব্র আলো অরণ্যের পাতাঝরা শাখা-প্রশাখা ও লতাগুল্মে প্রতিফলিত হয়ে ক্ষণিকের জন্য ঝলমল করে উঠছে। ধুলোমাখা কাঁচা রাস্তার বুকে গাড়ির চাকায় সৃষ্টি হচ্ছে অনিয়মিত স্পন্দন, যা মিশে যাচ্ছে দূরের পাহাড়ি ঝরনা আর নদীর অবিরাম কলকল ধ্বনির সঙ্গে। প্রকৃতি যেন এক অদ্ভুত, অস্বস্তিকর সুরে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করছে।নদীর তীরবর্তী অংশে ন্যান্সি নিথর অবস্থায় বসে আছে।মুখাবরণে আবদ্ধ কাপড়।হাত-পা দৃঢ়ভাবে বাঁধা।তার চারপাশে কেবল অন্ধকার বনভূমির গম্ভীর স্তব্ধতা আর নদীর অস্থির জলধ্বনি।এই প্রকাণ্ড নীরবতার ভেতরেও তার ভেতরে এক প্রবল সাইক্লোন আছড়ে পড়ছে ভয়, অসহায়ত্ব এবং অনিশ্চয়তার অবিরাম সংঘর্ষ। নদীর ঠান্ডা বাতাস আর ঘন অরণ্যের আর্দ্রতা তার শ্বাসকেও ভারী করে তুলেছে।
অন্যদিকে ঈশান ল্যাপটপের স্ক্রিনে একনাগাড়ে ডাটা পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ সে মাথা তুলে বলল,
“বস, গাড়িটা আর শহরে নেই… জঙ্গলের ভেতর ঢুকে গেছে।”
টুটুল গম্ভীর স্বরে জানালেন,
“আমরা ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ এলাকা ঘিরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, মিস্টার এহসান।”
কিন্তু আফরিদের মুখে নিশ্চিন্ততার কোনো চিহ্ন নেই।
তার দৃষ্টি আরও কঠোর, আরও গভীর। সে নিচু কণ্ঠে বলল,
“জঙ্গলে নিয়ে গেছে, মানে ওরা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলল,
“হেলিকপ্টার রেডি কর। পুরো জঙ্গল স্ক্যান করতে হবে।”
আদেশ পৌঁছাতেই মুহূর্তের মধ্যে বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠল।দল ভাগ করে একাধিক ইউনিট অরণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে প্রবেশ করল।কালো ট্যাকটিক্যাল স্যুটে আবৃত সদস্যরা নিঃশব্দে অগ্রসর হচ্ছে, প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা, প্রতিটি দৃষ্টিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি।ঝোপঝাড়, নদীর ধার, পাহাড়ি বাঁক সবকিছুই এখন তল্লাশির অংশ।
কারণ এখানে ভুলের কোনো স্থান নেই।একদিকে প্রকৃতির দুর্ভেদ্যতা, অন্যদিকে অপহরণকারীদের অনিশ্চিত অবস্থান সব মিলিয়ে পুরো অভিযান পরিণত হয়েছে এক নিঃশ্বাসরুদ্ধ যুদ্ধক্ষেত্রে।
_________________
একটি বিশাল গাছের সঙ্গে শক্ত রশিতে আবদ্ধ অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ন্যান্সিকে। দীর্ঘক্ষণ পর তার মুখাবরণ খুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে নিঃশ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে চারপাশের স্যাঁতসেঁতে অরণ্যের গন্ধ তার শ্বাসনালিতে প্রবেশ করছে।
তার সামনে অবস্থান করছে প্রায় দশজনের একটি সশস্ত্র দল। তাদের মুখাবয়বে এখন আর আগের আত্মবিশ্বাস নেই। বরং স্পষ্ট উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা। তারা এখন বুঝতে পারছে এই অপহরণ তাদের কল্পনার বাইরের এক পরিণতির দিকে এগিয়ে গেছে।
ন্যান্সি গর্জে বলল।
“এখনো সময় আছে আমাকে ছেড়ে দাও নইলে তোমাদের সব গুলো কে আফরিদ শেষ করে দেবে!”
