Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫১


লেখিকাসুমিচৌধুরী

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫১

শুভ্র অশ্রুভেজা চোখে কাঁপা কাঁপা হাতে কাগজে কিছু একটা লিখল। তারপর সেটা রিদির চোখের সামনে ধরল। রিদি একপলক তাকিয়ে দেখল সেখানে মাত্র একটি শব্দ লেখা।

“ভয়ে।”

রিদির ভ্রু কুঁচকে গেল। সে বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করল।
“ভয়? কিসের ভয়?”

শুভ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় লিখল।
“হারানোর ভয়। লোকে বলে ভালোবাসা প্রকাশ করলে নাকি প্রিয় মানুষটা হারিয়ে যায়। তাই ভয়ে আমিও কখনো কিছু বলিনি। আমার খুব হারানোর ভয় ছিল রে।”

রিদি অবাক হয়ে বলল।
“ভালোবাসা প্রকাশ না করেও এভাবে কাউকে ভালোবাসা যায় নাকি?”

শুভ্র লিখল।
“জানি না। তবে আমার হারানোর ভয়টা সবকিছুর চেয়ে বেশি ছিল। আমি তোকে হারাতে পারব না একদম মরে যাব। এই পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ তুই। আমার প্রতিটা নিশ্বাস নেওয়ার শক্তি তুই। দেহটা আমার শরীরে থাকলেও প্রাণ রয়ে গেছে তোর ভেতরে। পৃথিবীতে যদি সাইফান শুভ্র চৌধুরীর কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে তবে সেই দুর্বলতা হচ্ছিস একমাত্র তুই।”

রিদির চোখ থেকে টপ টপ করে অশ্রু ঝরতে লাগল। এই পাথরের মতো কঠিন মানুষটা তাকে এতটা অতলান্ত গভীরতায় ভালোবাসত আর সে বিন্দুমাত্র টের পেল না। নিজের ভালোবাসার মানুষের চোখের ভাষা বুঝতে না পারার গ্লানি তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে লাগল। নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে তার তবে কি সে সত্যিই এক ব্যর্থ প্রেমিকা।

রিদি আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে আছড়ে পড়ল শুভ্রের বুকে দুই হাতে তাকে পেষণ করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।

“আপনি আমায় এত ভালোবাসতেন আর আমি একটুও ধরতে পারলাম না। কেন আমি আগে আপনার মনের হদিস পেলাম না?”

শুভ্রও নিজের সমস্ত আকুলতা দিয়ে রিদিকে জাপটে ধরল। গলার ক্ষত থেকে চিনচিনে ব্যথাটা যেন আজ মধুর মনে হচ্ছে। সে রিদির চুলে মুখ গুঁজে বড় বড় শ্বাস নিতে থাকল। রিদির উষ্ণ অশ্রু শুভ্রের বুক ভিজিয়ে দিচ্ছিল কিন্তু সেই সিক্ততায় আজ কোনো দহন নেই আছে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।

রুমের নিস্তব্ধতাকে ছাপিয়ে শুধু রিদির কান্নার শব্দ আর শুভ্রের হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি শোনা যাচ্ছে। শুভ্র চোখ বুজে অনুভবে ডুব দিল তার মনে হলো আজ যেন সে তার হারিয়ে যাওয়া প্রাণটা ফিরে পেল। রিদিকে বুকের সাথে আরও একটু চেপে ধরে সে নিঃশব্দে জানিয়ে দিল এই আশ্রয়টুকুর জন্যই সে আজন্ম তৃষ্ণার্ত ছিল।

সময়ের চাকা ঘুরে কেটে গেল বিশ দিন। শুভ্রকে মাসখানেক হাসপাতালে থাকতে হয়নি পাঁচ দিনের মাথাতেই তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন সে পুরোপুরি সুস্থ তেজদীপ্ত সেই আগের শুভ্র। রিদি অবশ্য তাদের বাড়িতেই আছে তবে মাঝেমধ্যে এসে শুভ্রকে দেখে গেছে আর ফোনে নিয়মিত খবর নিয়েছে। তাদের দুজনের মাঝে ভালোবাসার অথৈ সাগর থাকলেও সেই চিরচেনা ঝগড়াটা একচুলও কমেনি। শুভ্র বরং আগের চেয়েও বেশি দস্যি হয়ে উঠেছে মেয়েদের মতো খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে রিদির সাথে ঝগড়া বাধায়। রিদির অবশ্য মন্দ লাগে না সে যেন প্রতিদিন নতুন করে এক অন্য শুভ্রকে আবিষ্কার করছে।