তাদের মধ্যে সেই লোকটা যে গাড়িতে ন্যান্সি কে স্পর্শ করেছিল লোকটা সপাটে চ’ড় বসালো নরম গালে।
“মা””র বাচ্চা তোর জন্য আজকে এই অবস্থা! এখন আমাদের তুইই বাঁচাবি।”
ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলো মেয়েটা ,তার বাঁধন খুলে দিলে কাউকে ছাড়বে না সে। সে এতটা দূর্বল নয় ,আফরিদ এহসানের বউ সে।
“জানোয়ারের বাচ্চা হাত খুলে দে আমার তারপর তোকে বলছি কিভাবে বাঁচাবো তোদের!”
কালো ট্যাকটিক্যাল জ্যাকেট, শরীরের সঙ্গে মানিয়ে ফিটিং। আর একটা কার্গো প্যান্ট। হাত-পায় কম্প্রেশন গ্লাভস, পকেটে ছোট হাতিয়ার এবং গ্যাজেট। পায়ে কালো বুট, যা পাহাড়ি ঢাল, জঙ্গলের ঘন কুঁড়ি, আর শহরের অন্ধকার গলিপথ সবকিছুতে গ্রিপ ধরে।
গাড়ি ট্র্যাকিং ডিভাইস, রেডিও কমিউনিকেশন, ছোট হ্যান্ডগান।
আফরিদ এক দল ফোর্স নিয়ে অবশেষে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করলো।
গুনে গুনে ২৪ ত্রিশ ঘন্টা পেরিয়েছে। অথচ আফরিদ এহসানের বউ তার কাছে নেই। কানে আসছে দূরে ঝর্নার পানির খলখল শব্দ।
কিছুটা এগুতেই দেখতে পেলো দুজন কে। খুব কৌশলের সাথেই দুজন কে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলো আফরিদ।
এক দল পুলিশ ফোর্স এবং আর্মি অফিসার গুলো ঘেরাও করে সবাইকে কে।
বড় বড় পা ফেলে দৌড়ে গেল আফরিদ এহসান।
আকস্মিক এত এত পুলিশ , আর্মি ব্ল্যাক স্যুট পরিহিত লোকজন দেখে বাকরুদ্ধ ন্যান্সি।
আফরিদ হাঁপিয়ে উঠেছে , হাঁটুতে ভর দিয়ে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস টানছে আফরিদ।
ক্লান্ত আফরিদ কে দেখে বিস্মিত কন্ঠে বলে উঠে ন্যান্সি।
“আফরিদ!”
হাত তুলে থামায় তাকে নষ্ট পুরুষ। ধরা কন্ঠে বলে উঠে।
“জাস্ট ফাইভ মিনিট দে ,নিঃশ্বাস নেই আগে।”
ন্যান্সি নিশ্চুপ , আফরিদ ফোর্সদের হাতের ইশারায় বলল গান নামিয়ে নিতে। আফরিদ এহসান।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই নাম, যাকে সবাই দূর থেকে নির্দেশ দিতে দেখে অভ্যস্ত। আজ তাকে দেখা গেল সরাসরি ময়দানে।
টুটুল অবাক কন্ঠে বলে উঠে।
“কিন্তু মিস্টার এহসান…
“হুঁশ, এই অফিসার একটু বেশি কথা বলে!”
ন্যান্সি কাঁপছে থরথরিয়ে , আফরিদ ফিক করে হেসে ফেলল ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে।
“জানকি বাচ্চা চল আমরা একটা গেইম খেলি।”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“গেইম? মা.. মানে?
আফরিদ এদিক সেদিক তাকিয়ে গুনে ফেলল লোক কজন আছে। তাদের কে চেপে ধরে রেখেছে ফোর্স গুলো।
আফরিদ হেসে বলে।
“এখানে মোট দশজন আছে,তুই আর আমি ফাইট করব যে যত জন কে মা’রতে পারবে সে ততটা পয়েন্ট পাবে। আই মিন একজন কে আউট করলে এক পয়েন্ট। যে বেশী পয়েন্ট করবে সে উইনার।”
আহাম্মক বনে গেল ন্যান্সি।এই লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে একদম।
“আপনি পাগল হয়ে গেছেন আফরিদ! আমাকে না নিয়ে গিয়ে এগুলা বলছেন? সিরিয়াসলি?”
আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“তুই না কুংফু মাস্টার শা’লী! চল এক রাউন্ড খেলি দুজনে। আয় না রে মা’তারি।”
এদিকে বাকি ফোর্স গুলো ড্যাবড্যাব করে তাকাচ্ছে তাদের দিকে। কোন স্বামী তার স্ত্রীকে শা’লী মা’তারি ডাকে?
আফরিদ এগিয়ে গিয়ে বাঁধন খুলে দিলো ন্যান্সির।
ফোর্স গুলো কে দূরে সরতে বলল। লোক গুলো আক্রমন করে বসে তাঁদের উপর। মাফিয়া কিং কে টাচ করা কি এতটাই সহজ? লোকটা আসতেই নিচু হলো আফরিদ ,জুতোয় লুকানো ধারালো ছু’রি টা নিয়ে একত্রে অনেক বার বসিয়ে দিলো তার বুকের মাঝখানে। ফালা ফালা করে দিলো চোখের পলকে।
ন্যান্সি বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আফরিদ রক্তাক্ত হাতটি ঝেড়ে ঝেড়ে শিস বাজিয়েই বলে উঠে।
“নাউ, ইটস্ ইউর টান।”
ন্যান্সি সামনে তাকাতেই দেখে একজন হাতে ভাঙা সুচাঁলো কাঁচে এগিয়ে আসছে। এক পা এক পা করে পিছুতে লাগল ন্যান্সি। গাছের সাথে চেপে যেতেই আফরিদ বলে উঠে।
“হেড ডাউন বান্দি।”
মাথা নিচু করতেই লোকটা যে ঘুষিটা তার উপর দিয়েছিল সেটা গাছে লাগলো , আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হেসে ফের বলল।
“মেইন পয়েন্টে মা’র।”
সজোরে কুংফু স্টাইলে লোকটার মেইন আ’ঘাত করতেই ছটফট করতে লাগলো সে।
“সব্বাস জানকি বাচ্চা। ওয়ান পয়েন্ট ওয়ান পয়েন্ট।”
বেকুবের মতো বাকিরা দাঁড়িয়ে জামাই বউয়ের নিদারুণ কাহিনী থেকে চলেছে।
ন্যান্সি কে থাপ্পড় দেওয়া লোকটা খুবই সার্ফ একটা কুকরি নিয়ে আকস্মিক আক্রমণ করে ন্যান্সির চোখের দিকে।
ছুঁই ছুঁই করছে সেখানটায় , লোকটার হাত চেপে ধরেছে আফরিদ এহসান। এই বুঝি চোখের ভেতরে ফালা ফালা দিলো। স্বচ্ছ অস্ত্রে স্পষ্ট ভাসছে ন্যান্সির চোখের অবয়ব।
আফরিদ তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“সন অফ আ বিচ এখুনি ব্যথা পেতো।”
একই অস্ত্র হাত থেকে টেনে নিয়ে লোকটার চোখের ভেতরের ফেস করে ঢুকিয়ে দিলো আফরিদ। কি বিভৎস সেই দৃশ্য।
খিঁচিয়ে বুঁজে নিল আঁখিদ্বয়।
“দুই পয়েন্ট বে বান্দি।”
ন্যান্সি ভীষণ ক্লান্ত। লোকটা পাগল আস্ত এক পাগল।”
একে একে সব গুলো কে শেষ করলো আফরিদ এহসান অথচ পুলিশ ফোর্স কেউ কিছু করতে পারলো না! করবেই বা কি করে তার হাত যে বহুদূর।
চোখের যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে লোকটা। ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“আমার কিছু বলার আছে।”
আফরিদ ভ্রু বাঁকালো।
“হেরে গেলে মানতেই হবে। নো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।”
ন্যান্সি বিব্রত কন্ঠে বলল।
“এই..এই লোকটা আমাকে..
দৃষ্টি সুঁচালো হলো আফরিদের। সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“কি করছে এইটা?”
নিজের গলার দিকে ইঙ্গিত করলো ন্যান্সি। তাকে স্পর্শ করেছে , থা’প্পড় পর্যন্ত দিয়েছে।
হাসলো আফরিদ হাসিটা বোধহয় ভেতরের সমস্ত রাগ বহন করছে।
“এই টুটুল স্যার ওরে একদম ঠিকঠাক ভাবে আমার গাড়িতে তুলে দিবেন।ওর ব্যবস্থা আমি করব খুব সুন্দর ভাবে।”
ক্লান্ত ন্যান্সি গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। খুব ক্লান্ত লাগছে তার , এত ঝামেলা কেন? একটা সুন্দর ঝামেলাবিহীন জীবন হলেও পারতো। মুখের উপর উষ্ণ নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়তেই পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাল ন্যান্সি।
বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে। ঠোঁট জোড়া আলতো করে ভিজিয়ে নিল তারা। ইতিমধ্যেই আফরিদের অর্ডারে বাকিরা বাইরের পথ ধরেছে। ন্যান্সি কাঁপছে আফরিদের চাহনিতে। ফাঁকা ঢোক গিলে শুধোয়।
“কী?”