সকাল ১০টা…

শুভ্র পরিপাটি হয়ে নিচে নামল। পরনে ধবধবে সাদা শার্ট আর মিশমিশে কালো প্যান্ট। কবজিতে ফিতার একটি কালো ঘড়ি চোখে সানগ্লাস। শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খোলা রেখে সে আপন মনে হাতা ফোল্ড করতে করতে বাইরের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই শুভ্রা এক বয়াম আচার নিয়ে চপচপ করে খেতে খেতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। শুভ্রকে এই অবতারে দেখে সে একটা লম্বা শিস বাজিয়ে বাঁকা হেসে বলে উঠল।

“ওহো কোথায় যাওয়া হচ্ছে ব্রো? রিভার সাথে বুঝি ডেটে যাওয়া হচ্ছ, বলি একটু কমিয়ে প্রেম করো ব্রো। নাহলে বিয়ের পর তো প্রেম করে কোনো মজাই পাবে না।”

শুভ্র থেমে শুভ্রার দিকে তাকাল তার ভ্রু কুঁচকে একাকার।
“হোয়াট রিভা? রিভা আবার কে?”

শুভ্রা আচারের বয়াম থেকে একটা আমসত্ত্ব মুখে পুরে নির্বিকারভাবে বলল।
“কে আবার? তোমার হবু বউ।”

“কিন্তু নাম তো রিদি রিভা না। আগে উচ্চারণ করতে শেখ ইডিয়ট”

শুভ্রা মুখটা ভেংচি কেটে বলল।
“অ্যাঁ আমি ঠিকই উচ্চারণ করেছি। আমিই ওকে এই নাম দিয়েছি রিভা। তোমার বউ হওয়ার আগে ও আমার কলিজার বন্ধু ছিল। এখন সে তোমার বউ হবে বলে কি আমি আমার ফ্রেন্ডকে ভুলে যাব আবার সে আমার ভাবিও হয়ে গেছে। তাই রি-তে সে আমার ফ্রেন্ড আর ভা-তে আমার ভাবি। আইডিয়াটা দারুণ না?”

শুভ্র সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিরক্তিতে একবার মাথা নাড়ল। গটগট করে হাঁটতে হাঁটতে বিড়বিড় করে বলল।
“একদম ফালতু আইডিয়া।”

সন্ধ্যার দিকে শুভ্র রিদিদের বাড়িতে এল। হঠাৎ সোহান চৌধুরী ফোন করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে আসতে বলেছেন। শুভ্র ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই দেখল সোফায় সবাই গোল হয়ে বসে আছে শুধু রিদি নেই। সেখানে ঈশানও উপস্থিত। সবাই বেশ হাসিখুশি মনে আড্ডা দিচ্ছে। শুভ্রকে দেখামাত্রই ইমন চিৎকার করে উঠল।

“ওই তো ভাইয়া এসে গেছে”

শুভ্র কিছুই বুঝতে পারল না তাকে এভাবে হুট করে ডাকার কারণ কী। ঠিক তখনই সিঁড়ির দিকে নজর যেতেই তার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। শুভ্রা একটা টকটকে গোলাপি রঙের শাড়ি পরিয়ে রিদিকে সিঁড়ি দিয়ে ধরে ধরে নিচে নামিয়ে আনছে। রিদি লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে।

গোলাপি রঙের কাতান শাড়ি বাম হাত ভর্তি ম্যাচিং রেশমি চুড়ি গলায় একটা চমৎকার নেকলেস। কপালে ছোট্ট পাথরের সাদা টিপ আর চোখে গাঢ় কাজল যেন তার মায়াবী রূপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক আর মাথায় আলতো করে শাড়ির আঁচল টানা। শুভ্র একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল তার মনে হলো আসমান থেকে কোনো গোলাপি পরী নয় বরং আস্ত এক নতুন বউ এইমাত্র তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। শুভ্রের চোখের পলক পড়ছে না এই রূপ যে তার হার্টবিট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

রিদি নিচে নেমে সবার প্রথম সোহান চৌধুরীকে সালাম করল। সোহান চৌধুরী পরম মমতায় তার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে বললেন

“সুখি হ মা।”