আফরিদ একগাল হেসে বলল।
“আমার একটা সিরিয়াস কিছু ইচ্ছা করছে।”
কপাল কুঞ্চন করে নিল ন্যান্সি।
“কি ইচ্ছে?”
আফরিদ ফিসফিসিয়ে বললো।
“তোকে এই জঙ্গলে রে*** করতে ইচ্ছে করছে আমার।”
নষ্ট পুরুষের নষ্ট কথায় ,মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো তব্দা খেলো ন্যান্সি।
এক ধাক্কায় শক্ত লোকটাকে সরিয়ে দিলো।
“আপনার মানসিকতা কত খারাপ। আপনি যা তা একটা।”
আফরিদ হাসি হাসি মুখ করে বলল।
“আমার কাছে আয়।”
ন্যান্সি রুষ্ট কন্ঠে বলে।
“আপনি অনেক নোংরা একটা মানুষ , দেখুন শরীরে কত নোংরা একদম কাছে আসবেন না।”
আফরিদ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে নদী বয়ে যাচ্ছে। এক লাফে নদীতে ডুব দিয়ে বলল।
“এখুনি চকচকে হয়ে আসছি।”
দ্বিতীয় ডুব দিয়ে উঠতেই ন্যান্সি গায়েব। বিরক্ত হলো আফরিদ , দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে।
“বান্দির বাচ্চা রেএএএ কত দূর করাবি আমায়?”
প্রাণ পনে দৌড়াচ্ছে ন্যান্সি এখুনি জঙ্গলের বাইরে যেতে হবে এই নষ্ট ব্যাডা যখন তখন যা কিছু করে ফেলবে।
ঠিক তার পিছু পিছু আসছে আফরিদ এহসান।
” দাঁড়া ,ওই কু’ত্তার বাচ্চা দাঁড়া পায়ে কিছু ঢুকে যাবে। না দাঁড়া।”
ন্যান্সি থামবে না , হাঁপাতে হাঁপাতে হাওয়ায় গলা ছেড়ে বলল।
“জীবনেও না। আপনি আমাকে রে”” করার জন্য উঠেপড়ে লাগছেন।”
আফরিদ ফের বলল।
“ওকে ওকে আগে জুতো পরে নে এরপর দৌড়া , আমি এখানেই থামছি দাঁড়া তুই।”
ন্যান্সি থামলো সাথে আফরিদ থেমে যায়। নিজের কালো বুট গুলো খুলে ফেলল। ন্যান্সির দিকে ছুড়ে দিতেই সে বলে উঠে।
“স্ট্যাচু।”
আফরিদ মুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে রইল ,বোকা মাতারি তার বুট জুতো গুলো পড়েই আবার দৌড় লাগালো। বিরক্ত হলো আফরিদ।
“মাতারি রিলিজ করে দে।”
ন্যান্সি যেতে যেতে “রিলিজ” বলে চেঁচিয়ে উঠলো।
ঈশান সবে সবে ভেতরেই আসছিল আকস্মিক ন্যান্সি কে দৌড়ে নিজের দিকে আসতে দেখে উল্টো দৌড় লাগালো যেদিকে এসেছিল সেদিকে।
“ম্যাম দৌড়াচ্ছেন কেন?”
ন্যান্সি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
“আপনার বস পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কেন দৌড়াচ্ছেন?”
ঈশান আমতা আমতা করে বলল।
“বস আপনার রাগ আমার উপর ঝাড়ে, তাই আপনাকে দৌড়াতে দেখে আমিও দৌড়াচ্ছি।”
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ন্যান্সি , ঈশান ফের বলল।
“কিন্তু বস করছে টা কি?”
ন্যান্সি ঈশান কে ছাড়িয়ে সামনে যেতে যেতে আওড়ালো।
“আমাকে রে*** করতে চাচ্ছে।”
তব্দা খেলো ঈশান ,পা জোড়া থামে তার। বউকে কোন ছেলে রে*** করে? হোয়্যাট ইজ দিস?
**********************
গাছের সাথে হেলান দিয়ে নিচে বসে পড়ল ন্যান্সি। আর দৌড়াতে পারবে না সে। পা দুটো ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে।
তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে আফরিদ এহসান।
“দৌড় শেষ?”
ঠোঁট উল্টে তার দিকে তাকাল ন্যান্সি। ক্লান্তি ভঙিতে বলল।
“আমি আর পারব না ,পায়ে ব্যথা করছে খুব।”
আফরিদ হাসে ,একটানে কোলে তুলে নিল ন্যান্সি কে। সামনে এগুতেই দেখতে পেলো তাদের অনেক গুলো গাড়ি আর পুলিশ এবং আর্মিদের গাড়ি। আশ্চর্য হলো ন্যান্সি। বিস্মিত কন্ঠে বলল।
“এগুলো কি? এখানে কেন ওরা?”
আফরিদ নাকে নাক ঘষে ফিসফিসিয়ে বললো।
“আমার পরাণ কে খুঁজতে এসেছে সবাই।”
ন্যান্সি আহাম্মক বনে গেল। আফরিদ এহসান খুব ডেঞ্জারাস একটা মাফিয়া দেখা যায়। শেষমেষ দেশের রক্ষা কর্তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে?
একে একে সব গুলো গাড়ি সামনের দিকে এগুতে লাগলো।
“আমরা বাড়িতে যাবো কীভাবে?”
ন্যান্সির কথায় সামনে দেখালো আফরিদ। একটা হেলিকপ্টার এগিয়ে আসছে।
“আমরা হেলিকপ্টারে যাবো।”
হেলিকপ্টারে উঠতেই সামনের দিকে বসলো ঈশান। পিছনে দিকে আফরিদ আর ন্যান্সি। ভয়ে শিউরে উঠছে মেয়েটা। দু’হাতে চেপে ধরে আছে আফরিদ কে , এই প্রথম হেলিকপ্টারে উঠেছে সে। এই বুঝি পরে গেল।
দু’হাতে আদুরে বউটাকে বুকের সাথে চেপে ধরলো আফরিদ এহসান। তার পরাণ মেয়েটা , কিছু হয়ে গেলে কি হতো তার? কিভাবে বাঁচতো সে?
_________________
এহসান মঞ্জিলে সবাই অপেক্ষা করে চলেছে আফরিদ আর ন্যান্সি আসার। অবশেষে আজকে এসে পৌঁছেছে তারা। ঘুমন্ত ন্যান্সি কে পাঁজা কোলে করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ আফরিদ এহসান। সে বড় ক্লান্ত তবুও ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি। গুনে গুনে ঠিক দু’দিন হতে চললো এত বড় একটা ঘটনা ঘটেছে।
ক্লান্ত ন্যান্সি এখন ঘুমোচ্ছে আফরিদের কোলে।
বাড়ির সবাই তাদের অপেক্ষায় ছিলো অবশেষে তাদের দেখা পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়। তিতলি উৎকন্ঠা হয়ে ছুটে যায় ন্যান্সির কাছে।
“ইলহাম আপু…
“হুঁশ ! ডোন্ট সাউন্ড শি ইজ স্লিপিং।”
আফরিদের সতর্ক বার্তায় থেমে গেল তিতলি , ঈশানের চোখের ইশারায় সরে দাঁড়ালো সে।
আফরিদ এক পলক আড়চোখে দেখে স্মাইলি কে ,সহসা মেয়েটা মাথা নুইয়ে নিলো।
ইদ্রান ভ্রু কুঁচকে নিল। আফরিদ নৈঃশব্দ্যে পা ফেলে উপরে রুমের দিকে এগুতে লাগলো।
রুমে এসেই ন্যান্সি কে বিছানায় শুইয়ে দিলো খুব সন্তর্পণে। দরজাটা আর লক করা হলো না।
আফরিদ পা ভাঁজ করে নিচে বসলো। ছত্রিশ ঘন্টা তার বউয়ের মুখটা দেখেনি সে।
আফরিদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ক্লান্তিভরা মুখ পানে!
“আমার পাপী দেহে এই ফুলটা যদি না থাকে তাহলে আমি যে ধ্বংস হয়ে যাবো বউ! তুমি যে আমার বেঁচে থাকার এখন সবচেয়ে বড় কারণ। তোকে এভাবে,ওভাবে সব ভাবে আমি ভালোবাসি। তুই চাইলেও আমার, না চাইলেও আমার।”
ন্যান্সি হাত পা ছড়িয়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে আছে। আফরিদ আঙ্গুল বাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলল তার লালচে গাল।
“এখানেই থেমে যা বউ ,আর সত্য খুঁজতে যাস না।সত্য জানলে যে সইতে পারবি না। আমি তোকে হারাতে পারব না আর না কষ্ট দিতে পারব। তুই সত্য খুঁজে নিজের কষ্ট ডেকে আনিস না , আমাকে দেখলে যে তোর তখন কষ্ট হবে বউ। তুই থেমে যা এখানে ,থাক না আমার হয়ে। একটিবার না হয় পাপ পূণ্যের মিলন ঘটুক।”
ন্যান্সি মুখ ফেরায় আফরিদের দিকে ,দুহাত ভাঁজ করে ডান দিকে কাত হয়ে শোয়।
ওদিকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে তিতলি, স্মাইলি।
তিতলি হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেল। ইশ্ ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনার যদি কখনো কিছু হয় তাহলে বোধহয় সব ধ্বংস করে ফেলবে এই আফরিদ ভাই।
একটা মানুষ কতটা ভালোবাসলে খাওয়া নাওয়া সব বাদ দিয়ে তাকে পাগলের মতো খুঁজতে পুরো শহর এলোমেলো করে দেয়!
“আপনারা এখন থেকে সরে আসুন প্লিজ।”
আকস্মিক ঈশানের কন্ঠস্বর শুনে দু’জনেই পিছন ঘুরে দাঁড়ালো।
তিতলি আমতা আমতা করে বলল।
“ভাই কি এখন বসে থাকবে?”
ঈশান উঁকি দিয়ে ভেতর টা দেখে মৃদু স্বরে বলল।
“এখন আর উনি বের হবেন না। তোমরা চলো এখান থেকে।”
স্মাইলি বিনা বাক্যব্যয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। এদিকে ঈশান কে নিয়ে তিতলি নিচে ড্রয়িং রুমের দিকে এগুতে লাগলো।
_____________
নীলাদ্রি ঘেমে একাকার অবস্থা , পায়চারি করেই চলেছে রুমের ভেতরে। অনুমতি ছাড়াই ভেতরে ঢুকে এলো সাব্বির।
“ভাই।”
ঘাবড়ে গেল নীলাদ্রি , এলোমেলো ভঙ্গিতে বলল।
“ত..তুই?”
সাব্বির কিঞ্চিৎ অবাক হয়ে গেল।
“কি ব্যাপার ভাই তুমি এমন ঘামছো কেন?”
নীলাদ্রি কপালের ঘাম টুকু মুছে নিয়ে জোরপূর্বক হেসে বলল।
“আরে কি যে বলিস না ঘামবো না? এত গরম লাগছে!”
আশ্চর্য হলো সাব্বির! কোথায় গরম? এই যে এসি চলছে তবুও গরম লাগছে?
“ভাইয়া আমি এসেছিলাম এটা জিজ্ঞাসা করতে কার এতবড় সাহস যে কিনা মাফিয়া কিং আফরিদ এহসানের বউ কে কিডন্যাপ করে?”
নীলাদ্রি শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো।
“আমি কি জানি? আমার আন্দাজ নেই এই ব্যাপারে!”
নীলাদ্রি ঘাবড়ে আছে সেটা বুঝতে আর বাকি নেই সাব্বিরের। ঠিক সেই মুহূর্তে শুনতে পেলো ড্রয়িং রুমে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ!
ত্রস্ত পায়ে দুজনেই রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল ড্রয়িং রুমের উদ্দেশ্যে।
“বা’লের মেয়ে তুই কোন সাহসে আমার বান্দি কে নিয়ে বের হোস? নিজের টেক কেয়ার করতে হাজার টা বা’লের দরকার পড়ে সেখানে তুই আমার বউ নিয়ে বের হলি কার পারমিশনে?”
আফরিদের ধমকে ইদ্রানের পিছনে আড়াল হয় স্মাইলি! ভয়ে থরথরিয়ে কাঁপছে মেয়েটা। ইদ্রান মাত্রারিক্ত রেগে গিয়ে বলে উঠে।
“জাস্ট শাট আপ আফরিদ! হোয়্যাট ইজ দিস? তুই প্রিন্সেসের সাথে এভাবে কথা বলবি না প্লিজ!”
আফরিদ কাঁচের গ্লাস টা তুলে ছুড়ে দিলো স্মাইলির উপর। হাত উঁচিয়ে সেটা কেচ করে ফেলল ইদ্রান! আঁখিদ্বয় লাল হয়ে আছে তার।
সাব্বির আর নীলাদ্রি সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে তাদের কর্মকাণ্ড দেখে চলেছে।
মাইমুনা এহসান আফরিদের উদ্দেশ্যে কড়া কন্ঠে বলে উঠেন।
“স্টপ আফরিদ প্লিজ! ইলহাম এখন ঠিক আছে তুমি থামো বেটা।”
“মম মুখ বন্ধ রাখো, প্লিজ ।যদি ওর কিছু হয়ে যেতো এই মেয়েটার নমুনা পাল্টে দিতাম। আই মিন ইট।”
ইদ্রান বিরক্তিকর কন্ঠে আওড়ালো।
“এটা করার কথা ভাবিস না আফরিদ। ডোন্ট টাচ হার!”
আফরিদ ঘাড় বাঁকালো।
“তোর সামনে তোর স””” কে পুঁতে দেওয়ার ক্ষমতা আছে আমার, ইদ্রান!”
ইদ্রান সুঁচালো চোখ করে তাকালো আফরিদের দিকে , পাল্টা প্রশ্নে বলে উঠে।
“ঠিক সেই কাজটা যদি আমি করি? ইলহাম কে যদি আমিও পুঁতে দেই তাহলে?”
আফরিদ একপেশে হেসে বলল।
“টাচ করে দেখা! আমি তোকে পারমিশন দিয়ে দিলাম ওরে টাচ করতে পারলে মে রে ফেলিস।”
ঈশান পরিস্থিতি কোনো মতেই সামলাতে পারছে না! আকস্মিক ইভান এলো বাইরে থেকে।
এত ঝগড়া কথা কাটাকাটি দেখে চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকেও।
ঈশান উপায় না পেয়ে মিছে মিছে বলে উঠে।
“বস প্লিজ ,সাউন্ড করবেন না ম্যাম ঘুমোচ্ছে। ভুলে যাচ্ছেন সে ঘুমোয় নি ঠিকমত!”
ব্যস এটুকুই যথেষ্ট ছিলো আফরিদের রাগ ঠান্ডা করার জন্য!
ধুমধাম পা ফেলে সিঁড়ির দিকে এগুতে লাগলো সে। পা জোড়া থামলো ঠিক নীলাদ্রির সামনে।
অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘাড় বাঁকালো , নীলাভ চোখ জোড়া কেমন পৈশাচিক দেখাচ্ছে!
শুষ্ক ঢোক গিলে নীলাদ্রি! আফরিদ পাশ কাটিয়ে চলে গেল উপরে।
স্মাইলি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো আকস্মিক।
“আপনার মতো বাজে লোকের জন্য এসব হচ্ছে! ও গড প্লিজ লিভ মি এলন।”
ইদ্রান রাগান্বিত স্বরে বলে উঠে।
“প্লীজ প্রিন্সেস এই অহেতুক ড্রামা আর করো না। ইলহামের থেকে দূরে থাকো।”
স্মাইলি চেঁচিয়ে উঠলো।
“আমি আপনার থেকে দূরে থাকতে চাই লুসিফার।”
সজোরে ফ্লাওয়ার বাস টা ছুড়ে ফেলল ইদ্রান। সে আপাতত স্মাইলি কে একা ছাড়তে পারবে না আর না পারবে এই মূহুর্তে স্পেন ব্যাক করতে। খুব বড় সমস্যা হয়ে যাবে তাহলে!
____________________
স্পেন বার্সেলোনা…
বার্সেলোনার পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ইন্টারোগেশন সেল।
অল্প আলোয় ঢাকা, দেয়ালে সেঁটে বসানো ধূসর রঙের আয়তকার ঘড়ি যেনো প্রতিটি সেকেন্ড গুনে গুনে স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করছে। ঘরজুড়ে এক অদ্ভুত শূন্যতা, কেবলমাত্র বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ধাতব হ্যান্ডকাফের ঠকঠক শব্দ আর টেবিলের উপর ছায়ার নাচন।
রাইসা বসে আছে লোহার চেয়ারে, দু’হাত শক্ত করে আটকানো হ্যান্ডকাফে। তার ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা র’ক্ত যেনো প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ সে নির্বিকার। চোখে না আছে ভয়, না আছে অনুতাপ। নিস্তব্ধতাই যেন তার সবচেয়ে বড় অ’স্ত্র।
ভেতরে বসা লেডি অফিসার, ক্লান্ত অথচ ক্রুদ্ধ কণ্ঠে পরপর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে।
“হোয়ার ডিড ইউ কাম ফ্রম?”