রিদি এবার সাহেরা চৌধুরীকে সালাম করতে গেলে তিনি রিদির কাঁধ ধরে তাকে সোজা করে দাঁড় করালেন। তারপর আদুরে ভঙ্গিতে রিদির থুতনিতে হাত ছুঁইয়ে বললেন

“মাশাআল্লাহ মেয়ে তো নয় যেন সাক্ষাৎ পরী। জানিস মা আমি সবসময় মনে মনে চাইতাম ঠিক তোর মতো একটা পরী বউ যেন আমার ছেলের ঘরে আসে। আল্লাহ আমার মনের আশা পূরণ করেছেন আলহামদুলিল্লাহ”

রিদি লজ্জায় আরও বেশি মাথা নিচু করে ফেলল। সোহান চৌধুরী এবার শুভ্রকে হাতের ইশারায় ডাকলেন।

“কিরে ওইখানে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি এদিকে আসবি?”

শুভ্র ধীর পায়ে সবার মাঝখানে এগিয়ে এল এবং রিদির ঠিক পাশেই গিয়ে দাঁড়াল। শুভ্রা এই সুযোগে তার ফোন বের করে টপাটপ কয়েকটা তাদের দুজনের ছবি তুলে নিল। ঈশান পাশ থেকে উঁকি দিয়ে শুভ্রার ফোনের ছবিগুলো দেখে নাক সিঁটকে বলল।

“ধুর ছবিগুলো একদমই ভালো হচ্ছে না। এটা কোনো স্টাইল হলো রিদি একদিকে আর বস অন্যদিকে। দুজনকে একদম গা ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলতে হবে।”

শুভ্রা আফসোস করে বলল।
“আমার ভাই আবার ছবি তুলবে এই যে লুকিয়ে কয়েকটা তুললাম এটাই আমার ভাগ্য।”

ঈশান আশ্বস্ত করে বলল।
“আগে বড়দের কথাবার্তা শেষ হোক তখন না হয় সুযোগ বুঝে তুলে নিও।”

“ভাইয়া তো পোজ দিয়ে ছবি তুলবে না”
“সেটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।”

“আচ্ছা ছেড়েই দিলাম”

সোহান চৌধুরী ইকবাল এহসানের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন।
“তো ইকবাল কথা তো অনেক হলো। এখন আমরা দিন-তারিখটা চূড়ান্ত করে ফেলতে চাচ্ছি তুমি কি বলো?।”

শুভ্রের মাথায় তখনও কিছুই ঢুকছে না যে আসলে এখানে কী হচ্ছে। সে আড়চোখে বারবার রিদিকে দেখছে মেয়েটা সত্যিই একদম নতুন বউয়ের মতো লজ্জায় মাথা নিচু করে আড়ষ্ট হয়ে আছে। শুভ্রর এই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থা দেখে ঈশান একটু ঝুঁকে তার কানে কানে ফিসফিস করে বলল।

“আপনার বিয়ের পাকাপাকির কথা চলছে বস বুঝেছেন এবার? এখন নতুন জামাইয়ের মতো ওই পাশের সোফায় গিয়ে একটু ভদ্র হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকেন তো”

শুভ্রের কাছে পুরো ব্যাপারটা এবার পরিষ্কার হলো। তাহলে এই কারনেই আজ তাকে হুট করে ডাকা। শুভ্র মুহূর্তেই ঈশানের কাঁধে হাতের ভর দিয়ে বেশ আয়েশি আর অদ্ভুত এক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বলল।

“তোমার কি মনে হয়? আমি এসব ফালতু ঢং আর লজ্জার অভিনয় করবো?”

ঈশান হাসতে হাসতে বলল।
“করতে হয় বস এসব নিয়ম। শুধু তাই না বিয়ের দিন তো আপনাকে শরমের অভিনয় করে মুখে রুমাল দিয়ে আসতে হবে।”

শুভ্র চরম বিরক্তি নিয়ে নাক সিঁটকে বলল।
“ছ্যাঃ কী ফালতু কথা।”

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুভ্র আর রিদির বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হলো। অক্টোবরের ২ তারিখ/বার শক্রবার তাদের বিয়ে , আর ১ তারিখ বৃহস্পতিবারে গায়ে হলুদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর মান-অভিমানের পর দুই পরিবারে এখন শুধু খুশির আমেজ।