রাইসা নিশ্চুপ। ফের লেডি অফিসার আওড়ালো।
“হু ইজ বিহাইন্ড দিস মিশন?’
কোনো উত্তর নেই। শুধু রাইসার ঠাণ্ডা দৃষ্টি, যেনো কথাগুলো কানে ঢোকার আগেই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।
এক পর্যায়ে ধৈর্য ভেঙে যায় অফিসারের। ক্রোধে ফুঁসে উঠে সে টেবিলে মুষ্ঠি আছড়ে বলে ওঠে।
“স্পিক আপ!”
তারপর বিদ্যুৎগতিতে ঘুষি বসিয়ে দেয় রাইসার মুখে। মুহূর্তেই ঠোঁট ফেটে র’ক্ত বেরিয়ে আসে, ফোঁটা ফোঁটা র’ক্ত মেঝেতে পড়ে। রাইসা সামান্য দুলে গেলেও শব্দ করে না, কেবল তার শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে। ব্যথা দেহে লাগলেও মনে হয় তার হৃদয়ের গভীরে অন্য এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
ঘরের বাইরে ইস্ক্রিয়াস দাঁড়িয়ে আছে। কাঁচের ওপারে দাঁড়িয়ে সবকিছু চোখে দেখছে। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি প্রতিটি মুহূর্তে রাইসার দিকে গেঁথে আছে। ঠোঁটে র’ক্ত দেখে বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে তার, কিন্তু সে স্থির। পুলিশ অফিসারের পোশাক পরা মানুষটা এখন শুধুই দায়িত্বে বাঁধা। ভালোবাসা আছে বুকে, কিন্তু দায়িত্বের শেকলে আটকে গেছে তার হাত।
রাইসার রক্তমাখা ঠোঁট থেকে ক্যামেরা ধীরে ধীরে জুম হয়ে তার চোখে থামে।
সে বাঁকা হেসে বলে উঠে।
“তোমাদের বাপও আমার মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের করতে পারবে না। আই উওন্ট সে এনি থিং।”
___________________
ঘুমন্ত ন্যান্সি জেগে উঠেছে , এলোমেলো পা হাত গুটিয়ে নিলো। ঘাড়ে ব্যথা করছে তার। যখন পুরোপুরি ঝাপসা দৃষ্টি পরিষ্কার হলো আঁতকে উঠে সে। ডান দিকে তাকাতেই দেখে আফরিদ গালে ভর দিয়ে তার দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো ন্যান্সি।
আফরিদ এখনো একই শার্ট প্যান্ট পরে আছে মনে হয় ফ্রেশ হয়নি সে। আশ্চর্য হলো ন্যান্সি ,সু মসৃণ কপালে ভাঁজ পড়লো তার। কিঞ্চিৎ সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।
“আপনি এখানে কী করছেন?”
আফরিদ যেন প্রশ্নটা শুনেও না শোনার ভান করল।
তারপর খুব স্বাভাবিক, স্বাভাবিক স্বরে বলল,
“তোকে দেখছিলাম,তুই দেখতে হট।”
ন্যান্সি বিস্ময়ে আরেকটু পিছিয়ে গেল।
“মানে?”
চোখ কুঁচকে তাকাতেই আফরিদ শিশুর মতো ঠোঁট উল্টে বলল,
“আমার তো তোকে ঘুমের মধ্যে লাল, নীল, কালো, সাদা সব রঙে ভালোবাসতে ইচ্ছে করছিল।”
ন্যান্সি এক মুহূর্ত থমকে তাকাল।তারপর ঠোঁটে মেকি হাসি এনে বলল,
“পৃথিবীতে যদি বেস্ট নির্লজ্জের অ্যাওয়ার্ড দিত, আপনি নিশ্চিতভাবে প্রথম হতেন।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসল। তার দৃষ্টি এখনও ন্যান্সির মুখেই স্থির। সে খুব শান্ত স্বরে বলল,
“তাহলে সরকার কে বলে এমন একটা এওয়ার্ড ফাংশন আয়োজন করি?”
চলবে………..।
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
রেড রোজ সকল পর্বের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