রিদির মনে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সে ভাবছে কত সুন্দর ভাগ্য তার। যাকে সে নিজের অজান্তে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবেসেছে সেই মানুষটাও তাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসে। আর মাত্র কিছুদিন তারপর সে এক নতুন রিদি হয়ে শুভ্রের চিরস্থায়ী সঙ্গিনী হিসেবে তার জীবনে প্রবেশ করবে। রিদি লজ্জা মাখা মুখেই একবার শুভ্রের দিকে তাকাল। দেখল শুভ্র তখন ঈশানের কাঁধে হাত দিয়ে তার দিকেই অপলক তাকিয়ে আছে। রিদিকে তাকাতে দেখে শুভ্র মুহূর্তেই ভ্রু নাচিয়ে চোখ মারল। রিদি সাথে সাথে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল।

বাড়ির সকলে খুশিতে মেতে উঠেছে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়াতে লাগল। সোহান চৌধুরী আর ইকবাল এহসান একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এসব দেখে রিদি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না লজ্জায় শাড়ির কুঁচি ধরে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। তার এমন কাণ্ড দেখে বাড়ির সবাই হো হো করে হেসে উঠল। রিদির পেছনে পেছনে শুভ্রও যেতে চাইল কিন্তু ঠিক তখনই ঈশান শুভ্রের হাত টেনে ধরে বলল।

“বস কোথায় যাচ্ছেন? চলুন অফিসে একটা ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং আছে।”

শুভ্র যাওয়ার জন্য ছটফট করতে করতে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“রাখ তোর মিটিং ভাই আমায় এখন যেতে দে”

শুভ্রের অন্য হাতটা ইমন টেনে ধরল। সে বেশ মজা নিয়ে বলল।
“মিটিং না ব্রো চলো আমরা বরং কয়েক দিনের জন্য দেশের বাইরে চলে যাই”

শুভ্র এবার বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারল যে এই দুইটা মিলে তাকে ইচ্ছে করে আটকে রাখছে আর মজা নিচ্ছে। সে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে অসহায় স্বরে বলে উঠল।

“আল্লাহর ওয়াস্তে বলছি আমি আর কোনোদিন মিটিং করব না। আর না কখনো বাইরে যাওয়ার বাহানা করব। বিয়ের পর একদম বউয়ের শাড়ির আঁচল ধরে বাড়িতে বসে থাকব। তাও বলছি এখন অন্তত আমাকে ছাড়।”

শুভ্রের মুখে এমন ‘বউ-পাগল’ টাইপ কথা শুনে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল। ঈশান আর ইমন তবুও ছাড়ছে না তারা যেন আজ শুভ্রকে এক মুহূর্তের জন্যও রিদির কাছে ভিড়তে দেবে না বলে কসম খেয়েছে। শুভ্রা হাসতে হাসতে সাহেরা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল।

“আম্মু এখন কি সেই নিয়মটা নেই যে বর-কনের বিয়ে ঠিক হলে বিয়ের আগে তারা একে অপরকে দেখতে পারে না?”

সাহেরা চৌধুরী মেয়ের ইশারা বুঝে নিয়ে গম্ভীর হওয়ার ভান করে বললেন।
“কে বলেছে নেই? অবশ্যই আছে”

শুভ্রা এবার শুভ্রের দিকে আঙুল তুলে বলল।
“তাহলে ভাইয়া যে রিভার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে?”

সাহেরা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে শুভ্রা অলক্ষ্যে একটা চোখ টিপল যার মানে সে পুরোপুরি মজা নিচ্ছে। সাহেরা চৌধুরীও মিথ্যা রাগ দেখিয়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে কড়া স্বরে বললেন।

“খবরদার শুভ্র বিয়ের আগে তুই রিদির আশেপাশেও যাবি না।”

শুভ্র একদম চুনের মতো মুখ করে ফেলল। তাকে দেখে এখন মনে হচ্ছে এক ভোলাভালা কাঠবিড়ালি যে তার গাছে উঠতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু প্রিয় ফলের নাগাল পাচ্ছে না। শুভ্র মুহূর্তেই বিরক্তি নিয়ে বলে উঠল।

“তোমরা সবাই আমার সাথে ইচ্ছে করে এসব করছো। তোমরা এত ভালো অভিনয় করতে পারো কীভাবে? কিছুদিন আগেও সবাই মিলে কী দারুণ নাটক করলে তোমাদের কাণ্ড দেখে তো আমার জি বাংলা আর স্টার জলসার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।”

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply